ভারতীয় কুঋণে সরকার একের পর এক প্রকল্প হাতে নিলেও সেগুলোর সিকিভাগও বাস্তবায়ন হচ্ছেনা। উপরন্তু প্রকল্পগুলোর ব্যয় বেড়ে দেশের অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে। ভারত বাংলাদেশের স্বার্থে নয় বরং তাদের স্বার্থে বাংলাদেশে কুখ্যাত প্রকল্পে ঋণ দিচ্ছে সরকার যদি দেশের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় না হয় তাহলে জনগণকেই সোচ্চার হয়ে নিজেদের অধিকার আদায় করতে হবে।

সংখ্যা: ২৭০তম সংখ্যা | বিভাগ:

সরকার বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য ভারত থেকে ঋণ নিলেও সেই প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাজই শুরু হয়নি। ফলে সময় যতই যাচ্ছে সেসব প্রকল্পগুলোতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে অস্বাভাবিকভাবে। বেশিরভাগ প্রকল্প বাস্তবায়ন উপকরণের মূল্য বেড়েছে। সময়মতো এগুলো বাস্তবায়ন করতে না পারলে দেখা যাবে ঋণের অর্থে প্রকল্পের ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ সংস্থানে সরকারকে অন্য ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। আরো বিলম্ব হলে ব্যয়ও আরো বাড়বে।

উল্লেখ্য, সরকার ভারতের সাথে তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) সই করেছে। যাতে বেশ কিছু প্রকল্প রয়েছে। কিন্তু দুই দেশের প্রতিশ্রুত এসব প্রকল্প আটকে রয়েছে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঋণচুক্তির ৭০০ কোটি ডলারের অধিকাংশ প্রকল্পই নথিবদ্ধ হয়ে আছে। এতে প্রকল্পগুলোর ব্যয় বাড়ছে। ২০১৫ সালের জুনে মোদির ঢাকা সফরের সময় ১৪টি প্রকল্পে ২০০ কোটি ডলারের দ্বিতীয় ঋণচুক্তি সই করে বাংলাদেশ ও ভারত। কিন্তু অধিকাংশ প্রকল্পই এখনো দরপত্র, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি), সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন অথবা অনুমোদনের মধ্যে আটকে আছে। ফলে বিলম্বের কারণে দ্বিতীয় ঋণচুক্তির আওতায় ১৬টি প্রকল্পের মধ্যে ১৩টিরই ব্যয় বেড়েছে। ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের অধীনে আছে চারটি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ৪৭০টি ট্রাক ক্রয় প্রকল্পে প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ কোটি ডলার। কিন্তু ধীরগতির কারণে এখন তা বেড়ে হয়েছে ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। একইভাবে বিআরটিসির ৬০০ বাস ক্রয় প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫ কোটি ৫৮ লাখ ডলার। বর্তমানে এ ব্যয় বেড়ে ৭ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সড়ক বিভাগের সড়ক অবকাঠামো মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি ক্রয়সংক্রান্ত প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে ৫ কোটি ৯৮ লাখ ডলার ব্যয় ধরা হলেও এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪২ লাখ ডলারে। আশুগঞ্জ-আখাউড়া সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটিতে শুরুতে ২৮ কোটি ৩৬ লাখ ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ কোটি ৮৭ লাখ ডলারে। দ্বিতীয় ঋণচুক্তির আওতায় রেলপথ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্পের ব্যয়ও বেড়েছে। খুলনা থেকে দর্শনা রেলপথ ডাবল ট্র্যাক প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রাথমিকভাবে ৩১ কোটি ডলার। এখন তা বেড়ে ৩৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।  সৈয়দপুরে রেলের কারখানায় নতুন ক্যারিজ নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয়ও ৭ কোটি থেকে বেড়ে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পার্বতীপুর থেকে কাউনিয়া পর্যন্ত মিটার গেজ রেলপথ ডুয়াল গেজ করতে প্রাথমিকভাবে ১২ কোটি ডলার ব্যয় ধরা হয়েছিল। পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ কোটি ডলারে।

বাংলাদেশ-ভারত তৃতীয় ঋণচুক্তি সই হয় ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফরের সময়। চুক্তির আওতায় ৫০০ কোটি ডলারের মধ্যে ৫০ কোটি ডলার সামরিক খাতে ঋণ সহযোগিতা হিসেবে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বাকি সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের চুক্তিতে ১৭টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। তৃতীয় ঋণচুক্তির সাড়ে ৪০০ কোটি ডলারের ১৬টি প্রকল্পও এখনো দরপত্র, ডিপিপি, সম্ভাব্যতা যাচাই, মূল্যায়ন অথবা অনুমোদনের অপোয় রয়েছে। বাস্তবায়ন বিলম্বে দ্বিতীয় ঋণচুক্তির মতোই ব্যয় বেড়েছে তৃতীয় ঋণচুক্তির প্রকল্পেরও। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্পের মধ্যে দুটিরই ব্যয় বেড়েছে।

ভারত যেসব প্রকল্পের জন্য ঋণ দিচ্ছে তাতেও রয়েছে কঠিন শর্ত। ভারতের শর্ত হলো, ঋণের টাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের প্রকল্প হলে ৬৫ শতাংশ সেবা ও মালামাল ভারত থেকে আনতে হবে। অন্য প্রকল্প হলে সেক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ মালামাল ও সেবা ভারত থেকে আনার শর্ত থাকে।

সব চেয়ে বড় শর্ত থাকে- তাদের (ভারত) নির্ধারিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দায়িত্ব দিতে হবে। মোটকথা ভারতের ঋণের টাকা চক্র বৃদ্ধিহারে ভারতেই ফিরে যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশ মাঝখান থেকে বড় অংকের ঋণী হচ্ছে।

ভারত বাংলাদেশকে ঋণ দিচ্ছে ঠিকই কিন্তু সেগুলো যেসব প্রকল্পে ব্যয় হবে বা হচ্ছে তা বাংলাদেশের স্বার্থে নয় সবই ভারতের স্বার্থে। আর সরকার যদি দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কোন প্রকল্পে ভারতের ঋণ ব্যয় করতে চায় তাহলে সাথে সাথে ভারত সেই দেশীয় প্রকল্পের অর্থে নানা কঠিন শর্ত জড়িয়ে দেয়। যার কারনে দেশীয় প্রকল্পে কোনসময়ই ভারতীয় ঋণ ব্যয় হয় না। অর্থাৎ এককথায় ঋণ নিচ্ছে বাংলাদেশ কিন্তু ফায়দা লুটছে ভারত।

উদাহরণস্বরূপ ভারত থেকে ঋণ নিয়ে সরকার মিরসরাইয়ে অর্থনীতিক অঞ্চল তৈরী করছে। বাহ্যিকভাবে এটি দেশের জন্য ইতিবাচক মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে মিরসরাইয়ে অর্থনৈতিক অঞ্চল করছে ভারত। যেখানে বিনিয়োগকারীরাও হবে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। সেইসাথে এই অর্থনৈতিক অঞ্চলে যত শিল্পায়ন গড়ে উঠবে তার পুরো লাভটাই যুক্ত হবে ভারতীয় অর্থনীতিতে। অর্থাৎ এখানে দেখা যাচ্ছে, সরকার বাংলাদেশকে ঋণে আবদ্ধ রেখে, দেশের জনগণের মাথায় ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়ে ভারতের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য বিশাল অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করছে। যা কখনো দেশের স্বাধীনতার চেতনাকে সমুন্নত করেনা ও সুফল দেয়না।  স্বাধীনতাকে সমৃদ্ধ করে না। বাংলাদেশ সরকার সবদিক দিয়ে ভারতের কাছে নতজানু পররাষ্ট্রনীতির বহিঃপ্রকাশ ঘটাচ্ছে। ফুলে ফেঁপে বাস্তবায়িত হচ্ছে একের পর এক ভারতীয় স্বার্থ। তাই এর বিরুদ্ধে জনগনকেই সোচ্চার হতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ যদি প্রতিবাদ না করে তাহলে তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।  কারণ, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন “মহান আল্লাহ পাক তিনি কোনো জাতির ভাগ্য পরিবতর্ন করেন না, যতক্ষন না সে জাতি নিজেরাই নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন না করে”।

-মুহম্মদ তা’রীফুর রহমান, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)