ভারতের জাতীয় কবি ঠাকুর এদেশের রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাধান্য প্রাপ্ত। অপরদিকে বাংলাদেশের জাতীয় কবি চরম অবহেলিত। নজরুল যে জাতীয় কবি সে মর্মে কোনো গেজেটও হয়নি। যা অবিলম্বে করা দরকার। নজরুল এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান ও ইসলামের কবি। তাঁর মর্যাদা এদেশবাসী সর্বাগ্রে চায়।

সংখ্যা: ২১৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

ভারতের জাতীয় কবি ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকী বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন সরকার ভারতের সাথে যৌথভাবে পালন করেছে। কিন্তু গত ২৫শে মে ২০১২ তারিখে বাংলাদেশের জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের ১১৩তম জন্মদিন অনেকটা অনাদরে আর অবহেলায়ই পালিত হলো। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বা সদিচ্ছার সঠিক ও স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিফলন কোথাও দেখা গেলনা।

উল্লেখ্য কাজী নজরুল ইসলাম শুধু বিদ্রোহের কবিই নন, তিনি আমাদের জাতীয় কবিও। অথচ বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, কাজী নজরুল ইসলামকে বাংলাদেশের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হলেও বিষয়টির আনুষ্ঠানিক কোনো ভিত্তি দেওয়া হয়নি। তিনি জাতীয় কবি হয়ে আছেন শুধুই মুখে মুখে।

কোনো বিষয়কে ‘জাতীয়’ হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা গেছে, রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিংবা সরকারের মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব গেলে তা মন্ত্রিপরিষদের সভায় অনুমোদনের পর গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। এই প্রক্রিয়ায় এর আগে শাপলাকে জাতীয় ফুল, দোয়েলকে জাতীয় পাখি, রয়েল বেঙ্গল টাইগারকে জাতীয় পশু, কাঁঠালকে জাতীয় ফল, ইলিশকে জাতীয় মাছ ইত্যাদি ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ জাতীয় বৃক্ষ হিসেবে আমগাছও স্বীকৃতি পেয়েছে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াতেই। কিন্তু জাতীয় কবির বেলায়ই রয়ে গেছে অসম্পূর্ণতা।

জাতীয় কবির মৃত্যুর সাড়ে তিন দশক পরও রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে প্রকাশ সম্ভব হয়নি তাঁর পূর্ণাঙ্গ জীবনী। ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে নজরুল এখনও অনেকটাই অচেনা, অজানা।

নজরুলের স্মৃতিধন্য স্থানগুলোকে ঘিরে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ হাতে নিলেও কখনওই সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও নজরদারি না থাকায় নজরুলের নামে গড়া প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধের পথে। এ সবের পাশাপাশি সাংবাদিকতা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য নজরুলের নামে জাতীয় পর্যায়ে আজও কোনো পদক বা পুরস্কার চালু করা হয়নি।

নজরুলের সাহিত্য বিষয়ে গবেষণার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নেই পর্যাপ্ত বাজেট। জানা যায়, নজরুল ইনস্টিটিউটের গবেষণা ও প্রকাশনা খাত মিলিয়ে বাজেট ১৫ লাখ টাকা। আর নজরুলের নামে একমাত্র সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে গবেষকের পদ মাত্র একটি। অন্যদিকে পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না পাওয়ায় গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান ‘নজরুল একাডেমী’ এখন গবেষণার কাজ বাদ দিয়েছে।

নজরুল বিষয়ে গবেষণার দুঃখজনক দিক হচ্ছে, যাঁরা এ বিষয়ে পিএইচডি করেন, তারা চাকরি পান না।

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতেও উপেক্ষিত জাতীয় কবি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বাংলা বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ে তাঁর রচনা পড়ানো হয় মাত্র ২৬ নম্বরের জন্য। আর সেটাও ঐচ্ছিক, আবশ্যিক নয়। শিক্ষাবিদদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাংলা বিষয়ে পাঠ্যসূচি সাজানো হয়েছে ব্রিটিশ আমলে প্রণীত পাঠক্রম দিয়ে। নজরুলের ব্রিটিশবিরোধী ভূমিকা আড়াল করার উদ্দেশ্যেই ওই মডেলকে অনুসরণ করা হচ্ছে।

জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠসূচিতে জাতীয় কবি হিসেবে নজরুলের রচনা এক শ নম্বরে আবশ্যক করার প্রস্তাব দিয়ে প্রস্তাবকারীদের তিরস্কৃত হতে হয়েছে।

কবির স্মৃতিধন্য ময়মনসিংহের ত্রিশালে তাঁর নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও সেখানে যেসব বিভাগ খোলার কথা ছিল, তার বেশির ভাগই খোলা হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়টি শুধু নজরুলের নামে করেই যেন তাঁর প্রতি দায়িত্ব সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্র।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি স্কুল ও কলেজের পাঠ্যক্রমেও সেভাবে স্থান পাচ্ছে না জাতীয় কবির রচনাবলী।

সাহিত্য নিয়ে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় গবেষণাধর্মী প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমীতেও উপেক্ষিত নজরুল। একাডেমী খ্যাতিমানদের পাশাপাশি অনেক অখ্যাত ব্যক্তির জীবনী প্রকাশ করলেও জাতীয় কবির জীবনী প্রকাশ করেনি। এখনও পূর্ণাঙ্গ নজরুল রচনাবলী প্রকাশ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কবির অনেক বই এখন পুনর্মুদ্রণ করার মতো সময় নেই বাংলা একাডেমীর! একই সঙ্গে, একাডেমীতে নির্মিত ‘নজরুল মঞ্চ’ বইমেলার সময় ছাড়া ব্যবহার করা হয় না। বইমেলার সময় মোড়ক উন্মোচন করার কাজে এই মঞ্চটি ব্যবহৃত হয়। বাকি সময় মঞ্চটি অযতœ-অবহেলায় পড়ে থাকে।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নজরুল চিকিৎসাধীন ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দোতলার ১১৭ নম্বর কক্ষে। এ কক্ষটিও সংরক্ষিত নয়।

উল্লেখ্য, এদেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমান। মুসলমান পরকালে বিশ্বাসী। আর নজরুলের খেয়াপারের তরণী কবিতা পড়ে সাধারণ মুসলমান পরকালে অনুপ্রাণিত হয়ে কেঁদে দেয়। নজরুল রমযানের ওই রোযার শেষে কাছীদা পাঠ করে সাধারণ মুসলমান তাদের ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতরের আনন্দের আবহ পায়।

অপরদিকে ভারতের জাতীয় কবি ঠাকুর এদেশের মুসলমানদের সমৃদ্ধির সব বিষয়ে পদদলিত করেছিল। বঙ্গভঙ্গ থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিল। তার রচিত বাংলাদেশের কথিত জাতীয় সঙ্গীত এ বিকৃত ‘নয়ন’, ‘জল’, ‘বদন’ এ শব্দগুলো এখনও এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানের মুখে উচ্চারিত হয়না। এছাড়া তার কবিতায়, রচনায় এদেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানের আবেগ, অনুভূতি ও বিশ্বাসের কোন প্রতিফলনই নেই।

পাশাপাশি ‘মসজিদের পাশে কবর দিও ভাই, ……….মুয়াজ্জিনের আজান যেন শুনতে পাই’ নজরুলের কাছিদার এ আর্তি তার জীবনে যেহেতু সত্যে প্রমাণিত হয়েছে সে প্রেক্ষিতে তাকে মূলত ইসলাম ও মুসলমানের কবি বলেই অভিহিত করতে হয়।

সুতরাং প্রশ্ন জ্বলন্ত হয়; সে ভারতীয় কবির দেড়শত বছরের জন্মজয়ন্তী, নিজেদের জাতীয় কবি নজরুলের চেয়ে হাজারগুণ বেশি ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অবাধ সরকারি অর্থ ব্যয় করে, বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও জাঁকজমক সহকারে করাই কী মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

বলাবাহুল্য, যুগপৎভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অথবা ৯৭ ভাগ মুসলমানের ঈমানী প্রেরণার প্রেক্ষিত থেকেই সরকারকে অবিলম্বে জাতীয় কবিকে অবহেলা করে ভারতীয় কবির প্রপাগান্ডার প্রবণতা থেকে ফিরে আসতে হবে। সরকারিভাবে জাতীয় কবি নজরুলের মর্যাদা সর্বাগ্রে ও সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

মূলত ইসলামী প্রজ্ঞার অভাবে কোন সরকারই এ সত্যটি আদৌ উপলদ্ধি করতে পারেনি। সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি সরকারেরও প্রয়োজন রয়েছে নেক পরামর্শ তথা নেক ছোহবত, রূহানী সংস্পর্শ তথা ফয়েজ-তাওয়াজ্জুহ।

যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নেক ছোহবতেই সে মহান নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে তা নছীব করুন। (আমীন)

-মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান

 

 

ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি ও ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা-৫০

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৩ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫১

‘থার্টিফাস্ট নাইট, ভালেন্টাইন ডে আর পহেলা বৈশাখের’ নামে হুজ্জোতির জন্য ধর্মব্যবসায়ীদের কৌশলগত নিষ্ক্রীয়তা, স্বার্থবাদী মৌসুমী রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সংস্কৃতি বিপননকারীদের দূরভিসন্ধিতা ও মধ্যবিত্তের  তত্ত্ব-তালাশহীন প্রবণতা তথা হুজুগে মাতা প্রবৃত্তিই দায়ী

অবশেষে জামাতীরা স্বীকার করিল যে, মুক্তি পাইতে চাহিলে মুরীদ হইতে হয়। আল্লাহ পাক-এর ওলী বা দরবেশ হইতে পারিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জামাতীরা তাহা নয় বলিয়াই আখিরাত তো দূরের কথা দুনিয়াতেই তাহারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার। আর মইত্যা রাজাকারের ফতওয়া অনুযায়ী তো- তাহাকেই কতল করা ওয়াজিব।