(ধারাবাহিক)
ভারতে মুসলিম জনসংখ্যা ২০ কোটি। অর্থাৎ বাংলাদেশের জনসংখ্যার চেয়েও প্রায় ৭ কোটি বেশী। এবং বাংলাদেশে মুসলমান ও হিন্দুর অনুপাত ১০ঃ১ হলেও ভারতে হিন্দু ও মুসলমানের অনুপাত ৪:১ প্রায়। কিন্তু তারপরেও ভারতে মুসলমানদের সংখ্যালঘু ধরা হয়। তাদের উপর বর্বর আক্রমণ চালানো হয়।
মুসলমানদের উপর এরূপ বর্বর আক্রমণ করেই বিজেপি মনে করে আসন্ন নির্বাচনে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে গেছে। বিজেপি সমর্থনপুষ্ট গুজরাট সহিংসতার নায়ক গুজরাট মূখ্যমন্ত্রী মোদী এখন ভারতীয় হিন্দুদের মহানায়ক, মহাহিরো। তাকে উছীলা করেই বিজেপি আবার ক্ষমতায় যাবে বলে মনে করছে।
গুজরাটের সহিংসতার জন্য তাই মোদীকেই অনেকে এককভাবে দায়ী করেছেন। কিন্তু অভিজ্ঞমহলের মতে বিষয়টি তা নয়। কারণ গুজরাট সহিংসতা মোদীর একক বা বিচ্ছিন্ন চিন্তার ফসল নয়। এটি মূলত গোটা ভারতীয় হিন্দু সমাজের সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও তাদের উর্বর হিন্দুত্ববাদী চিন্তা-চেতনার বাস্তব বহিঃপ্রকাশ।
মূলতঃ অতীত ইতিহাস হতেই এর ভুরি ভুরি প্রমাণ পাওয়া যায়। বিশেষতঃ আজকের প্রেক্ষাপট তৈরী হয়েছে গত এক শতক ধরে হিন্দু মৌলবাদী সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার প্রক্রিয়ায়। হিন্দু মৌলবাদী সংগঠনগুলো যে কত সক্রিয় সে সম্পর্কে আমরা বড়ই বে-খবর। সকলের জ্ঞাতার্থে তাই এ সম্পর্কে কিঞ্চিত আলোকপাত করা হলো-
মৌলবাদী হিন্দু সংগঠনসমূহ
হিন্দু মহাসভাঃ ১৯০৭ সালে পাঞ্জাবে প্রথম হিন্দুসভা স্থাপিত হয়। পরে এটিকে সর্বভারতীয় রূপ দেয়া হয়। তখন এর নামকরণ করা হয় নিখিল ভারত হিন্দু মহাসভা। তিরিশের দশকের শেষের দিকে হিন্দু মহাসভা কলকাতায় প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে ওঠে। চল্লিশের দশকে বাংলার কংগ্রেস হিন্দুস্বার্থ রক্ষার পথ অবলম্বন করলে হিন্দু মহাসভার শক্তি কমে যায়। হিন্দু মহাসভা কংগ্রেসের সঙ্গে এক জোটে বাংলার হিন্দুদের জন্য স্বতন্ত্র আবাসভূমি গঠনের জন্য বঙ্গ বিভাজনের দাবী করে এবং বঙ্গ বিভাজন সফল হয়। হিন্দু মহাসভা ভারতে হিন্দু রাষ্ট্রের প্রবক্তা।
রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘঃ ১৯২৫ সালে দশেরায় কিনে হিন্দু মহাসভা নেতাদের পৃষ্ঠপোষকতায় হেডগেয়াড় রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের প্রতিষ্ঠা করেন। হিন্দুদের একত্রিত করে ভারতে হিন্দু রাষ্ট্র স্থাপন করাই এই প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এই সংগঠন দ্রুত প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। কলকাতা থেকে ‘স্বস্তিকা’ পত্রিকা এই সঙ্ঘের উদ্যোগে প্রকাশিত হয়। এই সংগঠন একমাত্র হিন্দু ধর্মকে ধর্ম বলে মনে করে। ইসলাম বা খ্রীষ্ট ধর্মকে ধর্ম বলে মানতে চায়না। দাবী করে ভারতের অহিন্দু জনসাধারণকে হিন্দুদের সংস্কার ও সংস্কৃতিকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে।
প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘ নামক সংস্থাটি (যার সঙ্গে বিজেপির প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে) দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাগুলো সংঘটিত করার প্রধান হোতা। অনেকগুলো বিচারবিভাগীয় তদন্তেও এটা প্রমাণিত হয়েছে।
১৯৬৯ সালে আহমেদাবাদ দাঙ্গায় রেডিড কমিশন, ১৯৭০ এ ভিওয়ানদি দাঙ্গায় মদন কমিশন আর এস এস এবং জনসঙ্ঘের ভূমিকা উল্লেখ করেছেন। ১৯৭১ এ তেল্লিচারি দাঙ্গার পর তদন্তকারী বিচারপতি ভিথায়েতিল সাম্প্রদায়িক মনোভাব উসকে দেয়ার জন্য ও দাঙ্গার পটভূমিকা প্রস্তুত করার জন্য আর এস এসকে দায়ী করেছিলেন। ১৯৮১ সালে জামশেদপুর দাঙ্গায় তদন্তকারী বিচারপতি যতীন্দ্রনারিন আর এস এস বিশেষ করে দেওরসের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছিলেন। ১৯৮২ সালে কন্যাকুমারীর দাঙ্গার পর গঠিত কমিশনে বিচারপতি ভেনুগোপাল মন্তব্য করেছিলেন, আর এস এস সাম্প্রদায়িকতা ও দাঙ্গাকে বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করেছে। আর এস এস অনুসৃত প্রচারের মধ্যে ছিলো- হিন্দুরা ক্রমশঃ সংখ্যালঘিষ্ঠ হচ্ছে। যে কোন তুচ্ছ ঘটনাকে সাম্প্রদায়িকরূপে ব্যাখ্যা করা ছিল এই কৌশলের অন্তর্গত। আর এস এস দাবী করে, ভারতে বসবাস করতে হলে বা নাগরিক হতে হলে সবাইকে হিন্দু হতে হবে অথবা দেশ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আর এস এস-এর সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক কি তা বিজেপির সভাপতি এলকে আদভানি (এক্সপ্রেস ম্যাগাজিন ৮ই জুন, ১৯৮৬) একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন, “অনেক বিজেপি সদস্য কৈশোরে আর এস এস-এর সঙ্গে ছিলেন। জনতা পার্টিকে পরিত্যাগ করে বিজেপি গঠনের মর্মবস্তুই হলো বিজেপি আর এস এস-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করবে না। ….” (চলবে) -মুহম্মদ মাহবুবুর রহমান, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে