মতামত

সংখ্যা: ৩০৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশের পার্বত্য অঞ্চল, ভারতের একটি অঞ্চল, মিয়ানমারের

একটি অঞ্চল নিয়ে একটি শক্তির বিশেষ  পরিকল্পনা।

তবে বাংলাদেশ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম আলাদা করা এবং খ্রীষ্টান

রাজ্য বানানোর নীল নকশা খুব শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

বি.এন.পির- এক সালাহউদ্দীনই কথা বলেছে।

কিন্তু ফখরুল থেকে তারেক রহমানরা চুপ কেন?

ইসলাম নামধারী দলগুলোর মুখেও কুলুপ কেন?

পাশাপাশি দেশের মালিক জনগণও নিষ্ক্রিয় কেন?

তবে কী তারা আরেকটি পলাশী দেখতে চায়? নাউযুবিল্লাহ!

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ পার্বত্য চট্টগ্রাম, ভারত ও মিয়ানমারের দুটি অঞ্চল নিয়ে কিছু বৈশ্বিক শক্তির পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার মতে, এই শক্তিগুলো সম্ভবত এই ভূখণ্ডকে নতুন করে সাজাতে চায়।

৯ আগস্ট দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সিএইচটিআরএফ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী প্রসঙ্গ ও জাতীয় নিরাপত্তা ভাবনা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় সে এসব কথা বলে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলে, সাম্প্রতিক সময়ে কু-কিচিনের মতো কিছু ঘটনা আমাদের এবং আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে চিন্তিত করেছে। এসব ঘটনার পেছনের কারণগুলো সাধারণ চোখের আড়ালে লুকিয়ে আছে। পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা অনেক পুরোনো এবং এই বিষয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

সালাহউদ্দিন বলে, আমরা সবাই যদি অখণ্ড বাংলাদেশে বিশ্বাস করি, একই সংবিধানে বিশ্বাস করি এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, ভৌগোলিক অখন্ডকতাকে বজায় রাখতে চাই, তাহলে সবাইকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কোনো ষড়যন্ত্র যেন সফল না হতে পারে, সেজন্য সচেতন সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে। এ ব্যাপারে যেন, জাতীয় নিরাপত্তাবাহিনী, বুদ্ধিজীবী, গবেষক এবং সাংবাদিকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর জোর দেয়, যাতে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ থাকে।

বিশ্লেষকদের মতে, কেএনএফ-এর সঙ্গে মিয়ানমারের কাচিন এবং ভারতের মণিপুরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া সংগঠনটি জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকিয়া নামক চিহ্নিতগোষ্ঠীর সদস্যদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে অর্থ উপার্জন করছে বলেও তথ্য রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, কেএনএফ এখন আর কেবল একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নয়, বরং একটি সংগঠিত মিলিটারি ফোর্সে রূপ নিয়েছে। এদের রয়েছে সুপরিকল্পিত সামরিক কৌশল, প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র ইত্যাদি। এই গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছে নাথান বম, যে একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ছাত্র এবং পার্বত্য ছাত্র পরিষদের সদস্য ছিলো। ০১৭ সালে সে কেএনএফ গঠন করে এবং ‘কুকি চীন টেরিটোরিয়াল কাউন্সিল’ নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের দাবি তোলে, যা বাংলাদেশের বিদ্যমান প্রশাসনিক কাঠামোর বাইরে।

তাদের দাবি, তারা ভূমি, পর্যটন, পুলিশ প্রশাসন এবং নিজেদের অস্ত্রধারী ব্যাটালিয়ন পরিচালনা করবে। তারা সাধারণ ক্ষমার শর্তে বিদ্রোহী কর্মকাণ্ডের বৈধতা চায়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে অশান্ত পরিবেশ সৃষ্টির পরপরই ভারতের বেশ কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমকে সক্রিয় হতে দেখা গেছে।

ভারতীয় একটি অনলাইন পোর্টাল “ভারতেরই ডট কম” সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশের ‘বেলুচিস্তান’ আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, এই অঞ্চল নাকি ‘স্বাধীনতার সংগ্রামে’ নেমেছে। এ ছাড়া আসামের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত মন্তব্য করেছে, বাংলাদেশের “চিকেন স্নেক” আসলে দুটি-রংপুর ও চট্টগ্রাম, এবং এই অঞ্চল দুটির বিচ্ছিন্ন হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলে সে।

ভারতের বহুল পরিচিত আনন্দবাজার পত্রিকা সম্প্রতি ‘বাংলাদেশে গণহত্যা থেকে চাকমাদের রক্ষা করুন-মোদিকে বার্তা উত্তর-পূর্বের জনজাতিদের’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রচার করে। খবরে চাকমাদের উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর বাংলাদেশে নতুন সরকারের আমলে তাদের “আদিবাসী” পরিচয় মুছে ফেলার চেষ্টা শুরু হয়েছে।’

পার্বত্য অঞ্চলের এ ঘটনাকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সাম্প্রদায়িকতার লেবাস লাগিয়ে কয়েকটি জনজাতি সংগঠনের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি বলেছে, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও মুসলিম কট্টরপন্থীরা বৌদ্ধধর্মাবলম্বী চাকমাদের গণহত্যা করছে।

সংঘর্ষে খুন হয়েছে অন্তত ১০ জন অমুসলিম। অন্যদিকে, ভারতের ত্রিপুরার চাকমা নেতারা পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি করেছে। তাদের দাবি, পার্বত্য চট্টগ্রামে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও ১৯৪৭ সালে র‌্যাডক্লিফ পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত করে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন চাকমা নেতারা রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলো, যা ২১ আগস্ট পর্যন্ত ওই অবস্থায় ছিল। গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপি নেতা কিশোর দেববর্মণ তো ঘোষণাই দিলো, ‘বাংলাদেশের জনগণ যদি মনে করে তারা আমাদের চ্যালেঞ্জ করতে পারে, আমি অবশ্যই মনে করিয়ে দিতে পারি যে, পাকিস্তানকে ভাগ করে ভারত বাংলাদেশ তৈরি করেছে এবং এখন আবার বাংলাদেশকে ভাগ করে আরেকটি দেশ তৈরি করার ক্ষমতা ভারতের আছে।’

স্বাধীনতার পর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ইস্যু নিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বাংলাদেশ থেকে পৃথক করার এক গভীর ষড়যন্ত্র হয়েছিল। সেই ষড়যন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ভারত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় ক্যাম্প স্থাপন করে বিপথগামী পাহাড়িদের অস্ত্র ও বিস্ফোরকের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। এসব প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ভারতীয় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হতো। ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সশস্ত্র এই দলের নাম ছিল ‘শান্তিবাহিনী’।

পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরির ষড়যন্ত্র শুরু করেছে ভারত। এই কাজে লাগানো হচ্ছে জেএসএস, ইউপিডিএফ আর কেএনএফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের। দেশবিরোধী এই প্রকল্প সফল করতে পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে তিন ভাগে।

প্রথম ভাগে জেএসএস আর ইউপিডিএফের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের মধ্যে বিভেদ ছড়িয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে কথিত ভ্রাতৃঘাতী সংঘাতের নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করা। এরই মধ্যে এই সংঘাতে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করা বাঙালিদের জড়িয়ে নেওয়া।

সবশেষ উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে একপক্ষকে দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যাম্পেইন শুরু করানো। যেখানে বাংলাদেশের পার্বত্য এলাকায় অস্থিরতার চিত্র ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বড় করে দেখানোসহ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার প্রাধান্য পাবে। ক্যাম্পেইনের শিরোনাম হবে পার্বত্য এলাকায় ইউএন মিশন পাঠানোর দাবি। আর এসব প্রক্রিয়া শুরু হবে বিজু উৎসবের পর থেকেই। পুরো এই কর্মকাণ্ডের সমন্বয় করছে আত্মগোপনে থাকা কিছু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক অস্ত্রধারীর স্বীকারোক্তিসহ পার্বত্য এলাকা নিয়ে কাজ করা একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা এসব পরিকল্পনার তথ্য পেয়েছে।

এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামকে খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাষ্ট্রে পরিণত করার আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র চলছে বলে দাবি করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের নেতারা। তারা বলছে, বর্তমান সময়ে কিছু উপজাতি নেতার নেতৃত্বে পার্বত্য শাসনবিধি-১৯০০ আইন বহাল রাখার আন্দোলন চলছে, যা পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। তাই পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের ও জাতিগোষ্ঠীর সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করতে হবে।

নাথান বম যে ক্যাম্পেইন করার কথা বলছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সেই একই দাবি তুলছে প্রকাশ্যে। ভারতীয় মিডিয়া যে সুরে কথা বলছে, পাহাড়ি উগ্রবাদী সংগঠনগুলো একইভাবে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। এই অবস্থার উন্নতি করতে হলে পার্বত্য এলাকায় সেনা তৎপরতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

সরকারকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ঘটনাবলির সঠিক চিত্র তুলে ধরে প্রকৃত বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করতে হবে। দেশের জনগণ যদি সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে কোন ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না ইনশাআল্লাহ।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউর রহমান আরিফ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ