মরণঘাতী ও দেশধ্বংসী জিএমও ফুডের গোল্ডেন রাইস বাংলাদেশে বিস্তারের ভয়াবহ ষড়যন্ত্র চলছে। এতে করে দেশীয় কৃষি ধ্বংস হবে ও পরাধীন হবে কৃষকসমাজ; জিএমও ফুডের বিষাক্ততায় বিষাক্ত হয়ে জাতি হবে বিকলাঙ্গ। সরকারের উচিত- অবিলম্বে জিএমও ফুডের প্রবেশ বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা। আর জনগণের উচিৎ- এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে রুখে দেয়া।

সংখ্যা: ২৭১তম সংখ্যা | বিভাগ:

গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক খবরে জানা গেছে, বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইসের জাত উদ্ভাবনের কাজ খুব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি) এর সহযোগিতায় বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট(ব্রি) এর হেলদিয়ার রাইস প্রকল্পের আওতায় চলছে এ গবেষণার কাজ। প্রচার করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশে ভিটামিন এ এর ঘাটতি মেটানোর জন্যই বাংলাদেশে গোল্ডেন রাইসের গবেষণা চলছে। বাংলাদেশের ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ ভিটামিন এ সমস্যায় ভুগছে। আর এই গোল্ডেন রাইসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন (ভিটামিন এ এর পূর্বাবস্থা)। যা মানবদেহের প্রয়োজন অনুযায়ী ভিটামিন এ তে রূপান্তরিত হয়। সেইসাথে দাবী করা হচ্ছে যে, এই গোল্ডেন রাইসে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কোনো কিছু এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

অথচ সাম্প্রতিক সময়ের বেশ কয়েকটি গবেষণায় গোল্ডেন রাইসের অতিক্ষতিকর প্রভাব প্রকাশিত হয়েছে। জানা গেছে, “গর্ভবতী নারী গোল্ডেন রাইস খেলে তার সন্তানের জন্মগত ত্রুটি ঘটতে পারে। যে মানুষ কম পরিমাণ চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করে, সে এ ধরনের চাল খেলে তার শরীরের বিষাক্ততা দেখা দিতে পারে। যে মানুষ ডায়রিয়ায়, ক্ষুদ্রান্ত্রেও প্রদাহসহ অন্যান্য রোগে আক্রান্ত, সে এ ধরনের চাল খেলে শরীরের নানাবিধ বিষাক্ততা দেখা দিতে পারে। হজম প্রক্রিয়ায় বিটা ক্যারোটিন (গোল্ডেন রাইসে আছে) পরিবর্তিত হয়ে রেটিনল বা রেটিনোইক এসিড এতে রূপান্তরিত হতে পারে, যা চর্বিতে জমা হতে পারে কিন্তু এর প্রভাব বিষাক্ত এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে। ভিটামিন-এ স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও উচ্চ মাত্রায় ভিটামিন এ হাইপার-ভিটামিনোসিস ভিটামিন-এ জনিত বিষাক্ততা তলপেট, নাকে ব্যথা, বমি বমি ভাব এবং শিশুদের ঋড়হঃধহবষষব সৃষ্টি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদী বিষাক্ততা হাড় ও হাড়ের সংযোগস্থলগুলোর ব্যথা সৃষ্টি, চুল পড়া, শুষ্কতা জ্বর, ওজন হ্রাস, উচ্চ রক্তচাপ, ঠোঁটে ফাটলের মতো রোগ সৃষ্টি করতে পারে।”

অন্যদিকে, এই গোল্ডেন রাইস জেনেটিক্যালি মোডিফাইড অর্থাৎ জিএমও ফুড। আর এই জিএমও ফুডের গবেষণার ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। এই জিএমও ফুডের সাথে জড়িত বিজ্ঞানীরা প্রথমে গোল্ডেন রাইসসহ কয়েকটি জিএমও ফুড বিভিন্ন পশুর শরীরে প্রবেশ করিয়ে পরীক্ষা করেছিলো কিছুদিন আগে তথ্য গোপন করে। যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে ইঁদুরকে বিটি ভুট্টা খাওয়ানোর পর কলিজা, কিডনি নষ্ট হয়েছে, জিএমও আলু খেয়ে অন্ত্রনালী নষ্ট হয়েছে। অন্যদিকে, মানুষের শরীরে সরাসরি গবেষণা না করলেও ভারতে বিটি তুলার চাষে কর্মরত কৃষি শ্রমিকদের মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা ধরা পড়েছে। তাদের চামড়া, চোখ এবং শ্বাসযন্ত্রে সমস্যার কারণে অনেক শ্রমিককেই হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অথচ সাধারণ তুলা চাষে নিয়োজিত শ্রমিকদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায়নি। জার্মানিতে বিটি ভুট্টা খেয়ে গরু মারা গেছে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, জিএমও ফুডগুলো পশুপাখির শরীরে প্রবেশ করানোর ফলে যেখানে পশুপাখিই বিকলাঙ্গ হচ্ছে সেখানে মানুষ যদি এই গোল্ডেন রাইস খায় অর্থাৎ জিএমও ফুড গ্রহণ করে তাহলে মানুষের কি ভয়াবহ পরিণতি হবে তা ভাবাই বাহুল্য।

মূলতঃ বাংলাদেশসহ কৃষিভিত্তিক দেশগুলোতে গোল্ডেন রাইসহ, বিটি বেগুন ও বিটি ভুট্টার মতো কৃষি পণ্যগুলো প্রবেশ করানোর মুল উদ্দেশ্যই হচ্ছে স্বদেশীয় কৃষিকে পরাধীন ও ধ্বংস করে সেইসব দেশে ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর মতো জেএম ফুডের ব্যবসা শুরু করা। বর্তমানে মাত্র ১০টি বীজ কোম্পানি (যা একই সঙ্গে কীটনাশক কোম্পানি) ৬৭% বাণিজ্যিক বীজের ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।

কিন্তু বাংলাদেশের কৃষকদের ঘরে পর্যাপ্ত বীজ থাকার কারনে এই বহুজাতিক বীজ সন্ত্রাসীরা বাংলাদেশে জিএম ফুডের ব্যবসা করতে পারছেনা। তাই তারা প্রথমে বিটি বেগুন, এরপর এখন গোল্ডেন রাইস ও বিটি ভুট্টাকে উচ্চ ফলনশীল ও মানবদেহের জন্য অতি উপকারী নাম দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে চাচ্ছে। এতে করে দেখা যাবে যে, যদি গোল্ডেন রাইসের মতো এই জিএম ফুডগুলো বাংলাদেশের কৃষিতে প্রবেশ করে তাহলে কৃষকরা উচ্চ ফলন ও তাদের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত করে তাদের জিএম ফুডের বীজের প্রতি আগ্রহী হবে। এতে করে দেশীয় বীজের খাত নষ্ট হবে। আর এই সুযোগ এই বীজ সন্ত্রাসীরা তাদের জিএম ফসলের বীজের দাম বাড়িয়ে দিবে। এতে করে কৃষকদেরও অতিমুল্যে তাদের কাছ থেকে বীজ কিনতে হবে ও বীজের জন্য এই বহুজাতিক বীজ সন্ত্রাসীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকতে হবে। অন্যদিকে, আশানুরুপ ফলন না পেয়ে কৃষকদের পথে বসতে হবে। যেমন হয়েছে ভারতে। ভারতের কৃষকদের কাছে বহুজাতিক বীজ সন্ত্রাসীরা অতি ফলনের লোভ দেখিয়ে উচ্চমূল্যে তাদের কাছে বীজ সরবরাহ করেছে। অনেক কৃষক ঋণের টাকায়ও বীজ কিনে ফসল চাষ করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে এই জিএম ফুডের বীজের নি¤œমানের ফলন হওয়ায় অনেক চাষী আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি যে, বাংলাদেশে ভিটামিন এরই কোন ঘাটতি নেই। আর সে ঘাটতি পূরণের নামে গোল্ডেন রাইসের আরো অনেক বেশি প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশে ভিটামিন এ সমৃদ্ধ শাক সবজি ও ফলমুল থেকে প্রাপ্ত ভিটামিন এ বহুগুন উদ্বৃত্ত থাকে। তাই এর জন্য জিএম ফুডের মতো মানবঘাতি ও কৃষিঘাতি ফসলের কোনো প্রয়োজন নেই। সরকারের উচিত হবে অবিলম্বে এই গোল্ডেন রাইস তো অবশ্যই পাশাপাশি অন্যান্য জিএম ফুড বাংলাদেশে ঢোকানোর প্রচেষ্টা চলছে তা শক্তভাবে রূখে দেয়া। পাশাপাশি বাংলাদেশের কৃষি বিভাগে যেসকল স¤্রাজ্যবাদী ও বীজ সন্ত্রাসীদের যেসব দালাল রয়েছে তাদের খুজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়া। এবং এসব ঘৃন্য ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জনগণকেও বিশেষ সচেতন ও সক্রিয় হয়ে তা প্রতিহত করার জিহাদে অবতীর্ণ হওয়া।

-মুহম্মদ আরিফুল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)