মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৫৫তম পর্ব)

সংখ্যা: ২৯৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

(৩৪তম ফতওয়া হিসেবে)

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, মহাসম্মানিত ইজমা শরীফ এবং মহাসম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত ও দিন মুবারক উনাদের সম্মানিত আমল মুবারকসমূহ উনাদের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি।

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র জুমাদাল উখরা শরীফ মাসে প্রকাশিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফসমূহ

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ তারীখ মুবারক= ৮টি

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আইয়্যামুল্লাহ শরীফ= ১১টি

(৩) ক. মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ:

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস মুবারক:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বীক্বাহ্ মুবারক দেয়া এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক রাখা

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিন অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২৬শে জুমাদাল উখরা শরীফ ইয়াওমুল খমীস শরীফ (বৃহস্পতিবার) উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আক্বীক্বাহ্ মুবারক দেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

‘হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম’ এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক রাখার বেমেছাল হিকমত মুবারক

মূলত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওহী বা নির্দেশ মুবারক প্রাপ্ত হয়ে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

উক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক উনার অর্থ মুবারক হচ্ছেন- উদ্ধারকারিণী, পৃথককারিণী, রক্ষাকারিণী। সুবহানাল্লাহ! এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখার পিছনে কোটি কোটি হিকমত মুবারক নিহিত রয়েছেন। যেটা সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম-কায়িনাতবাসী সকলের চিন্তা ও কল্পনার উর্ধ্বে। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে এই বিষয়ে সংক্ষিপ্ত কিছু আলোচনা করা হলো-

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ هُرَيْـرَةَ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ عَنِ النَّـبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِنَّـمَا سَـمَّيْتُ حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ لِاَنَّ اللهَ فَطَمَ مَنْ اَحَبَّـهَا مِنَ النَّارِ

অর্থ: “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিশ্চয়ই উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে যাঁরা মুহব্বত করবেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিবেন। সুবহানাল্লাহ! তাই উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক রাখা হয়েছে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম’।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতাউল আসমা’ ৪/১৯৬)

অপর বর্ণনায় এসেছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِبْـنَتِـىْ حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ حَوْرَاءُ اٰدَمِيَّةٌ لَـمْ تَـحِضْ وَلَـمْ تَطْمِثْ وَاِنَّـمَا سَـمَّاهَا حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ لِاَنَّ اللهَ فَطَمَهَا وَمُـحِبِّــيْـهَا مِنَ النَّارِ

অর্থ: “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ‘মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মানবীয় হুর মুবারক’। সুবহানাল্লাহ! মহিলাদের যে স্বাভাবিক মাজূরতা রয়েছে সেটা উনার নেই। সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে এবং উনার মুহব্বতকারী উনাদেরকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তাই উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত ফাত্বিমাহ্ আলাইহাস সালাম’ রাখা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (তারীখে বাগদাদ ১২/৩৩১, কানযুল ‘উম্মাল ১২/১০৯, মু‘জামুশ শুয়ূখ ২/২১৬ ইত্যাদি)

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, উম্মু আবীহা, উম্মুল আইম্মাহ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে যাঁরা জার্রাহ্ থেকে জার্রাহ্ পরিমাণ মুহব্বত করবেন, উনারা প্রত্যেকই নাজাতপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ! আর এই বিষয়টি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক থেকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হাসান আলাইহাস সালাম’ এবং ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল হুসাইন আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

وَلِلّٰهِ الْاَسْـمَآءُ الْـحُسْنٰـى فَادْعُوْهُ بِـهَا

অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক উনার অনেক সুন্দর সুন্দর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক রয়েছেন, তোমরা উনাকে সেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক দ্বারা আহ্বান মুবারক করো।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৮০)

মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন অসীম ঠিক তেমনিভাবে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসীম। সুবহানাল্লাহ! অনুরূপভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক উনাদের সংখ্যাও অসংখ্য-অসীম। এক কথায় তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন; এছাড়া সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক উনাদের অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! ঠিক একইভাবে বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া যত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক রয়েছেন সমস্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র লক্বব মুবারক উনাদের মালিক অর্থাৎ অধিকারী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে উনার কয়েকখানা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ লক্বব মুবারক উল্লেখ করা হলো:

*  بِنْتُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ!

* اَهْلُ بَـيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ।

* سَيِّدَةُ النِّسَاءِ عَلَى الْعَالَمِيْـنَ (সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন)- সারা কায়িনাতে যত মহিলা রয়েছেন উনাদের প্রত্যেকের সাইয়্যিদাহ্।

* سَيِّدَةُ نِسَاءِ اَهْلِ الْـجَنَّةِ (সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ)- সম্মানিত জান্নাতবাসী সমস্ত মহিলাগণ উনাদের সাইয়্যিদাহ্।

* بِضْعَةٌ مِّنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ (বিদ্ব‘আতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূরুল মুজাসসাম (জিসিম বা শরীর) মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র গোশত মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক।

*  اَلنُّـوْرُ الرَّابِعَةُ (আন নূরুর রবি‘আহ্)- আন নূরুর রবি‘আহ্, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চতুর্থ নূর মুবারক। তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বানাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে চতুর্থ, তাই উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুর রবি‘আহ্ আলাইহাস সালাম’ বলা হয়। সুবহানাল্লাহ!

* اَلزَّهْـرَاءُ (আয যাহরা’)- মহাসম্মানিত ফুল মুবারক বা মহাসম্মানিত কলি মুবারক, মহাসম্মানিত কুসুম মুবারক, বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী, পূত-পবিত্র, পূত-পবিত্রতাদানকারিণী।

* اُمُّ اَبِـيْـهَا (উম্মু আবীহা)- উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহাস সালাম। ইত্যাদি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিশেষ লক্বব মুবারক উনাদের অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ছূরত মুবারক

বিদ্ব‘য়াতুম মির রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মু আবীহা, সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন বেমেছাল সৌন্দর্য মুবারক উনার অধিকারিণী। সুবহানাল্লাহ!

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, রহমাতুল্লিল আলামীন মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আলাল আলামীন, সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ, আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হুবহু নকশা মুবারক।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,

عَنْ اُمِّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةِ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ) قَالَتْ مَا رَاَيْتُ اَحَدًا اَشْبَهَ سَـمْتًا وَدَلًّا وَهَدْيًا بِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ حَضْرَتْ فَاطِمَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِـىْ قِـيَامِهَا وَقُـعُوْدِهَا

অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চাল-চলন মুবারক, আচার-ব্যবহার মুবারক, কথা-বার্তা মুবারক, স্বভাব-চরিত্র মুবারক, কাজ-কর্ম মুবারক, উঠা-বসা মুবারক-এ আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার চেয়ে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ আর কাউকে আমি দেখিনি।” সুবহানাল্লাহ!

অপর বর্ণায় রয়েছেন,

كَلَامًا وَّحَدِيْـثًا

অর্থাৎ “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কথাবার্তা মুবারক-এ, বর্ণনার তরজতরীকা মুবারক-এ আন নূরুর রবি‘আহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি ছিলেন অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুস্তাদরাকে হাকিম, বাইহাক্বী, ইবনে সা’দ, মিশকাত শরীফ ইত্যাদি)

(অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)