মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদেরকে সাথে সাথেই কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদন্ড দিতে হবে। তাদেরকে এক মুহূর্ত সময়ও অবকাশ দেয়া যাবে না

সংখ্যা: ২৮৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَلنَّبِـىُّ اَوْلـٰى بِالْمُؤْمِنِيْـنَ مِنْ اَنْـفُسِهِمْ وَاَزْوَاجُهٗۤ اُمَّهٰتُـهُمْ

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা মু’মিন উনাদের নিকট উনাদের জানের চেয়েও অধিক প্রিয় এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র পিতা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাতা আলাইহিন্নাস সালাম।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন,

يٰـنِسَآءَ النَّبِـىِّ لَسْتُـنَّ كَاَحَدٍ مِّنَ النِّسَآءِ

 অর্থ: “হে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম! আপনারা কোনো পুরুষ-মহিলা তথা সৃষ্টির কারো মতো নন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৩২)

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনাদের সাথে সৃষ্টির কারো তুলনা করা যাবে না। তুলনা করলে সুস্পষ্ট কুফরী হবে।

এ সম্পর্কে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন-

عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ لَّا يُــقَاسُ بِنَا اَحَدٌ

অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না।” সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! (দায়লামী ৪/২৮৩, জামি‘উল আহাদীছ ২২/২১৯, জাম‘উল জাওয়ামি’ ১/২৪৯৫০, যাখায়েরুল ‘উক্ববাহ ১/১৭, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১১/৭)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল খমিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

اِنَّا نَـحْنُ اَهْلُ بَـيْتٍ لَّا يُـقَاسُ بِنَا اَحَدٌ مَنْ قَاسَ بِنَا اَحَدًا فَـقَدْ كَفَرَ

অর্থ: “নিশ্চয়ই আমরা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম। আমাদের সাথে অন্য কারো ক্বিয়াস বা তুলনা করা যাবে না। সুবহানাল্লাহ! যে ব্যক্তি আমাদের সাথে অন্য কাউকে তুলনা করবে, অবশ্যই সে কুফরী করবে।” না‘ঊযুবিল্লাহ!

সুতরাং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা সৃষ্টির কারো মতো নন। সুবহানাল্লাহ! উনাদের সাথে সৃষ্টির কারো তুলনা করা যাবে না। তুলনা করলে সুস্পষ্ট কুফরী হবে। কাজেই, উনাদের সাথে যারা সৃষ্টির কারো তুলনা করবে, উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ বক্তব্য পেশ করবে, উনাদের মানহানী করবে, উনাদের ব্যাপারে অপবাদ দিবে, চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরীয়ত মুবারক উনার ফতওয়া অনুযায়ী তারা সবচেয়ে বড় কাট্টা কাফির, চিরজাহান্নামী। তারা ইবলীসের চেয়েও চরম মাল‘ঊন। তাদের প্রত্যেককেই লা’নাতুল্লাহি আলাইহি বলা ফরয, ফরয এবং ফরয। তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন ও  লাঞ্ছিত শাস্তি অপেক্ষমান। এ প্রসঙ্গে স্বয়ং যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেই ইরশাদ মুবারক করেন,

مَلْعُوْنِـيْـنَ اَيْـنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُـتِّلُوْا تَـقْتِـيْلًا

অর্থ: “তারা চরম মাল‘ঊন। তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে সেখানেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)

কাজেই, এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ মুতাবেক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে যারা সৃষ্টির কারো তুলনা করবে, উনাদের শান মুবারক উনার খিলাফ বক্তব্য পেশ করবে, উনাদের মানহানী করবে, উনাদের ব্যাপারে অপবাদ দিবে, চু-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে, তারা ইবলীসের চেয়ে চরম মাল‘ঊন হবে। তাদেরকে যেখানে পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করতে হবে এবং সাথে সাথে তাদেরকে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এক মুহূর্ত সময়ও তাদেরকে অবকাশ দেয়া যাবে না। এটাই হচ্ছে তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি।

এ সম্পর্কে কিতাবে অনেক ওয়াক্বেয়া মুবারক বর্ণিত রয়েছেন। যেমন-

ছাহিবু জুরযান, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক, ইমামুল ‘আদিল, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইসমা‘ঈল ইবনে হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিমুস সালাম (বিছাল শরীফ ২৭০ হিজরী) তিনি ছিলেন সাইয়্যিদুনা হযরত যায়িদ ইবনে হাসান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর। অর্থাৎ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ৬ষ্ঠ পুরুষ। সুবহানাল্লাহ! তিনি ২৫০ হিজরী শরীফ থেকে ২৭০ হিজরী শরীফ পর্যন্ত মোট প্রায় ২০ বছর অত্যন্ত ইনসাফ ও ন্যায়পরয়াণতার সাথে ত্ববারিস্তানের সম্মানিত শাসনকার্য মুবারক পরিচালনা করেন। উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-এ উল্লেখ রয়েছেন,

قَالَ حَضْرَتْ اَبُو السَّائِبِ عُتْـبَةُ بْنُ عُـبَـيْدِ اللهِ (عَبْدِ اللهِ) الْـهَمْذَانِـىُّ قَاضِىُ الْقُضَاةِ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ كُنْتُ يَوْمًا بِـحَضْرَةِ الْـحَسَنِ بْنِ زَيْدِ ۣ الدَّاعِىِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِطَـبَـرِسْتَانَ وَكَانَ يَـلْـبَسُ الصُّوْفَ وَيَاْمُرُ بِالْمَعْرُوْفِ وَيَـنْـهٰى عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُـوَجِّهُ فِـىْ كُلِّ سَنَةٍ بِعِشْرِيْنَ اَلْفَ دِيْـنَارٍ اِلـٰى مَدِيْـنَةِ السَّلَامِ تُـفَرَّقُ عَلـٰى صَغَائِرَ وَوَلَدِ الصَّحَابَةِ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْـهُمْ وَكَانَ بـِحَضْرَتِهٖ رَجُلٌ ذَكَرَ اُمَّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةَ عَلَـيْـهَا السَّلَامُ بِذِكْرٍ قَبِيْحٍ مِّنَ الْفَاحِشَةِ فَـقَالَ يَا غُلَامُ اِضْرِبْ عُنُـقَهٗ فَـقَالَ لَهُ الْعَلَوِيُّـوْنَ هٰذَا رَجُلٌ مِّنْ شِيْـعَـتِنَا فَـقَالَ مَعَاذَ اللهِ هٰذَا رَجُلٌ طَعَنَ عَلَى النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ اَلْـخَبِيْـثٰتُ لِلْخَبِـيْـثِـيْـنَ وَالْـخَبِـيْـثُـوْنَ لِلْخَبِـيْـثٰتِ وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّـبِـيْـنَ وَالطَّيِّـبُـوْنَ لِلطَّيِّبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَـرَّءُوْنَ مِـمَّا يَـقُوْلُوْنَ لَـهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْـمٌ فَاِنْ كَانَتْ اُمُّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةُ سَيِّدَتُـنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةُ عَلَيْـهَا السَّلَامُ خَبِـيْـثَةً فَالنَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَبِـيْثٌ فَـهُوَ كَافِرٌ فَاضْرِبُـوْا عُنُـقَهٗ فَضَرَبُـوْا عُنُـقَهٗ وَاَنَا حَاضِرٌ

অর্থ: “ইমামুল আলাম, কাযীউল কুয্যাত হযরত ইমাম আবুস সায়িব ‘উতবাহ ইবনে ‘উবাইদুল্লাহ (আব্দুল্লাহ) ইবনে মূসা হামযানী শাফি‘য়ী ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (বিছাল শরীফ ৩৫০ হিজরী শরীফ) তিনি বলেন, আমি একদা ত্ববারিস্তানে ছাহিবু জুরযান, ইমামুল ‘আদিল, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ উপস্থিত ছিলাম। তিনি সূফী উনাদের পোষাক পরিধান করতেন (তিনি অনেক উচ্চ পর্যায়ের মাশায়েখগণ উনাদের ইমাম ছিলেন) এবং সৎকাজের আদেশ করতেন ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতেন (অর্থাৎ তিনি একজন অত্যন্ত ইনসাফগার ও ন্যায়পরায়ণ শাসক ছিলেন)। তিনি প্রতি বছর সালাম শহর তথা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ-এ ২০ হাজার স্বর্ণমুদ্রা প্রেরণ করতেন। যা শিশু এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের বংশধরগণ উনাদের মাঝে বন্টন করা হতো। সুবহানাল্লাহ! এক দিনের কথা- ছাহিবু জুরযান, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী আলাইহিস সালাম উনার উপস্থিতীতে এক লোক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ অপছন্দনীয় ফাহিশামূলক কিছু কথাবার্তা বললো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন তিনি একজনকে বললেন, হে বৎস! তুমি তার গর্দান উড়িয়ে দাও। তখন আলবীগণ উনাকে বললেন, সে তো আমাদের অনুসারী!!! তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি আশ্রয় দান করুন! এই নিকৃষ্ট লোকটি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ অপবাদ দিয়েছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,

اَلْـخَبِيْـثٰتُ لِلْخَبِـيْـثِـيْـنَ وَالْـخَبِـيْـثُـوْنَ لِلْخَبِـيْـثٰتِ وَالطَّيِّبٰتُ لِلطَّيِّـبِـيْـنَ وَالطَّيِّـبُـوْنَ لِلطَّيِّـبٰتِ اُولٰٓئِكَ مُبَـرَّءُوْنَ مِـمَّا يَـقُوْلُوْنَ لَـهُمْ مَّغْفِرَةٌ وَّرِزْقٌ كَرِيْـمٌ

‘দুশ্চরিত্রা মহিলারা দুশ্চরিত্র পুরুষদের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষরা দুশ্চরিত্রা মহিলাদের জন্য। সচ্চরিত্রা মহিলা উনারা সচ্চরিত্র পুরুষ উনাদের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ উনারা সচ্চরিত্রা মহিলা উনাদের জন্য। উনাদের সম্পর্কে তারা যা বলে, উনারা সেটা থেকে পবিত্র। সুবহানাল্লাহ! উনাদের জন্য রয়েছেন সুউচ্চ মর্যাদা মুবারক এবং কুদরতময় রিযিক্ব।’ সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ২৬) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি যদি খবীছাহ্ হন, না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাহলে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও খবীছ। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! কাজেই, এই ব্যক্তি কাফির। আপনারা তার গর্দান উড়িয়ে দিন। তখন উনারা শস্তিস্বরূপ উক্ত ব্যক্তির গর্দান উড়িয়ে দিলেন, তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেন। সুবহানাল্লাহ! কাযীউল কুয্যাত ইমাম হযরত আবুস সায়িব ‘উতবাহ ইবনে ‘উবাইদুল্লাহ (আব্দুল্লাহ) শাফি‘য়ী ছূফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি তখন উক্ত মজলিসে উপস্থিত ছিলাম।” সুবহানাল্লাহ! (শরহু উছূলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘য়াহ ৭/১৩৪৫, আস সাইফুল মাসলূল ‘আলা মান সাব্বার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ৪১৯পৃ.)

মাহবূবে এলাহী, আরিফ বিল্লাহ, আদীব, শায়ির, ছাহিবুস শুজা‘য়াহ, ছাহিবু হুসনিস সীরাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ ইবনে মুহম্মদ ইবনে ইসমা‘ঈল ইবনে হাসান ইবনে যায়েদ ইবনে হাসান ইবনে আলী ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিমুস সালাম (শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ ২৮৭ হিজরী শরীফ) তিনি ছিলেন ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত আওলাদ সাইয়্যিদুনা হযরত যায়িদ ইবনে হাসান আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত বংশধর। তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক। তিনি উনার সম্মানিত আপন বড় ভাই ছাহিবু জুরযান, আল ইমামুল ‘আদিল, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী আলাইহিস সালাম উনার পর ২৭০ হিজরী শরীফ থেকে ২৮৭ হিজরী শরীফ পর্যন্ত মোট প্রায় ১৭ বছর অত্যন্ত ইনসাফ ও ন্যায়পরয়াণতার সাথে সম্মানিত শাসনকার্য মুবারক পরিচালনা করেন। উনার সম্মানিত জীবনী মুবারক-এ উল্লেখ রয়েছেন,

عَنْ حَضْرَتْ اَبِـىْ جَعْفَرِ بْنِ الْفَضْلِ الطَّبَـرِىِّ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ اِنَّ حَضْرَتْ مُـحَمَّدَ بْنَ زَيْدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَخَا حَضْرَتْ اَلْـحَسَنِ بْنِ زَيْدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَدِمَ عَلَيْهِ مِنَ الْعِرَاقِ رَجُلٌ يَّـنُـوْحُ بَــيْـنَ يَـدَيْهِ فَذَكَرَ اُمَّ الْمُؤْمِنِـيْـنَ الثَّالِثَةَ سَيِّدَتَـنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْـقَةَ عَلَيْـهَا السَّلَامُ بِسُوْءٍ فَـقَامَ اِلَيْهِ بِعَمُوْدٍ وَّضَرَبَ بِهٖ دِمَاغَهٗ فَـقَتَـلَهٗ فَقِيْلَ لَهٗ هٰذَا مِنْ شِيْـعَـتِنَا وَمِـمَّنْ يَّـتَـوَلَّانَا فَـقَالَ هٰذَا سَـمّٰى جَدِّىْ قَـرْنَانَ وَمَنْ سَـمّٰى جَدِّىْ قَـرْنَانَ اِسْتَحَقَّ عَلَيْهِ الْقَتْلُ فَـقَتَـلْـتُهٗ

অর্থ: “হযরত আবূ জা’ফর ইবনে ফযল ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত হাসান ইবনে যায়েদ আদ দায়ী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত ভাই মাহবূবে এলাহী, আরিফ বিল্লাহ, আদীব, শায়ির, ছাহিবুস শুজা‘য়াহ, ছাহিবু হুসনিস সীরাহ, অত্যন্ত ন্যায়পরায়ণ ও ইনসাফগার শাসক, ইমামুল ‘আদিল, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ আলাইহিস সালাম উনার নিকট ইরাক থেকে এক ব্যক্তি আগমণ করলো। সে উনার সামনে এসে ইনিয়ে বিনিয়ে কান্নার স্বরে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ এলোমেলো (কিছু খারাপ কথা) বললো। না‘ঊযুবিল্লাহ! তখন সাথে সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ আলাইহিস সালাম তিনি একখানা লোহার খুঁটি (বা মুগুর) নিয়ে তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে তার মস্তিষ্কের উপর (মাথার তালুর উপর) আঘাত করে তাকে হত্যা করে ফেললেন। সুবহানাল্লাহ! তখন উনাকে বলা হলো যে, সে তো আমাদের অনুসারী এবং যারা আমাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে, তাদের মধ্যে অন্যতম। (জবাবে) তিনি বললেন, সে আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত শান মুবারক-এ অপবাদ দিয়েছে, উনার মানহানী করেছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আর যে ব্যক্তি আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নানাজান, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক-এ অপবাদ দেয়, উনার মানহানী করে, তাকে শাস্তিস্বরূপ ক্বতল করা, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। তাই আমি তাকে শাস্তিস্বরূপ হত্যা করেছি, শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিয়েছি।” সুবহানাল্লাহ! (শরহু উছূলি ই’তিক্বাদি আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘য়াহ ৭/১৩৪৩, আস সাইফুল মাসলূল ৪২০পৃ.)

মুত্বহ্হার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আস সাফফাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ১৪৪৩ হিজরী শরীফ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ২০শে মুহররমুল হারাম শরীফ লাইলাতু সাইয়্যিদি সাইয়্যিদিল আইয়্যাম শরীফ (লাইলাতুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তথা সোমবার রাত) মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘ফালইয়াফরহূ শরীফ’ সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল মুবারক-এ ইরশাদ মুবারক করেন, “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ্ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ্ আলাইহাস সালাম উনার মানহানী করার কারণে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা ইমাম হযরত মুহম্মদ ইবনে যায়েদ আলাইহিস সালাম উনি যে সাথে সাথে লোহার মুগুর দিয়ে মানহানীকারীর মাথা দুই ভাগ করে দিয়েছেন, তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, উনার এই সম্মানিত আমল মুবারক-এ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত সন্তুষ্ট হয়েছেন।” সুবহানা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!

কাজেই, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে তাদেরকে সাথে সাথেই পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। এক মুহূর্ত সময়ও তাদেরকে অবকাশ দেয়া যাবে না। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেনো। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এই মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়ার তাদের কোনো সুযোগ নেই এবং এই বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তিও গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদের ক্ষেত্রেও একই হুকুম অর্থাৎ তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তাদেরকেও সাথে সাথে পাকড়াও করে কুচিকুচি করে অর্থাৎ টুকরো টুকরো করে ক্বতল করে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।

খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি মুত্বহহার, মুত্বহহির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে সারা বিশ্বের সমস্ত মুসলমানদেরকে উপরোক্ত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শরঈ বিধান মুবারক বাস্তবায়ন করার তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!

-মুহম্মদ আব্দুর রশীদ।

সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, বিনতু খইরি বানাতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আন নূরুল ঊলা আলাইহাস সালাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত বিনতু যিন নূর আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত সংক্ষিপ্ত জীবনী মুবারক

সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন ক্বায়িম মাক্বামে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ্, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ উম্মুল মু’মিনীন আল ঊলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত কুবরা আলাইহাস সালাম

যুল ওয়াসীলাহ, খইরুল আলামীন, সাইয়্যিদুছ ছাক্বলাইন, ছাহিবুল কাওছার, যিক্রুল্লাহ, খইরু খলক্বিল্লাহ, আস সিরাজুল মুনীর, ইমামুল মুত্তাক্বীন, মালিকুল কায়িনাত, আবূ রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ওয়াক্বেয়াহ মুবারক

পবত্রি দ্বীন ইসলাম উনার দৃষ্টিতে ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বলে কোন রোগ নাই “ছোঁয়াচে বা সংক্রামক বশ্বিাস করা শরিক”

সম্মানিত শরীয়ত উনার ফাতাওয়া অনুযায়ী “সুস্থ মানুষকে সুস্থ মানুষ থেকে দুরে থাকার ব্যাপারে” ইফার ফাতাওয়া ও সরকারী নির্দেশনা সম্পূর্নরূপে ভুল, মনগড়া, কুফরী ও শিরকীপূর্ণ