মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সুন্নত মুবারক উনার ইত্তিবা” তথা অনুসরণ-অনুকরণ করার গুরুত্ব-তাৎপর্য এবং বেমছাল ফযীলত মুবারক

সংখ্যা: ২৭৯তম সংখ্যা | বিভাগ:

সম্মানিত পরিচিতি মুবারক:

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিতা সিব্ত্বতুন (নাতনী) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মহাসম্মানিত বানাত উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা বানাত (মেয়ে) আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! কেউ কেউ বলেছেন, উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব ছুগরা আলাইহাস সালাম আর উনার সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। সুবহানাল্লাহ! তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন এবং উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নন; এছাড়া সমস্ত শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক উনাদের অধিকারিণী হচ্ছেন তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার সম্মানিত মুহব্বত মুবারকই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিতা আম্মাজান

আলাইহাস সালাম:

সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিতা আম্মাজান হচ্ছেন উম্মু আবীহা, আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! উনার শান মুবারক-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ اَلْمِسْوَرِ بْنِ مَـخْرَمَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اِنَّـمَا النُّوْرُ الرَّابِعَةُ سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اَلزَّهْرَاءُ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ فَاطِمَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ) بِضْعَةٌ مِّنّـِىْ يُؤْذِيْنِىْ مَا اٰذَاهَا.

অর্থ: “হযরত মিসওয়ার ইবনে মাখরামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নিঃসন্দেহে সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি ‘আলাল আলামীন, উম্মু আবীহা আন নূরুর রবি‘য়াহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি হচ্ছেন, আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূরুল মুজাসসাম (জিস্ম) মুবারক উনার সম্মানিত নূর মুবারক অর্থাৎ পবিত্র নূর মুবারক উনার একখানা সম্মানিত টুকরো মুবারক। সুবহানাল্লাহ! উনাকে যে সকল বিষয়গুলো কষ্ট দেয়, সেগুলো আমাকেও কষ্ট দেয়।” নাঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ)

মহাসম্মানিত আব্বাজান

আলাইহিস সালাম:

সাইয়্যিদাতু নিসায়ি আহলিল জান্নাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম হচ্ছেন ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম। সুবহানাল্লাহ! তিনি হচ্ছেন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম ইমাম তথা ইমামুল আউওয়াল মিন আহিল বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত খুলাফায়ে রাশেদীন আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্ব মুবারক। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

فَسَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ كُلْثُوْمِ ابْنَةُ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ  عَلَيْهِمَا السَّلَامُ وُلِدَتْ قَبْلَ وَفَاةِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.

অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা‘উল আসমা’ ৫/৩৬৯)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সমস্ত জিন-ইনসান, তামাম কায়িনাতবাসী সবাইকে  এ বিষয়ে ছহীহ ইলম মুবারক হাদিয়া মুবারক করে ইরশাদ মুবারক করেন, “আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম। তিনি ৭ম হিজরী শরীফ উনার ১০ই সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিশ শুহূরিল আ’যম শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ) ইছনাইনিল আযীম শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত, এই তারীখ মুবারকখানা পৃথিবীর কোনো কিতাবে উল্লেখ নেই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রয়েছে বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত, মুহব্বত-ক্বুরবত মুবারক, যা কায়িনাতের কারো পক্ষে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে একমাত্র মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষেই সম্ভব হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৪ শত বছর দুনিয়ার যমীনে তাশরীফ মুবারক নিয়ে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র  বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ মুবারক প্রকাশ করা। সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া এবং সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখা:

সিব্ত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৭ম দিনে উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত আক্বীক্বা মুবারক দেয়া হয় এবং উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম বা নাম মুবারক রাখা হয় ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম’। সুবহানাল্লাহ!

কেউ কেউ বলেন, উনার নাম মুবারক রাখা হয়, সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব ছুগরা আলাইহাস সালাম। আর সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম। তিনি উনার মহাসম্মানিত খালা বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সদৃশ ছিলেন, এজন্য নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাকে এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক হাদিয়া মুবারক করেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সম্পর্কে কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ اسْـمَهَا سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ زَيْنَبُ الصُّغْرٰى عَلَيْهَا السَّلَامُ وَهِـىَ مِنْ جُـمْلَةِ اَوْلَادِ اَمِيْـرِ الْـمُؤْمِنِيْـنَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكُنْيَتُهَا سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ كُلْثُوْمٍ عَلَيْهَا السَّلَامُ.

অর্থ: “উনার সম্মানিত ও পবিত্র ইসম মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাইনাব ছুগরা আলাইহাস সালাম। তিনি ছিলেন আমীরুল মু’মিনীন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আওলাদ আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের মধ্যে বিশেষ ব্যক্তিত্বা মুবারক। উনার সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক হচ্ছেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম।” সুবহানাল্লাহ!

কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَنَّاهَا بِـهٰذِهِ الْكُنْيَةِ لِشَبَاهَتِهَا بِـخَالَتِهَا سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلنُّوْرِ الثَّالِثَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (سَيْدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ كُلْثُوْمٍ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ).

অর্থ: “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনাকে ‘সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম আলাইহাস সালাম’ এই সম্মানিত ও পবিত্র কুনিয়াত মুবারক হাদিয়া করেছেন, কারণ তিনি উনার মহাসম্মানিত খালা বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আন নূরুছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার সদৃশ ছিলেন।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত নানাজান ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী

শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের ৪ বছর ২ দিন পর ১১ হিজরী সনের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’দাদ শরীফ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘উল আউওয়াল শরীফ) ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ উনার মহাসম্মানিত নানাজান নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪ বছর ২ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত আম্মাজান বিনতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আন নূরুর রবি‘য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি সম্মানিত ১১ হিজরী সনের সম্মানিত ৩রা রমাদ্বান শরীফ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আ’যীম শরীফ বা’দ আছর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৪ বছর ৫ মাস ২৩ দিন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত আযীমুশ শান প্রথম

নিসবতে আযীম শরীফ:

কিতাব-এ বর্ণিত রয়েছে,

وَخَطَبَهَا اَمِيْرُ الْـمُؤْمِنِيْـنَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اِلَـى اِمَامِ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فَقَالَ اِنَّـهَا صَغِيْرَةٌ فَقَالَ لَهٗ زَوِّجْنِيْهَا يَا اَبَا الْـحَسَنِ عَلَيْهِ السَّلَامُ فَاِنّـىْ اَرْصُدُ مِنْ كَرَامَتِهَا مَا لَا يَرْصُدُهٗ اَحَدٌ فَقَالَ لَهٗ اِمَامُ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اَنَا اَبْعَثُهَا اِلَيْكَ فِاِنْ رَضِيْتَهَا فَقَدْ زَوَّجْتُكَهَا فَبَعَثَهَا اِلَيْهِ بِرَدٍّ وَّقَالَ لَـهَا قُوْلِـىْ لَهٗ هٰذَا الرَّدُّ الَّذِىْ قُلْتُ لَكَ فَقَالَتْ ذٰلِكَ لِسَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقِ الْاَعْظَمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ) فَقَالَ قُوْلِـىْ لَهٗ رَضِيْتُ رَضِىَ اللهُ عَنْكَ.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করার বিষয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রস্তাব পেশ করেন। তখন তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক অল্প। সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত আবুল হাসান আলাইহিস সালাম! দয়া করে আপনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে আমার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন করে দিন। কেননা, নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানার্থে আমি এমনভাবে প্রতীক্ষা করছি, যেরূপ প্রতীক্ষা আর কেউ করেনি। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে আপনার নিকট পাঠাবো। যদি আপনি উনাকে খুশি করতে পারেন, তাহলে অবশ্যই আমি উনাকে আপনার সাথে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ দিবো। অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট জবাব দিয়ে পাঠালেন। আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে বলে দিলেন যে, আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে এই জবাবের কথা বলবেন, যা আমি আপনাকে বললাম। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম তা সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিকট বললেন। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, দয়া করে আপনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে বলুন যে- আমি খুশি হয়েছি, মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনার প্রতি খুশি হউন।” সুবহানাল্লাহ! (ইমতা‘উল আসমা’ ৫/৩৬৯)

‘মুসনাদুল ফারূক্ব’ নামক কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ سَيِّدَنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقَ الْاَعْظَمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدَنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنَ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) لَـمَّا خَطَبَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قَالَ لَهٗ اِمَامُ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اِنَّـهَا صَغِيْرَةٌ فَقَالَ اِنِّـىْ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ كُلُّ سَبَبٍ وَّنَسَبٍ مُّنْقَطِعٌ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ اِلَّا سَبَبِـىْ وَنَسَبِـىْ فَاَحْبَبْتُ اَنْ يَّكُوْنَ لِـىْ مِنْ رَّسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبَبٌ وَّنَسَبٌ فَزَوَّجَهٗ اِمَامُ الْاَوَّلِ مِنْ اَهْلِ بَيْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عَلِـىٌّ عَلَيْهِ السَّلَامُ).

অর্থ: “যখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করার বিষয়ে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার নিকট প্রস্তাব পেশ করেন, তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, নিশ্চয়ই দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক অল্প। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, নিশ্চয়ই আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘প্রত্যেক সম্পর্ক এবং বংশ কিয়ামতের দিন ছিন্ন হয়ে যাবে। একমাত্র আমার সম্পর্ক মুবারক এবং বংশ মুবারক ব্যতীত। তাই আমি এটা পছন্দি করি, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে সববগত এবং নসবগত দিক থেকে আমার একটা নিসবত মুবারক থাকুক। তখন সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ সম্পন্ন করে দেন।” সুবহানাল্লাহ!

মূলত, ১৭ হিজরী শরীফ-এ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে আযীম শরীফ সম্পন্ন হয়। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন প্রায় ১০ বছর। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ زَوَاجَهُمَا كَانَ فِـىْ شَهْرِ ذِى الْقَعْدَةِ فِـى السَّنَةِ السَّابِعَةِ عَشْرَةَ لِلْهِجْرَةِ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ‘আযীমুশ শান নিসবতে ‘আযীম শরীফ অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৭ হিজরী শরীফ উনার সম্মানিত যিলক্বদ শরীফ মাসে।” সুবহানাল্লাহ!

সম্মানিত মোহরানা মুবারক

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ الْاَنْصَارِىِّ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ تَزَوَّجَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ بِنْتَ اَلنُّوْرِ الرَّابِعَةِ اَلزَّهْرَاءِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ (سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ فَاطِمَةَ بِنْتِ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ) عَلـٰى اَرْبَعِيْـنَ اَلْفِ دِرْهَمٍ.

অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে যাহরা আলাইহিমাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ৪০ হাজার দিরহাম সম্মানিত মোহরানা মুবারক দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন।” সুবহানাল্লাহ! (ফাওয়াইদুশ শাহীর ১/১৬৬, মুখতাছারু তারীখে দিমাশক্ব ৩/২৪৫, আল মুন্তাযম ফী তারীখিল মুলূক ওয়াল উমাম ৪/২৩৭ ইত্যাদি)

অপর বর্ণনায় রয়েছে,

اَمَّا السَّيِّدَةُ بِنْتُ النُّوْرِ الرَّابِعَةِ الزَّهْرَاءِ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ (سَيِّدَتُنَا حَضْرَتْ اُمُّ كُلْثُوْمٍ بِنْتُ فَاطِمَةَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ) فَتَزَوَّجَهَا سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) وَكَانَ مَهْرُهَا اَرْبَعِيْـنَ اَلْفَ دِيْنَارٍ.

অর্থ: “আর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে যাহরা আলাইহিমাস সালাম। উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে যাহরা আলাইহিমাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ৪০ হাজার দীনার (স্বর্ণ মুদ্রা) সম্মানিত মোহরানা মুবারক প্রদান করেন।” সুবহানাল্লাহ! (রহমতুল্লিল আলামীন ১/৩৬৩)

সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খুশি মুবারক প্রকাশ:

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে,

اَنَّهٗ لَمَّا تَزَوَّجَ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قَالَ اَمَا وَاللهِ مَا بِـىْ اِلَّا اِنِّـىْ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ كُلُّ سَبَبٍ وَّنَسَبٍ فَاِنَّهٗ مُنْقَطِعٌ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ اِلَّا سَبَبِـىْ وَنَسَبِـىْ.

অর্থ: “নিশ্চয়ই সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করেন, তখন তিনি বলেন- সাবধান! মহান আল্লাহ পাক উনার ক্বসম! আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করার প্রয়োজন ছিলো না। তবে নিশ্চয়ই আমি শুনেছি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘প্রত্যেক সম্পর্ক এবং বংশ কিয়ামতের দিন ছিন্ন হয়ে যাবে। একমাত্র আমার সম্পর্ক মুবারক এবং বংশ মুবারক ব্যতীত।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে ইবনে কাছীর ৫/৪৯৬)

অপর বর্ণনায় রয়েছে,

فَجَاءَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) اِلـٰى مَـجْلِسِ الْـمُهَاجِرِيْنَ فِـى الرَّوْضَةِ وَكَانَ يَـجْلِسُ فِيْهَا الْـمُهَاجِرُوْنَ الْاَوَّلُوْنَ فَجَلَسَ اِلَيْهِمْ فَقَالَ وَقِّرُوْنِـىْ فَقَالُوْا بِـمَا ذَا يَا اَمِيْرَ الْـمُؤْمِنِيْـنَ قَالَ تَزَوَّجْتُ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ.

অর্থ: “অতঃপর সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ উনার পাশে হযরত মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের মজলিসে উপস্থিত হলেন, যেখানে হযরত মুহাজিরুল আউওয়ালূন রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা বসেছিলেন। তারপর তিনি উনাদের নিকট বসে বললেন, আমাকে সম্মান করুন। তখন উনারা বললেন, হে সাইয়্যিদুনা হযরত আমীরুল মু’মিনীন আলাইহিস সালাম! কী কারণে? সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কারণ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনাকে আমি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নিসবতে ‘আযীম শরীফ করিছে।” সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ لَمَّا تَزَوَّجَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقُ الْاَعْظَمُ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ بْنُ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قَالَ اَلَا تُـهَنُّوْنِـىْ فَاِنِّـىْ سَـمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ كُلُّ سَبَبٍ وَّنَسَبٍ مُّنْقَطِعٌ يَّوْمَ الْقِيَامَةِ غَيْرَ سَبَبِـىْ وَنَسَبِـىْ.

অর্থ: “হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে নিসবতে আযীম শরীফ করেন, তখন তিনি বলেন, আপনারা কি আমাকে অভিনন্দন জানাবেন না? নিশ্চয়ই আমি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সমস্ত সবব তথা সম্পর্ক এবং নসব বিছিন্ন হয়ে পড়বে, একমাত্র আমার সবব এবং নসব মুবারক ব্যতীত। সুবহানাল্লাহ! (আল জামি‘উছ ছহীহ লিস সুনান ওয়াল মাসানীদ)

কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার নিসবতে ‘আযীম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার হযরত যায়েদ ইবনে উমর আলাইহিস সালাম নাম মুবারক-এ একজন আওলাদ আলাইহিস সালাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

পরবর্তী মহাসম্মানিত আযীমুশ শান

নিসবতে আযীম শরীফ:

বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ تَزَوَّجَتْ فِـىْ بِدَايَةِ الْاَمْرِ مِنْ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ اَلْفَارُوْقِ الْاَعْظَمِ عَلَيْهِ السَّلَامُ (سَيِّدِنَا حَضْرَتْ عُمَرَ بْنِ الْـخَطَّابِ عَلَيْهِ السَّلَامُ) ثُـمَّ بَعْدَ مَوْتِهٖ تَزَوَّجَتْ مِنِ ابْنِ عَمِّهَا ‌حَضْرَتْ عَوْنِ‌ بْنِ جَعْفَرِ بْنِ اَبِـىْ طَالِبٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَكَذٰلِكَ تَزَوَّجَتْ بَعْدَ وَفَاةِ حَضْرَتْ عَوْنٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ مِنْ اَخِيْهِ حَضْرَتْ ‌مُـحَمَّدٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ‌ وَبَعْدَ وَفَاتِهٖ تَزَوَّجَتْ مِنْ اَخِيْهِ الْاٰخَرِ حَضْرَتْ ‌عَبْدِ اللهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ‌.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার নিসবতে ‘আযীম শরীফ হয় সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সাথে। উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিমাস সালাম উনার নিসবতে আযীম শরীফ হয়, উনার চাচাতো ভাই হযরত ‘আঊন ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সাথে। তারপর উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নিসবতে ‘আযীম শরীফ হয় হযরত ‘আঊন ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার ভাই হযরত মুহম্মদ ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সাথে। অতঃপর উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর নিসবতে ‘আযীম শরীফ হয় হযরত ‘আঊন ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার অপর ভাই হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার সাথে।”

কারবালার প্রান্তরে:

সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি ৬১ হিজরী শরীফ উনার ১০ই মুহররমুল হারাম শরীফ কারবালার প্রান্তরে উপস্থিত ছিলেন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময়

বিছালী শান মুবারক প্রকাশ:

আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সিবত্বতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি ৭৩ হিজরী শরীফ উনার ১৪ই শাওওয়াল শরীফ ইয়াওমুল আরবিয়া শরীফ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ! তখন দুনিয়াবী দৃষ্টিতে উনার সম্মানিত বয়স মুবারক ছিলেন ৬৬ বছর ৭ মাস ৪ দিন। সুবহানাল্লাহ!

বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর ইবনে আবী ত্বালিব আলাইহিস সালাম উনার জীবদ্দশায় উনার নিসবতে আযীম শরীফ-এ থাকা অবস্থায় তিনি এবং উনার সম্মানিত আওলাদ হযরত যায়েদ আলাইহিস সালাম তিনি অর্থাৎ উনারা একই সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন।

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ:

বর্ণিত রয়েছে,

اِنَّ سَيِّدَتَنَا حَضْرَتْ اُمَّ كُلْثُوْمٍ بِنْتَ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ تُوُفِّيَتْ فِـى الشَّامِ.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম তিনি শাম দেশে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন।”

ইবনে বতুতা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি লিখেছেন,

تَقِعُ مَقْبَرَةُ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اُمِّ كُلْثُوْمٍ بِنْتِ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ قُرْبَ مَدِيْنَةِ الشَّامِ وَعَلـٰى بُعْدِ فَرْسَخٍ مِّنْهَا.

অর্থ: “সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ শাম শহরের নিকটবর্তী, সে শহর থেকে এক ফারসখা দূরে।”

আরো বর্ণিত রয়েছে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু কুলছূম বিনতে কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহাস সালাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রওযা শরীফ দামেশ্কের আরভুইয়া গ্রামের বাবে ছগীর কবরস্থানে অবস্থিত।

-মুহাদ্দিছ মুহম্মদ ইবনে মারইয়াম

 

 

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্মানিত সম্বোধন মুবারক করার বিষয়ে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার পৃথিবীর ইতিহাসে নযীরবিহীন এক অনন্য বেমেছাল অভুতপূর্ব চির বিস্ময়কর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র তাজদীদ মুবারক

সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের সাথে অন্য কারো তুলনা করা কুফরী

মুহব্বত, ইতায়াত ও সন্তুষ্টি মুবারকের মূলেই হচ্ছেন সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম

ছাহিবু ক্বাবা ক্বওসাইনি আও আদনা, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আছ ছমাদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনার বেমেছাল সম্মানিত তা‘য়াল্লুক-নিসবত মুবারক

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত শান মুবারক-এ ব্যবহৃত ‘মুত্বহ্হার এবং মুত্বহ্হির’ সম্মানিত লফয মুবারক উনাদের সম্মানিত অর্থ এবং তাৎপর্য মুবারক