মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- (পর্ব-৪)

সংখ্যা: ২৬৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

৩৬তম ফতওয়া হিসেবে

“মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার ও উনার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে এবং বিশেষ করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক যারা ভাঙবে, ভাঙ্গার কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করবে বা সমর্থন করবে তাদের প্রত্যেকের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ- ও তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করতে পারায় মহান আল্লাহ পাক উনার, উনার মাহবূব হাবীব, নূরে মুজাসসাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সম্মানিত খিদমত মুবারক-এ বেশুমার শুকরিয়া আদায় করছি। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক উনার গুরুত্ব-তাৎপর্য, ফাযায়িল-ফযীলত ও বুযূর্গী-সম্মান মুবারক

(২) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক)-এ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদ মুবারক নির্মাণ:

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত কুবা শরীফ ৩ দিন ৪ রাত্রি মুবারক-এর অধিক সময় সম্মানিত অবস্থান মুবারক করার পর মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ১২ই রবী‘ঊল আউওয়াল শরীফ ইয়াওমুল ইছানাইনিল আযীম শরীফ সেখান থেকে রওয়ানা হয়ে উক্ত তারীখেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মদীনা শরীফ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক গ্রহণ করার পর উনার সম্মানিত উটনী মুবারক যে সম্মানিত স্থান মুবারক-এ সর্বপ্রথম বসেছিলেন, সে সম্মানিত স্থান মুবারক উনার মধ্যেই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণ করা হয়। সুবহানাল্লাহ! উক্ত সম্মানিত স্থান মুবারক উনার মালিক ছিলেন দু’জন ইয়াতীম বালক ছাহাবী; হযরত সাহ্ল রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি ও হযরত সুহাইল রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি অর্থাৎ উনারা দুই ভাই। সম্মানিত স্থান মুবারকটি ছিলেন খেজুর শুকানোর খলা।

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকট মূল্য জানতে চাইলে উনারা বলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমরা মূল্য গ্রহণ করবো না; বরং জায়গাটি আপনাকে সম্মানিত হাদিয়া মুবারক করলাম। কিন্তু নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেই দু’ ইয়াতীম ছাহাবী হযরত সাহ্ল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার এবং  হযরত সুহাইল রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার অর্থাৎ উনাদের থেকে ১০ দীনারের পরিবর্তে উক্ত সম্পত্তি মুবারক ক্রয় করেন। সুবহানাল্লহ! আফদ্বলুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি উক্ত অর্থ মুবারক পরিশোধ করেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার যমীন মুবারক-এ ছিলো খেজুর গাছ, কবর এবং যমীনের অংশ মুবারক ছিলেন নিচু। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত নির্দেশ মুবারক-এ খেজুর গাছগুলো কেটে ক্বিবলাহ উনার দিকে খুঁটি দেয়া হয়। আর কবরের হাড়গুলো বের করে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়। সাথে সাথে জমির নিম্নাংশ ভরাট করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণের উপযোগী করা হয়। নিম্নাংশে উপত্যকার পানি জমা হয়ে থাকতো। মাটি ভরাট করার পর তা ঠিক হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ভিত্তি পাথর দ্বারা, দেয়াল মুবারক মাটি দ্বারা অর্থাৎ কাঁচা ইট দ্বারা, চাল বা ছাদ মুবারক খেজুর পাতা ও ইজখার (সুঘ্রানযুক্ত ঘাস) দ্বারা এবং খুঁটি মুবারক খেজুর গাছ দিয়ে নির্মাণ করা হয়। সুবহানাল্লাহ! চাল বা ছাদ মুবারক-এ কাদা মাটির প্রলেপ দেয়া হয়, যেনো ঠান্ডা লাগে এবং বৃষ্টির পানি না পড়ে। বৃষ্টির পানি সরে যাওয়ার জন্য চাল বা ছাদ মুবারক একদিকে ঢালু করে দেয়া হয়। চাল বা ছাদ মুবারক এতটুকু উঁচু ছিলো যে, স্বাভাবিকভাবে একজন লোক দাঁড়ালে হাত দিয়ে তা স্পর্শ করতে পারতেন। সুবহানাল্লাহ!

সে সময় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশের জন্য ৩টি দরজা মুবারক ছিলেন। একটি দরজা মুবারক ছিলেন, পূর্ব দেয়াল মুবারক-এ যা দিয়ে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ-এ সম্মানিত তাশরীফ মুবারক নিতেন। এ জন্য এই সম্মানিত দরজা মুবারক উনার নাম মুবারক হচ্ছেন ‘বাবুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’। সুবহানাল্লাহ! একটি দরজা মুবারক ছিলেন দক্ষিণ দিকে যা দিয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মধ্যে আসা-যাওয়া করতেন। সুবহানাল্লাহ! আরেকটি দরজা মুবারক ছিলেন পশ্চিম দেয়াল মুবারক-এ যা ‘বাবে রহমত’ নাম মুবারক-এ পরিচিত। সুবহানাল্লাহ! তখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার সম্মানিত আয়তন মুবারক ছিলেন চারদিকে ১০০ হাত ১০০ হাত করে। অর্থাৎ পূর্বে দিকে ১০০ হাত, পশ্চিম দিকে ১০০ হাত, উত্তর দিকে ১০০ হাত এবং দক্ষিণ দিকে ১০০ হাত এরূপ। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণ কাজে অংশগ্রহণ মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি স্বয়ং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণের প্রতিটি কাজে মুবারক অংশগ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি চুন ও পাথর মুবারক মিশ্রিত করে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মুবারক ভিত্তি স্থাপন করেন। সুবহানাল্লাহ! সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুমগণ উনাদেরকে নিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার দেয়াল মুবারক নির্মাণের জন্য মাটি কাদা করে ইট তৈরী করেছেন। তা রোদ্রে শুকিয়ে নিয়ে দেয়াল মুবারক গেঁথেছেন, সাথে পাথরও দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ছাদ মুবারক তৈরীতে খেজুরের ছাল মুবারক, পাতা মুবারক ব্যবহার করেছেন। সুবহানাল্লাহ! স্তম্ভ মুবারক উনার জন্যে খেজুরের গাছ সংগ্রহ করেছেন। সুবহানাল্লাহ! যখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ভিত্তি মুবারক স্থাপন করেন, তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে সম্মানিত ও পবিত্র ওহী মুবারক নিয়ে আসেন যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার ছাদ মুবারক সাইয়্যিদুনা হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ছাদ মুবারক উনার ন্যায় উঁচু হবে। অর্থাৎ সম্মানিত ছাদ মুবারক এতটুকু উঁচু হবে যে, স্বভাবিকভাবে একজন লোক দাঁড়ালে হাত মুবারক দিয়ে তা স্পর্শ করতে পাবেন। সুবহানাল্লাহ!

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৭৩)

عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ لَمَّا اَسَّسَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَسْجِدَ الْـمَدِيْنَةِ جَاءَ بِـحَجَرٍ فَوَضَعَهٗ وَجَاءَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرٍ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـحَجَرٍ فَوَضَعَهٗ وَجَاءَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـحَجَرٍ فَوَضَعَهٗ وَجَاءَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ بِـحَجَرٍ فَوَضَعَهٗ قَالَتْ فَسُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ ذٰلِكَ فَقَالَ هٰذَا اَمْرُ الْـخِلَافَةِ مِنْ بَعْدِىْ.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মুবারক ভিত্তি স্থাপন করেন, তখন তিনি একটি সম্মানিত পাথর মুবারক নিয়ে সেখানে সম্মানিত তাশরীফ মুবারক রাখেন তা দিয়ে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ উনার মুবারক ভিত্তি স্থাপন করেন। সুবহানাল্লাহ!  তারপর আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক নিয়ে এসে সেখানে রাখেন। অতঃপর খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক নিয়ে এসে সেখানে রাখেন। তারপর তৃতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক নিয়ে এসে সেখানে রাখেন। উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, তখন সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিইয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এ বিষয়ে সুওয়াল করা হয়। জবাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

هٰذَا اَمْرُ الْـخِلَافَةِ مِنْ بَعْدِىْ

“আমার পর উনারাই সম্মানিত খলীফা হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আবী ইয়া‘লা ৮/২৯৫)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ মুবারক উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

(৭৪-৭৯)

عَنْ اُمِّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةِ سَيِّدَتِنَا حَضْرَتْ اَلصِّدِّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ (حَضْرَتْ عَائِشَةَ عَلَيْهَا السَّلَامُ) قَالَتْ اَوَّلُ حَجَرٍ حَمَلَهُ النَّبِـىُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِبِنَاءِ الْـمَسْجِدِ ثُـمَّ حَمَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ اَبُوْ بَكْرِ ۣ الصِّدِّيْقُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَجَرًا ثُـمَّ حَمَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَجَرًا ثُـمَّ حَمَلَ سَيِّدُنَا حَضْرَتْ عُثْمَانُ عَلَيْهِ السَّلَامُ حَجَرًا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هٰؤُلَاءِ الْـخُلَفَاءُ بَعْدِىْ.

অর্থ: “উম্মুল মু’মিনীন আছ ছালিছাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত ছিদ্দীক্বাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণ করার জন্য প্রথম পাথর মুবারকখানা বহন করেন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তারপর আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক বহন করেন। অতঃপর খলীফাতুল মু’সলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক বহন করেন। তারপর তৃতীয় খলীফা, খলীফাতুল মুসলিমীন, আমীরুল মু’মিনীন হযরত যুন নূরাইন আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাথর মুবারক বহন করেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন,

هٰؤُلَاءِ الْـخُلَفَاءُ بَعْدِىْ

 অর্থ: “আমার পর উনারাই সম্মানিত খলীফা হবেন।” সুবহানাল্লাহ! (আবূ ইয়ালা, মুসতাদরকে হাকিম, আবূ নাঈম, খছাইছুল কুবরা লিস সুয়ূত্বী ২/১৯৪, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ১০/৮৫, আস সওয়াইকুল মুহরিক্বাহ ইত্যাদি।)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

(৮০-৮৩)

عَنْ حَضْرَتْ اَلْـحَسَنِ رَحْمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ لَمَّا بَنٰى رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَسْجِدَ اَعَانَهٗ عَلَيْهِ اَصْحَابُهٗ وَهُوَ مَعَهُمْ يَتَنَاوَلُ اللَّبِنَ حَتَّى اغْبَرَّ صَدْرُهٗ

অর্থ: “হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণ কাজ শুরু করলে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনারা এ বিষয়ে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত খিদমত মুবারক উনার আনজাম মুবারক দেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদের সাথে ইট-পাথর মুবারক বহন করেন। এমনকি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল ইলম মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বক্ষ মুবারক) ধুলা মুবারক দ্বারা আবৃত হয়ে যান।” সুবহানাল্লাহ! (দালাইলুন নুবুওওয়াহ লিল বাইহাক্বী ২/৫৪২, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৩/৩৩৬, শরহুয যারক্বানী ২/১৮২, বিদায়া-নিহায়া ৩/২৬২ ইত্যাদী)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মসজিদে নববী শরীফ নির্মাণের বরকতময় কাজে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে উৎসাহিত করার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সম্মানিত ইরশাদ মুবারক করেন-

(৮৪)

هٰذَا الْـحِمَالُ لا حِمَالَ خَيْبَرْ + هٰذَا اَبرُّ ربَّنَا وَاَطْهَرْ

অর্থ: “এই বোঝা খায়বরের বোঝা নয়। আয় আল্লাহ পাক! একাজ অতীব পূণ্যময় ও পবিত্র।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

অপর বর্ণনায় রয়েছে-

(৮৫)

اَللّٰهُمَّ لَا خَيْرَ اِلَّا خَيْرُ الْاٰخِرَهْ

فَاغْفِرِ الْاَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ.

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক! আখিরাতের কল্যাণ ব্যতীত কোন কল্যাণ নেই। অতএব, আপনি হযরত আনছার ও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদেরকে ক্ষমা করুন।” সুবহানাল্লাহ! (শরহুস সুন্নাহ শরীফ)

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

(৮৬)

اَللّٰهُمَّ اِنَّهٗ لَا خَيْرَ اِلَّا خَيْرُ الْاٰخِرَهْ

فَانْصُرِ الْاَنْصَارَ وَالْـمُهَاجِرَهْ

অর্থ: “আয় বারে এলাহী মহান আল্লাহ পাক! আখিরাতের কল্যাণব্যতীত কোন কল্যাণ নেই। অতএব, আপনি হযরত আনছার ও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদেরকে সাহায্য করুন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

অন্য বর্ণনায় এসেছে-

(৮৭)

اَللّٰهُمَّ اِنَّ الْاَجْرَ اَجْرُ الْاٰخِرَهْ

فَارْحَمِ الْاَنْصَارَ وَالْمُهَاجِرَهْ

অর্থ: “আয় মহান আল্লাহ পাক নিশ্চয়ই প্রকৃত পুরষ্কার হলো আখিরাতের পুরষ্কার। অতএব আপনি হযরত আনছার ও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদের উপর রহমত বর্ষণ করুন।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার নিজ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল মাগফিরাহ্ মুবারক (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাত মুবারক)-এ এই সম্মানিত কাজ মুবারক-এ অংশগ্রহণ করায় উৎসাহিত হয়ে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনারা বলে ফেললেন-

(৮৮-৯১)

لَئِنْ قَعَدْنَا وَالنّبِـىُّ يَعْمَلُ …

لَذَاكَ مِنَّا الْعَمَلُ الْمُضَلَّلُ

অর্থ: “যদি আমরা বসে থাকি আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কাজ করেন, তাহলে আমাদের জন্য এটা হবে সর্বোচ্চ গোমরাহীমূলক ‘আমল।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (ইমতা‘উল আসমা’ ১০/৮৬, ইবনে হিশাম ৩/২৫, আর রওদ্বুল উন্ফ ২/৩৩৬, ‘উইয়ূনুল আছার ১/২২৪)

তখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

(৯২-৯৫)

لَا عَيْشَ اِلَّا عَيْشُ الْاٰخِرَهْ…

اَللّٰهُمَّ ارْحَمِ الْمُهَاجِرِيْنَ وَالْاَنْصَارَ

অর্থ: “আখিরাতের শান্তি ব্যতীত কোন শান্তি নেই। আয় বারে এলাহী মহান আল্লাহ পাক! আপনি হযরত আনছার ও মুহাজির ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম উনাদেরকে রহম করুন”। সুবহানাল্লাহ! (ইবনে ইসহাক্ব, ইবনে হিশাম ৩/২৫, আর রওদ্বুল উন্ফ ২/৩৩৬, বিদায়া-নিহায়া ৪/৫৩৫ ইত্যাদী)

অসমাপ্ত- পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

সম্মানিত ও পবিত্র কুরআন শরীফ, সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (২য় পর্ব)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব চতুষ্ঠয় উনাদের মধ্যে যে কোন একটি সম্মানিত ও পবিত্র মাযহাব মানা ও অনুসরণ করা ফরয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৮

পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত উনার আলোকে খাছ সুন্নতী বাল্যবিবাহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (পর্ব-৫)

পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমাউল উম্মাহ শরীফ ও পবিত্র ছহীহ ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সম্মানিত ইসলামী মাস ও বিশেষ বিশেষ রাত, দিন, সময় ও মুহূর্তের আমলসমূহের গুরুত্ব, ফযীলত এবং বেদ্বীন-বদদ্বীনদের দিবসসমূহ পালন করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০তম পর্ব)

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা’ শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানী করবে, তাদের একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদ-। তারা নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তাদের তাওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এ বিষয়ে কারো কোনো প্রকার ওজর-আপত্তি গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তৎসংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে আখাছ্ছুল খাছ সম্মানিত বিশেষ ফতওয়া মুবারক- (৩য় পর্ব)