“মাসিক আল বাইয়্যিনাত” আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর মুখপত্র

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

          আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যত বাণী করেছেন,

ستفترق امتى على ثلاث وسبعين ملة كلهم فى النار الا ملة واحدة قالوا من هى يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما انا عليه واصحابى.

 অর্থঃ- “অতি শীঘ্রই আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে; একটি দল ব্যতীত, ৭২টি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ আরজ করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাতপ্রাপ্ত সে দলটি কোন দল? হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, আমি এবং আমার ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ-এর মত ও পথের উপর যারা কায়িম থাকবে।”     মূলতঃ সে দলটিই হচ্ছে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। এ সম্মন্ধে হযরত ইমামে রব্বানী মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মূল ফার্সী মাকতুবাত শরীফের ১ম খন্ডের ১৯৩ নম্বর মাকতুবে উল্লেখ করেন, “প্রত্যেক মানুষের প্রথম কর্তব্য হলো আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলিমগণ যেভাবে তাঁদের কিতাব সমূহে ঈমান এবং আক্বীদা (বিশ্বাস) প্রকাশ করেছেন ঠিক সেভাবে ঈমান ও আক্বীদা বিশুদ্ধ করে নেয়া। তাঁরাই সেই সকল বুযুর্গ আলিম যারা সঠিকভাবে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরীক্বা ও মত-পথের ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, কুরআনে কারীমের মুরাদে ইলাহি (ঐশী উদ্দেশ্য) সঠিকভাবে অনুধাবন করেছেন এবং হাদীস শরীফ থেকে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রকৃত উদ্দেশ্য বের করেছেন। তাঁদের প্রদর্শিত সত্য পথের অনুসরণেই পরকালের উদ্ধার নির্ভর করে। তাঁরা এবং তাঁদের অনুসরণকারীগণই নাযাতপ্রাপ্ত দল। তাঁরাই হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের পথে আছেন। ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছ থেকে ঠিক যেভাবে শিক্ষা লাভ করেছেন তা অবিকৃতভাবে হযরত তাবেঈন রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন এবং তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈন তথা তাঁদের অনুসারী আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলিমগণ কোন প্রকার পরিবর্তন-পরিবর্ধন ব্যতীত তা কিতাবে সংরক্ষণ করেছেন। এভাবে তাঁরা দ্বীন ইসলামকে পরিবর্তন, পরিবর্ধন ও বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করেছেন।  তাঁদের পরিচয় এবং সংজ্ঞা দিতে গিয়ে ইমামে রব্বানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মূল মাকতুবাত শরীফের ২য় খন্ডের ৫৫ নং মাকতুবে উল্লেখ করেন, “চার মাযহাবের ইমামগণ যারা ইজ্তিহাদের মর্তবা প্রাপ্ত (অর্থাৎ মুজতাহিদে মতলক মুশতাকিল স্বয়ংসম্পূর্ণ মুজতাহিদ) অর্থাৎ হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি (ইন্তিকাল ১৫০ হিঃ), ইমাম মালিক ইবনে আনাস আসবাহি রহমতুল্লাহি আলাইহি (ইন্তিকাল ১৭৯ হিঃ), ইমাম মুহম্মদ শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি (ইন্তিকাল ২০৪ হিঃ) ও ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি (ইন্তিকাল ২৪১ হিঃ) এবং তাঁদের দ্বারা শিক্ষাপ্রাপ্ত মহান ইমাম ও আলিমগণ (অর্থাৎ মুজ্তাহিদে মতলক মুনতাসিব) এবং সাত তবকার অন্যান্য ফক্বীহ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ হলেন আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলিমবৃন্দ। এই চার মাযহাবের আলিমগণই আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অন্তর্ভুক্ত এবং একজন অপরজনকে হক্ব বলতেন। তাঁদের পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রতি নজীরবিহীন। এখন আমরা সাত তবকার ফক্বীহগণ সম্মন্ধে সংক্ষেপে বর্ণনা করব। কারণ আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আলিমদের পরিচয় জানতে হলে সাত তবকার ফক্বীহগণ সম্বন্ধে অবগত হওয়া বিশেষ প্রয়োজন। সাত তবকার ফক্বীহগণ (طبقات الفقهاء)) সম্মন্ধে কিতাবে নিম্নরূপ বর্ণিত আছে।

১। দ্বীন ইসলামের মুজতাহিদঃ  (فقيه مجتهد فى الدين)        তারা ইসলামের উৎস চতুষ্টয় (আল আদিল্লায়ে শরীয়াহ) থেকে মাসয়ালা বের করার পদ্ধতি এবং নীতি গঠন করেছেন এবং এভাবে দ্বীনের নিয়ম-কানুন বের করেছেন। চার জন আল আইম্মাতুল মাযাহিব এই তবকা বা স্তরের অন্তর্ভুক্ত। ২। মাযহাবের মধ্যে মুজতাহিদবৃন্দ:  (فقيه مجتهد فى المذهب)    তাঁরা মাযহাবের ইমামদের   তৈরীকৃত মূলনীতি অনুসারে মূল চার উৎস (কুরআন শরীফ, হাদীস শরীফ, ইজমা, ক্বিয়াস) থেকে মাসয়ালা বের করেছেন। যেমন- ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহম্মদ প্রমুখ রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনগণ।

৩। মাসয়ালার মুজতাহিদগণঃ  (فقيه مجتهد فى المسائل) মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতাগণ যে সকল বিষয়ে আলোচনা করেননি এই তবকার ফক্বীহগণ সে সকল ক্ষেত্রে মাযহাবের মূলনীতি অনুসারে মাসয়ালা বের করেছেন। কিন্তু এ কাজেও তারা ইমামদের অনুসরণ করেছেন। তাঁরা হলেন ত্বাহাবী, খাস্সাফ, আহমদ ইবনে ওমর, আব্দুল্লাহ ইবনে হুসাইন আল কারখী, শামসুল আইম্মা আল হালওয়ানী, শামসুল আইম্মা আস-সারাখ্সী, ফখরুল ইসলাম আলী ইবনে মুহম্মদ আল বাযদাবী, কাজীখান হাসান  ইবনে মানসুর আল ফারাহ্গানী, প্রমূখ রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন।

৪। আছহাবুত্ তাখরীজঃ  (اصحاب التخريج)  তাঁরা  নিজেরা ইজতিহাদ করেননি বরং মুজতাহিদগণ কর্তৃক বের করা অস্পষ্ট এবং সংক্ষিপ্ত মাসয়ালা সমূহের علت ومناط  অর্থাৎ কারণ ও উদ্দেশ্য সমূহ বের  করেছেন এবং ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করেছেন। হুস্সামুদ্দীন আর রাযী আলী ইবনে আহমদ, তাঁদের মধ্যে একজন। তিনি আল কুদুরী কিতাবের  উপর ব্যাখ্যা গ্রন্থ রচনা করেন।

৫। আছ্হাবুত্ তারজীহঃ  (اصحاب الترجيح)  তাঁরা মুজতাহিদগণ থেকে আগত বিভিন্ন রিওয়ায়েত (মুজতাহিদগণের উক্তি বা মতামত) থেকে একটিকে প্রাধান্য দিয়েছেন এবং নির্বাচিত করেছেন। আবুল হাসান বুরহানুদ্দীন আলী ফারগিনানী তিনি আল হিদায়ার লিখক।

৬। আছহাবুত্ তমীযঃ  (اصحاب التميز)  তাঁরা মুকাল্লিদ হিসেবে বিশ্বস্ততা এবং নির্ভরযোগ্যতার ভিত্তিতে পূর্ববর্তী ফক্বীহগণের রেওয়াজসমূহ তাঁদের কিতাবে সন্নিবেশিত করেছেন। তাঁরা কোন বাতিলকৃত রেওয়ায়েত লিপিবদ্ধ করেননি। কানযুদ দাক্বায়িক্ব প্রণেতা আবুল বারাকাত ইবনে আহমদ আন্নাসাফী; মুখতার প্রণেতা আব্দুল্লাহ ইবনে মাহমুদ আল মুসুলী; আল বেকায়া প্রণেতা বুরহানুশ্ শরীয়াহ্ মুহম্মদ ইবনে সাদরুশ্ শরীয়াহ উবায়দুল্লাহ; মাজমাউল বাহ্রাইন এর লিখক ইবনুস সা’আতী আহমদ ইবনে আলী আল বাগদাদী প্রমুখ রহমতুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈনগণ। ৭। সপ্তম স্তরের মুকাল্লিদগণঃ   উত্তম, মধ্যম, অধম, প্রকাশ্য মাযহাব, প্রকাশ্য রিওয়ায়েত ও বিরল রিওয়ায়েত সমূহের পার্থক্য নির্ণয় করবার ক্ষমতা ও দক্ষতা তাঁদের নেই। তাঁরাও ফক্বীহদের মধ্যে গণ্য। কারণ কিতাব বুঝার এবং যারা বুঝেনা তাদেরকে বুঝানোর ক্ষমতা তাঁদের রয়েছে। সপ্তম তবক্বা সম্মন্ধে “দুররুল মুখতার” কিতাবে উল্লেখ করা হয়,

ومانحن فعلينا الاتباع ما رحجوه وما صححوه.

অর্থাৎ,- “পূর্ববর্তীগণ যা ছহীহ্ করেছেন এবং পছন্দ করেছেন তার বিপরীত কিছু করবার ক্ষমতা আমাদের নেই।” আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ইমাম এবং প্রতিষ্ঠাতা হলেন ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা নুমান বিন সাবিত রহমতুল্লাহি আলাইহি। তাঁর প্রশংসা করতে গিয়ে  ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,

الناس كلهم عيال ابى حنيفة فى الفقه.

অর্থাৎ “সমস্ত মুজতাহিদ ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর সন্তান।”    তিনি ফিক্বাহ্র তিন চতুর্থাংশেরই অধিকারী ছিলেন। অবশিষ্ট এক চতুর্থাংশের মধ্যে অন্য সকল ইমামগণ অংশীদার। সুতরাং ফিক্বাহ গৃহের গৃহস্বামী তিনিই এবং অবশিষ্ট সকলেই যেন তাঁর পরিবারভুক্ত। হযরত খাজা মুহম্মদ পারসা রহমতুল্লাহি আলাইহি “ফুসুলে সেত্ত্বা’ নামক কিতাবে বর্ণনা করেন “হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম অবতরণের পর তাঁর ইজতিহাদের মাধ্যমে যে সমস্ত নিয়ম-নীতি বের করবেন তা হানাফী মাযহাবের সাথে মিলে যাবে।”       “দুররুল মুখতার” কিতাবের মুক্বাদ্দিমা এবং হায়রাতুল হিসান কিতাবে উল্লেখ রয়েছে, হাক্বীক্বতের মর্তবায় উপনীত মহান ওলী সালেহ বিন আব্দুল্লাহ তসতরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “হযরত মুসা আলাইহিস্ সালাম এবং হযরত ঈসা আলাইহিস্ সালাম-এর উম্মতগণের মধ্যে ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মত একজন উম্মত থাকলেও তারা ইহুদী ও খৃষ্টানে পরিণত হতো না।” (সুবহানাল্লাহ)

ইমাম আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফাযায়েল-ফযীলত, মর্যাদা-মর্তবা এই স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা অসম্ভব। সংক্ষেপে হানাফী মাযহাবের ইসলামী বিধি-বিধান সমূহ ও ইল্মী সিলসিলার মূল হলেন জলিলুল ক্বদর ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ফিক্বাহ্র ইল্ম হযরত হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নিকট থেকে অর্জন করেন, হযরত হাম্মাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইব্রাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, হযরত ইব্রাহীম নাখয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে, হযরত আলকামা রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে এবং তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে ইল্মে ফিক্বাহ্ হাছিল করেন। হযরত ছাহেবাঈন ইমাম আবূ ইউসুফ এবং ইমাম মুহম্মদ, ইমাম যুফার ইবনে হুবহালি এবং ইমাম হাসান ইবনে যিয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি সকলেই ইমামে আ’যম হযরত আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ছাত্র ছিলেন। তাঁদের মধ্যে হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ইসলামী শিক্ষার উপর এক হাজারেরও বেশী কিতাব রচনা করেন। যেহেতু তিনি তাঁর অন্যতম ছাত্র হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাতাকে বিবাহ করেছিলেন সেহেতু তাঁর ইন্তিকালের পর শাফেয়ী মাযহাবের প্রতিষ্ঠাতা হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর কিতাবসমূহ উত্তরাধিকার সূত্রে লাভ করেন। এ কারণেই হযরত ইমাম শাফেয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “খোদার কসম, আমার ফিক্বাহর ইল্ম হযরত ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কিতাবাদি পাঠের মাধ্যমে বৃদ্ধি প্রাপ্ত হয়েছে। যারা ইল্মে ফিক্বাহ্তে গভীরতা অর্জন করতে চায় তাদের ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ছাত্রদের ছোহবত ইখতিয়ার করা উচিত”, এক সময় তিনি বলেন, “সমস্ত মুসলমান হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পরিবারের সন্তান তুল্য।” অর্থাৎ পরিবারে কর্তা যেমন পরিবারের সদস্যদের জন্য রোজগার করেন তাদের সমস্যার সমাধান করেন। ঠিক সেভাবে ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি মানুষের সমস্যার সমাধানে যে ইসলামী বিধি বিধানের প্রয়োজন তা বের করার যিম্মাদারী গ্রহণ করেন এবং এইভাবে তাঁদের জন্য বোঝা লাঘব করেন, তাদের উপর ইহসান করেন।     ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ফিক্বাহর ইল্ম জমা করেন, শাখা-প্রশাখায় বিভক্ত করেন এবং এর উছূল বা পদ্ধতি নির্ধারণ করেন এবং সাথে সাথে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ যে ই’তিকাদ- এর ইল্ম প্রচার করেন সেগুলোও জমা করেন এবং তাঁর হাজার হাজার ছাত্রকে শিক্ষাদান করেন। তাঁর কিছু ছাত্র ইল্মে কালামে (ঈমান ও আক্বীদা সম্পর্কীয় জ্ঞানে, বিশেষজ্ঞ হন।” তাঁদের মধ্যে ইমাম মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ছাত্র হযরত আবু বকর আল যুরযানী রহমতুল্লাহি আলাইহি খ্যাতি অর্জন করেন এবং তাঁর ছাত্র আবু নসর আল ইয়াদ রহমতুল্লাহি আলাইহি আবু মানসুর আল মাতুরদি রহমতুল্লাহি আলাইহিকে ইল্মে কালামের শিক্ষা দান করেন। আবূ মানসূর মাতুরদি রহমতুল্লাহি আলাইহি আবূ হানিফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ইল্মে কালামের শিক্ষাকে কিতাবে লিপিবদ্ধ করেন। তিনি বিদয়াতী ও গোমরাহ সম্প্রদায়ের আক্বীদাকে খন্ডন করে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ই’তিকাদকে সন্নিবেশিত করেন এবং এর ব্যাপক প্রচার ও প্রসার করেন। এ মহান আলিম এবং আরেকজন মহান আলিম হযরত আবুল হাসান আল আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ই’তিকাদের মাযহাবের ইমাম বলা হয়। মুহম্মদ শিরিস্থানী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর মিলাল ওয়া নিহাল কিতাবে আরো বলেন, উছূল এবং ফুরু উভয় ক্ষেত্রেই ইমাম মাতুরদি রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর অনুসারী। মালেকী, শাফেয়ী ও হাম্বলী মাযহাবের মতই ইমাম আবুল হাসান আল আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মত। হযরত আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি শাফেয়ী মাযহাবের আনুসারী ছিলেন। শাফেয়ী মাযহাবের বিশিষ্ট আলিম ইমাম সুবুকি রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন যে, তিনি হানাফী মাযহাবের আক্বাঈদের আলিম ইমাম আবু জাফর ত্বাহাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর কিতাবসমূহ পড়েছেন এবং তিনটি ক্ষেত্রে সূক্ষ্ম পার্থক্য ছাড়া বাকী ক্ষেত্রে একই রকম পেয়েছেন। ইমাম আবুল হাসান আলী সুবুকি রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর পুত্র হযরত আব্দুল ওহ্হাব তাজুদ্দীন সুবুকী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন যে, তিনি হানাফী মাযহাবের ই’তিক্বাদের কিতাবসমূহ পড়েছেন এবং ১৩টি ক্ষেত্রে মত-পার্থক্য লক্ষ্য করেছেন। কিন্তু তিনি বলেন যে, এই পার্থক্য গুলো এতই গৌণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এতই সূক্ষ্ম যে, কাউকেই নাহক্ব বলার উপায় নেই। অর্থাৎ একজন সঠিক অপরজন অধিক সঠিক। মূল এবং মুখ্য বিষয়গুলোতে কারো কোন ইখতিলাফ নেই। দুটো দলই হক্বের উপর প্রতিষ্ঠিত। হযরত মুহম্মদ হাদিমী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর বারিকা কিতাবের ৩১৭ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন যে, তিনি “মাতুরদি” এবং “আশয়ারী” মতের উপর তুলনামূলক গবেষণা করেছেন এবং নগণ্য থেকে নগণ্য বিষয়টিও বিবেচনায় এনে সর্বমোট ৭৩টি সূক্ষ্ম পার্থক্য উদঘাটন করেছেন।

আল বাইয়্যিনাত পত্রিকা আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের সকল আলিমের ইমাম ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফিক্বাহ এবং আক্বাঈদের সঠিক প্রচার ও প্রসার করে থাকে এবং সে অনুসারেই ফতওয়া দিয়ে থাকে। (অসমাপ্ত)

-সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুনিস মুর্শেদ, মিরপুর, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ