মাহে রমাদ্বান শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ২১৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহমদ

পহেলা শাওওয়াল এ মুবারক দিনটি মু’মিন-মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন, খুশির দিন। এ দিনে গরীব-ধনী সকলেই যেনো সমভাবে ঈদের আনন্দ পেতে পারে সেজন্য গরীবদের প্রাপ্য হক্ব হিসেবে ধনীদের প্রতি ছদাক্বাতুল ফিতির ওয়াজিব করা হয়েছে। ধনীদের প্রতি আরো ফরয করা হয়েছে যাকাত। বছরের যে কোন মাস ও দিনে যাকাত আদায় করা যায়। তবে রমাদ্বান মাসে একটা ফরয আদায় করলে ৭০টি ফরয আদায়ের ফযীলত হাছিল হয়; যার কারণে যাকাত দাতাগণ সাধারণত রমাদ্বান মাসেই যাকাত-ফিতরা আদায় করে থাকেন।

প্রকাশ থাকে যে, যাকাত ইসলামের পাঁচটি বুনিয়াদের মধ্যে অন্যতম বুনিয়াদ। যাকাত মালী ইবাদত। খিলাফতের যুগে যাকাতের মাল-সম্পদ বাইতুল মালে জমা হতো। সেখান থেকে খলীফার পক্ষ হতে যাকাতের হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে খিলাফতের ব্যবস্থা না থাকায় যাকাতদাতাগণ নিজেরাই যাকাতের মাল হক্বদারদের মধ্যে বণ্টন করে থাকে। এ কারণে অধিকাংশ যাকাতদাতার মধ্যেই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় গইরুল্লাহ অর্থাৎ রিয়া বা লৌকিকতা এ ধ্বংসাত্মক বদ গুণটি জন্ম নেয়। ফলে তাদের যাকাত কবুল হওয়ার বিপরীতে বরবাদ হয়ে যায়।

যেমন দেখা যায়, বেশি লোককে যাকাত দেয়ার জন্য কম দামের খদ্দরের পাতলা লুঙ্গি ও পাতলা শাড়ী দিয়ে থাকে যা সাধারণভাবে পরার উপযুক্ত নয়। অথচ এ লুঙ্গি ও শাড়ী যাকাত দানকারী ও কারিণী পরিধান করতে কখনই রাজি হবেনা বা পছন্দ করবে না। যেটা যাকাত দানকারী ও কারিণী নিজেরা গ্রহণ করতে রাজি নয় সেটা মহান আল্লাহ পাক তিনি কি করে গ্রহণ করবেন? মূলতঃ এমন দান আদৌ মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট গ্রহীত হবে না। মহান আল্লাহ পাক তিনি তা পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, “তোমরা কখনোই নেকী, কল্যাণ হাছিল করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বা পছন্দনীয় বস্তু দান করবে। এবং তোমরা যা কিছু দান করো সে সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি অবশ্যই পূর্ণ খবর রাখেন।” (সূরা আলে ইমরান : আয়াত শরীফ ৯২)

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা স্বীয় উপার্জন থেকে এবং যা আমি তোমাদের জন্য ভূমি থেকে উৎপন্ন করেছি তা থেকে উৎকৃষ্ট বস্তু ব্যয় কর এবং নিকৃষ্ট জিনিস ব্যয় করতে নিয়ত বা মনস্থ করোনা।” (সূরা বাক্বারা : আয়াত শরীফ ২৬৭)

এখানে সম্পদের যাকাত, ফিতরা ও ফসলের যাকাত বা উশর ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব, নফল সকল প্রকার দান-ছদক্বার কথাই বলা হয়েছে। অর্থাৎ যেটা উত্তম, উৎকৃষ্ট, মূল্যবান সেটাই দিতে হবে। যেটা নিকৃষ্ট, নিম্নমানের, নিম্নমূল্যের সেটা দেয়া তো দূরের কথা সেটা দেয়ার কল্পনা বা চিন্তা করাও যাবে না।

এছাড়া যাকাত দাতাগণ এমন সব লোককে যাকাত দেয় যাদের আক্বীদা ও আমলের মধ্যে কুফরী রয়েছে অথবা যারা হারাম-নাজায়িয, বিদয়াত-বেশরা কাজে মশগুল অথবা যারা নামায-কালাম পড়ে না, পর্দা-পুশিদায় চলেনা, বেপর্দা-বেহায়াভাবে চলে, গান-বাজনা করে, টিভি-সিনেমা দেখে, খেলাধুলা করে ইত্যাদি যা চরম ফাসিকী ও নাফরমানী কাজের অন্তর্ভুক্ত অথবা এমন সব মাদরাসায় যাকাত দেয় যেসব মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পর্দা নেই, হারাম খেলাধুলায় লিপ্ত, হারাম দল-মত ও আন্দোলনের সাথে জড়িত অর্থাৎ হক্কানী আলিম- আল্লাহওয়ালা হওয়ার পরিবর্তে তাদের উদ্দেশ্য থাকে গইরুল্লাহ অর্থাৎ দুনিয়াবী ফায়দা হাছিল করা। এদেরকে যাকাত, ফিতরা, কুরবানীর চামড়া ইত্যাদি ফরয, ওয়াজিব দান-ছদকা দেয়া মোটেই শরীয়ত সম্মত নয়। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন-

تعاونوا على البر والتقوى ولاتعاونوا على الاثم والعدوان واتقوا الله ان الله شديد العقاب.

অর্থ: তোমরা নেকী ও পরহেযগারীর মধ্যে সাহায্য করো। আর পাপ ও শত্রুতা অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বিরোধিতা বা নাফরমানীর মধ্যে সাহায্য করো না। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠোর শাস্তিদাতা। (সূরা মায়িদা : আয়াত শরীফ-২)

স্মরণীয় যে, আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া, খলীফাতু রসূলিল্লাহ হযরত আবূ বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম তিনি যাকাতের একটি রশির জন্যও জিহাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই, যাকাতের একটি রশির মতোই একটি পয়সাও যাতে ভুল উদ্দেশ্যে ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এ কারণে বর্তমান হিজরী শতাব্দীর মহান মুজাদ্দিদ, যামানার মুজতাহিদ ও ইমাম, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হুজ্জাতুল ইসলাম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া, আওলাদে রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ****/-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি বলেছেন, বর্তমানে হক্ব মত-পথ ও সুন্নতী আমলের একমাত্র ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’ সুন্নতী মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা।

কাজেই, যাকাত-ফিতরা বা কুরবানীর চামড়া দিয়ে যারা ছদকায়ে জারীয়ার পরিপূর্ণ ছওয়াব হাছিল করতে চায় তাঁদের জন্য একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ সুন্নতী মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’ রাজারবাগ, ঢাকা।

মাহে ছফর এবং তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সাইয়্যিদুল আসইয়াদ, সাইয়্যিদুশ শুহূর, শাহরুল আ’যম মাহে রবীউল আউয়াল শরীফ ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে রবীউছ ছানী ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে জুমাদাল উখরা ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা

মাহে শা’বান ও তার প্রাসঙ্গিক আলোচনা