“ধর্মের কল বাতাসে নড়ে” বলে একটা কথা রয়েছে। প্রবাদটির সহজ অর্থ, সত্য জিনিস মূল্যায়নের মাপকাঠিকে অবশেষে স্বীকার করেই নিতে হয়। মাসিক মুহীনুল ইসলাম গং রাজারবাগ শরীফ উনার বিরোধীতা করতে গিয়ে হক্কানী-রব্বানী পীর ছাহেবের সে আটটি গুণের কথা উল্লেখ করেছে তন্মধ্যে তৃতীয় শর্তের বয়ান করেছে, “জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্নতে রসূল উনার একান্ত অনুসারী হতে হবে এবং নিজের অনুসারীদেরকেও এজন্য উৎসাহিক ও কঠোরতা করতে হবে।”
এই শর্তের আলোকে মুহীনুল ইসলাম গংও রাজারবাগ শরীফ উনার আমল পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রসঙ্গত ঐ গল্পের উদাহরণ উপস্থাপন করতে হয়।
লাশ দাফন হয়েছে জনৈক ওলীআল্লাহ উনার। যার ক্বলবে মহান আল্লাহ আল্লাহ যিকির জারি। যার দশ লতিফায় আল্লাহ আল্লাহ যিকির সর্বক্ষণ জারি সাপেক্ষে মাথার প্রতিটি চুল হতে পায়ের নিচ পর্যন্ত প্রতি লোমকুপ, গোশত, রক্ত, অস্থিমজ্জা তথা শরীরের সর্বাংশে যাঁর সর্বক্ষণ আল্লাহ আল্লাহ যিকির জারি রয়েছে। যিনি দেখতে পান সিদরাতুল মুনতাহা হতে তাহতাচ্ছারা পর্যন্ত কুল-মাখলুকাত আল্লাহ আল্লাহ যিকিরে মশগুল। এসব নিয়ামত লাভে যিনি ধন্য হয়েছেন যিনি ওলীআল্লাহ হয়েছেন সারা জীবনের সাধনা সমাপ্তিতে যিনি মহান আল্লাহ পাক উনার দীদারে চলে গেছেন যথারীতি তার দাফন-কাফন সম্পন্ন হয়েছে। সকলেই উনার উছীলা দিয়ে দোয়া করে ফায়দা নিয়ে বিদায় হয়েছে। আর বাকি থেকে গেছে একটি লোক। যে সকলের অলক্ষ্যে উক্ত ওলীআল্লাহ উনাকে কবরের বাইরে থেকে তালক্বীন দিতে লাগলো। কিন্তু কবরের ভিতর থেকে তখন ভেসে আসলো হাসির আওয়াজ। সাথে নসীহত, “দেখ! মুর্দা ব্যক্তি জীবিত লোককে তালক্বীন দিতে এসেছে।”
উল্লেখ্য কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ হয়েছে, “যে যিকির করে সে জিন্দা আর যে যিকির করেনা সে মুর্দা।”
সুতরাং শুধু ক্বালবেই নয় বরং শরীরের সর্বাংশে আল্লাহ আল্লাহ যিকির জারী থাকায় দুনিয়াবী দৃষ্টিতে মুর্দা হলেও আসলে উক্ত ওলী আল্লাহ জিন্দা। পক্ষান্তরে দুনিয়াবী দৃষ্টিতে জিন্দা হলেও শরীরের সর্বাংশে তো মোটেই নয় এমনকি ক্বালবে যিকির জারী না থাকায় তালক্বীনদাতা অবশ্যই মুর্দা।
এখন এই মুর্দা ব্যক্তির উক্ত জীবিত ওলীআল্লাহ উনাকে তালক্বীন দেয়ার বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম সেই মহান ওলীআল্লাহ উনাকে স্মরণ করিয়ে দেয়ার ব্যাপার যতটা না হাস্যকর তেমনি রাজারবাগ শরীফ উনার সাথে মুহীনুল ইসলাম গং-এর জন্য সুন্নতের আমলের ও তাক্বীদের বিষয়টি তুলনামূরক আলোচনার দাবী তোলা তদপেক্ষা বেশি হঠকারীতামূলক।
মাসিক আল বাইয়্যিনাত এ দেড় সহ¯্রাধিক দলীল-আদিল্লাহ দ্বারা বিস্তারিত ফতওয়ায় প্রতীয়মান হয়েছে যে, দায়িমীভাবে পাগড়ী পড়া সুন্নত। যা রাজারবাগ শরীফ উনার অনবদ্য আমল। পক্ষান্তরে কথিত খারিজীরা দায়িমীভাবে পাগড়ী তো পড়েইনা; যা পড়ে তা হলো, ভারতের ভিপি সিং, রাজীব গান্ধী বা নেহেরু অথবা নেপালের বীর বিক্রম মার্কা কিস্তি টুপি। যে সম্পর্কে হুজ্জাতুল ইসলাম, হযরত ইমাম গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “আল মুর্শিদুল আমীন” কিতাবে বলেছেন যে, “একদা ইবলিশ হযরত মুসা আলাইহিস সালাম উনার কাছে এই কিস্তি টুপি পড়ে হাজির হয়েছিলো।” পক্ষান্তরে রাজারবাগ সিলসিলার সবাই আমল করে থাকে চার টুকরা বিশিষ্ট, সাদা, গোল সুন্নতী টুপি। যে প্রসঙ্গে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ ১১৪টি দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে।
তদুপরি কথিত খারিজীরা লাল রুমাল পরিধান করে থাকে। যা পুরুষের জন্য পড়া মাকরূহ তাহরীমী। পক্ষান্তরে রাজারবাগ শরীফ সিলসিলায় পাগড়ীর উপর যে সাদা রুমাল পড়া হয়, যে তরতীবে পড়া হয় উক্ত তরতীবে উক্ত সাদা রুমাল পড়াই সুন্নত।
এরপরে রাজারবাগ শরীফ সিলসিলায় গুটলীওয়ালা কোণাবন্ধ, নেছফুছাক গোল কোর্তা পড়া হয় যা খাছ সুন্নত। পক্ষান্তরে কথিত খারিজীরা যে কোণাফাড়া, কলারযুক্ত, ষ্টিলের বোতামসহ পাঞ্জাবী পরিধান করে তা বাদশাহ আকবর, তার দরবারে হিন্দুদের জন্য প্রবর্তন করেছিলো।
এরপরে ইজারের ক্ষেত্রেও একই কথা। রাজারবাগ শরীফ সিলসিলায় যে ফাড়া লুঙ্গি পরিধান করা হয় সেটাই হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সুন্নত প্রমানিত। কিন্তু কথিত খারিজীরা সেলাইবিহীন ফাড়া লুঙ্গি তো দূরের কথো বরং তারা এখন হিন্দুদের মত চোশ পাজামা তথা বিশেষ কায়দার ফুলপ্যান্ট পড়তে অভ্যস্ত। এরপর তাদের সারা গোষ্ঠী মিলিয়ে হয়তবা একজনের পায়েও সুন্নতি চটি স্যান্ডেল পড়তে দেখা যায়না। পক্ষান্তরে রাজারবাগ শরীফ সিলসিলার প্রায় সবাই দু’ফিতাওয়ালা চামড়ায় চটি স্যান্ডেল পড়তে অভ্যস্ত।
পাঠক! এইতো গেলো শুধু মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত পোশাকের বিবরণ। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে যে সাড়ে তিন হাত শরীর দিয়েছেন তাতেই দেখা যায় রাজারবাগ শরীফ সিলসিলার প্রায় সবাই অকাট্য দায়িমী সুন্নত দ্বারা সুশোভিত। পক্ষান্তরে কথিত খারিজীদের আপাদমস্তক বেদাতী পোশাকে তথা আমলে জর্জরিত।
সুতরাং যাদের সাড়ে তিন হাত শরীরেই বিদয়াত দ্বারা সম্পৃক্ত তাদের বাকি সবকিছুই যে বেশরায় পরিপূর্ণ তা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। আর এক্ষেত্রে কথিত খারিজী তথা মুহীনুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের বিবৃত নিজেদের মাপকাঠি দ্বারাই প্রতীয়মান হয় যে তারাই ভন্ড। পক্ষান্তরে ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয যামান, আওলাদুর রসূল, রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনিই হক্ব ও বর্তমান যামানার মুজাদ্দিদ এবং মুহইস সুন্নাহ। অর্থাৎ তিনি কেবল সম্ভাব্য সব সুন্নতের আমলকারীই নন বরং তিনি বর্তমান হিজরী শতাব্দীতে অনেক অনেক অপ্রচলিত সুন্নতের পূনঃপ্রচলনকারী। (চলবে)
মুহম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা।