মুনাফিকী আর জিহালতির ধারাবাহিকতায় মাসিক মুহীনুল ইসলামের আরেক সংযোজন সেপ্টেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যার বাইয়্যিনাত বিষোদগারের জবাব (৫)

সংখ্যা: ১০২তম সংখ্যা | বিভাগ:

     মুহীনুল ইসলাম গং রোজ হাশরের আলামত দুনিয়াতেই জাহির করে দিয়েছে। হাশরের ময়দান সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তখন নিজের হাত নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে, নিজের পা নিজের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে। অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সম্পর্কেও একই কথা। আর তেমনটিই হয়েছে মাসিক মুহিনুল ইসলামের ক্ষেত্রে। গত সেপ্টেম্বর সংখ্যায় ওরা রাজারবাগ শরীফের বিরোধীতা করতে গিয়ে, হক্কানী-রব্বানী পীর ছাহেবের ক্ষেত্রে সে আটটি শর্তের কথা উল্লেখ করেছে, তা মূলতঃ ওদের নিজেদের জিহালতি আর গোমরাহীই পরিস্কার থেকে পরিস্কারতর করছে।   প্রসঙ্গতঃ পঞ্চম ও ষষ্ঠ শর্ত হিসেবে ওরা উল্লেখ করেছে (৫) অজ্ঞতাপূর্ণ কথা-বার্তা থেকে মুক্ত  হতে হবে (৬) কুরআন-হাদীসের পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ জ্ঞানের অধিকারী হতে হবে।      মূলতঃ কথাগুলো একটি অপরটির পরিপূরক। কারণ ছহীহ্ ইল্মের অধিকারীই জিহালতি থেকে মুক্ত থাকে। সেজন্য ইরশাদ হয়েছে, “যে জানে আর যে জানেনা তারা কি সমান? কখনও না।” হাদীস শরীফে আরও ইরশাদ হয়েছে, “আল্লাহ্ পাক যার ভালাই চান তাকে দ্বীনের ছহীহ্ সমঝ দেন।” মূলতঃ দ্বীনের নামে ভুল বুঝ বা আক্বীদা অনেকেরই অনেককিছু থাকতে পারে। কিন্তু কেবলমাত্র ছহীহ্ সমঝই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু প্রত্যেকেই যখন ছহীহ্ সমঝের দাবী করবে তখন তার সত্যতা নির্ণয় হবে কি করে। কুরআন শরীফে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, “তোমরা যদি সত্যবাদী হয়ে থাক, তবে দলীল সমূহ পেশ কর।” এ বক্তব্যের আলোকে লেখার সংক্ষিপ্ত পরিসরে দু’চারটা উদাহরণ উল্লেখ করলেই প্রমাণ হয়ে যাবে কারা মূর্খতার অধিকারী আর কারা পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ ইল্ম সম্পন্ন। মুসলমানদের শেয়ার, আলামত বা চিহ্ন সম্পর্কেই এরা জিহালতি করেছে। অক্টোবর’ ৯৮ সংখ্যায় এরা লিখেছে গোঁফ সম্পূর্ণ চেছে ফেলা জায়েয।পক্ষান্তরে আল-বাইয়্যিনাত এ ৪২টি (৩৪তম সংখ্যা) বিশেষ দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, “গোফ চেছে ফেলা মাকরূহ।”    এরা মুসলমানদের প্রধান আমল নামায সম্পর্কেও ভুল ও গোমরাহী বিস্তার করেছে। এরা বলেছে, মসজিদে ছানী জামায়াত করা মাকরূহ তাহরীমী। পক্ষান্তরে মাসিক আল-বাইয়্যিনাতে ২৩টি বিশেষ দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, শর্ত সাপেক্ষে মসজিদে ছানী জামায়াত করা জায়িয।  রোযা সম্পর্কেও এরা জিহালতি বিস্তার করেছে। জুলাই’৯৯ ঈঃ সংখ্যায় এরা বলেছে ইন্জেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়না।  কিন্তু মাসিক আল বাইয়্যিনাতে ৩১টি দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, “ইন্জেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হয়।”   হজ্ব সংশ্লিষ্ট বিষয়েও এরা মূর্খতার সঞ্চার করেছে। মে’ ৯৯-এর সংখ্যায় বলেছে, তাকবীরে তাশরীক একবারের বেশী বলা সুন্নতের খিলাফ। পক্ষান্তরে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ ১২টি দলীল পেশ করে বলা হয়েছে, “তাকবীরে-তাশরীক একাধিকবার বলা  মুস্তাহাব।” এরপরে এরা সুন্নতে ছাহাবা সম্পর্কেও বিষোদগার করেছে, বিরোধীতা করেছে। যেমনঃ ওদের মুখপত্রের ডিসেম্বর/১৯৯৮ ও ফেব্রুয়ারী/১৯৯৯ সংখ্যায় কদমবুছিকে নাজায়েয বলা হয়েছে।  পক্ষান্তরে মাসিক আল বাইয়্যিনাতে ১১৭টি দলীল দিয়ে পেশ করা হয়েছে, “কদমবুছি করা সুন্নতে ছাহাবা।”   এরপর ঈমানের ভিত্তি, ঈমান দেনেওয়ালা স্বয়ং আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কেও এরা চরম জিহালতি ও বেয়াদবি করেছে। মুহিনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর’ ৯৮ সংখ্যায় বলেছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাটির তৈরী (নাউযুবিল্লাহ)।   পক্ষান্তরে মাসিক আল-বাইয়্যিনাত-এ ২৪১টি দলীল দিয়ে প্রমান করা হয়েছে যে,“ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নূরের তৈরী।” শুধু তাই নয়, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মুহব্বত প্রকাশে যেন এদের গাঁ জ্বলে। তাই ফেব্রুয়ারী’ ৯৯ সংখ্যায় এরা বলেছে প্রচলিত মীলাদ ক্বিয়াম করা বিদয়াত।  পক্ষান্তরে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ২৮, ৩৬, ৪০, ৪৭, ৪৯, ৭১, ৮৪, ৯৩, ৯৯ সহ বিভিন্ন সংখ্যায় অর্ধ শতাধিক দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে, “মীলাদ ক্বিয়াম সুন্নতে উম্মত, মুস্তাহসান।”      তদুপরি পীর ছাহেব সম্পর্কেও যে জিজ্ঞাসা-সমাধান এরা আলোচনা করেছে সে প্রসঙ্গেও মারাত্মক মুর্খতার পরিচয় দিয়েছে। এপ্রিল’ ৯৭ সংখ্যায় এরা বলেছে পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া মুস্তাহাব। অথচ মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৪৫তম সংখ্যায় ৪৫টি দলীল দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে যে পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া ফরয। কাজেই দেখা যাচ্ছে যে, পর্যাপ্ত ও বিশুদ্ধ জ্ঞান তো দূরের কথা মুহীনুল ইসলাম গং এর ফরয পরিমাণ ইল্মই নেই। তদবিপরীতে রয়েছে তাদের মারাত্মক অজ্ঞতা-মূর্খতা। পক্ষান্তরে আল বাইয়্যিনাত-এর ক্ষেত্রে রয়েছে বেমেছাল প্রজ্ঞাপূর্ণ, অকাট্য দলীলভিত্তিক ইল্ম। যা মূলতঃ খাছ ইল্মে লাদুন্নীরই বহিঃপ্রকাশ।  আল বাইয়্যিনাত সূত্রে প্রকাশ, আল বাইয়্যিনাতে এ পর্যন্ত ফতওয়া দেয়া হয়েছে একুশটি এবং তাতে দলীল দেয়া হয়েছে প্রায় সাত হাজার, সুওয়াল-জাওয়াব দেয়া হয়েছে প্রায় পনেরশর মত আর তাতে দলীল দেয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে পনের হাজার।    অর্থাৎ কিনা মোট প্রায় ২২ হাজার কিতাবের দলীল এ পর্যন্ত আল বাইয়্যিনাতে এসেছে, যা এ পর্যন্ত কোন ফিক্বাহের কিতাবে সংকলিত হয়নি। সুবহানাল্লাহ। আর এ অবদান মূলতঃ ইমামুল আইম্মা, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদুয্ যামান, মুহইস্ সুন্নাহ, আওলার্দু রসূল, ঢাকা রাজারবাগ শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর। যা শুধু হক্ব হিসেবেই নয় বরং বেমেছাল অলী আল্লাহ্ হিসেবে তাঁর সুমহান মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।

-মুহম্মদ আরিফুর রহমান, ঢাকা।

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ

মতামত বিভাগ