-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শুয়াইব আহম
চান্দ্র বর্ষের এগারতম মাসটির নাম ‘যিলক্বদ।’ এ নামেই বাংলা ভাষাভাষী লোকেরা মাসটিকে অভিহিত করে থাকে। আসলে মাসটির আরবী ছহীহ্ উচ্চারণ হচ্ছে “যুল ক্বা’দাহ্” যার অর্থ- “বসে থাকার মাস” এবং এ অর্থের সাথে মাসটির নাম করণের মিল রয়েছে। তাহলো এই যে, এ মাসে আরবরা ঘরে বসে থাকতো এবং মাসটির হুরমত (ইজ্জত-সম্মান) রক্ষা করার নিমিত্তে যুদ্ধ বিগ্রহ হতে বিরত থাকতো। আসমান-যমীনের সৃষ্টিকাল হতে আল্লাহ্ পাক-এর নিকট যে চারটি মাস সম্মানিত বলে কুরআন শরীফ ও হাদীস শরীফে ঘোষণা করা হয়েছে সেই সম্মানিত মাসসমূহের একটি হচ্ছে “যিলক্বদ।” এ মাসটি পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালনের মাস।
হাদীস শরীফের ছহীহ্ কিতাব “ইবনে মাযাহ্ শরীফে” বর্ণিত হয়েছে- হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
الحاج والعمار وفد الله ان دعوه اجابهم وان استغفروه غفرلهم.
অর্থঃ- “হজ্ব ও ওমরাহ সম্পাদনকারীগণ হচ্ছেন আল্লাহ্ তায়ালার দাওয়াতী যাত্রীদল। তাঁরা যদি তাঁর (আল্লাহ্ পাক-এর) নিকট দোয়া করেন, তিনি তা কবুল করেন এবং যদি তাঁর নিকট ক্ষমা চান তিনি তাঁদেরকে ক্ষমা করে দেন।”
“ছহীহ্ নাসাঈ শরীফে” বর্ণিত হয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
وفد الله ثلاثة الغازى والحاج والمعتمر.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক-এর যাত্রী হলো তিন ব্যক্তি- গাজী, হজ্বকারী ও ওমরাহ্কারী।”
“ত্বহাবী শরীফে” বর্ণিত হয়েছে,
الحجة ثوابها الجنة والعمرة كفارة لكل ذنب.
অর্থঃ- “হজ্বের প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত এবং ওমরাহ্ হচ্ছে সকল গুণাহ্র কাফ্ফারা স্বরূপ।” বস্তুতঃ বাইতুল্লাহ্ শরীফ হচ্ছে যমীনের বুকে প্রথম ঘর। মুসলমানদের ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ্ পাক তাঁর ফেরেশ্তা কর্তৃক এ ঘরকে সর্বপ্রথম নির্মাণ করে দেন। এ ঘর এবং তার আশপাশ সবকিছুই পবিত্র এবং আল্লাহ্ তায়ালার মহান নিদর্শনাবলীর দ্বারা বেষ্টিত।
কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
جعل الله الكعبة البيت الحرام.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ তায়ালা কা’বা শরীফকে অতি সম্মানিত ঘর হিসেবে নির্ধারণ করেছেন।” (সূরা মায়িদা/৯৭)
আখিরী রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “যতদিন মানুষ এ ঘরের প্রতি যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করবে ততদিন তারা সুখ-শান্তিতে থাকবে। আর যখন তারা এর সম্মান নষ্ট করবে তখন তাদের উপর ধ্বংস নেমে আসবে।” (মিশকাত শরীফ) হাদীস শরীফে আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
ان لله فى كل يوم وليلة عشرين مائة رحمة تنزل على هذا البيت ستون لطائفين واربعون للمصلين وعشرون للناظرين.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ তায়ালা এ ঘরে প্রত্যহ একশত বিশটি রহমত নাযিল করেন। তাওয়াফকারীদের জন্য ষাটটি, মুছল্লীদের জন্য চল্লিশটি এবং দর্শনকারীদের জন্য বিশটি।” (বায়হাক্বী) অপর এক বর্ণনায় এসেছে, “যে ব্যক্তি ঈমান ও আন্তরিক বিশ্বাসের সাথে কা’বা শরীফ দর্শন করে সে সদ্যজাত শিশুর ন্যায় নিষ্পাপ হয়ে যায়।” (দুররে মনছুর) হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে, “যে ব্যক্তি এ ঘরে এক রাকায়াত নামায আদায় করবে সে এক লক্ষ রাকায়াত নামাযের ছওয়াব লাভ করবে।” (ইবনে মাযাহ্) কা’বা শরীফে স্থাপিত হাজরে আসওয়াদ-এর ফযীলত সম্পর্কে ইরশাদ হয়েছে, হুয়ূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, “আমি আল্লাহ্ পাক-এর নামে কছম করে বলছি যে, আল্লাহ্ পাক হাজরে আসওয়াদকে ক্বিয়ামতের দিন এরূপ অবস্থায় উপস্থিত করবেন, তখন তার দু’টি চক্ষু থাকবে তা দ্বারা সে সবকিছু দেখবে। সেদিন একটি জিহ্বাও হবে তা দ্বারা সে ঐ সকল লোকদের পক্ষে সাক্ষ্যদান করবে যারা যথাযথভাবে হক্ব আদায় করে ঈমান ও ইয়াক্বীনের সাথে তাকে চুম্বন করেছে।” (তিরমিযী)
অতএব, আমাদের প্রত্যেকেরই ফরয হজ্ব ও সুন্নত ওমরাহ্-এর ফযীলত অনুধাবন আবশ্যক এবং সামর্থ্যবানদের ক্ষেত্রে তা পালনও জরুরী। আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে এ মাসকে সম্মান করার এবং এ মাসের বিশেষ আমল তথা হজ্ব ও ওমরা পালনের তাওফিক দান করুন। (আমীন) (অসমাপ্ত)
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ-সম্মানিত রবীউছ ছানী শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা