রজব মাস ও প্রাসঙ্গিক আলোচনা

সংখ্যা: ৯৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

-হযরত মাওলানা মুফতী সাইয়্যিদ শোয়াইব আহমদ

          আরবী বছরের সপ্তম মাসের নাম রজব। লুগাত বা অভিধানে রজব শব্দটি একবচন, বহুবচনে “আরজাব” এবং এর অর্থ সম্মান করা, ইজ্জত করা, লজ্জাবোধ করা ইত্যাদি। আর পরিভাষায় আরবী সপ্তম মাসের নাম রজব এবং এ অর্থেই শব্দটি মশহুর।

          হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে, “বছরের যে পাঁচটি রাত্রিতে বিশেষভাবে দোয়া কবুল হয়, রজব মাসের পহেলা রাত্রিটি তার মধ্যে সর্বপ্রথম। এ মাসের সাতাশ তারিখ রাত্রিতে আনুষ্ঠানিক নুবুওওয়াত প্রাপ্তির প্রায় এগার বছর পর মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে স্বীয় দীদার লাভে ধন্য করেন। অর্থাৎ তাঁকে মি’রাজ শরীফ তথা আসমান-যমীন, লৌহ-কলম, আরশ-কুরসী, বেহেশ্ত-দোযখ ইত্যাদি সবকিছু পরিদর্শন করিয়ে নিজের সাক্ষাত পর্যন্ত দান করেন। (সুবহানাল্লাহ্)

          উল্লেখ্য, মি’রাজ শরীফ কেবল আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকেই করানো হয়েছে। অন্য কোন নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম কিংবা তাঁদের কোন উম্মতকে তা করানো হয়নি। তবে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফযীলতের হিস্সা স্বরূপ তাঁর উম্মতদেরকে মি’রাজ হিসেবে যা প্রদান করা হয়েছে তা হচ্ছে দৈনন্দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায। উম্মতরা যদি খালিছ ও হাক্বীক্বীভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করে তাহলে তারা এর মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক-এর দীদার ও সন্তুষ্টি লাভ করবে।

          এ প্রসঙ্গে কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, “কেউ যদি আল্লাহ্ পাক-এর সাথে কথা বলতে চায় তবে সে যেন আল্লাহ্ পাক-এর কালাম “কুরআন শরীফ” তিলাওয়াত করে। আর কেউ যদি চায় আল্লাহ্ পাক তার সাথে কথা বলুক তবে সে যেন নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ নামায হচ্ছে মু’মিনদের জন্য মি’রাজ স্বরূপ।”

          সমূহ কারণে মুসলিম উম্মাহ্র জন্য এ মাসটি এক বরকত, রহমত, ছাকীনা হাছিলের মাধ্যম। তাই হাদীস শরীফে লক্ষ্য করা যায় স্বয়ং আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস আসলে বেশী বেশী এ দোয়াটি পাঠ করতেন,

اللهم بارك لنا فى رجب وشعبان وبلغنا رمضان.

উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফী রাজাবা ওয়া শা’বানা ওয়া বাল্লিগ্না রমাদ্বান।”

অর্থঃ- “আয় আল্লাহ্ পাক! আমাদেরকে রজব ও শা’বানে বরকত দান করুন এবং রমাদ্বান মাস পর্যন্ত পৌঁছার তাওফিক দান করুন।”

অতএব, এ মাস থেকেই আমাদেরকে ইবাদতের জন্য যথাসাধ্য নিবেদিত হতে হবে এবং এজন্য আল্লাহ্ তায়ালার নিকট আরজুও পেশ করতে হবে।

          এ মাসের একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব হচ্ছেন সুলত্বানুল হিন্দ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ, ইমামুল আইম্মা, আওলার্দু রসূল হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি রজব মাসের চৌদ্দ তারিখ সোমবার দিনে যমীনে তাশরীফ আনেন এবং রজব মাসেরই ছয় তারিখ সোমবার দিনে যমীন থেকে বিদায় গ্রহণ করেন। তিনি এমন এক মহান ওলী যিনি শুধু মুসলমানকেই দ্বীনি তা’লিম-তরবিয়ত দান করেছেন তা নয় বরং তাঁর দ্বীনি দাওয়াতের উছীলায় এক কোটিরও বেশী বিধর্মী দ্বীন ইসলামে দীক্ষিত হয়। (সুবহানাল্লাহ)

          তিনি দীর্ঘ ৯৭ বছর যমীনে ছিলেন। আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর রেযামন্দি হাছিলের জন্য তিনি এমন কোশেশ, রিয়াযত ও মুশাক্কাতের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন যে, নিজের ও পরিবার নিয়ে চিন্তা করার সুযোগও কোনদিন তাঁর হয়নি। অতপর ৯০ বছর বয়স মুবারকে স্বয়ং আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর তরফ থেকে তাঁকে জানানো হলো, হে মুঈনুদ্দীন! তুমি তো সমস্ত সুন্নতই পালন করলে কিন্তু এখনও কেন একটি সুন্নত বাকী রয়ে গেল? তিনি জানতে পারলেন, কোন সুন্নতটি পালন করা হয়নি। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ মুতাবিক বিবাহের সে সুন্নতটিও পালন করে নিলেন। (সুবহানাল্লাহ)

          তিনি আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এতটুকু সন্তুষ্ট করেছিলেন যে, তিনি ইন্তিকাল করার সাথে সাথে কুদরতীভাবে সেই সন্তুষ্টির বহিঃপ্রকাশ ঘঠেছিল। তাঁর কপাল মুবারকে এই কালাম সোনালী অক্ষরে লিখা উটেছিল,

هذا حبيب الله مات فى حب الله.

“ইনি আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বতে ইন্তিকাল করেছেন।” (সুবহানাল্লাহ)

মুহররম মাস ও তার আলোচনা

ছফর মাস ও তার আলোচনা

রবিউল আউয়াল মাস ও তার  আলোচনা

রবিউস্ সানী মাস ও তার আলোচনা

মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রবীউল আউওয়াল শরীফ-সম্মানিত রবীউছ ছানী শরীফ মাস এবং উনাদের প্রাসঙ্গিক আলোচনা