রফীউদ্দারাজাত, হাবীবুল আওয়ালীন ওয়া আখিরীন, রহমতুল উম্মাহ্, আহমদ মুজতবা, মুহম্মদ মুস্তফা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া  ছাল্লাম-এর প্রতি  ভালবাসা

সংখ্যা: ৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

সাইয়্যিদ মুহম্মদ আবু সাদেক (তানীম)

قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم.

অর্থঃ- “হে হাবীব! আপনি বলুন। যদি তোমরা আল্লাহ্ পাককে ভালবাসতে চাও তবে আমাকে অনুসরণ কর, আমাকে অনুসরণ করলেই আল্লাহ্ পাক তোমাদেরকে ভাল বাসবেন। আর তোমাদের গুণাহ্সমূহ ক্ষমা করবেন। আল্লাহ্ পাক ক্ষমাশীল ও দয়ালু।” (আলে ইমরান/ ৩১)

          সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি ভালবাসা প্রত্যেক ঈমানদার ব্যক্তির জন্য রহমত স্বরূপ। যে ব্যক্তির মাঝে রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি মহব্বত নেই, সেই ব্যক্তি যেন এক প্রাণহীন প্রাণী।

          রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বত করা হচ্ছে সর্বোন্নত ও সর্বোত্তম মাকাম। আর এ মাকামের প্রকৃষ্ট নজীর দেখিয়েছেন, হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ।

          হাদীস শরীফে বর্ণিত রয়েছে, একদিন এক ছাহাবী শাফিউল মুজনিবীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন, “হে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বিয়ামত কখন হবে? তখন শাফিউল উমাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমিত ক্বিয়ামতের সংবাদ নিচ্ছ, কিন্তু ক্বিয়ামতের জন্য কি পাথেয় সংগ্রহ করেছ? ছাহাবী বললেন, ইয়া হাবীবাল্লাহ্ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ক্বিয়ামতের জন্য নামায-রোযা, দান-সদকা ইত্যাদি বেশী করতে পারিনি তবে আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন এবং তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আমি মহব্বত করি। সাইয়্যিদুল বাশার হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তুমি উত্তম পাথেয় সংগ্রহ করেছ, তুমি তারই সঙ্গী হবে যাকে তুমি মহব্বত করবে।”

          এই ঘটনার দ্বারা এটাই প্রতীয়মান হয় যে, রহমতুল্লিল আলামীন হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বত করার পুরস্কার হচ্ছে তাঁর সাথী হওয়া পরকালে তাঁর সাথে থাকত পারা।

          সরওয়ারে কায়েনাত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মহব্বতে গরক থাকার আরেক নিদর্শন তাঁর প্রিয় ভাজন, ক্রীতদাস হযরত সাওবান রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে গভীরভাবে ভালবাসতেন। যখন তিনি ফখরে মওজুদাত হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখতে পেতেন না, তখন অস্থির হয়ে যেতেন। তাঁর চেহারা বিবর্ণ হয়ে যেত। অপ্রকৃতিস্থ ও অবিন্যস্ত বেশে হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট ছুটে আসতেন। মনে হত তাঁর দু’চোখের নিচে কালি জমেছে। হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! বলতেন, একি চেহারা হয়েছে তোমার? তিনি বলতেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। আমি রোগাক্রান্ত নই। কোন শারীরিক অসঙ্গতি আমার নেই। কিন্তু আপনার চেহারা মুবারকের দর্শন হতে বিচ্যুত হলে আমি পেরেশান হয়ে যাই। তখনই বিদগ্ধ অন্তরে ছুটে আসি আপনার নিকটে। আপনার পবিত্র দর্শন ব্যতীত আমার হৃদয় হয়ে উঠে অশান্ত, বিহবল।

          আশরাফুল খালায়েক্ব, ছহেবে লাওলাক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি গভীর মহব্বতের আরেক অত্যুজ্জল দৃষ্টান্ত হযরত বিলাল হাবশী রদ্বিয়াল্লাহু আনহু। যিনি ছিলেন ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। তাঁর অন্তিমকাল উপস্থিত হলে তিনি শোকাতুর সহধর্মীনিকে সান্তনা দিয়ে যাচ্ছিলেন এভাবে যে, “দেখো, কতইনা আনন্দের মুহুর্ত এখন আমার। প্রাণের আঁকা রসূলে আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাথে মিলন সময় সমাগত। কাল প্রত্যুষেই আমার বিরহ যাতনার অবসান হবে।” (সুবহানাল্লাহ)

এভাবেই তাজেদারে মদীনা হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ভালবেসে গেছেন হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু আনহুমগণ।

          উল্লেখ্য হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি তাঁদের অনন্য মহব্বতকে প্রকাশ করেছেন তাঁকে অনুসরণ করার মধ্য দিয়ে। কেননা রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মহব্বত করার অর্থই হচ্ছে তাঁর হাক্বীক্বী অনুসরণ, তাঁর সুন্নতের উপর আমল করা এবং তাঁর নির্দেশানুযায়ী চলা। আল্লাহ্ পাক আমাদের অন্তরে হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পরিপূর্ণ মহব্বত দান করুন। (আমীন)

সাইয়্যিদু উল্দে আদম, ছহিবু লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, খতীবুল আম্বিয়া ওয়াল উমাম, ছহিবুল মি’রাজ, খতামুন্ নাবিয়্যীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবে

মাআ’জামা শানূহু, ছহেবে আসমাউল হুসনা, সাইয়্যিদুল মাখদূম, ছহিবুল খাতাম, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুবারক বিলাদতপূর্ব রবিউল আউয়ালের ফযীলতপূর্ণ বার রাত্রি

আর রসূলুল মুজাহিরু আলাদ্ দ্বীনি কুল্লিহ্, আফদ্বালুর রসূল, ছহিবু দ্বীনিল হক্ব, রসূলুম মুছাদ্দিক, রসূলুল খাল্ক, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ফযীলত বর্ণনা হিন্দু ধর্ম গ্রন্থে

ছহেবে রফা’না লাকা যিক্রক, ছহিবুল ওহী ওয়াল কুরআন, যিক্রুল্লাহ্, জাওয়ামিউল কালিম, হাবীবুল্লাহ্ হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পক্ষ হয়ে জবাব দিচ্ছেন স্বয়ং আল্লাহ্ পাক রব্বুল আলামীন

নবীউত্ তওবা, ছিরাতুল্লাহ্, ছহিবুর রিদ্বা, খলীলুল্লাহ্, আউয়ালুল মুসলিমীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর এক আওলাদের খিদমত করার কারণে অগ্নিপূজকের ঈমান লাভ