শুধুমাত্র আরবী জানলেই কুরআন শরীফ বোঝা যায়না

সংখ্যা: ১১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

-সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুনিস মুর্শেদ

(ধারাবাহিক)

কুরআন শরীফের একটি আয়াতে করীমার তাফসীর হচ্ছে অন্য আয়াতে কারীমা, তারপর হাদীস শরীফ অতঃপর হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণের ক্বওল, এরপর ইমাম-মুজতাহিদগণের (যাঁরা ইজ্তিহাদ করেন) ক্বওল।       সাইয়্যিদ আব্দুল হাকীম আরওয়াসি রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর আছ্ ছাহাবা-ই-কিরাম কিতাবে বলেন, ইজতিহাদ (মৌলিক চিন্তা) মানে সর্বশক্তি নিয়োগ করে কাজ করা। কষ্ট, তাকলিফ বরদাস্ত করা এবং আপ্রাণ চেষ্টা করা। অন্য কথায়, যে সমস্ত সমস্যার সমাধান সরাসরি এবং পরিস্কারভাবে কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফে নেই তা কুরআন-হাদীসের অন্য সমাধানের সাথে ক্বিয়াস (সাদৃশ্যের ভিত্তিতে যুক্তি প্রয়োগ) করে সমস্যা সমাধানের নিয়ম-কানুন বের করা। আর এ কাজ একমাত্র সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যিনি শরীয়ত প্রণেতা, তাঁর সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম এবং মুসলমানদের মধ্যে যে সকল সম্মানিত ব্যক্তিগণ ইজতিহাদের মর্তবায় উপনীত তাঁদের পক্ষেই করা সম্ভব। ইজতিহাদের মর্তবায় উপনীত এ মহান ব্যক্তিবর্গকেই মুজতাহিদ বলা হয়। মুজতাহিদ হওয়ার জন্য অতি উচ্চাঙ্গের আরবী এবং তার সকল শাখা প্রশাখার উপর পরিপূর্ণ দখল থাকা অপরিহার্য, অন্তর দিয়ে সম্পূর্ণ কুরআন শরীফ জানতে হবে, প্রত্যেকটি আয়াতের অর্থ, (عبارة النص) এ অর্থ কিসের দিকে ইশারা করছে, (اشارة النص) আয়াতের মধ্যে কি অর্থ লুকিয়ে রয়েছে, (دلالة النص) সমস্ত বিবেচনায় আয়াতে কারীমার কি অর্থ সাব্যস্ত হবে, (اقتضاء النص) কখন কোন আয়াত শরীফ নাযিল হয়েছে, কেন নাযিল হল, সেটা কি আম (সাধারণ) নাকি খাছ (বিশেষ), আয়াতটি নাসেখ অথবা মানসূখ কিনা, আয়াতটি কি শর্তযুক্ত নাকি শর্তহীন। আয়াতটি ক্বিরয়াতে শাজ এবং ক্বিরয়াতে সাবা থেকে কিভাবে আনা হয়েছে ইত্যাদি সম্বন্ধে গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা থাকতে হবে। (আমরা বিষয়গুলো যথাস্থানে আলোচনা করার চেষ্টা করবো।) আরও জানতে হবে, সিহাহ্ সিত্তাসহ ৫০টিরও বেশী যে সকল ছহীহ্ হাদীসের কিতাব সমূহ বর্তমানে রয়েছে, সেগুলোর লক্ষ লক্ষ হাদীস শরীফ, জানতে হবে কখন এবং কেন প্রতিটি হাদীস শরীফ বলা হয়েছে, হাদীস শরীফটির অর্থের ব্যাপকতা, কোন হাদীস শরীফটি আগের, কোনটি পরের, কি কি ঘটনা এ হাদীস শরীফটির সাথে সংশ্লিষ্ট এবং কোন ঘটনার প্রেক্ষিতে হাদীস শরীফটি বলা হয়েছে, কে এ হাদীস শরীফটি বর্ণনা করেছেন, তাঁর নৈতিক মূল্যবোধ ইত্যাদি কেমন ছিল, জানতে হবে ইল্মে ফিক্বাহ্র পদ্ধতি এবং নিয়ম-কানুন। জ্ঞানের ১২টি ইবতেদায়ী শাখায় বিশেষজ্ঞ হতে হবে। কুরআন শরীফ এবং হাদীস শরীফের চিহ্ন এবং নির্দেশনা সমূহ, বাহ্যিক এবং আভ্যন্তরীণ অর্থের গভীর উপলব্ধি এবং বোধ অন্তরের অন্তঃস্থলে গ্রথিত থাকতে হবে। সর্বোপরি প্রচন্ড ঈমানী কুওত ও রূহানিয়ত এবং উজ্জ্বল, পবিত্র, পরিশুদ্ধ অন্তর এবং সুউচ্চ গুণাবলী, প্রশান্তি ও স্থিরতা সমৃদ্ধ নৈতিক চেতনার অধিকারী হতে হবে।   এ সমুদয় সুউঁচ্চ গুণাবলী পরিপূর্ণ রূপে সকল ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম-এর মধ্যে বিদ্যমান ছিল। তারপর ২০০ বছরের মধ্যে কিছু মহান আউলিয়া-ই-কিরাম, মুজতাহিদে মতলক(স্বয়ং সম্পূর্ণ মুজতাহিদ) ছিলেন। তারপর থেকে ফিৎনা-ফাসাদ শুরু হয় এবং ৪০০ হিজরীর পর থেকে অবস্থা কঠিন আকার ধারণ করে। পরবর্তীদের অনেকের মধ্যে সে যোগ্যতা থাকলেও তারা পূর্ববর্তীদের অনুসরণ সঙ্গত কারণেই ওয়াজিব করে নেন।”  একজন মুজতাহিদ যে সকল নিয়ম-নীতি, তর্জ-তরীক্বা বের করেছেন তাঁকেই মাযহাব বলা হয়। আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের শত শত মাযহাব থেকে বর্তমানে মাত্র চারজন ইমামের মাযহাব কিতাবে সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। এই চারজন মহান ইমামের নাম এবং ইন্তিকালের সময় হলঃ ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৫০হিঃ), ইমাম মালিক বিন আনাস আসবাহি রহমতুল্লাহি আলাইহি (১৭৯ হিঃ), ইমাম মুহম্মদ শাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি (২০৪ হিঃ), ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি (২৪১ হিঃ)। অমুজতাহিদগণের জন্য তাদের সকল আমল ও আখলাক, ইবাদত-বন্দেগীতে যে কোন একজন মুজতাহিদে মতলকের অনুসরণ করা ফরয-ওয়াজিব। আর মাযহাবের আক্বাঈদ, ফিক্বাহ এবং তাছাউফের কিতাব অনুসারে ঈমান-আমলকে দূরস্ত করার অর্থই হলো কুরআন শরীফের আলোকে জীবন গঠন।

(অসমাপ্ত)

সাইয়্যিদুল জিননি ওয়াল ইনস, ইমামুল আউয়ালীন ওয়াল আখিরীন, খতীবুল আম্বিয়া হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হায়াতুন নবী

ইমামুল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, খাতামুন নাবিয়্যীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মযদা-মতবা, শান-মান সকল নবী-রসূল আলাইহিমুস সালামগণের চেয়ে অনেক উর্দ্ধে

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ছাহিবু মাক্বামি মাহমূদ, শাফউল উমাম হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহ ওয়া সাল্লাম উনার শ্রেষ্ঠত্ব

সাইয়্যিদুল কাওনাইন, শাফিউল মুজনিবীন, ইমামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আহলে বাইতগণের ফযীলত

সাইয়্যিদুল বাররি ওয়াল বাহর, ইমামুস সাক্বালাইন, তাজেদারে মদীনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আওলাদগণের ফযীলত