[“আপনি সব মানুষের চেয়ে মুসলমানদের অধিক শত্রুরূপে ইহুদী ও মুশরিকদের পাবেন।” সূরা মায়িদার ৯২নং আয়াত শরীফের আলোকে ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ইহুদীদের ষড়যন্ত্রমূলক গোপনীয় বই-‘প্রটোকল’ যা পরবর্তীতে ফাঁস হয়ে যায় তার ছত্রে ছত্রে পাওয়া যায় তাদের জঘন্য ষড়যন্ত্রের বিবিধ কূট কৌশল। যাতে প্রমাণিত হয় যে আজকের তথাকথিত শাইখুল হাদীস, খতীব, মুফতি, মাওলানা তথা পীর সাহেবরা ইসলামের নামে ছবি তোলা, হরতাল, লংমার্চ, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, নির্বাচন, গণতন্ত্র, নারী-নেতৃত্ব সমর্থন ইত্যাদি যেসব হারাম কর্মসূচী দ্বারা তথাকথিত ইসলামী আন্দোলন করছে তা মূলতঃ ঐ ইহুদীরা এক শত বছর পূর্বেই তাদের প্রটোকলে লিপিবদ্ধ করেছিল। অর্থাৎ আজকের তথাকথিত ইসলামী আন্দোলনের নামে গৃহীত হারাম কর্মসূচী যথা, ছবি তোলা, লংমার্চ, হরতাল, মৌলবাদ, ব্লাসফেমী, গণতন্ত্র, নির্বাচন ইত্যাদি সব ওদেরই ইচ্ছার প্রতিফলন। কিন্তু নামধারী উলামারা এখনও তা বুঝছেনা। পাশাপাশি আরো উল্লেখ্য যে, মুসলিম দেশগুলোকে অর্থনৈতিক দিক থেকে পঙ্গু করা ও পর্যদুস্থ করা ইহুদীদের একটি চরম কূট পরিকল্পনা বা ষড়যন্ত্র। এখানে উল্লেখ্য যে, মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একমাত্র মধ্যপ্রাচ্যই ছিল তুলনামূলক ভাবে সমৃদ্ধ। উন্নয়নশীল মুসলিম বিশ্বের বহু অদক্ষ শ্রমিক এসব দেশ থেকে নিজ দেশের জন্য সমৃদ্ধি বয়ে আনত। কিন্তু বিভিন্ন কূটকৌশলের দ্বারা একের পর এক যুদ্ধ বাধিয়ে ওরা মধ্যপ্রাচ্যকেই অর্থনৈতিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ইরাক যুদ্ধে আমেরিকার ব্যয় হয় ৬ হাজার ১শ কোটি ডলার। যার প্রায় পুরোটা প্রদান করে সৌদি আরব ও কুয়েত। আর এবারের যুদ্ধে আমেরিকার ব্যয়ের হিসাব ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি ডলার বা ১.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। মূলতঃ প্রত্যক্ষভাবে বা পরোক্ষভাবে এই অর্থের যোগানদাতা মুসলিম দেশই। প্রসঙ্গতঃ কেউ কেউ মনে করতে পারে যে, যুদ্ধ বাধাচ্ছে আমেরিকা, ইউরোপ, লন্ডন তথা খ্রীষ্টানরা। কিন্তু এখানে স্মর্তব্য যে, কথিত খ্রীষ্টান রাষ্টগুলোর নীতি নির্ধারণ তথা ক্ষমতায় শীর্ষ মহলে রয়েছে ইহুদী লবিং। এমনকি বিশ্বব্যাপী আই.এম.এফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও রয়েছে ইহুদী ষড়যন্ত্রের কালো হাত। এসব কিছুর মূল লক্ষ্যই হচ্ছে মুসলিম দেশগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করা। নিম্নে বর্ণিত প্রটোকলের অংশ বিশেষের মধ্যে সে কথাই স্পষ্ট ও বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।]
“….. আজ আমরা অর্থনৈতিক কার্যসূচী সম্পর্কে আলোচনা করবো। এটা আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সিদ্ধান্তকারী শীর্ষস্থানীয় এবং অত্যন্ত কঠিন অস্ত্র বিধায় এ বিষয়টি (প্রটোকলের) আলোচনার শেষের দিকে উত্থাপন করছি।
মুদ্রার আবর্তন বন্ধ করে দিয়েই আমরা গইমদের তথা মুসলমানদের রাজ্যে অর্থনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি করেছি। বিপুল পরিমাণ পুঁজি রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে তুলে নিয়ে পুঞ্জীভূত করে রাখা হয়েছে এবং রাষ্ট্র পুনঃ পুনঃ এ পুঞ্জীভূত অর্থ থেকে ঋণ গ্রহণের আবেদন করতে বাধ্য হচ্ছে। এসব ঋণ-সুদের ভারে রাষ্ট্রীয় অর্থনীতিতে বোঝা সৃষ্টি করেছে এবং দেশের জনগণকে পুঁজির কেনা-গোলামে পরিণত করেছে। ক্ষুদ্রকুটীর শিল্প মালিকদের হাত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে শিল্প কারখানা বড় বড় পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দেয়ার ফলে জন-সাধারণ ও রাষ্ট্রের সকল রক্ত পুঁজিপতিদের হাতে চলে গিয়েছে। বর্তমানে যে হারে মুদ্রা বাজারে ছাড়া হয়, তা কিছুতেই মাথাপিছু প্রয়োজনের সঙ্গে সঙ্গতি রক্ষা করতে পারেনা এবং এজন্য শ্রমিক শ্রেণীর প্রয়োজন অপূরণ থাকতে বাধ্য।
আমরা গইমদের তথা মুসলমানদের অর্থনৈতিক সংস্থা ও পরিকল্পনার যেসব অংশ পরিবর্তন করবো, সেগুলোর উপর এমন চাকচিক্যময় পোশাক-পরিচ্ছদ পরিয়ে দেবো যে, কেউ ঘুণাক্ষরেও তা বুঝতে পারবে না। গইম তথা মুসলিম সমাজ যেসব বিশৃংখলা ও অনিয়ম তান্ত্রিকতার দরুণ দুর্দশার সম্মুখীন হয়েছে, সেগুলো আমরা উল্লেখ করছি। তাদের প্রথম বিশৃংখলা হচ্ছে, রাষ্ট্রের বাজেট। গয় তথা মুসলিম রাষ্ট্র বছরের পর বছর একই ধরণের বাজেট প্রণয়ণ করে। কিন্তু তার কলেবর ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবে পূর্ব-প্রণীত বাজেট সম্পূর্ণরূপে অকেজো প্রমাণিত হয়। পরবর্তী বছর পূর্ব অভিজ্ঞতার দরুন অন্ততঃ শতকরা ৫০ ভাগ খরচ বাড়িয়ে বাজেট তৈরী করা হয়। কিন্তু তাও ব্যর্থ হয়। এভাবে দশ বছর সময়ের মধ্যে গয় তথা মুসলিম রাষ্ট্রের বাজেট তিনগুণ বড় হয়ে যায়। গয় তথা মুসলিম রাষ্ট্রের পরিচালকদের এ অসতর্কতার দরুন তাদের অর্থ ভাণ্ডার আজ শূন্য। গৃহীতঋণ শোধ করার তারিখ অতিক্রান্ত হয়েছে এবং ঋণ তাদের মূলধন গ্রাস করে চলেছে। এভাবে গয় তথা মুসলিম রাষ্ট্র দেউলিয়ার পর্যায়ে নেমে এসেছে। তোমরা ভালভাবেই বুঝতে পারছ, আমাদের প্ররোচনায়ই গইম তথা মুসলিম রাষ্ট্র এ ধরণের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঋণ করার অর্থই হচ্ছে দুর্বলতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব সম্পর্কিত জনগণের অভাব। গ্রীক দেবতা ডেমোকোলের তরবারীর মতই শাসকদের মাথার উপর ঋণের বোঝা ঝুলতে থাকে। শাসনকর্তা অস্থায়ী করের মাধ্যমে অল্প অল্প পরিমাণ ঋণ শোধ করার পরিবর্তে প্রসারিত হাতে আমাদের ব্যাংক মালিকদের নিকট ভিক্ষা প্রার্থী হয়। এই বিদেশী ঋণ জোঁকের মত রাষ্ট্র-দেহে বসে গইমদের তথা মুসলমানদের রক্ত শোষণ করে যায়। যতক্ষণ না এ জোঁক নিজে নিজেই সরে যায়, কিংবা রাষ্ট্র একে টেনে জোর করে দেহ থেকে আলাদা না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর শোষণ থেকে মুক্তির কোন সম্ভাবনা নেই। গয় তথা মুসলমান দেশগুলো কখনও এ জোঁককে দেহ থেকে জোর করে বিচ্ছিন্ন করতে পারে না; বরং তারা দেহের উপর আরও জোঁক বসাতে থাকে। তাই তাদের স্বেচ্ছায় রক্তদানের এ পন্থা গয় তথা মুসলমান রাষ্ট্রকে মরণের পথে ঠেলে নিয়ে যায়।
ঋণ প্রকৃতপক্ষে কি বস্তু? বিশেষ করে বিদেশী ঋণ? ঋণ হচ্ছে একটা বিনিময় সংক্রান্ত বিল। এ বিলে আসল অর্থের পরিমাণের উপর আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করার বাধ্যবাধকতা থাকে। যদি সূদের হার শতকরা ৫% হয়, তাহলে ঋণ গ্রহণকারী রাষ্ট্র ২০ বছর সময়ে নিরর্থক আসল ঋণের সমান পরিমাণ টাকা সুদ হিসাবে দিতে বাধ্য হয়। ৪০ বছরে দ্বিগুণ এবং ৬০ বছরে তিনগুণ সুদ পরিশোধ করা হয়, অথচ আসল ঋণের অংক তখনও বহাল থাকে। এ হিসাব থেকে দেখা যাবে যে, রাষ্ট্র বিদেশী ঋণ গ্রহণ করার পর ঋণদাতাদের দেনা পরিশোধ করতে গিয়ে দেশের দরিদ্র করদাতাদের কষ্টার্জিত মুদ্রার প্রতিটি পয়সা বিদেশী পুঁজিপতিদের কোষাগারে পাঠিয়ে দিচ্ছে। এমনকি, করদাতাদের দেয়া অর্থ তাদের কল্যাণে দেশের অভ্যন্তরে খরচ করাও সম্ভব হচ্ছে না। যতদিন ঋণ আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ ছিল, ততদিন গইমরা তথা মুসলমানেরা অর্থকে দরিদ্রের পকেট থেকে বের করে নিয়ে এসে ধনীদের পকেট ভর্তি করেছে মাত্র। কিন্তু আমরা যখন ঋণ গ্রহণের ব্যাপারটিকে আভ্যন্তরীণ ক্ষেত্র থেকে বহির্জগতের দিতে ঘুরিয়ে দিলাম, তখন থেকেই গইম তথা মুসলমান রাষ্টের সম্পদ নদীশ্রোতের মত বয়ে এসে আমাদের তহবিল ফাঁপিয়ে দিচ্ছে। গয় তথা মুসলমান রাজাদের রাষ্ট্র পরিচালনা সংক্রান্ত ভাসা ভাসা জ্ঞান, তাদের মন্ত্রীদের দুর্নীতিপরায়ণতা এবং শাসনকার্যে নিয়োজিত অন্যান্যদের অর্থনীতি সংক্রান্ত অজ্ঞতা গয় তথা মুসলিম দেশগুলোকে আমাদের কাছে এত বিপুল পরিমাণে ঋণী করে দিয়েছে যে, কখনও তারা তা শোধ করতে পারবে না। তাদের এ অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের যথেষ্ট অর্থও নিয়োগ করতে হয়েছে। গইমদের তথা মুসলমানদের পশু সদৃশ মগজ চিন্তাশক্তির দিক থেকে কি পরিমাণ অনুন্নত, তা তাদের ঋণ গ্রহণ নীতি থেকে পরিষ্কার বুঝা যায়। এরা আমাদের নিকট থেকে সুদী ঋণ গ্রহণ করার সময় একবার চিন্তা করেও দেখে না যে, ঋণের সবটুকু টাকা এবং এর সুদ বাবদ আরও অতিরিক্ত পরিমাণ টাকা তাদেরই পকেট থেকে বের করে আমাদের হাতে তুলে দিতে হবে। অথচ যাদের পকেট থেকে আসল টাকা ও সুদ বের করে নিয়ে এসে আমাদের শোধ করবে, তাদেরই পকেট থেকে ঋণ গ্রহণ করা কি তাদের জন্য সহজতর ছিল না?
আসল কথা হচ্ছে, খোদার মনোনীত (মূলতঃ খোদার গযবপ্রাপ্ত) জাতি হিসাবে আমরা যে প্রতিভাধর, এটা তারই প্রমাণ। ঋণের ব্যাপারটিকে আমরা তাদের কাছে এত হাল্কাভাবে পেশ করেছি যে, তারা ঋণ গ্রহণ করাটাকে তাদের জন্য কল্যাণকর মনে করেছে। এককালে যে গয় তথা মুসলিম শাসকদের আমরা উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করতাম, রাষ্ট্রীয় মেহমানদের অভ্যর্থনা, আদব-কায়দা সংরক্ষণ, খানাপিনার উৎসব-অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ব্যস্ত রেখে তাদেরকে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্র থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছি এবং পর্দার অন্তরালে আমরা আমাদেরই শাসন চালিয়েছি। রাষ্ট্রীয় হিসাবপত্র রক্ষার জিম্মাদার আমলাদের পক্ষ থেকে আমাদেরই এজেন্টগণ হিসাব তৈরী করে অদূরদর্শী গইমদের তথা মুসলমানদের বুঝিয়ে দিয়েছে যে, অদূর ভবিষ্যতে মিতব্যয়িতা ও আর্থিক উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। ….. মিতব্যয়িতা কিসের? নয়া করের? এ প্রশ্ন চিন্তাশীল ব্যক্তিগণ অবশ্যই জিজ্ঞাসা করতে পারতো। আমাদের হিসাবপত্র পাঠ করে যারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে, তাদের মগজে এসব প্রশ্ন উদয় হয়নি। তোমরা কি জানো যে, এধরণের অসাবধানতার ফলে তারা কোথায় গিয়ে পৌঁছেছে? তারা আজ ধ্বংসের সুগভীর গর্তের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে। তাদের বড়-বড় শিল্প কারখানাও ধ্বংস হয়েছে। সেগুলোর পুনঃপ্রতিষ্ঠাও আজ তাদেরকে এ অবশ্যম্ভাবী ধ্বংস থেকে রক্ষা করতে পারবে না।
এবার আভ্যন্তরীণ ঋণ সম্পর্কিত কিছু বিষয় যোগ করতে চাই। বিদেশী ঋণ সম্পর্কে আমি আর কিছু বলবো না। কারণ, এ অবস্থাই আমাদের হাতে যথেষ্ট পরিমাণে গইম তথা মুসলিমদের সম্পদ এনে দিয়েছে। শাসক শ্রেণীর দুর্নীতি পরায়ণতা ও শৈথিল্যের সুযোগ নিয়ে আমরা আমাদের অর্থ দ্বিগুণ, ত্রিগুণ তথা বহুগুণে বাড়ানোর জন্য গয় তথা মুসলিম সরকারকে বার বার ঋণ দিয়েছি-যদিও এ বিপুল ঋণের সবটুকু তাদের জন্য দরকারী ছিল না। আমাদের সঙ্গে কেউ কি এরূপ আচরণ করতে পারবে? রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয় যে, ঋণ গ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হবে এবং হুন্ডির (Bill of Exchange) মাধ্যমে চাঁদা সংগ্রহ অভিযান শুরু হবে। একথাও ঘোষণা করা হয় যে, হুন্ডিগুলোকে সরকারের ক্রয় ক্ষমতার আওতায় আনার জন্য এগুলোর দাম একশ’ থেকে এক হাজার মুদ্রা পর্যন্ত রাখা হয়েছে। সর্বাগ্রে চাঁদা দানকারীর জন্য কিছুটা বাটাও নির্ধারণ করা হয়। পরের দিন কৃত্রিম উপায়ে হুন্ডির দাম বেড়ে যায়। কারণস্বরূপ বলা হয় যে, বহুলোক একই সঙ্গে হুন্ডি কিনতে অগ্রসর হবার দরুনই এরুপ হয়েছে। তারা দাবি করে যে, অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই তাদের কোষাগার টাকায় ভর্তি হয়ে যায়। এমনকি অতিরিক্ত অর্থও হস্তগত হয়ে যায় (অতিরিক্ত ঋণটা গ্রহণ করে কেন?) তারা দাবি করে যে, সংগৃহীত চাঁদা মোট ঘোষণাকৃত ঋণের পরিমাণ থেকে ৪/৫ গুণ বেশী। তারা আরও বলে, “দেখ সরকারের হুন্ডির প্রতি জনগণের কি অগাধ আস্থা?” মিলনান্তক নাটকের এ অভিনয় শেষ হলে পর দেখা যায় যে, বিরাট একটা ঋণের বোঝা মাথায় চাপানো হয়েছে মাত্র। সুদের অঙ্ক পরিশোধ করার জন্য নতুন ঋণ গ্রহণ করতে হয় এবং এর ফলে আসল ঋণের অঙ্ক ক্রমশঃই ভারী হতে থাকে। কিন্তু এ ধরনের ঋণ গ্রহণে পথ যখন রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন নয়া কর ধার্য করা জরুরী হয়ে পড়ে। ঋণ শোধ করার জন্য নয়-সুদের অঙ্ক পরিশোধ করার জন্য। প্রকৃতপক্ষে এভাবে ধার্যকৃত করও এক প্রকার ঋণ ছাড়া কিছুই নয়। এ ঋণের সাহায্যে অপর ঋণকে চাপা দেয়া হয় মাত্র। তারপর এ ঋণকে অন্য ধরনের ঋণে পরিবর্তন করার সময় এসে হাজির হয়। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতারা আসল ঋণশোধের পরিবর্তে সুদের হার কমিয়ে নতুন ধরনের ঋণ গ্রহণ করে। কিন্তু ঋণদাতাদের সম্মতি ছাড়া তা করা যায় না। তাই পরিবর্তিত হারে ঋণ জারির প্রস্তাব ঘোষণা করা হয়। এবং যারা এতে অসম্মত, তাদের অর্থ ফেরত গ্রহণের ঘোষণাও করা হয়। অথচ ঋণ-দাতাগণ তাদের ঋণপত্র পরিবর্তন করতে চায় না। সকলে যদি ঋণ পরিবর্তনের অনিচ্ছা প্রকাশ করে এবং এক সঙ্গে তাদের টাকা দাবি করে বসে , তাহলে সরকার নিজের ফাঁদে নিজেই আটকা পড়বে, অর্থাৎ ঋণশোধ করতে অসমর্থ হবে। সৌভাগ্যবশতঃ গয় তথা মুসলিম সরকারের প্রজাগণ এসব বিষয় অবগত থাকার দরুন সব সময়ই হুন্ডির ব্যাপারে ক্ষতি স্বীকার করে এবং সুদের হার পরিবর্তন করতে রাজী হয়ে যায়। এভাবে তারা বহুবার গয় তথা মুসিলম সরকারগুলোকে বিপুল পরিমাণ ঋণ থেকে রেহাই প্রাপ্তির সুযোগ করে দেয়। অবশ্য বিদেশী ঋণের সঙ্গে গইম তথা মুসলিম সরকারের এসব চালবাজী চলে না। কারণ তারা জানে যে, আমরা আমাদের সকল টাকাই ফেরত দাবি করবো। এভাবে বিভিন্ন দেশে অনিবার্যরূপে দেউলিয়াপনা নেমে আসে এবং সে দেশের সরকার ও জনসাধারণের স্বার্থ পরস্পর বিপরীতমুখী হয়ে যায়। আমি অনুরোধ করছি, আলোচ্য বিষয়টির প্রতি পূর্ণ মনোযোগদান কর এবং জেনে রাখ, বর্তমানের সকল প্রকার আভ্যন্তরীণ ঋণ তথাকথিত ভাসমান ঋণের দ্বারা পুঞ্জীভূত হয়। ভাসমান ঋণ শোধ করার মেয়াদ নিকটবর্তী থাকে। সেভিংস ব্যাংক ও রিজার্ভ ফান্ডের অর্থ থেকেই এ ঋণ গ্রহণ করা হয়। সরকারের হাতে এ তহবিল অটুট থাকে না, বরং দীর্ঘকাল থাকার ফলে বিদেশী ঋণের সুদ আদায় করে এ অর্থ ফুরিয়ে যায়। তারপর অন্য তহবিল থেকে পুনরায় সমপরিমাণ অর্থ এনে এটা পূরণ করতে হয়।
আমরা যখন বিশ্বের সিংহাসনে আরোহণ করবো, তখন যে সকল অর্থনৈতিক রীতিনীতি আমাদের স্বার্থের প্রতিকূল, সেগুলোকে এমনভাবে মুছে ফেলবো যে, তার চিহ্নমাত্র খুঁজে পাওয়া যাবেনা। আমরা মুদ্রার বাজারও বন্ধ করে দেব। কেননা, আমরা যে মূল্যমান নির্ধারণ করবো, তা অগ্রাহ্য করে দাম কম-বেশী করে আমাদের মর্যাদায় আঘাত করার সুযোগ কেউ পাবে না। আমরা দ্রব্যের প্রকৃত মূল্য মোতাবেক দর বেঁধে দেবো। এরপর তাতে দাম আর কম-বেশী হতে পারবে না। (দাম বেশী করার সুযোগ দিলে কমাবারও সুযোগ দিতে হয়। অবশ্য গইম তথা মুসলিমদের সমাজে আমরাই দ্রব্যমূল্য কম-বেশী করিয়েছি।)
মুদ্রার বাজার বন্ধ করে সরকারী পৃষ্ঠপোষকতায় আমরা বৃহদাকারে ঋণদান সংস্থা কায়েম করবো। এ সংস্থা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গী মুতাবেক শিল্প দ্রব্যের মূল্য নির্ধারন করবে। আমাদের প্রতিষ্ঠিত এসব সংস্থা ইচ্ছা করলে বাজারে একসঙ্গে ৫০ কোটি ডলার মূল্যের শিল্প ঋণ ছেড়ে দিতে পারবে। আবার একই সংগে সমমূল্যের ঋণপত্র খরিদ করার সামর্থও তার থাকবে। তাই সকল শিল্প প্রতিষ্ঠান আমাদের উপর পরিপূর্ণরূপে নির্ভরশীল হবে। এসব পন্থা অবলম্বন করে আমরা যে কত বিপুল শক্তির অধিকারী হবো, তা তোমরা একবার কল্পনা করে দেখতে পার …..। এ পর্যন্ত আমি তোমাদের যা বলেছি, তার মাধ্যমে সতর্কতার সঙ্গে তোমাদের বুঝানোর চেষ্টা করেছি-ভবিষ্যতে কি হতে যাচ্ছে; অতীতে কি কি হয়েছে এবং বর্তমানে কি হচ্ছে। এসবই অতি গোপনীয় তথ্য। অদূর ভবিষ্যতে কি কি ঘটতে যাচ্ছে এবং গইম তথা মুসলিম সমাজ ও অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে আমাদের গোপন যোগাযোগ সম্পর্কেও তোমাদের অবহিত করেছি। এ বিষয়ে আমার আরও সামান্য কিছু বক্তব্য রয়েছে। বর্তমান যুগের সব চাইতে শক্তিশালী হাতিয়ার স্বর্ণ আজ আমাদেরই হাতে।
আমরা ইচ্ছা করলেই আমাদের গুদাম থেকে মাত্র দু’দিনের মধ্যে যে কোন পরিমাণ স্বর্ণ সংগ্রহ করে দিতে পারি। তাই আমরা বিপুল সম্পদের দ¦ারা এটা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হবো না যে, অতীতে বহু শতাব্দী ধরে আমরা যেসব অপকর্ম করে এসেছি, তার ফলেই ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে চলেছে। অপকর্মের ভেতর দিয়েই সব কিছু সুশৃংখল করা সম্ভব হতে যাচ্ছে। যদি এ জন্য আমাদের হিংসাত্মক পন্থাও অবলম্বন করতে হয়, তবু চিন্তা নেই।”
উল্লেখ্য, ইহুদী প্রটোকলে বিবৃত মুসলিম দেশগুলোকে ঋণদানের পেছনে আসল কুট উদ্দেশ্য কতটা কার্যকর এবং মুসলিম দেশসমূহের জন্য কতটা ক্ষতিকর হয়েছে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করলে নিম্নরূপ তথ্য পাওয়া যায়- বিগত তিন দশকে ১,৮০,০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ সাহায্য শতকরা ৭৫ ভাগই লুটপাট অপচয় ১৯৭১-৯৯, এই তিন দশকে বাংলাদেশে সরকারী হিসাব মতে বৈদেশিক সাহায্য এসেছে ১,৮০,০০০ কোটি টাকা। এর বাইরে গত এক দশকে বেসরকারী পর্যায়ে আরো ৭, ৫৬৭ কোটি টাকার বৈদেশিক সাহায্য এসেছে। ১৯৭৩-৭৪ সালে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ছিল ৬.৬ ডলার। ১৯৯৮-৯৯ সালে এই অঙ্ক বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ ডলারে। মাথাপিছু ঋণভার বৃদ্ধি পায় প্রায় ১৮ গুণ। ১৯৭১-৭২ অর্থ বছরে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্যের পরিমাণ ছিলো ২৭ কোটি ডলার। ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে ৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১৫৪ কোটি ডলারে। বিপুল অঙ্কের ঋণভার মাথায় নিয়ে বাংলাদেশ দারিদ্র্যসীমার তলানী থেকে সামান্যতম উপরেও উঠে আসতে পারেনি।
এমনকি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে জনকল্যাণকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। বরং বিভিন্ন সাহায্য ও প্রকল্পের নামে আনা এই পাহাড়সম ঋণবোঝা দেশী ও বিদেশী সুনির্দিষ্ট স্বার্থগোষ্ঠীর ঋণস্ফীতি হিসেবে কাজ করেছে। একই সাথে বৈদেশিক সাহায্য সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও রাজনীতি দুর্বৃত্তায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবুল বারাকাতের ‘বাংলাদেশে বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য কতখানি প্রয়োজনঃ গত তিন দশকের অভিজ্ঞতার পলিটিক্যাল ইকনমি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ সম্পর্কিত স্বচ্ছ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখানো হয়, যাদের নাম করে এসব বৈদেশিক ঋণ ও সাহায্য এসেছে তাদের হাত পর্যন্ত পৌঁছেছে মাত্র ২৫ ভাগ। অবশিষ্ট ৭৫ ভাগ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় লুটপাট হয়েছে বিদেশী গোষ্ঠী, দেশীয় আমলা, নীতিনির্ধারক, রাজনীতিবিদ, কমিশন এজেন্ট, পরামর্শক, ঠিকাদার ও শহর-গ্রামের উচ্চবিত্তদের হাতে। বৈদেশিক ঋণ সাহায্যে লুটপাট প্রক্রিয়া ক্রমান্বয়ে অর্থনীতিকে দুর্বৃত্তায়িত করেছে। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন স্থায়ীকরণে রাজনীতিকেও দুর্বৃত্তায়িত হতে হয়েছে। বিআইডিএস’র গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের উচ্চ আয়ের মানুষের চলতি ভোগ বাজেটের ৪০ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল।
অন্যদিকে গ্রামীণ দরিদ্রতম পরিবারের ক্ষেত্রে এই নির্ভরশীলতা মাত্র ১৪ শতাংশ। গত ত্রিশ বছরে পাওয়া ১,৮০,০০০ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ সাহায্যের সুবিধাভোগী শ্রেণীর সন্ধানে উল্লেখিত রিপোর্টে বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে মন্তব্য করা হয়, বৈদেশিক ঋণ সাহায্যের প্রবাহ আমাদের দেশে আয়ের অসম বন্টন নির্বিঘœ করেছে। একই সাথে বিপুল অর্থ ও সম্পদ পুঞ্জীভূত হয়েছে দেশী ও বিদেশী কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে। মোট ঋণ সাহায্যের ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫,০০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বিদেশী পরামর্শক, যন্ত্রপাতি সরবরাহকারী ও তাদের এজেন্টরা। দেশীয় আমলা, রাজনীতিবিদ, কমিশন এজেন্ট, পরামর্শক, ঠিকাদার, সরবরাহকারী ইত্যাদি শ্রেণী লুটপাট করেছে মোট ঋণ সাহায্যের ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ৫৪,০০০ কোটি টাকা। দেশের শহুরে ও গ্রামীণ ধনী ব্যক্তিরা (উচ্চ মধ্যবিত্ত শ্রেণীসহ) পেয়েছে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ৩৬,০০০ কোটি টাকা। যাদের নাম করে এসব সাহায্য এসেছে, গ্রামীণ সেই শ্রমজীবী মানুষ পেয়েছে অবশিষ্ট ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ৪৫,০০০ কোটি টাকা। বিষয়টা দাঁড়াচ্ছে, ঋণ ও সাহায্যের নামে গত তিন দশকে ৪৫,০০০ কোটি টাকা ব্যয় করে ১,৩৫,০০০ কোটি টাকার সমপরিমাণ ঋণস্ফীতির একটি সংগঠিত উপায় সৃর্ষ্টি করা হয়েছে। বাংলাদেশের অবহেলিত মানুষের নামে আসা এসব ঋণ সাহায্যদাতাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত হয়ে থাকে। এ সম্পর্কিত কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্যও জানা গেছে। (১) ১৯৭৪ সালের ২৯ মে মাত্র ৫৬ হাজার টন মজুদ খাদ্যশস্য নিয়ে বাংলাদেশ যখন বন্যার আশঙ্কা করছিলো ঠিক তখনই এদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড বোস্টার তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিউবায় চটের বস্তা বিক্রি বন্ধ করার জন্য চাপ দেন। সেই চাপের মুখে লিখিত আশ্বাস প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ আরো অন্যসব চাপের কাছে নতিস্বীকার করে। (২) ১৯৮৫-৮৬ সালে বাংলাদেশে সাহায্য প্রদানের যৌক্তিকতা সম্পর্কে আমেরিকার এক দলীলে উল্লেখ করা হয় মার্কিন সরকার বাংলাদেশের সাথে তার সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং বাংলাদেশে মার্কিন সাহায্যের অনুপস্থিতিতে ১৯৭১ সালের মতো রাজনৈতিক বিক্ষোভ ডেকে আনতে পারে, যা এশিয়ার আঞ্চলিক সম্পর্ককে প্রভাবিত করে বৃহত্তর মার্কিন স্বার্থের অভাবনীয় ক্ষতির কারণ হতে পারে। বৈদেশিক ঋণ সাহায্যের চুক্তিপত্রে এমন সব শর্তের উল্লেখ থাকে যা একদিকে যেমন দাতাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির স্পষ্ট লক্ষ্য নির্দেশ করে তেমনি এই সাহায্যবেষ্টিত অর্থনীতি আদৌ স্বাধীন সার্বভৌম কি-না এ প্রশ্নও তুলে আনে। এসব চুক্তিপত্র কখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না বলে উল্লেখিত বিষয় সম্পর্কে জানার কোনো সুযোগও থাকেনা। বলাবাহুল্য, এসবকিছুই সেই হহুদী প্রটোকলেরই প্রতিফলন। কিন্তু তারপরেও দুঃখজনক হলেও সত্য যে, কেবলমাত্র রাজারবাগ শরীফ ব্যতীত অন্য কোন মহল থেকে তাদের বিরুদ্ধে উচ্চবিত্ত আওয়াজ তোলা হয়না।
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলমগীর, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে