“আপনি সব মানুষের চাইতে মুসলমানদের অধিক শত্রুরূপে ইহুদী ও মুশরিকদের পাবেন।” (সূরা মায়িদার ৯২ নং আয়াত শরীফই ইহুদীদের পরিচয় সম্পর্কে যথেষ্ট। কিন্তু চরম পরিতাপের বিষয় যে, মুসলমান নিজেদের ভীষন সে শত্রু সম্পর্কে বড়ই বেখবর, অচেতন। আর মুসলমানদের সে নিলির্প্ততার সুযোগ নিয়ে ইহুদীরা একের পর এক তাদের গভীর ষড়যন্ত্র সফল করে যাচ্ছে। যদি ঐতিহাসিকভাবে নিরীক্ষণ করা হয় তাহলে দেখা যাবে আজকের মুসলিম সমাজে গড়ে উঠা চলমান রীতির মধ্যে অনেকাংশের মূলেই ছিল ইহুদীরা। এগুলো তারা কখনও মার্কিনী কখনও বৃটিশদের দ্বারা করিয়েছে।
প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য, ভারত উপমহাদেশে ওকালতি ব্যবস্থা প্রনয়ন করে ইহুদীরা। কিন্তু ইহুদীরা নিজেরাই জানে যে এ ব্যবস্থা কতটা অথর্ব ও সমস্যাসঙ্কুল। তদুপরি মুসলিম রাষ্ট্রের ধর্ম প্রতিষ্ঠান, পুলিশ। সংবাদ মাধ্যম সব কিছুতেই ইহুদীরা ওদের নীল নকশা বিছিয়ে রেখেছে। যার গোপন স্বীকৃতি রয়েছে ওদের প্রটোকলে। এসম্পর্কে ১৯০৫ সালে ফাঁস হয়ে যাওয়া ইহুদীদের ষড়যন্ত্রমূলক বই প্রটোকলে যা লিখিত রয়েছে এ লেখায় তা তুলে ধরা হলো- “ওকালতি পেশা মানুষকে নির্জীব, নিষ্ঠুর, নাছোড়বান্দা ও নীতিবিচ্যূত করে দেয়। তারা প্রতিটি ব্যাপারেই ব্যক্তিগত ভালমন্দের প্রশ্ন বাদ দিয়ে নিছক আইনগত (মানব রচিত আইন) দৃষ্টিভংগী অবলম্বন করে। তারা বদ্ধমূল অভ্যাস মোতাবেক প্রতিটি বিষয়েই প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত মূল্য যাচাই করে এবং ফলাফল ও জনকল্যাণের প্রতি কোন গুরুত্ব আরোপ করে না। তারা যে কোন পক্ষ সমর্থন করতে কখনও অস্বীকার করে না, বরং আইনের সূক্ষ্মতম ফাঁক তালাশ করে বিচার শক্তিকে দুর্বল করে দেয় এবং অভিযুক্তদের নির্দোষী সাব্যস্ত করার জন্য সর্বশক্তি প্রয়োগ করাই তাদের লক্ষ্য। এজন্যই আমরা এ পেশাটিকে এমন পরিসরে সীমিত করে দেবো, যেন ঐ নির্দিষ্ট গণ্ডিতেই তাদের তৎপরতা সীমাবদ্ধ থাকে। উকিলগণ বিচারকদের মতই মামলায় জড়িত পক্ষদ্বয়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। তারা আদালত গৃহেই মামলা গ্রহণ করবে এবং কাগজ-পত্র দেখে ও আদালত গৃহে মোয়াক্কেলদের পত্র দেখে প্রশ্নাদি জিজ্ঞাসা করে পক্ষ সমর্থনের যুক্তি ঠিক করবে। মামলার আকার-প্রকার নির্বিশেষে তাদের একটা পারিশ্রমিক দেয়া হবে। মুসলিম ধর্মগুরুদের বদনাম করে ধরা-পৃষ্ঠে তাদের মতবাদকে অচল করে দেয়ার জন্য আমরা প্রাচীনকাল থেকেই চেষ্টা করে আসছি। নতুবা তারা আমাদের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারতো। এখন অবস্থা এই যে, পৃথিবীর মানব সমাজে হক্ব আলিমদের প্রভাব প্রতিদিনই কমে আসছে। সর্বত্রই স্বাধীন চিন্তাধারার দাবি উঠেছে। এর ফলে ইসলাম ধর্মকে নাস্তা-নাবুদ করা আমাদের জন্য আরও সহজ হবে। তবে এ বিষয়ে এক্ষুণি কিছু বলা সময়োচিত হবে না। হক্ব আলিমদের কর্মক্ষেত্রকে আমরা এমন সংকীর্ণ করে দেবো যে, তাদের প্রভাব দিন দিন হ্রাস পেতেই থাকবে। পোপীয় আদালতকে উচ্ছেদ করার সময় যখন আসবে, তখন একটি অদৃশ্য হাত পৃথিবীর জাতিগুলোকে আঙ্গুলের ইশারায় এ আদালতটি দেখিয়ে দেবে। আর সঙ্গে সঙ্গে জাতিগুলো এর উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আমরা তখন রক্ষাকর্তার ছদ্মবেশে এগিয়ে আসবো। মানুষ মনে করবে, অতিরিক্ত রক্তপাত বন্ধ করার জন্যই আমরা এগিয়ে এসেছি। এতে লাভ হবে এই যে, আমরা বিশ্বস্ততার সুযোগে এদের পাকস্থলীর ভেতরে ঢুকে পড়বো এবং পাকস্থলীর আভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অকেজো করে দেয়ার পর বের হয়ে আসবো- তার আগে নয়। ইহুদী বাদশাহ্ই প্রকৃত পোপ এবং আন্তর্জাতিক গীর্জার পুরোহিত কুল পতি হবেন। কিন্তু এদিকে গতানুগতিক ধার্মিকতা সম্পর্কে আমরা নব্য সমাজকে শিক্ষাদান করবো এবং পরবর্তীকালে তাদের ইহুদী ধর্মে দীক্ষিত করবো। একাজ সাফল্যজনকভাবে করতে হলে আমরা কখনও প্রতিষ্ঠিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় আলিমের উপর সরাসরি হস্তক্ষেপ করবো না, বরং আমরা ধর্ম ও সমালোচনার একটা অভিযান পরিচালনা করে নব্য সমাজকে ধর্ম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্ন করে তুলবো।
তারপর আমাদের সংবাদপত্রগুলো সাধারণভাবে রাষ্ট্র সম্পর্কিত কার্যকলাপ, ধর্ম এবং ধর্মীয় আলিমদের অযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয়ে সমালোচনা চালিয়ে যাবে। আর এসব সমালোচনা এমন কায়দায় চালানো হবে, যার ফলে মুসলমানদের মর্যাদা দিন দিন খাঁটো হতেই থাকবে। এসব কাজ সুপরিকল্পিতভাবে করা একমাত্র আমাদের জাতির পক্ষেই সম্ভব। আমাদের (ইহুদীদের) নিজেদের ধর্মরাজ্য বিষ্ণুদেবের ঐশ্বরিক রাজ্যেরই নমুনা পেশ করবে। এ রাষ্ট্রের একশো’টি হাতের প্রতিটিতে সমাজ-যন্ত্রের এক একটি সূত্র থাকবে। আমরা সরকারী পুলিশ বাহিনীর সহায়তা ছাড়াই সকল বিষয় অবলোকন করতে পারবো। আর আমরা অ-ইহুদী তথা মুসলিম রাষ্ট্রে পুলিশদের যেসব কর্তব্য নির্ধারণ করে দিয়েছি, তার ফলে অ-ইহুদী শাসকগণ রাষ্ট্রীয় ব্যাপার সম্পর্কে সরাসরি কোন তথ্য অবগত হতে পারবে না। আমরা উচ্চ ও নিম্ন-সকল শ্রেণীর লোকদের মধ্য থেকে আমাদের এজেন্ট বাছাই করে নেবো। এদের মধ্যে শাসন বিভাগের লোক তো থাকবে। যারা সাধারণতঃ আমোদ-স্ফুর্তিতে দিন কাটায়। এছাড়া সংবাদপত্র সম্পাদক, মুদ্রাকর ও প্রকাশক, পুস্তক বিক্রেতা, কেরানী, দোকানদার, শ্রমিক, কোচম্যান (Coachman) ইত্যাদি সকল ধরণের লোকই আমাদের এজেন্ট বাহিনীতে শামিল থাকবে। এ বাহিনীটি হবে সম্পূর্ণরূপে কর্তৃত্বহীন। স্বীয় ক্ষমতাবলে এ দলের এজেন্টগণ কারও বিরুদ্ধে কোন কিছু করার অধিকারী হবে না। একে কর্তৃত্ববিহীন পুলিশ বাহিনীও বলা চলে। এদের কাজ হবে দেখা এবং যথাস্থানে রিপোর্ট (Report) পৌঁছিয়ে দেয়া। বর্তমান সময়ে অবশ্য আমাদেরই অতি-মানবীয় দক্ষতার ফলে অ-ইহুদী তথা মুসলিম সমাজে এসব দুর্নীতি চালু রয়েছে। …… এছাড়া অ-ইহুদীদের প্রতিষ্ঠিত শাসন ব্যবস্থায় ভাঙন ও বিশৃংখলাকে পুনরায় সংশোধন করা এবং আমাদের রাজাকে অ-ইহুদী সমাজে প্রচলিত যাবতীয় দুর্বলতা থেকে মুক্ত রাখার জন্য এজেন্ট বাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
-সাইয়্যিদ মুহম্মদ আলমগীর, ঢাকা।
ইলমে আকলিয়ার দৈন্য এবং বিলায়েতের অনুপস্থিতির কারণে প্রকৃত আলিমে দ্বীন তৈরি হচ্ছে না।
একই অঙ্গে বহু রূপে সজ্জিত স,আ, ত, ম আলাউদ্দিনের বিকৃত রুচি সম্পন্ন লিখার প্রতিবাদে