আউয়াল ও আখিরের মালিক মহান আল্লাহ্ পাক-এর জন্যই সকল ছানা সিফত। সমগ্র সৃষ্টির মূল লক্ষ্যস্থল- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জন্যই সব ছালাত ও সালাম। পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত চারটা হারাম বা সম্মাণীত মাসের মধ্যে অন্যতম আলাদা মাস হলো রজব। রজব বহুবিধ ফযীলত ও বরকতপূর্ণ মাস। এর প্রথম রাত দোয়া কবুলের রাত, যা শব-ই-বরাত, শব-ই-ক্বদরের বা দু’ঈদের রাতের সমপর্যায়। অপরদিকে এ মাসের প্রথম শুক্রবার ‘লাইলাতুর রাগায়িব’রূপে বিশেষ মর্যাদাবান। এ রাতেই সরওয়ারে কায়েনাত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর আব্বার পৃষ্ঠ মুবারক থেকে আম্মার রেহেম শরীফে তাশ্রীফ নিয়েছিলেন বিধায় তা মর্যাদাপূর্ণ সকল রাতের চেয়ে সমধিক মর্যাদাবান বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর যে আশ্চর্য্যজনক ঘটনা রজব মাসের তাৎপর্য ও গুরুত্বকে বহুগুণ বৃদ্ধি করেছে, তা হচ্ছে মি’রাজ শরীফ। মি’রাজের শব্দগত অর্থ হচ্ছে- উর্ধ্বারোহন। উল্লেখ্য, মি’রাজ একটি কুদরতী ঘটনা; যা স্বশরীরেই হয়েছিল। যে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ পাক নিজেই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে বলেছেন, “তারই পবিত্রতা, যিনি বান্দাকে রাতের সফর করালেন।” জানা গিয়েছে, পৃথিবীর নিকটতম নক্ষত্রটিও চার আলোকবর্ষ দূরে। আর মহাকাশ যানে আলোর গতি সঞ্চার করতে পারা নিতান্তই অসম্ভব ব্যাপার। যদিও বা তা সম্ভব হয়, তবে আইনষ্টাইনের তত্ত্ব অনুযায়ী সেই মহাকাশ যানটি যেমাত্র আলোর গতি পাবে, তখনই সে পরিণত হবে শক্তিতে, সে আর বস্তুতে থাকবেনা। আর মানুষের শরীরও সেই গতিবেগ সহ্য করার যোগ্য নয় আদৌ। কাজেই মি’রাজ শরীফ সম্পূর্ণই আল্লাহ্ পাক-এর কুদরত ও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মু’জিযার অন্তর্ভুক্ত।বলা আবশ্যক, মি’রাজ শরীফে যেসব অনন্য নিয়ামত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লাভ করেছেন, তাতে অংশীদার করেছেন স্বীয় উম্মতকেও। সালাতই এর মূল সওগাত। তবে সালাতের সওগাত আহরণে দরকার ক্বল্বে সালীম। মূলতঃ ওলী আল্লাহ্গণই এ ‘ক্বাল্বে সালীম’ নিজে বহন করেন এবং আম মানুষের মৃত ক্বাল্বকেও ক্বাল্বে সালীমে পরিণত করতে সক্ষম থাকেন। এর প্রকৃষ্ট প্রমাণ হচ্ছে- ওলী আল্লাহ্গণের ধারাবাহিকতায় ভূবনব্যাপী সুবিদিত, ভারত উপমহাদেশে মুসলিম সাম্রাজ্য এবং মকবুল ও বরকতপূর্ণ চিশ্তীয়া তরীক্বার প্রতিষ্ঠাতা, কুতুবুল মাশায়িখ, সুলতানুল হিন্দ, খাজায়ে খাজেগাঁ, গরীবে নেওয়াজ, হাবীবুল্লাহ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি। বর্ণিত রয়েছে যে, এক কোটিরও বেশী বিধর্মী তাঁর উছীলায় মুসলমান হয়। অসংখ্য, অগণিত লোক ওলী আল্লাহ্ হন এবং তাঁরাও হিদায়েতের কাজ চালান। মুলতঃ তিনি ছিলেন, আল্লাহ্ পাক-এর লক্ষ্যস্থল ওলী আল্লাহ্। তাই ইন্তিকালের পর মুহূর্তে তাঁর কপাল মুবারকে সোনালী অক্ষরে ভেসে উঠেছিল- “হাজা হাবীবুল্লাহ্ মাতা ফী হুব্বিল্লাহ্।” অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব, আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বতে ইন্তিকাল করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় সাতানব্বই বৎসর মুবারক হায়াতে থাকার পর ৬৩৩ হিঃ মতান্তরে ৬৩৪হিঃ ৬ই রজব সোমবার তিনি ইন্তিকাল করেন। উল্লেখ্য, বর্তমানে দেশের অনেক স্থানে অনেকে শামছূল আরেফীন, রৌশন জামীর, পীরে পীরান, হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী আজমিরী সানজিরী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর নামে অনেক স্থানে ওরশের আয়োজন করে থাকে। সেখানে-নেশা সেবন, গান-বাজনা, বেপর্দা-বেশরা, বিবিধ হারাম কাজের সমাহার হয়। অথচ খাজা ছাহেব রহমতুল্লাহি আলাইহি যা জীবনে কখনো করেননি এবং যা বিলকুল হারাম; কিন্তু তা সত্ত্বেও গোমরাহ্রা তাতেই মেতে আছে এবং তাদের অনুসারীরা তাই হক্ব মনে করছে। আবার কেবল এটাই নয়, অন্যক্ষেত্রেও অনেক নামধারী নাহক্ব হাদী ছাহেব, পীর ছাহেব, শায়খুল হাদীস মুফাস্সীর, মুফতী রয়েছে, যাদেরকে তাদের অজ্ঞ অনুসারীরা হক্ব বলে মনে করে, বড় বলে জানে। কিন্তু তারাই যখন ছবি তোলা, মৌলবাদ সমর্থন, হরতাল, লংমার্চ, ব্লাসফেমী, নির্বাচন ও গণতন্ত্র চর্চাসহ বিবিধ হারাম কাজ করে, তখন তাদেরকে কি করে হক্ব মনে করা যায়, সেটা কি তাদের অন্ধ অনুসারীদের ভেবে দেখা উচিত নয়? হাদীস শরীফে এদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, “আমার পরে কতগুলো হবে, তারা আমার সত্য পথে চলবেনা এবং আমার রীতি-পদ্ধতি অবলম্বন করবেনা। অচিরে তাদের মধ্যে কতগুলো লোক হবে, তারা মানব আকৃতিতে শয়তানের অন্তর বিশিষ্ট হবে।” (মুসলিম শরীফ)
উল্লেখ্য, এসব লোকেরা নিজেরা তো হক্ব পথে নেই-ই উপরন্তু যারা হক্ব পথে চলে, পূর্ণভাবে কুরআন-হাদীস অনুযায়ী চলে তাদের বিরোধীতা করে, তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। এদিকেই ইঙ্গিত করে মাহবুবে সোবহানী, কুতুবে রব্বানী, সুলতানুল হিন্দ হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন চিশ্তী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর লিখিত ‘আনিসুল আরওয়াহ’ কিতাবে একটি হাদীস-এর উদ্ধৃতি আছে যে, “আখিরী যামানায় লোকজন মুনাফিকদের আলিম আর আলিমকে মুনাফিক বলবে।” তাই সঙ্গতঃ কারণেই প্রচারমুখী নামধারী আলিমদের বিপরীতে আমাদের মূল্যায়ন করতে হবে যে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক, ইমামুল আইম্মা, মুহ্ইস্ সুন্নাহ্, কুতুবুল আলম, আওলার্দু রসূল, হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী, সপ্তম হিজরী শতাব্দীর সুলতানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়েখ, হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ন্যায় বর্তমান যামানার আল্লাহ্ পাক-এর লক্ষ্যস্থল ওলী আল্লাহ্। হিদায়েতের নূর সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে যিনি সদা প্রচেষ্ট এবং বেমেছালভাবে নিবেদিত। তাঁর ইল্মে লাদুন্নীর সমৃদ্ধির ছোয়ায়, রূহানী ফয়েজ ও বরকতে, বিদ্য়াতের নিমূলীকরণ, উলামায়ে ‘ছু’দের মুখোশ উদঘাটন এবং সুন্নতের পুনঃ প্রচলনের প্রত্যয় নিয়ে আল্লাহ্ পাক-এর রহ্মতে মাসিক আল বাইয়্যিনাতের প্রতিটি সংখ্যা বের হয়, এটিই আমাদের পরম পাওয়া। মূলতঃ বাইয়্যিনাতের অনুসারীদের জন্যই কামিয়াবী। বাকীদের জন্য লাঞ্ছনা আর গঞ্জনা। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ্ পাক বলেন, “তাদের মত হয়োনা, যারা প্রকৃষ্ট প্রমাণাদি (বাইয়্যিনাত) আসার পর পরস্পর মতবিরোধ করে এবং পৃথক হয়ে যায়। তাদের জন্য রয়েছে, ভয়ঙ্কর আযাব।” (সূরা আল ইমরান/১৩৫)