সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ১০৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

            সব প্রশংসা মহান আল্লাহ্ পাক-এর জন্য। যিনি শুধুমাত্র তাঁর ইবাদত করার জন্যই মানুষকে সৃষ্টি করেছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম। যিনি উম্মতকে কুরআন ও হিকমত শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাযকিয়ার পথ প্রদর্শন করেছেন।

            আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান, “নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তা স্রষ্টা, সর্বজ্ঞ। আমি আপনাকে সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত এবং মহান কুরআন দিয়েছি।” (সূরা হিজর/৮৬,৮৭)

            সাতটি বার বার পঠিতব্য আয়াত বলতে এখানে সূরা ফাতিহাকেই উদ্দিষ্ট করা হয়েছে। যাকে উম্মুল কুরআন বা কুরআন শরীফের মাতা বলা হয়। উল্লেখ্য, প্রত্যেক মুসলমানকে এই সাতটি আয়াত তথা সূরা ফাতিহা দৈনন্দিন ছলাতে কমপক্ষে বত্রিশ বার পাঠ করতে হয়। সকলেই অবগত যে এই সূরা ফাতিহা পাঠে আমরা মহান আল্লাহ্ পাক-এর কাছে সিরাতুল মুস্তাকীম বা সত্য পথ চেয়ে থাকি। যে পথ নবী-রসূল এবং আউলিয়া-ই-কিরামের পথ। পক্ষান্তরে আমরা পানাহ্ চেয়ে থাকি গযব প্রাপ্তদের পথ বা ইহুদী-খ্রীষ্টানের পথ থেকে।           মূলতঃ পথ বলতে এখানে খুব সহজভাবেই যা বোঝানো হয়েছে তা হচ্ছে ইহুদী-খ্রীষ্টান তথা বিধর্মীদের নিয়ম-পদ্ধতি বা সংস্কৃতি।          স্মরণ রাখা আবশ্যক যে, বিধর্মীরা মুশরিক। কুফরী বিশ্বাস ধারণ করার কারণে তাদের জীবন দর্শনই তাই মুসলমানদের থেকে আলাদা তথা ভোগবাদী। এই ভোগবাদী মনোভাবই তাদের লিপ্ত করে খেলাধূলা-নাচগান বা যথেচ্ছাচারী জীবন যাপনে। আর বিধর্মীদের এরূপ জীবন যাপন থেকেই আমরা প্রতিদিন কমপক্ষে বত্রিশবার আল্লাহ্ পাক-এর কাছে পানাহ্ চেয়ে থাকি।

            সুতরাং বিধর্মীরা যে নিয়মের প্রচলন করে এবং যা কিছুতে মত্ত থাকে তাতে মশগুল হওয়া মুসলমানদের আদৌ উচিৎ নয়।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান চিত্র তার ভিন্নরূপ। সম্প্রতি বিশ্বকাপ ফুটবলের নামে মুসলমান, অমুসলমান সব যেন একাকার হয়ে গেছে। পত্রিকার ভাষায়-সব বিশ্বকাপ ফুটবল জ্বরে ভুগছে।

অথচ এই ফুটবলের ইতিহাস কি বলে? ফুটবল খেলার আদি নাম সু-চু ( Tsu Chu)। আজ হতে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে চীনে এ খেলার প্রচলন ছিলো। ‘সু’ অর্থ বলকে পা দিয়ে লাথি মারা এবং ‘চু’ অর্থ চামড়া দিয়ে তৈরী বল। রাজা উইলিয়াম হেস্টিংস ১০৬৬ সালে ইংল্যান্ডে খেলাটির প্রচলন করে। শিল্প বিপ্লবের জোয়ার শুরু হওয়ার পর ফুটবলের বর্তমান যুগের সূচনা হয়। ১৮৫৫ সালে ইংল্যান্ডে শেফিল্ড ইউনাইটেড নামে প্রথম ফুটবল ক্লাব গড়ে উঠে। ১৮৭২ সালে স্কটল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৪ সালে ফিফা গঠিত হয়। ফিফার বর্তমান সদস্য দেশ ২০৪টি। ফিফার স্বপ্নদ্রষ্টা দু’জন ফরাসি ব্যক্তিত্ব- হেনরি ডেলনে ও জুলে রিমে। ১৯৩০ সালে উরুগুয়েতে প্রথম বিশ্বকাপ ফুটবল অনুষ্ঠিত হয়। টেলিভিশনে ১৯৫৪ সালে প্রথম বিশ্বকাপ দেখানো হয়।

  অতএব, প্রতিভাত হয় যে ফুটবল তথা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রচলন হয়েছে ইহুদী-খৃষ্টানের দ্বারা, যাদের পথ থেকে মুসলমান দিনে কমপক্ষে বত্রিশবার আল্লাহ্ পাক-এর কাছে পানাহ্ চেয়ে থাকে।

 উল্লেখ্য, ফিফার হিসেব অনুযায়ী এবার বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ৩২টি দেশ। তন্মধ্যে মুসলিম দেশ ৬টি। এবারের বিশ্বকাপে, ৬৪টি ম্যাচের মোট দর্শক হয়েছে চার হাজার কোটি।

  বিশ্বকাপ ফুটবলকে ‘গ্রেটেষ্ট ইভেন্ট অন আর্থ’ আখ্যা দেয়া হয়। এর দ্বারা আন্তর্জাতিক চেতনাবোধের উন্মেষের কথা বলা হয়। এর দ্বারা যুদ্ধ প্রশমনের কথাও প্রচার করা হয়। উদাহরণ হিসেবে, ১৯৯০ সালে লেবাননের গৃহযুদ্ধ সাময়িক বিরতির কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু ১৯৪২ ও ৪৬ সালে বিশ্বযুদ্ধের জন্যই যে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা হয়নি সে কথা উক্ত প্রচারকে অসত্য প্রমাণ করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে, ইউরোপ বিশ্বকাপ ফুটবলকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে তাদের কব্জায় রাখতে চায়।

 উল্লেখ্য-ইউরোপীয় দেশগুলো কখনই তৃতীয় বিশ্বকে সমমর্যাদা দিতে আগ্রহী নয়। বরং এ ক্ষেত্রে ওরা প্রভূ-ভৃত্যের সম্পর্ক প্রদর্শনেই আগ্রহী। উপনিবেশিক আমলে ওরা যে নির্যাতন ও লুক্তন চালিয়েছে তার জন্য মোটেই বিব্রত নয়। কার্যতঃ ওদের প্রচারিত বিশ্বকাপ ফুটবল বা ক্রিকেটের আন্তর্জাতিকতাবাদী চেতনা সম্পূর্ণই ভূয়া। পাশাপাশি বিশ্বকাপের মত শীর্ষ শৃঙ্খলিত আয়োজনেও কারচুপির অভিযোগ ঢের। ইউরোপকে জেতানোর জন্য ১৯৯০ সালে আর্জেন্টিনা এবং ১৯৯৪ সালে ব্রাজিলকে কারচুপির মাধ্যমে পরাজিত করা হয়। এমনকি কোডেসাল, কিম ইয়ং জো সহ বিশ্বকাপের অনেক রেফারীর বিরুদ্ধেও স্পষ্টতঃ পক্ষপাতদুষ্টের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

অতএব, আমরা মনে করি যে, বিশ্বকাপ নিয়ে অহেতুক প্রচারণার জন্য  অবশ্যই মিডিয়াকে দায়বদ্ধ করা উচিৎ। যেক্ষেত্রে বিশ্বে ৮০ কোটি লোক খাদ্যাভাবে জর্জরিত এবং প্রতিদিন ৬০ হাজার শিশু অনাহারে মারা যায় সেক্ষেত্রে ৩৬,৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে বিশ্বকাপ ফুটবল যে শুধু অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয় তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।

 বলাবাহুল্য, এ মন্তব্য ফুটবল প্রেমীদের পছন্দ নাও হতে পারে; কিন্তু মুসলমান হিসেবে ফুটবলসহ যাবতীয় খেলাকেই উপেক্ষা করা ব্যতীত গত্যন্তর নেই। মহান আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান, “আমি নভোমন্ডল, ভূ-মন্ডল এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী যা আছে তা খেলাচ্ছলে সৃষ্টি করিনি। ক্বিয়ামত অবশ্যই আসবে। অতএব, পরম অবজ্ঞার সাথে ওদের খেলাধূলা উপেক্ষা করুন।” (সূরা হিজর/৮৫। অনুরূপ সূরা  দুখানের ৩৮ ও ৩৯ নং আয়াত  এবং সূরা আম্বিয়ার ১৬-১৮ নং আয়াত শরীফে ও খেলাধুলার বিরুদ্ধে  বলা হয়েছে)       বলার অপেক্ষা রাখেনা, অন্যান্য বিজাতীয় প্রথা যথা লংমার্চ, হরতাল, ছবি তোলা, মৌলবাদ, গণতন্ত্র, ব্লাসফেমী ইত্যাদি হারাম কাজের মত বিশ্বকাপ ফুটবলের ঢেউও উলামায়ে “ছূ”দের ভাসিয়ে নিয়েছে। তাই এদের মুখপাত্র, নামধারী মুফতী, মুফাস্সীর, শাইখুল হাদীস, খতীব কারো থেকেই হালে বিশ্বকাপের মত বিজাতীয় জ্বরে আক্রান্ত মুসলিম উম্মাহ্কে হিফাযতের আহবান আসেনি। বরং সূত্র মতে তাদের অনেকে নিজেরাই গোপনে বা প্রকাশ্যে এ হারাম আনন্দ উপভোগ করেছে। (নাউযুবিল্লাহ্)

মূলতঃ তারা আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইসলাম চায়না বরং চায় ইসলামের খোলশে নিজেদের নফসানিয়াত ও কায়েমী স্বার্থবাদ। তাই যামানার প্রবাহমান বিজাতীয় ও বিধর্মী মানসিকতার বিপরীতে চলতে তারা ভয় পায়। প্রচলিত বেশরা কাজ তাদের নফসকে প্রলুব্ধ করে।

বিশ্বকাপ খেলাসহ যামানার যাবতীয় দুষ্ট প্রচলন থেকে বেঁচে খালিছ ইবাদত গুজার হওয়ার জন্য আমাদের তাই মুযাদ্দিদুয্ যামান-এর ছোহ্বত ইখতিয়ার করতে হবে। (আমীন)

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়