সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ১০৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

   সব প্রশংসা মহান আল্লাহ্ পাক-এর জন্য। যিনি সব শুকরিয়ার মালিক এবং অসীম ক্ষমাময়। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম। যিনি রহমাতুল্লিল আলামীনরূপে পৃথিবীতে আর্বিভূত হয়েছেন।         পূর্ববর্তী উম্মতগণ, উম্মতে মুহম্মদীর তুলনায় অনেক কম গুণাহ্র কারণেই, প্রস্তর বর্ষণ, ভূমি ধ্বসে যাওয়া, রক্তবৃষ্টি, প্লেগ ইত্যাদি ভীষণ আযাব-গযবে গ্রেফতার হয়ে যেত। কিন্তু তুলনামূলকভাবে অনেক বেশী গুণাহ্র সাথে সম্পৃক্ত থাকার পরও, রহমতুল্লিল আলামীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উছীলায় উম্মতে মুহম্মদীর প্রতি অপেক্ষাকৃত অনেক কম আযাব-গযব বর্ষিত হয়।   কালের প্রেক্ষিতে বর্তমানে উম্মতে মুহম্মদী এতই গাফিল যে, তারা গযবের কারণ সম্পর্কে উপলদ্ধি করতে বড়ই বে-খবর, শুধু তাই নয় বরং গযবকে গযব রূপে মালুম করতেও বর্তমানে তারা বড়ই অক্ষম হয়ে পড়ছে। (নাউযুবিল্লাহ)  এই যে গ্রীস্মের প্রচন্ড দাবদাহ, ঘূর্ণিঝড়, শিলাবৃষ্টি, বন্যা, তুফান এগুলো যে আযাব আর গযবেরই অন্তর্ভুক্ত তা ক’জনই বা অনুভব করে। পাশাপাশি, সমাজে বিরাজমান বর্তমান সহিংসতা, সন্ত্রাস, ছিনতাই, রাহাজানি, নারীর সম্ভ্রমহরণ, ডাকাতি, খুন এসবও যে মূলতঃ আযাব-গযবেরই প্রকারভেদ তাও বা  আমরা ক’জনে হৃদয়াঙ্গম করছি। সঙ্গতকারণেই আমরা মনে করি যে, এগুলো কেবল তথাকথিত রাষ্ট্রীয় বা সরকারী ব্যর্থতা বলে প্রচার করেই তুষ্ট থাকা যাবেনা। মূলতঃ এর ভিতরে, আমাদের রাজনৈতিক, সামাজিক অপরাধ প্রবণতা তথা গুণাহ্র আমল করার কথা গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ রাজনৈতিক সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইত্যাদি অঙ্গণে বিরাজমান বিবিধ গুণাহ্র আমলকেই উল্লিখিত আযাব-গযবের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। তার থেকে রেহাই পেতে সর্বস্তরে তওবামুখী হতে হবে।   দেশে মন্ত্রী, সচিব, আমলা, রাজনৈতিক, শিক্ষাবিদ, ডাক্তার, প্রকৌশলী সব ক্ষেত্রেই, লোভী, দুর্নীতিবাজদের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে। সম্প্রতি এফ,. বি, সি, সি, আই সূত্রে প্রকাশ- দেশে বর্তমানে ৬০ হাজার কোটি কালো টাকা রয়েছে। যা মোট জাতীয় আয়ের এক তৃতীয়াংশ। উল্লেখ্য, প্রতি বছর দেশে মোট আমদানির ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য চোরাচালানীর মাধ্যমে আসে। মূলতঃ শুধু চোরাচালানী না, যাবতীয় দুর্নীতি ও সন্ত্রাস তথা অরাজকতাই প্রশাসনে জায়িয হয়ে যাচ্ছে ঘুষের মাধ্যমে।  ঘুষ কোথায় আছে সে প্রশ্ন এখন অর্থহীন। বরং প্রশ্ন হচ্ছে ঘুষ কোথায় নাই?   ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের এক হিসাব অনুযায়ী স্বাধীনতা উত্তর ২৭ বছরে শুধুমাত্র শিল্প কলকারখানা বেসরকারী করণ; ব্যাংক, বীমা এবং উপজেলা পরিষদ এই তিন খাতে ঘুষ প্রক্রিয়ায় আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছর থেকে ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছর পর্যন্ত ১০ বছরে দেশের মোট উন্নয়নের বাজেট ছিল ৫১ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ দশ বছরের উন্নয়ন বাজেটের চেয়েও বেশী। অপর এক সমীক্ষা অনুযায়ী বিগত ২০০০ সালের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যন্ত ঘুষ প্রক্রিয়ায় দেশের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১১ হাজার ৫শ ৪৩ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা। অভিজ্ঞমহল যথার্থই মন্তব্য করেন, দাবীকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই যেখানে ঘুষের পক্ষ নেয় সেখানে ঘুষ বন্ধের আশা করা বাতুলতা মাত্র। বিশেষতঃ এক্ষেত্রে আশা আরো দূরূহ হয়ে পড়ে যখন সুদ-ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে বলবেন যে আলিম সম্প্রদায়, তাদের প্রায় অধিকাংশই এখন দুর্নীতিতে জরাগ্রস্থ। আজকে ইসলামী এম.পি, মন্ত্রী দাবীকারীরাও গাড়ী ক্রয় ও ব্যবহারে প্রকাশ্য দুর্নীতির মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। সত্যিকার অর্থে এ দেশের আলিম নামধারীরা ক্ষুদ্র স্বার্থ ও ক্ষমতা হাছিলের প্রবণতায় যেভাবে হারামকে হালাল করছেন তা মানুষের বিস্ময়বোধকেও বিস্মিত করেছে। কেবলমাত্র আখিরী যামানা বলেই মানুষ বিস্ময় ও ক্ষোভের সাথে এ দৃশ্য অবলোকন করছে যে, এখন আলিম নামধারীরা শত শত হাদীস শরীফে হারাম বলার পরও ছবি তোলাকে জায়িয করছে, কুরআন শরীফে স্পষ্টভাবে চৌদ্দজনের বাইরে দেখা-সাক্ষাৎ হারাম বললেও তারা দ্বিধাহীন চিত্তে নারী নেতৃত্বের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ, হাসি-ঠাট্টা, উঠা-বসা সবই করছে। কুরআন-সুন্নাহয় বিজাতীয় বিধর্মীয় আদর্শ ও কর্মসূচী হারাম বলার পরও তারা একে একে হিন্দুদের হরতাল, হিন্দু-খ্রীষ্টানের কুশপুত্তলিকা দাহ, খ্রীষ্টান-ইহুদীর মৌলবাদ, ব্লাসফেমী তথা দলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতি জায়িয করছে। দিল কতটুকু শক্ত হলে, কিরূপ মুর্দা হলে, কত জংকার পড়লে যে, দৃশ্যতঃ ইসলামী জ্ঞান হাছিলের পর, ইসলামী ব্যক্তিত্বের ছদ্মাবরণে থাকার পরও তারা এভাবে ইসলামের নামেই একের পর এক হারামকে হালাল করতে পারে তা সত্যিকারের ইসলামী চিন্তাবিদদের জন্য এক মহা আশ্চর্যের বিষয়।    মুহাক্কিক আলিমগণ মনে করেন, ইসলামের খোলশে থাকলেও আসলে ইসলাম দরদী না হয়ে ক্ষমতা ও অর্থের লোভী হওয়ায় মূলতঃ তাদের অন্তরে লা’নত পড়ে গেছে। সেই লা’নতই তাদেরকে এভাবে হালাল থেকে হারামের দিকে, ইসলাম থেকে অনৈসলামের দিকে ধাবিত করছে। ফলতঃ উম্মাহর আক্বীদা ও আমল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং তারা একের পর এক আরো গযবে গ্রেফতার হচ্ছে।

আল্লাহ্ পাক ইরশাদ ফরমান, “যমীনে, পানিতে ফিৎনা-ফাসাদ, আযাব-গযব বিপদাপদ এসে থাকে মানুষের (বদ) আমলের কারণে। যেন তারা তাদের (বদ) আমলের স্বাদ গ্রহণ করে। আশা করা যায় তারা ফিরে আসবে।” (সূরা রূম/৪১)

মূলতঃ উম্মতে মুহম্মদী হওয়ার প্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ্ পাক আমাদের খুব কমই আযাব-গযবে গ্রেফতার করেন। তদবিপরীতে অনুপযুক্ত  হওয়ার পরও অনেক নিয়ামতের সাথে সম্পৃক্ত রাখেন। আলিম নামধারীদের প্রাদুর্ভাবযুক্ত এ আখিরী যামানায় হক্ব মত-পথে থাকতে হলে, আযাব-গযব হতে নাযাত পেতে হলে তাই আমাদের উচিৎ বেশী বেশী গুণাহ্ থেকে তওবা করা এবং প্রাপ্ত নিয়ামতের জন্য শুকরিয়া করা। বর্তমান যামানার মহান মুজাদ্দিদুয্ যামানের ছোহবতের দ্বারাই সে নিয়ামত প্রাপ্তি সম্ভব।

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়