সমস্ত প্রশংসা মহান আল্লাহ্ পাক-এর জন্য যিনি মানুষকে তার খলীফা হিসেবে প্রেরণ করেছেন। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি অফুরন্ত দরূদ ও সালাম যিনি রিসালতের দায়িত্ব যথাযথ পালন করেছেন।
মানুষ আলমে আরওয়াতেই আল্লাহ্ পাক-এর বন্দেগী করার জন্য ওয়াদাবদ্ধ। কিন্তু কালের প্রবাহ তাকে বন্দেগী থেকে বিমুখ করে। ভুলে যাওয়া মানুষকে খোদার রাহে ডাকার জন্যই নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম, আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম-এর আগমন।
উল্লেখ্য, নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম, আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ব্যক্তি জীবনে ইসলামের আদর্শ প্রকাশের মাধ্যমে মানুষকে দাওয়াত দিয়েছেন। প্রসঙ্গতঃ আক্বীদার কিতাবে ব্যক্ত হয়েছে, “নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ, কবীরা-ছগীরা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, কুফরী-শিরকী, সমস্ত গুণাহ্ এবং অপছন্দনীয় সমস্ত কাজ হতে মা’ছূম বা নিষ্পাপ। পাশাপাশি হক্কানী-রব্বানী আউলিয়া-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণও সকল প্রকার গুণাহ্ হতে আল্লাহ্ পাক-এর তরফ হতে মাহফুজ বা সংরক্ষিত।”
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুজুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একাই পৃথিবীতে এসেছিলেন। কিন্তু তাঁর মোহময়ী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে আজ শতাধিক কোটি মুসলমান দুনিয়ায়।
বলাবাহুল্য, এই শতাধিক কোটি মুসলমান যদি ঈমানের আদর্শে সমুজ্জ্বল থাকত তবে তার দ্যূতিতে সমগ্র বিশ্ব আলোকিত হতে পারত। মাশরিক থেকে মাগরিব পর্যন্ত কায়েম হত খিলাফত আলা মিনহাজুন্ নুবুওওয়ার নিয়ামত। সাধারণ মুসলমান মূলতঃ ধর্মপ্রাণ। ধর্মের প্রতি তাদের হৃদয়ে দরদ বিদ্যমান। তবে ধর্ম পালনের ক্ষেত্রে তাদের একটা দাবী আছে, তা হল যাদের থেকে তারা ধর্ম পালনের শিক্ষা ও উৎসাহ পাবে তারা যেন ধর্মের আদর্শে উজ্জীবিত হয়।
মূলতঃ সাধারণের এই দাবী একান্তই যৌক্তিক। ধর্মের কথা যিনি শোনাবেন ধর্মের বিকাশ প্রথমে মানুষ তার মাঝেই দেখতে চায়। কিন্তু সেক্ষেত্রে যখন মানুষ হোঁচট খায় অর্থাৎ ধর্মের নামধারী ধর্ম-ব্যবসায়ীদের মাঝে অধর্ম দেখে তখন তারা কেবল ধর্ম-ব্যবসায়ী নয় বরং দুঃখজনক হলেও গোটা ধর্মের প্রতিই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়ে।
পর্দার কথা যারা বলবেন, তারাই যখন বেপর্দা মহিলা নেত্রীর সাথে উঠা-বসা করেন, সুদ-ঘুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে যারা বলবেন, তারাই যখন মসজিদের টাকা আত্মসাত, ভূয়া মাদ্রাসা শিক্ষক-ছাত্র দেখিয়ে টাকা লুটপাট করেন, বিত্ত বৈভব গড়ে তুলেন, মুসলিম আদর্শে যারা উজ্জীবিত হতে বলবেন, তারাই যখন খ্রীষ্টান প্রোটেষ্ট্যান্টদের মৌলবাদ গ্রহণের জন্য আহবান জানান, ইসলামের শান্তিপূর্ণ সহস্থানের আদর্শ যারা প্রচার করবেন, তারাই যখন ইসলামের নামে হরতাল করে অরাজকতা, রাহাজানি, ত্রাস কায়েম করেন, বিজাতীয় আদর্শ থেকে পরহেয করার জন্য যারা আহবান জানাবেন তারাই যখন, বিধর্মী মাওসেতুং এর অনুকরণে লংমার্চ করেন, ক্ষমতার মোহ হারাম একথা যারা শিক্ষা দিবেন, তারাই যখন ক্ষমতার মোহে নাজায়েয নারী নেতৃত্বের পেছনে জোট বাধেন তথা নির্বাচন করেন, আল্লাহ্ পাক-এর সার্বভৌমত্ব যারা প্রচার করবেন তারাই যখন ইসলামের নামে গণতন্ত্র করেন, তখন ধর্মপ্রাণ মানুষ সঙ্গতকারণেই তাদের প্রচারিত ধর্মের বাণীতে উৎসাহ পায়না, ধর্মের লেবাস তাদের মাঝে শ্রদ্ধা জাগায়না, সেরুপ ধর্ম-ব্যবসায়ী দর্শনে তাদের তৃপ্তি আসেনা।
উপরন্ত ধর্মের নামে অধর্ম করার চেয়ে সাধারণ মানুষ ধর্মে নিস্ক্রীয় থাকাকেই শ্রেয় মনে করে। অর্থাৎ ধর্মের নামধারী, ধর্ম-ব্যবসায়ীদের বদ-তাছিরেই সাধারণ মানুষ আজ ধর্ম সম্পর্কে এতটা নিরুৎসাহিত।
বিশেষভাবে স্মর্তব্য যে, ধর্মের প্রতিকূল সাধারণ ধর্মপ্রাণরা নয় বরং ধর্মের চরম ক্ষতি সাধনকারী হচ্ছে ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্মের নামে অধর্ম। প্রসঙ্গতঃ বাদশাহ্ আকবরের আমলে ধর্ম-ব্যবসায়ীদের অধর্মই তাকে দ্বীন-ই-ইলাহীর মত কুফরী প্রবর্তনে সাহস যুগিয়েছিল।
উল্লেখ্য, ধর্ম ব্যবসায়ীদের ধর্মের আদর্শ ধারণে ব্যর্থতার মূল বিষয়টিই হচ্ছে তারা ধর্মের প্রাণ তথা ক্বলবী জিকির থেকে গাফিল।
স্মর্তব্য, ক্বলবী জিকিরের ধারাবাহিকতায় আল্লাহ্ পাক-এর সিফতের আকছ বা প্রতিবিম্ব বান্দার অন্তরে প্রতিফলিত হয় এবং এভাবেই ক্বলবী জিকিরের প্রাচুর্যতায় একসময় বান্দা আল্লাহ্র গুণে গুনান্বিত হয়ে ওলী আল্লাহ্ হয়। তাদের মাঝে ধর্মের আদর্শ বিকশিত হয়, সে আদর্শ মানুষকে ধর্মের প্রতি সহজে আকর্ষিত করে। পক্ষান্তরে ক্বালবী যিকিরবিহীন মুর্দা অন্তরধারী, ধর্মব্যবসায়ীদের অপতৎপরতা মানুষকে ধর্ম সম্পর্কে উদাসীন করে তোলে।
কাজেই সাধারন ধর্মপ্রাণদের মাঝে ধর্মীয় চেতনা জাগরুক করার জন্য চাই ধর্ম ব্যবসায়ীদের নির্মূলকরণ। মহান আল্লাহ্ পাক আমাদের সকলকে আল্লাহ্ পাক-এর গুণে ভূষিত ও হক্কানী অলী আল্লাহ্ সান্নিধ্য নসীব করুন। (আমীন)