সম্পাদকীয়

সংখ্যা: ২০৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

সব প্রশংসা মহান আল্লাহ পাক উনার জন্য। সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অফুরন্ত দুরূদ ও সালাম।

কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তবে কী তোমরা কিতাবের কিছু অংশ গ্রহণ করবে? এবং কিছু অংশ অস্বীকার করবে? অর্থাৎ কিছু মানা আর কিছু না মানা মানুষের প্রাচীন প্রবৃত্তি। কিন্তু এটা ঈমানদারদের পরিচয় নয়।”

মুসলমান থাকতে হলে ইসলাম পরিপূর্ণভাবেই মানতে হবে। শুধু কথিত রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম বা বিসমিল্লাহ রাখলেই চলবে না; ধর্মনিরপেক্ষতাও ঢোকানো যাবে না।

কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ! আপনারা পরিপূর্ণভাবে ইসলামে প্রবেশ করুন।” কুরআন শরীফ-এ শুধু ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করার কথাই বলা হয়নি পাশাপাশি ইসলামই যে পরিপূর্ণ এবং একমাত্র মনোনীত দ্বীন তাও সূরা মায়িদার ৩ নং আয়াত শরীফ-এ স্পষ্ট করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান থেকে আরম্ভ করে সর্বস্তর প্রধান তথা সর্বসাধারণ পর্যন্ত একটা বিষয় খুব স্পষ্ট করে এবং অনিবার্যভাবে অনুধাবন করতে হবে যে- ইসলাম অন্যান্য ধর্মের মতো নয়।

কাজেই ইসলাম অন্যান্য ধর্মের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সহাবস্থানে থাকতে পারে না। ইসলাম ধর্মনিরপেক্ষতার অধীন হতে পারে না।

উল্লেখ্য, ধর্মনিরপেক্ষতার নামে অন্যান্য ধর্ম পালনের যে অধিকার দেয়া হয় তা দ্বারা ইসলাম পালনের পরিবেশ নিশ্চিত হয় না। কারণ ধর্মনিরপেক্ষতা দ্বারা ইসলাম অন্য ধর্মের উপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত ও শ্রেষ্ঠ এবং একমাত্র দ্বীন তা প্রতিফলিত হয়না।

কুরআন শরীফ-এ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “তিনি মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হিদায়েত এবং সত্য দ্বীন ইসলাম দিয়ে পাঠিয়েছেন। মানবরচিত সমস্ত জীবন ব্যবস্থার উপরে প্রাধান্য-শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে।

ধর্মনিরপেক্ষতার নামে যারা সব ধর্মাবলম্বীর সমান ধর্মীয় অধিকারের কথা বলেন; তাদের নিকট দেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী মুসলমানদের জলন্ত প্রশ্ন যে- তারা মুসলমানদেরকে তাদের দ্বীন ইসলাম পালনের অধিকার স্বীকার করেন কী না?

* সোজা ভাষায় দেশের ৯৭ ভাগ অধিবাসী তাদের ধর্ম পালনের নিশ্চয়তা পাবেন কী না?

* ইসলাম পালনের সুযোগ পাবেন কী না?

* মুসলমানদের উপর নিপীড়ন বন্ধ করা হবে কী না?

কারণ একজন মুসলমান যদি কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর নির্দেশ যথাযথ পালনের আবহ ও অবকাশ না পান বরং কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর আদেশ পালন অথবা প্রতিফলিত করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হন; তাহলে তার ধর্মীয় অধিকার দেয়া হচ্ছে- এটা কী করে বলা যায়?

বলার অপেক্ষা রাখেনা, কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা বাস্তবায়ন করলে দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানের ধর্ম ইসলামকেই বিপন্ন করা হয়।

যদিও বেশ জোরেশোরে এবং খুবই দুরভিসন্ধিমূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে যে, ধর্মনিরপেক্ষতা মানে সব ধর্মের সমান অধিকার। কিন্তু বাস্তবে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতা হলো- মুসলমানদের জন্য ইসলামকে ব্যক্তি জীবনের সামান্য কিছু অংশে সীমাবদ্ধ রেখে; সমাজ ও ব্যবহারিক সব দিক থেকে মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের আদেশ-নিষেধ থেকে তথা ইসলাম পালন থেকে মুক্ত রাখা। নাঊযুবিল্লাহ!

যে কারণে আমেরিকায় ওবামা গির্জায় বাইবেল ধরে শপথ করলেও তা ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষতি করে না। ইংল্যান্ডের রাজতন্ত্রে রাজা খ্রিস্টধর্ম বাদ দিলে তারা রাজা পদ হারায়- এ বিধান থাকলেও ধর্মনিরপেক্ষতার ক্ষতি হয় না। অপরদিকে ফ্রান্স বোরকা পরলে জরিমানার বিধান করলেও ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ যায় না।

কিন্তু এদেশের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করলে কথিত ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা জাহিলের মতো হৈ চৈ করে উঠে। নাঊযুবিল্লাহ! ‘পর্দা পালন করতে বাধ্য করা যাবে না’ এ ধরনের ইসলাম বিরোধী রুলিংও দেয়া হয়। নাঊযুবিল্লাহ!“

তাদের অজ্ঞতার জন্যই তারা প্রশ্ন করে রাষ্ট্রের আবার ধর্ম কী? তাহলে কী তারা রাষ্ট্রভাষা ‘বাংলার’ এদেশে নতুন করে প্রশ্ন তুলবে- রাষ্ট্রের আবার ভাষা কী? রাষ্ট্রের যদি ধর্মই না থাকে তবে রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধানরা ধর্মীয় বিশেষ দিনে বাণী দেন কেন?

রাষ্ট্রের যদি ধর্মেরই প্রয়োজন না হয়; তাহলে রাষ্ট্রীয় তথ্যে ধর্মের পরিচয় দিতে হয় কেন?

রাষ্ট্রের যদি ধর্মই না থাকে তাহলে রাষ্ট্রের ধর্ম মন্ত্রণালয় রয়েছে কেন?

রাষ্ট্র তো কোনো বায়বীয় ধারণা নয়। রাষ্ট্রের একটা ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে। এই সীমারেখার মধ্যেই দেশপ্রেমের উন্মেষ হয়। এজন্য যদি জাতীয় পতাকা থেকে জাতীয় মসজিদ থাকতে পারে  কথিত জাতীয় সঙ্গীত  মূল্যায়িত হতে পারে; তাহলে রাষ্ট্রধর্ম কি করে অবমূল্যায়িত হতে পারে?

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত, আচার, সংস্কৃতি যদি প্রাধান্যের সাথে প্রতিফলিত হয় তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্মও কেন প্রতিফলিত হবে না?

আর সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে ইসলামই যদি অন্তর্ভুক্ত হয় তাহলে তো ধর্মনিরপেক্ষতা সন্নিভুক্ত হতে পারে না। ইসলাম ও ধর্মনিরপেক্ষতা পাশাপাশি থাকতে পারে না। ধর্মনিরপেক্ষতা থাকলে ইসলাম পালনের অধিকার রয়েছে সে কথা বলা যায়না এবং সঙ্গতকারণেই দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমান তা মেনে নিতে পারে না। বরদাশতও করতে পারে না।

মূলত এসব অনুভূতি ও দায়িত্ববোধ আসে ইসলামী অনুভূতি ও প্রজ্ঞা থেকে। আর তার জন্য চাই নেক ছোহবত তথা ফয়েজ তাওয়াজ্জুহ। যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, যামানার মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী উনার নেক ছোহবতেই সে মহান ও অমূল্য নিয়ামত হাছিল সম্ভব। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের তা নছীব করুন। (আমীন)

 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয় 

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়

সম্পাদকীয়