সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরিচয় ও মর্যাদা মুবারক

সংখ্যা: ২৩১তম সংখ্যা | বিভাগ:

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খালিক্ব মালিক রব তায়ালা উনার মনোনীত নবী, রসূল ও হাবীব। তিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, ক্বয়িদুল মুরসালীন, খতামুন নাবিয়্যীন, রহমাতুল্লিল আলামীন, শাফিউল মুযনিবীন, নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। অর্থাৎ তিনি অপরিসীম ছানা-ছিফত মুবারক উনার অধিকারী। সেজন্য এক কথায় উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করতে হলে বলতে হবে যে, তিনি শুধু মহান আল্লাহ পাক তিনি নন, এছাড়া সমস্ত ছিফত  মুবারক উনার অধিকারী হলেন তিনি। সুবহানাল্লাহ!

উনাকেই সর্বপ্রথম সৃষ্টি করা হয় অর্থাৎ উনার অজুদ পাক নূর মুবারক সর্বপ্রথম সৃষ্টি এবং উক্ত নূর মুবারক থেকে কায়িনাতের সবকিছু সৃষ্টি করা হয়। যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُوْرِىْ وَخَلَقَ كُلَّ شَىءٍ مِنْ نُوْرِىْ.

অর্থ : মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন। এবং আমার নূর মুবারক থেকে সবকিছু সৃষ্টি করা হয়। (মাদারিজুন নুবুওওয়াত)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অজুদ পাক অর্থাৎ নূর মুবারক সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত মুবারক উনার মধ্যে অবস্থান গ্রহণ করেন এবং এ অবস্থায় শত-সহস্র বৎসর অতিবাহিত হয়। অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি যখন হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে সৃষ্টি করেন তখন উক্ত নূর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেন। অতঃপর উক্ত নূর মুবারক হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনার থেকে কুদরতিভাবে উনার সম্মানিতা আহলিয়া সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনার কাছে স্থানান্তরিত হন। এভাবে পর্যায়ক্রমে একজন বুযূর্গ পুরুষ এবং একজন বুযূর্গ মহিলা উনাদের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুযূর্গ পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কাছে অবস্থান নেন। অতঃপর আমুল ফীল বা হাতির বছরের পূর্ববর্তী বছর (৬৩ শামসী পূর্ব, ৫৭০ ঈসায়ী সন) পবিত্র রজব মাসের প্রথম জুমুয়ার রাত্রিতে উক্ত নূর মুবারক কুদরতীভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুযূর্গ মাতা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার নিকট মুবারক তাশরীফ নেন। অতঃপর সেখানে পূর্ণ ৮ মাস ১২ দিন মুবারক অবস্থান নেয়ার পর আমুল ফীল অর্থাৎ হস্তি বাহিনীর আক্রমনের বছর/১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম বা সোমবার শরীফ ছুবহে ছাদিকের সময় তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন।

উনার সম্মানিত পিতা সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম এবং সম্মানিতা মাতা সাইয়্যিদাতুন নিসা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম। তিনি উনার সম্মানিতা আম্মাজান আলাইহাস সালাম উনার নিকট মুবারক অবস্থানকালীন উনার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম তিনি বিছাল শরীফ গ্রহণ করেন। ফলে উনার দাদা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি উনার প্রতিপালনের ভার গ্রহণ করেন।

নাম ও কুনিয়াত মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক অনেক। তবে আসমানে উনার নাম মুবারক আহমাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং যমীনে উনার নাম মুবারক মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। এ নাম মুবারক দু’টিই উনার যাতী নাম বা মূল নাম মুবারক হিসেবে প্রসিদ্ধ। আর বাকী সব উনার ছিফতী নাম মুবারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

আর উনার কুনিয়াত বা উপনাম মুবারক হচ্ছে আবুল ক্বাসিম, এছাড়া আবূ ইবরাহীমও কুনিয়াত ব্যবহৃত হয়।

নসব মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আব্বাজান হযরত খাজা আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দিক থেকে উনার নসব শরীফ : হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার পিতা হযরত আব্দুল্লাহ যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম, উনার পিতা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম, উনার পিতা হযরত হাশিম আলাইহিস সালাম, উনার পিতা হযরত আবদে মনাফ আলাইহিস সালাম, অতঃপর একের পর এক করে — হযরত কিলাব বিন মুররা আলাইহিস সালাম — হযরত আদনান আলাইহিস সালাম পর্যন্ত।

আম্মাজান হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম উনার দিক থেকে উনার নসব শরীফ : হযরত মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, উনার মাতা হযরত আমিনা আলাইহাস সালাম, উনার পিতা হযরত ওহাব আলাইহিস সালাম, … অতঃপর একের পর এক করে — হযরত কিলাব বিন মুররা আলাইহিস সালাম পর্যন্ত গিয়ে এক হয়ে গেছে। উভয় দিক থেকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নসব শরীফ উনার সিলসিলা হযরত আদনান আলাইহিস সালাম পর্যন্ত ঐতিহাসিকদের সম্মিলিত ঐকমত্যে ছহীহ সনদের সঙ্গে বহাল আছে। আর এ বিষয়ে সকল ঐতিহাসিকগণ একমত যে, হযরত আদনান আলাইহিস সালাম হলেন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বংশধর, আর হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম ছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বুযূর্গ সন্তান ও নবী। (মাদারিজুন নুবুওয়াত, মা’রিফাতুছ ছাহাবা ১ম খ- ১৫ পৃষ্ঠা)

উল্লেখ্য, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের বুযূর্গ পিতা-মাতা উনারা কেউই কাফির কিংবা মুশরিক ছিলেন না। এটা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা। এ আক্বীদার বিপরীত আক্বীদা পোষণ করা কুফরী তথা কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। আর যিনি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, রহমতুল্লিল আলামীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বুযূর্গ পিতা-মাতা আলাইহিমাস সালাম এবং পূর্ব পিতা আলাইহিমুস সালাম এবং পূর্ব মাতা আলাইহিন্নাস সালাম যাঁদের মধ্যে পবিত্র নূর মুবারক অবস্থান করেছিলেন উনাদের পবিত্রতার বিষয়টি অত্যন্ত সুস্পষ্ট, যা বর্ণনার অপেক্ষা রাখেনা। সুতরাং উনাদের কারো সাথে শিরক-কুফরের বিন্দু পরিমাণ সংশ্লিষ্টতার চিন্তা করাটাও জঘণ্যতর কুফরীর শামিল।

বিশেষ করে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা সম্পর্কে কেউ কেউ বলে থাকে যে, তিনি নাকি মূর্তিপূজক ছিলেন। নাঊযূবিল্লাহ! হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার পিতা সম্পর্কে যারা এরূপ জঘণ্য আক্বীদা পোষণ করে তারা প্রকৃতপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার সঠিক তাফসীর বা ব্যাখ্যা সম্পর্কে নেহায়েতই অজ্ঞ। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আযর নামের ব্যক্তিকে যে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার ‘আবুন’ বলে উল্লেখ রয়েছে, সেখানে ‘আবুন’ চাচা অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, পিতা অর্থে নয়। অর্থাৎ আযর নামের ব্যক্তিটি ছিল মূর্তিপূজক এবং সে ছিল হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার চাচা। আর হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার যিনি পিতা তিনি হলেন হযরত তারাহ আলাইহিস সালাম। (তাফসীরে কবীর, তাফসীরে মাযহারী ইত্যাদি)

মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য মুবারক

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবকিছু ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলম মুবারক উনাকে হাদিয়া করা হয়েছে। তিনি সবকিছু জানেন। উনার কাছে কোন কিছুই গোপন নেই। দৃশ্য-অদৃশ্য সমস্ত বিষয়ের ইলম উনার রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন ইলম ও কুদরত মুবারক উনার দ্বারা সবখানে হাযির ও নাযির তদ্রুপ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলম ও মু’জিযা মুবারক দ্বারা এবং নূর ও রহমত হিসেবে সর্বত্র হাযির (উপস্থিত) এবং নাযির (প্রত্যক্ষকারী)। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, দুনিয়াতে যা কিছু সৃষ্টি বা সংঘটিত হয়েছে এবং কিয়ামত অবধি যা কিছু সৃষ্টি বা সংঘটিত হবে তা আমি এরূপ দেখি যেমন আমার হাতের তালু মুবারক দেখে থাকি। সুবহানাল্লাহ!

তিনি কোন জিন-ইনসান বা কোন সৃষ্টির মতো নন। তিনি নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। তিনি সর্বশেষ নবী ও রসূল। উনার পর কোন নবী ও রসূল আগমন করবেন না। উনার নূরুল বারাকাত (থুথু) মুবারক, নূরুত ত্বীব (ঘাম) মুবারক, নূরুন নাজাত (রক্ত) মুবারক এমনকি নূরুশ শিফা ও নূরুল গইব  (ছোট ও বড় ইস্তিঞ্জা) মুবারকও পবিত্র থেকে পবিত্রতম। এরূপ পবিত্রতম যে, সে সমস্ত যাঁদের শরীরের ভিতর প্রবেশ করেছে উনাদের জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম হয়ে জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বেমেছাল পবিত্রতার কারণে উনার শরীর মুবারক  এবং উনার পোষাক-পরিচ্ছদ মুবারক উনার উপর মশা-মাছি পর্যন্ত বসতো না।

তিনি ছায়াবিহীন ছিলেন। অর্থাৎ উনার দেহ মুবারক উনার ছায়া ছিল না। তিনি সামনে যেরূপ দেখতে পেতেন তদ্রƒপ পিছনেও দেখতে পেতেন। তিনি হচ্ছেন সমস্ত সৃষ্টির ক্বিবলা এমনকি পবিত্র কা’বা শরীফ উনারও ক্বিবলা। সুবহানাল্লাহ!

একমাত্র তিনিই স্বশরীর মুবারকে মি’রাজ শরীফ করেছেন। শুধুমাত্র উনারই সিনা মুবারক চাক করা হয়েছে। তিনি শাফায়াতে কুবরা বা শাফায়াতে উযমা উনার মালিক অর্থাৎ তিনি সর্বপ্রথম সুপারিশ করবেন এবং উনার সুপারিশই সর্বপ্রথম কবুল করা হবে। তিনি সৃষ্টির শুরু থেকেই নবী ও রসূল। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত মুবারক প্রকাশ করা হয়েছে যখন উনার দুনিয়াবী বয়স মুবারক চল্লিশ। তিনি যদিও সর্বশেষ নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিসেবে প্রেরিত হয়েছেন কিন্তু তিনি সমস্ত জিন-ইনসান, সমস্ত সৃষ্টির জন্য নবী ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি পবিত্র বিছাল শরীফ গ্রহন করেন ১১ হিজরী সনের ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীমি বা সোমবার শরীফ।

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মর্যাদা সম্পর্কে তিরমিযী শরীফ ও মিশকাত শরীফ উনাদের মধ্যে একখানা হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে যে, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কতিপয় ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা এক স্থানে বসে (অতীতের হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মর্যাদা-মর্তবা সম্পর্কে) আলোচনা করছিলেন। এ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছে (আড়াল থেকে) উনাদের কথাবার্তা-আলোচনাগুলো শুনলেন। উনাদের একজন বললেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে খলীল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। আরেকজন বললেন, হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি এমন ছিলেন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সাথে সরাসরি কথা বলেছেন। অপর একজন বললেন, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন কালীমাতুল্লাহ ও রূহুল্লাহ এবং আরেকজন বললেন, হযরত আদম আলাইহিস সালাম উনাকে মহান আল্লাহ পাক তিনি ছফীউল্লাহ বানিয়েছেন অর্থাৎ উনাকে কুদরতী হাত মুবারক-এ সৃষ্টি করেছেন। সুবহানাল্লাহ!

এ সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনাদের সম্মুখে উপস্থিত হয়ে বললেন, আমি আপনাদের কথাবার্তা-আলোচনা শুনেছি এবং আপনারা যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তাও আমি জেনেছি। নিশ্চয়ই হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি যে খলীলুল্লাহ ছিলেন ইহা সত্যই। হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি যে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে কথা বলেছেন ইহাও সত্য কথা। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি যে রূহুল্লাহ ও কালীমাতুল্লাহ ছিলেন ইহাও সত্য। এবং হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনি যে মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত ছিলেন অর্থাৎ উনাকে কুদরতী হাত মুবারক-এ সৃষ্টি করেছেন ইহাও সম্পূর্ণ সত্য।

তবে সাবধান! আমার সম্পর্কে আপনারা জেনে রাখুন, আমি হলাম মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব। এতে আমার কোনো ফখর নেই। ক্বিয়ামতের দিন প্রশংসার পতাকা আমার হাত মুবারক-এ থাকবে আর উক্ত পতাকার নিচে হযরত আদম আলাইহিস সালাম তিনিসহ অন্যান্য সকল হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা অবস্থান করবেন। এতেও আমার কোনো ফখর নেই। ক্বিয়ামতের দিন আমিই হবো সর্বপ্রম শাফায়াতকারী এবং সর্বপ্রম আমার সুপারিশ কবুল করা হবে। এতে আমার কোনো ফখর নেই। এছাড়া আমিই সর্বপ্রথম জান্নাতের দরজায় কড়া নাড়া দিবো, স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক তিনি আমার জন্য তা খুলে দিবেন এবং আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। আর আমার সাথে থাকবেন কতিপয় মু’মিন-মুসলমান। এতে আমার কোনো ফখর নেই। সর্বোপরি আমিই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের চেয়ে সম্মানিত। এতেও আমার কোনো ফখর নেই। সুবহানাল্লাহ!

অপর এক রিওয়াতে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ক্বিয়ামতের দিন আমিই হবো সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের ক্বায়িদ (পরিচালক)। এতেও আমার কোনো ফখর নেই এবং আমিই হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের আগমনের সিলসিলা সমাপ্তকারী। এতেও আমার কোনো ফখর নেই।” সুবহানাল্লাহ!

-আল্লামা মুফতী আহমদ আবু সাফওয়ান

খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সর্বপ্রথম ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেন

সাইয়্যিদুল মুরসালীন, সাইয়্যিদুল কাওনাইন, সাইয়্যিদুল ফারীক্বাইন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং নিজেই নিজের বিলাদত শরীফ পালন করে খুশি প্রকাশ করেন

হযরত খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম উনারা উনাদের খিলাফতকালে নাবিইয়ুর রহমাহ, নাজিইয়ুল্লাহ, নূরুম মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করেছেন এবং এ উপলক্ষে ব্যয় করার ফযীলতও বর্ণনা করেছেন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথে সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ঈদ উদযাপন করেছেন

বান্দা-বান্দী ও উম্মতের জন্য সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ, সাইয়্যিদুল ঈদিল আ’যম, সাইয়্যিদুল ঈদিল আকবার ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা ফরয হওয়ার প্রমাণ