সামরিক খাতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।  দেশীয় সক্ষমতায় দেশেই তৈরী হচ্ছে উন্নত অস্ত্র ও যুদ্ধ জাহাজ; বাড়ছে অস্ত্র উৎপাদন। উপযুক্ত সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ হতে পারে বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম।

সংখ্যা: ২৭৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের সূচনা হয়। মহান আল্লাহ পাক উনার অপার দয়া-দানে বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অতি উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষিতে ও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিশ্বের বুকে একটি রোল মডেল বাংলাদেশ। দিন দিন বাংলাদেশের নানা খাতে অপার সম্ভাবনার বিকাশ ঘটছে। যা থেকে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশের সামরিক খাতও।

দেশের সামরিক ও প্রতিরক্ষা খাতে বাজেটে বরাদ্দ যেমন বেড়েছে তেমনই গত কয়েক বছরে এ খাত ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। দেশে কিংবা দেশের বাইরে আমাদের সেনাবাহিনী ও বিমান বাহিনী দেশের সুনাম বৃদ্ধি করছে। দেশকে নিয়ে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। দিন দিনই সামরিক সরঞ্জামাদিতে বৈদেশিক নির্ভরতা কমাচ্ছে বাংলাদেশ। এরই অংশ হিসেবে বর্তমানে বাংলাদেশের সামরিক অস্ত্র কারখানায় তৈরি হচ্ছে বেশ কয়েক ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র।

বর্তমানে বাংলাদেশের নিজ সক্ষমতায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরী হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর স্ট্যান্ডার্ড সাব-মেশিন গান। এটা মূলত চাইনিজ টাইপ ৮১-এর বাংলাদেশী সংস্করণ। টাইপ ৮১-বিডি ০৮ রাইফেল দেখতে অনেকটা একে-৪৭ তবে এর মধ্যে অনেক মডিফিকেশন করা হয়েছে। এতে ফিক্সড গ্যাস অপারেটর এর বদলে ফ্লোটিং গ্যাস অপারেটর ব্যবহার করা হয়েছে যা ঝাঁকি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর কার্যকরী দূরত্ব প্রায় ৫০০ মিটার। এর দ্বারা গ্রেনেড নিক্ষেপ করা যায়। সব মিলিয়ে এটি একে ৪৭ এর থেকে আরো কার্যকর। বিডি ০৮ বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় তৈরি হয়। বিডি ১৪ হচ্ছে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় উৎপাদিত ৭.৬২ মি.মি. হেবি মেশিনগান। এটিকে ট্যাংক, এপিসিসহ যেকোন সুবিধাজনক স্থানে বসানো যায়। এছাড়া সম্মুখ যুদ্ধে ফায়ার সাপোর্ট দেবার জন্য ত্রিপদ স্ট্যান্ড অথবা দ্বিপদ স্ট্যান্ডে সেট করে ফায়ার করা যায়। এর ৭.৬২ মিমি এর বুলেট খুবই মারাত্মক আর এর ভেদন ক্ষমতা প্রচন্ড। মিনিটে এটা দ্বারা ৭০০-৮০০ রাউন্ড বুলেট অনায়াসে ফায়ার করা যায়।

বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা এখন অতি উন্নতমানের ৭ দশমিক ৬২ মি.মি. অটোমেটিক অ্যাসল্ট রাইফেল বিডি-০৮ উৎপাদন করছে। এ রাইফেলটির বার্ষিক উৎপাদন বাড়িয়ে ২০ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এছাড়া নতুন কার্তুজ কারখানা চালু হওয়ায় সামরিক ক্ষুদ্রাস্ত্র কার্তুজ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে ওই কারখানার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৬০ মিলিয়নে উন্নীত হয়েছে। অতিরিক্ত জনবল নিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।

আরো জানা গেঝে, গ্রেনেড ফ্যাক্টরির বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ৪ লাখ থেকে বাড়িয়ে ৯ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। ওই কারখানার সামগ্রিক উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংযোজনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা গ্রেনেড ফিউজ কম্পোনেন্ট উৎপাদনের প্রযুক্তি অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়া বিদ্যমান টিএনটি ফিলিং প্লান্টটি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে বহুমুখী উৎপাদন উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানায় ১০৫ মি.মি. ও ১২২ মি.মি. আর্টিলারি শেল এবং ৬০ মি.মি. ও ৮২ মি.মি. মর্টারের টিএনটি ফিলিং কার্যক্রম সম্পাদন করা সম্ভব। এরই মধ্যে সমরাস্ত্র কারখানা নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি উদ্ভাবনী ক্ষমতার মাধ্যমে ৬০ মি.মি. মর্টার শেল প্রস্তুত করে ফায়ারিং কার্যক্রম সম্পাদন করেছে। এছাড়াও বর্তমানে গবেষণার মাধ্যমে ৮২ মি.মি. মর্টার শেল বডি তৈরির কার্যক্রম চলছে। হাই ক্যালিবার অ্যামুনিশন শেল বডি (১০৫ মি.মি. থেকে ১৩০ মি.মি. পর্যন্ত আর্টিলারি শেল এবং ৬০ মি.মি. ও ৮২৫ মি.মি. মর্টার) তৈরি করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজস্ব প্রযুক্তি ও কারিগরি উদ্ভাবনী ক্ষমতার মাধ্যমে ৭ দশমিক ৬২ মি.মি. লাইট মেশিনগান এবং ২৬ মি.মি. সিগন্যাল পিস্তলের পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হয়েছে। উল্লিখিত অস্ত্রসমূহ ছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বর্তমানে বুলেট প্রুফ জ্যাকেট তৈরি হচ্ছে।

আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ উন্নত যুদ্ধজাহাজও তৈরী করছে। দেশের শিপইয়ার্ডেই তৈরি হচ্ছে নৌ বাহিনীর জন্যে যুদ্ধ জাহাজ। বিশাল সমুদ্র সীমা প্রাপ্তির পর এই সকল যুদ্ধ জাহাজ দেশের গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদ আরোহণে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সেমি স্টিলথ বড় ধরণের টহল জাহাজ হল এই দুর্জয় ক্লাস গাইডেড মিসাইল এলপিসি। এই ধরণের ২ টি জাহাজ বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে আছে আর বাকি ০২ টার নির্মাণ কাজ চলছে। বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে এই ধরণের মোট ০৮ টি জাহাজ সার্ভিসে থাকবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছে, বাংলাদেশের অস্ত্র উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা ও সক্ষমতা রয়েছে। যদি বাংলাদেশ সরকার দেশের সামরিক খাতকে উপযুক্ত বাজেটের মাধ্যমে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেয় তাহলে দেশীয় পদ্ধতিতেই বাংলাদেশ অন্যান্য দেশের মত অস্ত্রসহ সকল সামরিক দিক দিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারবে। উপরন্তু অস্ত্র রফতানিকারক দেশেও পরিণত হবে বাংলাদেশ। যা বাংলাদেশ অতীতে করেছিলোও। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম চার কোটি ডলারের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানি করেছিল।

আপাতত আমাদের এ ধরনের অস্ত্রের বাজার রয়েছে আফ্রিকার দেশগুলোতে। তবে সামরিক খাতে বেশি বেচা কেনা হয় ভারী অস্ত্র খাতে। কাজেই আমাদের ভারী অস্ত্রের উপর জোর দিতে হবে। পাশাপাশি উল্লেখ্য যে, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ যুদ্ধ জাহাজ রপ্তানীতেও সক্ষম হয়েছে। উন্নয়নের এ ধারা অব্যাহত থাকলে। ইনশাআল্লাহ! অতি শীর্ষে বাংলাদেশ শীর্ষ স্থানীয় অস্ত্র রফতানীকারক দেশে পরিণত হতে পারবে এবং প্রতি বছর অস্ত্রখাতে বিক্রির সাত হাজার কোটি ডলারের অধিকাংশই আয় করতে পারবে। যা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ছাড়া সামরিক দিক দিয়েও বাংলাদেশের মর্যাদাকে সমুন্নত করবে।

পরিশেষে, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মতো আধুনিক সেনাবাহিনীকে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধারা নামমাত্র অস্ত্র দিয়ে হটিয়ে দিয়েছিলো। শোচনীয় পরাজয় সংগঠিত করেছিলো। বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার সামরিক খাত সমৃদ্ধ করতে শুরু করেছে। আর সেই ক্রমধারায় যদি বাংলাদেশের সরকার এগিয়ে যায় তাহলে দেখা যাবে, দেশেই সমরাস্ত্র তৈরী হয়ে বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা খাতে শক্তিশালী হবে। এতে করে আন্তর্জাতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে বাংলাদেশ। পাশাপাশি বার্মা ও ভারতের মতো শত্রুরাষ্ট্রের নানা ষড়যন্ত্র ও শকুনী দৃষ্টির সমুচিত জবাব প্রদান করতে পারবে। তাই দেশের ২৫ কোটি মানুষের প্রত্যাশা এটাই যে, বাংলাদেশ সরকার দেশের সামরিক খাতকে আগামী বাজেটে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রেখে দেশের প্রতি মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটাবে।

-মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা।

প্রসঙ্গ: ইসরাইলি পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। ইসরাইলের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধসহ কঠোর সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা মুসলিম বিশ্বের এখন ফরযের উপর ফরয।

সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে বাজেটের ১১ শতাংশ। প্রত্যেক বছর বাজেটের আকার বাড়লেও এর সুফল পাচ্ছে না দেশ ও দেশের জনগণ। জনগণের উচিত সরকারকে বাধ্য করা- ঋণের ধারা থেকে সরে এসে অভ্যন্তরীণ অর্থ-সম্পদের দিকে গুরুত্ব দিয়ে বাজেটকে গণমুখী করার জন্য।

বাংলাদেশে জিএমও ফুড প্রচলনের সকল ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে-২

পর্যবেক্ষক ও সমালোচক মহলের মতে- ভারতের কাছে দেশের স্বার্থ বিলিয়ে দেয়ার নিকৃষ্টতম উদাহরণ রামপালে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র। মাত্র ১৫ ভাগ বিনিয়োগ করে ভারত মালিকানা পাবে ৫০ ভাগ। আর ধ্বংস হবে এদেশের সুন্দরবন। সুন্দরবনকে ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে (২)

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতোই রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ভয়াবহ। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে কিন্তু রূপপুর অজ্ঞতার আঁধারেই রয়ে গেছে? বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিষয়টি বিশেষভাবে আমলে নিতে হবে। প্রয়োজনে সচেতন জনগণকেই প্রতিহত করতে হবে (২)