সাইয়্যিদ মুহম্মদ মোক্তাদুল ইসলাম (মিলন) রঈসুল মজলিশ- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত সুবহানীঘাট, সিলেট।
সুওয়ালঃ রেযাখানী মুখপত্র ডিসেম্বর/২০০০ ঈসায়ী সংখ্যায় “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী, গুনিয়াতুত তালেবীন, রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে বলেছে, “সহীহ্ মুসলিম শরীফসহ” অনেক নির্ভরযোগ্য কিতাবে নফল নামায বিশেষতঃ ক্বদর ও বরাতের নফল নামায জামাত সহকারে আদায় করা বৈধ….।” আর আপনারা “মাসিক আল বাইয়্যিনাতে” লিখেছেন, “তারাবীহ, ছলাতুল কুছুফ (সূর্য গ্রহণের নামায), ছলাতুল ইস্তিস্কা (বৃষ্টির নামায) এই তিন প্রকার নামায ব্যতীত যেমন লাইলাতুল ক্বদর, লাইলাতুল বরাত, তাহাজ্জুদ, চাশ্ত, আওয়াবীন ইত্যাদি নফল নামাযসমূহ ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদীসহ জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্।” কোনটি সঠিক? আর “বুখারী, মুসলিম শরীফে” কি “ক্বদর” ও বরাতের” নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করার কথা উল্লেখ আছে? দয়া করে জানাবেন। জাওয়াবঃ রেযাখানীরা তাদের মুখপত্রে “তাফসীরে রুহুল বয়ান, বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, গুনিয়াতুত্ তালেবীন এবং রেজভীয়া” কিতাবের বরাত দিয়ে নফল নামায বিশেষতঃ “শবে বরাত”, “শবে ক্বদরের” নফল নামায আযান-ইক্বামত ছাড়া জামায়াত সহকারে আদায় করা যে বৈধ বলেছে, তা আমরা আমাদের “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর বিগত সংখ্যাগুলোতে বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে প্রমাণ করেছি যে, “তাদের বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল, জিহালতপূর্ণ, জালিয়াতী ও প্রতারণামূলক।” কেননা, রেযাখানীরা কিতাবের নাম দিয়ে যে বক্তব্য প্রদান করেছে, আসলে উক্ত কিতাবসমূহের বক্তব্য সে রকম নয়। বরং তার সম্পূর্ণ বিপরীত। কারণ, তারা কিতাবের ইবারত, সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়ে মনগড়া বক্তব্য প্রদান করেছে এবং ক্ষেত্র বিশেষ নিজের ভ্রান্ত মতকে টিকিয়ে রাখতে কিতাবের ইবারত কারচুপি করেছে। (ধারাবাহিক) বর্তমান সংখ্যায় রেযাখানীদের দলীলবিহীন ও মনগড়া বক্তব্য খন্ডন করা হলো উল্লেখ্য, রেযাখানীরা বলেছে, “শব-এ ক্বদর ও শব-এ বরাত ইত্যাদি সম্মানিত মহিমান্বিত রাত সমূহে নফল নামায জামাতের সাথে পড়াকে মাকরূহে তাহরীমি ও বিদআতে সাইয়্যিআহ্ বলে ফতোয়া দেয়া মূলতঃ সীমালঙ্ঘন, ভন্ডামী ও মূর্খতার পরিচায়ক।” এর জবাবে বলতে হয় যে, বিগত সংখ্যায় আমরা আমাদের মাসিক আল বাইয়্যিনাতে দলীলের ভিত্তিতে প্রমাণ করে দিয়েছি যে, রেযাখানীরাই প্রকৃতপক্ষে সীমা লঙ্ঘনকারী, মিথ্যাবাদী, ভন্ড, প্রতারক, মূর্খ ও জাহিল। তারা এমনই আশাদ্দুদ্ দরজার জাহিল যে নিজেরাই নিজেদের দাবিকৃত ইমামের বিরুদ্ধ মত পোষণ ও প্রচার করে এমনকি সে কি লিখে গেছে সে সম্পর্কেও তারা নিতান্তই বে-খবর ও আনপড়া। আর শুধু এক্ষেত্রেই নয় বরং কিতাবের নাম লিখার ক্ষেত্রেও তারা তাদের নিজেদের দাবিকৃত ইমামের বিরুদ্ধে লিখে যাচ্ছে। যার বাস্তব প্রমাণ হচ্ছে তাদের মাসিক মুখপত্র আগস্ট-সেপ্টেম্বর/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যার ৪১ পৃষ্ঠার ২য় কলামের ১০ম লাইনে লিখেছে, ‘রাদ্দুল মুখতার।’ অথচ তাদের নিজেদের দাবিকৃত ইমাম ছাহেব লিখেছেন, (رد المحتار) ‘রদ্দুল মুহতার।’ (রেজভীয়া ৩য় খন্ড, ৪৬৪ পৃষ্ঠা) দ্বিতীয়তঃ “শবে বরাত, শবে ক্বদর, লাইলাতুর রাগায়িব, তাহাজ্জুদ” ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্। এ ফতওয়া দেয়ার কারণেই যদি তা সীমালঙ্ঘন, ভন্ডামী ও মূর্খতার পরিচায়ক হয় তাহলে বলতে হয় যে, রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক তাদের গুরু রেযা খাঁ-ই চরমভাবে সীমালঙ্ঘন করেছে। অতঃপর রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক তাদের গুরু রেযাখাঁই শবে বরাত, শবে ক্বদরের নফল নামায জামায়াতের সাথে পড়াকে মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বলে ফতওয়া দিয়ে চরমভাবে ভন্ডামী করেছে। অতঃপর রেযাখানীদের বক্তব্য মুতাবিক তাদের গুরু রেযাখাঁই শবে বরাত, শবে ক্বদরের নফল নামায জামায়াতের সাথে পড়াকে মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বলে ফতওয়া দিয়ে চরমভাবে মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। কারণ, তাদের গুরু স্বয়ং রেযা খাঁ-ই তার “রেজভীয়া” কিতাবে শবে বরাত, শবে ক্বদর, রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বলে ফতওয়া দিয়েছে। যেমন, “রেজভীয়া” কিতাবের ৩য় খন্ডের ৪৫৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
نماز شب برات اگرچہ مشاتخ کرام قدست اسر ارھم نے بجماعت بھی پڑھی … مگر ھمارے ائمہ رضی اللہ تعالی عنھم کا مذھب وھی ھے کہ جما عب بتدا عی ھو تو مکروہ ھے.
অর্থাৎ- “শবে বরাতের নামায যদিও কোন কোন মাশায়েখগণ জামায়াতে পড়েছেন …… তবে আমাদের আইম্মা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের মাযহাব ওটাই যে জামায়াত تداعى এর সাথে হলে অর্থাৎ জামায়াতে চারজন মুক্তাদী হলে মাকরূহ তাহ্রীমী হবে। “রেজভীয়া” কিতাবের ৩য় খন্ডের ৪৬৫ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে,
ذلک کلہ بدعۃ … ولم ینقل عن النبی صلی اللہ علیہ وسلم ولا عن اصحابہ … دوسرا قول یہ گہ مساجد میں اس کی جما عت مگروہ ھے.
অর্থাৎ- “ওগুলো প্রত্যেকটি বিদ্য়াত অর্থাৎ ছলার্তু রাগায়িব, শবে বরাত, শবে ক্বদরের নফল নামায জামায়াতে আদায় করা ইত্যাদি প্রত্যেকটি কাজই বিদ্য়াত।” ….. কেননা, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং হযরত ছাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম থেকে ওগুলোর কোন বর্ণনা নেই। বিধায় ওগুলো প্রত্যেকটাই বিদ্য়াত। ……. দ্বিতীয় মতে, মসজিদে এর জামায়াত করা মাকরূহ তাহ্রীমী।” “রেজভীয়া” কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে, “ তারাবীহ্, ছলাতুল কুছুফ (সূর্যগ্রহণের নামায), ছলাতুল ইস্তিস্কা (বৃষ্টির নামায) এই তিন প্রকার নামায ব্যতীত অন্যান্য নফল নামাযসমূহ জামায়াতে পড়া মাকরূহ তাহ্রীমী।” যেমন, “রেজভীয়া”-এর ৩য় খন্ডে আরো উল্লেখ আছে,
ھمارے ائمہ کزام رضی اللہ تعالی عنھم کے نزدیک نوافل کی جماعت بتداعی مکروہ ھے اسی حکم میں نماز خسوف بھی داخل کہ وہ بھی تنھا پڑھی جائے اگر چہ امام جمعہ حا ضر ھو کما فی الشامی عن اسصعیل عن البرجندی …… صرف تراویح وصلاۃ الگسوف وصلاۃ الاستسقاء مسشنی ھیں …. تدا عی مذھب اصح میں اس وقب متحقق ھو گے جب چاریا زیادھ مقتدی ھوں.
অর্থঃ- “আমাদের আইম্মা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের নিকট নফল নামাযসমূহ تداعى-এর সাথে জামায়াতে পড়া মাকরূহ তাহ্রীমী। এই হুকুমের মধ্যে ছলাতুল খুছুফও (চন্দ্রগ্রহণের নামায) অন্তর্ভুক্ত। এই নামাযও একাকী পড়তে হবে। যদিও জুমুয়ার ইমাম উপস্থিত থাকে।” যেমন, শামী কিতাবে, ইসমাঈল এবং বরজুন্দী থেকে বর্ণিত আছে, …….. আর তারাবীহ্, ছলাতুল কুছুফ (সূর্য গ্রহণের নামায), ছলাতুল ইস্তিস্কা (বৃষ্টির নামায), এই হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ এই তিন প্রকার নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ নয়। …… অধিক ছহীহ মতে চারজন অথবা চারের অধিক মুক্তাদী হওয়াই (تد اعى) তাদায়ী অর্থাৎ মাকরূহ তাহ্রীমী। যেমন, “রেজভীয়া” কিতাবের উক্ত খন্ডের ৪৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
تراویح وکسوف واستسقاء کے سوا جماعت توافل میں ….. اور چار مقتدی ھو تو بالاتفاق مکروہ.
অর্থাৎ- “তারাবীহ, কুছুফ, (সূর্যগ্রহণের নামায) ইস্তিস্কার (বৃষ্টির) নামায ব্যতীত অন্যান্য নফল নামায সমূহ … ইমামের সাথে চারজন মুক্তাদীসহ জামায়াতে আদায় করা সকল ইমাম মুজতাহিদ ও ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সর্বসম্মত মতে মাকরূহ তাহ্রীমী।” আরো উল্লেখ্য যে, “রেজভীয়া” কিতাবে পরিশেষে এটাও উল্লেখ আছে যে, নফল নামায পড়তে হলে পৃথক পৃথক পড়তে হবে। জামায়াতের সাথে নফল নামায আদায় করা যাবে না। কেননা নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী। আর চারজন মুক্তাদী হলে সকল ইমাম মুজতাহিদ ও ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের সর্বসম্মত মতে নফল নামায জামায়াতের সাথে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী। শুধু তাই নয়, রেযা খাঁ তার ‘রেজভীয়া’ কিতাবে সুন্নত নামাযও জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহরীমী বলে ফতওয়া দিয়েছে। যেমন, ‘রেজভীয়া’ কিতাবের ৩য় খন্ডের ৪৬৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
استسقاء کے سوا بر نماز نفل وتراویح وکسوف کے سوا بر یما ز سنت میں ایسی جما عت جس مبں چاریا زیادہ شخص مقتدی بنیں مکروہ بے.
অর্থঃ- “ইস্তিস্কার নামায ব্যতীত যে কোন নফল নামাযে এবং তারাবীহ্ ও কুছুফ নামায ব্যতীত যে কোন সুন্নত নামাযে যদি এরূপ জামায়াত হয় যাতে চারজন অথবা চারের অধিক মুক্তাদি উপস্থিত হয় তাহলে মাকরূহ্ তাহ্রীমী হবে।” সুতরাং যেখানে সুন্নত নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সেখানে নফল নামায জামায়াতে পড়া কি করে বৈধ হতে পারে? যেমন, “রেজভীয়া” কিতাবের ১০ম খন্ডে উল্লেখ আছে,
نفل پڑ ھیں تو الگ الگ ور نہ نفل جما عت کثیرہ کے سا تھ مکروہ ھے چار مقتدی ھوں تو بالاتفاق.
অর্থঃ- “নফল নামায পড়তে হলে পৃথক পৃথক পড়বে, কেননা নফল নামায বড় জামায়াতের সাথে পড়া অর্থাৎ যদি জামায়াতে চারজন মুক্তাদী হয় তাহলে সকল ইমাম, মুজতাহিদ ও ফুক্বাহা-ই-কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের ঐক্যমতে জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ তাহ্রীমী।” উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো যে, রেযা খাঁ তার ‘রেজভীয়া’ কিতাবে, শবে বরাত, শবে ক্বদর, লাইলার্তু রাগায়িব ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বলে ফতওয়া দিয়েছে। সুতরাং “শবে বরাত, শবে ক্বদর, লাইলাতুর রাগায়িব, তাহাজ্জুদ” ইত্যাদি নফল নামায জামায়াতে আদায় করা মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্। এ ফতওয়া দেয়ার কারণেই যদি তা সীমালঙ্ঘন, ভন্ডামী ও মূর্খতার পরিচায়ক হয় তাহলে বলতে হয় যে, রেযাখানীদের উক্ত বক্তব্য মুতাবিক তাদের গুরু রেযাখাঁই শবে বরাত, শবে ক্বদরের নফল নামায জামায়াতের সাথে পড়াকে মাকরূহ্ তাহরীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ বলে ফতওয়া দিয়ে চরমভাবে সীমালঙ্ঘন করেছে, চরম ভাবে ভন্ডামী করেছে এবং চরমভাবে মূর্খতার পরিচয় দিয়েছে। (চলবে)
(উল্লেখ্য, রেযাখানীদের উপরোক্ত ভুলের সংশোধনীমূলক জাওয়াব মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৮৬ তম সংখ্যাতে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ৮৯ তম সংখ্যা হতে ধারাবাহিক ভাবে দেয়া হচ্ছে। ) মাওলানা মুহম্মদ মুহসিনুর রহমান মাওলানা মুহম্মদ মাছূম বিল্লাহ্ মুহম্মদ আসাদুর রহমান, মুহম্মদ মাইজুর রহমান ভোলাহাট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ। সুওয়ালঃ আমরা মাসিক আল বাইয়্যিনাত ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম এই তিনটি সংখ্যায় ৩৫৩টি অকাট্য দলীলের ভিত্তিতে প্রদত্ত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত-এর অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, মুহাক্কিক-মুদাক্কিক ও হক্কানী উলামা-ই-কিরামগণের ফতওয়া মুতাবিক জানতে পারলাম যে, “প্রাণীর ছবি তৈরী করা বা করানো, ঘরে রাখা সর্বাবস্থায় হারাম।” অথচ রেযাখানী মুখপত্র নভেম্বর/২০০১ ঈসায়ী সংখ্যায় ছবি সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ফতওয়া প্রকাশ করেছে। যা কিনা মানুষের ঈমান-আমল বিনষ্ট হওয়ার কারণ। রেযাখানীদের ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যের যে বিষয়গুলো আপত্তিকর সেগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো- (ক) রেযাখানীরা ছবি তোলাকে বৈধ বলেছে; কিন্তু দলীল হিসেবে পেশ করেছে ঘরে ছবি রাখা সম্পর্কিত হাদীসসমূহকে। (খ) .. কতেক উলামা যেসব ছবির শরীর ও ছায়া নেই সেসব ছবিকে বৈধ বলেছেন। (গ) হুজুর আকরাম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুরুর দিকে ছবি তৈরী করা ও সংরক্ষণ করাকে নিষেধ করেছিলেন; কিন্তু পরবর্তীতে অনুমতি দেন। (ঘ) পূর্ববর্তীদের কেউ কেউ এবং হাম্বলী, শাফেয়ী, মালেকী এমনকি হানাফীদেরও কেউ কেউ নাকি (গায়রে মুজাস্সাম) শরীরবিহীন ছবিকে বৈধ বলেছেন। (ঙ) সামাজিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রেক্ষাপটের কারণে বিশেষ প্রয়োজনে ছবি তোলা বৈধ যা যুগের চাহিদাও। (চ) প্রত্যেক যুগের ফক্বীহ্, মুফতী, কাজী ও আলিমগণ যুগের চাহিদা অনুযায়ী ফতওয়া দিয়েছেন এবং দেয়া উচিত। (ছ) ছবি হারাম হওয়ার মূলে হলো গায়রুল্লাহ্র সম্মান ও ইবাদত। (জ) প্রয়োজনীয় রেকর্ডের জন্য ফাইল বন্দি ছবিসমূহ এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের নিকট জ্ঞান ও ইতিহাসের অনেক অজানা তথ্য জানার নিমিত্তে সরকারী-বেসরকারী যাদুঘর বা বিশেষ প্রতিষ্ঠানসমূহে পূর্বের নানা মনীষীগণের ছবি সংরক্ষণ/ধারণ করে রাখা বিশেষ প্রয়োজনে মাকরূহ্ হবেনা। এছাড়াও আরো বহু আপত্তিকর বিষয় তাদের উক্ত ছবি সম্পর্কিত বক্তব্যে স্থান পেয়েছে। কুরআন-সুন্নাহ্, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে তাদের উল্লিখিত আপত্তিকর বক্তব্যগুলোর শরয়ী ফায়সালা কামনা করি। জাওয়াবঃ হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الز مان دجالون كذا بون يأتونكم من الاحاديث بما لم تسمعوا انتم ولا اباؤكم فا ياكم واياهم لايضلونكم ولايفتنونكم
অর্থঃ- “হযরত আবূ হুরাইরা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আখিরী যামানায় কিছু সংখ্যক মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি, সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ্ করতে পারবে না এবং ফিৎনায় ফেলতে পারবেনা।” (মুসলিম শরীফ) উল্লিখিত হাদীস শরীফের পূর্ণ মিছদাক বা নমুনা হচ্ছে রেযাখানীরা। তারা ছবির ব্যাপারে এমন সব বক্তব্য প্রদান করেছে যা কিতাবে দেখা তো দূরের কথা কেউ কোনদিন শুনেওনি। মূলতঃ রেযাখানীরা নিজেদেরকৃত বদ আমলকে ধামা-চাপা দেয়ার উদ্দেশ্যেই মনগড়াভাবে ছবিকে জায়িয করার অপচেষ্টা করেছে। (ধারাবাহিক) প্রাণীর ছবি সম্পর্কে প্রশ্নে উল্লিখিত রেযাখানীদের আপত্তিকর ও প্রতারণামূলক বক্তব্য সমূহের খন্ডন মূলক জবাব- (১) স্মর্তব্য যে, রেযাখানীদের প্রদত্ত দ্বিতীয় দলীলের খণ্ডনমূলক আলোচনার দ্বারা যে বিষয়গুলো প্রমাণিত হয়েছে তা হলো- ১। রেযাখানীরা নিজেদের ভ্রান্ত মত প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এবং নিজেদের হীনস্বার্থ চরিতার্থ করার কু উদ্দেশ্যে “পর্দা, চাদর বা কোন কাপড়ে যে, প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা ও তা ঘরে রাখা নিষেধ” এ সম্পর্কিত ছহীহ্ হাদীস শরীফ সমূহ সম্পূর্ণরূপে গোপন রেখে নিজেদেরকে হাদীস শরীফ কারচুপিকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ২। রেযাখানীরা হাদীস শরীফে বর্ণিত, الا رقما فى ثوب”” এর সম্পূর্ণ মনগড়া অর্থ করে নিজেদেরকে হাদীস শরীফের অপব্যাখ্যাকারী হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ৩। উক্ত হাদীস শরীফকে দলীল হিসেবে পেশ করে নিজেদেরকে চরম জাহিল ও প্রতারক হিসেবেই প্রমাণ করেছে। কেননা যদিও ধরে নেই যে, উক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা কাপড়ের উপর প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা বৈধ বুঝায়, কিন্তু প্রশ্ন হলো- রেযাখানীদের আমদানীকৃত পীরদের ছবিগুলো কি কাপড়ের উপর অঙ্কন করা হয় নাকি কাগজের উপর অঙ্কন করা হয়? যেহেতু তাঁদের ছবিগুলো কাপড়ের উপর অঙ্কিত নয়। সেহেতু উক্ত হাদীস শরীফ খানা এক্ষেত্রে দলীল হিসেবে পেশ করা চরম জিহালত ও প্রতারণা বৈ কিছুই নয়। উল্লেখ্য রেযাখানীরা শুধু হাদীস কারচুপি, হাদীসের অপব্যাখ্যা করেই ক্ষ্যন্ত হয় নাই, তারা হাদীস শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ সমূহের ইবারতও কারচুপি করেছে। নিজেদের ভ্রান্ত মতকে ছাবেত করার জন্যে যতটুকু ইবারত প্রয়োজন ততটুকু উল্লেখ করেছে। আর যেটুকু তাদের বিপক্ষে তা বেমালুম হজম করে ফেলেছে। যেমন- রেযাখানীরা তাদের প্রদত্ত দ্বিতীয় হাদীসের ব্যাখ্যায় মুসলিম শরীফের ব্যাখ্যাগ্রন্থ ‘শরহে নববীর’ নিম্নোক্ত ইবারত উল্লেখ করেছে,
هذا يحتج به من يدل باباحة ماكان رقما مطلقا.
অর্থাৎ- যারা মাতলাক বা সাধারণভাবে অঙ্কিত ছবির বৈধতা বলে থাকেন তারা এ হাদীসকে দলীল হিসেবে পেশ করেন। (ইমাম নববী, শরহে ছহীহ্ মুসলিম ২য় খন্ড ৬০০পৃষ্ঠা) রেযাখানীরা মনে করেছে, “শরহে নববী” কিতাবখানা হয়তো শুধুমাত্র তাদের কাছেই রয়েছে, তাই তারা এতবড় জালিয়াতী করার সাহস পেয়েছে। তারা সুকৌশলে উক্ত বক্তব্যকে ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বক্তব্য হিসেবে চালিয়ে দিতে চেয়েছে। অথচ হাদীস শরীফে বর্ণিত “الا رقما فى ثوب”-এর ব্যাখ্যায় প্রদত্ত উল্লিখিত বক্তব্যখানা ইমাম নববীর মূল বক্তব্য নয়। বরং উক্ত ইবারতের পরপরই ইমাম নববী-এর মূল বক্তব্য উল্লেখ রয়েছে। যা রেযাখানীদের কাছে মৃত্যুতুল্য বিধায় রেযাখানীরা তা কারচুপি করে গোপন রেখেছে। তাই পাঠকদের প্রতি অনুরোধ, আপনারা শরহে নববী-এর উক্ত খন্ড খুলে দেখুন তাতে কি লিখা রয়েছে। আর তাতে মূলতঃ উল্লেখ আছে,
هذا يحتج به من يدل باباحة ماكان رقما مطلقا كما سبق وجوابنا وجواب الجمهور عنه انه محمول على رقم على صورة الشجر وغيره ماليس بحيوان وقد قذ منا ان هذا جائز عندنا.
অর্থঃ- “যারা মতলক বা সাধারণভাবে কাপড়ে অঙ্কিত ছবিকে জায়িয বলেছে তারা এ হাদীস শরীফের উপর ভিত্তি করেই বলেছে। আর আমাদের ও জমহুর আলিমগণের ফতওয়া হলো- হাদীস শরীফে বর্ণিত رقم দ্বারা গাছপালার অনুরূপ প্রাণহীন বস্তুর আকৃতিকেই বুঝানো হয়েছে। আর পূর্বেই বলা হয়েছে যে, এরূপ গাছপালার ছবি আমাদের নিকট জায়িয।” উল্লিখিত ইবারত দ্বারা সুস্পষ্ট ও অকাট্য ভাবেই প্রমাণিত হলো যে, ইমাম নববী-এর মতে ও জমহুর আলিমগণের মতে হাদীস শরীফে বর্ণিত “الا رقما فى ثوب”-এর অর্থ হলো গাছ-পালা বা প্রাণহীন বস্তুর ছবি। শুধু শরহে নববীতেই নয়, হাদীস শরীফের অন্যান্য ব্যাখ্যা গ্রন্থসমূহেও ইমাম নববী ও জমহুর আলিমগণের উক্ত মত উল্লেখ রয়েছে, যেমন-
يحتج به من يجيز الر قم مطلقا وجوا بنا وجواب الجمهور انه محمول على رقم مالا روح فيه.
অর্থঃ- “যারা সাধারণভাবে কাপড়ের উপর অঙ্কিত ছবিকে জায়িয বলে তারা এ হাদীস শরীফকে দলীল হিসেবে পেশ করে থাকে। কিন্তু আমাদের এবং জমহুর উলামাদের ফতওয়া হলো উক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা মূলতঃ প্রাণহীন বস্তুর ছবিকেই বুঝানো হয়েছে।” (শরহুল উবাই ওয়া সিনূসী-এর ৭ম জিঃ ২৫৬ পৃষ্ঠা)
قال النووى يجمع بين الاحاديث بان المراد باستثناء الرقم فى الثوب ما كانت الصورة فيه من غير ذوات الارواح كصورة الشجر ونحوها.
অর্থঃ- “(কাপড়ের ছবি ব্যতীত) …. ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, উক্ত হাদীস শরীফে যে কাপড়ের উপর অঙ্কিত ছবিকে বাদ দেয়া হয়েছে অর্থাৎ জায়িয বলা হয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রাণহীন বস্তুর ছবি যেমন, গাছপালা, তরুলতা ইত্যাদি।” (ফাতহুল বারী শরহে বুখারী-এর ১০ জিঃ ৩৯০ পৃষ্ঠা)
…. قال النووى ….. بان المراد استثناء الر قم فى الثوب ما كا نت الصورة فيه من غير ذوات الارواح كصورة الشجر منحوها.
অর্থঃ- “(কাপড়ের অঙ্কিত ছবি অর্থাৎ কাপড়ে অঙ্কিত (গাছপালার) নক্শা ব্যতীত) … ইমাম নববী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “الا رقما فى الثوب”
এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, প্রাণহীন বস্তুর ছবি। যেমন, গাছপালা ইত্যাদি।” (ইরশাদুস্ সারী শরহে বুখারী”-এর ৮ম জিঃ ৪৮৩ পৃষ্ঠা)
واجاب عنه الجمهور بان المراد من “الرقم فى الثوب” هو ما كان فيه من نقش الشجر ونحوه مما لاروح له.
অর্থঃ- হাদীস শরীফে বর্ণিত “الا رقما فى ثوب” -এর ব্যাখ্যায় জমহুর উলামাগণ বলেন, হাদীস শরীফে বর্ণিত ॥ল্ফহৃ শব্দ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গাছপালার নকশা, অনুরূপ প্রাণহীন বস্তুর আকৃতি।” (ফাতহুল মুলহিম- ৪র্থ জিঃ ১৫০ পৃষ্ঠা) অতএব, প্রমাণিত হলো যে, রেযাখানীরা “কাপড়ের উপর অঙ্কিত ছবিকে বৈধ” করার উদ্দেশ্যে “শরহে নববী” থেকে যে ইবারত উল্লেখ করেছে তা এক্ষেত্রে মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় বরং সম্পূর্ণই পরিত্যাজ্য। কেননা তাদের উল্লিখিত মতটি ইমাম নববী ও জমহুর আলিমগণের মত নয়। ইমাম নববী ও জমহুর আলিমগণের মত হলো- কাপড়ের উপরও প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা হারাম। উক্ত হাদীস শরীফ কাপড়ের উপর যে ছবি অঙ্কন করা বৈধ বুঝা যায় তা হলো প্রাণহীন বস্তুর ছবি যেমন গাছ-পালা, তরুলতা, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদি। সুতরাং রেযাখানীরা শরহে নববী-এর পরবর্তী অংশ গোপন রেখে নিজেদের চরম জালিয়াত, প্রতারক, ইবারত চোর হিসেবেই সাব্যস্ত করেছে। যারা জালিয়াত, প্রতারক, ইবারত চুরিতে সিদ্ধহস্ত তাদের ফতওয়া কি করে গ্রহণযোগ্য হতে পারে? মূলতঃ সকলের উচিত এ ধরণের তথাকথিত মুফতীদের ছোহবত থেকে দূরে থাকা এবং তাদের পত্রিকা ও কিতাবাদি পড়া থেকে বিরত থাকা। নচেৎ ঈমান-আমল হিফাজত করা কঠিন হবে। (চলবে) মুহম্মদ রব্বানী সাধারণ সম্পাদক- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত চৌধুরী বাজার, সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম সুওয়ালঃ হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত মাসিক মুঈনুল ইসলাম সেপ্টেম্বর/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় জিজ্ঞাসার-সমাধান বিভাগে ৩৭৭৯ নং জিজ্ঞাসার-সমাধানে বলা হয়েছে, “….. খতম তারাবীহের জন্য হাফেজ সাহেবকে টাকা-পয়সা দেওয়া এবং তার তা গ্রহণ করা দু’টোই নাজায়েয। …..” এখন আমার সুওয়াল হলো- খতমে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা সম্পর্কে মাসিক মুঈনুল ইসলাম পত্রিকার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? জাওয়াবঃ না, খতমে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা সম্পর্কে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে প্রকাশিত অখ্যাত পত্রিকার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। কেননা, খতমে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা সম্পর্কে অখ্যাত পত্রিকা যে বক্তব্য প্রদান করেছে তা সম্পূর্ণই অশুদ্ধ, বিভ্রান্তিকর ও অনুসরণীয় সকল উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীন, ইমাম মুজতাহিদ ও ফক্বীহ্গণের ফতওয়াগ্রাহ্য মতের বিপরীত। স্মরণীয়, হাটহাজারীর মৌলভী ছাহেব এবং তাদের সমজাতীয়রা কিতাবের মাফহুম যেমন বুঝতে পারেনি তেমনি একইভাবে উলামা-ই-মুতাকাদ্দিমীন এবং উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীন-এর পার্থক্যও করতে পারেনি। তাই তারা খত্মে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা সম্পর্কে এ ধরণের বক্তব্য পেশ করে থাকে। অথচ এই মাসয়ালাটি সম্পর্কে উলামা-ই-মুতাকাদ্দিমীন ও উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীনগণ ইখতিলাফ করেছেন। যেমন, উলামা-ই-মুতাকাদ্দিমীনগণ বলেছেন, “সর্বপ্রকার ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা বাতিল তথা নাজায়িয।” আর উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীনগণ বলেছেন, “সর্বপ্রকার ইবাদতের বিনিময় গ্রহণ করা জায়িয তবে তা শর্ত সাপেক্ষে।” উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীনগণ বলেন যে, “সময় বা স্থান নির্ধারণ করার শর্তে কুরআন শরীফ খত্ম করা তথা খ্ত্মে তারাবীহ ও সূরা তারাবীহ্সহ সকল প্রকার ফরয, ওয়াজিব ও সুন্নাতে মুয়াক্কাদা ইত্যাদি সর্বপ্রকার ইবাদতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক দেয়া এবং গ্রহণ করা জায়িয ও শরীয়তসম্মত।” এটাই গ্রহণযোগ্য মত এবং এ মতের উপরই ফতওয়া। এর বিপরীত ফতওয়া দেয়া নাজায়িয ও হারাম। ” এ প্রসঙ্গে ফিক্বাহ্র বিশ্ববিখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য কিতাব “জামিউর রুমুজে” উল্লেখ আছে যে,
تبطل الاجارة عند المتقدمين للعبادات كالاذان والاما مة والتذكير والتدريس والحج والغزو وتعليم القران والفقه وقر أتهما ويفتى اليوم اى يفتى المتأ خرون بصحتها اى الاجارة لهذا العبادات.
অর্থঃ- “উলামায়ে মুতাকাদ্দিমীনগণের অর্থাৎ পূর্ববর্তী আলিমগণের মতে আযান, ইমামতি, যিকির, শিক্ষকতা, হজ্জ্ব, জ্বিহাদ, কুরআন শরীফ ও ফিক্বাহ্ শিক্ষা দিয়ে এবং ফিক্বাহ্ ও কুরআন শরীফ পাঠ করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা নাজায়িয ও বাতিল। আর বর্তমানে ফতওয়া হলো- অর্থাৎ উলামায়ে মুতাআখ্খিরীনগণের (পরবর্তী আলিম) ফতওয়া মুতাবিক উল্লিখিত ইবাদতসমূহের বিনিময়ে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও ছহীহ্।” অনুরূপ “তাফসীরে রুহুল বয়ান” ও “মূলতাকার হাশিয়াতে”ও উল্লেখ আছে। আর উলামা-ই-মুতাআখ্খিরীন-এর মত প্রসঙ্গে “বাহ্রুর রায়িক” কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে,
ان المفتى به جواز الاخذ على القرائة.
অর্থঃ- “কুরআন শরীফ পাঠ করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয, এটা ফতওয়া গ্রাহ্যমত।” এ প্রসঙ্গে “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবে উল্লেখ আছে,
اختلفوا فى الاستيجار على قراة القران عند القبر مدة معلومة قال بعضهم يجوذ وهو المختار كذا فى سراج الوهاج.
অর্থঃ- “কোন নির্দিষ্ট সময়ে কবরের নিকট কুরআন শরীফ পড়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করার ব্যাপারে আলিমগণের মধ্যে মতানৈক্য আছে, কতক বলেছেন, এটা জায়িয। আর এটাই ফতওয়াগ্রাহ্য মত।” “সিরাজুল ওহ্হাজ” কিতাবেও অনুরূপ মত রয়েছে। “তাহ্তাবী” কিতাবে উল্লেখ আছে,
المختار جواز الاستيجار على قرأة الفر ان الخ.
অর্থঃ- “কুরআন শরীফ তিলাওয়াত করে উজরত গ্রহণ করা জায়িয হওয়াই (ফক্বীহ্গণের) মনোনীত মত।” আর ফিক্বাহ্ শাস্ত্রের উসূল বা নিয়ম হলো- মতভেদযুক্ত মাসয়ালায় যে মতটাকে وبه يفتى- وهوا لمختار. عليه الفتاوى ইত্যাদি শব্দ দ্বারা توجيح বা প্রাধান্য দেয়া হবে, সে মতটিই গ্রহণযোগ্য হবে। প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাসয়ালার বিপরীত ফতওয়া দেয়া সম্পূর্ণই নাজায়িয ও হারাম। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয় যে,
ابن حجر المكى قال لايحل لهما الحكم والافتاء بغير الر اجح لانه اتبا ع للهواء وهو حرام اجماعا.
অর্থঃ- “মুহাক্কিক ইবনে হাজর মক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ইখ্তিলাফযুক্ত মাসয়ালায় প্রাধান্যপ্রাপ্ত মাসয়ালার বিপরীত ফতওয়া দেয়া বা আমল করা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম। কেননা এটা নফসের অনুসরণ।” এটা “ফতওয়ায় কোবরাতে”ও উল্লেখ আছে। (উকুদে রস্মুল মুফ্তী পৃষ্ঠা-৩) অতএব, যে বিষয়গুলো অসংখ্য অকাট্য দলীল দ্বারা হালাল বা জায়িয প্রমাণিত, সে বিষয়গুলোকে নাজায়িয, হারাম ও বিদ্য়াত বলা সম্পূর্ণরূপে গোমরাহীর নামান্তর। আর এদের প্রসঙ্গেই আল্লাহ্ পাক তাঁর কালামে পাকে ইরশাদ করেন,
يا يها الذين امنوا لاتحرموا طيبت ما احل الله لكم ولاتعتدوا ان الله لايحب المعتدين.
অর্থঃ- “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্ পাক তোমাদের জন্যে পবিত্র বস্তু হতে যা হালাল করেছেন, তোমরা তা হারাম করোনা আর (এ ব্যাপারে) সীমালঙ্ঘন করোনা। নিশ্চয়ই আল্লাহ্ পাক সীমালঙ্ঘনকারীকে ভালবাসেন না।” (সূরা মায়িদা/৮৭) সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, খত্মে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা সম্পর্কে হাটহাজারী মাদ্রাসার জাহিল মৌলভী এবং তাদের সমজাতীয়দের বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল যা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়ার বিপরীত হওয়ার কারণে পরিত্যাজ্য। আর বিশেষভাবে স্মরণীয় যে, হাফিয ছাহেবকে যেহেতু সময় ও স্থান নির্ধারণ করে দেয়া হয়, সেহেতু খতমে তারাবীহ্ বা সূরা তারাবীহ্ পড়ানোর বিনিময় বা পারিশ্রমিক দেয়া এবং গ্রহণ করা উভয়টাই জায়িয। এমনকি এ অবস্থায় হাফিয ছাহেব দাবী করেও তা আদায় করতে পারবেন। (বিঃ দ্রঃ ‘খতমে তারাবীহ্র বিনিময় দেয়া এবং গ্রহণ করা জায়িয’ এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ২৩ ও ২৪তম সংখ্যার ফতওয়া বিভাগ পড়ুন এবং বিশেষ করে ৩৬, ৪৭, ৫৫, ৬৬, ৬৯, ৭১, ৭৫, ৭৭, ৮৪, ৮৭, ৮৮, ৯০, ৯২তম সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে মাসিক মদীনা, মাসিক রাহমানী পয়গাম এবং মাসিক মুঈনুল ইসলাম পত্রিকার ভুল বক্তব্য খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হয়েছে। এবার ৭ম বারের মত হাটহাজারী মাদ্রাসার মাসিক মুখপত্রের ভুল বক্তব্য খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হলো। এছাড়াও ১৩, ১৪, ২২, ২৫, ২৬, ৩০, ৩৬, ৪৭, ৫২, ৫৩, ৫৭ এবং ৫৮ থেকে ৬৯তম সংখ্যার মতামত বিভাগের উজরত সম্পর্কে “ভন্ডামী ফাঁস” মতামতটি পাঠ করুন।) {দলীলসমূহ ঃ (১) তাফসীরে ইকলীল, (২) তাফসীরে আযীযী, (৩) আলমগীরী, (৪) তাতারখানিয়া, (৫) দুররুল মুখতার, (৬) আশবাহু ওয়ান্ নাজায়েব, (৮) জাওহারাতুন্ নাইয়্যারাহ্ (৯) বাহরুর রায়িক, (১০) তাহতাবী, (১১) কাশফুল গুম্মাহ, (৫) ফতওয়ায়ে আলী আফেন্দী, (১২) ফতওয়ায়ে ফয়জী, (১৩) ফতওয়ায়ে আবূ সাউদ ইমাদী, (১৪) ফতওয়ায়ে আব্দুর রহীম আফেন্দী, (১৫) মজমূয়ায়ে ফতওয়ায়ে আব্দুল হাই, (১৬) মাদারেজুন নবুওয়াত, (১৭) রোবউল ইফাদাহ, (১৮) হাশিয়ায়ে মিসকীন, (১৯) জামিউর রুমূজ (২০) শেফাউল আলীল, (২১) ইয়াতীমাতুদ্দাহর লিল ইমাম আলাউদ্দীন হানাফী ইত্যাদি।}
হাফিয মুহম্মদ কবীর হুসাইন আহবায়ক- আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত
মৈশাদি শাখা, মাধবদী, নরসিংদী
সুওয়ালঃ মাসিক মদীনা সেপ্টেম্বর/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় প্রশ্নোত্তর বিভাগে ৩৫ নং প্রশ্নের উত্তরে বলা হয়েছে “নামায জামাতের সাথে আদায় করা ওয়াজেব এবং বিশেষ কোন ওজর ছাড়া জামাতের সাথে নামায না পড়লে ওয়াজেব তরকের গোনাহ হয়।”
এখন আমার সুওয়াল হলো- জামায়াতে নামায আদায় করা সম্পর্কে মাসিক মদীনার উপরোক্ত বক্তব্য সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ জানাবেন। জাওয়াবঃ “জামায়াতের সাথে নামায আদায় করা সম্পর্কে” মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য সঠিক হয়নি। বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে যা ফতওয়াগ্রাহ্য মতের বিপরীত। কারণ নির্ভরযোগ্য সকল ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার কিতাবের ফতওয়া হলো, জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ক্বারীবাতুম মিনাল ওয়াজিব। অর্থাৎ ওয়াজিবের কাছাকাছি। তবে ওয়াজিব নয়, সুন্নতে মুয়াক্কাদা। যেমন, বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাব- “ফতওয়ায়ে নাওয়াযিল”-এর ৪৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
اداء الصلوة بالجما عة سنة مؤكدة.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “শরহুল কুদূরী আললুবাব লিল মায়দানী” কিতাবের ১ম খন্ডের ৮০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
الجماعة للرجال سنة موكدة.
অর্থঃ- “পুরুষের জন্য জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “তানবীরুল আবছার” কিতাবে উল্লেখ আছে,
الجما عة سنة مؤكدة للرجال.
অর্থঃ- “পুরুষের জন্য জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “রওজাতুন্ নারীয়্যা শরহে দুরারিল বাহিয়্যা” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৫৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
صلاة الجماعة هى من اكد السنت.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায আদায় করা এটা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খন্ডের ৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
الجماعة سنة مؤكدة كذا فى المتون والخلاصة والمحيط ومحيط السر خسى.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা, অনুরূপ মাতুন, খোলাছা, মুহীত্ব এবং মুহীত্বে সারাখছী-এর মধ্যে উল্লেখ আছে যে, জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “হাশিয়ায়ে ইয়ানাতুত্ ত্বলিবীন” কিতাবের ২য় খন্ডের ৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
صلاة الجما عة فى اداء مكتوبة سنة موكدة
অর্থঃ- “ফরয নামায জামায়াতে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “শরহুন্ নিক্বায়া” কিতাবের ১ম খন্ডের ১৯১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
الجما عة فى الصلوة الفر يضة سنة مؤكدة.
অর্থঃ- “ফরয নামায জামায়াতে আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “গায়াতুল আওতার” কিতাবের ১ম খন্ডের ২৫৬ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
جما عت مردوں کےلے سنت موکدہ بی.
অর্থঃ- “পুরুষ লোকদের জন্য জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “নূরুল ইজাহ্” কিতাবের ৭৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
والصلوة بلجما عة سنة للر جال الاحرار بلا عذر
অর্থঃ- “ওজর ব্যতীত স্বাধীন পুরুষের জন্য জামায়াতে নামায পড়া সুন্নত।” “শরহে বিক্বায়া” কিতাবের ১ম খন্ডের ১০৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
الجماعة سنة مؤكدة وهو قريب من الواجب.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ওয়াজিবের নিকটবর্তী।” “নূরুল হিদায়া” কিতাবের ১ম খন্ডের ১০০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
جما عت سنت مؤکدہ ھے قریب واجب کے.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ওয়াজিবের নিকটবর্তী।” “জাওহারাতুন নাইয়ারাহ” কিতাবের ১ম খন্ডের ৭৫ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
الجماعة سنة مؤكدة اى قريبة من الواجب،
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অর্থাৎ ওয়াজিবের নিকটবর্তী।” “মালাবুদ্দা মিনহু” কিতাবের ৪২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
جماعت در نمازبای پنجگا نہ فرض است نزد احمد رح لیکں نماز منفرد بم صحیح است ونزد شافعی رح جما عت فرض کفا یہ است ونزد ابی حنیفہ رح ومالک رح جما عت سنت مؤکدھ است قریب واجب.
অর্থঃ- “ইমাম আহ্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযে জামায়াত ফরয। তবে একাকী ব্যক্তির নামাযও ছহীহ্ হবে। ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে জামায়াত ফরযে ক্বিফায়া। ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মতে জামায়াত সুন্নতে মুয়াক্কাদা, ওয়াজিবের কাছাকাছি।” “আল ফিক্বহুল ইসলামিয়্যূ ওয়া আদিল্লাতুহু” কিতাবের ২য় খন্ডের ১৪৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
فقال الحنفية والما لكية الجما عة فى الفر انض غير الجمعة سنة مؤكدة للر جال.
অর্থঃ- “হানাফী এবং মালিকীগণ বলেন, জুমুয়া ব্যতীত ফরয নামাযসমূহ জামায়াতে আদায় করা পুরুষ লোকের জন্য সুন্নতে মুয়াক্কাদা।” “নাফউল মুফতী ওয়াস্ সায়িল” কিতাবের ২৫৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
مشهود یہ بے کہ جما عۃ سے نماز کا پڑھنا سنت موکدہ بے جو قریب واجب کے بے.
অর্থঃ- “জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ওয়াজিবের নিকটবর্তী; এটাই প্রসিদ্ধ বা মশহুর ফতওয়া।” উপরোক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা যা ক্বারীবাতুম মিনাল ওয়াজিব। অর্থাৎ ওয়াজিব নয় তবে ওয়াজিবের নিকটবর্তী। যা সুন্নতে মুয়াক্কাদা এবং এর উপরই ফতওয়া। সমস্ত বিশ্ববিখ্যাত ফতওয়ার কিতাবসমূহে ফক্বীহগণ এ মতটিকেই ফতওয়াগ্রাহ্য মত বলে উল্লেখ করেছেন। আমরা উপরোক্ত দলীলের মাধ্যমে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছি যে, ইমাম আহমদ রহমতুল্লাহি আলাইহি জামায়াতে নামায আদায় করাকে ফরয বলেছেন। ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি জামায়াতের সাথে নামায আদায় করাকে ফরযে ক্বিফায়া বলেছেন। আর আমাদের হানাফী মাযহাবের ইমাম, ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেছেন, জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। সুতরাং আমাদের হানাফী মাযহাবের ফতওয়া হলো, জামায়াতে নামায আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদা। অতএব, প্রমাণিত হলো, মাসিক মদীনার উক্ত বক্তব্য অশুদ্ধ ও ভুল। কারণ এটা সর্বজনমান্য ও বিশ্বখ্যাত ফতওয়ার কিতাবসমূহের ফতওয়াগ্রাহ্য মতের বিপরীত যা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। (বিঃ দ্রঃ ‘জামায়াতে নামায পড়া ওয়াজিব নয় বরং জামায়াতে নামায পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদা’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ৭২ ও ১০৬তম সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপত্রের, মাসিক রাহমানী পয়গাম এবং মাসিক মদীনার ভুল বক্তব্যকে খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হয়েছে। এবার দ্বিতীয়বারের মত মাসিক মদীনার ভুল বক্তব্যকে খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হলো।) {দলীলসমূহঃ (১) ফতওয়ায়ে নাওয়াযিল, (২) আল মুখতাছারুল কুদূরী, (৩) কানযুদ্ দাক্বায়িক্ব, (৪) মিনহাতুল খালিক্ব, (৫) খুলাছাতুল ফতওয়া, (৬) তানবীরুল আবছার, (৭) মুখতাছারুল ইমাম খলীল রহমতুল্লাহি আলাইহি, (৮) জাওয়াহিরুল ইকলীল, (৯) দুররিল বাহিয়্যা, (১০) রওযাতুন্ নারিয়্যা, (১১) মাতুন, (১২) আল লুবাব, (১৩) আল মুহায্যাব, (১৪) বাদায়াতুল মুজতাহিদ, (১৫) মুহিত্ব, (১৬) মুহিত্বে সারাখসী, (১৭) আল ফিক্বহুল মু-ইয়াস্সার, (১৮) ইয়ানাতুত্ ত্বলিবীন, (১৯) হাশিয়ায়ে ইয়ানাতুত্ ত্বলিবীন, (২০) হিদায়া, (২১) বেনায়া, (২২) ইনায়া, (২৩) কিফায়া, (২৪) বিকায়া, (২৫) দেরায়া, (২৬) হাশিয়ায়ে চলপী, (২৭) শরহুছ্ ছগীর, (২৮) শরহে বিক্বায়া, (২৯) শরহে ইনায়া, (৩০) শরহে ইলিয়াস, (৩১) আল আছল, (৩২) বাহরুর রায়িক, (৩৩) তাবয়ীনুল হাকায়িক, (৩৪) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (৩৫) আত্তানক্বীহুদ যুরুরী, (৩৬) কিফায়াতুল আখইয়ার ফি হাল্লি গায়াতিল ইখতিছার, (৩৭) ফিক্বহুস্ সুন্নাহ্, (৩৮) তাতারখানিয়া, (৩৯) কুনীয়া, (৪০) জাওহারাতুন নাইয়্যিরাহ, (৪১) জাওয়াহির, (৪২) খাওয়াহির যাদা, (৪৩) দুররুল মুখতার, (৪৪) গায়াতুল আওতার, (৪৫) হাশিয়াতুত্ তাহতাবী আলা দুররিল মুখতার (৪৬) মা’দানুল হাক্বায়িক, (৪৭) নূরুল ইজাহ, (৪৮) নূরুল হিদায়া, (৪৯) নূরুদ দিরায়া, (৫০) কুররাতুল আইনি বি মুহমমাতিত দ্বীন, (৫১) ফতহুল মুঈন, (৫২) ফতহুল কাদীর, (৫৩) মারাকিউল ফালাহ, (৫৪) হাশিয়াত্তু তাহতাবী আলা মারাকিউল ফালাহ, (৫৫) মালাবুদ্দা মিনহু, (৫৬) ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, (৫৭) শামী, (৫৮) আহসানুল মাসায়িল ইত্যাদি) মুহম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান (রুসেল) সভাপতি- আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত পলাশবাড়ী শাখা, গাইবান্ধা সুওয়ালঃ মাসিক রাহমানী পয়গাম সেপ্টেম্বর/২০০২ ঈসায়ী সংখ্যায় জিজ্ঞাসার-জবাব বিভাগে নিম্নোক্ত ১০৬৭ নং জিজ্ঞাসার জবাব ছাপা হয়। জিজ্ঞাসাঃ বিতরের নামাযের পরে যে দুই রাকাআত নামায পড়া হয় তা বসে পড়া উত্তম না-কি দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম? অনেকে এ নামাযকে হালকী নফল বলে। তাই বলে তা বসে আদায় করাই উত্তম। এ কথা কতটুকু ঠিক? জবাবঃ অন্যান্য নফল নামাযের মত বিতরের পরের দু’রাকাআত নফল নামাযও দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম। ‘বসে আদায় করা উত্তম’ কথাটি ভুল ও ভিত্তিহীন। বসে নামায পড়া কখনো দাঁড়িয়ে নামায পড়া হতে উত্তম নয়। …… এখন আমার সুওয়াল হলো- বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায বসে আদায় করা সম্পর্কে মাসিক রাহমানী পয়গাম পত্রিকার উক্ত জিজ্ঞাসার-জবাব সঠিক হয়েছে কি? দলীলসহ সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায যাকে “হালক্বী নফল” বলা হয়, তা বসে আদায় করা সম্পর্কে মাসিক রাহমানী পয়গাম পত্রিকার উক্ত জিজ্ঞাসার-জবাব সঠিক হয়নি বরং ভুল ও অশুদ্ধ হয়েছে। যা মনগড়া ও দলীলবিহীন এবং কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ। কেননা সব ধরণের নফল নামায দাঁড়িয়ে পড়া উত্তম এবং পরিপূর্ণ ছওয়াব লাভের কারণ হলেও বিত্রের পর দুই রাকায়াত নফল নামায বসে পড়াই সুন্নত যা উত্তম ও পূর্ণ ছওয়াব এবং অধিক ফযীলতের কারণ। এছাড়া বাকী অন্যান্য নফল নামায দাঁড়িয়ে পড়লে পূর্ণ ছওয়াব এবং বসে পড়লে অর্ধেক ছওয়াব। কারণ বিত্রের পর এই দুই রাকায়াত নফল নামায স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসেই আদায় করেছেন। যেমন, “ইবনে মাযাহ্ শরীফের” ৮৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত আছে,
عن ام سلمة رضى الله تعالى عنها ان النبى صلى الله عليه وسلم كان يصلى بعد الوتر ركعتين خفيفتين وحو جالس.
অর্থঃ- “উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত আছে যে, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায সংক্ষিপ্তভাবে বসেই আদায় করতেন।” অনুরূপভাবে হাদীস শরীফে উল্লেখ আছে যে,
عن ابى امامة رضى الله عنه ان النبى صلى الله عليه وسلم كان يصليها بعدالو تر وهو جالس يقرأ فيهما اذا زلزلت وقل يا يها الكفرون.
অর্থঃ- “হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিত্র নামায আদায়ের পর বসে বসে দু’রাকায়াত (নফল) আদায় করেছেন। আর ঐ রাকায়াতদ্বয়ে যথাক্রমে ‘সূরা যিলযাল’ এবং ‘সূরা কাফিরুন’ পাঠ করতেন।” (মুসনদে আহ্মদ) “ইবনে মাযাহ শরীফের” ৮৫ পৃষ্ঠার ২নং হাশিয়ায় আরো উল্লেখ আছে,
عن عائشة رضى الله عنها كان يصلى ثلث عشرة ركعة يصلى ثمان ركعات ثم يوتر ثم يصلى ركعتين وهو جا لس.
অর্থঃ- “হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (রাতে) তের রাকায়াত নামায আদায় করতেন। আট রাকায়াত (তাহাজ্জুদ) পড়ে তিন রাকায়াত বিত্র পড়তেন। অতঃপর বসে বসে দু’রাকায়াত (নফল) পড়তেন।” উপরোক্ত হাদীস শরীফ দ্বারা সুস্পষ্টভাবে এটাই প্রমাণিত হলো যে, আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম “বিত্র নামাযের পর দু’ রাকায়াত নফল নামায বসেই আদায় করেছেন। আর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করেছেন সেটাই উত্তম। অর্থাৎ ইত্তিবায়ে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামই উত্তম। এর মধ্যেই বেশী ছওয়াব ও সর্বাধিক ফযীলত নিহিত রয়েছে। তাছাড়া হানাফী মাযহাবের বিশিষ্ট ইমাম ও মুজতাহিদ, বিশিষ্ট ফক্বীহ, মুজাদ্দিদিয়া ত্বরীকার বিশিষ্ট ছূফী, বিশ্ববিখ্যাত মা’রিফাত তত্ত্ববিদ আউলিয়া হযরত মির্জা মাযহার জানে জানান শহীদ রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বিশিষ্ট খলীফা ইলমুল হুদা, বাইহাক্বীয়ে ওয়াক্ত, বিস্ময়কর প্রতিভার অধিকারী, সর্বজনমান্য, সর্বজনস্বীকৃত ও বিশ্বখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ “তাফসীরে মাযহারীর” সম্মানিত লিখক মুফাস্সিরে আ’যম, আল্লামা হযরত কাজী ছানাউল্লাহ্, হানাফী, মুজাদ্দিদী পানিপথী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ফার্সী ভাষায় রচিত বিখ্যাত কিতাব যা প্রায় তিনশত বছর ধরে অত্যন্ত আদব ও মুহব্বতের সঙ্গে পঠিত হয়ে আসছে। সেই “মালাবুদ্দা মিনহু” কিতাবের ৭৪-৭৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত রয়েছে,
بعد وتر دو ركعت نشسنة خوا ندن مستحب ست.
অর্থাৎ- “বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায বসে আদায় করা মুস্তাহাব।” হাদীয়ে বাঙ্গাল আল্লামা হযরত কারামত আলী জৌনপুরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর উর্দু ভাষায় লিখিত “মেফতাহুল জান্নাত” কিতাবে উল্লেখ করেছেন হালকী নফল নামায বসে পড়া সুন্নত। ফক্বীহুল আছার, মুফতীউল আ’যম, আল্লামা হযরত সাইয়্যিদ আমীমুল ইহ্সান মুজাদ্দিদী বরকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর উর্দু ভাষায় লিখিত “হাদিয়াতুল মুছল্লীন” কিতাবে বর্ণনা করেছেন, হালকী নফল নামায বসে পড়া মুস্তাহাব- সুন্নত। এছাড়া ফিক্বাহ্র বিশিষ্ট কিতাব বাজ্জারেও অনুরূপ ফতওয়া বর্ণিত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আরো উল্লেখ্য, দেওবন্দীদের দ্বারা লিখিত “আকাবের কা রমাজান” নামক কিতাবে লিখিত হয়েছে, “হযরত শায়খুল হিন্দ তিনি দু’রাকায়াত নফল বরাবর বসেই পড়তেন। কেউ একবার হযরতের খিদমতে আরজ করল এতে (বসে পড়াতে) অর্ধেক ছওয়াব হয় মাত্র। তখন হযরত উত্তরে বলেছিলেন, হ্যাঁ ভাই, ছওয়াব বেশী না হলেও হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণের মধ্যেই মন লাগে বেশী। আমার ধারণা, রীতি অনুসারে এতে ছওয়াব অর্ধেকই হবে বটে তবে সুন্নতের প্রতি এই যে অপার অনুরাগ এর ছওয়াব হয়ত পুরা ছওয়াবকে ছাড়িয়ে যাবে।” হ্যাঁ, মাহ্মুদুল হাসান ছাহেবের উক্ত আমল অর্থাৎ হালকী নফল নামায বসে আদায় করা যথার্থই ছিল। তবে তিনি বসে পড়াতে ছওয়াবের ব্যাপারে যে ধারণা করেছেন তা আদৌ শুদ্ধ হয়নি। কারণ প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ পাক-এর রসূল সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ তথা সুন্নতের ইত্তিবার মধ্যেই ছওয়াব বেশী রয়েছে। কাজেই অন্যান্য নফল বসে পড়লে অর্ধেক ছওয়াব এবং দাঁড়িয়ে পড়লে পূর্ণ ছওয়াব। আর হালকী নফল বসে পড়লেই বেশী ছওয়াব, যেহেতু এটা খাছ সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, মাসিক রাহমানী পয়গাম পত্রিকায় বলা হয়েছে যে, “…. ‘বসে আদায় করা উত্তম’ কথাটি ভুল ও ভিত্তিহীন। বসে নামায পড়া কখনো দাঁড়িয়ে নামায পড়া হতে উত্তম নয়। ……।” এর জবাবে বলতে হয় যে, তাদের উক্ত বক্তব্য কুফরী হয়েছে। কারণ, আল্লাহ্ পাক তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শানে ইরশাদ করেন,
انا اعطينك الكوثر.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার দান করেছি।” (সূরা কাওছার/১) এ আয়াত শরীফে হযরত মুফাস্সিরীন-ই-কিরাম ‘কাওছার’ শব্দের একটি অর্থ করেছেন, ‘হাউজে কাউসার।’ এবং আরেকটি অর্থ করেছেন, ‘খাইরে কাছীর’ বা সমস্ত ভালাই। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা করেছেন সেটাই ভাল, সেটাই উত্তম এবং সেটাই ফযীলতের কারণ। কাজেই বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায যেহেতু আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে আদায় করেছেন সেহেতু তা বসে আদায় করাই উত্তম এবং ফযীলতের কারণ। যারা এটাকে ভুল, ভিত্তিহীন ও উত্তম নয় বলবে তারা মুসলমান থেকে খারিজ হয়ে মুরতাদ ও কাফির হয়ে যাবে। মূলতঃ নামায বা ইবাদত-বন্দিগী করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। মুখ্য উদ্দেশ্য হচ্ছে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সন্তুষ্টি হাছিল করা। এবং সেটা হাছিল করার জন্য শর্ত হচ্ছে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ইত্তিবা বা অনুসরণ। এ মর্মে আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله ويغفر لكم ذنوبكم والله غفور رحيم.
অর্থঃ- “হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি বলুন, যদি তোমরা আল্লাহ্ পাক-এর মুহব্বত চাও তাহলে তোমরা (প্রতিক্ষেত্রে) আমাকে অনুসরণ কর। তবেই আল্লাহ্ পাক তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন, তোমাদের গুনাহ্খতা ক্ষমা করবেন এবং আল্লাহ্ পাক তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল ও দয়ালু হবেন।” (সূরা আলে ইমরান/৩১) অতএব, আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে আমল যেভাবে সম্পাদন করেছেন উম্মতদেরকে সে আমল সেভাবেই করতে হবে। যেমন, নামাযের ক্ষেত্রে আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ হলো- صلوا كما رايتمونى اصلى. “তোমরা সেভাবে নামায আদায় কর যেভাবে আমাকে নামায আদায় করতে দেখেছ।” সুতরাং বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায যেহেতু আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বসে আদায় করেছেন সেহেতু তা বসেই আদায় করতে হবে। অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে এটাই প্রমাণিত হলো যে, বিতর নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায ছোট ছোট সূরা দিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে (যাকে হালক্বী নফল বলা হয়) তা বসে আদায় করাই খাছ সুন্নত, উত্তম এবং অধিক ফযীলত ও বুযুর্গীর কারণ। দাঁড়িয়ে পড়ার কোন বর্ণনা নেই।
কাজেই যারা বিত্রের পর দু’রাকায়াত নফল নামায দাঁড়িয়ে পড়ার পক্ষে বলে থাকে, তাদের বক্তব্য দলীলবিহীন, মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও কুরআন-সুন্নাহ্র খিলাফ। সুতরাং মাসিক রাহমানী পয়গাম ও তার সমজাতীয়দের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ভুল ও ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হলো। (বিঃ দ্রঃ- ‘বিত্র নামাযের পর দু’রাকায়াত নফল নামায বসেই আদায় করা উত্তম।’ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এর ১২, ২৯, ৪৪, ৪৯, ৫৮, ৭০, ৭৮, ৯০, ৯৫তম সংখ্যাগুলো পাঠ করুন। সেখানে মাসিক মদীনা, মাসিক মুঈনুল ইসলাম এবং মাসিক রাহমানী পয়গামের ভুল বক্তব্য খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হয়েছে। এবার দ্বিতীয়বারের মত মাসিক রাহমানী পয়গামের ভুল বক্তব্য খন্ডন করে সঠিক জাওয়াব দেয়া হলো। মাওলানা খন্দকার মুহম্মদ আখলার্কু রহমান হাবিলদার মুহম্মদ লাবলু মিয়া ডাংরারহাট যুব আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত রাজারহাট, কুড়িগ্রাম সুওয়ালঃ আমাদের এলাকার কিছু লোক বলে থাকে যে, দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শোয়া নাকি হিন্দুদের প্রথা। সুতরাং দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শোয়া সম্পূর্ণ নাজায়িয ও হারাম। আর উত্তর দিকেই নাকি মাথা দিয়ে শোয়া শরীয়তের নির্দেশ। কাজেই এর খিলাফ করা নাকি গুনাহ্র কারণ। কা’বা শরীফের দিকে পা বিস্তার করে শোয়া এবং থু-থু নিক্ষেপ করা নাকি নিষেধ? অনুরূপ মুরীদের জন্য স্বীয় পীর ছাহেবের অবস্থান স্থলের দিকে পা বিস্তার করে শোয়া বা বসা নাকি নিষেধ? বিস্তারিত দলীল-আদিল্লাহ্র মাধ্যমে সঠিক জাওয়াব দান করতঃ এলাকার উদ্ভূত ফিৎনা-ফাসাদ নিরসনে বাধিত করবেন। জাওয়াবঃ যারা বলে, “দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শোয়া হিন্দুদের প্রথা সুতরাং দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শোয়া সম্পূর্ণরূপে নাজায়িয ও হারাম” তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণ কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আর “উত্তর দিকেই মাথা দিয়ে শোয়া শরীয়তের নির্দেশ। এর খিলাফ করা গুনাহ্র কারণ” তাদের এ বক্তব্যটিও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। উল্লেখ্য, শরীয়ত কোন দিককেই প্রাধান্য দেয়না বা নিষেধ করেনা। শরীয়তের ফতওয়া হলো, কা’বা শরীফের দিকে পা দেয়া যাবেনা। কেননা, কা’বা শরীফের দিকে পা দেয়া গুণাহ্র কারণ। আর কা’বা শরীফের দিকে মুখ করে ডান কাতে শোয়া-মুস্তাহাব সুন্নত। যেমন, আল্লাহ্ পাক-এর হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কা’বা শরীফের দিকে মুখ মুবারক করে শুতেন। উনার মাথা মুবারক পশ্চিম দিকে থাকতো আর পা মুবারক পূর্ব দিকে থাকতো। কারণ, মদীনা শরীফ থেকে কা’বা শরীফ দক্ষিণ দিকে অবস্থিত। স্মরণীয় যে, যারা কা’বা শরীফের পূর্ব দিকে থাকে তারা কা’বা শরীফের দিকে মুখ করে ডান কাতে শুলে মাথা উত্তর দিকে হবে আর পা হবে দক্ষিণ দিকে। যারা কা’বা শরীফের পশ্চিম দিকে থাকে তারা কা’বা শরীফের দিকে মুখ করে ডান কাতে শুলে মাথা থাকবে দক্ষিণ দিকে আর পা থাকবে উত্তর দিকে। আর যারা কা’বা শরীফের দক্ষিণ দিকে থাকে তারা কা’বা শরীফের দিকে মুখ করে ডান কাতে শুলে তাদের মাথা হবে পূর্ব দিকে আর পা থাকবে পশ্চিম দিকে। আর যারা কা’বা শরীফের উত্তর দিকে থাকে তারা কা’বা শরীফের দিকে মুখ করে ডান কাতে শুলে তাদের মাথা থাকবে পশ্চিম দিকে আর পা থাকবে পূর্ব দিকে। কাজেই শরীয়তের কোথাও নিষেধ করা হয়নি যে, “দক্ষিণ দিকে মাথা দিয়ে শোয়া যাবেনা। আর উত্তর দিকেই মাথা দিতে হবে।” সুতরাং শরীয়তে যে বিষয়কে নিষেধ করা হয়নি তাকে নাজায়িয ও হারাম বলা কিংবা হিন্দু তথা বিধর্মীদের রীতি বলে উল্লেখ করা যেমন কুফরী তেমনি যা আদেশ করা হয়নি তাকে ফরয-ওয়াজিব বলা কুফরী। কারণ, শরীয়তের উছূল বা মূলনীতি হচ্ছে, হালালকে হারাম কিংবা হারামকে হালাল বলা উভয়টাই কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আর যে ব্যক্তি কুফরী করে সে কাফির হয়। আর যে কাফির হয় শরীয়তে তাকে মুরতাদ বলে। আর যে মুরতাদ হয় তার স্ত্রী তালাক হয়ে যায় যদি সে বিবাহ্ করে থাকে। হজ্ব বাতিল হয়ে যায় যদি সে হজ্ব করে থাকে। তার সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যায়। তওবা না করে সে মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়া জায়িয নেই। যে বা যারা তার জানাযার নামায পড়বে বা পড়াবে তাদের উপরও মুরতাদের হুকুম বর্তাবে। অর্থাৎ তাদেরও স্ত্রী তালাক হবে, হজ্ব বাতিল হবে, সমস্ত আমল নষ্ট হয়ে যাবে। তাকে মুসলমানদের মত দাফন করা যাবেনা; এমনকি মুসলমানদের কবরস্থানেও দাফন করা যাবেনা। বরং কুকুর-শিয়ালের মত আলাদা গর্ত করে পুতে রাখতে হবে। সর্বোপরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাধারণতঃ উত্তর দিকে মাথা মুবারক দিয়ে শয়ন করতেন না। তাহলে তিনি কি গুণাহ্র কাজ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ্) কেননা, মক্কা শরীফ হতে মদীনা শরীফ উত্তর দিকে অবস্থিত। কাজেই উত্তর দিকে মাথা মুবারক করলে স্বাভাবিকভাবেই দক্ষিণ দিকে পা মুবারক দিতে হয়। যদিও উনার জন্য কা’বা শরীফকে উম্মতের মত তাযীম-তাকরীম করা জরুরী নয়। কারণ উনিই হচ্ছেন সমস্ত মাখলুকাতের ক্বিবলা। উপরন্ত কা’বা শরীফেরও ক্বিবলা হচ্ছেন স্বয়ং আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তবে তিনি সাধারণভাবে পশ্চিম দিকে মাথা মুবারক করতঃ কা’বা শরীফের দিকে মুখ মুবারক করে ডান কাতে শয়ন করতেন। সুতরাং যে কেউ পৃথিবীর যে দিকেই অবস্থান করুক না কেন কা’বা শরীফের দিকে মুখ করতঃ ডান কাতে শোয়াই মুস্তাহাব-সুন্নত। এখন তা পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ যে দিকেই মাথা দিয়ে হোক না কেন। তবে প্রয়োজনে অন্য দিকে মাথা দিয়ে শোয়া নিষেধ নয় বরং জায়িয। তবে কা’বা শরীফের দিকে পা বিস্তার করে শোয়া বা বসা জায়িয নেই। কারণ কা’বা শরীফের হুরমত বা পবিত্রতা রক্ষা করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যারা বলে যে, “উত্তর দিকেই মাথা দিয়ে শুতে হবে অন্যথায় গুণাহ্ হবে” তাহলে প্রশ্ন এসে যায় যে, যারা কা’বা শরীফের পশ্চিম দিকে থাকে তারা শোয়ার ব্যাপারে মুস্তাহাব-সুন্নত পালন করলে তাদের পা উত্তর দিকে দিতে হবে; তখন ফায়সালা কি হবে? উল্লেখ্য, যারা বলে, ‘উত্তর দিকে মাথা না দিলে গুনাহ্ হবে’ প্রকৃতপক্ষে তারা এটা ফরয-ওয়াজিব সাব্যস্ত করার ব্যর্থ কোশেশ করে জায়িযকে নাজায়িয বলার মত দুঃসাহস দেখায় যা স্পষ্টতঃই কুফরী। কেননা, শরীয়তের যে বিধান যেভাবে পালন করার আদেশ করা হয়েছে তা সেভাবে পালন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম মত পোষণ করা নাজায়িয, হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। আর উত্তর দিকেই যদি মাথা দিয়ে শয়ন করতে হয় তাহলে যারা কা’বা শরীফের উত্তরে অবস্থান করে তারা কি তাহলে কা’বা শরীফের দিকেই পা বিস্তার করে শয়ন করবে? অথচ কা’বা শরীফের দিকে পা বিস্তার করে শোয়া বা বসা, সেদিকে থু থু নিক্ষেপ করা কিংবা কা’বা শরীফের হুরমত বা তাযীম-তাকরীমের খিলাফ কোন কাজ করা বা আচরণ করা নাজায়িয ও হারাম। কারণ, কা’বা শরীফের হুরমত বা পবিত্রতা রক্ষা করা সর্বাবস্থায় আবশ্যক। আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
ومن يعظم شعائر الله فانها من تقوى القلوب.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর শেয়ার বা নিদর্শন সমূহের তা’যীম-তাকরীম করবে সেটা তার অন্তরের তাক্বওয়ার কারণ হবে।” (সূরা হজ্ব/৩২) আল্লাহ্ পাক আরো বলেন,
ومن يعظم حرمت الله فهو خيرله عند ربه.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আল্লাহ্ পাক-এর সম্মানিত নিদর্শনাবলীর সম্মান করে তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট উত্তম প্রতিদান রয়েছে।” (সূরা হজ্ব/৩০) আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لاتزال هذه الامة بخير ماعظموا هذه الحر مة حق تعظيمها يعنى مكة فاذا ضيعوا ذلك هلكوا.
অর্থঃ- “যতদিন আমার উম্মত মক্কা শরীফের যথাযথ তা’যীম-তাকরীম করবে ততদিন তারা কল্যাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। আর যখন যথাযথ তাযীম-তাকরীম করবে না তখন তারা হালাক হবে।” (তাফসীরে দুররে মানছূর- ৪/৩৫৮, ইবনে মাযাহ্, মিশকাত শরীফ/২৩৮) সুতরাং শেয়ারে ইসলামের তা’যীম-তাকরীম করা আর তার আদব যথাযথ রক্ষা করা আবশ্যক। এমনকি প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কাজে কা’বা শরীফের দিকে মুখ করতঃ সম্পাদন করা উচিত। কেননা, হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে,
اكرم المجالس مااستقبل به القبلة.
অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, সর্বোত্তম মজলিস হচ্ছে যা কা’বা শরীফকে সামনে রেখে করা হয়।” (তাবারানী, তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৪/৫৯) যুগে যুগে আউলিয়া-ই-কিরাম, ইমাম-মুজতাহিদগণ আল্লাহ্ পাক-এর নিদর্শনসমূহের কিরূপ তা’যীম-তাকরীম করেছেন, তার গুরুত্ব তাঁদের নিকট কতটুকু তা নিম্নলিখিত ঘটনা হতে সহজেই অনুমান করা যায়। একদা কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি শুনতে পেলেন যে, অমুক স্থানে একজন কামিল পীর ছাহেব এসেছেন যিনি অত্যন্ত বুযূর্গ, অসাধারণ মর্যাদা সম্পন্ন। সুলতানুল আরিফীন, হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই বুযূর্গ ব্যক্তির সাথে সাক্ষাত করার জন্য রওয়ানা হলেন। তিনি যখন উক্ত পীর ছাহেবের নিকটবর্তী হলেন তখন দেখতে পেলেন যে, সেই বুযূর্গ ব্যক্তি ‘ক্বিবলার’ দিকে মুখ করে থু থু নিক্ষেপ করছেন। তা দেখে সুলতানুল আরিফীন বললেন, হায়! হায়! যার আদব রক্ষার প্রতি এতটুকু লক্ষ্য নেই তার কাছে এসে আমি কি হাছিল করবো? এ কথা বলে তখনই তিনি সেখান হতে বিদায় নিলেন।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া) আর অনুরূপভাবে মুরীদের জন্য স্বীয় পীর ছাহেবের অবস্থান স্থলের দিকে পা বিস্তার করে শোয়া, বসা, থু থু নিক্ষেপ করা কিংবা তাঁর তা’যীম-তাকরীমের খিলাফ কোন আমল করা, কথা বলা জায়িয নেই। কেননা, মুরীদের জন্য স্বীয় পীর ছাহেব হচ্ছেন ‘ক্বিবলা’ যা তাছাউফের ভাষায় ‘ক্বিবলায়ে কুলূব’ বা ‘ক্বালবের ক্বিবলা’ বলা হয়। কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ক্বিবলা বা কা’বা হচ্ছে পাঁচ প্রকার। যথা- (১) নামাযের ক্বিবলা হচ্ছে- “বাইতুল্লাহ্ শরীফ।” এজন্য বাইতুল্লাহ্ শরীফের দিকে মুখ করে নামায আদায় করতে হয়। (২) দোয়া বা মুনাজাতের ক্বিবলা হচ্ছে- “আসমান।” এজন্য হাতের তালুদ্বয় আসমানের দিকে করে মুনাজাত করতে হয়। (৩) মাখলুকাতের ক্বিবলা হচ্ছেন- “আখিরী রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।” কেননা তিনি হলেন সৃষ্টির মূল, তাঁর উছীলায় সমস্ত মাখলুকাতের সৃষ্টি। (৪) সমস্ত ক্বিবলাকে বিলীনকারী ক্বিবলা হচ্ছেন- “স্বয়ং আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন।” (৫) ক্বিবলায়ে কুলূব বা কাল্বের ক্বিবলা হচ্ছেন- “পীর ছাহেব।” যাঁর ফয়েযের মাধ্যমে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মুহব্বত ও মা’রিফাতের ফয়েযে মুরীদ ফয়যিয়াব বা ফয়েযপ্রাপ্ত হয়, ক্বালব ও অন্যান্য লতিফাসমূহে যিকির জারী হয়। অতঃপর ক্বালব (অন্তর)সহ সমস্ত লতিফা পরিশুদ্ধ হয় এবং ইখলাছ পয়দা হয়। আর তখনই মুরীদের পক্ষে গায়রুল্লাহ্ মুক্ত হয়ে একমাত্র আল্লাহ্ পাক-এর জন্য ইবাদত করা সম্ভব। সুতরাং নামাযের ক্বিবলা তথা কা’বা শরীফের ন্যায় ক্বিবলায়ে কুলূব বা ক্বালবের ক্বিবলার হুরমত রক্ষা করা তথা তা’যীম-তাকরীম করা সর্বাবস্থায় ফরযের অন্তর্ভুক্ত। সেটা তাঁর উপস্থিতিতে হোক কিংবা অনুপস্থিতিতে হোক। জীবিত অবস্থায় হোক কিংবা ইন্তিকালে হোক। কেননা, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
بجلوا المشائخ فان تبجيل المشائيخ من اجلال الله عزو جل فمن لم يبجلهم فليس منا.
অর্থঃ- “তোমরা পীর-মাশায়িখগণকে তা’যীম-তাকরীম করো। কেননা, পীর-মাশায়িখগণকে তা’যীম-তাকরীম করা মূলতঃ আল্লাহ্ পাককেই তা’যীম-তাকরীম করার নামান্তর। সুতরাং যারা তাঁদের তা’যীম-তাকরীম করেনা, তাঁদের আদব রক্ষা করেনা তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।” (আত্ তায্কিরাতু ফি আহাদিসীল মুন্তাশিরাহ্) স্বীয় পীর ছাহেবের প্রতি কি পরিমাণ শ্রদ্ধাবোধ থাকবে? তাঁদের তাযীম-তাকরীমের সীমা-পরিসীমা কতটুকু সে সম্পর্কে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
الشيخ فى قومه كالنبى فى امته.
অর্থঃ- “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, পীর ছাহেব তাঁর মুরীদের কাছে সেরূপ সম্মানিত; নবী আলাইহিস্ সালাম তাঁর উম্মতের কাছে যেরূপ সম্মানিত।” (আল ফিরদাউদ্ লিদ দাইলামী, মাকাসাদুল হাসানা, তানজিহুশ্ শরীয়াহ্, মিজান, জামিউস্ সগীর লিস্ সুয়ূতী, দুরারুল মুন্তাশিরাহ্ লিস্ সুয়ূতী, মাকতুবাত শরীফ) শাইখুল মিল্লাত ওয়াদ্ দ্বীন, হুজ্জাতুল ইসলাম আবু হামিদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ গাজ্জালী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, “যদি কোন ব্যক্তি কামিল পীর ছাহেবের সন্ধান পায় তখন তার উচিত খানায়ে কা’বার ন্যায় তাঁর তা’যীম-তাকরীম করা।” (সিরাতুল মুস্তাকিম) পূর্ববর্তী আউলিয়া-ই-কিরাম, ইমাম-মুজতাহিদ যারা আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরম-পরম সন্তুষ্টি-রেযামন্দী, মা’রিফত-মুহব্বত হাছিল করেছেন তাঁদের আমল-আক্বীদা সেরূপই ছিলো।
এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য যে, কোন এক অপরাধে কুদ্ওয়াতুল আরিফীন, শায়খ হযরত আযল তিবরিযী রহমতুল্লাহি আলাইহিকে কতল (হত্যা) করার জন্য জল্লাদের হাতে অর্পণ করা হয়। জল্লাদ তাঁকে কতলের স্থানে নিয়ে ক্বিবলামূখী করে দাঁড় করালো। তখন শায়খ আযল রহমতুল্লাহি আলাইহি দেখলেন যে, তাঁর পীর ছাহেবের মাযার শরীফ পিছনে পড়ে। তাই তিনি কা’বা শরীফের দিক হতে মুখ ফিরিয়ে স্বীয় পীর ছাহেবের মাযার শরীফের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। তখন জল্লাদ বললো, ‘আপনি এখন যে অবস্থার সম্মূখীন হয়েছেন তাতে আপনার কা’বা শরীফের দিকেই মুখ করা কর্তব্য।’ শায়খ বললেন, ‘তাতে তোমার মাথা ব্যথা কেন? তোমার কাজ তুমি কর। আমি আমার মুখ নিজ ক্বিবলার দিকেই করে রেখেছি।’ এতে জল্লাদের সাথে তর্ক বেঁধে যায়। আর ইত্যবসরে শাহী দরবার হতে ফরমান (বাদশাহ্র নির্দেশ) আসে যে, দরবেশকে ক্ষমা করা হলো। তাঁকে মুক্তি দাও।” (ফাওয়ায়িদুস্ সালিকীন) আউলিয়া-ই-কিরামগণের অভিমত হচ্ছে যে, স্বীয় পীর ছাহেব ক্বিবলার প্রতি বিশুদ্ধ আক্বীদা বা বিশ্বাস এবং আদব প্রদর্শনের উছীলায় তিনি মৃত্যুর হাত হতে রক্ষা পেয়েছেন। আরো বর্ণিত আছে যে, একদা কুতুবুদ্দীন হায়দার রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুরীদ অতি ক্ষুধার্ত অবস্থায় ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত, হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত শায়খ শাহাবুদ্দীন সোহরাওয়ার্দী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর খানকা শরীফে হাযির হয়ে স্বীয় পীর ছাহেবের আবাস স্থলের দিকে মুখ করে প্রার্থনা করতে লাগলেন যে,
يا قطب الد ين حيدر شيأ لله.
অর্থঃ- “হে কুতুবুদ্দীন হায়দার রহমতুল্লাহি আলাইহি! আল্লাহ্ ওয়াস্তে আমাকে সাহায্য করুন।” তখন শায়খ শাহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তার ডাক শুনে নিজ খাদিমকে বললেন, আগন্তককে আহার করিয়ে তাঁকে যেন সংবাদ দেয়া হয়। খাদিম তাঁকে আহার করালো। মুরীদ আহার অন্তে পুনরায় স্বীয় পীর ছাহেবের আবাস স্থলের দিকে ফিরে তার শোকর আদায় করে বলতে লাগলেন, “হে কুতুবুদ্দীন হায়দার রহমতুল্লাহি আলাইহি! আমার খুবই উপকার করলেন। আমি এখন পরিতৃপ্ত।” খাদিম শায়খকে এ সংবাদ দিয়ে বললেন যে, এমন কৃতঘ্ন লোক আমি কখনও দেখিনি যে, হুযূরের দেয়া খাবার খেয়ে নিজ পীর ছাহেবের কৃতজ্ঞতা জানায়। তখন শায়খ শাহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ঐ ব্যক্তি ছিলেন ফেরেশ্তা। তোমাদেরকে আদব শিক্ষা দিতে এসেছেন।” এরূপ অসংখ্য, অগণিত আউলিয়া-ই-কিরাম বিগত হয়েছেন যারা কোন সময় স্বীয় পীর ছাহেবের অবস্থান স্থলের দিকে পা দেয়া তো দূরের কথা পিঠ পর্যন্ত দেননি। এমনকি ইন্তিকালের পরেও তাঁদের মাথা মুবারক স্বীয় পীর ছাহেবের অবস্থান স্থলের দিকেই নিবদ্ধ ছিলো। কুতুবুল ইরশাদ, হাফিযুল হাদীস, ফক্বীহুল উম্মত, শাইখুল মিল্লাত, হযরত মাওলানা রুহুল আমীন বশিরহাটী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, আমার পীর ছাহেব ক্বিবলা মুজাদ্দিদুয্ যামান, কুতুবুল আলম, আমিরুশ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত হযরত আবু বকর ছিদ্দীকী ফুরফুরাবী রহমতুল্লাহি আলাইহিসহ অনেক মুরীদ-মুতাক্বিদ আজমীর শরীফ যিয়ারতের উদ্দেশ্যে গেলাম। তারাগড় পাহাড়ে উঠে শহীদগণের মাযার শরীফ যিয়ারত করলাম। সেখানে একটি মাযার শরীফ দেখতে পেলাম যে, তার মাথা মুবারক স্বীয় পীর ছাহেবের পা মুবারকের দিকে ছিল। বাদশাহ্ আওরঙ্গজেব ২/৩বার মাযার শরীফটি উত্তর দক্ষিণ লম্বা করে দিয়েছিলেন আর প্রত্যেকবার মাযার শরীফ হতে আওয়াজ আসত, হে বাদশাহ্! হাশরের ময়দানে আমার জাওয়াব আমি দিব। আপনি কেন আমাকে বিরক্ত করছেন? কুতুবুল ইরশাদ, হাফিযুল হাদীস রহমতুল্লাহি আলাইহি আরো বলেন, মাহবুবে ইলাহী, সুলতানুল আরিফীন, রঈসুল মুহাদ্দিসীন হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযার শরীফের পূর্ব দিকে একজন আউলিয়া-ই-কিরামের মাযার শরীফ দেখতে পেলাম, তাঁর মাথা মুবারকও স্বীয় পীর ছাহেবের পা মুবারকের দিকে পূর্ব-পশ্চিমে রয়েছে।” (ফুরফুরা শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলার বিস্তারিত জীবনী ৮২/৮৩) এমনকি আমাদের দেশেও এরূপ অনেক ঘটনার অভাব নেই। সিলেটের অদূরের মুরারবন্দ এলাকায় সাইয়্যিদ নাসিরুদ্দীন সিপাহ্সালার রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মাযার শরীফ অবস্থিত। যিনি কুতুবে রব্বানী, সাইয়্যিদুল আউলিয়া, আল্লামাতুল আইয়াম হযরত শাহ্জালাল ইয়েমেনী রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর প্রধান খলীফা। তাঁর মাযার শরীফ পূর্ব-পশ্চিম অবস্থায় আজও বিরাজমান। উল্লেখ্য যে, তাঁকেও উত্তর-দক্ষিণ করে কবরে নামানো হলো। কিন্তু রাখার সাথে সাথে পূর্ব-পশ্চিম দিক হয়ে যায়। অনেক চেষ্টা করেও দক্ষিণ দিকে করা সম্ভব হয়নি। অগত্যা তাঁকে সেভাবে রাখা হয়েছে। আদবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য আর আদবই হচ্ছে দ্বীনের মূল।
الادب هو الدين كله.
অর্থঃ- “দ্বীনের সবটাই হচ্ছে আদব।” (মাদারিজুস্ সালিকীন- ২/৪০০) মহান আল্লাহ্ পাক তাঁর কালাম পাকে ইরশাদ করেন,
يا يها الذين امنوا قوا انفسكم واهليكم نا را.
অর্থঃ- “হে ঈমানদারগণ! তোমরা তোমাদের নিজকে ও তোমাদের পরিবারবর্গকে জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন হতে রক্ষা কর।” (সূরা তাহ্রীম/৬) এ আয়াত শরীফের তাফসীরে রঈসুল মুফাস্সিরীন হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
ادبوا اهليكم.
অর্থঃ- “তোমাদের পরিবারবর্গকে আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।” (তাফসীরে দুররে মানছূর- ৬/২৪৪, মাদারিজুস্ সালিকীন- ২/৩৯১) আমিরুল মু’মিনীন, আসাদুল্লাহিল গালিব হযরত আলী র্কারামাল্লাহু ওয়াজ্হাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন,
علموا انفسكم واهليكم الصير وادبوهم.
অর্থঃ- “তোমরা নিজকে এবং তোমাদের পরিবার-পরিজনকে (দ্বীনের) কল্যাণকর বিষয় শিক্ষা দাও এবং বিশেষ করে তাদেরকে আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দাও।” (মুসতাদারিকে হাকিম, মাদখাল, তাফসীরে দুররে মানছূর- ৬/২৪৪) সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
ادبنى ربى فاحسن تأديبى.
অর্থঃ- “আমার রব আমাকে আদব বা শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং আমার শিষ্টাচারীতাই অতি উত্তম।” আফযালুল আউলিয়া, ইমামে রব্বানী গাউসে সামদানী হযরত মুজাদ্দিদে আলফে ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, স্বীয় পীর ছাহেবের আদবের প্রতি সর্বদা লক্ষ্য রাখবে। তা না হলে সমস্ত চেষ্টা, কোশেশ এবং আমল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।” (মাকতুবাত শরীফ) ইমামুর রাসিখীন, সুলতানুল উলামা ওয়াল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুশ্ শুয়ারা হযরত মাওলানা জালালুদ্দীন রূমী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
از خدا جویم توفیق ادب +
بے ادب محروم گشت از اطف رب.
بے ادب تنھا نہ خودرا داشت بد +
بلکہ اتش درھمہ افاق زد.
অর্থঃ- “আল্লাহ্ পাক-এর নিকট আদব বা শিষ্টাচারের তাওফীক চাই। কেননা বেয়াদব আল্লাহ্ পাক-এর রহমত হতে বঞ্চিত থাকে। বেয়াদব শুধু নিজেরই ক্ষতি সাধন করেনা বরং তার বেয়াদবির কুফলের আগুন সকলের মাঝে বিস্তার লাভ করে।” (মসনবী শরীফ) ইমামুশ্ শরীয়ত ওয়াত্ তরীক্বত, কুতুবুল আলম, শাইখুল মিল্লাত হযরত জুন্নুন মিসরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
اذا خرج المريد عن اسنتعمال الادب فانه ير جع من خيث جاء.
অর্থঃ- “মুরীদ যখন (স্বীয় পীর ছাহেব হতে) আদবের বা শিষ্টাচারের দৃষ্টি তুলে নেয় তখন সে যেখান থেকে এসেছে সেখানে ফিরে যায়। অর্থাৎ গোমরাহীতে নিমজ্জিত হয়।” (মাদারিজুস্ সালিকীন- ২/৩৯৪) কুতুবুল ইরশাদ, সাইয়্যিদুল আরিফীন, শাইখুল ইসলাম হযরত ইয়াহ্ইয়া ইবনে মায়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
اذا ترك العارف أدبه مع معروفه فقد هلك مع الهالكين.
অর্থঃ- “যখন কোন আরিফ (আল্লাহ্ পাক-এর মারিফাত লাভকারী) তার আমলের তালিকা হতে আদবের বিষয়টিকে পরিহার করে তখন ধ্বংসশীলদের তালিকাভুক্ত হয়।” (মাদারিজুস্ সালিকীন- ২/৩৯২) ইমামুল মুহাক্কিকীন, ফক্বীহুল আছর, শাইখুল উলামা হযরত সহল ইবনে আব্দুল্লাহ্ তশতরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
من قهر نفسه بالادب فهو يعبد الله بالاخلاص.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি আদব দ্বারা স্বীয় নফসকে বশীভূত (বিজয়) করতে পারবে সে ইখলাছের (বিশুদ্ধ চিত্তে) সাথে আল্লাহ্ পাক-এর ইবাদত করতে পারবে।” (মাদারিজুস্ সালিকীন ২/৩৯৩) স্মর্তব্য যে, ইখলাছ বা একাগ্রতা ব্যতীত কোন আমলই আল্লাহ্ পাক-এর দরবারে গ্রহণযোগ্য নয়। সে ইখলাছ অর্জিত হবে স্বীয় পীর ছাহেব ক্বিবলার প্রতি আদব দ্বারা। কাজেই আদব বা শিষ্টাচারের গুরুত্ব কতটুকু তা সহজেই অনুমেয়। আর মুরীদের জন্য সার্বক্ষণিক আদবের প্রতি লক্ষ্য রাখা উচিৎ। কেননা, সুলতানুল আউলিয়া, কুদওয়াতুল উলামা হযরত নূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন,
من لم يتادب للوقت فوقته مقت.
অর্থঃ- “যে ব্যক্তি যে সময়টুকু আদব বহির্ভুত অতিবাহিত করলো তার সে সময়টুকু বৃথা হলো।” কুতুবুল আলম, মাহবুবে সুবহানী, হযরত আবুল আব্বাস ইবনে আহমদ কাচ্ছার রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, পীর ছাহেব তোমার জন্য আয়না স্বরূপ। পীর ছাহেব হতে তুমি সেই পরিমাণ দেখতে পাবে, পীর ছাহেবের প্রতি তোমার শ্রদ্ধার নূর যেই পরিমাণ আছে।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া ৩/১৭০) সুলতানুল মাশায়িখ, কুতুবুল আকতাব, কায়িদুল আউলিয়া হযরত আবুল হাসান খারকানী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, যে মুরীদ স্বীয় পীর ছাহেবের যত অধিক পরিমাণে তা’যীম-তাকরীম করবে সে মুরীদ তত অধিক পরিমাণে আল্লাহ্ পাক-এর দীদার লাভ করবে।” (তাযকিরাতুল আউলিয়া- ৩/১৪২) কাজেই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বীয় পীর ছাহেব ক্বিবলা-এর আদব বা শিষ্টাচারের প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক। সেক্ষেত্রে যে মুরীদ যত সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ও পুঙ্খানুপুঙ্খ আদব রক্ষা করবে সে তত সহজে এবং তত অধিক পরিমাণে আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মারিফাত-মুহব্বত হাছিল করবে। {দলীলসমূহঃ (১) তাফসীরে মাযহারী, (২) কুরতুবী, (৩) খাযিন, (৪) বাগবী, (৫) রুহুল বয়ান, (৬) রুহুল মায়ানী, (৭) তাবারী, (৮) দুররে মনছূর, (৯) ইবনে কার্ছী, (১০) ইবনে মাযাহ্, (১১) মিশকাত, (১২) মিরকাত, (১৩) আশয়াতুল লুময়াত, (১৪) লুময়াত, (১৫) শরহুত্ ত্বীবী, (১৬) তালিকুছ্ ছবীহ্,(১৭) মুযাহিরে হক্ব, (১৮) জামউল জাওয়ামেহ্, (১৯) তারগীব ওয়াত্ তারহীব, (২০) দাইলামী, (২১) মুস্তাদরিকে হাকিম, (২২) মাকাছাদুল হাসানাহ্, (২৩) মাদখাল, (২৪) তানজীহুশ্ শরীয়াহ্, (২৫) মীযান, (২৬) জামিউছ্ ছগীর, (২৭) দুরারুল মনতাশিরাহ্, (২৮) ফাইদুল ক্বাদীর, (২৯) কানযুল উম্মাল, (৩০) আল আসরারুল মারফুয়া, (৩১) আল খালিলী, (৩২) ইবনে নাজ্জার, (৩৩) আস্ সিরাজী ফিল আলক্বাব, (৩৪) হুব্বুন্ ফিদ্ দুয়াফালিস্ সুয়ূতী, (৩৫) মাকতুবাত শরীফ, (৩৬) ইহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন, (৩৭) কিমিয়ায়ে সায়াদাত, (৩৮) আল বুনিয়ানুল মুশাইয়্যাদ, (৩৯) তরীক্বত দর্পন, (৪০) আওয়ারিফুল মারিদ, (৪১) কাওলুল জামিল, (৪২) শিফাউল আলীল, (৪৩) তা’লিমে মারিফাত, (৪৪) মাকতুবাতে সদী, (৪৫) আনিসুল আরওয়াহ্, (৪৬) কাশফুল মাহ্জুব, (৪৭) ইসরারুল আউলিয়া, (৪৮) ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ, (৪৯) রাহাতুল কুলুব, (৫০) রাহাতুল মুহিব্বীন, (৫১) সিরাজুছ্ ছালিকীন, (৫২) সিরাজুত্ ত্বলিবীন, (৫৩) পীর মুরীদী তত্ত্ব, (৫৪) গুনিয়াতুত্ ত্বলেবীন, (৫৫) সিররুল আসরার, (৫৬) ফাতর্হু রব্বানী, (৫৭) ফাতহুল গায়েব, (৫৮) ফাওয়ায়িদুস্ সালিকীন, (৫৯) মাদারিজুস্ সালিকীন, (৫৯) ফুরফুরা শরীফের হযরত পীর ছাহেব ক্বিবলা-এর বিস্তারিত জীবনী, (৬০) মছনবী শরীফ, (৬১) তাযকিরাতুল আউলিয়া, (৬২) দুররুল মুখতার, (৬৩) রদ্দুল মুহ্তার, (৬৪) শামী, (৬৫) আইনুল ইয়াক্বীন, (৬৬) বেহেশ্তী জেওর পুরাতন ছাপা ইত্যাদি}
এ. কে. এম. মোজাম্মেল হক মিরপুর, ঢাকা
সুওয়ালঃ পীর ছাহেব পরিবর্তন করা জায়িয আছে কিনা? জায়িয থাকলে কি কি শর্তে? খিলাফতি ও খলীফা কাকে বলে? খিলাফতি ছাড়া পীর হতে পারে কিনা? পীর ছাহেবের ছেলে, পীর হওয়ার জন্য কোন শর্ত বা যোগ্যতার দরকার আছে কিনা? গদীনশীন পীর কাকে বলে? পীর ছাহেবকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করা যাবে কিনা?
জাওয়াবঃ যে ব্যক্তি কোন কামিল পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হতে চায়, তার জন্য বাইয়াত হওয়ার পূর্বে শর্ত হলো- তাহক্বীক্ব করে অর্থাৎ যাচাই-বাছাই করে বাইয়াত হওয়া। যে বিষয়গুলো তাহক্বীক্ব করতে হবে তার থেকে জরুরী কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করা হলো- (১) যার কাছে বাইয়াত হবে তিনি কোন হক্বানী পীর ছাহেবের তরফ থেকে খিলাফতপ্রাপ্ত কিনা। (২) আক্বীদা আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের অনুরূপ কিনা। (৩) আমলের দিক থেকে সুন্নতের পাবন্দ কিনা। (৪) ইল্মের দিক থেকে এতটুকু ইল্মের অধিকারী কিনা, যার দ্বারা নিজেকে এবং অধীনস্থ মুরীদদেরকে বিদ্য়াত-বেশরা তথা কুফরী-শেরেকী থেকে ফিরিয়ে হক্ব মতে পথে দায়িম-কায়িম রাখতে পারেন। আর মুরীদ হওয়ার পরে কোন প্রকার চু-চেরা, কিল ও কাল অর্থাৎ কোন বিষয়ে কি, কেন বলতে পারবে না। বিনা প্রশ্নে সব বিষয় মেনে নিতে হবে। তবে হ্যাঁ, কোন বিষয় বুঝে না আসলে আদবের সহিত জিজ্ঞাসা করে জেনে নিবে। পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়ার পরও বিশেষ তিন কারণে পীর ছাহেব পরিবর্তন করা ফরয-ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। (১) মুরীদ তাকমীলে অর্থাৎ পূর্ণতায় পৌছাঁর পূর্বে যদি পীর ছাহেব ইন্তিকাল করেন, তখন পূর্ণতায় পৌছাঁর জন্য আরেকজন পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া। (২) পীর ছাহেব যদি এমন দূর দেশে থাকেন, যার সাথে কোন প্রকার সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ করা সম্ভব না হয় এমনকি চিঠি-পত্রের মাধ্যমেও যোগাযোগ সম্ভব না হয়, তাহলে তাঁকে পরিবর্তন করে আরেকজন পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা। (৩) আল্লাহ্ পাক না করুন, কোন পীর ছাহেবকে হক্ব জেনেই তাঁর কাছে বাইয়াত হয়েছিল কিন্তু পরে তিনি বিদ্য়াত-বেশরা তথা হারাম, নাজায়িয ও কুফরী কাজে মশগুল হয়ে গিয়েছেন। যেমন- ছবি তোলা, বেপর্দা হওয়া, হরতাল, লংমার্চ করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, মৌলবাদী দাবী করা, কুশপুত্তলিকা দাহ্, ভোট, নির্বাচন ও গণতন্ত্র করা ইত্যাদি হাজারো নাজায়িয, হারাম ও কুফরী কাজে মশগুল হয়ে গেলে, তখন মুরীদের জন্য ফরয-ওয়াজিব হলো- উক্ত পীর ছাহেবকে ছেড়ে দিয়ে অপর কোন পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া। ৪র্থ আরো একটি কারণ হলো- (৪) কোন পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়ার পর তাঁর দ্বারা যদি মুরীদের কোন প্রকার রুহানী তরক্কী না হয় এবং আমলেরও কোন প্রকার পরিবর্তন না হয়, তাহলে তাঁকে ছেড়ে দিয়ে অন্য আরেকজন পীর ছাহেবের নিকট বাইয়াত হওয়া। খিলাফত ও খলীফাঃ সালিক তরীক্বতের রাস্তায় প্রবেশ করে কামিল পীর ছাহেবের ছোহবত ইখতিয়ার করতঃ তরীক্বতের সবকাদি আদায় করার মাধ্যমে বিভিন্ন মাক্বাম বা মঞ্জিল অতিক্রম করে যখন তাকমীল বা পূর্ণতায় পৌঁছেন তখন আল্লাহ্ পাক ও তাঁর হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশে পীর ছাহেব তাঁকে পূর্ণতার যে সনদ প্রদান করেন তার নামই খিলাফত। আর যিনি খিলাফত লাভ করেন তাকে খলীফা বলা হয়। প্রত্যেককে খিলাফত লাভ করে খলীফা হয়ে পীর হতে হয়। তিনি গদীনশীন হোন বা না হোন তা শর্ত নয়। তবে খিলাফত লাভ না করে কেউই পীর হতে পারেনা। অতএব, পীর ছাহেবের ছেলে হোক, ভাই হোক, পীর হওয়ার জন্য তাঁকেও খিলাফত লাভ করতে হবে। অন্যথায় তিনি পীর হতে পারবেন না।
গদীনশীনঃ “গদীনশীন” শব্দটি ফার্সী। গদী অর্থ আসন আর নশীন অর্থ উপবেশনকারী। অর্থাৎ আসনে উপবেশনকারী। পীর-মুর্শিদের অবর্তমানে বা ইন্তিকালের পর তাঁদের গদী বা আসনে বসে যিনি দায়িত্ব পালন করেন তাঁকে বলা হয় গদীনশীন পীর। পীর ছাহেবকে ‘বাবা’ বলে সম্বোধন করা জায়িয। কেননা পীর ছাহেবগণ হচ্ছেন নবীগণের ওয়ারিছ বা তাঁদের স্থলাভিষিক্ত বা প্রতিনিধি। নবী-রসূলগণ যেরূপ উম্মতের জন্য রুহানী পিতা তদ্রুপ শায়খ বা পীর ছাহেবগণ রুহানী পিতা মুরীদদের জন্য।
এ মর্মে হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
الشيخ فى قومه كالنبى فى امته.
অর্থঃ- “শায়খ তাঁর ক্বওম বা মুরীদের নিকট তেমনি সম্মানিত যেমন নবী-রসূল তাঁর উম্মতের মধ্যে সম্মানিত।” (দাইলামী শরীফ, মাকতুবাত শরীফ) আর পীর ছাহেব হওয়ার জন্য যেসব শর্ত বা যোগ্যতার দরকার তা পীর ছাহেবের ছেলের মধ্যেও থাকতে হবে। অন্যথায় তিনি পীর হতে পারবেন না। এবং তার নিকট বাইয়াত হওয়াও জায়িয হবেনা। {দলীলসমূহঃ (১) দাইলামী শরীফ, (২) সিররুল আসরার, (৩) ফতর্হু রব্বানী, (৪) ইহ্ইয়াউ উলুমিদ্দীন, (৫) কিমিয়া-ই-সায়াদাত, (৬) মিনযাজুল আরিফীন, (৭) মকতুবাত্ শরীফ, (৮) মুকাশাফাতুল কুলূব, (৯) আল বুরহানুল মুশাইয়্যাদ, (১০) তরীক্বত দর্পন, (১১) আওয়ারিফুল মায়ারিফ, (১২) লুমা, (১৩) কুওওয়াতুল কুলূব, (১৪) আল ক্বওলুল জামীল, (১৫) শিফাউল আলীল, (১৬) তা’লীমে মা’রিফত, (১৭) মুরাদুল মুরীদীন, (১৮) কাশফুল গুয়ূব, (১৯) রিসালায়ে কুশাইরিয়া, (২০) মকতুবাতে সদী, (২১) মানতিকুত্ তায়ির, (২২) মসনবী শরীফ, (২৩) কেলিদে মসনবী, (২৪) আনীসুল আরওয়াহ্, (২৫) মাবদা মা’আদ, (২৬) মুকাশিফাতে আইনিয়া, (২৭) মা’আরিফে লাদুন্নিয়া, (২৮) কাশফুল মাহ্যূফ, (২৯) মিনহাজুল আবিদীন, (৩০) ইসরারুল আউলিয়া, (৩১) ফাওয়ায়িদুস্ সালিকীন, (৩২) ফাওয়ায়িদুল ফুয়াদ, (৩৩) রাহাতুল কুলূব, (৩৪) রাহাতুল মুহিব্বীন, (৩৫) পীর-মুরীদী তত্ত্ব, (৩৬) তাবলীগে দ্বীন, (৩৭) সিরাজুস্ সালিকীন, (৩৮) তাছাউফ তত্ত্ব, (৩৯) ইলমুত্ তাছাউফ, (৪০) তা’লীমুদ্দীন, (৪১) শরীয়ত্ ও তরীক্বত ইত্যাদি)
মুহম্মদ গিয়াসুদ্দীন ওলী মিরপুর, ঢাকা
সুওয়ালঃ হিন্দুদেরকে আদাব দেয়া জায়িয কিনা?
জাওয়াবঃ না, হিন্দুদেরকে আদাব দেয়া জায়িয নেই। কেননা এটি হিন্দুদের শেয়ার। মুসলমানের জন্য হিন্দু বা অন্য সকল বিধর্মীদের শেয়ার ও আদর্শের অনুসরণ-অনুকরণ করা জায়িয নেই বরং সম্পূর্ণরূপে হারাম ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে,
عن عبد الله بن عمر رضى الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم من تشبه بقوم فهو منهم.
অর্থঃ- “হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হতে বর্ণিত আছে। হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদের দলভুক্ত এবং তার হাশর-নশর তাদের সাথেই হবে।” (মুসনদে আহমদ, সুনানে আবূ দাউদ) হাদীস শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে,
ليس منا من تشبه بغيرتا.
অর্থঃ- “যে অন্য সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে সে আমার উম্মত নয়।”(তিরমিযী, মিশকাত) এখন কোন বিধর্মী যদি শিক্ষক কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানের প্রধান হয় তথাপিও তাদের ধর্মমতে আদাব বা নমস্কার ইত্যাদি কোনটিই বলা জায়িয নেই। সেক্ষেত্রে শুধু ভাল-মন্দ জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই কথাবার্তা শুরু করতে হবে। আর যদি কোন প্রকার সম্বোধন না করলে ক্ষতি হওয়ার বা করার সম্ভাবনা থাকে তাহলে যদি দূরবর্তী স্থান হয়, তখন হাত ইশারা করে মুখে বলবে আল্লাহ্ পাক আপনাকে হিদায়েত দান করুন। আর যদি নিকটবর্তী স্থান হয়, তখন হাত ইশারা করে উক্ত কথা মনে মনে বলবে।
আর যদি স্পষ্ট করে না বললে ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে তখন এমন শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করে সম্বোধন করবে, যেটা কোন বিধর্মীদের শেয়ার অর্থাৎ ধর্মীয় কোন চিহ্ন নয়। যেমন আরবীতে আস্ সুবহুল খায়ের, ইংরেজীতে গুডমর্নিং, বাংলাতে সু-প্রভাত ইত্যাদি। (বিঃ দ্রঃ- এ সম্পর্কে আরো জানতে হলে আল বাইয়্যিনাত ২৯ ও ৫০ তম সংখ্যা পাঠ করুন।) {দলীলসমূহঃ (১) মুসনদে আহমদ, (২) সুনানে আবূ দাউদ, (৩) তিরমিযী, (৪) মিশকাত, (৫) বযলুল মাজহুদ, (৬) তুহফাতুল আহওয়াযী, (৭) উরফুশ্ শাজী, (৮) মিরকাত, (৯) আশয়াতুল লুময়াত, (১০) লুময়াত, (১১) শরহুত্ তীবী, (১২) তালীকুছ্ ছবী, (১৩) মুযাহিরে হক্ব, (১৪) নাওয়াদিরুল ফতওয়া ইত্যাদি}
মুছাম্মত শামছুন্নাহার বেগম সভানেত্রী- আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত আটোয়ারী, পঞ্চগড়
সুওয়ালঃ আমরা জানি যে, তারাবীহ্র নামায বিশ রাকায়াত এবং তা আদায় করা সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্। অথচ কেউ কেউ বলে আট রাকায়াত পড়াই সুন্নত। আবার কেউ কেউ বলে বার রাকায়াত পড়াই সুন্নত। এখন আমরা কোন্ মতের উপর আমল করবো এবং কোন্ মতটি ছহীহ্?
জাওয়াবঃ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের ফতওয়া মুতাবিক তারাবীহ্র নামায বিশ রাকায়াত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্।
অতএব, কেউ যদি বিশ রাকায়াত থেকে এক রাকায়াতও কম পড়ে, তবে তার সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ তরক্ব করার গুণাহ্ হবে। অর্থাৎ তারাবীহ্র নামায বিশ রাকায়াতই পড়তে হবে এবং এর উপরই ইজ্মা হয়েছে। যারা তারাবীহর নামায আট রাকায়াত বলে থাকে, তারা বুখারী শরীফে বর্ণিত হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহা-এর হাদীস শরীফখানা দলীল স্বরূপ পেশ করে থাকে। যাতে বর্ণিত আছে যে, “আল্লাহ্ পাক-এর রসূল, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসে এবং রমজান ব্যতীত অন্যান্য মাসে (বিত্র সহ) এগার রাকায়াত নামায আদায় করতেন।” মূলতঃ এটি হচ্ছে তাহাজ্জুদ নামাযের বর্ণনা, তারাবীহ্র নামাযের বর্ণনা নয়। কারণ তারাবীহ্র নামায শুধু রমজান মাসের জন্যই নির্দিষ্ট। রমজান ব্যতীত অন্যান্য মাসে তারাবীহ্র নামায নেই। আর তাহাজ্জুদ নামায সারা বৎসরই পড়তে হয়। [ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত পত্রিকার ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯ ও ৩০তম সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে ৩০৪ খানা অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীলের ভিত্তিতে ছাবেত করা হয়েছে যে, তারাবীহ্র নামায ২০ রাকায়াত পড়াই সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ এবং এটাই গ্রহণযোগ্য ও ছহীহ্ মত। ] {দলীলসমূহঃ (১) মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, (২) সুনানুল কোবরা লিল বাইহাক্বী, (৩) আল কবীর লিত্ তিবরানী, (৪) আল জাওহারুন্নাকী, (৫) নাইলুল আওতার, (৬) ইরশাদুস্ সারী, (৭) মিরকাত, আওজাজুল মাসালিক, (৮) মা’আরিফে মাদানীয়া, (৯) ফতহুল বারী, (১০) উমদাতুল ক্বারী, (১১) বজলুল মাযহুদ, (১২) ফিক্হুস্ সুনান ওয়াল আছার, (১৩) নছবুর রাইয়াহ, (১৪) আইনী শরহে বুখারী, (১৫) আত্ তা’লীকুল হাছানাহ, (১৬) মুজাহিরে হক্ব, (১৭) আশয়াতুল লুময়াত, (১৮) ইলাউস্ সুনান, (১৯) ফতওয়ায়ে আলমগীরী, (২০) খুলাসাতুল ফতওয়া, (২১) মজমুয়াতুল ফতওয়া, (২২) বাহ্রুর রায়িক, (২৩) মারাকিউল ফালাহ্, (২৪) ইহ্ইয়াউ উলুমুদ্দীন, (২৫) গুন্ইয়াতুত্ ত্বলিবীন ইত্যাদি}
মুহম্মদ জাহাঙ্গীর হুসাইন সভাপতি- আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত, বান্দরবান
সুওয়ালঃ অনেকেই নামায পড়েনা কিন্তু রমজান মাসে রোযা রাখে, এই রোযার কি কোন ফযীলত পাওয়া যাবে? জানাবেন।
জাওয়াবঃ আল্লাহ্ পাক কালামুল্লাহ্ শরীফে ইরশাদ করেছেন,
فمن يعمل مثقال ذرة خيرايره ومن يعمل مثقال ذرة شرايره.
অর্থঃ- “যদি কেউ একবিন্দু নেকী করে, তার প্রতিদান সে পাবে। আর একবিন্দু বদী করলেও তার বদলা তাকে গ্রহণ করতে হবে।”(সূরা যিলযাল/৭, ৮) আরো অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-
انى لااضيع عمل عامل منكم من ذكر او انثى.
অর্থঃ- “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মধ্যে কোন আমলকারী পুরুষ ও মহিলার আমলকে নষ্ট করিনা।” (সূরা আলে ইমরান/১৯৫) কাজেই যে নেক কাজ করবে, সে নেকীর বদলা পাবে। আর যে বদ কাজ বা গুণাহ্র কাজ করবে, সে তারও বদলা পাবে। রমজান শরীফে রোযা রাখা ফরয এবং নামায পড়াও ফরয। যে উভয়টি করবে, সে পূর্ণ ফায়দা হাসিল করবে। আর যদি কেউ শুধু রমজান শরীফে রোযা রাখে, নামায না পড়ে, তবে তার রোযা রাখার ফরয আদায় হবে কিন্তু নামায না পড়ার গুণাহ্ তার উপর বর্তাবে। কারণ, আল্লাহ্ পাক অন্য আয়াত শরীফে বলেন,
من عمل صالحا فلتفسه ومن اساء فعليها وما ربك بظلام للعبيد.
অর্থঃ- “যে নেক কাজ করে, সে তার নিজের জন্য করে। অর্থাৎ সে তার সওয়াব পাবে, আর যে পাপ কাজ করে, সেটা তার উপর বর্তাবে। অর্থাৎ গুণাহ্র শাস্তি তাকে ভোগ করতে হবে। আর আপনার রব বা প্রতিপালক বান্দার প্রতি জুলুম করেন না। অর্থাৎ আল্লাহ্ পাক কোন বান্দার প্রতি জুলুম করেন না।” (সূরা হা-মীম সিজদা/৪৬)
সুতরাং যে ব্যক্তি নামায আদায় করা ব্যতীত শুধু রমজান শরীফে রোযা রাখবে, সে রোযা রাখার সওয়াব পাবে এবং অবশ্যই সে নামায তরক করার গুণাহে গুণাহ্গার হবে। {দলীলসমূহ ঃ (১) তাফসীরে মাযহারী, (২) কুরতুবী, (৩) খাযিন, (৪) বাগবী, (৫) কবীর এবং সমূহ তাফসীরের কিতাব)
মুহম্মদ তাজুল ইসলাম সভাপতি- আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত তপশিডাঙ্গাবিল শাখা, কাউনিয়া, রংপুর
সুওয়ালঃ রমযান মাস আসলেই কেউ কেউ পেপার-পত্রিকায় ও প্রচার মাধ্যমে প্রচার করে থাকে যে, “রোযা অবস্থায় ইন্জেকশন এমনকি স্যালাইন ইন্জেকশন নিলেও রোযা ভঙ্গ হয়না।”
এখন আমার সুওয়াল হলো- তাদের উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য কোন দলীল আছে কি?
জাওয়াবঃ যারা বলে থাকে যে, “রোযা অবস্থায় ইনজেকশন বা স্যালাইন ইনজেকশন, ইনহেলার নিলেও রোযা ভঙ্গ হয়না” তাদের এ বক্তব্য সম্পূর্ণই ভুল ও জিহালতপূর্ণ। কেননা, তারা তাদের উক্ত বক্তব্যের স্বপক্ষে নির্ভরযোগ্য একটি দলীলও পেশ করতে পারবেনা। পক্ষান্তরে রোযা অবস্থায় যে কোন ইনজেকশন ও ইনহেলার নিলে রোযা ভঙ্গ হয়ে যাবে এ ফতওয়াটিই ছহীহ্ ও গ্রহণযোগ্য। কারণ এর স্বপক্ষে ফিক্বাহ্ ও ফতওয়ার নির্ভরযোগ্য কিতাবসমূহের অসংখ্য দলীল বিদ্যমান রয়েছে। যেমন, “হিদায়া মা’য়াদ দিরায়া” কিতাবের ১ম খন্ডের ২২০ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ومن احتقن … افطر لقوله صلى الله عليه وسلم الفطر مما دخل.
অর্থঃ- “এবং যদি কোন ব্যক্তি ইন্জেকশন নেয় … তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন , “কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে।” “বাহরুর রায়িক” কিতাবের ২য় খন্ডের ২৭৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
واذا احتقن … افطر لقوله عليه السلام الفطر مما دخل وليس مما حرج.
অর্থঃ- “যদি কোন ব্যক্তি ইন্জেকশন নেয় … তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে। কারণ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কিছু ভিতরে প্রবেশ করলে রোযা ভঙ্গ হবে এবং বের হলে রোযা ভঙ্গ হবেনা।” “ফতওয়ায়ে আলমগীরী” কিতাবের ১ম খন্ডের ২০৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে,
ومن احتقن … افطر.
অর্থঃ- “এবং যদি কোন ব্যক্তি ইন্জেকশন নেয় … তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে।” অনুরূপ “ফতওয়ায়ে শামীতে”ও উল্লেখ আছে। “ফতওয়ায়ে শামী” কিতাবের ২ খন্ডের ৪০২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে যে,
من حقن المريض دواءه بالحقنة وبالخم احتقن غير جائز.
অর্থঃ- “যদি কেউ রোগাক্রান্ত (রোযাদার) ব্যক্তিকে ইন্জেকশনের মাধ্যমে ঔষধ প্রদান করে বা রোগাক্রান্ত ব্যক্তি কারো দ্বারা ইন্জেকশন নেয় তবে তা জায়িয হবেনা।” অর্থাৎ ইন্জেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হবে।” স্মরণীয় যে, রোযা ভঙ্গের শর্ত হলো- ‘মগজ কিংবা পাকস্থলীতে কিছু পৌঁছা। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে, ইনজেকশন, স্যালাইন ইনজেকশন, ইনহেলার ইত্যাদি মগজ ও পাকস্থলীতে পৌঁছে থাকে। তাই এগুলো প্রত্যেকটিই রোযা ভঙ্গের কারণ। অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনা থেকে প্রমাণিত হলো যে, ইন্জেকশন নিলে রোযা ভঙ্গ হবে। [ বিঃ দ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে, মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ২১, ২২, ৪৬ ও ৪৭তম সংখ্যা পাঠ করুন। ] {দলীলসমূহঃ (১) বুখারী, (২) মুসলিম, (৩) মিশকাত, (৪) ফতহুল বারী, (৫) উমদাতুল ক্বারী, (৬) ইরশাদছ্ ছারী, (৭) শরহে নববী, (৮) ফতহুল মুলহিম, (৯) মুফহিম, (১০) মিরকাত, (১১) আশয়াতুল লুময়াত, (১২) লুময়াত, (১৩) শরহুত্ ত্বীবী, (১৪) তালিক্বুছ্ ছবীহ্, (১৫) মুযাহিরে হক্ব, (১৬) মাবছুত, (১৭) মাবছুত্ লি সারাখসী, (১৮) ফতহুল ক্বাদীর, (১৯) আলমগীরী, (২০) বাহরুর রায়িক্ব, (২১) ফতওয়ায়ে হিন্দিয়া, (২২) হিদায়া মায়াদ দিরায়া, (২৩) শামী, (২৪) বাদায়েউছ্ ছানায়ে, (২৫) খুলাছাতুল ফতওয়া, (২৬) Biopharmaceuties & Semisolids Chapter from the theory and practice of Industrial Pharmacy by leon Lachman/Herbert. A. Lieberman/Joseph L.Kanig. (২৭) Guyton’s medical physiology. (২৮) Remington’s pharmaceutical. (২৯) Goodman Gilman pharmacology. (৩০) Cunningham’s manuals of practical anatomy, (৩১) Martindate Extra Pharmacopoeia. ইত্যাদি।
শফিক আহমদ বসুন্ধরা, ঢাকা
সুওয়ালঃ রোযা রেখে টুথপেষ্ট, দাঁতের মাজন, কয়লা বা ছাই ইত্যাদি দ্বারা দাঁত মাজলে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?
জাওয়াবঃ উপরে উল্লিখিত মাজনের দ্বারা দাঁত মাজলে রোযা মাকরূহ্ হবে। তবে যদি মাজনের সামান্য পরিমাণ ভিতরে চলে যায়, তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে এবং কাযা করা ওয়াজিব হবে, কাফ্ফারা আদায় করতে হবেনা। (আলমগীরী)
মুছাম্মত রাহেনা বেগম সভানেত্রী- মহিলা আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত
সেনপাড়া শাখা, রংপুর
সুওয়ালঃ তরকারী পাক করার সময় লবন হয়েছে কিনা, তা দেখার জন্য জিহ্বা অগ্রভাগ দিয়ে স্বাদ পরীক্ষা করা জায়িয আছে কিনা?
জাওয়াবঃ সাধারণভাবে এরূপ করা জায়িয নেই। হ্যাঁ, যদি কেউ সতর্কতার সাথে এরূপ করে, তবে তা মাকরূহের সহিত জায়িয রয়েছে, না করাই উচিৎ। তবে কারো স্বামী যদি এমন জালিম হয় যে, তরকারীতে লবন কম বা বেশী হলে মারধর, জুলুম ইত্যাদি করে, তাহলে জালিমের জুলুম হতে বাঁচার জন্য জিহ্বার অগ্রভাগ দিয়ে তরকারীর স্বাদ পরীক্ষা করা জায়িয রয়েছে। এক্ষেত্রে মাকরূহ্ হবেনা। লক্ষ্যণীয় যে, তরকারীযুক্ত থুথু কোন ক্রমেই যেন ভিতরে প্রবেশ না করতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। (সমূহ ফিক্বাহ্রে কিতাব)
মুছাম্মত ফিরদৌসি আক্তার বিউটি চকদেবপাড়া, নওগাঁ
সুওয়ালঃ রোযা অবস্থায় সন্তানকে দুধ পান করালে মায়ের রোযা ভঙ্গ হবে কি?
জাওয়াবঃ না, রোযা অবস্থায় সন্তানকে দুধ খাওয়ালে মায়ের রোযা ভঙ্গ হবে না, এমন কি ওযুও ভঙ্গ হবে না। (আলমগীরী)
নূর আহমদ সভাপতি- ছাত্র আঞ্জুমানে আল বাইয়্যিনাত রাজারহাট, কুড়িগ্রাম
সুওয়ালঃ রোযা রাখা অবস্থায় বমি করলে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?
জাওয়াবঃ রোযা রাখা অবস্থায় বমি করার ব্যাপারে কয়েকটি সূরত কিতাবে বর্ণিত হয়েছে। বমি করাটা সাধারণতঃ দু’প্রকারের হয়ে থাকে- (১) ইচ্ছাকৃত, (২) অনিচ্ছাকৃত। কেউ যদি ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করে, তাহলে রোযা ভঙ্গ হবে। আর ইচ্ছাকৃত অল্প বমি করলে রোযা ভঙ্গ হবেনা। অনিচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি হোক অথবা অল্প বমি হোক, তাতে রোযা ভঙ্গ হবেনা। কেউ যদি ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে অথবা অল্প বমি গিলে ফেলে, তাতে তার রোযা ভঙ্গ হবে। আর যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে অল্প বমি ভিতরে চলে চায়, তাতে রোযা ভঙ্গ হবেনা। কিন্তু মুখ ভরা বমি অনিচ্ছাকৃতভাবেও ভিতরে চলে গেলে রোযা ভঙ্গ হবে। উপরোল্লিখিত কোন কারণে রোযা ভঙ্গ হলে সেটার কাযা আদায় করতে হবে কিন্তু কাফ্ফারা দিতে হবেনা। (আলমগীরী)
মুহম্মদ জাকির হুসাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সুওয়ালঃ কেউ যদি রোযা অবস্থায় দিনে ঘুমায় এবং ঘুমের মধ্যে গোসল ফরয হয়, তাতে রোযার কি কোন ক্ষতি হবে?
জাওয়াবঃ রোযা রেখে দিনে ঘুমালে এবং ঘুমের মধ্যে গোসল ফরয হলে, রোযার কোন ক্ষতি হবেনা। (আলমগীরী)
মুহম্মদ তারিফুল ইসলাম ফতুল্লা, এন.গঞ্জ
সুওয়ালঃ রোযা রেখে নাকে পানি দেয়া ও গড়গড়া করা যাবে কিনা?
জাওয়াবঃ রোযা অবস্থায় নাকে পানি দিয়ে উপরের দিকে টান দেয়া ও কুলি করার সময় গড়গড়া করার হুকুম নেই। বরং নিষেধ রয়েছে। (সমূহ ফিক্বহ্রে কিতাব)
খন্দকার মুহম্মদ হাসান শরীফ চট্টগ্রাম কলেজ, চট্টগ্রাম
সুওয়ালঃ রোযা রাখা অবস্থায় চোখে ওষুধ বা সুরমা দিলে রোযা ভঙ্গ হবে কি? জাওয়াবঃ না, রোযা রাখা অবস্থায় চোখে ওষুধ বা সুরমা দিলে রোযা ভঙ্গ হবে না। এমনকি যদি ওষুধের স্বাদ গলায় অনুভব হয় বা সুরমার রং যদি থুথুর সাথে দেখা দেয়, তাতেও রোযা ভঙ্গ হবেনা। (আলমগীরী, মাবছূত)
মুহম্মদ রিয়াজুল কবীর চৌধুরী বাঁশখালী, চট্টগ্রাম
সুওয়ালঃ অনেকে দেখা যায়, রোযা রেখে বার বার থুথু ফেলে থাকে। এই থুথু না ফেলে গিলে ফেললে রোযার কোন ক্ষতি হবে কি?
জাওয়াবঃ রোযা রেখে মুখের থুথু বার বার না ফেলে গিলে ফেললে রোযার কোন ক্ষতি হবে না। (আলমগীরী)