মুহম্মদ আবু বকর ছিদ্দীক্ব
কুমিল্লা
সুওয়াল: আমাদের দেশে ও সারা পৃথিবীতে যোগাযোগ মাধ্যমে ও বিভিন্নভাবে, যেমন- পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তুক, কিতাবাদী, কাটুর্ন, ব্যাঙ্গচিত্র এবং বিভিন্ন অশ্লীল নাটক-সিনেমার মাধ্যমে আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী, সারা কায়িনাতের মালিক, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ্বাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করা হচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! এমনকি নামধারী ইমাম, খতীব, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসির, ইসলামী চিন্তাবিদরাও উনার শান মুবারকে বিভিন্ন মানহানিকর বক্তব্য পেশ করে যাচ্ছে। যেমন- তাদের কেউ কেউ উনাকে ‘কাউ বয়, পিয়ন’ ইত্যাদি বলে যাচ্ছে। না‘ঊযুবিল্লাহ! সম্প্রতি বাংলাদেশের চাঁদপুরে কথিত ইমাম নামধারী এক গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গার তার ব্যক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘পিয়ন’ বলে সম্বোধন করে মানহানি করে এবং রংপুরেও আরেক মালঊন কুলাঙ্গার উনার শান মুবারকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ায়। না‘ঊযুবিল্লাহ!
এখন আমাদের সুওয়াল হচ্ছে- যে সমস্ত গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গাররা এই প্রকার জঘন্যতম সর্বনিকৃষ্ট কাজগুলো করে যাচ্ছে এবং যারা এই জঘন্যতম সর্বনিকৃষ্ট কাজের সাথে জড়িত বা যারা তাদেরকে সমর্থন করে বা করবে, তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফয়সালা কী? দয়া করে এ বিষয়ে জানিয়ে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা মানহানি করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী ইমাম হোক, খতীব হোক, মুফতী হোক, মুহাদ্দিছ হোক, মুফাসসির হোক, ইসলামী চিন্তাবিদ হোক অর্থাৎ তারা মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। অর্থাৎ তারা যেই হোক না কেন। তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।’ সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য যে, আমাদের প্রাণ প্রিয় নবী, সারা কায়িনাতের মালিক, মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘কাউ বয়, পিয়ন’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা মানহানিকর। যারা এরূপ শব্দ ব্যবহার করেছে ও করবে, সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া অনুযায়ী তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড’। সুবহানাল্লাহ! নিম্নে সংক্ষিপ্ত আকারে জবাব প্রদান করা হলো-
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
لَا تَـجْعَلُوْا دُعَآءَ الرَّسُوْلِ بَــيْـنَكُمْ كَدُعَآءِ بَـعْضِكُمْ بَـعْضًا
অর্থ: “তোমরা পরস্পর পরস্পরকে যেভাবে সম্বোধন করে থাকো, সেভাবে সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সম্বোধন করো না।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা নূর শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬৩)
অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কখনই কোন মানুষের মতো সম্বোধন করা যাবে না। অর্থাৎ করা জায়েয নেই। ব্যাখ্যায় বলা হচ্ছে- যিনি খালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
يٰـۤايُّـهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُـوْا لَا تَـقُوْلُوْا رَاعِنَا وَقُـوْلُوْا انْظُرْنَا
অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা (আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে) ‘রঈনা’ বলো না। বলো ‘উনযুরনা’।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৪)
উল্লেখ্য যে, ‘রঈনা’ এর দুইটি অর্থ। এক. আমাদের দিকে তাকান এবং দুই. রাখাল। এ কারণে মহান আল্লাহ পাক তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ‘রঈনা’ বলতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ উনার প্রতি এতটুকু আদব রক্ষা করতে হবে যে, যে সমস্ত শব্দের একাধিক অর্থ হয় যার মধ্যে একটা খারাপ অর্থও হয়, অর্থাৎ যে সমস্ত শব্দ ব্যবহার করলে আদবের খেলাফ হয়, সে সমস্ত শব্দ দিয়েও উনাকে সম্বোধন করা যাবে না।
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ইরশাদ মুবারক করেন,
وَرَفَـعْنَا لَكَ ذِكْـرَكَ
অর্থ: “আর আমি আপনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আলোচনা মুবারক, শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক বুলন্দ থেকে বুলন্দতর করেছি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলাম নাশ্রহ্ শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব ও মহাবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র যিকির মুবারক বুলন্দ করতে করতে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র ইসিম বা নাম মুবারক উনার সাথে উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মহাবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র বরকতময় ইসিম বা নাম মুবারক সংযুক্ত করে দিয়েছেন। সুবহানাল্লাহ! একমাত্র মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত সমস্ত হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারাসহ সমস্ত কায়িনাতবাসী সকলের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কালিমা শরীফ হচ্ছেন-
لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
এ বিষয়ে সমস্ত উম্মতের ইজমা’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ যদি শুধু لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا اللهُ বলে সে ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত مُحَمَّدٌ رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ না বলবে। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি বলেন,
وَلَوْ اَنَّ عَبْدًا عَبَدَ اللهَ وَصَدَّقَهٗ فِـىْ كُلِّ شَىْءٍ وَّلَـمْ يَشْهَدْ اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَـمْ يَــنْـتَفِعْ بِشَىْءٍ وَكَانَ كَافِـرًا
অর্থ: “যদি কোনো ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত-বন্দেগী করে এবং উনার যাবতীয় বিষয়সমূহ বিশ্বাস করে, তারপরেও সে এক যার্রা পরিমাণ ফায়দা লাভ করতে পারবে না এবং নিঃসন্দেহে সে কাফির; যদি সে সাক্ষ্য না দেয়,
اَنَّ مُحَمَّدًا رَّسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
‘নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’।” সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে বাগভী শরীফ ৮/৪৬৩)
কাজেই, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিই হচ্ছেন সম্মানিত ঈমান। সুবহানাল্লাহ! এ কারণে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا يُـؤْمِنُ اَحَدُكُمْ حَتّٰـى اَكُوْنَ اَحَبَّ اِلَيْهِ مِنْ وَّالِدِهٖ وَوَلَدِهٖ وَالنَّاسِ اَجْـمَعِـيْـنَ وَفِـىْ رِوَايَةٍ اُخْرٰى مِنْ مَّالِهٖ وَنَـفْسِهٖ
অর্থ: “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমরা তোমাদের পিতা-মাতা, সন্তান-সন্ততি এবং সমস্ত মানুষ থেকে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুহব্বত না করবে, সম্মান ও তা’যীম না করবে।” সুবহানাল্লাহ! অপর বর্ণনায় রয়েছে, “নিজের ধন-সম্পদ এবং নিজের জীবনের চেয়েও বেশি মুহব্বত না করবে, সম্মান ও তা’যীম না করবে।” সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুসনাদে আহমাদ ৩/১৭৭, মুসনাদে আবী ইয়া’লা ৫/৩৮৭, সুনানে দারিমী ২/৩৯৭, মিশকাত শরীফ, তাফসীরে ইবনে কাছীর ৪/১২৪, তাফসীরে মানার ১০/২১২, তাফসীরে মাযহারী ১/১৯১৫, তাফসীরে মুনীর ১০/১৫২, তাফসীরে ইবনে রজব ১/৪৯৯, ফুতূহুল গাইব ৫/৫৭, মিরক্বাত শরীফ ১/৭২, শরহুস সুন্নাহ্ ১/৫০, কাশফুল মুশকিল ১/৮২৫, শরহুস সুয়ূত্বী আলা মুসলিম ১/৬০, উমদাতুল ক্বারী ১/১৪৫, ফায়যুল বারী ১/১৫৭, আত তাহবীর ১/১৮৫, আওনুল মা’বূদ ১২/২৮৩, ফাতহুল বারী লি ইবনে রজব ১/৪৮, শরহুল আরবাঈন ১/১৩৬, আল কাওয়াকিবুদ দুরারী ১/৯৯, আল কাওছারুল জারী ১/৬৬, কাওছারুল মাআনী ১/৫১০, আল মাফাতীহ্ শরহুল মাছাবীহ্ ১/৬৭, শরহুল মাছাবীহ্ লি ইবনে মালাক ১/৩০, আল লামিউছ ছবীহ্ ১/১৪৬, মাশারিকুল আনওয়ারিল ওয়াহ্হাজাহ্ ১/২৮২, তুহফাতুল আবরার ১/৩৯, যখীরাতুল উক্ববা ১/৬০১, মিনহাতুল বারী ১/১৫১, ইরশাদুস সারী ১/৯৭ ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বুলন্দী শান মুবারক সম্পর্কে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنِّــىْ لَسْتُ كَاَحَدِكُمْ
অর্থ: “নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কারো মতো নই।” সুবহানাল্লাহ! (তিরমিযী শরীফ, মুসনাদে আহমাদ, মুসনাদে হুমাইদী, মুসনাদে আবী ইয়া’লা, সুনানে দারিমী, ছহীহ ইবনে খুযাইমাহ, ছহীহ ইবনে হিব্বান, হিলইয়াতুল আউলিয়া ইত্যাদি)
তিনি উনার বুলন্দী শান মুবারক সম্পর্কে আরো ইরশাদ মুবারক করেন,
اَيُّكُمْ مِثْلِـىْ
অর্থ: “তোমাদের মধ্যে কে আছো যে আমার মতো? অর্থাৎ আমার মতো তোমাদের মধ্যে কেউ নেই।” (বুখারী শরীফ, মুস্তাখরাজে আবী ‘আওয়ানাহ্, তাগলীকুত তা’লীক্ব ইত্যাদি)
কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সৃষ্টির কারো মতো নন এবং উনার সাথে সৃষ্টির কারো কোনো প্রকার তুলনা করা সুস্পষ্ট কুফরী। না‘ঊযুবিল্লাহ!
তাহলে কি করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে ‘পিয়ন বা কাউ বয়’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে? উনার শান মুবারকে ‘পিয়ন বা কাউ বয়’ ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার করার অর্থ হচ্ছে উনার মানহানি করা। না’ঊযুবিল্লাহ! কাজেই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কথিত ইমাম নামধারী ঐ গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গার ‘পিয়ন’ শব্দ ব্যবহার করে উনার মানহানি করেছে। তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। অনুরূপ যেই মালঊন কুলাঙ্গার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য করে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়েছে, তারও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
উল্লেখ্য যে, কোন মুসলমান যদি কুফরী করে তাহলে সে মুরতাদ হয়ে যায়। মুরতাদ দুই প্রকার। ১. যারা সম্মানিত শরীয়ত উনার কোন বিষয় অবমাননা করে বা অস্বীকার করে। এই প্রকার মুরতাদকে তওবার জন্য ৩ দিন সময় দেয়া হবে। যদি সে তওবা করে, তাহলে তাকে ক্ষমা করা হবে। অন্যথায় তার শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। আর ২. নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের যারা মানহানি করে। এই প্রকারের মুরতাদের তওবার কোন সুযোগ নেই। তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَلْعُوْنِـيْـنَ اَيْـنَمَا ثُقِفُوْاۤ اُخِذُوْا وَقُــتِّلُوْا تَـقْتِـيْلًا
অর্থ: “(এরা হচ্ছে লা’নতগ্রস্ত) লা’নতগ্রস্ত অবস্থায় তাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই পাকড়াও করা হবে এবং অবশ্যই তাদেরকে অত্যন্ত কঠিনভাবে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
এ প্রসঙ্গে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছেন,
عَنْ اِمَامِ الْاَوَّلِ سَيِّدِنَا حَضْرَتْ كَرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ اَنَّ يَـهُوْدِيَّةً كَانَتْ تَشْتُمُ النَّبِـىَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَـقَعُ فِـيْهِ فَخَنَـقَهَا رَجُلٌ حَـتّٰـى مَاتَتْ فَاَبْطَلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَمَهَا
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। (তিনি বলেন,) নিশ্চয়ই এক ইহুদী মহিলা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গালাগালি করতো, না’ঊযুবিল্লাহ! এবং উনার সম্পর্কে মন্দ কথা বলতো। না’ঊযুবিল্লাহ! একদিন একজন হযরত ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি ঐ ইহুদী মহিলাকে গলা টিপে হত্যা করেন। তখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ ইহুদী মহিলার রক্তের দাবী বাতিল বলে ঘোষণা মুবারক করেন। (আবূ দাঊদ শরীফ, আস সুনানুল কুবরা লিল বাইহাক্বী ৯/২০০, মা’রিফাতুছ ছাহাবা লিল বাইহাক্বী ১৩/৩২১, আল আহাদীছুল মুখতারাহ্ লিল মাক্বদিসী ২/১৬৯, যাদুল মা‘আদ ৫/৫৪, খ¦ছাইছুল কুবারা ২/৩৮০, নাইলুল আওত্বার ৭/২২২, যখীরতুল উক্ববা ৩২/২৫, সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ ৯/২১২, আহকামু আহলিয যিম্মাহ্ ৩/১৩৯৮ ইত্যাদি)
অর্থাৎ ঐ ইহুদী মহিলার শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, সেটাই তাকে এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি দিয়েছেন। কাজেই, এজন্য এই ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে কোনো রক্তপণ দিতে হবে না। তিনি যা করেছেন সঠিকই করেছেন। এজন্য উনাকে কোনো রকম দোষারোপ করা তো যাবেই না; বরং উক্ত আমলের জন্য উনার প্রশংসা করতে হবে।” সুবহানাল্লাহ!
এ কারণে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ফতওয়া দিয়েছেন,
اَجْـمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْمُتَـنَقِّصَ لَهٗ كَافِرٌ وَالْوَعِيْدُ جَارٍ عَلَيْهِ بِعَذَابِ اللهِ لَهٗ وَحُكْمُهٗ عِنْدَ الْاُمَّةِ اَلْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِـىْ كُفْرِهٖ وَعَذَابِهٖ كَفَرَ
অর্থ: “সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এই বিষয়ে ইজমা’ করেছেন যে, নিঃসন্দেহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী, উনার মানহানিকারী ব্যক্তি কাফির এবং তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তার ব্যাপারে সমস্ত উম্মত উনাদের ফয়সালা হলো, তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি এ ধরণের লোকদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে এবং শাস্তিযোগ্য হওয়ার বিষয়ে (অর্থাৎ তার একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে) সন্দেহ পোষণ করবে, সেও কাফির হবে (এবং তাকেও শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে)।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ১২০ নং পৃষ্ঠা, নিহায়াতুস সুওয়াল ২৬১ নং পৃষ্ঠা)
অতএব, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছেন- ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যারা মানহানি করবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তারা নামধারী ইমাম হোক, খতীব হোক, মুফতী হোক, মুহাদ্দিছ হোক, মুফাসসির হোক, ইসলামী চিন্তাবিদ হোক অর্থাৎ তারা মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। অর্থাৎ তারা যেই হোক না কেন। তাদের তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাদেরকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।’ সুবহানাল্লাহ!
আর যেই সমস্ত দ্বীনদার আশিকে রসূলগণ এ সমস্ত মানহানিকর বক্তব্য শুনে বা মানহানিকর লেখা পড়ে বরদাশত করতে না পেরে তাদেরকে শরঈ শাস্তি দিবেন বা সাবির্কভাবে প্রতিবাদ করবেন ও প্রতিক্রিয়া জানাবেন, উনারা সম্মানিত শরীয়ত উনার ফতওয়া মুতাবেক অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত হবেন না। উনারা বেকসুর খালাছ পাবেন। আর যেই আশেকে রসূল উক্ত গোস্তাখে রসূল এর বক্তব্য শুনে বরদাশত করতে না পেরে ঐ কুলাঙ্গারকে আঘাত করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং যাঁরা আরেক মালঊন কুলাঙ্গারের কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য দেখে বা পড়ে বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উনারা অপরাধী নন। এদেশের সরকার, আদালত ও প্রশাসনের উচিৎ উক্ত আশিকে রসূল উনাদের এই ঈমানী হিম্মতের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং উনাদের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ও উনাদেরকে বেকসুর খালাছ প্রদান করা এবং তার পাশাপাশি কথিত ইমাম নামধারী ঐ গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গারকে এবং মালঊন কুলাঙ্গারকেও গ্রেফতার করে হাজতে প্রবেশ করানো এবং তাদের উপর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করা। আর জনগণের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে উক্ত কাজে পূর্ণ সমর্থন করা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা।
অতএব, কথিত ইমাম নামধারী ঐ গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গার যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করেছে, তাই তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড।
এ প্রসঙ্গে যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ الَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ اللهَ وَرَسُوْلَهٗ لَعَنَـهُمُ اللهُ فِـى الدُّنْـيَا وَالْاٰخِرَةِ وَاَعَدَّ لَـهُمْ عَذَابًا مُّهِيْـنًا
অর্থ: “নিশ্চয়ই যারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়, তাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত দুনিয়া ও আখিরাতে এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি তাদের জন্য লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছেন।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭)
এ প্রসঙ্গে ‘বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফসহ’ আরো অন্যান্য কিতাবে এসেছেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কা’ব বিন আশরাফকে হত্যা করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। তিনি ইরশাদ মুবারক করেছেন,
مَنْ لِكَعْبِ بْنِ الْاَشْرَفِ فَاِنَّهٗ يُـؤْذِى اللهَ وَرَسُوْلَهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: “আপনাদের মধ্যে কে আছেন, যিনি কা’ব বিন আশরাফকে হত্যা করতে পারবেন? কেননা, সে মহান আল্লাহ পাক উনাকে এবং উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রাসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে অর্থাৎ উনাদেরকে কষ্ট দেয়।” না‘ঊযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, শরহুস সুন্নাহ শরীফ, মুস্তাদরকে হাকিম শরীফ, শিফা শরীফ, আস সাইফুল মাসলূল ইত্যাদি)
তারপর বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত মুহম্মদ ইবনে মাসলামা রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি কা’ব বিন আশরাফকে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করেন। তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দাওয়াতও দেননি। কেননা, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিয়েছে। আর উনাকে যারা কষ্ট দিবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তাদের তওবার কোনো সুযোগ নেই।
যিনি খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি অন্যত্র ইরশাদ মুবারক করেন-
وَالَّذِيْنَ يُـؤْذُوْنَ رَسُوْلَ اللهِ لَـهُمْ عَذَابٌ اَلِـيْمٌ
অর্থ: “আর যারা মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।” সুবহানাল্লাহ! (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা তাওবা শরীফ : সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৬১)
এই সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে কাট্টা কাফির আবূ রফেকে হত্যা করার ঘটনাটি দলীল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। হিজাজের কুখ্যাত ইহুদী ব্যবসায়ী কাট্টা কাফির আবূ রফেও ছিলো কা’ব বিন আশরাফের মতোই দুরাচার ও কঠিন লা’নতগ্রস্ত। সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের এবং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ নানা অবমাননাকর ও বেআদবীমূলক কথা-বার্তা বলতো এবং অশ্লীল-অশালীন কবিতা রচনা করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! শুধু তাই নয়; প্রচুর টাকা-পয়সা খরচ করে তার বাড়িতে, হেজাজের বড় বড় মোড়ে মোড়ে, বাজারে বাজারে লোকজন জমা করে নাচ-গানের আসর করে নর্তকী ও গায়িকাদেরকে নিয়ে এই সকল কুফরীমূলক কবিতাগুলো পাঠ করতো এবং শরাব পান করতো। না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! না‘ঊযুবিল্লাহ! তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন। সুবহানাল্লাহ! কারণ,
وَكَانَ اَبُـوْ رَافِعٍ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِـيْـنُ عَلَيْهِ
“নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে এই ইহুদী আবূ রফে কষ্ট দিতো এবং উনার বিরুদ্ধে লোকদের সহযোগিতা করতো।” না‘ঊযুবিল্লাহ!
বুখারী শরীফ, বাইহাক্বী শরীফ, ফাতহুল বারী, উমদাতুল ক্বারী, শারহুয যারক্বানীসহ আরো অন্যান্য কিতাবে রয়েছেন, তারপর বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আতীক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু তিনি কাট্টা কাফির আবূ রফেকে অত্যন্ত সুকৌশলে হত্যা করেন। তাকে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার প্রতি দাওয়াতও দেননি। কেননা, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিয়েছে। আর উনাকে যারা কষ্ট দিবে, তাদের একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। তাদের তওবার কোনো সুযোগ নেই। সুবহানাল্লাহ!
হযরত ইমাম কাযী আবুল ফযল আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন-
فَدَلَّ اَنَّ قَـتْـلَهٗ اِيَّاهُ لِغَـيْـرِ الْاِشْرَاكِ بَلْ لِلْاَذٰى وَكَذٰلِكَ قَـتَلَ اَبَا رَافِعٍ قَالَ حَضْرَتْ اَلْـبَـرَاءُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ وَكَانَ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِـيْـنُ عَلَيْهِ
অর্থ: “মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, কা’ব বিন আশরাফকে শির্ক করার কারণে হত্যা করা হয়নি; বরং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়ার কারণে হত্যা করা হয়েছে। ইহুদী আবূ রফেকেও একই কারণে হত্যা করা হয়েছে। হযরত বারা বিন আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু তিনি তার সম্পর্কে বলেন,
وَكَانَ يُـؤْذِىْ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُعِـيْـنُ عَلَيْهِ
‘সে মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দিতো এবং উনার বিরুদ্ধে উনার শত্রুদেরকে সাহায্য করতো’।” না’ঊযুবিল্লাহ! (আশ শিফা ২/২২১)
অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের দিন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইবনে খতাল ও তার দুই দাসীকে হত্যা করার জন্য সম্মানিত নির্দেশ মুবারক দেন, যারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ব্যঙ্গ-বিদ্রƒপ করে কবিতা আবৃত্তি করতো। না’ঊযুবিল্লাহ! মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ঝুলন্ত থাকা সত্ত্বেও ইবনে খতালকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই দেয়া হয়নি। যেমন- বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মুয়াত্ত্বায়ে ইমাম মালেক, আবূ দাঊদ, তিরমিযীসহ আরো অন্যান্য কিাতবে এসেছেন,
عَنْ حَضْرَتْ اَنَسِ بْنِ مَالِكٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالـٰى عَنْهُ اَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ مَكَّةَ عَامَ الْفَتْحِ وَعَلـٰى رَاْسِهِ الْمِغْفَرُ فَـلَمَّا نَـزَعَهٗ جَاءَهٗ رَجُلٌ فَـقَالَ اِبْنُ خَطَلٍ مُتَـعَلِّقٌ بِاَسْتَارِ الْكَعْـبَةِ فَـقَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُقْـتُـلُوْهُ
অর্থ: “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ বিজয়ের পর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূরুল হুদা মুবারক-এ (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মাথা মুবারক-এ) শিরস্ত্রাণ মুবারক পরিহিত অবস্থায় (মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র মক্কা শরীফ উনার মধ্যে) প্রবেশ করেন। যখন তিনি তা খুলে ফেললেন, তখন এক ব্যাক্তি এসে বললো, ইবনু খতাল মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কা’বা শরীফ উনার গিলাফ মুবারক উনার সাথে ঝুলে আছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, তাকে হত্যা করুন, তার শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড, তা প্রদান করুন।”
মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছেন,
عَنْ حَضْرَتْ عَلِـىٍّ كَـرَّمَ اللهُ وَجْهَهٗ عَلَيْهِ السَّلَامُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ سَبَّ نَبِيًّا فَاقْـتُـلُوْهُ وَمَنْ سَبَّ اَصْحَابِـىْ فَاضْرِبُـوْهُ
অর্থ: “ইমামুল আউওয়াল সাইয়্যিদুনা হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি কোনো হযরত নবী-রসূল আলাইহিস সালাম উনাকে গাল-মন্দ করবে, উনার মানহানি করবে, আপনারা তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিন। আর যে ব্যক্তি আমার হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহুম উনাদেরকে গাল-মন্দ করবে, উনাদের মানহানি করবে, আপনারা তাকে প্রহার করুন।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১, ফাতাওয়ায়ে বায্যাযিয়্যাহ ২/২৪২, আল মু’জামুছ ছগীর ১/৩৯৩)
হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন,
مَنْ قَالَ اِنَّ رِدَاءَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُـرْوٰى زِرَّ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسِخٌ اَرَادَ بِهٖ عَـيْـبَهٗ قُتِلَ
অর্থ: “যে ব্যক্তি বলবে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চাদর মুবারক বা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোর্তা মুবারক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গুটলী মুবারক অপরিচ্ছন্ন ছিলেন। না’ঊযুবিল্লাহ! আর এতে তার উদ্দেশ্য হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করা। না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! না’ঊযুবিল্লাহ! (অবশ্যই অবশ্যই) তাকে শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৭, আস সাইফুল মাসলূল ১২৮ নং পৃষ্ঠা)
কাজেই, সরাসরি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খ¦াতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করার তো প্রশ্নই উঠে না; বরং উনার সাথে সম্পৃক্ত উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র চাদর মুবারক অথবা উনার পুরো মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোর্তা মুবারক নয়; বরং মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কোর্তা মুবারক উনার একখানা অতি ক্ষুদ্রতম অংশ মুবারক মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র গুটলী মুবারক উনারও যদি কেউ মানহানি করে, তাকে অবশ্যই অবশ্যই শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। সুবহানাল্লাহ! যদি তাই হয়ে থাকে, তাহলে কথিত ইমাম নামধারী উক্ত গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গারের মানহানিকর বক্তব্যের জন্য অবশ্যই অবশ্যই তাকে শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। কাজেই, এদেশের সরকার, প্রশাসন ও আদালতের দায়িত্ব হচ্ছে- কথিত ইমাম নামধারী ঐ গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রবেশ করানো ও তার শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা।
সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফতকালে কিছু মুসলিম শিশু মিলে এক খ্রিষ্টান যাজককে হত্যা করেন। কারণ, সেই যাজক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মানহানি করেছিলো। বিষয়টি সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনার কাছে পেশ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন,
فَـوَاللهِ مَا فَرِحَ بِفَتْحٍ وَلَا غَنِـيْمَةٍ كَفَرْحَتِهٖ بِقَتْلِ الْغِلْمَانِ لِذٰلِكَ الْاُسْقُفِ وَقَالَ اَلْاٰنَ عَزَّ الْاِسْلَامُ اَنَّ اَطْفَالًا صِغَارًا شُتِمَ نَبِيُّـهُمْ فَـغَضِبُـوْا لَهٗ وَانْــتَصَرُوْا فَاُهْدِرَ دَمُ الْاُسْقُفِ
“মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি কখনো কোনো বিজয় বা গনীমতের কারণে এতটা আনন্দিত হননি, যতটা আনন্দিত হয়েছিলেন এই শিশুদের হাতে ঐ যাজকের হত্যার সংবাদ শুনে। সুবহানাল্লাহ! তখন সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, ‘এখন সম্মানিত দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ সম্মানের অধিকারী হয়েছেন, যখন শিশু বাচ্চারাও তাদের মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নবী-রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য শুনে তা সহ্য করেননি; বরং ক্ষুব্ধ হয়েছেন ও প্রতিশোধ নিয়েছেন।’ অতঃপর তিনি সেই যাজকের রক্তকে হদর (মূল্যহীন) ঘোষণা করেন।” সুবহানাল্লাহ! (আল মুস্তাত্বরাফ ২/৩৪, আস সাইফুল মাসলূল ইত্যাদি)
এ কারণে হযরত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম ফতওয়া দিয়েছেন,
اَجْـمَعَ الْعُلَمَاءُ اَنَّ شَاتِـمَ النَّبِـىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَلْمُتَـنَـقِّصَ لَهٗ كَافِرٌ وَالْوَعِيْدُ جَارٍ عَلَيْهِ بِعَذَابِ اللهِ لَهٗ وَحُكْمُهٗ عِنْدَ الْاُمَّةِ اَلْقَتْلُ وَمَنْ شَكَّ فِـىْ كُفْرِهٖ وَعَذَابِهٖ كَفَرَ
অর্থ: “সমস্ত ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনারা এই বিষয়ে ইজমা’ করেছেন যে, নিঃসন্দেহে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী, উনার মানহানিকারী ব্যক্তি কাফির এবং তার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। তার ব্যাপারে সমস্ত উম্মত উনাদের ফয়সালা হলো, তাকে শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। আর যে ব্যক্তি এ ধরণের লোকদের কাফির হওয়ার ব্যাপারে এবং শাস্তিযোগ্য হওয়ার বিষয়ে (অর্থাৎ তার একমাত্র শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হওয়ার বিষয়ে) সন্দেহ পোষণ করবে, সেও কাফির হবে (এবং তাকেও শরঈ শাস্তিস্বরূপ মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে)।” সুবহানাল্লাহ! (আশ শিফা ২/২১৫, আস সাইফুল মাসলূল ১২০ নং পৃষ্ঠা, নিহায়াতুস সুওয়াল ২৬১ নং পৃষ্ঠা)
মূল ফতওয়া হলো- মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র কুরআন শরীফ, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাদীছ শরীফ, সম্মানিত ইজমা শরীফ এবং সম্মানিত ক্বিয়াস শরীফ উনাদের আলোকে সম্মানিত শরীয়ত উনার ফয়সালা মুবারক হচ্ছেন, যে ব্যক্তি সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, আকরামুল আউওয়ালীন ওয়াল আখিরীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে নিয়ে অথবা উনার সংশ্লিষ্ট যে কোনো বিষয় মুবারক নিয়ে বিন্দু থেকে বিন্দুতমও চূ-চেরা, ক্বীল-ক্বাল করবে অর্থাৎ উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শান মুবারক উনার খিলাফ কোনো বক্তব্য পেশ করবে, বা কোনো শব্দ ব্যবহার করবে অথবা কোনো কাজ করবে, অর্থাৎ যে কোনোভাবেই হোক না কেনো উনার মানহানি করার চেষ্টা করবে, সে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে গাল-মন্দকারী হিসেবে, উনার মানহানিকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে। না‘ঊযুবিল্লাহ! তার একমাত্র শরঈ শাস্তি হলো মৃত্যুদণ্ড। সে নামধারী মুসলমান হোক বা কাফির হোক অথবা নাস্তিক হোক কিংবা যেকোনো ধর্মেরই অনুসারী হোক না কেন। তার তওবা গ্রহণযোগ্য হবে না। এমনকি যারা তাকে সমর্থন করবে, তাদেরও একমাত্র শরঈ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। এ মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
অতএব, ‘নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য শুনে যেই দ্বীনদার আশিকে রসূল তিনি বরদাশত করতে না পেরে ঐ কুলাঙ্গারকে আঘাত করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এবং যাঁরা মালঊন কুলাঙ্গারের কুরুচিপূর্ণ ও মানহানিকর মন্তব্য দেখে বা পড়ে বিভিন্নভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে উনারা অপরাধী নন। এদেশের সরকার, আদালত ও প্রশাসনের উচিৎ উক্ত আশিকে রসূল উনাদের এই ঈমানী হিম্মতের যথাযথ মূল্যায়ন করা এবং উনাদের পূর্ণ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা ও উনাদেরকে বেকসুর খালাছ প্রদান করা এবং তার পাশাপাশি কথিত ইমাম নামধারী ঐ গোস্তাখে রসূল ও কুলাঙ্গারকে এবং মালঊন কুলাঙ্গারকে গ্রেফতার করে হাজতে প্রবেশ করানো এবং তাদের উপর শরঈ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করা। আর জনগণের ঈমানী দায়িত্ব হচ্ছে উক্ত কাজে পূর্ণ সমর্থন করা এবং সার্বিক সহযোগিতা করা।
কাজেই, প্রত্যেক মুসলমান পুরুষ-মহিলা, জিন-ইনসান, ছোট-বড়, সকলের জন্য ফরযে আইন হচ্ছে উপরোক্ত বিষয়ে ইলিম অর্জন করে নিজের সম্মানিত ঈমান হিফাযত করা।
খ¦ালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি সবাইকে সেই তাওফীক্ব দান করুন। আমীন!
(এ বিষয়ে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র হতে কিতাব ও রেসালা প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ)
মুহম্মদ আব্দুল বাতেন
পলাশ নূরানীবাদ
সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে হাযির নাযির। এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াবে দানে বাধিত করবেন।
জাওয়াব: প্রকাশ থাকে যে, মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাতবাসীর জন্য রহমত মুবারক স্বরূপ প্রেরিত হয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَاۤ أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِيْنَ
অর্থ: আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে সমস্ত জাহানের জন্য রহমত স্বরূপ প্রেরণ করেছি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আম্বিয়া শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১০৭)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতিটি সৃষ্টি মুবারক উনার বালুকণা থেকে শুরু করে মহাপবিত্র আরশে আযীম বরং তা থেকেও উর্ধ্ব পর্যন্ত অর্থাৎ সকল কিছুতেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমতী অস্তিত্ব মুবারক রয়েছেন অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টি যতদূর বিস্তৃত, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমতী ওজূদ বা অস্তিত্ব মুবারকও ততদূর বিস্তৃত। সুবহানাল্লাহ!
অনুরূপভাবে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব ও মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اَوَّلُ مَا خَلَقَ اللهُ نُـوْرِىْ وَخَلَقَ كُلَّ شَىْءٍ مِّنْ نُّـوْرِىْ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক সৃষ্টি করেছেন এবং আমার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র নূর মুবারক হতে সকল কিছুই সৃষ্টি করেছেন। (নূরে মুহম্মদী, আল-ইনসানুল কামিল, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী)
আর এ কারণেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর ও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রহমত মুবারক হিসেবেই কুল-কায়িনাতে হাযির ও নাযির। মূলত উনার সৃষ্টি মুবারকও কুদরতময়। তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অধীন ছিলেন, আছেন এবং অনাদী অনন্তকালও তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার অধীন থাকবেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরতময় বিষয়গুলো সাধারণত মানুষের জ্ঞানের বাইরে হয়ে থাকে। তবে মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার সম্পর্কে ইলিম মুবারক দান করেন তিনিই কেবল মহাসম্মানিত মহাপবিত্র কুদরত মুবারক উনার বিষয় উপলব্ধি করতে পারেন। আর পবিত্র অন্তর ব্যতীত এবং নিছবত মুবারক ব্যতীত তা উপলব্ধি করা কখনোই সম্ভব হয় না।
দ্বিতীয়ত: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَاۤ أَيُّـهَا النَّبِيُّ إِنَّاۤ أَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا وَّمُبَشِّرًا وَّنَذِيْـرًا. وَدَاعِيًا إِلَى اللهِ بِإِذْنِهٖ وَسِرَاجًا مُّنِيْـرًا
অর্থ: আয় আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে প্রেরণ করেছি সাক্ষ্যদাতা অর্থাৎ হাযির নাযির, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দেশানুসারে উনার দিকে আহ্বানকারী ও উজ্জ্বল প্রদীপ হিসেবে। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৫, ৪৬)
পবিত্র আয়াত শরীফ কোন সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয় বরং ক্বিয়ামত পর্যন্ত এমনকি তার পরেও উনার হুকুম বলবৎ থাকবে। আর شَاهِدًا শব্দের অর্থ তিনি প্রত্যক্ষকারী বা সাক্ষী অর্থাৎ হাযির-নাযির। কেননা তিনি না দেখলে সাক্ষ্য দিবেন কিভাবে। তিনি সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী ও মহান আল্লাহ পাক উনার পথে আহ্বানকারী হওয়ার বিষয়টিও তদ্রƒপ।
পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে سِرَاجًا مُّنِيْـرًا মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বলা হয়েছে। সিরাজাম মুনীরা সূর্যকেও বলা হয়। সূর্য যেমন পৃথিবীর সবখানে বিদ্যমান। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিও প্রত্যেক জায়গায় মহাসম্মানিত মহাপবিত্র নূর ও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র রহমত হিসেবে বিরাজমান। উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার প্রতিটি শব্দ মুবারক থেকে মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির নাযির হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত।
তৃতীয়ত: মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أَلَـمْ تَـرَ كَيْفَ فَـعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِـيْلِ
অর্থ: আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি দেখেননি, আপনার রব তায়ালা তিনি হস্তীবাহিনীকে কি অবস্থা করেছেন?
أَلَـمْ تَـرَ كَيْفَ فَـعَلَ رَبُّكَ بِعَادٍ
অর্থ: আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি কি দেখেননি, আপনার রব তায়ালা আদ জাতির সঙ্গে কিরূপ আচরণ করেছেন?
আদ জাতি ও হস্তিবাহীনির ঘটনাবলী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের পূর্বেই সংঘটিত হয়েছে। অথচ বলা হচ্ছে أَلَـمْ تَـرَ (আপনি কি দেখেননি?) অর্থাৎ দেখেছেন।
এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
صِبْـغَةَ اللهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللهِ صِبْـغَةً ۖ وَنَـحْنُ لَهٗ عَابِدُوْنَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার গুণে গুণান্বিত হও, মহান আল্লাহ পাক উনার গুণাবলীর চেয়ে উত্তম গুণাবলী আর কার হতে পারে? আমরা উনারই ইবাদত করি। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৩৮)
অতএব, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূরানী ও রহমতী অস্তিত্ব মুবারক সৃষ্টির সকল কিছুতেই রয়েছে, যার যার যোগ্যতা অনুসারে তিনি দেখতে পান। কিন্তু পাপিষ্ঠরাই এলোমেলো কথা বলে। নাউযুবিল্লাহ!
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
إِنَّ الْعَبْدَ إِذَا وُضِعَ فِـيْ قَـبْرِهٖ وَتَـوَلّٰى عَنْهُ أَصْحَابُهٗ وَإِنَّهٗ لَيَسْمَعُ قَـرْعَ نِعَالِـهِمْ أَتَاهُ مَلَكَانِ فَـيُـقْعِدَانِهٖ فَـيَـقُوْلَانِ مَا كُنْتَ تَـقُوْلُ فِـي الرَّجُلِ لِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَمَّا الْمُؤْمِنُ فَـيَـقُوْلُ أَشْهَدُ أَنَّهٗ عَبْدُ اللهِ وَرَسُوْلُهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ.
অর্থ: যখন কোন মু’মিন বান্দাকে কবরে রাখা হয় এবং তাকে দাফনকারী সকলেই চলে আসে তখন দু’জন ফেরেশতা আলাইহিমাস সালাম উনারা এসে তাকে বসান এবং দু’জনই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখিয়ে উনার দিকে ইশারা করে বলেন, আপনি দুনিয়াতে উনার ব্যাপারে কি বলতেন, তখন মু’মিন ব্যক্তি বলেন, আমি স্বাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হাবীব ও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। (বুখারী শরীফ)
উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং আরো অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বর্ণনা সমূহের মাধ্যমেও মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযির ও নাযির উনার বিষয়টি প্রমাণিত। সুবহানাল্লাহ!
মূলতঃ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদা হচ্ছে, মহান আল্লাহ পাক তিনি জিসিম মুবারক ও ছূরত মুবারক-এ দুটির কোনো একটি হিসেবে হাযির ও নাযির নন। বরং তিনি ছিফত অর্থাৎ পবিত্র ইলিম ও পবিত্র কুদরত মুবারক উনাদের দ্বারা কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিফত অর্থাৎ পবিত্র ইলিম মুবারক ও পবিত্র মু’জিযা শরীফ উনার দ্বারা এবং ছিফত অর্থাৎ পবিত্র নূর মুবারক ও পবিত্র রহমত মুবারক উনার দ্বারা কায়িনাতের সমস্ত স্থানে হাযির ও নাযির। আর এ বিষয়ে নক্বলী এবং আক্বলী অসংখ্য দলীল-আদিল্লাহ রয়েছে।
স্মরণীয় যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পুরো কায়িনাতের জন্য পবিত্র রহমত মুবারক স্বরূপ। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র রহমত মুবারক হিসেবে সারা কায়িনাতকে বেষ্টন করে আছেন। কায়িনাত মাঝে রহমত শূন্য কোন স্থান নেই। তাই, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাযিরী ও নাযিরী ব্যতিত কোন স্থান, কাল, পাত্র, ব্যক্তি ও বস্তু নেই। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক তিনি সম্মানিত ও পবিত্র সূরা ফাত্হ্ শরীফ উনার ৯ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّاۤ اَرْسَلْنَاكَ شَاهِدًا
অর্থ: ‘নিশ্চয়ই আমি আপনাকে (আমার মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) সাক্ষ্যদানকারী হাযির ও নাযির হিসেবে প্রেরণ করেছি।’
জানা আবশ্যক, যিনি স্বাক্ষ্য দিবেন উনার জন্য যেরূপ হাযির বা উপস্থিত থাকা শর্ত তদ্রƒপ নাযির বা দেখাও শর্ত। এছাড়া পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
قِيْلَ لِرَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَاَيْتَ صَلَاةَ الْـمُصَلِّيْنَ عَلَيْكَ مِـمَّنْ غَابَ عَنْكَ وَمَنْ يَّاْتِىْ بَعْدَكَ مَا حَالُـهُمَا عِنْدَكَ فَـقَالَ اَسْـمَعُ صَلَاةَ اَهْلِ مَـحَبَّتِـىْ وَ اَعْرِفُـهُمْ تُـعْرَضُ عَلَىَّ صَلَاةُ غَيْرِهِمْ عَرَضًا
অর্থ : নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে আরজ করা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যারা আপনার প্রতি পবিত্র ছলাত মুবারক পেশ করে থাকে অথচ তারা বাহ্যিকভাবে সরাসরি ছোহবত মুবারক হতে অনুপস্থিত এবং যারা আপনি দুনিয়া হতে পর্দা মুবারক করার পর দুনিয়াতে আসবে তাদের সম্পর্কে আপনি কি বলেন অর্থাৎ তাদেরকে কি আপনি দেখেন, চিনেন ও জানেন? তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, খালিছ মুহব্বতের সাথে পবিত্র ছলাত শরীফ পেশকারীগণ উনাদের পবিত্র ছলাত শরীফ আমি সরাসরি শুনি এবং উনাদেরকে আমি ভালভাবে চিনে থাকি। আর অন্যদের পবিত্র ছলাত মুবারকও আমার নিকট পেশ করা হয়। (দালায়িলুল খ¦ইরাত)
অর্থাৎ, যে বা যারা যখন, যেখান থেকে ও যেভাবেই মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি পবিত্র ছলাত মুবারক ও পবিত্র সালাম মুবারক পেশ করুক না কেন মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সবই শুনেন এবং সবই দেখেন। এ ছাড়া ‘বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ’ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّـمَا اَنَا قَاسِمٌ وَّاللهُ يُعْطِىْ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত নিয়ামত মুবারক আমাকে হাদিয়া মুবারক করেন অর্থাৎ করেছেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম বণ্টনকারী।” অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত মুবারক নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাখলূক্বাতের যাকে যতটুকু ইচ্ছা তাকে ততটুকু নিয়ামত মুবারক বণ্টন করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!
উল্লেখ্য, যিনি কায়িনাতবাসীর জন্য নিয়ামত মুবারক বণ্টনকারী; তিনি যদি কায়িনাতবাসীর কাছে হাযির বা উপস্থিত না থাকেন এবং তাদেরকে না দেখেন তথা তিনি নাযির না হন, তাহলে তিনি তাদের মাঝে কিভাবে নিয়ামত মুবারক বণ্টন করবেন? কাজেই কায়িনাতের সমস্ত সৃষ্টির জন্যেই তিনি যেহেতু নিয়ামত মুবারক বণ্টনকারী, সেহেতু বলার অপেক্ষা রাখে না- সবকিছুই উনার নিকট হাযির ও নাযির।
হযরত ইমাম তবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং হযরত নঈম ইবনে উমর রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাদের থেকে পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ اللهَ قَدْ رَفَعَ لِـىَ الدُّنْـيَا فَاَنَا اَنْظُرُ اِلَيْـهَا وَاِلـٰى مَا هُوَ كَائِنٌ فِـيْـهَا اِلـٰى يَـوْمِ الْقِيَامَةِ كَاَنَّـمَا اَنْظُرُ اِلـٰى كَفِّىْ هٰذِهٖ
অর্থ: “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এই পৃথিবীকে আমার নূরুল মুনাওওয়ার মুবারক তথা মহাপবিত্র চোখ মুবারক উনার সামনে এরূপভাবে রেখেছেন যে, আমি সমগ্র পৃথিবীকে এবং ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার মধ্যে যা কিছু সৃজিত বা সংঘটিত হবে তদসমূহকে ওইরূপভাবে দেখি, যেরূপ আমার নূরুল মাগফিরাত তথা মহাপবিত্র হাত মুবারক উনার তালু মুবারক দেখে থাকি।” সুবহানাল্লাহ! (তবারানী শরীফ)
উপরে উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের বর্ণনা দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, মহাসম্মানিত মহাপবিত্র হাবীব মাহবূব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কায়িনাত মাঝে মহাপবিত্র নূর মুবারক, মহাপবিত্র রহমত মুবারক, মহাপবিত্র ইলিম মুবারক, মহাপবিত্র মু’জিযা মুবারক, মহাপবিত্র সাক্ষী এবং মহাপবিত্র বণ্টনকারী হিসেবে হাযির ও নাযির। সুবহানাল্লাহ!
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ৯৪তম সংখ্যা পাঠ করুন।
মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ
কিশোরগঞ্জ
সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইলমে গইব সম্পর্কে শরঈ ফায়ছালা জানার আরজি করছি।
জাওয়াব: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সবকিছুই খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে নাযিলকৃত পবিত্র ওহী মুবারক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত, সেহেতু উনার আলাদা কোন অবস্থা নেই। মহান আল্লাহ পাক তিনি যা বলতে বলেন, করতে বলেন, তিনি তাই বলেন, তাই করেন। উনার ইচ্ছা মুবারকই উনার ইচ্ছা মুবারক। উনার প্রদত্ব ইলিম মুবারকই উনার ইলিম মুবারক; তা ইলমে গইব হোক কিংবা ইলমে শাহাদাহ হোক, ইলমে বাতিন হোক কিংবা ইলমে যাহির হোক। অর্থাৎ আউওয়াল ও আখিরের সর্বপ্রকার ইলিম মুবারক এবং সর্বপ্রকার নিয়ামত মুবারক উনাকে হাদিয়া করা হয়েছে।
যেমন এ প্রসঙ্গে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
أُعْطِيْتُ جَوَامِعَ الْكَلِمِ
অর্থাৎ- “আমাকে সৃষ্টির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত ইলিম মুবারক হাদিয়া করা হয়েছে।” (মুসলিম শরীফ, মেশকাত শরীফ)
এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
إِنَّمَا أَنَا قَاسِمٌ وَاللهُ يُـعْطِيْ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক তিনি হাদিয়া মুবারক করেন আর নিশ্চয়ই আমি হলাম বণ্টনকারী।” (বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার সর্বপ্রকার নিয়ামত মুবারক উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হাদিয়া মুবারক করেছেন। আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাখলুক্বাতের যাকে যতটুকু বা যে পরিমাণ ইচ্ছা তাকে সে পরিমাণ বণ্টন করে দিয়ে থাকেন।
এখন যিনি মাখলুক্বাতের জন্য বণ্টনকারী তিনি মূলত সৃষ্টির শুরু হতে সৃষ্টির শেষ পর্যন্ত বণ্টনকারী। আর বণ্টনকারী যাদের মাঝে বণ্টন করেন তিনি তাদেরকে অবশ্যই চিনেন ও জানেন। অন্যথায় না চিনলে ও না জানলে কাকে কতটুকু বা কি পরিমাণ দিবেন? কাজেই বলার অপেক্ষা রাখেনা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইলমে বাতিন বা ইলমে গইবসহ সমস্ত ইলিমের অধিকারী। সুবহানাল্লাহ!
জানা অপরিহার্য, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কেবল ইলমে গইবের অধিকারীই নন বরং তিনি পরিপূর্ণরূপে ইলমে গইবের বণ্টনকারীও। কেননা, উনার মধ্যেমেই বান্দা ও উম্মত গইবের ইলিম জেনেছে জানছে জানতে থাকবে, বুঝেছে বুঝছে বুঝতে থাকবে ও লাভ করেছে করছে ও করতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ!
যেমন এ প্রসঙ্গে পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَالِمُ الْغَيْبِ فَلَا يُظْهِرُ عَلٰى غَيْبِهٖ أَحَدًا إِلَّا مَنِ ارْتَضٰى مِنْ رَّسُوْلٍ
অর্থ: “মহান আল্লাহ পাক সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা তিনি আলিমুল গইব। তিনি উনার গইবের ইলিম উনার মনোনীত রসূল আলাইহিমুস সালাম ব্যতীত কারো নিকট প্রকাশ করেন না।” (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা জিন শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ-২৬, ২৭)
প্রতিভাত হলো, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রত্যেকেই ইলমে গইবের অধিকারী। আর উনারা এই নিয়ামতের অধিকারী হয়েছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বণ্টনের উসীলায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ১২৯তম সংখ্যা এবং মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ গবেষণা কেন্দ্র হতে প্রকাশিত রেসালা শরীফ পাঠ করুন।
মুহম্মদ বেলায়েত হুসাইন
দিনাজপুর
সুওয়াল: কেউ কেউ বলে থাকে যে, ‘হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাটির সৃষ্টি। আবার কেউ কেউ বলে যে, মাটি ও নূর উভয়টির দ্বারা তিনি সৃষ্টি হয়েছেন।’ আসলে কোনটি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।
জাওয়াব: আখিরী রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মাটির তৈরি বলা এবং নূর ও মাটির সমন্বয়ে তৈরি বলার অর্থ হচ্ছে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার পবিত্র আয়াত শরীফ ও অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার নামান্তর। যা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। কেননা, অসংখ্য পবিত্র আয়াত শরীফ ও ছহীহ হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি শুধুমাত্র নূর মুবারক উনার সৃষ্টি। সেজন্য বলা হয়, তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ তিনি আপাদমস্তক নূর মুবারক।
যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি “পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ” উনার ১৫ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللهِ نُـوْرٌ
অর্থ: “নিশ্চয়ই তোমাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ‘নূর’ মুবারক এসেছেন।”
উল্লেখ্য, এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি “নূর” শব্দ মুবারক দ্বারা সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকেই বুঝিয়েছেন, যেহেতু তিনি আপাদমস্তক “নূর বা নূর মুবারক উনার সৃষ্টি।”
যেমন ক্বাজিউল কুজাত হযরত ইমাম আবূ সউদ মুহম্মদ ইবনে মুহম্মদ ইমাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার মশহূর তাফসীরগ্রন্থ “তাফসীরে আবী সউদ” উনার ৩য় খণ্ড ১৮ পৃষ্ঠায় লিখেন-
(قَدْ جَاءَكُمْ مِّنَ اللهِ نُـوْرٌ) … اَلْـمُرَادُ بِالْاَوَّلِ هُوَ الرَّسُوْلُ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ
অর্থ: বর্ণিত আয়াত শরীফ উনার প্রথম শব্দ মুবারক অর্থাৎ নূর মুবারক দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম তিনি।”
তাছাড়া স্বয়ং আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজেই নিজেকে নূর মুবারক উনার তৈরি বলে উল্লেখ করেছেন। এবং এ ব্যাপারে অসংখ্য পবিত্র হাদীছ শরীফ বিদ্যমান রয়েছে। যেমন- পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرٍ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ قُـلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِاَبِىْ اَنْتَ وَاُمِّىْ اَخْبِرْنِىْ عَنْ اَوَّلِ شَىْءٍ خَلَقَ اللهُ تَـعَالٰى قَـبْلَ الْاَشْيَاءِ قَالَ يَا جَابِرُ رَضِىَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ اِنَّ اللهَ تَـعَالٰى قَدْ خَلَقَ قَـبْلَ الْاَشْيَاءِ نُـوْرَ نَبِيِّكَ
অর্থ: “হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি বললাম, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আমাকে জানিয়ে দিন যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি সর্বপ্রথম কোন জিনিস সৃষ্টি করেন? তিনি বললেন, হে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! মহান আল্লাহ পাক তিনি সবকিছুর পূর্বে আপনার সম্মানিত নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নূর মুবারক সৃষ্টি করেন।” (মুসনাদে আব্দির রযযাক, দালায়িলুন নুবুওওয়াত, মাদারিজুন নুবুওওয়াত ইত্যাদি)
উল্লেখ্য, মহান আল্লাহ পাক উনার সর্বপ্রথম সৃষ্টিই হচ্ছেন উনার মহাসম্মানিত হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওজূদ পাক নূর মুবারক। আর উক্ত সম্মানিত নূর মুবারক থেকেই মাটিসহ সবকিছুর সৃষ্টি হয়েছে। তাহলে উনাকে মাটির সৃষ্টি বলা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে?
স্মরণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার যত আয়াত শরীফের মধ্যে ‘মানুষকে’ মাটির সৃষ্টি বলা হয়েছে সকল আয়াত শরীফের মধ্যে উল্লিখিত ‘মানুষ’ দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছেন “হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম।” কেননা, শুধুমাত্র হযরত আবুল বাশার আদম আলাইহিস সালাম উনাকেই মহান আল্লাহ পাক তিনি সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি ব্যতীত আর কেউই সরাসরি মাটি থেকে সৃষ্টি বা তৈরি নন।
অতএব, প্রত্যেক মুসলমানকে এ আক্বীদাই রাখতে হবে যে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব ও মাহবূব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নূরে মুজাসসাম অর্থাৎ নূর মুবারক উনার সৃষ্টি, মাটির সৃষ্টি নন। অথবা নূর ও মাটি মিশ্রিতও নন। উনাকে মাটির বা মাটি ও নূরের সৃষ্টি বলা সুস্পষ্ট গুমরাহী ও কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।
(বিঃ দ্রঃ এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হলে মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার ফতওয়া বিভাগ “৬০তম সংখ্যা থেকে ৮২তম” সংখ্যা পাঠ করুন। সেখানে ২৪১টি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ থেকে দলীলসহ বিস্তারিত ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৯৪তম ও ১৬২তম সংখ্যার সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ দেখুন।)
মুহম্মদ ফজলে রাব্বী
কক্সবাজার
সুওয়াল: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হায়াতুন নবী; এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব প্রত্যাশা করছি।
জাওয়াব: হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের শান মুবারকে পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
اِنَّ اَوْلِيَاءَ اللهِ لَا يَـمُوْتُـوْنَ بَلْ يَـنْـتَقِلُوْنَ مِنْ دَارِ الْفَنَاءِ اِلٰى دَارِ الْبَـقَاءِ
অর্থ: নিশ্চয়ই আমার ওলীগণ উনারা মারা যান না। বরং উনারা অস্থায়ী নিবাস থেকে স্থায়ী নিবাসে প্রত্যাবর্তন করেন। সুবহানাল্লাহ! (মিরকাত শরীফ ৩য় খণ্ড- ২৪১ পৃষ্ঠা)
স্মরণীয় যে, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মধ্যে তিনটি স্তর- (এক) ছিদ্দীক্বীন (দুই) শুহাদা (তিন) ছালিহীন। উক্ত দুই নং স্তর অর্থাৎ শুহাদা বা শহীদগণ উনাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تَـقُوْلُوْا لِمَنْ يُّـقْتَلُ فِي سَبِيْلِ اللهِ أَمْوَاتٌ بَلْ أَحْيَاءٌ وَّلٰكِنْ لَّا تَشْعُرُوْنَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছেন উনাদেরকে তোমরা মৃত বলো না। বরং উনারা হায়াতপ্রাপ্ত বা জীবিত। কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পারছো না। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৫৪)
মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
وَلَا تَحْسَبَنَّ الَّذِيْنَ قُتِلُوا فِيْ سَبِيلِ اللهِ أَمْوَاتًا بَلْ أَحْيَاءٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ يُـرْزَقُونَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় যারা শহীদ হয়েছেন উনাদেরকে মৃত (বলা তো দূরের কথা) ধারণাও তোমরা করো না। বরং উনারা জীবিত এবং উনাদের খ¦লিক মালিক রব তায়ালা উনার তরফ থেকে উনারা রিযিকপ্রাপ্ত। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৯)
হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের দ্বিতীয় স্তর হযরত শুহাদায়ে কিরাম উনাদেরকে যেখানে হায়াতপ্রাপ্ত বা জীবিত বলা হয়েছে, রিযিকপ্রাপ্ত বলা হয়েছে এবং মৃত বলতে ও মৃত ধারণা পর্যন্ত করতে নিষেধ করা হয়েছে, সেখানে আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের যারা প্রথম স্তর হযরত ছিদ্দীক্বীনে কিরাম উনাদের শান মুবারকে কি ফায়ছালা হবে? অবশ্যই উক্ত ফায়ছালা অপেক্ষা উন্নত ফায়ছালা হবে।
বলাবাহুল্য যে, হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদেরও যিনি নবী ও রসূল, যিনি সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, ইমামুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক অন্য সকল মনোনীত ও নিয়ামতপ্রাপ্ত বান্দা উনাদের চেয়ে অবশ্য অবশ্যই উন্নত। এতে কারো শক, শোবাহ, সন্দেহ, বক্তব্য, মন্তব্য থাকতে পারে না। এ বিষয়ে যারা চু-চেরা করবে তারা মুসলমান থাকতে পারে না। নিঃসন্দেহে তারা মুরতাদ, মুনাফিক, কাফির ও জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হবে। তখন উনার উম্মতের শ্রেণী বিন্যাসে যারা দ্বিতীয় স্তরে, সেই শহীদগণ যদি কবরে জীবিত ও রিযিকপ্রাপ্ত হন, তাহলে উনার আযীমি শান মুবারক তো সকলের কল্পনারও বহু উর্ধ্বে।
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وَمَا كَانَ لَكُمْ اَن تُـؤْذُوْا رَسُوْلَ اللهِ وَلَا اَنْ تَـنْكِحُوا اَزْوَاجَهٗ مِنْ بَعْدِهٖ اَبَدًا ۚ إِنَّ ذٰلِكُمْ كَانَ عِنْدَ اللهِ عَظِيمًا
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে কষ্ট দেয়া এবং উনার সম্মানিত আযওয়াজুম মুত্বাহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা তোমাদের জন্য কখনোই বৈধ নয়। মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট এটা গুরুতর অপরাধ। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৩)
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় ওহাবী দেওবন্দীদের মুরুব্বীদের তাফসীরে লিখিত রয়েছে, “এরূপ বলাও অবান্তর নয় যে, রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র রওযা শরীফে পবিত্র হায়াত মুবারকে (জীবিত) রয়েছেন। উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ কোনো জীবিত স্বামীর আড়াল হয়ে যাওয়ার অনুরূপ। এজন্যই উনার রেখে যাওয়া সম্পত্তি বণ্টন করা হয়নি এবং এর ভিত্তিতেই
বলা হয় মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনারা অন্যান্য নারীদের মতো নন।”
হযরত কাজী ছানাউল্লাহ পানি পথি রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তাফসীরে মাযহারী নামক কিতাবে লিখেছেন –
بَلْ حَيَاةُ الْاَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمُ السَّلَامُ اَقْـوٰى مِنْـهُمْ وَاَشَدُّ ظُهُوْرِ اَثَارِهَا فِى الْخَارِجِ حَتّٰى لَا يَجُوْزَ النِّكَاحُ اَزْوَاجَ النَّبِىِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِخِلَافِ الشُّهَدَاءِ
অর্থ: বরং হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র হায়াত মুবারক শহীদগণ উনাদের হায়াত মুবারক হতেও বহু বেশি শক্তিশালী এবং অত্যধিক তড়িৎ গতিতে প্রকাশিত হওয়াতে শ্রেষ্ঠতর। আর এ কারণেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আযওয়াজুম মুত্বাহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম উনাদেরকে বিবাহ করা জায়িয নেই। পক্ষান্তরে শহীদগণ উনাদের আহলিয়াগণকে বিবাহ করা জায়িয রয়েছে। (তাফসীরে মাযহারী ১৫২, যিকরে জামীল ৪২পৃ:)
এ প্রসঙ্গে কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-
لَا عِدَّةَ لِاَنَّهٗ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَىٌّ فِىْ قَـبْرِهٖ وَكَذَالِكَ سَائِرُ الْاَنْبِيَاءِ
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আযওয়াজুম মুত্বাহহারাত আলাইহিন্নাস সালাম অর্থাৎ হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের উপর কোন ইদ্দত নেই। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার রওযা শরীফে পবিত্র হায়াত মুবারক এ রয়েছেন। আর উনার ন্যায় অন্যান্য হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনারাও উনাদের রওযা মুবারকে পবিত্র হায়াত মুবারক এ আছেন। (শরহুশ শিফা ১ম খণ্ড ১৫২ পৃষ্ঠা)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে –
قَالَتْ حَضْرَتْ اُمُّ الْـمُؤْمِنِيْنَ الثَّالِثَةُ الصِّدِّيْـقَةُ عَائِشَةُ عَلَيْهَا السَّلَامُ كُنْتُ أَدْخُلُ بَـيْتِيَ الَّذِي فِيهِ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنِّي وَاضِعٌ ثَـوْبِي وَأَقُولُ: إِنَّمَا هُوَ زَوْجِي وَأَبِيْ فَـلَمَّا دُفِنَ عُمَرُ عَلَيْهِ السَّلَامُ مَعَهُمْ فَـوَ اللهِ مَا دَخَلْتُهٗ إِلَّا وَأَنَا مَشْدُوْدَةٌ عَلَيَّ ثِيَابِي حَيَاءً مِّنْ عُمَرَ عَلَيْهِ السَّلَامُ
অর্থ: সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি আমার হুজরা শরীফে প্রবেশ করতে পর্দার প্রস্তুতি নিতাম না, যেহেতু সেখানে শুধু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এবং আমার পিতা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনারা দুজন অবস্থানরত ছিলেন। আর উনারা আমার মাহরাম হওয়ায় পর্দার কোন প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু যখন সাইয়্যিদুনা হযরত উমর ফারূক আলাইহিস সালাম উনাকে আমার হুজরা শরীফে দাফন মুবারক করা হলো, তখন থেকে আমি উনাকে লজ্জা করতঃ খাছ শরয়ী পর্দা ব্যতীত তথায় গমন করতাম না। কারণ সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন গাইরে মাহরাম। (মুসনাদে আহমদ শরীফ, মিশকাত শরীফ-১৫৪ পৃ.)
অত্র পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা প্রমাণিত যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার আক্বীদা মুবারক ছিল এই যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি, সাইয়্যিদুনা হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি এবং সাইয়্যিদুনা হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনারা উনাদের পবিত্র রওযা শরীফে শুধু পবিত্র হায়াত মুবারক এ নন বরং উনারা সবকিছু দেখেন। সুবহানাল্লাহ!
(বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিস্তারিত জানার জন্য পাঠ করুন মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ ২৪৯তম সংখ্যা)
মুহম্মদ মিজানুর রহমান
সদর, চাঁদপুর
সুওয়াল: পবিত্র কুরআন শরীফ উনার বাংলা অনুবাদ গ্রন্থ সমূহের মধ্যে পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৫৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার অনুবাদ লেখা হয়ে থাকে-“নিশ্চয়ই তোমাদের রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক। তিনি আসমান ও যমীন ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন।”
উক্ত অনুবাদ কতটুকু সঠিক? দয়া করে জানাবেন।
জাওয়াব: সুওয়ালে উল্লেখিত পবিত্র সূরা আ’রাফ শরীফ উনার ৫৪ নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার উক্ত বঙ্গানুবাদ মোটেও সঠিক নয়। কেননা “মহান আল্লাহ পাক তিনি আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন” এ অনুবাদ গ্রহণ করা হলে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে ছমাদ অথার্ৎ বেনিয়াজ বা অমুখাপেক্ষি তা প্রকাশ পায়না। তাই উক্ত অর্থ বা অনুবাদ মহান আল্লাহ পাক উনার শান মুবারকের সম্পূর্ণ খিলাফ। মূলত মহান আল্লাহ পাক তিনি কোথাও অধিষ্ঠিত বা বসার মুখাপেক্ষি নন।
উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ এবং উনার বিশুদ্ধ অনুবাদ ও সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে-
إِنَّ رَبَّكُمُ اللهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَـوٰى عَلَى الْعَرْشِ
“নিশ্চয়ই তোমাদের যিনি রব তায়ালা মহান আল্লাহ পাক। তিনি আসমান ও যমীন ছয় ধাপে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর তিনি আরশে আযীমকে (আলমে খল্ক্ব ও আলমে আমরের মাঝে) স্থাপন করলেন।
উক্ত বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা বা অর্থ প্রকাশ করেন যামানার মহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি। আর এতদিন যাবৎ অন্য যারা প্রকাশ করেছেন তা অশুদ্ধভাবে প্রচারিত হয়ে আসছে।
মুহম্মদ সালাহুদ্দীন
ভোলাহাট, চাঁপাইনবাগঞ্জ
সুওয়াল: মুকুলে থাকা অবস্থায় আম ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে কি-না? জানতে বাসনা রাখি।
জাওয়াব: না, মুকুলে থাকা অবস্থায়, খুুব ছোট বা গুটি থাকা অবস্থায় আম ক্রয়-বিক্রয় করা জায়িয নেই।
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ: نَـهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ بَـيْعِ الثِّمَارِ حَتَّى يَـبْدُوَ صَلَاحُهَا، نَـهَى الْبَائِعَ وَالْمُبْـتَاعَ. مُتَّـفَقٌ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ: وَكَانَ إِذَا سُئِلَ عَنْ صَلَاحِهَا قَالَ: حَتَّى تَذْهَبَ عَاهَتُهُ
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গাছের ফল ব্যবহার উপযোগী হওয়ার আগেই তা বিক্রি করতে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে নিষেধ করেছেন। অন্য বর্ণনায় আছে- ছিলাহ্ (পুষ্ট) হওয়ার অর্থ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হয়ে তিনি বলেন, ‘ফলের দূর্যোগকাল উত্তীর্ণ হওয়া।’ (বুখারী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ أَنَسٍ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَـهَى أَنْ تُـبَاعَ ثَمَرَةُ النَّخْلِ حَتَّى تَـزْهُوَ. قَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ يَعْنِي حَتَّى تَحْمَرَّ.
অর্থ: হযরত ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি খেজুর ফল পোক্ত বা পরিপক্ক হওয়ার আগে বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। আবূ আবদুল্লাহ ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, অর্থাৎ লালচে হওয়ার আগে। (বুখারী শরীফ)
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত আছে-
عَنْ حَضْرَتْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ رَضِيَ اللهُ تَـعَالٰى عَنْهُ قَالَ: نَـهَى رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تُـبَاعَ الثَّمَرَةُ حَتَّى تُشَقِّحَ. فَقِيلَ مَا تُشَقِّحُ قَالَ تَحْمَارُّ وَتَصْفَارُّ وَيُـؤْكَلُ مِنْـهَا.
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ফলের রং পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করতে নিষেধ করেছেন। অতঃপর তিনি জিজ্ঞাসিত হলেন রং পরিবর্তন কি? তিনি বলেন, লালচে বর্ণের বা হলুদ বর্ণের না হওয়া পর্যন্ত এবং তা খাওয়ার যোগ্য না হওয়া পর্যন্ত বিক্রি করা নিষেধ। (বুখারী শরীফ)
عَن حَضْرَتْ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ كَانَ النَّاسُ يَـتَـبَايَـعُونَ الثِّمَارَ قَـبْلَ أَنْ يَـبْدُوَ صَلَاحُهَا فَإِذَا جَدَّ النَّاسُ وَحَضَرَ تَـقَاضِيْهِمْ قَالَ الْمُبْـتَاعُ قَدْ أَصَابَ الثَّمَرَ الدُّمَانُ وَأَصَابَهُ قُشَامٌ وَأَصَابَهُ مُرَاضٌ عَاهَاتٌ يَحْتَجُّونَ بِهَا فَـلَمَّا كَثُـرَتْ خُصُومَتُـهُمْ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَالْمَشُورَةِ يُشِيرُ بِهَا فَإِمَّا لَا فَلَا تَـتَـبَايَعُوا الثَّمَرَةَ حَتَّى يَـبْدُوَ صَلَاحُهَا لِكَثْـرَةِ خُصُومَتِهِمْ وَاخْتِلَافِهِمْ .
অর্থ: হযরত যায়িদ ইবনে ছাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেছেন, লোকেরা ফল (খাওয়া ও ব্যবহার করার) উপযোগী হওয়ার পূর্বে ক্রয়-বিক্রয় করতো। তাদের ফল কাটার সময় ক্রেতা এসে বলত, ফলে মড়ক লেগেছে, পোকা ধরেছে, রোগ হয়েছে। সে এসব অজুহাত দাঁড় করিয়ে মূল্য কম দেয়ার চেষ্টা করতো অথবা মোটেই দিতে চাইতো না। একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সামনে তাদের অত্যধিক বিতর্ক হলে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাদেরকে পরামর্শ দিলেন যে, ফল পরিপক্ক না হওয়া পর্যন্ত ক্রয়-বিক্রয় করো না। এ নির্দেশ ছিলো তাদের অধিক বিতর্ক ও মতবিরোধ এড়ানোর জন্য। (আবূ দাউদ শরীফ)
উল্লেখিত পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং অনুরূপ আরো অনেক পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের ব্যাখ্যায় ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৩য় খণ্ড ১০৬ নং পৃষ্ঠায় বর্ণনা করা হয়েছে-
بَـيْعُ الثِّمَارِ قَـبْلَ الظُّهُورِ لَا يَصِحُّ اتِّفَاقًا فَإِنْ بَاعَهَا بَـعْدَ أَنْ تَصِيرَ مُنْـتَـفَعًا بِهَا يَصِحُّ وَإِنْ بَاعَهَا قَـبْلَ أَنْ تَصِيرَ مُنْـتَـفَعًا بِهَا بِأَنْ لَمْ تَصْلُحْ لِتَـنَاوُلِ بَنِي اٰدَمَ وَعَلَفِ الدَّوَابِّ فَالصَّحِيحُ أَنَّهُ يَصِحُّ
অর্থ: ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত উহার ক্রয়-বিক্রয় সর্বসম্মতভাবে ছহীহ বা জায়িয হবে না। তবে যদি উহা দ্বারা কিছু ফায়দা হাছিল হয় এরূপ অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় ছহীহ বা জায়িয হবে। আর যদি উহা ফায়দা হাছিলের উপযুক্ত না হয়, কিন্তু ইচ্ছে হলে মানুষ বা পশু উহা খেতে পারে, এরূপ অবস্থায় ক্রয়-বিক্রয় হলে তা ছহীহ বা জায়িয হবে।
(ফতওয়ায়ে আলমগীরী, আইনুল হেদায়া, শামী ইত্যাদি কিতাবসমূহ)
কাজেই, গাছে বা বাগানে আম বেচা-কেনা করতে হলে মুকুলে বা গুটি থাকা অবস্থায় করা যাবে না। বরং ফায়দা বা উপকার সাধিত হয় এরূপ অবস্থায় পৌঁছতে হবে। অন্যথায় বেচা-কেনা শুদ্ধ হবে না।
আহমদ মা’রূফা জান্নাত
পলাশ, নূরানীবাদ
সুওয়াল: বান্দা ও উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত বা আমল মুবারক কি?
জাওয়াব: বান্দা ও উম্মতের সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত বা আমল মুবারক হচ্ছে- সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিয়্যীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশি মুবারক প্রকাশ করা অর্থাৎ পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ পালন করা সর্বশ্রেষ্ঠ ইবাদত। যা পালন করা প্রত্যেকের জন্য ফরয তথা ফরযে আইন।
যামানার মহান মুজাদ্দিদ ও ইমাম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, দুটি আমল মুবারক সর্বশ্রেষ্ঠ। প্রথম আমল মুবারক: যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে নিছবতযুক্ত অথার্ৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানিত আমল মুবারক। উক্ত আমল মুবারক হচ্ছেন, পবিত্র সাইয়্যিদু সাইয়্যিদিল আ’ইয়াদ শরীফ। দ্বিতীয় আমল মুবারক: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিছবতযুক্ত অথার্ৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আমল মুবারক। উক্ত আমল মুবারক হচ্ছেন, সম্মানিত সুন্নত মুবারক। এ সম্মানিত আমল মুবারক অথার্ৎ সুন্নত মুবারক পালন করাও প্রত্যেকের জন্য ফরয তথা ফরযে আইন।
মোটকথা, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে নিছবতযুক্ত প্রতিটি বিষয়ই সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আনুগত্য ও অনুসরণের দিক থেকে তা পালন করা ফরয তথা ফরযে আইন। এ ব্যাপারে অনেক আয়াত শরীফ এবং অনেক হাদীছ শরীফ বর্ণিত হয়েছে।
যেমন পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَأَطِيعُوا اللهَ وَرَسُولَهٗ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ
অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার মহাসম্মানিত রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য করো যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা আনফাল শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০১)
উদ্ধৃত আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মু’মিন বা ঈমানদার হওয়ার জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করাকে অপরিহার্য তথা ফরয-ওয়াজিব বা ফরযে আইন করে দেয়া হয়েছে।
পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
وَمَاۤ اٰتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَـهَاكُمْ عَنْهُ فَانْـتَـهُوا وَاتَّـقُوا اللهَ إِنَّ اللهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ
অর্থ: মহাসম্মানিত রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তোমাদের নিকট যা নিয়ে এসেছেন বা তোমাদেরকে যা আদেশ করেছেন তা তোমরা অঁাকড়ে ধরো বা পালন করো এবং তিনি তোমাদেরকে যা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন বা যা নিষেধ করেছেন তা থেকে বিরত থাক। এ বিষয়ে তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা। (সম্মানিত ও পবিত্র সূরা হাশর শরীফ: সম্মানিত ও পবিত্র আয়াত শরীফ ০৭)
অনুরূপ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
كُلُّ أُمَّتِي يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَنْ أَبٰى قِيلَ: يَا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَنْ أَبٰى ؟ قَالَ مَنْ أَطَاعَنِي دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ عَصَانِي فَـقَدْ أَبٰى
অর্থ: আমার প্রত্যেক উম্মতই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তবে যে আমাকে অস্বীকার করলো সে ব্যতীত। জিজ্ঞাসা করা হলো, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! কে আপনাকে অস্বীকার করলো? তিনি বললেন, যে আমার আনুগত্য বা অনুসরণ করলো সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে আমার নাফরমানী করলো অথার্ৎ আমার আনুগত্য বা অনুসরণ করলো না, সেই আমাকে অস্বীকার করলো। অথার্ৎ সে জান্নাতে যেতে পারবে না। (বুখারী শরীফ, মেশকাত শরীফ)
উল্লেখিত পবিত্র আয়াত শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ এবং অনুরূপ সকল আয়াত শরীফ ও হাদীছ শরীফ উনাদের আলোকে সাব্যস্ত হয়েছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত আমল মুবারক অথার্ৎ সুন্নত মুবারক পালন করা প্রত্যেকের জন্য ফরয তথা ফরযে আইন।
যারা সম্মানিত সুন্নত মুবারক পালন করবেনা তাদের ব্যাপারে কঠোর হুঁশিয়ারী উল্লেখ করা হয়েছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَضَلَلْتُمْ
অর্থ: যদি তোমরা তোমাদের যিনি সম্মানিত নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক তরক করো বা ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা অবশ্যই পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে। (মুসলিম শরীফ, নাসায়ী শরীফ, মুসনাদে আহমদ শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ, ইবনু মাজাহ শরীফ, দারিমী শরীফ, মেশকাত শরীফ, রিয়াদুছ ছলিহীন ইত্যাদি)
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-
لَوْ تَـرَكْتُمْ سُنَّةَ نَبِيِّكُمْ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَكَفَرْتُمْ
অর্থ: যদি তোমরা তোমাদের যিনি সম্মানিত নবী নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুন্নত মুবারক তরক করো বা ছেড়ে দাও তাহলে তোমরা অবশ্যই কাফির হয়ে যাবে। (আবূ দাউদ শরীফ, মেশকাত শরীফ ইত্যাদি)