সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

মীর মুহম্মদ ছাবের আলী

বায়তুল মোকাররম মার্কেট, ঢাকা

মুহম্মদ হাবীবুর রহমান, সংসদ ভবন, ঢাকা

মুহম্মদ জুনাইদ, হাটহাজারী, চট্টগ্রাম।

সুওয়াল: বর্তমানে মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার ব্যাপারে তীব্র মতভেদ দেখা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, মসজিদের ভিতরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করা জায়িয নেই। আবার কেউ বলছে জায়িয। উভয়েই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ ও ফিক্বাহের কিতাব থেকে দলীল দিয়ে থাকে।

এখন আমরা কোনটা গ্রহণ  করবো? বহুল প্রচারিত দলীলভিত্তিক মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এ এ বিষয়ে পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে সঠিক ফায়সালা তুলে ধরলে সাধারণ মুসলমানগণ উপকৃত হতো।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা শরীফ ও পবিত্র ক্বিয়াস শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে মসজিদের ভিতরে বা মসজিদের বাহিরে চেয়ারে বসে নামায আদায় করার সঠিক ফায়ছালা হচ্ছে, মসজিদের ভিতরে হোক অথবা মসজিদের বাহিরে হোক, দাঁড়াতে সক্ষম হোক  অথবা দাঁড়াতে অক্ষম হোক, প্রত্যেক অবস্থাতেই চেয়ার, টেবিল, টুল, বেঞ্চ অথবা অনুরূপ (পা ঝুলে থাকে এমন) কোন আসনে বসে নামায আদায় করা কাট্টা হারাম, নাজায়িয ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং নামায বাতিল হওয়ার কারণ। এ ফতওয়াটি ছহীহ, দলীলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য। এর খিলাফ কোন ফতওয়াই ছহীহ, দলীলভিত্তিক ও গ্রহণযোগ্য নয়।

আমরা ধারাবাহিকভাবে উল্লিখিত বিষয়ে দলীল-আদিল্লাহ পেশ করার পাশাপাশি যারা চেয়ার, টেবিল, টুল ও বেঞ্চে বসে নামায পড়াকে জায়িয বলে, তাদের সে সমস্ত বক্তব্যগুলো নির্ভরযোগ্য দলীল দ্বারা খ-ন করবো। ইন্শাআল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, তাবিয়ীন, তাবি-তাবিয়ীন, ইমাম-মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের কেউ অসুস্থ অবস্থাতেও কখনো চেয়ারে বসে নামায পড়েছেন এরূপ কোন প্রমাণ পাওয়া যায়না। অথচ পবিত্র নামাযসহ প্রতিটি ইবাদতের ক্ষেত্রেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যে উত্তম আদর্শ মুবারক রয়েছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

لقد كان لكم فى رسول الله اسوة حسنة

অর্থ: “অবশ্যই তোমাদের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মধ্যেই রয়েছে উত্তম আদর্শ মুবারক।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২১)

আর তাই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ছিহ্্হাতী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (সুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন তা যেরূপ সম্মানিত শরীয়ত উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে তদ্রুপ মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন তাও সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে তবে চেয়ারে বসে নামায পড়ার বিষয়ে এত মতভেদের কি কারণ থাকতে পারে? নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বী শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন সেটা দেখলেই   তো সমস্ত মতভেদ নির্মূল হয়ে যায়।

যেমন, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে   ইরশাদ মুবারক হয়েছে যে-

عن حضرت مالك بن الحويرث رضى الله تعالى عنه قال قال لنا رسول الله صلى الله عليه وسلم صلوا كما رأيتمونى اصلى

অর্থ: “হযরত মালিক ইবনে হুয়াইরিছ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে বলেন, তোমরা ঐভাবে নামায পড়ো, যেভাবে আমাকে নামায পড়তে দেখেছো।” (বুখারী শরীফ,  মুসলিম শরীফ,  মিশকাত শরীফ)

তাই আসুন এখন আমরা দেখে নেই যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বি শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় (অসুস্থাবস্থায়) কিভাবে পবিত্র নামায আদায় করেছেন।

যেমন, “বুখারী শরীফ” কিতাবের  ১ম খণ্ডের ৯৫ নং পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

عَنْ حضرت عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُتْبَةَ قَالَ دَخَلْتُ عَلَى عَائِشَةَ عليها السلام فَقُلْتُ أَلاَ تُحَدّثِينِي عَنْ مَرَضِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ بَلَى ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ قُلْنَا لاَوهُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ فَذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ قُلْنَا لاَ هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ضَعُوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ قَالَتْ فَفَعَلْنَا فَاغْتَسَلَ ثُمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ قُلْنَا لاَ هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ صنعوا لِي مَاءً فِي الْمِخْضَبِ فَقَعَدَ فَاغْتَسَلَ ثمَّ ذَهَبَ لِيَنُوءَ فَأُغْمِيَ عَلَيْهِ ثُمَّ أَفَاقَ فَقَالَ أَصَلَّى النَّاسُ فَقُلْنَا لاَ هُمْ يَنْتَظِرُونَكَ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ عُكُوفٌ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُونَ النَّبِيَّ عَلَيْهِ السَّلاَمُ لِصَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ  فَأَرْسَلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِلَى أَبِي بَكْرٍ عليه السلام بِأَنْ يُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَأَتَاهُ الرَّسُولُ فَقَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَأْمُرُكَ أَنْ تُصَلِّيَ بِالنَّاسِ فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ عليه السلام وَكَانَ رَجُلاً رَقِيقًا يَا عُمَرُ عليه السلام صَلِّ بِالنَّاسِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ عليه السلام أَنْتَ أَحَقُّ بِذَلِكَ فَصَلَّى أَبُو بَكْرٍ عليه السلام تِلْكَ الأَيَّامَ ثُمَّ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَجَدَ مِنْ نَفْسِهِ خِفَّةً فَخَرَجَ بَيْنَ رَجُلَيْنِ أَحَدُهُمَا الْعَبَّاسُ عليه السلام لِصَلاَةِ الظُّهْرِ، وَأَبُو بَكْرٍ عليه السلام يُصَلّي بِالنَّاسِ فَلَمَّا رَآهُ أَبُو بَكْرٍ عليه السلام ذَهَبَ لِيَتَأَخَّرَ فَأَوْمَيَ إِلَيْهِ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِأَنْ لاَ يَتَأَخَّرَ فقَالَ أَجْلِسَانِي إِلَى جَنْبِهِ فَأَجْلَسَاهُ إِلَى جَنْبِ أَبِي بَكْرٍ عليه السلام قَالَ فَجَعَلَ أَبُو بَكْرٍ عليه السلام يُصَلِّي وَهْوَ يَأْتَمُّ بِصَلاَةِ النَّبِيّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسُ بِصَلاَةِ أَبِي بَكْرٍ عليه السلام وَالنَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم قَاعِدٌ قَالَ عُبَيْدُ اللهِ فَدَخَلْتُ عَلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ رضى الله تعالى عنه فَقُلْتُ لَهُ أَلاَ أَعْرِضُ عَلَيْكَ مَا حَدَّثَتْنِي ام المؤمنين عَائِشَةُ عليها السلام عَنْ مَرَضِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ : هَاتِ فَعَرَضْتُ عَلَيْهِ حَدِيثَهَا فَمَا أَنْكَرَ مِنْهُ شَيْئًا غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ أَسَمَّتْ لَكَ الرَّجُلَ الَّذِي كَانَ مَعَ الْعَبَّاسِ عليه السلام قُلْتُ: لاَ قَالَ هُوَ عَلِيٌّ عليه السلام.

অর্থ: হযরত উবায়দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উতবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আমি উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে উপস্থিত হয়ে বললাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারীদ্বি শান মুবারক সম্পর্কে কি আপনি আমাকে কিছু বিস্তারিত শুনাবেন? তিনি বললেন, অবশ্যই। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মারীদ্বি শান মুবারক প্রকাশ করা অবস্থায় জিজ্ঞাসা মুবারক করলেন, লোকজন কি নামায আদায় করে ফেলেছেন? আমরা বললাম, না, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারা আপনার অপেক্ষায় আছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসল মুবারকের পাত্রে পানি দিন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল মুবারক করলেন। অতঃপর একটু উঠতে চাইলেন, তখন বেহুঁশী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। কিছুক্ষণ পর বাহুঁশী শান মুবারক প্রকাশ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, লোকজন কি নামায আদায় করে ফেলেছেন? আমরা বললাম, না, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারা আপনার অপেক্ষা করছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখুন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল মুবারক করলেন, আবার উঠতে চাইলেন। এবারও বেহুঁশী শান মুবারক প্রকাশ করলেন। কিছুক্ষণ পর বাহুঁশী শান মুবার প্রকাশ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, লোকজন কি নামায আদায় করে ফেলেছেন? আমরা বললাম, না, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারা আপনার অপেক্ষা করছেন। তিনি বললেন, আমার জন্য গোসলের পাত্রে পানি রাখুন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, আমরা তাই করলাম। তিনি গোসল মুবারক করলেন, আবার উঠতে চাইলেন। তখন বেহুঁশী শান মুবারক প্রকাশ করলেন । কিছুক্ষণ পর বাহুঁশী শান মুবার প্রকাশ করে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, লোকজন কি নামায আদায় করে ফেলেছেন? আমরা বললাম, না, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! উনারা আপনার অপেক্ষা করছেন। ওদিকে লোকজন ইশার নামাযের জন্য নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অপেক্ষায় মসজিদে বসেছিলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট এ মর্মে একজন লোক পাঠালেন যে, তিনি যেন লোকজনকে নিয়ে নামায আদায় করে নেন। সংবাদ বাহক হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপনাকে লোকজনকে নিয়ে নামায আদায় করার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি ছিলেন অত্যন্ত কোমল মনের অধিকারী। তাই তিনি হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, হে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম! আপনি লোকজনকে  নিয়ে নামায আদায় করে নিন। হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনিই এর জন্য অধিক হক্বদার। সুতরাং হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম ঐ কয়েকদিন নামায পড়ালেন। অতঃপর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন কিছুটা ছিহ্হাতি শান মুবারক প্রকাশ করলেন, তখন দুজন ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনাদের কাঁধে ভর করে পবিত্র যুহরের নামায আদায়ের জন্য বের হলেন। উনাদের দুজনের একজন ছিলেন হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু। হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি লোকজনকে  নিয়ে নামায আদায় করছিলেন। তিনি যখন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে দেখতে পেলেন, পিছনে সরে আসতে চাইলেন, কিন্তু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি  উনাকে পিছনে না আসার জন্য ইশারা করলেন এবং বললেন, আপনারা আমাকে উনার পাশে বসিয়ে দিন। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার পাশে বসিয়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার নামাযের ইক্তিদা করে নামায আদায় করতে লাগলেন। আর লোকজন হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম উনার নামাযের ইক্তিদা করতে লাগলেন। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তখন বসা ছিলেন। হযরত উবায়দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা তিনি বলেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু  তা‘য়ালা আনহু উনার নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মারীদ্বি শান মুবারক প্রকাশ সম্পর্কে উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে যে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেছেন, তা কি আমি আপনার নিকট বর্ণনা করবো না? তিনি বললেন, বর্ণনা করুন । অতএব আমি উনাকে পবিত্র হাদীছ শরীফখানা শুনালাম। তিনি এ বর্ণনার কোন অংশই আপত্তি করলেন না, তবে উনাকে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন যে, হযরত আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সাথে যে অপর ছাহাবী ছিলেন, হযরত উম্মুল মু’মিনীন ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি কি উনার নাম মুবারক উল্লেখ করেছেন? আমি বললাম না। তিনি বললেন, তিনি ছিলেন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম।

অতএব, উপরোক্ত দলীলভিত্তিক বর্ণনা থেকে এটাই প্রমানিত হলো যে, “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে মারীদ্বি  (অসুস্থতা) শান মুবারক প্রকাশ করার পর বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন উক্ত মারীদ্বি শান মুবারক প্রকাশ করার পর তিনি হযরত ছাহাবায়ে কেরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনাদেরকে নিয়ে যমীনে বসেই পবিত্র নামায মুবারক আদায় করেছেন।

 

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন

সুনামগঞ্জ

সুওয়াল: ‘লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ নাকি অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন ও রাত্রি থেকে বেশি ফযীলতপূর্ণ? এর কি কারণ? দয়া করে জানাবেন।

জাওয়াব: পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ولله العزة ولرسوله وللمؤمنين ولكن الـمنافقين لا يعلمون

অর্থ: আর মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যই সমস্ত ইজ্জত-সম্মান এবং উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য এবং মু’মিন মুসলমানদের জন্য। কিন্তু মুনাফিকরা এ সম্পর্কে মোটেও অবগত বা অবহিত নয়। (পবিত্র সূরা মুনাফিকূন শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮)

মূলত: সৃষ্টিরাজির মধ্যে সবচাইতে ইজ্জত-সম্মানের অধিকারী হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাক উনার যিনি হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। এরপর সৃষ্টিরাজির মধ্যে ব্যক্তি হোক, বস্তু হোক, স্থান হোক, সময় হোক যার যতবেশি তায়াল্লুক-নিসবত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে উনার ফযীলত বা সম্মান ততবেশি । সুবহানাল্লাহ!

উদাহরণস্বরূপ, হানাফী মাযহাবের ফতওয়ার বিখ্যাত কিতাব ফতওয়ায়ে শামী ৩য় খ- যিয়ারত অধ্যায়ে উল্লেখ আছে যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে যে মাটি স্পর্শ মুবারক করেছে তা আসমান-যমীন এমনকি আরশে আযীম অপেক্ষা অধিক ফযীলতপূর্ণ। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, ‘লাইলাতুর রগায়িব’ এ ফযীলতপূর্ণ রাতটি অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন ও রাতের চেয়ে বেশি ফযীলতের অধিকারী হয়েছে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কারণেই। সুবহানাল্লাহ!

এ রাতটি অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন-রাতের চাইতে বেশি ফযীলতপ্রাপ্ত এই কারণে যে, এই রাতের সাথে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্পর্ক-তায়াল্লুক, নিসবত রয়েছে। এ রাতটিই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যে দুনিয়ার যমীনে আগমন করেছেন তার আগাম শুভ লক্ষণ মুবারক প্রকাশ করেছিল। সুবহানাল্লাহ!

কাজেই, এ রাতটি না হলে অন্যান্য রাত ও দিনের ফযীলত কখনোই খুঁজে পাওয়া যেতো না। তাহলে এ রাতটি কেন অন্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিন অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও ফযীলতপূর্ণ হবে না? অবশ্যই হবে।

স্মরণীয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত চারটি হারাম বা সম্মানিত মাসের অন্যতম রজব মাসের পহেলা তারিখ এবং পহেলা জুমুআর রাতটিই হচ্ছে লাইলাতুর রগায়িব। এই মহিমান্বিত ও অতীব সম্মানিত পহেলা তারিখ পবিত্র ইয়াওমুল জুমুআ শরীফ সাইয়্যিদুল আবা ওয়ার রিজাল, সাইয়্যিদুন নাস, ছাহিবুল ঈমান, ছাহিবুল জান্নাহ, আবূ রসূলিনা সাইয়্যিদুনা হযরত যাবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সাথে সাইয়্যিদাতুল উম্মাহাত ওয়ান নিসা, সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ছাহিবাতুল ঈমান, ছাহিবাতুল জান্নাহ, উম্মু রসূলিনা সাইয়্যিদাতুনা হযরত বাররাহ আলাইহাস সালাম উনার আযীমুশ শান নিকাহিল আযীম শরীফ সম্পাদিত হয়। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর উক্ত সম্মানিত রাতেই সুমহান রগায়িব শরীফ সম্পন্ন হয়। অর্থাৎ উক্ত সম্মানিত রাতেই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত ওজূদ পাক নূরে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার সম্মানিত আব্বা আলাইহিস সালাম উনার পূত-পবিত্র জিসিম (দেহ) মুবারক থেকে উনার সম্মানিতা আম্মা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে সম্পূর্ণ কুদরতীভাবে তাশরীফ নেন। সুবহানাল্লাহ! যার কারণে উক্ত সম্মানিত রাত্রির ফযীলত শবে বরাত, শবে ক্বদর ইত্যাদি ফযীলতপূর্ণ রাত্রি অপেক্ষা অধিক ফযীলতপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

মূলত সম্মানিত ‘লাইলাতুর রগায়িব শরীফ’ এ ফযীলতপূর্ণ মর্যাদামণ্ডিত রাতটির নিসবত বা সম্পর্ক যেহেতু সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে তাশরীফ মুবারক আনার সাথে সম্পর্কযুক্ত তাই এ সম্মানিত রাতের মর্যাদা উম্মতকে ফযীলত-মর্যাদা-মর্তবা হাছিলের জন্য দেয়া শবে বরাত, শবে ক্বদর ইত্যাদি ফযীলতপূর্ণ রাতের চেয়েও লক্ষ কোটিগুণ বেশি।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

انا اعطيناك الكوثر

অর্থ: নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার হাদিয়া করেছি। (পবিত্র সূরাতুল কাওছার শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১)

এ পবিত্র আয়াত শরীফ উনার ব্যাখ্যায় হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম উনারা অনেকেই অনেক কিছু বলেছেন ও লিখেছেন। তবে যিনি মুফাসসিরকুল শিরমণী রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি ‘কাওছার’ শব্দের ব্যাখ্যায় দুটি অর্থ বর্ণনা করেছেন। একটি হলো ‘হাউযে কাওছার’ যার পানি স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যাকে পান করার অনুমতি দিবেন কেবল তিনিই পান করবেন এবং সেই পানি পান করার পর জান্নাতে প্রবেশ করা পর্যন্ত আর পিপাসা লাগবে না। আর কাওছার-এর আরেকটি অর্থ বর্ণনা করেছেন ‘খইরে কাছীর’ তথা অধিক উত্তম বা ভালাই বা কল্যাণ। অর্থাৎ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার রহমতপূর্ণ ছোহবতে, নিসবতে, স্পর্শে যা কিছু এসেছে সবকিছুই সবচেয়ে উত্তম, সর্বোৎকৃষ্ট হয়েছে এবং সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

আর এ কারণেই লাইলাতুর রাগায়িব অন্য সকল ফযীলতপূর্ণ দিন ও রাতের চেয়ে শ্রেষ্ঠতম এবং সবচেয়ে ফযীলতপূর্ণ রাত হিসেবে সাব্যস্ত হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য, লাইলাতুল ক্বদরের ফযীলত সম্পর্কে সরাসরি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে সত্যিই। আর লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার বর্ণনা যদিও সরাসরি কুরআন শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ নেই; তবে এ কথা অবশ্যই সত্য যে, লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার মাধ্যমে যেহেতু নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার যমীনে আগমনের বিষয়টি সুনিশ্চিত হয়েছে তাই এ রাতটির মর্যাদা লাইলাতুল ক্বদর অপেক্ষা লক্ষ-কোটি গুণ বেশি ফযীলতপূর্ণ। কেননা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যদি যমীনে আগমন না করতেন তাহলে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল হতো না, লাইলাতুল ক্বদরসহ কোন ফযীলতপূর্ণ দিন-রাতেরও আগমন ঘটতো না। তাই, অনুসরণীয় ইমাম-মুজতাহিদ, আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা অনেকেই ফতওয়া দিয়েছেন যে, লাইলাতুর রগায়িব শরীফ হচ্ছে সমস্ত ফযীলতপূর্ণ দিন-রাতের চাইতে শ্রেষ্ঠ ও ফযীলতপ্রাপ্ত। সুবহানাল্লাহ!

যেমন বিশেষ করে এ বিষয়ে ফতওয়া প্রদান করেছেন হিজরী তৃতীয় শতকের মহান মুজাদ্দিদ, যিনি হাম্বলী মাযহাবের ইমাম হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি। তিনি বলেন, “লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার ফযীলত শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন-রাতের চেয়েও বেশি।” তিনি যখন এ বক্তব্য পেশ করলেন, তখন সমসাময়িক আলিম-উলামা, ইমাম-মুজতাহিদগণ উনারা উনার নিকট এসে বললেন, হুযূর! শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত্রির ফযীলত পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু লাইলাতুর রগায়িব শরীফ বা শবে রগায়িব শরীফ-এর বর্ণনা তো পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে নেই, তাহলে কিভাবে এ রাত্রির ফযীলত উল্লিখিত ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত্রির চেয়ে বেশি হতে পারে? তখন হযরত ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, আপনারা কি জানেন, লাইলাতুর রগায়িব শরীফ কোন রাত্রিকে বলে? উনারা জানেন না বলে স্বীকার করলেন। তখন তিনি লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার পরিচয় তুলে ধরে বললেন যে, লাইলাতুর রগায়িব শরীফ হচ্ছে ঐ রাত্রি যে রাত্রিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার হাবীব, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে তাশরীফ নিয়েছেন। এ রাত্রির ফযীলত অন্যান্য সমস্ত ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত্রির চেয়ে বেশি এই জন্য যে, যদি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার আম্মা আলাইহাস সালাম উনার খিদমত মুবারকে অতঃপর যমীনে তাশরীফ মুবারক না আনতেন তাহলে শবে ক্বদর, শবে বরাত এবং অন্যান্য ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত কোনটিই আসতোনা। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আগমনের ওসীলাতেই শবে ক্বদর, শবে বরাতসহ সমস্ত ফযীলতপূর্ণ দিন-রাত্রি এসেছে। কাজেই লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার ফযীলত সবচেয়ে বেশি। সুবহানাল্লাহ! তিনি যখন লাইলাতুর রগায়িব শরীফ উনার পরিচয় ও ফযীলত তুলে ধরলেন, তখন সকল আলিম-উলামা, ইমাম-মুজতাহিদ উনারা নির্দিধায় মেনে নিলেন।

অতঃপর একই ফতওয়া প্রদান করেন হিজরী ষষ্ঠ শতকের মহান মুজাদ্দিদ, যিনি সুপ্রসিদ্ধ ক্বাদিরিয়া তরীক্বার ইমাম- গউছুল আ’যম, সাইয়্যিদুল আওলিয়া হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি।

অতঃপর এ উপমহাদেশে সর্বপ্রথম যিনি হাদীছ শরীফ শাস্ত্রের প্রচার প্রসার করেছেন, যিনি ক্বাদিরিয়া তরীক্বার বিশিষ্ট বুযুর্গ, ইমামুল মুহাদ্দিছীন হযরত শাহ আব্দুল হক মুহাদ্দিছ দেহলবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনিও অনুরূপ ফওতয়া প্রদান করেন।

অতঃপর যিনি বর্তমান পঞ্চদশ হিজরী শতাব্দীর  মহান মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদ আ’যম, আওলাদে রসুল ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি। তিনি উনার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ এবং দৈনিক আল ইহসান শরীফ উনার মধ্যে লাইলাতুর রগায়িব শরীফ সবচাইতে বেশি ফযীলতপূর্ণ রাত সে সম্পর্কে মুবারক লিখনী প্রকাশ করেন। সুবহানাল্লাহ!

অতএব, অনুসরণীয় হযরত ইমাম-মুজতাহিদ, মুজাদ্দিদ আউলিয়ায়ে কিরাম উনাদের মতের বিপরীতে সাধারণ মু’মিন মুসলমানের বিশ্বাস ও মতামত আদৌ গ্রহণযোগ্য নয়।

(দলীলসমূহ: গুনিয়াতুত ত্বালিবীন, রযীন, মাছাবাতা বিসসুন্নাহ, আল বাইয়্যিনাত শরীফ, আল ইহসান শরীফ, আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইল, ফাদ্বায়িলূশ শুহূরি ওয়াল আইইয়াম ইত্যাদি)

 

মুহম্মদ শামছুল হুদা

কিশোরগঞ্জ

সুওয়াল: আমরা আগে থেকেই জেনে আসছি যে, রজব মাসের ২৭ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) সম্মানিত মি’রাজ শরীফ উনার রাত। কিন্তু বর্তমানে কেউ কেউ টিভিসহ বিভিন্ন চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে প্রচার করছে যে, মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। আরো প্রচার করছে যে, ২৭শে রজবের রাতেই মি’রাজ শরীফ হয়েছে এ কথা সঠিক নয়। নাউযুবিল্লাহ!

অতএব, এ বিষয়ে সঠিক জাওয়াব দিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনের জন্য অনুরোধ করছি।

জাওয়াব: মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) রাতেই হয়েছে। এটাই মশহূর বা প্রসিদ্ধ, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত। এর বিপরীত মতগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

মি’রাজ শরীফ উনার মশহূর, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত নিয়ে যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। তাদের কোন কথাই সম্মানিত ইসলামী শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়।

উল্লেখ্য, মুসলমানগণের ঈমান-আমল ধ্বংস করার ক্ষেত্রে মুসলমানদের যারা চিহ্নিত শত্রু- ইহুদী, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধ, মজূসী ইত্যাদি তাবৎ কাফির-মুশরিক তারা পরোক্ষভাবে কাজ করে আর তাদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে। এই উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীরা কাফির-মুশরিকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী মুসলামনগণের ঈমান-আক্বীদা, আমল-আখলাক্ব ধ্বংস করার লক্ষ্যে হরাম টিভি চ্যানেলসহ নানা চ্যানেল, পত্র-পত্রিকা ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, জায়িযকে নাজায়িয,সুন্নতকে বিদয়াত, বিদয়াতকে সুন্নত বলে প্রচার করে থাকে। অনুরূপভাবে তারা মুসলমানদের ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিনসমূহের তারিখ নিয়েও সমাজে বিভ্রান্তি ও ফিতনা সৃষ্টি করছে; উদ্দেশ্য হলো, মুসলমানগণ যেনো ফযীলতপূর্ণ রাত ও দিনসমূহের ইবাদত-বন্দেগী, দুআ-মুনাজাত করা থেকে বিরত থাকে এবং সেই রাত ও দিনসমূহের ফযীলত থেকে বঞ্চিত হয়।

যেমন তারা রবীউল আউওয়াল শরীফ মাস আসলেই প্রচার করে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশের তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। নাউযুবিল্লাহ!

তদ্রুপ এখন তারা প্রচার করছে, মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। নাঊযুবিল্লাহ!

অর্থাৎ কাফির-মুশরিকদের এজেন্ট উলামায়ে ‘সূ’ তথা ধর্মব্যবসায়ীরা বোঝাতে চাচ্ছে যে, মতভেদ সম্পর্কিত বিষয় পালন করা ঠিক নয়। নাঊযুবিল্লাহ!

কিন্তু সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা হলো, যে কোন বিষয়ে মতভেদ হতে পারে বা থাকতে পারে। কারণ হক্বপন্থীগণ যে বিষয়টিকে হক হিসেবে গ্রহণ করেন, যারা নাহক্ব বা বাতিলপন্থী তারা কি সে বিষয়টিকে হক্ব হিসেবে গ্রহণ করবে? কখনই না। তাহলে তো এমনিতেই মতভেদ সৃষ্টি হয়ে গেল এবং তাই হচ্ছে।

এছাড়া হক্বের জন্য হক্বপন্থীগণও বিভিন্ন বিষয়ে ইখতিলাফ করেছেন, ইখতিলাফ করেছেন বলে সেসব বিষয় বাদ দিতে হবে তা নয়। বরং এক্ষেত্রে শরীয়তের সুস্পষ্ট সামাধান রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يايها الذين امنوا اطيعوا الله واطيعوا الرسول واولى الامر منكم فان تنازعتم فى شىء فردوه الى الله والرسول ان كنتم تؤمنون بالله واليوم الاخر ذلك خير واحسن تأويلا

অর্থ: “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করো এবং মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আনুগত্য বা অনুসরণ করো এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর রয়েছেন উনাদের আনুগত্য বা অনুসরণ করো। অতঃপর যদি কোন বিষয়ে (উলিল আমরগণের মধ্যে) মতবিরোধ দেখা দেয় তাহলে তা মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের দিকে প্রত্যাবর্তন করো। অর্থাৎ যেই উলিল আমর মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের বেশি অনুগত বা যার মতের স্বপক্ষে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দলীল-আদিল্লাহ বেশি রয়েছে উনাকে বা উনার মতকে অনুসরণ করবে। যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি ও ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে থাক। এটাই কল্যাণকর এবং তা’বীল বা ব্যাখ্যার দিক দিয়ে উত্তম।” (পবিত্র সূরা নিসা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ নং ৫৯)

কাজেই, কোন বিষয়ে যখন একাধিক মত থাকবে তখন যে মতটি অত্যধিক ছহীহ ও নির্ভরযোগ্য হবে, সেটিই আমল করতে হবে। মতভেদ আছে বলে মূল বিষয়টির আমলই ছেড়ে দিতে হবে; এ বক্তব্য চরম শ্রেণীর জাহিলদের উক্তি ব্যতীত কিছু নয়। যা পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের সম্পূর্ণ বিপরীত ও কুফরীর শামিল।

স্মরণীয় যে, পবিত্র মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) রাতে হয়েছে এটাই মশহূর, গ্রহণযোগ্য ও দলীলভিত্তিক মত। যেমন এ প্রসঙ্গে তাফসীরে রূহুল বয়ান ৫ম জিলদ্ ১০৩ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

وهى ليلة سبع وعشرين من رجب ليلة الاثنين وعليه عمل الناس قالوا انه عليه السلام ولد يوم الاثنين بعث يوم الاثنين واسرى به ليلة الاثنين وخرج من مكة يوم الاثنين ودخل الـمدينة يوم الاثنين ومات يوم الاثنين

অর্থ: “রাতটি ছিলো রজব মাসের ২৭ তারিখ, সোমবার শরীফ।” এর উপরই বিশ্বের সকল ইমাম, মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদের আমল। উনারা বলেন, “নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), উনার আনুষ্ঠানিকভাবে নুবুওওয়াত প্রকাশ পেয়েছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), ইসরা ও মি’রাজ শরীফ হয়েছে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), হিজরতের উদ্দেশ্যে মক্কা শরীফ থেকে বের হয়েছেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার), পবিত্র মদীনা শরীফ উনার মধ্যে প্রবেশ করেছেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ (সোমবার) এবং তিনি বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেন ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ।”

পাক ভারত উপমহাদেশে পবিত্র হাদীছ শরীফের প্রচার-প্রসারকারী হযরত শায়েখ আব্দুল হক্ব মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্বখ্যাত ‘মা ছাবাতা বিস সুন্নাহ’ কিতাবের ৭৩ পৃষ্ঠায় লিখেন-

اعلم انه قد اشتهر فيما بين الناس بديار العرب ان معراجه صلى الله عليه وسلم كان لسبع وعشرين من رجب

অর্থ: “জেনে রাখুন! নিশ্চয়ই আরব জাহানের দেশসমূহের লোকদের মধ্যে মাশহূর বা প্রসিদ্ধ ছিলো যে, নিশ্চয়ই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত মি’রাজ শরীফ সংঘটিত হয়েছিলো রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতেই।” সুবহানাল্লাহ!

 

 

 

 

অনুরূপভাবে হানাফী মাযহাবের সুপ্রসিদ্ধ ফতওয়ার কিতাব ‘রদ্দুল মুহতার আলা দুররিল মুখতার’ কিতাবুছ ছলাত অধ্যায়ে উল্লেখ রয়েছে-

وجزم الحافظ عبد الغنى الـمقدسى فى سيرته بانه ليلة السابع والعشرين من رجب وعليه عمل اهل الامصار.

অর্থ: হযরত ইমাম হাফিয আব্দুল গণী মাক্বদিসী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার সীরাতগ্রন্থে চূড়ান্ত মতামত প্রকাশ করেন যে, মি’রাজ শরীফ হয়েছে রজব মাসের ২৭ তারিখ এবং এর উপরই সমগ্র দেশবাসী উনাদের আমল। এছাড়াও আরো নির্ভরযোগ্য অনেক কিতাবেই উল্লেখ আছে যে, মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ রাতে হয়েছে।

কাজেই, যারা টিভিসহ নানা চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায় ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। এদের সম্পর্কেই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-

عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ويل لامتى من علماء السوء يتخذون هذا العلم تجارة يبيعونـها من امراء زمانـهم ربحا لانفسهم لا اربح الله تجارتـهم

অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, আমার উম্মতের উলামায়ে ‘সূ’দের জন্য জাহান্নাম; যারা ইলিমকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহণ করে তাদের যামানার আমীর-উমরা বা রাজা-বাদশাহদের কাছে অর্থ ও পদ লাভের জন্য তা বিক্রি করে থাকে। তাদের এ ধর্মব্যবসায় আল্লাহ পাক তিনি কখনো বরকত দিবেন না।” (কানযুল উম্মাল)

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم يكون فى اخر الزمان دجالون كذابون يأتونكم من الاحاديث بـما لـم تسمعوا انتم ولا اباؤكم فاياكم واياهم لا يضلونكم ولا يفتنونكم.

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আখিরী যামানায় কিছু মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বের হবে, তারা তোমাদের নিকট এমন সব (মিথ্যা-মনগড়া) কথা উপস্থাপন করবে, যা তোমরা কখনো শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। সাবধান! তোমরা তাদের থেকে দূরে থাকবে এবং তোমাদেরকে তাদের থেকে দূরে রাখবে। তবে তারা তোমাদেরকে গোমরাহ করতে পারবে না এবং ফিতনায় ফেলতে পারবে না। (মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

সম্মানিত শরীয়ত উনার ফায়ছালা হলো উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের ওয়াজ শোনা, তাদের ফতওয়া মানা, তাদেরকে অনুসরণ করা হারাম আর তাদের ছোহবত থেকে দূরে থাকা ফরয-ওয়াজিব।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা কাহাফ’ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

ولا تطع من اغفلنا قلبه عن ذكرنا واتبع هواه وكان امره فرطا

অর্থ: “তোমরা ঐ ব্যক্তিকে অনুসরণ করোনা যার ক্বল্ব্ আমার যিকির থেকে গাফিল। সে নফসের পায়রবী করে আর তার কাজগুলো সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ।” অর্থাৎ যারা শরীয়তের খিলাফ কাজ করে তথা টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম করে তাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন।

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

ان هذا العلم دين فانطروا عمن تأخذون دينكم

 অর্থ: “নিশ্চয়ই (পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার) ইলিমই হচ্ছে দ্বীন। সুতরাং, তোমরা কার নিকট থেকে দ্বীন গ্রহণ করছো তাকে লক্ষ্য করো।” (মিশকাত শরীফ)

অর্থাৎ যাদের আক্বীদা ও আমল সম্মানিত শরীয়ত উনার খিলাফ তথা যারা টিভিতে প্রোগ্রাম করে, ওয়াজ ভিডিও করে তাদের থেকে ইলিম হাছিল করা যাবে না, তাদের ওয়াজ শুনা যাবে না, তাদের ফতওয়া মানা যাবে না, তাদের পিছনে নামায পড়া যাবে না।

অতএব, যারা টিভি চ্যানেলসহ নানা চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকায় ও বই-পুস্তকের মাধ্যমে পবিত্র মি’রাজ শরীফ উনার তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ায় তারা উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী। এদের কোনো কথাই সম্মানিত শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। আর ২৭শে রজব তারিখ পবিত্র মি’রাজ শরীফ; এটা সঠিক নয় বলে তারা যে বক্তব্য প্রচার করছে তাদের সে প্রচারণা সম্পূর্ণ মনগড়া ও দলীলবিহীন। সম্মানিত ইসলামে দলীলবিহীন কোন বিষয় আদৌ গ্রহনযোগ্য নয়। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

هاتوا برهانكم ان كنتم صادقين

অর্থ: যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক, তাহলে দলীল পেশ করো।

কাজেই, যেসব উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ী পবিত্র মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ সংঘটিত হওয়ার বিশুদ্ধ ও মশহূর বর্ণনাকে সঠিক নয় বলে প্রচার করছে; তাদেরকে প্রমাণ দিতে হবে যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ, পবিত্র ইজমা ও পবিত্র ক্বিয়াসের কোথায় বা কোন দলীলে উল্লেখ আছে যে, পবিত্র মি’রাজ শরীফ রজব মাসের ২৭ তারিখ হয়েছে; তা সঠিক নয়। এরূপ প্রমাণ তারা কখনই দিতে পারবে না, যদি দিতে পারতো তাহলে তাদেরকে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে দাজ্জালে কাযযাব অর্থাৎ চরম মিথ্যাবাদী দাজ্জাল বলে কখনই উল্লেখ করা হতো না।

 

মুহম্মদ আব্দুল্লাহ আল মা’রুফ

নওগাঁ

সুওয়াল: আমার বাড়ীর আশে পাশের মসজিদের ইমাম-খতীবগুলো মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী। উক্ত ইমাম-খতীবদের পিছনে নামায হবে কি না? পাঁচ ওয়াক্ত নামায না হয় বাড়ীতেই পড়লাম। কিন্তু জুমুআর নামায পড়তে তো মসজিদে যেতেই হবে।  সেক্ষেত্রে কি করণীয়? সঠিক জাওয়াব দানে বাধিত করবেন।

জাওয়াব: মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমামের পিছনে কোন নামাযই হবে না। তা পাঞ্জেগানা হোক কিংবা জুমুআ ও ঈদের নামায হোক।

সাধারণভাবে পাঁচওয়াক্ত ও জুমুআর নামায জামায়াতে পড়ার জন্য পুরুষরা মসজিদে গিয়ে পড়ে থাকেন। এক্ষেত্রে যিনি মসজিদের ইমাম থাকবেন উনার আক্বীদা ও আমল উভয়ই অবশ্যই শুদ্ধ হতে হবে। অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের আক্বীদায় বিশ্বাসী হতে হবে। আর সম্মানিত শরীয়ত ও সুন্নত অনুযায়ী আমলের অনুসারী হতে হবে।

যে ব্যক্তির আক্বীদা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের অনুযায়ী হবেনা, সে ঈমানদার নয়। অথচ ইমাম হওয়ার জন্য প্রথম শর্ত হলো ঈমান-আক্বীদা শুদ্ধ থাকা।

অতঃপর ইমাম হওয়ার জন্য দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে, ইমাম ফাসিক না হওয়া। অর্থাৎ যে  ব্যক্তির আমল সম্মানিত শরীয়ত ও সম্মানিত সুন্নত উনার খিলাফ সে ফাসিক। সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার ফতওয়া হচ্ছে, ফাসিকের পিছনে নামায পড়লে উক্ত নামায দোহরানো ওয়াজিব।

বলার অপেক্ষা রাখে না, সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনার উদ্দেশ্যেই মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ করা হয়। কাজেই, মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ উনার বিরোধিতা মানে স্বয়ং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারই বিরোধিতা করা। নাউযুবিল্লাহ! যা কাট্টা কুফরী এবং কাফির ও জাহান্নামী হওয়ার কারণ। কেননা যিনি খ্বালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি নিজেও উনার পেয়ারা রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন এবং উনার ছানা-ছিফত মুবারক করার জন্য বান্দা-বান্দীদেরকেও আদেশ মুবারক করেছেন।

যেমন ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

ان الله وملائكته يصلون على النبى يايها الذين امنوا صلوا عليه وسلموا تسليما.

অর্থ: নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ছলাত পাঠ করেন বা ছানা-ছিফত মুবারক করেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারকে। হে ঈমানদারগণ! উনার শান মুবারকে আপনারাও ছলাত পাঠ করুন বা ছানা-ছিফত মুবারক করুন এবং যথাযথ সম্মানে সালাম পেশ করুন অর্থাৎ দাঁড়িয়ে আদবের সাথে সালাম প্রদান করুন। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৬)

অপর এক আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

تعزروه وتوقروه وتسبحوه بكرة واصيلا

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার তোমরা খিদমত মুবারক করো এবং উনাকে তোমরা সম্মান মুবারক করো এবং উনার তোমরা  ছানা ছিফত মুবারক করো সকাল-সন্ধ্যা অর্থাৎ সর্বদা বা দায়িমীভাবে। (পবিত্র সূরা ফাতহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৯)

কাজেই, যেসব খতীব ও ইমাম পবিত্র মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ উনার বিরোধিতা করে থাকে, মু’মিন-মুসলমান ও মুছল্লীদের অধিকার বলে হক্ব প্রতিষ্ঠা ও নাহক্ব বা অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রথমে উক্ত ইমাম-খতীবকেই বলতে হবে যে, পবিত্র মীলাদ শরীফ উনার বিরুদ্ধে বলা থেকে বিরত থাকতে হবে। তারপরও যদি বিরুদ্ধে বলে, তখন তাদের কাছে দলীল চাইতে হবে, পবিত্র কুরআন শরীফ উনার কোন আয়াত শরীফ কিংবা কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়াকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা কখনোই পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের থেকে কোন দলীল দেখাতে সক্ষম হবে না।

কেউ দলীল দেখালেও বুঝতে হবে দলীলের নামে তারা মনগড়া বা অপব্যাখ্যা করেছে। কেননা এমন কোন পবিত্র আয়াত শরীফ কিংবা এমন কোন পবিত্র হাদীছ শরীফ নেই, যেখানে পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। বরং পবিত্র মীলাদ শরীফ পড়ার পক্ষেই বহু আয়াত শরীফ ও বহু হাদীছ শরীফ ইরশাদ মুবারক হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!

পবিত্র মীলাদ শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবকে বলার পরও তারা যদি সংশোধন না হয় তাহলে মসজিদের মুতাওয়াল্লী, সভাপতি, সেক্রেটারী ও সদস্যদেরকে বুঝিয়ে ইমাম-খতীবকে বাদ দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যান, কমিশনারের সহযোগিতা নিয়ে পবিত্র মীলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবকে অপসারণের জন্য আপ্রাণ কোশেশ করতে হবে। যথাসাধ্য চেষ্টা-কোশেশ করার পরও যদি উক্ত ইমাম-খতীবদেরকে সরানো না যায় তাহলে মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ পক্ষের লোকজনকে নিয়ে আলাদ মসজিদ তৈরি করে সেখানে জামায়াতে নামায পড়ার ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। তাৎক্ষনিকভাবে মসজিদ তৈরী করা সম্ভব না হলে কোশেশ অব্যাহত রেখে পার্শ্ববর্তী অথবা দূরবর্তী কোন মসজিদে গিয়ে জুমুআর নামায আদায় করে আসতে হবে, যে মসজিদের খতীব পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ করেন বা পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠ সমর্থন করেন। তথাপি পবিত্র মীলাদ শরীফ ও ক্বিয়াম শরীফ বিরোধী ইমাম-খতীবের পিছনে নামায পড়া জায়িয হবে না।

 

মুহম্মদ রূহুল কুদুস, বগুড়া।

ডা. মুহম্মদ আওক্বাত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

সুওয়াল : মুজাদ্দিদে আ’যম সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১০ম খলীফা এবং খলীফাতুল উমাম সাইয়্যিদুনা হযরত শাহযাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি ১১তম খলীফা এবং ‘আস সাফফাহ’ লক্বব মুবারক উনার অর্থ, ব্যাখা-বিশ্লেষণ ও মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনিই যে সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত মহান খলীফা ‘হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম’ এবং উনার মুবারক উছীলায় যে, অবশ্যই অবশ্যই বর্তমান যামানায় সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠিত হবে এ সম্পর্কে দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

জাওয়াব :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর-২৫)

‘সাইয়্যিদুল খুলাফা মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি বাংলাদেশ তো অবশ্যই; এমনকি সারা পৃথিবীতে, সারা কায়িনাতে সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক প্রতিষ্ঠা করবেনই করবেন ইনশাআল্লাহ।’ সুবহানাল্লাহ :

পঞ্চম প্রমাণ:

আমরা জানি, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর এই পর্যন্ত কোন খলীফা বা সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের মধ্য থেকে কেউ সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করেননি এবং সর্বশেষ ইমাম ও ১২তম খলীফা হযরত ইমাম মহাদী আলাইহিস সালাম তিনিও করবেন না।

কারণ সম্মানিত ছহীহ হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে স্পষ্টভাবে রয়েছে যে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি প্রকাশ পেয়ে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে করতে যখন মোটামোটি একটা পর্যায় পৌঁছবেন তখন দাজ্জাল প্রকাশ পাবে। দাজ্জাল বিশাল এলাকা জুড়ে তার কুফরী-শিরকীমূলক কার্যকলাপ চালাতে থাকবে। এক পর্যায়ে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি আসমান থেকে নাযিল হবেন এবং দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তারপর সারা পৃথিবী সম্মানিত মুসলমান উনাদের অধীনে আসবে। তবে এটা হবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত মুবারক; এটা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার খিলাফত নয়। তাহলে এখান থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনিও সারা পৃথিবীব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন না। কারণ দাজ্জাল বিশাল এলাকা নিয়ে তার কুফরী-শিরকীমূলক কার্যকলাপ চালানোর অর্থই হলো; হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার অধীনে তখন সারা পৃথিবী থাকবে না। উদাহরণ স্বরূপ বলা যেতে পারে যে, ধরা যাক আমাদের এই বাংলাদেশ। তার সব কয়টি বিভাগ শাসন করছেন একজন নেককার পরহেযগার ব্যক্তি। আর একটি বিভাগ কুফরী-শিরকীমূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে এক বদকার কাফির। তখন কি বলা যাবে যে, সারা বাংলাদেশ  একজন নেককার পরহেযগার ব্যক্তি উনার অধীনে রয়েছে? আর যদি সারা বাংলাদেশ একজন নেককার পরহেযগার ব্যক্তি উনার অধীনে থেকেই থাকে, তাহলে একটি বিভাগে কেন এক বদকার কাফির কুফরী-শিরকীমূলক কার্যকলাপ চালাচ্ছে? এর মানে বুঝা গেল যে, সারা বাংলাদেশে উক্ত নেককার পরহেযগার ব্যক্তি উনার অধীনে নেই; বরং ছয় ভাগের পাঁচ ভাগ রয়েছে। আর এক ষষ্ঠাংশ রয়েছে এক বাদকার কাফিরের অধীনে।

সুতরাং এখানে যেমন বলা যায় না যে, সারা বাংলাদেশে একজন নেককার পরহেযগার ব্যক্তি উনার শাসনে রয়েছে, ঠিক তেমনিভাবে এটাও বলা যাবে না যে, সারা পৃথিবী হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে থাকবে। তবে এটা বলা যেতে পারে যে, মোটামোটি সারা পৃথিবী তথা পৃথিবীর অধিকাংশ এলাকায় হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক থাকবে। এখন কথা হলো পুরো পৃথিবীই যদি যাহিরীভাবে হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে না থাকে; তাহলে সারা কায়িনাত কিভাবে যাহিরীভাবে উনার সম্মানিত খিলাফত মুবারক উনার অধীনে থাকবে?

অথচ সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার থেকে প্রমাণিত, একজন সুমহান খলীফা আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানার্থে হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ন্যায় সারা পৃথিবীতো অবশ্যই; এমনকি নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কায়িম মাক্বাম হয়ে সীমাহীন প্রতাপ ও ব্যাপকতার সাথে পৃথিবী, পাহাড়, পর্বত, সাগর-মহাসাগর, মরুভূমি, সাত আসমান, সাত যমীন, আরশ, কুর্সী, লৌহ, কলম, জিন, ফেরেশতা, সিদরাতুল মুনতাহা থেকে তাহতাছ ছারা এক কথায় স্বয়ং যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ব্যতীত সারা কায়িনাত বলতে যা বুঝায়, সেই সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত কর্তৃত্ব মুবারক করবেন, সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন। আর তিনি হবেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান আওলাদ তথা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। সুবহানাল্লাহ!

তাহলে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে যেই সুমহান খলীফা আলাইহিস সালাম উনার কথা বলা হয়েছে তিনি ১২তম খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনি নন।

এখন বিষয়টি দিবালোকের ন্যায় অত্যন্ত সুস্পষ্ট হয়ে গেলো যে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করার পর এই পর্যন্ত সম্মানিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ১২জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে ৯জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনারা অতীত হয়েছেন; উনারা কেউ সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করেননি; এমনকি সর্বশেষ তথা ১২তম খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনিও সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফাত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন না।

এখন বলার বিষয় হচ্ছে, ১২ জন মহান খলীফা আলাইহিমুস সালাম উনাদের মধ্য থেকে ৯জন খলীফা অতীত হয়েছেন উনারা কেউই সারা পৃথিবীব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করেননি এবং সর্বশেষ তথা ১২তম খলীফা হযরত ইমাম মাহদী আলাইহিস সালাম তিনিও করবেন না। তাহলে কে সারা পৃথিবীব্যাপী, সারা কায়িনাতব্যাপী সম্মানিত খিলাফত আলা মিনহাজিন নুবুওওয়াহ মুবারক পরিচালনা করবেন?

মূলত সেই সুমহান ব্যক্তিত্ব মুবারকই হচ্ছেন, আমাদের প্রাণের আক্বা, সাইয়্যিদুল খুলাফা, আবুল খুলাফা, আওলাদে রসূল মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি। সুবহানাল্লাহ!

 

মুহম্মদ আবূ মাহমূদ হুসাইন

শান্তিবাগ, ঢাকা

সুওয়াল: বিগত ২৪ ডিসেম্বর ২০১৫ ঈসায়ী তারিখে প্রকাশিত ওহাবী ফিরক¦ার মুখপত্র ‘সত্যবাণী’ ওরফে মিথ্যাবাণী নামক একটি অখ্যাত বুলেটিনে “ঈদে মীলাদুন্নবী বা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্মবার্ষিকী উৎসব ইসলামে নেই।” নামক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। যাতে প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে তাদের কথিত আলিমরা পবিত্র “ঈদে মীলাদুন্নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে যেসকল বক্তব্য প্রদান করে। নি¤েœ তা হুবহু তুলে ধরা হলো। যেমন তারা বলেছে,

(২) “কুরআন হাদিসের কোথাও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী পালনের কথা উল্লেখ নেই।”

(৩)  “মহানবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্ম তারিখ নিয়ে ঐতিহাসিকদের মতবিরোধ থাকলেও আমাদের মাঝ থেকে উনার বিদায় যে ১২ই রবিউল আউওয়াল হয়েছে  এ ব্যাপারে কারো কোনো দ্বিমত নেই।”

(৪) হযরত ছাহাবায়ে কিরাম সত্যিকার রসূল প্রেমিক ছিলেন। কিন্তু তারাতো কখনো রসূল প্রেমিক হওয়ার জন্যে জন্মবার্ষিকী পালন করেছেন বলে প্রমাণ নেই।”

(৫) “বর্তমান  একশ্রেণীর মানুষ হালুয়া রুটির লোভে ইসলামে ঈদে মীলাদুন্্ নবী নামে আরেকটি ঈদ আবিষ্কারে ব্যস্ত রয়েছে। অথচ প্রিয় নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামে দু’ঈদের কথা বলে গেছেন।”  অর্থাৎ ইসলামে দু’ঈদ ব্যতীত আর কোন ঈদ নেই।

এখন আমার সুওয়াল হলো:  উক্ত অখ্যাত বুলেটিনের উল্লেখিত বক্তব্যগুলো কতটুকু কুরআন শরীফ, সুন্নাহ শরীফ সম্মত। দলীল ভিত্তিক বিস্তারিত জাওয়াব দিয়ে আমাদের ঈমান-আমল হিফাযত করবেন বলে আমরা আশাবাদী।

জাওয়াব: পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কে ওহাবী ফিরক¦ার মুখপত্র উক্ত অখ্যাত বুলেটিনে যা লিখেছে তা সম্পূর্ণই পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র সুন্নাহ্্ শরীফ বিরোধী, মনগড়া, দলীলবিহীন, বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমুলক হয়েছে। আমরা ধারাবাহিকভাবে তাদের উল্লেখিত বক্তব্যগুলো খ-ন করে সঠিক ফায়ছালা তুলে ধরবো। ইন্্শাআল্লাহ্্

যেমন, তারা দ্বিতীয়তঃ বলেছে- (২) “কুরআন হাদিসের কোথাও রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী পালনের কথা উল্লেখ নেই।” নাউযুবিল্লাহ্! নাউযুবিল্লাহ্! নাউযুবিল্লাহ্!

তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে প্রথমত: বলতে হয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের কোথায়ও নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করতে নিষেধ করা হয়েছে কি? যদি নিষেধ না থাকে তাহলে তারা নিষেধ করার কে? সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত যে বিষয়কে নিষেধ করেনি সে বিষয়কে নিজেদের ধারণায় বা খেয়ালখুশির বশবর্তী হয়ে নিষেধ করা বা হারাম, বিদয়াত বলা কুফরী।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

يايها الذين امنوا لاتحرموا طيبت ما احل الله لكم ولاتعتدوا ان الله لا يحب الـمعتدين

অর্থ: হে ঈমানদারগণ! তোমরা হারাম করো না সে সকল পবিত্র বস্তুকে, যা মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের জন্য হালাল করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে তোমরা সীমালঙ্ঘণ করো না। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি সীমালঙ্ঘণকারীকে পছন্দ করেন না। (পবিত্র সূরা মায়িদাহ শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৭)

কাজেই, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার ঘোষিত কোন হালাল বিষয়কে হারাম করা এবং কোন হারাম বিষয়কে হালাল করা উভয়টাই কুফরী। এ কুফরী থেকে বেঁচে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয।

দ্বিতীয়তঃ বলতে হয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে  নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা, মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের কথা অবশ্যই উল্লেখ আছে। কেননা, সৃষ্টিকুলের প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে শ্রেষ্ঠতম নিয়ামত ও রহমত তথা অনুগ্রহ হচ্ছেন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি। সুবহানাল্লাহ! তাই উনাকে লাভ করার কারণে কায়িনাতের সকলের জন্য খুশি প্রকাশ করা অপরিহার্য কর্তব্য। মহান আল্লাহ পাক তিনি আদেশ মুবারক করেছেন-

واذكروا نعمت الله عليكم

অর্থ: মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে তোমাদের প্রতি যে নিয়ামত রয়েছে উক্ত নিয়ামত উনার স্মরণ করো বা শুকরিয়া আদায় করো। (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩১)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, তোমাদেরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি যে নিয়ামত দিয়েছেন তথা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত। তাই উনার আলোচনা করা, উনার আগমন উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করা উক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারা ফরয সাব্যস্ত হয়।

মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন-

قل بفضل الله وبرحمته فبذالك فليفرحوا هو خير مـما يجمعون.

অর্থ: “ (হে আমার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি (উম্মতদেরকে) বলে দিন, মহান আল্লাহ পাক উনার ফদ্বল ও রহমত স্বরূপ আপনাকে যে তারা পেয়েছে, সেজন্য তাদের কর্তব্য তথা ফরয হচ্ছে খুশি প্রকাশ করা। এই খুশি প্রকাশের ইবাদত মুবারক হবে তাদের সমস্ত ইবাদত বা আমল অপেক্ষা উত্তম বা শ্রেষ্ঠ।” (পবিত্র সূরা ইউনুস শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৫৭-৫৮)

এই পবিত্র আয়াত শরীফ উনার দ্বারাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে পাওয়ার কারনেই অর্থাৎ উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উপলক্ষে খুশী প্রকাশ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

عن حضرت ابى قتادة رضى الله تعالى عنه قال سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن صوم الاثنين فقال فيه ولدت وفيه انزل على

অর্থ: হযরত আবূ ক্বাতাদহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তথা সোমবার রোযা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি উত্তরে বললেন, ঐ দিনেই অর্থাৎ ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফে আমি বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ করেছি। এবং ঐ দিনেই আমার উপর পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করা হয়েছে। কাজেই, তোমরা ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ তথা সোমবার রোযা রাখো। (মিশকাত শরীফ ১৭৯ পৃষ্ঠা)

এই পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারাও প্রমাণিত হয় যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উদযাপন করা উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করা জায়িয রয়েছে।

তৃতীয়ত বলতে হয় যে, পবিত্র কুরআন শরীফ, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে  নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা, মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের কথা অবশ্যই উল্লেখ আছে  বলেই হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহুম, হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিম উনারা নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ,  হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি মুহব্বতের নিদর্শন স্বরূপ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন বা উদযাপন করেছেন।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه انه كان يحدث ذات يوم فى بيته وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لقوم فيستبشرون ويحمدون الله ويصلون عليه صلى الله عليه وسلم فاذا جاء النبى صلى الله عليه وسلم قال حلت لكم شفاعتى .

অর্থ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি একদা উনার নিজগৃহে সমবেত ছাহাবীগণ উনাদেরকে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বিলাদত শরীফ উনার ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছিলেন। এতে শ্রবণকারীগণ আনন্দ ও খুশি প্রকাশ করছিলেন এবং মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা তথা তাসবীহ-তাহলীল পাঠ করছিলেন এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উপর ছলাত বা দুরূদ শরীফ পাঠ করছিলেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন এবং (পবিত্র মীলাদ শরীফ পাঠের অনুষ্ঠান দেখে) বললেন, “আপনাদের জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব।” সুবহানাল্লাহ! (আত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, মাওলূদুল কাবীর, দুররুল মুনাযযাম, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ইশবাউল কালাম ফী ইছবাতিল মাওলিদি ওয়াল ক্বিয়াম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী মীলাদে আহমদী)

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عن حضرت ابى الدرداء رضى الله تعالى عنه انه  مر مع النبى صلى الله عليه وسلم الى بيت حضرت عامر الانصارى رضى الله عنه وكان يعلم وقائع ولادته صلى الله عليه وسلم لابنائه وعشيرته ويقول هذا اليوم هذا اليوم فقال عليه الصلوة والسلام ان الله فتح لك ابواب الرحمة والـملائكة عليهم السلام كلهم يستغفرون لك من فعل فعلك نجى نجتك .

অর্র্থ: “হযরত আবূ দারদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত আছে যে, একদা তিনি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে হযরত আমির আনছারী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখতে পেলেন যে, তিনি উনার সন্তান-সন্ততি এবং আত্মীয়-স্বজন, জ্ঞাতি-গোষ্ঠী, পাড়া-প্রতিবেশীদেরকে নিয়ে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত বিলাদত শরীফ উপলক্ষে খুশি প্রকাশ করে সম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার ঘটনাসমূহ শুনাচ্ছেন এবং বলছেন, এই দিবস, এই দিবস অর্র্থাৎ এই দিবসে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যমীনে তাশরীফ এনেছেন। এমন সময় নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সেখানে উপস্থিত হলেন। (তিনি যখন উপস্থিত হলেন তখন সমবেত সবাই দাঁড়িয়ে উনাকে সালাম পেশ করতঃ অভ্যর্থনা বা স্বাগত জানিয়ে আসনে বসালেন।) তিনি সম্মানিত মীলাদ শরীফ উনার অনুষ্ঠান এবং সম্মানিত বিলাদত শরীফ উনার কারণে খুশি প্রকাশ করতে দেখে উনাদেরকে উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি আপনাদের জন্য রহমতের দরজা উন্মুক্ত করেছেন এবং সমস্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা আপনাদের জন্য মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রার্থনা করছেন এবং যে কেউ আপনাদের মতো এরূপ কাজ করবে, আপনাদের মতো তারাও রহমত, মাগফিরাত এবং নাজাত লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুত তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান নাযীর, সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদে মুস্তফা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, হাক্বীক্বতে মুহম্মদী ও মীলাদে আহমদী পৃষ্ঠা- ৩৫৫)

এমনিভাবে পরবর্তী সময়ে পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালনের ধারা অব্যাহত বা জারী রেখেছেন হযরত ইমাম-মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা। যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্বসমাদৃত ও সুপ্রসিদ্ধ “আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম” কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, বিশিষ্ট তাবিয়ী, ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত তরীক্বত হযরত হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الـحسن البصرى رحمة الله عليه وددت لو كان لى مثل جبل احد ذهبا فانفقته على قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم .

অর্র্থ: ‘আমার একান্ত ইচ্ছা হয় যে, আমার যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণ থাকতো তাহলে তা পবিত্র মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে ব্যয় করতাম।’ সুবহানাল্লাহ!

উক্ত কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে, শাফিয়ী মাযহাব উনার ইমাম হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الامام الشافعى رحمة الله عليه من جمع لمولد النبى صلى الله عليه وسلم اخوانا وهيا طعاما واخلى مكانا وعمل احسانا وصار سببا لقرائته بعثه الله يوم القيامة مع الصديقين والشهداء والصالحين ويكون فى جنات النعيم .

অর্র্থ: ‘যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন উপলক্ষে লোকজন একত্রিত করলো, খাদ্য তৈরি করলো, জায়গা নির্দিষ্ট করলো এবং এ জন্য উত্তমভাবে তথা পবিত্র সুন্নাহ ভিত্তিক আমল করলো, উক্ত ব্যক্তিকে মহান আল্লাহ পাক তিনি হাশরের দিন ছিদ্দীক্ব, শহীদ ছলিহীনগণ উনাদের সাথে উঠাবেন এবং উনার ঠিকানা হবে জান্নাতুন  নায়ীমে।’ সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)

হযরত ইমাম মারূফ কারখী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت الـمعروف الكرخى رحمة الله عليه من هيا طعاما لاجل قرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم وجمع اخوانا واوقد سراجا ولبس جديدا وتبخر وتعطر تعظيما لـمولد النبى صلى الله عليه وسلم حشره الله يوم القيامة مع الفرقة الاولى من النبين وكان فى اعلى عليين .

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ তথা ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপলক্ষে খাদ্যের আয়োজন করে, অতঃপর লোকজনকে জমা করে, মজলিসে আলোর ব্যবস্থা করে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন নতুন পোশাক পরিধান করে, ধুপ ও আতর অর্থাৎ সুঘ্রাণ ও সুগন্ধি ব্যবহার করে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রথম কাতারে হাশর করাবেন এবং সে জান্নাতে সুউচ্চ মাক্বামে অধিষ্ঠিত হবে।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)

হযরত ইমাম সাররী সাকতী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন-

قال حضرت السر سقتى رحمة الله عليه من قصد موضعا يقرأ فيه مولد النبى صلى الله عليه وسلم فقد قصد روضة من رياض الجنة لانه ما قصد ذلك الموضع الا لمحبة النبى صلى الله عليه وسلم وقال صلى الله عليه وسلم من احبنى كان معى فى الجنة

অর্র্থ: “যে ব্যক্তি পবিত্র সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করার জন্য স্থান নির্দিষ্ট করলো, সে যেনো নিজের জন্য জান্নাতে রওযা বা বাগান নির্দিষ্ট করলো। কেননা সে তা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বতের জন্যই করেছে। আর মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমাকে ভালবাসবে সে আমার সাথেই জান্নাতে থাকবে।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)

মুসলমানদের মধ্যে পৃথিবীতে যিনি সবচেয়ে বেশি কিতাব লিখেছেন, যিনি উনার যামানার মুজাদ্দিদ এবং সুলত্বানুল আরিফীন ছিলেন, তিনি হচ্ছেন হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহমতুল্লাহি আলাইহি। তিনি বলেন-

قال حضرت سلطان العارفين الامام جلال الدين السيوطى قدس الله سره ونور ضريحه فى كتابه الـمسمى الوسائل فى شرح الشمائل ما من بيت او مسجد او محلة قرئ فيه مولد النبى صلى الله عليه وسلم الا حفت الملائكة ذلك البيت او المسجد او الـمحلة وصلت الـملائكة على اهل ذلك الـمكان وعمهم الله تعالى بالرحمة والرضوان واما الـمطوقون بالنور يعنى جبرائيل وميكائيل واسرافيل وعزرائيل عليهم السلام فانهم يصلون على من كان سببا لقرائة مولد النبى صلى الله عليه وسلم فاذا مات هون الله عليه جواب منكر ونكير ويكون فى مقعد صدق عند مليك مقتدر .

অর্র্থ: “যে কোন ঘরে অথবা মসজিদে অথবা মহল্লায় পবিত্র মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপন করা হয়, সে স্থান অবশ্যই মহান আল্লাহ পাক উনার হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম বেষ্টন করে নেন। আর উনারা সে স্থানের অধিবাসীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করতে থাকেন। আর মহান আল্লাহ পাক উনাদেরকে স্বীয় রহমত ও সন্তুষ্টির আওতাভুক্ত করে নেন। আর নূর দ্বারা সজ্জিত প্রধান চার ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম অর্থাৎ হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম, হযরত মীকায়ীল আলাইহিস সালাম, হযরত ইসরাফীল আলাইহিস সালাম ও হযরত আযরায়ীল আলাইহিস সালাম পবিত্র মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উদযাপনকারীগণের উপর ছলাত-সালাম পাঠ করেন। যখন উনারা ইনতিকাল করেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনাদের জন্য হযরত মুনকার-নাকীর আলাইহিমাস সালাম উনাদের সুওয়াল-জাওয়াব সহজ করে দেন। আর উনাদের অবস্থান হয় মহান আল্লাহ পাক উনার সন্নিধানে ছিদক্বের মাক্বামে।” সুবহানাল্লাহ! (আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম)

চতুর্থত: তাদের উক্ত বক্তব্যের জাওয়াবে বলতে হয় যে, মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  অর্থই হচ্ছে আখিরী নবী, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছীফত বর্ণনা করা। আর উনার ছানা-ছীফতের মূল উৎসই হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

كان خلقه القران.

অর্থ: “নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার চরিত্র মুবারকই হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ।” (তাফসীরে মাযহারী)

পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- محمد رسول الله

অর্থ: “মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল।” (পবিত্র সূরা ফাতাহ্  শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ  ২৯)

ولكن رسول الله وخاتم النبين.

অর্থ: “বরং তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার রসূল এবং শেষ নবী।” (পবিত্র সূরা আ হযাব শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ  ৪০)

ورفعنالك ذكرك.

অর্থ: “আমি (মহান আল্লাহ পাক) আপনার আলোচনাকে বুলন্দ করেছি।” (পবিত্র সূরা আলাম নাশরাহ্ শরীফ; পবিত্র আয়াত শরীফ ৪)

এরূপ অনেক অনেক আয়াত শরীফ উনার মধ্যে আলাদাভাবে আখিরী নবী, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছীফত, ফযীলত-মর্তবা প্রকাশ্যভাবে বর্ণনা তো করা হয়েছেই, তবে মুফাস্সিরীনে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনারা বলেছেন, মূলতঃ কুরআন শরীফ উনার প্রতিটি পবিত্র পারা শরীফ, পবিত্র সূরা শরীফ, পবিত্র রুকু শরীফ, পবিত্র আয়াত শরীফ, পবিত্র কালিমা শরীফ, পবিত্র হরফ শরীফ এমনকি পবিত্র নুক্তা শরীফ ও পবিত্র হরকত শরীফেও আখিরী নবী, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছীফত বর্ণনা করা হয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!

আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু  তিনি বলেন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, ক্বিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে কবর হতে উত্থিত করা হবে, তখন আমিই সর্বপ্রথম পবিত্র রওযা শরীফ হতে বের হয়ে আসব। আর যখন লোকেরা দলবদ্ধ  হয়ে আল্লাহ্ পাক উনার দরবারে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হবে, তখন আমিই হব তাদের অগ্রগামী ও প্রতিনিধি। আর আমিই হব তাদের মুখপাত্র, যখন তারা নীরব থাকবে। আর যখন তারা আটকা পড়বে, তখন আমি হব তাদের সুপারিশকারী। আর যখন তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, তখন আমি তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করব। মর্যাদা এবং কল্যাণের চাবিসমূহ সেই দিন আমার পবিত্র হাতে থাকবে। আল্লাহ পাক উনার প্রশংসার ঝান্ডা সেই দিন আমার পবিত্র হাতেই থাকবে। আমার পরওয়ারদিগারের কাছে আদম সন্তানদের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান ও সম্মানিত ব্যক্তি হবো। সেই দিন হাজার হাজার খাদিম আমার চারপাশে ঘোরাফেরা করবে। যেন তারা সুরক্ষিত ডিম কিংবা বিক্ষিপ্ত মুক্তা। (পবিত্র তিরমিযী শরীফ, পবিত্র দারেমী শরীফ)

তাছাড়া স্বয়ং সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার উপস্থিতিতে হযরত হাস্সান বিন সাবিত রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু মসজিদে নববী শরীফে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার শানে না’ত শরীফ, কাছীদা শরীফ, কবিতা শরীফ আবৃত্তি করে শুনাতেন।

উল্লেখ্য, স্বয়ং আল্লাহ পাক নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার ছানা-ছিফত মুবারক করেছেন, হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনারাও করেছেন। আর পূর্ববর্তী হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালামগণ উনারাও আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছানা-ছিফত করেছেন। এমনকি স্বয়ং হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজেই আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের ছানা-ছীফত মুবারক করেছেন এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদেরকেও আনুষ্ঠানিকভাবে উনার ছানা-ছীফত মুবারক করার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। যার কারণে হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনারাও আনুষ্ঠানিকভাবে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেছেন।

এর অনুসরণে পরবর্তীতে ইমাম-মুজতাহিদ এবং হযরত আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারাও নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ্ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  উনার আনুষ্ঠানিকভাবে ছানা-ছিফত মুবারক বর্ণনা করেন যা জন্মবার্ষিকী তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ উনার প্রচলিত রূপ লাভ করে।

সুতরাং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা, মুহব্বত প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী তথা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ পবিত্র ঈদে মীলাদে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ  পালনের কথা এবং উনার আনুষ্ঠানিকতা সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার মধ্যে এত সুস্পষ্ট বর্ণনা থাকার পরও যে ব্যক্তি বলে “পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদিছ শরীফ উনাদের কোথাও নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনের জন্য জন্মবার্ষিকী পালনের কথা উল্লেখ নেই।” সে চরম জাহিল ও গোমরাহ ব্যতীত অন্য কিছু নয়।

{দলীলসমূহ : (১) তাফসীরে আহকামুল কুরআন জাস্সাস, (২) তাফসীরে রূহুল মায়ানী, (৩) তাফসীরে রূহুল বয়ান, (৪) তাফসীরে কুরতুবী, (৫) তাফসীরে কবীর, (৬) তাফসীরে তাবারী, (৭) তাফসীরে যাদুল মাছীর, (৮) মাযহারী, (৯) তাফসীরে ইবনে কাছীর, (১০) তাফসীরে খাযেন, (১১) তাফসীরে বাগবী, (১২) তাফসীরে দুররুল মনছূর, (১৩) তাফসীরে ইবনে আব্বাস, (১৪) তিরমিযী শরীফ, (১৫) দারিমী শরীফ, (১৬) মিশকাত শরীফ, (১৭) শরহে তিরমিযী, (১৮) মিরকাত শরীফ, (১৯) আশয়াতুল লুময়াত শরীফ, (২০) লুময়াত শরীফ, (২১) শরহুত্ ত্বীবী শরীফ, (২২) তালিকুছ্ ছবীহ্, (২৩) মুযাহিরে হক্ব, (২৪) কিতাবুত্ তানবীর ফী মাওলিদিল বাশীর ওয়ান্ নাযীর, (২৫) সুবুলুল হুদা ফী মাওলিদিল মুস্তফা, (২৬) মাওলুদুল কবীর, (২৭) দুররুল মুনাজ্জাম, আন নি’মাতুল কুবরা আলাল আলাম ইত্যাদি।}

সুওয়াল-জাওয়াব বিভাগ

সুওয়াল: যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ উনার মাধ্যমে আমরা জানতে পেরেছি যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া ছিল না। কিন্তু কয়েকদিন পূর্বে আমাদের এলাকায় এক ওয়াজ মাহফিলে জনৈক বক্তা তার বক্তব্যে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টিকে অস্বীকার করে এবং বলে যে, “ছায়া ছিলনা” সম্পর্কিত বর্ণনাসমূহ নাকি মিথ্যা ও বানোয়াট। নাউযুবিল্লাহ! এখন জানার বিষয় হচ্ছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছায়া না থাকার বিষয়টি যারা অস্বীকার করবে তাদের ব্যাপারে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত উনার কি ফায়ছালা? আর ছায়া ছিল না সংক্রান্ত বর্ণনাসমূহ কোন পর্যায়ের? বিস্তারিতভাবে দলীলসহকার জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: কামিল শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত হওয়াকে কেউ কেউ ফরয বলেন, কেউ কেউ সুন্নত বলেন, আবার অনেককে মুস্তাহাব বলতেও শোনা যায়। প্রকৃতপক্ষে কোনটি সঠিক? দলীল সহকারে জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুওয়াল: আপনারাই কেবল বলেন যে, ক্বলবী যিকির করা ফরয। এছাড়া কোন ইমাম, খতীব, ওয়ায়িয, মাওলানা, মুফতী, মুহাদ্দিছ, মুফাসসিরে কুরআন তাদের কাউকে তো ক্বলবী যিকির ফরয বলতে শোনা যায় না। যার কারণে তারা নিজেরা যেমন ক্বলবী যিকির করে না তদ্রƒপ তাদের যারা অনুসারী সাধারণ মুসলমান ও মুছল্লীবৃন্দ তারাও ক্বলবী যিকির সম্পর্কে জানে না এবং ক্বলবী যিকির করেও না। এক্ষেত্রে ক্বলবী যিকির যারা করছে না, তাদের আমলের কোন ত্রুটি বা ক্ষতি হবে কিনা? দলীলসহ জানতে ইচ্ছুক।

সুওয়াল: উছমান গণী ছালেহী মৌলুভী নামের এক ব্যক্তির বক্তব্য হচ্ছে যে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন দিন সবুজ পাগড়ী পরিধান করেননি এবং সবুজ পাগড়ী সম্পর্কে কোন হাদীছ শরীফও বর্ণিত নেই। উক্ত মৌলভীর বক্তব্য কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।