সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪২ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

সংখ্যা: ২৭২তম সংখ্যা | বিভাগ:

আজমীর শরীফে আগমন-৪

চোখের পলকের মধ্যে কি ঘটে গেল তা কেউ বুঝেনি। এতো বড় ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটলো এতো অল্প সময়ের মধ্যে। রাজপুত ও অন্যান্য গোত্রের হিন্দুরা যখন দেখলো শাদীদেও হিন্দুশাস্ত্র ত্যাগ করে সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করলো, তখন তাদের আর বুঝতে বাকী রইলো না যে, পবিত্র সম্মানিত দ্বীন ইসলামই হচ্ছেন সত্য ও সনাতন ধর্ম। হিন্দু ধর্ম মনগড়া, অসার ও মিথ্যা।

কাজেই, হিন্দুরা দলে দলে এসে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার হাত মুবারকে বাইয়াত হয়ে পবিত্র ও সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করতে লাগলো। বর্ণিত আছে যে, ভারত বর্ষে প্রায় এক কোটি লোক উনার হাত মুবারকে বাইয়াত গ্রহণ করেছেন, মুসলমান হয়েছেন।

পৃথ্বিরাজ নিজে আসন ছেড়ে রাগে ও ক্ষোভে নিজের চুল ছিড়তে লাগলো। সেনাপতি ও মন্ত্রী পরিষদ প্রবোধ দিয়ে বললো, মহারাজ! ধৈর্যহারা হওয়ায় কারণ নেই। আমরা তো তোমার সাথেই আছি। তুমি আদেশ করলে আমরা এখনই গিয়ে দরবেশ উনাদেরকে চিরতরে বিদায় করে দিব।

পৃথ্বিরাজ বললো, তাহলে আর দেরি না করে এখনই গিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটাও। পৃথ্বিরাজ একজন সেনাধক্ষের নেতৃত্বে কিছু বাছাই করা সেনা আনা সাগরের দিকে পাঠালো। এখবর পেয়ে কয়েকজন নব মুসলিম রাজপুত এসে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললো, হুযূর! আপনি আপাতত এ স্থান ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যান, যাতে সৈন্যরা আপনাকে দেখতে না পায়। তিনি বললেন, চিন্তা করো না। একটু অপেক্ষা করো এবং দেখতে থাক। জেনে রাখ, মুসলমানগণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ব্যতীত অন্য কাউকে ভয় করে না। (খাজা গরীবে নেওয়াজ উনার পূর্ণাঙ্গ জীবনী-১৩৯)

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি একটি পাত্র হতে কিছু পানি পান করলেন। অবশিষ্ট পানি মুবারক শাদীদেওকে পান করতে দিলেন। ঐ পানি মুবারক পান করার সাথে সাথে তার হৃদয়ের কালিমা দূর হলো। অন্তর আয়নার ন্যায় স্বচ্ছ ও পরিষ্কার হলো। অল্পদিনের মধ্যেই শাদীদেও একজন উঁচু তবকার (স্তর) বিখ্যাত অধ্যাত্মিক শক্তিসম্পন্ন ওলীআল্লাহ হয়ে গেলেন। সুবহানাল্লাহ!

উল্লেখ্য যে, কেউ কেউ বলেন, শাদীদেও এর প্রকৃত নাম ছিলো রামদেব। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করার পর সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি তার নাম মুহম্মদ সাদী রেখেছেন। কিন্তু জন সাধারণ তাকে শাদীদেও বা শাদীদেব নামে ডেকেছিল।

আনা সাগরের পানি গায়েব ও হিন্দু যোগী, রাজপুতদের সম্মানিত ইসলাম গ্রহণ

শাদীদেও বা শাদীদেবের সম্মাতিন ইসলাম গ্রহণে পৃথ্বিরাজ ভেঙ্গে পরলো। তাদের সকল আশা ভরসা ধুলিস্যাৎ হলো। সে শোকে দুঃখে মুহ্যমান হলো। তার মন্ত্রী পরিষদ অভয় দিয়ে বললো, মহারাজ! সাহস হারা হবার কারণ নেই। এখনো অনেক পথ আছে। তা অবলম্বন করা যাবে। তারা এটাও  বললো যে, আনা সাগরের পানি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে মুসলমান দরবেশগণ কিংকর্তব্য বিমুঢ় হয়ে এ স্থান ত্যাগ করতে বাধ্য হবে। পৃথ্বিরাজ তখন সারা রাজ্যময় এ মর্মে ফরমান জারী করলো যে, আজ থেকে মুসলমান দরবেশগণের জন্য আনা সাগরের পানি নিষিদ্ধ। উনারা কোন কাজেই এই পানি ব্যবহার করতে পারবেন না।

পৃথ্বিরাজের আদেশ পালন করার জন্য পাহারাদার সৈন্যরা সদা সতর্ক রইলো। আর এরই মধ্যে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ অযু করার জন্য আনা সাগরে গেলেন। পাহারাদাররা উনাকে পানির ঘাটে যেতে দিলো না। অগত্যা তিনি ফিরে এসে বিষয়টি অবহিত করলে সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, সাইয়্যিদুনা হযরত গরীবে নেওয়াজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার  বুঝতে আর বাকী রইলো না যে, পৃথ্বিরাজের এটা নতুন চক্রান্ত। তাই তিনি উচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য একজন বয়স্ক খাদিমকে ডাক দিলেন। মুবারক নির্দেশ দিলেন যে, আপনি আমার এই কাঠের পেয়ালাটি নিয়ে আনা সাগর থেকে পানি নিয়ে আসুন।

খাদিম সাহেব তিনিও বাঁধা প্রাপ্ত হলেন। পাহারাদারকে বললেন, আমি গোসল করবো না। অযুও করবো না। শুধু এই কাঠের পেয়ালায় এক পেয়ালা পানি নিবো। এরপর আর কখনো পানির জন্য এখানে আসবো না। তোমাদেরকে বিরক্তও করবো না।

পাহারাদার রাজী হলো। বললো, এবারের জন্য পানি নিন। এরপর কখনো আর আসবেন না। খাদিম ছাহিব বললেন, ঠিক আছে। খাদিম ছাহিব সেই মুবারক পাত্র ভর্তি করে পানি নিলেন। আনা সাগরের সিঁড়ি বেয়ে উঠে আসতেই হৈ চৈ পড়ে গেল। আনা সগরের পানি গায়েব। আনা সাগর পানি শুন্য হয়ে পড়েছে। কেউ বিশ্বাস করতে পারছে না যে, যেখানে একটু আগে আনা সাগর পানিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। এখন তা পানি শুন্য। মাটি ছাড়া আর কিছুই চোখে পড়ছে না। সবাই বিস্ময়ে পানিবিহীন আনা সাগরের দিকে তাকিয়ে রইলো।

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩৭ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৫৩ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৫৭-মুহম্মদ সা’দী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-২০৭ -মুহম্মদ সা’দী

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪৮ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী) ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা (১)