স্বাধীনতাউত্তর কোনো সরকারই এ যাবৎ ‘চিকেনস নেক’-এর গুরুত্ব বুঝেনি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের উপর মহানির্ভরশীল ভারত।য বাংলাদেশের উপর ভারতের প্রাধান্যের পরিবর্তে বাংলাদেশই ভারতের উপর প্রাধান্যের প্রভাব বিস্তারের বিশেষ যোগ্যতা রাখে।

সংখ্যা: ২৬৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

বাংলাদেশের দুই নদীপথে খননকাজ করার ব্যাপারে ভারতের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। দুটি নদীপথের ৪৭০ কিলোমিটার খনন করা হবে। এতে ব্যয় হবে ৩০৫ কোটি রুপি। যার ২৪৪ কোটি রুপিই ঋণ হিসেবে দেবে ভারত। চলতি ২০১৭ সালেই দরপত্র আহ্বান করা হবে। সেখানে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের প্রতিষ্ঠানও অংশ নেবে।

যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ থেকে লালমনিরহাটের দইখাওয়া পর্যন্ত ১৭৫ কিলোমিটার এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থেকে সিলেটে জকিগঞ্জ পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীতে ২৯৫ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে।

চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশে খনন কাজ বা ড্রেজিং শুরু হবে ২০১৮ সালের ফ্রেব্রুয়ারি-মার্চে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি ওই খনন প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা। তা শেষ হলে ভারতের বারানসি থেকে দেশটির জাতীয় নৌপথ- ১, ২ ও ১৬-তে আসা যাওয়া একেবারেই সহজ হয়ে যাবে। গঙ্গা, ভাগীরথী ও হুগলি নিয়ে গঠিত ভারতের জাতীয় নৌপথ-১। আসাম রাজ্যের ব্রহ্মপুত্রের নদীপথ নিয়ে গঠিত জাতীয় নৌপথ-২ এবং আসামে কাছাড় জেলায় বারাক নদীতে লখিপুর থেকে ভাঙাবাজার পর্যন্ত নদীপথ নিয়ে গঠিত জাতীয় নৌপথ-১৬।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, বাংলাদেশের ওই দুই নদীপথে খনন বা নাব্যতা ধরে রাখার ব্যাপারে ভারতের আগ্রহ কেন, তার কারণ অনুসন্ধান করা বিশেষ জরুরী।

দৈনিক আল ইহসান শরীফের পর্যালোচনায় জানা গেছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ভারতের একমাত্র অবলম্বন শিলিগুঁড়ি করিডোর।

পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ওই এলাকার পূর্বে নেপাল, পশ্চিমে বাংলাদেশ। মাঝখানে খুব সঙ্কীর্ণ একটি অংশ ভারতের নিয়ন্ত্রণে। এতই সঙ্কীর্ণ অংশ সেটি যে একটু কল্পনার চোখে দেখলে ম্যাপে তাকে মুরগির ঘাঁড়ের মতো দেখায়। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে তাদের দেশের বাকি অংশের যোগসূত্র হিসেবে অবস্থান করছে ওই এলাকা। শিলিগুঁড়ি, মাটিগাড়া, নকশালবাড়ি, ফাঁসিদেওয়া এবং চোপড়া ও ইসলামপুরের কিছুটা অংশ এই ‘চিকেনস নেক’-এর মধ্যে পড়ছে। এই অংশকে শিলিগুঁড়ি করিডরও বলা হয়। কারণ উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে তাদের দেশের বাকি অংশের সড়ক ও রেল যোগাযোগের জন্য একমাত্র ভরসা ওই সঙ্কীর্ণ ভূখ-। অনেকটা যেন করিডরের মতো শিলিগুঁড়ি ছুঁয়ে গিয়েছে, তাই এটি শিলিগুঁড়ি করিডর। এই ভূখণ্ডের প্রস্থ মাত্র ২১ থেকে ৪০ কিলোমিটার। এর দু’পাশে নেপাল ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য অরুণাচল, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরাকে একত্রে সেভেন সিস্টার বলা হয়। ভারতের মূল অংশ থেকে এই রাজ্যগুলোতে যাতায়াত দুঃসাধ্য একটা ব্যাপার। যেতে হলে সেই ‘চিকেনস নেক’ দিয়ে ঘুরে আসতে হবে। তাই বাংলাদেশ মহারত্ন ভারতের কাছে।

প্রসঙ্গত, বিশেষজ্ঞ মহল উদাহারণ দেন- ধরা যাক, ভারতীয়রা পাকিস্তানে আক্রমণ করলো, সাথে সাথে ভারত-ভুটান ও চীনের ত্রি-জংশন হিসেবে পরিচিত ‘চুম্বি ভ্যালি’ থেকে চীনা বাহিনী এসে যদি আক্রমণ করে ‘চিকেনস নেক’ কেটে ফেলে অর্থাৎ আলাদা করে দেয়, তাহলে ভারতের জন্য মহাবিপর্যয়। কারণ তখন পুরো সেভেন সিস্টার আলাদা! সাথে সাথেই দেখা যাবে সেভেন সিস্টারের প্রতিটি রাজ্যেই স্বাধীনতা ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। আর কেউ না করুক উলফা ও নাগা বাহিনী সাথে সাথেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিবে এবং তারা অনেকদিন ধরেই স্বাধীনতা সংগ্রামের কাজে নিয়োজিত।

অনেক দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে রসদ পৌঁছানো, জরুরী মুহূর্তে যোগাযোগ রক্ষা বা আক্রমণ করা তখন ভারতের কেন্দ্র থেকে অসম্ভব হয়ে পড়বে, যার দরুন বাংলাদেশের করিডোর তাদের দরকার। এই সমস্যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি এই রাজ্যগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না ভারত। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরেই এই রাজ্যগুলোতে বিভিন্ন স্বাধীনতাকামী সংগঠন নিজেদের স্বাধীনতার জন্য আন্দোলন সংগ্রাম করে যাচ্ছে। ভারতের শাসন থেকে নিজেদের মুক্ত করতে দীর্ঘদিন ধরেই তারা এ দাবি করে আসছে।

তবে অভিজ্ঞমহল মনে করে যে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হোক বা না হোক, বাংলাদেশও ভারতের জন্য মহা বিশেষ কিছু। কিন্তু এই সুবর্ণ সুযোগ এযাবৎ কোনো সরকারই কাজে লাগাতে পারেনি। অথচ আজ যদি আমাদের স্থানে অন্য কোনো দেশ, যেমন- খোদ ভারতই যদি থাকতো, তাহলে এতো দিনে ‘চিকেনস নেক’ অঞ্চলে বিদ্রোহ উসকে দিয়ে, এসপিওনাজের মাধ্যেমে চীনকে প্রলুদ্ধ করে ‘চিকেনস নেক’ আলাদা করার চাপ দিয়ে বাণিজ্য সমতা ও তিস্তা চুক্তিসহ অনেক কিছু আদায় করে নিতো।

কিন্তু এই লাইনে কোনো চিন্তা আমাদের দেশে সরকারের নেই। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, ভারত অনেক বড় দেশ, কিন্তু বাস্তবে ভারত অনেক অসহায়! কারণ ভারতের সীমান্ত বহু দিক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও গোলোযোগপূর্ণ। একদিকে পাকিস্তান, যা ভারতের চির শত্রু, আরেকদিকে চীন সেও চরম শত্রু, আরেকদিকে আফগানিস্তান, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের কিছু অংশ। নেপালের সাথে এখন ভারতের সম্পর্ক ভালো নেই। তার উপর আছে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল! সব কিছু মিলিয়ে বাংলাদেশই সবসময় ভারতকে কৌশলগত চাপে রেখে সুবিধা আদায় করতে পারতো।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতাসীন সরকারের কিছু নীতি নির্ধারক প্রকাশ্যেই বলে থাকে যে, ভারত অনেক বড় দেশ। তাই তাকে সমঝে চলতে হবে। নাঊযুবিল্লাহ! কিন্তু দৈনিক আল ইহসান শরীফের পর্যালোচনায় প্রতিভাত হয় যে, ভারতের এই তথাকথিত বড়ত্ব নিছক অন্তঃসারশূন্য। আর সুবিধাগত ভৌগোলিকভাবে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশই উল্টো ভারতের উপর কর্তৃত্ব করতে পারবে। শিলিগুঁড়ি করিডোর ছাড়া ভারত ট্রানজিট, ট্রানশিপমেন্ট এবং বহুমুখী বাণিজ্যের কারণে ভারত একান্তভাবেই বাংলাদেশের উপর অসহায়ের মতো নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা বাদ দিলে ভারত বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে। বাংলাদেশের গুরুত্ব, তাৎপর্য, শক্তিমত্তা তখন হাক্বীক্বীভাবে প্রকাশ পাবে।

-আল্লামা মুহম্মদ আশরাফুল মাহবূবে রব্বানী, ঢাকা

মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নিকট খোলা চিঠি দেশটা কী মুসলমানের, না ঐ নিকৃষ্ট সংস্কৃতিবাদীদের? দেশে কী ১৫ কোটি মুসলমান প্রাধান্য পাবে, না মাত্র লাখেরও কম সংস্কৃতিকর্মী প্রতিষ্ঠা পাবে? সংস্কৃতিকর্মীর প্রচারণা দ্বারা কি রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের এদেশে ‘ইসলাম’ ও ‘মুসলমান’ তুলে দেয়া হবে?  মিটিয়ে ফেলা হবে? মুছে ফেলা হবে? বিধর্মীদের সাথে একাকার করে দেয়া হবে? তাহলে ‘মরলে শহীদ বাঁচলে গাজী’ চিরন্তন সে ঐতিহ্য কোথায় যাবে?

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫৭

চাঁদ দেখা ও নতুন চন্দ্রতারিখ নিয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা-২৫

ভ্রান্ত ওহাবী মতবাদ প্রচারের নেপথ্যে-৭

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৮ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস ওহাবী ফিরক্বাসহ সবগুলো বাতিল ফিরক্বাহ ইহুদী-নাছারাদের আবিষ্কার! তাদের এক নম্বর দালাল