হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৩২) ক্বানায়াত বা অল্পে তুষ্টির মাক্বাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

সংখ্যা: ২৭৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ক্বানায়াত বা অল্পে তুষ্টির হাক্বীক্বত

ক্বানায়াত উনার মাক্বাম হাছিলকারী তথা অল্পে তুষ্ট ব্যক্তিই প্রকৃতপক্ষে ধনী। আর তার বিপরীত তথা অধিক পাওয়ার আকাঙ্খী ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে অভাবী। অর্থাৎ যে অধিক পাওয়ার প্রত্যাশায় সারাজীবন দুঃখে কষ্ট ভোগ করে। আর এ অবস্থায় সে দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়। সেই অভাবী।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে-

عَنْ حَضْرَتْ أَبِـيْ هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ‏ لَيْسَ الْغِنٰـى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنٰـى غِنَى النَّفْسِ

অর্থ: হযরত আবূ হুরায়রাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, সম্পদের প্রাচুর্যতাকে ধনী বলা হয় না। বরং প্রকৃত সম্পদশালী সেই ব্যক্তি যার অন্তর ধনী অর্থাৎ সম্পদশালী তথা অল্পে পরিতুষ্ট। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ)

হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গাযযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে অভাবগ্রস্ত করেছেন, তার উচিত ক্বানায়াত অবলম্বন করা তথা অল্পে পরিতুষ্ট থাকা। অন্যের মাল-সম্পদের প্রতি দৃষ্টি না দেয়া। পরের ধনে লালায়িত না হওয়া। অবশ্য এ গুণটি অর্জন করা তখনই সম্ভব, যখন পানাহার,পোশাক-পরিচ্ছদ, ঘর-বাড়ী ইত্যাদির ব্যাপারে প্রয়োজন পরিমাণের উপরই তুষ্ট থাকা যায়।

তোমরা তোমাদের জীবনে মাত্র এক দিনের জন্য যা প্রয়োজন হয় শুধু তার জন্যই চিন্তা ভাবনা করবে। বেশী চাইলে এক মাসের জন্য করতে পার। তার বেশি কিছুতেই নয়।

যে ব্যক্তি ধন-সম্পদ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দের প্রাচুর্যের প্রতি লালায়িত হয়, দীর্ঘ আশা-আকাঙ্খার বশীভূত হয়, অল্পে পরিতুষ্ট থাকার গুণটি তার মধ্যে কখনই সৃষ্টি হবে না। বরং সে লোভ-লালসার তাড়নায় পাপে জর্জরিত হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! (মুকাশাফাতুল কুলূব)

বর্ণিত আছে যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেছেন যে, হে আমার বান্দা! তুমি যদি সারা জগতের সমস্ত সম্পদের মালিক হও তবুও তুমি ততটুকুই ভোগ করতে পারবে যা তোমার জন্য নির্ধারিত আছে। এজন্য আমি তোমাকে ঠিক ততটুকুই দিয়েছি যা তুমি ভোগ করতে পারবে। আর এর দ্বারা আমি প্রকৃতপক্ষে তোমার উপকারই করেছি। কেননা যা তুমি ভোগ করতে পারবে না, অযথা তোমার মাথায় চাপিয়ে দিলে তোমার জন্য তা ঝামেলাই হত।

ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, তোমাদের কারো কোন জিনিষের প্রয়োজন হলে তোমরা তা সহজ ও সাধারণভাবেই তার অন্বেষণ করিও। এজন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে পেরেশান হবে না। কেননা ঐ বস্তু যদি তোমার ভাগ্যে থাকে তাহলে সহজেই তা পেয়ে যাবে। (মুকাশাফাতুল কুলূব-১৮৪)

ফক্বীহুল উম্মত হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি আরো বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, রূহুল কুদুস হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি আমার নিকট সম্মানিত ওহী মুবারক নিয়ে আসলেন যে, কোন জীবই তার জন্য নির্ধারিত সম্পদ পুরোপুরি ভোগ না করার পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করবে না। কাজেই, হে মানবগণ! তোমরা সীমিত ও স্বাভাবিক পরিশ্রম করে যাও।

বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে উপদেশ মুবারক দিয়ে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু! যদি অত্যন্ত ক্ষুধা লাগে তখন একটি রুটি ও এক পেয়ালা পানিকেই যথেষ্ট মনে করে নিন। দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া ধ্বংসের কারণ আমীরুল মু’মিনীন খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, লোভ-লালসাই হলো মানুষের প্রকৃত দারিদ্রতা। আর লোভ-লালসা মুক্ত থাকাই হচ্ছে প্রকৃত ধনাঢ্যতা। যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদের প্রতি লোভ করে না সে ব্যক্তি কখনোই কারো মুখাপেক্ষী হয় না।” সুবহানাল্লাহ!

একদিন জনৈক ব্যক্তি একজন বুযুর্গ ব্যক্তির নিকট জিজ্ঞাসা করলেন, হে মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী! ধন-সম্পদের প্রাচুর্য্যরে মূল মর্ম কি?

তিনি বললেন, অবৈধ আশা-আকঙ্খা কম করা এবং প্রয়োজন পরিমানের উপর খুশি থাকা।

অন্য একজন বুযুর্গ ব্যক্তি বলেছেন, জীবনের অর্থ গুটি কয়েক মুহুর্ত। যা দ্রƒত চলে যাচ্ছে। আর কতগুলো অনাকাঙ্খিত ঘটনা সমষ্টি যা বার বার আক্রমণ করছে। কাজেই, জীবন যাপনের উপকরণের প্রতি অল্পে সন্তুষ্ট থাকার নীতি গ্রহণ করো। তাহলে সুখ-শান্তি নিজ থেকে তোমার কাছে চলে আসবে। সুবহানাল্লাহ!

একদা জনৈক ব্যক্তি একজন ওলী আল্লাহ উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনাদের কাছে কিরূপ সম্পদ আছে? সেই ওলী আল্লাহ তিনি বললেন, আমাদের নিকট রয়েছে দেহ ও মনের স্বচ্ছতা, অন্তরের সরলতা ও নম্রতা এবং অন্যের সম্পদের প্রতি লোভহীনতা।

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২২৬) তাওয়াক্কুল উনার মাক্বাম হাছিলের পথে ফানা বা বিলীন কতিপয় আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৩৭) তাসলীমের মাক্বাম ও তা হাছিলের পন্থা-পদ্ধতি (২) আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২২৮) ক্বানায়াত বা অল্পে তুষ্টির মাক্বাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত – আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২২৯) ক্বানায়াত বা অল্পে তুষ্টির মাক্বাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত- আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ মুহম্মদ আব্দুল হালীম

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৩০)-ক্বানায়াত বা অল্পে তুষ্টির মাক্বাম উনার ফাযায়িল-ফযীলত