৬৬ শতাংশ খাদ্যদ্রব্যে রাসায়নিক উপাদান। ভেজাল খাবারে দেশব্যাপী চলছে নীরব গণহত্যা। ভেজাল দমনে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

সংখ্যা: ২৫৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

গত ১২ আগস্ট-২০১৬ শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘খাদ্যে ভেজালের কারণে বাংলাদেশের মানুষ বেশি রোগাক্রান্ত হচ্ছে’। এ বিষয়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ হিসেবে শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনসচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি আইন কাঠামো জোরদার করেছে। ভোক্তা পর্যায়ে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ আইন, ২০১৩ এবং এ বিষয়ক বিধিমালা-২০১৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় দেশব্যাপী বিএসটিআইয়ের অভিযান জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।

উল্লেখ্য, শিল্পমন্ত্রী এর আগেও এই ভেজাল খাদ্য রোধে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু বাস্তবিকপক্ষে তার কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ আগস্ট ২০১৬ ঈসায়ী ইয়াওমুল ইছনাইনিল আযীম শরীফ সরকারি প্রতিষ্ঠান জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের খাদ্যের নমুনা পরীক্ষার তথ্য থেকে জানা গেছে, মানুষ নিরাপদ খাদ্য খাচ্ছে না, বরং তিন বেলা ভেজাল খাদ্যে পেট ভরছে। প্রতিষ্ঠানটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসে সারাদেশ থেকে ৫৪ ধরনের খাদ্যদ্রব্যের ৬ হাজার ৭৪৬টি নমুনা পরীক্ষা করে। এর মধ্যে মাত্র ১৩টি খাদ্যপণ্য খাঁটি মিলেছে। বাকিগুলো ভেজাল। কোনোটি শতভাগ, কোনোটি ৮০-৯০ শতাংশ, কোনোটি ৫০-৬০ শতাংশ আবার কোনোটিতে ২-১০ শতাংশ ভেজাল রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরো দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগ্রহ করা ঘিয়ের ৩২টি নমুনার মধ্যে ২৯টিতেই ভেজাল পাওয়া গেছে। এতে ভেজালের হার ৯১ শতাংশ। সেমাইয়ের ৪৭টি নমুনার মধ্যে ৪১টিতেই ভেজাল, ভেজালের হার ৮৮ শতাংশ। ডালডা ঘিয়ের ১০টি নমুনার মধ্যে আটটিতেই ভেজাল, ভেজালের হার ৮০ শতাংশ। জেলির পাঁচটি নমুনার মধ্যে চারটিতেই রয়েছে ভেজাল, ভেজালের হার ৮০ শতাংশ। সয়াবিন তেলের ২৭৪টি নমুনার মধ্যে ৬৩টি খাঁটি ও ২১১টি ভেজাল, ভেজালের হার ৭৮ শতাংশ। চাটনির ১৬টি নমুনার ১২টিতেই ভেজাল, ভেজালের হার ৭২ শতাংশ। শুঁটকির সাতটি নমুনার মধ্যে পাঁচটিতেই ভেজাল রয়েছে, ভেজালের হার ৭২ শতাংশ। বেসনের ২৪টি নমুনার মধ্যে ১৭টিতে ভেজাল, ভেজালের হার ৭১ শতাংশ। পামঅয়েলের ৩৫টি নমুনার মধ্যে ২১টিই ভেজাল, ভেজালের হার ৬৮ শতাংশ। গুঁড়ামরিচের ৪৭৪টি নমুনার মধ্যে ১৫৮টি সঠিক হলেও ভেজাল ৩১৬টি, ভেজালের হার ৬৭ শতাংশ।

প্রসঙ্গত, আমাদের সংবিধানে অনুচ্ছেদ নং- ১৫ এবং ১৮-এ বলা আছে সরকার জনগণের খাদ্য নিশ্চিত করবে এবং পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বা সরবরাহ-ই হবে সরকারের অন্যতম কাজ। কিন্তু সরকার আজ সেখানে ব্যর্থ। অবাধ প্রতিযোগিতা, মুনাফা অর্জনের জন্য লালায়িত মানসিকতা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর শিথিলতা ইত্যাদি কারণে বর্তমানে খাদ্যে ভেজাল মেশানো একটা স্বাভাবিক রীতিতে পরিণত হয়েছে।

১৮৬০ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত ২০টির অধিক ভেজালবিরোধী আইন হয়েছে। তন্মধ্যে জাতীয় খাদ্য নীতি ২০১০-এ নিরাপদ খাদ্য আইনগুলো আধুনিক করতে এবং ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একত্র করতে বলা হয়েছে। জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টিনীতি ১৯৯৭-এ খাদ্য মান মনিটরিং করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য নীতি-২০০৫ এ বিষাক্ত অথবা ক্ষতিকারক রাসায়নিক যুক্ত খাবার বিক্রি অথবা উৎপাদন বন্ধের জন্য বলা হয়েছে। আমদানি-রফতানী নীতি ২০০৬-এ সার্টিফিকেট এবং বিভিন্ন পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। সম্প্রতি ১৯৫৯ সালের “চঁৎব ঋড়ড়ফ ঙৎফরহধহপব”কে পরির্বতন ও পরিবর্ধন করে যুগোপযোগী নতুন আইন “নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩” সংসদে পাস হয়েছে। এই আইনে সর্বোচ্চ ৫ বছরের জেল ও ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।

এতগুলো আইন থাকা সত্ত্বেও এর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেমন- হোটেলগুলোতে মৃত মুরগি খাওয়াচ্ছে। আজো ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একত্র করা হয়নি। ফরমালিন এবং ডিডিটি খাবারে সচরাচর পাওয়া যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রাণ কোম্পানির মরিচের গুঁড়ায় বিদেশে রফতানী হওয়ার পরও ভেজাল পাওয়া গেছে। যেটা বাংলাদেশে খুব সহজেই পার পেয়ে গেছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আইন কিন্তু একটা জড় পদার্থ। আইনের সুফল হবে, নাকি কুফল হবে- তা নির্ভর করে যিনি আইন প্রয়োগ করবেন তার উপর। তিনি যদি দক্ষ, খোদাভীরু এবং স্বচ্ছ না হন, তাহলে মানুষ এর দ্বারা কুফলও পেতে পারে। সুতরাং যাদেরকে এরকম মর্মস্পর্শী অভিযানের দায়িত্ব দেয়া হবে তাদের স্বচ্ছ এবং দক্ষ হওয়া দরকার। এবং তাদের পূর্ব অভিজ্ঞতা, আচরণ এবং কাজের মান দেখে মনোনীত করা উচিত।

দেশে ওষুধে ভেজাল পরীক্ষা করার জন্য যে ড্রাগ-ল্যাবরেটরি তৈরি করা হয়েছে সেখানেই সব রাসায়নিক মিশ্রণ পরীক্ষা করা সম্ভব। সরকারের নতুন করে কোনো অর্থ ব্যয় করতে হবে না। শুধু এর সঙ্গে খাদ্যকে একত্র করে সিদ্ধান্ত নিলেই এটা সম্ভব। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে “ঋড়ড়ফ ধহফ উৎঁম অফসরহরংঃৎধঃরড়হ” একত্রে কাজ করে। আমাদের দেশে শুধু আলাদা। আইনের বিষয়ে অজ্ঞ থাকলে সেটা কোনো অজুহাত হতে পারে না। ভোক্তাকেও তার অধিকার জানতে হবে।

প্রসঙ্গত আমরা মনে করি যে, শুধু আইনের বল প্রয়োগেই এ ভেজাল প্রবণতা রোধ করা যাবে না। কারণ মানুষের তৈরি আইনের গোলকধাঁধাঁয় মানুষ সহজেই পার পেয়ে যেতে পারে। সেক্ষেত্রে অত্যাবশ্যকীয় হলো- মানুষের সৃষ্টিকর্তা খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার প্রতি অনুগত হওয়া ও উনার ভয় লালন করা এবং এ সম্পর্কিত মূল্যবোধ ও চেতনা জাগ্রত করা।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “সবচেয়ে গরিব কে? অতঃপর তিনি বলেন, সবচেয়ে গরিব ওই ব্যক্তি- যে ক্বিয়ামতের দিনে পাহাড় পরিমাণ নেকী নিয়ে উঠবে। মানুষ মনে করবে সে নিশ্চিত জান্নাতী। কিন্তু এরপর তার একের পর এক পাওনাদাররা আসবে। যাদের হক্ব সে নষ্ট করেছে। তখন তার নেকী দ্বারা তাদের সে হক্ব আদায় করা হবে। এরপরও বাকি থেকে যাবে। তখন পাওনাদারদের গুনাহ তার উপর চাপিয়ে দেয়া হবে। কিছুক্ষণ পূর্বে যে ব্যক্তি ছিল নিশ্চিত জান্নাতী, এখন সে ব্যক্তি হয়ে পড়বে নিশ্চিত জাহান্নামী।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ ব্যক্তিকেই সবচেয়ে গরিব বলা হয়েছে।

-আল্লামা মুহম্মদ ওয়ালীউল্লাহ, ঢাকা

ব্রিটিশ গুপ্তচরের স্বীকারোক্তি ও ওহাবী মতবাদের নেপথ্যে ব্রিটিশ ভূমিকা-৫০

বাতিল ফিরক্বা ওহাবীদের অখ্যাত মুখপত্র আল কাওসারের মিথ্যাচারিতার জবাব-১৩ হাদীছ জালিয়াতী, ইবারত কারচুপি ও কিতাব নকল করা ওহাবীদেরই জন্মগত বদ অভ্যাস

যুগের আবূ জাহিল, মুনাফিক ও দাজ্জালে কায্যাবদের বিরোধিতাই প্রমাণ করে যে, রাজারবাগ শরীফ-এর হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী হক্ব। খারিজীপন্থী ওহাবীদের মিথ্যা অপপ্রচারের দাঁতভাঙ্গা জবাব-৫১

‘থার্টিফাস্ট নাইট, ভালেন্টাইন ডে আর পহেলা বৈশাখের’ নামে হুজ্জোতির জন্য ধর্মব্যবসায়ীদের কৌশলগত নিষ্ক্রীয়তা, স্বার্থবাদী মৌসুমী রাজনৈতিক তৎপরতা এবং সংস্কৃতি বিপননকারীদের দূরভিসন্ধিতা ও মধ্যবিত্তের  তত্ত্ব-তালাশহীন প্রবণতা তথা হুজুগে মাতা প্রবৃত্তিই দায়ী

অবশেষে জামাতীরা স্বীকার করিল যে, মুক্তি পাইতে চাহিলে মুরীদ হইতে হয়। আল্লাহ পাক-এর ওলী বা দরবেশ হইতে পারিলে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু জামাতীরা তাহা নয় বলিয়াই আখিরাত তো দূরের কথা দুনিয়াতেই তাহারা দুর্নীতির দায়ে গ্রেফতার। আর মইত্যা রাজাকারের ফতওয়া অনুযায়ী তো- তাহাকেই কতল করা ওয়াজিব।