আখবারুল আখইয়ার-১৬০

সংখ্যা: ২০১তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত শায়খ উছমান ছাইয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৫১-৭৫৮ হিজরী)

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
হযরত শায়খ উছমান ছাইয়্যাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত শায়খ রুকনুদ্দীন আবুল ফাতাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মুরীদ ছিলেন। তিনি অধিক পরিমাণে ভ্রমণ প্রিয় অবস্থায় জীবন যাপন করেছেন ও বিশ্ব ভ্রমণ করেছেন। শেষ জীবনে তিনি স্বীয় জন্মভূমি দিল্লিতে তাশরীফ আনেন। তিনি সামা (কাছীদা শরীফ শ্রবণ) এর প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। সেজন্য তিনি হযরত শায়খ নাছীরুদ্দীন চেরাগে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মাহফিলে সর্বদা তাশরীফ নিতেন। এবং সামা বা কাছীদা শরীফ শ্রবণে তিনি খুবই আনন্দিত হতেন। ওয়াজদ ও হাল এর সাথে তিনি নিজেও সামা বা কাছীদা শরীফ পাঠ করতেন। পরবর্তীতে বিছাল শরীফ-এর পরে সুলত্বান মুহম্মদ আদিল রহমতুল্লাহি আলাইহি নির্মিত হাফত পুল নামক স্থানে উনার মাযার শরীফ স্থাপিত হয়।

 

হযরত শায়খ আবু বকর মুয়েতাব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৮২-৭৪৭ হিজরী)
হযরত শায়খ আবু বকর মুয়েতাব রহমতুল্লাহি আলাইহি বাদায়ূনের বাসিন্দা ছিলেন। হযরত শায়খ জিয়া নাখশবী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার “ছালিকুচ্ছুলুক” কিতাবের মধ্যে লিখেছেন যে, হযরত শায়খ আবু বকর মুয়েতাব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি যিকরে ইলাহীতে এমনভাবে ফানা ছিলেন যে, উনার সমস্ত পশমের মধ্যেই দায়িমীভাবে যিকির জারি ছিল। একবার তিনি আলমে বালা তথা বিপদ-মুছীবতের মধ্যে নিপতিত হয়েছিলেন। তখন আমি উনার সেবা শুশ্রুষা করার জন্য উনার খিদমতে হাজির হলাম। তখন আমি শুনতে পেলাম, তিনি মহান রব্বুল আলামীন উনার গুপ্তভেদ সংক্রান্ত নিম্নোক্ত শে’র পাঠ করছিলেন-

قالب چوں غبارست میاں من وتو

امید کہ انیک ازمیاں بر خیزد

অর্থাৎ, “হে আল্লাহ পাক আমার এই শরীরের মালিক আপনিই। আমার মধ্যে ধুলির মেঘ বা কুয়াশার ন্যায় বিভিন্ন প্রকার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। আপনার শাহী দরবারে আমি আশাবাদী যে, অতি শীঘ্রই আমার ওইসকল প্রতিবন্ধকতা উঠে যাবে বা দূরীভুত হবে।”

 

হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি (৬৮৯ হিজরী-৭৩৬ হিজরী)

হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হক্বগো (সত্যবাদী) বা হক্ব কথা বলনেওয়ালা লক্ববে প্রসিদ্ধি লাভ করেছিলেন। উনার সম্মানিত পিতার নাম মুবারক হচ্ছে হযরত শায়খ ফখরুদ্দীন যাহিদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনাকে ‘হক্বগো’ এজন্য বলা হত যে, সুলত্বান মুহম্মদ তুঘলককে সমস্ত লোকই আদিল বা ন্যায়পরায়ণ বলে স্বীকার করত। কিন্তু হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি বাদশাহকে আদিল বলে স্বীকার করতেন না। বরং তিনি বলতেন যে একজন যালিমকে আমি ন্যায়পরায়ণ বলতে পারি না। একারণেই সুলত্বান মুহম্মদ তুঘলক হযরত শায়খ শিহাবুদ্দীন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনাকে দিল্লির কেল্লা থেকে নিচে নিক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি হযরত শায়খ ফখরুদ্দীন ছানী রহমতুল্লাহি আলাইহি যিনি অনেক বড় ওলীআল্লাহ ছিলেন উনার মুরীদ ছিলেন। দিল্লি শহরের ফিরোজাবাদের নিকটে উনার মাযার শরীফ রয়েছে।

 

হযরত শায়খ সাইয়্যিদ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি
হযরত সাইয়্যিদ মুহম্মদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইউছুফ আল হাসানী দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছেলে এবং হযরত শায়খ নাছীরুদ্দীন মুহম্মদ চেরাগে দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খলীফা ছিলেন। তিনি নেতৃত্ব, ইলম ও বেলায়েতের জামে’ ছিলেন। তিনি রফীউদ দারাজাত,  আযীমুল বারাকাত এবং ক্বাদিরুল কালাম লক্বব মুবারকের পূর্ণ মিছদাক তথা অনেক বড় বুযুর্গ ওলীআল্লাহ ছিলেন। তিনি মাশায়িখে চিশ্তী এর অন্তর্ভুক্ত এবং আছরারে তরীক্বতে পূর্ণ কামালিয়তপ্রাপ্ত ছিলেন। প্রথম দিকে তিনি দিল্লিতে অবস্থান করেন। অতঃপর উনার শায়খ হযরত নাছীরুদ্দীন মাহমূদ চেরাগে দেহলভী রহমতুল্লহি আলাইহি উনার বিছাল শরীফ-এর পরে গুলবরগা নামক স্থানে চলে গিয়ে সেখানেই তিনি প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। সেখানকার অধিকাংশ লোকই উনার ফরমাবরদার হয়ে যায়। সেখানেই তিনি বিছাল শরীফ লাভ করেন।
(অসমাপ্ত)

-মূল: হযরত শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিছে দেহ্লবী রহমতুল্লাহি আলাইহি
ভাষান্তর: মাওলানা মুহম্মদ ফযলুল হক

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৩

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৪

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৫

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৬

বিশ্ব সমাদৃত, হযরত আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিমগণের অনুপম মুবারক চরিত গ্রন্থ আখবারুল আখইয়ার-১৪৭