আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

সংখ্যা: ১৯৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

আল বাইয়্যিনাত প্রতিবেদন: নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যেমন সৃষ্টির মূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ তেমনি রবিউল আউয়াল শরীফ মাসও মাস সমূহের মূল এবং সর্বশ্রেষ্ঠ। রবিউল আউয়াল শরীফ বিশেষ করে ১২ই শরীফ না হলে অন্য কোন দিন বা মাস অস্তিত্বে আসতোনা। এ মাস মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাস। কাজেই এ মাসের যথাযথ তাজিম-তাকরীম করা, এ মাসে অধিক পরিমাণে নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক জীবনী আলোচনা করা, উনার সর্বাধিক এবং বিশুদ্ধ ছানা-ছীফত ও মীলাদ শরীফ এবং কিয়াম করা এবং এ ধরণের বরকতপূর্ণ মাহফিলে সার্বিক শরীক থাকা উম্মতের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ইমামুল আ’ইম্মা, মুহইস্ সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানিন নাছীর, খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা ইমাম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বিশেষ আলোচনা মজলিসে এসব কথা বলেন।

নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হচ্ছেন কুল কায়িনাতের রহমত। আর উনার সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে রবিউল আউয়াল শরীফ হচ্ছে খাছভাবে সর্বাধিক রহমত, বরকত ও সাক্বীনা নাজিলের মাস। এ মাসে যত রহমত, বরকত এবং সাক্বিনা নাযিল হয় অন্য কোন মাসেই তা নাজিল হয় না। বান্দা এবং উম্মতের দায়িত্ব কর্তব্য হচ্ছে এ মাসে বেশী বেশী রহমত, বরকত, সাক্বীনা লাভের কোশেশ করা।

ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা, ইমাম রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস আক্বীদা বিশুদ্ধ করার মাস। এ মাসে উলামায়ে ছূ’রা নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি ওয়াজ-নছীহত এবং লেখা-লেখির মাধ্যমে অসংখ্য কুফরী আক্বীদা প্রকাশ ও প্রচার করে থাকে। যা দ্বারা মুসলিম সম্প্রদায় বিভ্রান্তিতে পড়ে। কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী হয়ে ওঠে। নিজের ঈমান হিফাযতের লক্ষ্যে মুসলমানদের উচিত, উলামায়ে ছূ’দের কুসংগ থেকে বেঁচে থাকা। তাহলে তারা গুমরাহ করতে এবং ফিৎনায় ফেলে আক্বীদা নষ্ট করতে পারবেনা।

ইমামে আ’যম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা ইমাম, রাজারবাগ শরীফ-এর মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুল আলী বলেন, উলামায়ে ছূ’দের কুফরী আক্বীদা গুলোর কতিপয় হচ্ছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ, নবীদের নবী, রসূলদের রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মতই মানুষ, তিনিও ভুল করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ!

উনার পূর্ব-পরের গুনাহ ছিল আল্লাহ পাক তা ক্ষমা করে দিয়েছেন। নাঊজুবিল্লাহ আবার অনেকে বলে, উনি প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০ বার তওবা করেছেন এজন্য যে, সারাদিন যে গুনাহ হতো তা হতে উনি তওবা করেছেন। নাঊযুবিল্লাহ! আবার অনেকে বলে, উনার মর্যাদা উন্নীত হত বিধায় উনি পূর্বের মাকাম বা মর্যাদা থেকে তওবা করতেন। নাঊযুবিল্লাহ। এ ধরণের আরো হাজারো কুফরী আক্বীদা প্রচার করে থাকে উলামায়ে ছূ’রা।

মূল কথা হচ্ছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনি আল্লাহ পাক উনার রসূল হওয়ার কারণে উনি আমাদের মত মানুষ নন। উনি তো দূরের কথা, যারা যামানার লক্ষ্যস্থল ওলী এবং মুজাদ্দিদে আ’যম উনারাই তো ভুল ক্রুটির উর্ধ্বে আর আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে যে কোন তুলনা বা তুলনীয় শব্দ, ভুল, গুনাহ এ ধরণের শব্দ ব্যবহার করাটাই কাট্টা কুফরী।

আমলের দ্বারা উনাদের মর্যাদা বৃদ্ধির কিছু নেই। উনারা সৃষ্টিই হয়েছেন চুড়ান্ত মর্যাদার অধিকারী হয়ে। সময়ে সময়ে উম্মতের জ্ঞাতার্থে আল্লাহ পাক উনাদের মর্যাদার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে থাকেন মাত্র। যা দ্বারা উম্মতের ঈমান-আক্বীদা মজবুত হয়ে থাকে।

নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনার মুবারক শানে আদব বজায় রাখা উম্মতের জন্য ফরয ওয়াজিব। বনী ইসরাইলসহ অন্যান্য নবী-রসূল আলাইহিমুস্ সালাম উনাদের উম্মতরা বিভিন্ন আযাব-গজবে পড়ে ধ্বংস হওয়ার কারণ হচ্ছে- নবী রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের সাথে অথবা উনাদের শানে বেয়াদবি করা। উম্মতে হাবীবীর মধ্যেও যারাই নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সুমহান শানে বেয়াদবী করেছে তারা প্রত্যেকেই উলামায়ে ‘ছূ’ হয়েছে। আকৃতি বিকৃত হয়েছে এবং হচ্ছে, দুনিয়াতেই এরা চরমভাবে লাঞ্ছিত, পদদলিত এবং অপমানিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে।

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে এ মাসের যথাযথ তাজিম-তাকরীম করার ও হক্ব আদায়ের মাধ্যমে এ সুমহান মাসের খাছ রহমত, বরকত, ছাক্বীনা, ফায়েয-তাওয়াজ্জুহ ও অশেষ নিয়ামত হাছিলের তাওফীক্ব দান করুন। আমীন।

উল্লেখ্য, মহান পবিত্র, রবিউল আউয়াল শরীফ মাসের তাজীমার্থে রাজারবাগ দরবার শরীফকে বেমেছাল সাজে সজ্জিত করা হয়েছে। ৪০দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতা, ওয়াজ শরীফ, মীলাদ শরীফ ও সামা শরীফ মাহফিলের ব্যাপক আয়োজন করা হয়েছে। বিশ্বের মধ্যে নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদত শরীফ উপলক্ষে উনার ছানা-ছীফত, ফাযায়িল এবং ফযীলত আলোচনার এত বেশীদিন ব্যাপী আলোচনার সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্ববৃহৎ অনুষ্ঠান। যা বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই।

৪১ দিন ব্যাপী জৌলুসপূর্ণ মুবারক মাহফিলের প্রথম ১৮ দিন প্রতিযোগিতা মাহফিল, পরবর্তী ২০দিন ওয়াজ শরীফ ও দোয়া মাহফিল এবং শেষ তিন দিন পবিত্র সামা শরীফ-এর মাহফিল। ২০ ছফর শুক্রবার বাদ আছর থেকে শুরু হওয়া এ মাহফিল রবীউল আউয়াল শরীফ-এর শেষ দিন পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ।

উল্লেখ, এ সুমহান মাহফিল উপলক্ষে পুরুষের পাশাপাশি মহিলাদেরকে খাছ পর্দার সাথে তালিম-তালকীন দানের উদ্দেশ্যে সাইয়্যিদাতুন নিসা, ইমামতুছ ছিদ্দীকা, আফযালুন নিসা, হাবীবাতুল্লাহ, আওলাদে রসূল, কায়িম-মকামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা মুদ্দা জিল্লুহুহাল আলীয়া উনার মুবারক তত্ত্বাবধানে ৮ থেকে ৩০ রবীউল আউয়াল শরীফ পর্যন্ত তা’লিমী কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রম প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ২.৩০ মিনিট পর্যন্ত চলবে ইনশাআল্লাহ। এ মজলিসে হাজির হয়ে তা’লীম নেয়ার জন্য দেশ বিদেশের সকল মা-বোনদের আহবান জানানো হয়। 

আনজুমান আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত সংবাদ

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ

আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত ও মাহফিল সংবাদ