ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৫৩ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২৬৭তম সংখ্যা | বিভাগ:

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার সনদ এবং তার গুরুত্ব (৩)

মু’তাবার ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা সরাসরি নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার কাছ থেকে তাহক্বীক্ব করে করে হাদীছ শরীফ বর্ণনা করে থাকেন। কাজেই, উনাদের বর্ণিত হাদীছ শরীফে বাহ্যত সনদ পাওয়া না গেলেও সেগুলোর গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই।

ইলিমের জগতে উজ্জল নক্ষত্র, মুফতিউল আ’যম হযরতুল আল্লামা মুফতী সাইয়্যিদ আমীমুল ইহসান আল মুজাদ্দিদী আল বারাকাতী আল হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার বিশ্ববিখ্যাত, সমাদৃত কিতাব ‘মীযানুল আখবার” এ উল্লেখ করেছেন-

فَاِذَا اسْتَدَلَّ الْـمُجْتَهِدُ بِـحَدِيْثٍ كَانَ تَصْحِيْحًا لَّهٗ وَكَذَا الْـحَدِيْثُ  الْـمُتَلَقّٰى بِالْـقَبُوْلِ مَحْكُوْمٌ بِالصِّحَّةِ وَاِنْ لَّـمْ يَكُنْ لَّهٗ اِسْنَادٌ صَحِيْحٌ

অর্থ: “যখন কোন মুজতাহিদ কোন হাদীছ শরীফ দ্বারা দলীল পেশ করেন, তখন তা উনার নিকট ছহীহ হাদীছ শরীফ হিসেবে গণ্য। অনুরূপভাবে মুজতাহিদগণ উনাদের বিশেষভাবে গৃহিত হাদীছ শরীফও ছহীহ হাদীছ শরীফ হিসেবে ধর্তব্য হবে, যদিও উক্ত হাদীছ শরীফ উনার ছহীহ সনদ পাওয়া না যায়।”

হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল মুহাদ্দিছীন মিনাল আউওয়ালীন ইলাল আখিরীন, মুজাদ্দিদে আ’যম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা ইমাম খলীফাতুল্লাহ হযরত আস সাফফাহ আলাইহিছ ছলাতু ওয়াস সালাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আইম্মায়ে ত্বরীক্বত এবং অনুসরণীয় ইমাম, মুজতাহিদ ও আওলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের গৃহিত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফসমূহ ছহীহ হিসেবে গণ্য, যদিও উক্ত সম্মানিত ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সনদ পাওয়া না যায়।” সুবহানাল্লাহ!

ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার গৌরবজনক বাইশটি ‘ছুলাছিয়্যাত:

‘বুখারী শরীফ’ উনার মধ্যে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে শুধু ২২টি ‘ছুলাছিয়্যাত’ রেওয়ায়েত বর্ণিত আছে। যা নিঃসন্দেহে উনার ব্যাপারে গৌরবজনক একটি দিক। কিন্তু উক্ত ২২টি ছুলাছিয়্যাতের মধ্য হতে ২০টিই রেওয়ায়েত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার নিকট উনার হানাফী শায়েখ ও উস্তাদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে পৌঁছেছে। শুধু দুটি রেওয়ায়েত এমন রয়েছে, যা উনার শাফিয়ী উস্তাদগণ উনাদের থেকে মিলেছে। এর বিস্তারিত বিবরণ-

** হযরত মাক্কী ইবনে ইবরাহীম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে ১১টি পবিত্র হাদীছ শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন। এই বুযুর্গ হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট ছাত্র ছিলেন। ** হযরত আবু আসেম আন নুবাইল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে ছয়টি পবিত্র হাদীছ শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন। তিনিও হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট ছাত্র ও সঙ্গী ছিলেন। ** হযরত মুহম্মদ ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে ৩টি পবিত্র হাদীছ শরীফ রেওয়ায়েত করেছেন। তিনি ছিলেন ইমাম আবু ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার বিশিষ্ট ছাত্র।

ইমামুল মুহাদ্দিছীন, সিরাজুল উম্মাহ, ইমামুল আইম্মাহ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত ‘উহাদিয়্যাত ও ‘ছুনাইয়্যাতকে তো আপনারা দেখে নিয়েছেন। ‘ছুলাছিয়্যাত’ উনার মধ্যেও এত বেশি ও অধিক পরিমাণে উনার রেওয়ায়েত বিদ্যমান রয়েছে, যার সঠিক গণনা ও সীমিত করা অসম্ভব। যেই অধিক পরিমাণে উনার পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার উস্তাদগণ রয়েছেন, এর থেকে আরো অধিক পরিমাণে উনার ছাত্রগণ বিদ্যমান রয়েছেন। মুহাদ্দিছে জলীল হযরত আল্লামা ইবনে হাজার হইছামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ‘খাইরাতুল হিসান’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন-

 ان شيوخه كثيرون لا يسع هذا الـمختصر وقد ذكر منهم الامام ابو حفص الكبير اربعة الاف شيخ وقال غيره له اربعة الاف شيخ من التابعين فما بالك بغيرهم

অর্থ: “নিঃসন্দেহে হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অসংখ্য উস্তাদ ছিলেন। এই সংক্ষিপ্ত পরিসরে তার বিস্তারিত আলোচনা অবকাশ নেই। হযরত ইমাম আবু হাফস আল কবীর রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার চার হাজার উস্তাদের কথা উল্লেখ করেছেন। আর অপর একজনের বর্ণনা যে, শুধু তাবিয়ীদের মধ্যে হতে হযরত ইমাম আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার চার হাজার উস্তাদ ছিলেন। সুতরাং এতে অনুধাবন করা যায় যে, তাবিয়ীন ছাড়া উনার অন্যান্য উস্তাদ কত হতে পারে?

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদ যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩৭ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী)

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা, আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৫৭-মুহম্মদ সা’দী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-২০৭ -মুহম্মদ সা’দী

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪৮ (বিলাদত শরীফ ৫৩৬ হিজরী, বিছাল শরীফ ৬৩৩ হিজরী) ভারতে মুসলিম সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা (১)

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৬৪ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)  মুতাহ্হার, মুতাহ্হির, সাইয়্যিদুনা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের শান-মান  ও ফযীলত