ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৪০ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২৫৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টি

 

ইমামুল মুহাদ্দিসীন, ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন,সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সম্মানিত ওহী মুবারক ব্যতীত সকল ইলিম মুবারকের অধিকারী ছিলেন। সুবহানাল্লাহ! তিনি ছিলেন। ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন, খাছ ইলমে লাদুন্নীপ্রাপ্ত। হযরত আবূ উমামাহ বাহেলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

اِتَّقُوْا فِرَاسَةَ الْـمُؤْمِنْ فَاِنَّه يَنْظُرُ بِنُوْرِ اللهِ تَعَالى

অর্থ: “তোমরা মু’মিনগণের ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টিকে ভয় করো। কেননা, উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার নূর মুবারক দ্বারা দেখে থাকেন।” (মাজমাউয যাওয়ায়িদ, তবারানী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, তোহফাতুল আহওয়াজী)

অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পাক তিনি যা দেখেন তিনি উনার মাহবূব বান্দাগণ উনাদেরকে তাই দেখান। কাজেই, ইমাম, মুজতাহিদ ও আউলিয়ায়ে কিরাম রহমাতুল্লাহি আলাইহিমগণ উনাদেরকে সেভাবে তা’যীম-তাকরীম করা, খিদমত মুবারক উনার আঞ্জাম দেয়া উচিত।

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উক্ত হাদীছ শরীফখানা উনার পুরোপুরি মিছদাক্ব, হক্বদার ছিলেন।

আমীরুল মু’মিনীন ফিল হাদীছ, সুলত্বানুল আরিফীন, ইমাম আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ইমামুল মুহাদ্দিসীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন সাইয়্যিদুনা ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি ফিরাসাত অন্তর্দৃষ্টি সম্পন্ন ছিলেন। উনার সমকক্ষ সমসাময়িক কেউ ছিলেন না।

খলীফা হারুনুর রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সামনে একবার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার আলোচনা মুবারক হলো। তিনি উনার জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র দরবার শরীফে দোয়া করতঃ বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার উপর রহমত বর্ষণ করুন। কেননা তিনি ফিরাসাত বা অর্ন্তদৃষ্টি ও বিচক্ষণতার দ্বারা এমন অনেক বিষয়-বস্তু দেখেন যা অন্য কারো পক্ষে দেখা কখনোই সম্ভব নয়।” (তাযকিরাতুন নু’মান-৩২৩)

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি অতি অল্প বয়সে উনার সম্মানিত পিতাকে হারিয়েছেন। উনার মা ছিলেন উনার অভিভাবক। তিনি উনার মাকে না বলে ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার জন্য আসতেন। উনার সম্মানিত মাতা প্রথমতঃ বিষয়টি পছন্দ করতেন না। তাই একদিন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন, আমার ছেলেকে আপনার ছোহবত মুবারকে আসতে বারণ করুন। ইমামুল মুসলিমীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনাকে উনার সম্মানিত মায়ের সাথে পাঠিয়ে দিলেন।

কিন্তু সাইয়্যিদুনা ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পরের দিন আবারো চলে আসলেন। কয়েকবারই এমন হলো। তিনি ফেরত পাঠান আর তিনি আবার চলে আসেন।

একদিন তিনি সাইয়্যিদুনা ইমাম আবূ ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার অসচ্ছলতার দিকে দৃষ্টিপাত করতঃ সান্তনা দিয়ে বললেন, আপনার তখন কেমন মনে হবে, যখন আপনি ফিরোযা (মূল্যবান সবুজ পাথর) নির্মিত প্রাসাদে বসে সুস্বাদু ফালুদা খাবেন?

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছেন। আর সাইয়্যিদুনা ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি খলীফা হারুনুর রশীদ উনার প্রধান বিচারপতির আসন অলঙ্কৃত করেছেন। খলীফা হারুনুর রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাইয়্যিদুনা ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে রাজ প্রাসাদে দাওয়াত করলেন। উনার সামনে দিলেন সুস্বাদু ফালুদা। ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি সুস্বাদু ফালুদা দেখে বিমুগ্ধ হাসি দিলেন। খলীফা হারুনুর রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হাসির কারণ জানতে চাইলেন। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবু ইউসুফ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার উপর রহমত বর্ষন করুন। অতঃপর বিগত জীবনের ঘটে যাওয়া সেই ঘটনা বিস্তারিত বললেন। তা শুনে খলীফা হারুনুর রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি হতবাক হলেন।

খলীফা হারুনুর রশীদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি আরো বললেন, ইলিম মানুষকে উভয় জাহানে অতি সম্মানের অধিকারী করে তোলে। ইমামুল মুসলিমীন সাইয়্যিদুনা ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার ফিরাসাত বা অন্তর্দৃষ্টি এমন ছিল যে, তিনি এমন অনেক বিষয়বস্তু দেখতেন যা স্বাভাবিক চোখে কখনো দেখা যায় না।

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৫

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৬

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৭

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৮

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৯