ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৭৭ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২৯২তম সংখ্যা | বিভাগ:

ইমাম আবূ ইউসূফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রতি সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার অছিয়ত মুবারক

وَصِيَّةٌ (অসিয়্যাতুন) অর্থ: অন্তিম উপদেশ। মুমুর্ষ ব্যক্তি বিদায়ের পূর্ব মুহুর্তে যে আদেশ বা উপদেশ দেন তাকে অসিয়াত বলে। সাধারণ উপদেশের চেয়ে অন্তিম উপদেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ হয়ে থাকে। আর তা পালনও করা হয় গুরুত্বসহকারে।

সঙ্গতকারণে গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ উপদেশকে অছিয়তরূপে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার পরিচয় নিস্প্রয়োজন। আর উনার আদেশ উপদেশসমূহ কত গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার একান্ত ছাত্র ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার মধ্যে খোদাপ্রদত্ত হিদায়াত, সরল পথের দিশা এবং চারিত্রিক মাধুর্যতা ও ইলমের প্রতি গভীর মনোযোগী তাক্বওয়া পরহেযগারীতা দেখে অত্যন্ত খুশী হন। সাথে সাথে উনাকে বিশেষ কিছু অসিয়ত মুবারক করেন।

অসিয়ত (১): হে ইয়াকূব! (ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার প্রকৃত নাম) সুলতানকে যোগ্য সম্মান করবেন। উনার বিশেষ মর্যাদার প্রতি পূর্ণ লক্ষ্য রাখবেন। আর কখনো উনার সামনে মিথ্যা প্রশংসা করবেন না।

অসিয়ত (২): যখন-তখন সুলতানের কাছে যাবেন না। একান্ত কোন ইলমী প্রয়োজন হলে তখনই যাবেন। কারণ যখন আপনি তার কাছে বেশি বেশি আসা-যাওয়া করবেন তখন জনসাধারণ আপনাকে অপদস্থ-নিচু মনে করবে। আর রাষ্ট্র প্রধানের দৃষ্টিতেও আপনি নিচু হয়ে পড়বেন। (ফলে আপনার মান-মর্যাদা বলতে কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।) অতএব তার সংশ্রবকে অগ্নি তুল্য মনে করবেন। যেমন আপনি আগুন দ্বারা প্রয়োজনাদী পূর্ণ করার সাথে সাথে তার থেকে দূরে থাকেন এবং তার কাছে যান না। (এমনিভাবে রাষ্ট্র প্রধানের নৈকট্যতার দরুন বিপদের আশঙ্কা রয়েছে) আর তার কারণ হচ্ছে, বাদশাহ বা শাসকরা সাধারণতঃ নিজের সম্পর্কে যে মান-মর্যাদা কামনা করেন তা অন্যের জন্য হওয়াটা পছন্দ করেন না। (কখনো কখনো আসা-যাওয়ার ফলে অনিষ্টতা পেঁৗছে না ঠিকই কিন্তু যদি বাদশাহর মর্যাদা বিরোধী কোন কথা বা কাজ আপনার থেকে প্রকাশ পায় তখন উনার পক্ষ থেকে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।)

অসিয়ত (৩): সুলতানের সামনে বেশি কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। কারণ সে আপনার কথা যাচাই করার চেষ্টা করবে যাতে সে তার সভাসদদেরকে বলতে পারে যে, আমি তার থেকে অধিক জ্ঞানী। আপনার কথায় ভুল-ত্রুটি ধরবে আর এভাবেই আপনি তার দরবারে অপমানিত হবেন। আর তাতে ইলমের ইহানত হবে।

অসিয়ত (৪): যখন আপনি বাদশাহ বা সুলতানের কাছে যাবেন তখন নিজ মর্যাদা ও সম্মানের ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন এবং সেই সাথে অন্যের মর্যাদার প্রতিও লক্ষ্য রাখবেন।

অসিয়ত (৫): বাদশাহর কাছে এমন সময় যাবেন না যখন আহলে ইলম তার কাছে উপস্থিত থাকে, যার সম্পর্কে আপনি অবগত নন। কারণ, যদি আপনি তার থেকে ইলমের পরিপক্কতায় কম হয়ে থাকেন আর তার সম্পর্কে পূর্ণ অবগত না হয়ে আগ বাড়িয়ে কথা বলতে যান, তবে হয়তো সে আপনার ক্ষতি করতে পারে। অথবা যদি আপনি তার থেকে বেশি জ্ঞানী হন আর জানা না থাকায় হয়তো আপনি তার সামনে সংকোচ ভাব দেখাবেন তখন আপনার অবস্থান বাদশাহর দৃষ্টিতে হীন হয়ে পড়বে।

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫০

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)

হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫১

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৫)