ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৯ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সংখ্যা: ২২২তম সংখ্যা | বিভাগ:

শিক্ষা বা পাঠদান পদ্ধতি :

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

সে লোকটি হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরসে গেল এবং মাসয়ালাটি জিজ্ঞেস করল। হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হ্যাঁ, তাকে পারিশ্রমিক দিতে হবে। লোকটি বলল, আপনি ভুল করলেন। হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি কিছুক্ষণ চিন্তা করে বললেন, “সে পারিশ্রমিক পাবে না।” লোকটি বললেন, “আপনি এবারও ভুল করলেন।” হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি সাথে সাথে উঠে গিয়ে হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে হাযির হলেন। হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, সম্ভবত আপনি ধোপার মাসয়ালার বিষয়ে এসেছেন। হযরত ইমাম আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, জ্বি; হ্যাঁ। আমাকে মাসয়ালাটি অবহিত করুন। তিনি বললেন, যদি ধোপা এ কাপড়খানা আত্মসাৎ করার পর ধৌত করে থাকে, তবে সে পারিশ্রমিক পাবে না। কেননা সে নিজের ব্যবহারের জন্য কাপড়খানা ধৌত করেছিল। আর যদি আত্মসাৎ করার পূর্বেই ধৌত করে থাকে, তবে সে পারিশ্রমিক পাবে। কেননা, সে কাপড়খানা প্রকৃত মালিকের জন্য ধৌত করেছিল।

হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি যে পদ্ধতিতে শিক্ষাদানে অভ্যস্ত ছিলেন, তাতে এ ধরনের সতর্কতা অবলম্বন অবশ্য কর্তব্য ছিল। কেননা পাঠদানের সময়ে পরস্পর আলোচনা ও পর্যালোচনায় দুর্বল চিত্তের মাঝে অহঙ্কারবোধ সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা বিদ্যমান যে, সেও নিজেকে উস্তাদের সমকক্ষ বা সমপর্যায়ের ভাবতে শুরু করতে পারে, যেটা তার জন্য ক্ষতিকর। সুতরাং প্রয়োজন ছিল যে, এমন ব্যক্তিদেরকে তাদের অসার কল্পনা ও জীবন নষ্টকারী বিষয়সমূহ পরিহারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ পূর্বক জ্ঞান আহরণ বা চর্চা পরিপূর্ণ ও শেষ করার বাস্তব অনুভূতি জাগিয়ে দেয়া। আর তার কাছে স্পষ্ট করে তোলা যে, এখন পর্যন্ত সে জ্ঞান আহরণের ক্ষেত্রে বিশেষ কোন মর্যাদাপূর্ণ স্থান লাভ করতে পারেনি।

৩. তিনি শিক্ষার্থীদেরকে উপদেশ দিতেন। বিশেষত তাদেরকে, যারা তাদের স্বদেশে ফিরে যেতে চাইতেন অথবা যারা বড় হওয়ার জন্য প্রাণপণ কোশেশ করতেন।

আল্লামা হযরত মাক্কী রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং ইবনে বাযযাযীর ‘মানাকিব’- কিতাবে উনার অত্যন্ত মূল্যবান উপদেশ বর্ণিত আছে। সে উপদেশসমূহ, যা তিনি হযরত ইমাম ইউসুফ ইবনে খালিদ সিমতী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম নূহ ইবনে আবূ মরিয়ম রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম কাযী আবূ ইউসুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি এবং অপরাপর ছাত্রদের জন্য লিখেছেন।

মোদ্দাকথা: হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ছাত্রদেরকে অত্যন্ত মুহব্বত করতেন ও উনাদের প্রতি তীক্ষè দৃষ্টি রাখতেন। তিনি স্বয়ং বলতেন-

انتم مسار قلبى وجلاء حزنى.

অর্থ : “তোমরা হলে আমার হৃদয়ের প্রশান্তি এবং হৃদয়ের চিন্তামুক্তির কারণ।”

বিশিষ্ট বুযূর্গ হযরত দাউদ তাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ইলম ও হিকমত অর্জন শেষ করে প্রখ্যাত আলিম ও বুযূর্গ হিসেবে খ্যাতি লাভ করেন। তিনি উনার শায়েখ ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে আরয করলেন, “আমি এখন কি করবো?”

জাওয়াবে ইমামে আ’যম হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন,

عليك بالعمل فان العلم بلا عمل كالجسد بلا روح

অর্থ : “এখন আপনার দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে আমল করা। কেননা, আমলবিহীন ইলম রূহ বা আত্মাবিহীন দেহের মতো।” (কাশফুল মাহযূব-১১৬)

হযরত ইমাম দাউদ তাঈ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এটাও বলেছেন, “আমি একাধারে বিশ বছর ইমামে আ’যম হযরত আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার খিদমতে ছিলাম। উনার প্রতি আমার গভীর লক্ষ্য ছিল। উনার আমল-আখলাক্ব, রীতি-নীতি মুবারক, সীরাত-ছূরত মুবারক উনার প্রতি বিশেষ নজর রাখতাম। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে আমি উনাকে প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে খালি মাথায় বসে থাকতে কখনো দেখিনি। তাছাড়া দেহ মুবারক অবসাদজনিত কারণেও কোন দিন পা মুবারক ছড়িয়ে বসেননি। একবার আমি উনাকে বললাম, হুযূর! বেয়াদবি ক্ষমা চাই। যেখানে লোকজন নেই সেখানে একটু পা মুবারক ছড়িয়ে ইতমিনানের সাথে বসলে তা এমনকি দোষের হবে?

জাওয়াবে ইমামুল মুসলিমীন, ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, “এমন স্থানেও মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে আদব রক্ষা করা উচিত।” সুবহানাল্লাহ! (তাযকিরাতুল আওলিয়া-১/২১২)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৪৯

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৩)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১৫০

সাইয়্যিদুল আওলিয়া, মাহবূবে সুবহানী, কুতুবে রব্বানী, গওছুল আ’যম, মুজাদ্দিদুয যামান, ইমামুর রাসিখীন, সুলত্বানুল আরিফীন, মুহিউদ্দীন, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত বড়পীর ছাহিব রহমতুল্লাহি আলাইহি (৪)

হানাফী মাযহাবের আক্বাইদের ইমাম, ইমামু আহলিস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ হযরত ইমাম আবু মানছূর আল মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি বিছাল শরীফ ৩৩৩ হিজরী