ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৩৮

সংখ্যা: ২৫১তম সংখ্যা | বিভাগ:

হযরত ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি নির্বাক হলেন

 

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে কেউই বাহাছ বা আলোচনায় কখনো বিজয় হতে পারেননি। সকলেই উনার বশ্যতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ!

বিশিষ্ট ইমাম হযরত সুফীয়ান ইবনে উয়াইনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি একবার সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সাথে সাক্ষাত মুবারক করতে গেলেন। জিজ্ঞাসা করলেন-

هل صحيح انك تفتى ان الـمتبايعين ليس لهم الخيار اذا التقلا من حديث البيع الى حديث اخر غيره ولو ظلا مجتمعين فى مكان واحد.

অর্থ: “এই কথা কি সঠিক যে, আপনি ফাতওয়া দেন যে, ক্রেতা ও বিক্রেতা যখন বেচা-কেনা সম্পর্কীয় কথা-বার্তা শেষ করে অন্য কথা-বার্তায় মশগুল হবে তখন কেনা-বেচা ভঙ্গ বা বাতিল করার কোন ইখতিয়ার বা অধিকার থাকবে না। যদিও তারা উভয়ে সারা দিন একই স্থানে অবস্থান করে?

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযারত ইমামে আ’যম রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি সেটাই ফাতওয়া দিয়ে থাকি।

হযরত ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বললেন, সেটা কিভাবে শুদ্ধ হতে পারে?

وقد صح الحديث عن رسول الله صلى الله عليه وسلم البيعان بالخيار مالم يتفرقا.

অর্থ: “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার থেকে ছহীহ বা বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে যে, “ক্রেতা-বিক্রেতা যতক্ষণ পৃথক না হবে ততক্ষণ (ক্রয়-বিক্রয় ভঙ্গ করার) ইখতিয়ার বা অধিকার থাকবে।”

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’ম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত ইমাম সুফিয়ান রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনাকে বললেন,

ارأيت ان كانا فى سفينة؟ ارايت ان كانا فى سجن؟ ارايت ان كانا فى سفر؟ كيف يفترقان

অর্থ: “আপনি এই ব্যাপারে কি রায় বা মত দিবেন, যদি তারা উভয়ে জাহাজে এক সাথে সফর করে? যদি তারা উভয়ে জেলখানায় বন্দি থাকে? অথবা একসাথে উভয় সফরে বের হয়ে থাকে, তবে তারা কিভাবে পৃথক হবে?”

হযরত ইমাম সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা রহমাতুল্লাহি আলাইহি কোন কথা বলতে পারলেন না। চুপ হয়ে গেলেন।

উল্লেখ্য যে, ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মাফহুম তথা অন্তর্নিহিত অর্থ উপলব্ধি করতে পেরেছেন। সেটাই তিনি প্রকাশ করেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার প্রশ্নই উঠে না। আর উক্ত হাদীছ শরীফখানা শারীরিকভাবে পৃথক হওয়ার  অর্থ জ্ঞাপন করে না। বরং বেচা-কেনার কথা-বার্তা থেকে পৃথক হওয়াই বুঝায়। পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ দ্বারা বিষয়টি স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

واعتصموا بحبل الله جميعا ولا تفرقوا.

অর্থ: “তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরো। আর পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। অর্থাৎ এককথায় সবাই ঐক্যমত পোষন করবে।” (পবিত্র সূরা আলে ইমরান, পবিত্র আয়াত শরীফ নং-১০৩)

নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আলোচ্য পবিত্র হাদীছ শরীফখানা দ্বারা বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

افترقت اليهود

অর্থ: “ইহুদী জাতী বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেলো।”

কাজেই, যে সকল মুর্খ, নাদান লোক ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামে আ’যম রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার সুক্ষ্ম ও ছহীহ সমঝ ও গভীর দূরদৃষ্টির প্রতি দৃষ্টি না দিয়ে বলে যে, তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়ে থাকেন, তারা প্রকারান্তরে উনার প্রতি অপবাদই লেপন করে। ফলে তারা কঠিন শাস্তির উপযুক্ত হয়।

হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-২২

হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম (৪১)

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আউলিয়া, ছূফীয়ে বাত্বিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৮৪

পঞ্চদশ হিজরী শতকের মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, আওলাদুর রসূল, ইমাম রাজারবাগ শরীফ উনার সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার মহা সম্মানিতা আম্মা আওলাদুর রসূল, সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম (৩৪) উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত

একজন কুতুবুয্ যামান উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-১৮৩