ওলীয়ে মাদারজাদ, মুসতাজাবুদ্ দা’ওয়াত, আফযালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখরুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, আমাদের সম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর স্মরণে- একজন কুতুবুয্ যামান-এর দিদারে মাওলার দিকে প্রস্থান-১২৯

সংখ্যা: ১৮৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

-মুহম্মদ সাদী

পূর্ব প্রকাশিতের পর

রাতের গভীরে অদৃশ্য স্থান থেকে গায়েবী

আওয়াজে দুআ’ কবুলের স্বীকৃতি

ওলীয়ে মাদারজাদ, মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াত, আফ্যালুল ইবাদ, ছাহিবে কাশফ্ ওয়া কারামত, ফখ্রুল আওলিয়া, ছূফীয়ে বাতিন, ছাহিবে ইস্মে আ’যম, লিসানুল হক্ব, গরীবে নেওয়াজ, কুতুবুয্ যামান, আওলাদে রসূল, সাইয়্যিদুনা দাদা হুযূর ক্বিবলা হযরতুল আল্লামা সাইয়্যিদ মুহম্মদ মুখলিছুর রহমান রহমতুল্লাহি আলাইহি আমার জন্য দুআ’ করবেন না বলায় আমি মর্মাহত হই। একই সঙ্গে অজানা ত্রুটির জন্য আমি অনুতপ্ত ও শঙ্কিত হই। সকল বিষয়েই আমার অযোগ্যতা, অবাধ্যতা, ত্রুটি ও অপরাধ সীমাহীন। দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি আমার যে ত্রুটির কথা বলেছেন, আমি মনে-প্রাণে বিশ্বাস করি, তা’ অবশ্যই সত্য। কিন্তু দুআ’ চাওয়ার ক্ষেত্রে আমার অপরাধ আমি খুঁজে পাইনা। বিষয়টি উপলব্ধির জন্য যে সূক্ষ্ম সমঝ্ দরকার তা’ আমার নেই।   ভুল-ত্রুটি ও বেয়াদবীর করুণ পরিণতি ভেবে আমি আতঙ্কিত বোধ করি। অজানা অপরাধের যাতনা আমাকে দগ্ধ করতে থাকে। দুঃসহ মানসিক বেদনায় আমি নির্বাক থাকি। দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি আমাকে নছীহত করেই চলেছেন। অব্যক্ত যন্ত্রণা থেকে মুক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কিন্তু উনার জালালিয়তের কারণে সাহসের অভাবে কিছু নিবেদন করা থেকে কিছুক্ষণ আমি বিরত থাকি।

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর ক্বদম মুবারকে হাত রেখে এক পর্যায়ে বিনয়ের সঙ্গে আমি নিবেদন করি: “দাদা হুযূর ক্বিবলা! বেয়াদবীর জন্য আমি ক্ষমা চাই। আপনি দয়া করে ক্ষমা না করলে দুর্বিষহ মানসিক যন্ত্রণা থেকে আমি মুক্তি পাবো না এবং বেয়াদবীর জন্য আমি সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবো। দুআ’ চাওয়ার মূল বিষয়ে কোন ত্রুটি আছে বলে আমার জানা নেই। তবে দুআ’ চাওয়ার প্রক্রিয়ায় আমার যে অপরাধ হয়েছে, তার মাত্রা সীমাহীন। আমার অযোগ্যতা ও অজ্ঞতার কারণে যদিও আমি তা বুঝতে পারিনি। মানুষ যা বলে ও করে তা’তো তার মন ও মননের অবস্থারই বহিঃপ্রকাশ। মানুষ তো কখনোই তার সমঝ্ ও স্বভাব-সঞ্জাত অবস্থানের উপরে উঠতে পারে না। আমার ক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। আপনার ক্বদম মুবারকে দুআ’ চাওয়ায় যে অজানা ও অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি ও অপরাধ হয়েছে, তা’ একান্তভাবেই আমার অপরিচ্ছন্ন মন ও মননেরই বহিঃপ্রকাশ। দাদা হুযূর ক্বিবলা! আমি সবিনয়ে আপনার কাছে ক্ষমা চাই এবং দয়া ও দুআ’ও চাই।”

আমার বিনীত নিবেদন শুনে তিনি বলেন: “তুমি যেভাবেই বলো এবং যতোই বলো না কেন, আমি তোমার জন্য আর দুআ’ করতে চাইনা। এ বিষয়ে তোমার আর কিছু বলার থাকতে পারে কী?” আমি সাহস করে পুনরায় মিনতি জানাই: “দাদা হুযূর ক্বিবলা! “আপনি ওলীয়ে মাদারজাদ, আপনি আওলাদে রসূল, আপনি মুস্তাজাবুদ দা’ওয়াত, আপনি মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর সম্মানিত পিতা, আপনি আল্লাহ পাক এবং খাজিনাতুর রহমত, রউফুর রহীম, মাশুকে মাওলা, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিয়ামতলাভে ধন্য বেমেছাল সম্মানের অধিকারী ওলী। আপনি দয়া করে দুআ’ না করলে আমি যাবো কোথায়? আমি আপনার ক্ষমা, দয়া ও দুআ’ চাই।” আমার সবিনয় আরজু শুনে তিনি বলেন: “আমার বেমেছাল বুযুর্গ সন্তান, আল্লাহ পাক এবং উনার প্রিয়তম হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর খাছ লক্ষ্যস্থল, মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর কাছে যাও। তিনি দয়া ও দুআ’ করলেই সব সমস্যার সমাধান হবে।” আমি সবিনয়ে জানাই: “দাদা হুযূর ক্বিবলা! আমি আমার মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা, মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর নেক দয়া ও দুআ’ চেয়েছি। বিষয়টি আমি পূর্বেই আপনার কাছে পেশ করেছি। আপনার কাছে দুআ’ চাওয়ার বিষয়টি উনার অজানা নয়। আমি আপনারও নেক দয়া ও দুআ’ চাই।”

সাইয়্যিদুনা হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর মুবারক নছীহতে আমার অনুতাপ, উদ্বেগ ও শঙ্কা ক্রমশঃ বৃদ্ধি পেতে থাকে। প্রেক্ষিত কারণে অজানা ভয়াবহ পরিণতির কথা ভেবে অমি বিচলিতবোধ করি। বেয়াদবী ও ত্রুটির জন্য পুনরায় ক্ষমা চাওয়ার কথা ভাবতে থাকি। আমার এরূপ উৎকণ্ঠা ও বেদনাকাতরতায় তিনি বলেন: “তোমার কথা, কাজ ও আচরণ তোমার সমঝ্ ও অনুভবের সমান্তরাল। যে বেয়াদবী ও ত্রুটি হয়েছে, আমি জানি তা তোমার অনিচ্ছায় হয়েছে। এর চেয়ে আরো উত্তমভাবে নিবেদনের যোগ্যতা তোমার কোথায়? কাম্য পর্যায়ের যোগ্যতায় উত্তরণের জন্য প্রাণান্তকর কোশেশ দরকার। সর্বোপরি তোমার মধ্যে তোমার মুর্শিদ ক্বিবলা, মুজাদ্দিদে আ’যম মুদ্দা জিল্লুহুল আলী-এর মুবারক পীযূষধারার সঞ্জীবন আবশ্যক। অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য তোমাকে ক্ষমা করা যায়। আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিলাম। তবে ঐ বিষয়ে আমার কাছে তুমি আর দুআ’ চেয়োনা।” (চলবে)

ক্বায়িম মাক্বামে আবূ রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাখ্দূমুল কায়িনাত, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের মহাসম্মানিত হযরত দাদা হুযূর ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার দীদারে মাওলা উনার দিকে প্রস্থান-২৩৫

উম্মু মুর্শিদিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মালিকুদ দুনিয়া ওয়াল আখিরাহ, মুত্বহ্হার, মুত্বহ্হির, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদাতুনা আমাদের- মহাসম্মানিত হযরত দাদী হুযূর ক্বিবলা কা’বা আলাইহাস সালাম উনার সীমাহীন ফাদ্বায়িল-ফদ্বীলত, বুযূর্গী-সম্মান, মান-শান, বৈশিষ্ট্য এবং উনার অনুপম মাক্বাম মুবারক সম্পর্কে কিঞ্চিৎ আলোকপাত-৮৫

হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা ও মুরীদের সম্পর্ক প্রসঙ্গে (২৫৪) ছবর উনার মাক্বাম এবং তা হাছিলের পন্থা-পদ্ধতি

ইমামুল মুসলিমীন, মুজাদ্দিদে মিল্লাত ওয়াদ দ্বীন, হাকিমুল হাদীছ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহ্ইউস সুন্নাহ ইমামে আ’যম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি-৮১ (বিলাদাত শরীফ- ৮০ হিজরী, বিছাল শরীফ- ১৫০ হিজরী)

সুলত্বানুল হিন্দ, কুতুবুল মাশায়িখ, মুজাদ্দিদুয যামান, গরীবে নেওয়াজ, আওলাদে রসূল, হাবীবুল্লাহ সাইয়্যিদুনা হযরত খাজা মুঈনুদ্দীন হাসান চিশতী আজমিরী সাঞ্জারী রহমতুল্লাহি আলাইহি-৬৫