কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৫১তম পর্ব

সংখ্যা: ২১৮তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

কুরআন শরীফ ও তাফসীর শরীফ থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রাণীর ছবি ইত্যাদি হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালামুল্লাহ শরীফ-এ এবং ব্যাখ্যায়, তাফসীর গ্রন্থসমূহে মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি প্রাণীর ছবি ইত্যাদি তৈরি করা, এদের পূজা করা এগুলোর ব্যবসা করা এবং যে কোন অবস্থায় এগুলোর অনুশীলন করাকে নিষেধ করা হয়েছে। এগুলো তৈরি করা হারাম, এগুলোর পূজা করা কুফরী শিরকী এবং মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদতের বিপরীতে গাইরুল্লাহর ইবাদত করার শামিল।

লক্ষণীয় যে, কুরআন শরীফ-এ উল্লেখিত تماثيل জাতীয় শব্দগুলো দ্বারা কোন কোন অবস্থায় সরাসরি প্রাণীর ছবি বুঝানো না হলেও প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় এগুলোও একপ্রকার মূর্তি বা ভাস্কর্য। পূর্ব যামানা থেকে প্রমাণিত যে, মূর্তি তৈরি হয় পাথর, কাচ, তামা, লোহা, কাঠ, মাটি, স্বর্ণ, রৌপ্য ইত্যাদি উপকরণ দ্বারা। আর প্রাণীর ছবিগুলো তৈরি হয় কলমের কালি, তুলি ও আলো দ্বারা। এই কালি, তুলি ও আলো এগুলোও তো পাথর কাচ ও মাটির মতোই একেকটি উপকরণ। সুতরাং কুরআন শরীফ-এ বর্ণিত تماثيل তামাছীল, শব্দ দ্বারা যদিও প্রাণীর ছবি সরাসরি নিষেধ হয় না। কিন্তু ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্যে প্রাণীর ছবিগুলোও একপ্রকার মূর্তি হওয়ায় এগুলোর অনুশীলন হাদীছ শরীফ-এর ভিত্তিতে হারাম, কুফরী ও শিরকী হিসেবে সাব্যস্ত। এটাই গ্রহণযোগ্য ফয়সালা। নি¤েœ মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রাণীর ছবি নিষেধ সম্পর্কিত আয়াত শরীফগুলো উল্লেখ করে বিশ্ববিখ্যাত সর্বজনমান্য তাফসীরের কিতাব থেকে তার ছহীহ সমাধান তুলে ধরা হলো-

(৯০৯)

আয়াত নম্বর-১

حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالْدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنْزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلاَّ مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُواْ بِالأَزْلاَمِ ذَلِكُمْ فِسْقٌ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُواْ مِن دِينِكُمْ فَلاَ تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الإِسْلاَمَ دِينًا فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ فَإِنَّ اللّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ : তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে ১. মৃত জন্তু ২. রক্ত, ৩. খিনযীরের গোশত ৪. মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক ব্যতীত অন্যের নামে যবাইকৃত পশু ৫. শ্বাস রোধে মৃত জন্তু ৬. প্রহারে মৃত জন্তু ৭. যা উচু স্থান থেকে পতনের ফলে মারা যায় ৮. যা শিংয়ের আঘাতে মারা যায় এবং ৯. যাকে হিং¯্র জন্তু ভক্ষণ করেছে; কিন্তু যাকে তোমরা যবাই করেছ তা হালাল ১০. আর যে পশু মূর্তিপূজার পাথরের উপর বলি দেয়া হয় এবং ১১. যা ভাগ্য নির্ধারক তীর দ্বারা বণ্টন করা হয়। এসবগুলোই ফাসিকী (গোমরাহী, মূর্খতা, শিরকী ও কুফরী) মূলক কাজ। আজ (হজ্জে আকবর হুজ্জাতুল বিদা-এর দিনে) কাফিররা তোমাদের দ্বীন ইসলামের বিরুদ্ধাচরণে হতাশ হয়েছে। সুতরাং তাদেরকে ভয় কর না, বরং আমাকেই ভয় কর । আজ আমি তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার নিয়ামত সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন (পরিপূর্ণ জীবনব্যবস্থা) হিসেবে মনোনীত করলাম।

অতএব, যে  ব্যক্তি তীব্র ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়ে, কিন্তু কোন গুনাহর প্রতি প্রবণতা না থাকে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি পরম ক্ষমাশীল। (সূরাতুল মায়িদাহ : আয়াত শরীফ ৩)

(৯১০)

আয়াত নম্বর : ২

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالأَنصَابُ وَالأَزْلاَمُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অর্থ : হে মু’মিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তি পূজা ও ভাগ্য নির্ধারক তীরসমূহ ঘৃণ্য অপবিত্র বস্তু, শয়তানী কাজ। সুতরাং তোমরা এগুলো বর্জন কর, এতে তোমরা সফলকাম হতে পারবে। (সূরাতুল মায়িদা : আয়াত শরীফ ৯০)

(৯১১)

আয়াত নম্বর : ৩

ذَلِكَ وَمَن يُعَظِّمْ حُرُمَاتِ اللَّهِ فَهُوَ خَيْرٌ لَّهُ عِندَ رَبِّهِ وَأُحِلَّتْ لَكُمُ الْأَنْعَامُ إِلَّا مَا يُتْلَى عَلَيْكُمْ فَاجْتَنِبُوا الرِّجْسَ مِنَ الْأَوْثَانِ وَاجْتَنِبُوا قَوْلَ الزُّورِ

অর্থ : ইহাই বিধান। আর কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার সম্মানযোগ্য বিধানাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট তা তার জন্য উত্তম। তোমাদের জন্য চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে। ওইগুলি ব্যতীত যা তোমাদেরকে জানানো হয়েছে। সুতরাং তোমরা মূর্তিসমূহের অপবিত্রতা থেকে বেঁচে থাক এবং মিথ্যা কথা থেকে দূরে থাক। (সূরাতুল হজ্জ : আয়াত শরীফ ৩০)

(৯১২)

আয়াত নম্বর : ৪

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلاَلٍ مُّبِينٍ. وَكَذَلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ. فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَى كَوْكَبًا قَالَ هَـذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لا أُحِبُّ الآفِلِينَ. فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَـذَا رَبِّي فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِن لَّمْ يَهْدِنِي رَبِّي لأكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ. فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَـذَا رَبِّي هَـذَآ أَكْبَرُ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ. إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالأَرْضَ حَنِيفًا وَمَا أَنَاْ مِنَ الْمُشْرِكِينَ

অর্থ : স্মরণ করুন, যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি স্বীয় চাচা আযরকে বললেন, আপনি কি মূর্তিসমূহকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেন? আমি তো আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে প্রকাশ্য গোমরাহীতে দেখতে পাচ্ছি।

এভাবে আমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে আকাশম-লী ও ভূম-লীর পরিচালন ব্যবস্থা দেখাই। যাতে তিনি নিশ্চিত বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হন।

অতঃপর যখন রাতের অন্ধকার উনার উপর সমাচ্ছন্ন হলো। তখন তিনি একটি নক্ষত্র দেখতে পেলেন, আর বললেন (তোমাদের মতে) এটা আমার প্রতিপালক। অতঃপর যখন তা অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, (আমার দৃষ্টিতে) যা অস্তমিত হয় তাকে আমি (রব হিসেবে) পছন্দ করি না।

অতঃপর যখন তিনি চাঁদকে সমুজ্জ্বলরূপে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, (তোমাদের মতে) এটা আমার প্রতিপালক। যখন এটাও অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, আমার প্রতিপালক আমাকে হিদায়েত না করলে, আমি অবশ্যই পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম। অর্থাৎ তিনি তো আমাকে হিদায়েতসহ পাঠিয়েছেন।

অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে দীপ্তিমানরূপে উদিত হতে দেখলেন, তখন বললেন, (তোমাদের মতে) এটা আমার প্রতিপালক, এটা সর্ববৃহৎ। যখন এটাও অস্তমিত হলো, তখন তিনি বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা যেসব বিষয়কে মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শরীক কর, আমি ওসব থেকে পবিত্র তথা মুক্ত।

আমি একনিষ্ঠভাবে উনার দিকে রুজু হয়েছি এবং উনার মুখাপেক্ষী হয়েছি, যিনি আকাশম-লী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই। (সূরাতুল আনয়াম : আয়াত শরীফ ৭৪-৭৯)

(৯১৩)

আয়াত শরীফ নম্বর : ৫

وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـذَا الْبَلَدَ آمِنًا وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الأَصْنَامَ. رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ فَمَن تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مِنِّي وَمَنْ عَصَانِي فَإِنَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

অর্থ : যখন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি দোয়া করলেন, হে আমার প্রতিপালক! এ (মক্কা) শহরকে নিরাপদ করুন এবং আমাকে ও আমার সন্তান-সন্ততি তথা বংশধরকে মূর্তিসমূহের পূজা থেকে দূরে রাখুন।

হে আমার প্রতিপালক! এ সকল মূর্তিগুলো তো অসংখ্য লোককে বিপথগামী করেছে। অতএব, যে আমার অনুসরণ করে সে আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে নিশ্চয়ই আপনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। (সূরাতু ইবরাহীম আলাইহিস সালাম : আয়াত শরীফ ৩৫-৩৬)

(৯১৪)

আয়াত নম্বর : ৬

وَلَقَدْ آتَيْنَا إِبْرَاهِيمَ رُشْدَهُ مِن قَبْلُ وَكُنَّا بِه عَالِمِينَ. إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ. قَالُوا وَجَدْنَا آبَاءنَا لَهَا عَابِدِينَ. قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمْ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ. قَالُوا أَجِئْتَنَا بِالْحَقِّ أَمْ أَنتَ مِنَ اللَّاعِبِينَ. قَالَ بَل رَّبُّكُمْ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ الَّذِي فَطَرَهُنَّ وَأَنَا عَلَى ذَلِكُم مِّنَ الشَّاهِدِينَ. وَتَاللَّهِ لَأَكِيدَنَّ أَصْنَامَكُم بَعْدَ أَن تُوَلُّوا مُدْبِرِينَ. فَجَعَلَهُمْ جُذَاذًا إِلَّا كَبِيرًا لَّهُمْ لَعَلَّهُمْ إِلَيْهِ يَرْجِعُونَ. قَالُوا مَن فَعَلَ هَذَا بِآلِهَتِنَا إِنَّهُ لَمِنَ الظَّالِمِينَ. قَالُوا سَمِعْنَا فَتًى يَذْكُرُهُمْ يُقَالُ لَهُ إِبْرَاهِيمُ. قَالُوا فَأْتُوا بِهِ عَلَى أَعْيُنِ النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَشْهَدُونَ. قَالُوا أَأَنتَ فَعَلْتَ هَذَا بِآلِهَتِنَا يَا إِبْرَاهِيمُ. قَالَ بَلْ فَعَلَهُ كَبِيرُهُمْ هَذَا فَاسْأَلُوهُمْ إِن كَانُوا يَنطِقُونَ. فَرَجَعُوا إِلَى أَنفُسِهِمْ فَقَالُوا إِنَّكُمْ أَنتُمُ الظَّالِمُونَ. ثُمَّ نُكِسُوا عَلَى رُؤُوسِهِمْ لَقَدْ عَلِمْتَ مَا هَؤُلَاء يَنطِقُونَ. قَالَ أَفَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكُمْ شَيْئًا وَلَا يَضُرُّكُمْ. أُفٍّ لَّكُمْ وَلِمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَفَلَا تَعْقِلُونَ. قَالُوا حَرِّقُوهُ وَانصُرُوا آلِهَتَكُمْ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ. قُلْنَا يَا نَارُ كُونِي بَرْدًا وَسَلَامًا عَلَى إِبْرَاهِيمَ. وَأَرَادُوا بِهِ كَيْدًا فَجَعَلْنَاهُمُ الْأَخْسَرِينَ.

অর্থ : আর আমি ইতিপূর্বে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে উনার সৎপথের জ্ঞান হাদিয়া করেছিলাম এবং আমি উনার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাতও ছিলাম। যখন তিনি উনার চাচা ও সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পূজারী হয়ে বসে আছ? তারা বললো, আমরা আমাদের বাপ-দাদাদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা প্রকাশ্য গোমরাহীতে আছ এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও। তারা বললো, আপনি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছেন, না আপনি কৌতুক করছেন? তিনি বললেন, না, তিনিই তোমাদের পালনকর্তা যিনি নভোম-ল ও ভূম-লের পালনকর্তা, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন এবং এ বিষয়ে আমিই অন্যতম সাক্ষী। মহান আল্লাহ পাক উনার কসম! তোমরা চলে গেলে আমি তোমাদের মূর্তিগুলোর ব্যাপারে একটা হিকমত অবলম্বন করবো। অতঃপর তিনি সেগুলো কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলেন ওদের প্রধানটি ব্যতীত। যাতে তারা তার দিকে ফিরে আসে। তারা বললো, আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার কে করলো? সে নিশ্চয়ই সীমালঙ্ঘনকারী। কতক লোক বললো : আমরা একজন যুবককে তাদের সম্পর্কে বিরূপ আলোচনা করতে শুনেছি, উনাকে হযরত ইবরাহীম (আলাইহিস সালাম) বলা হয়। তারা বললো, উনাকে জনসম্মুখে উপস্থিত করো, যাতে সকলে দেখতে পায়। তারা বললো, হে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম আপনিই কি আমাদের উপাস্যদের সাথে এরূপ ব্যবহার করেছেন? তিনি বললেন, বরং ইহাদের মধ্যে যে বড় সেই তো ইহা করেছে। এদেরকে জিজ্ঞাসা কর, যদি এরা কথা বলতে পারে। তখন তারা মনে মনে চিন্তা করলো এবং বললো : লোকসকল! তোমরাই তো সীমালঙ্ঘনকারী। অতঃপর এতে তাদের মস্তক অবনত হলো এবং তারা বললো, “আপনি তো জানেন যে, এরা কথা বলে না।” তিনি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমরা কি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার পরিবর্তে এমন কিছুর উপাসনা কর, যা তোমাদের কোন উপকারও করতে পারে না এবং ক্ষতিও করতে পারেনা? ধিক তোমাদের জন্যে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে যাদের উপাসনা কর তাদের জন্যে। তোমরা কি বুঝ না? তারা বললো, উনাকে আগুনে পুড়ে ফেলো, এভাবে তোমাদের উপাস্যদের সাহায্য কর, যদি তোমরা কিছু করতে চাও। আমি (মহান আল্লাহ পাক) বললাম, হে আগুন, তুমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার জন্য শীতল আরামদায়ক হয়ে যাও। তারা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বিরুদ্ধে ফন্দি আঁটতে চাইল, অতপর আমি তাদেরকে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত করে দিলাম। (সূরাতুল আম্বিয়া : আয়াত শরীফ ৫১-৭০)

(৯১৫)

আয়াত শরীফ নম্বর : ৭

وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ إِبْرَاهِيمَ. إِذْ قَالَ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ مَا تَعْبُدُونَ. قَالُوا نَعْبُدُ أَصْنَامًا فَنَظَلُّ لَهَا عَاكِفِينَ. قَالَ هَلْ يَسْمَعُونَكُمْ إِذْ تَدْعُونَ. أَوْ يَنفَعُونَكُمْ أَوْ يَضُرُّونَ. قَالُوا بَلْ وَجَدْنَا آبَاءنَا كَذَلِكَ يَفْعَلُونَ.

قَالَ أَفَرَأَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ. أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ. فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِّي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ. الَّذِي خَلَقَنِي فَهُوَ يَهْدِينِ. وَالَّذِي هُوَ يُطْعِمُنِي وَيَسْقِينِ. وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ. وَالَّذِي يُمِيتُنِي ثُمَّ يُحْيِينِ.

অর্থ : আর আপনি তাদেরকে হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার বৃত্তান্ত শুনিয়ে দিন। যখন তিনি উনার চাচা ও উনার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা কিসের উপাসনা কর? তারা বললো, মূর্তি পূজা করি এবং সারাদিন নিষ্ঠার সাথে এদেরই পূজা করি। হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমরা প্রার্থনা করলে তারা শোনে কি? অথবা তারা কি তোমাদের উপকার কিংবা ক্ষতি করতে পারে? তারা বললো : না, তবে আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে এরূপ করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ যে, তোমরা কাদের পূজা করছ? তোমরা এবং তোমাদের পিতৃপুরুষরা; তারা সকলেই আমার শত্রু, জগৎসমূহের পালনকারী তিনি ব্যতীত। যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন তিনিই আমাকে পথ প্রদর্শন করেন। তিনিই আমাকে খাদ্য ও পানীয় দান করেন। যখন আমি রোগাক্রান্ত হই, তখন তিনিই আরোগ্য দান করেন। তিনিই আমার মউত ঘটাবেন, অতঃপর পুনর্জীবন দান করবেন। (সূরাতুশ শুয়ারা : আয়াত শরীফ ৬৯-৮১)

(৯১৬)

আয়াত নম্বর : ৮

وَإِبْرَاهِيمَ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ اعْبُدُوا اللَّهَ وَاتَّقُوهُ ذلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ إِنَّمَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا وَتَخْلُقُونَ إِفْكًا إِنَّ الَّذِينَ تَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ لَا يَمْلِكُونَ لَكُمْ رِزْقًا فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ وَإِن تُكَذِّبُوا فَقَدْ كَذَّبَ أُمَمٌ مِّن قَبْلِكُمْ وَمَا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

অর্থ : স্মরণ করুন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার কথা। যখন তিনি উনার সম্প্রদায়কে বললেন, তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত কর এবং উনাকেই ভয় কর। এটাই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা উপলব্ধি কর। তোমরা তো মহান আল্লাহ পাক ব্যতীত শুধু মূর্তি পূজাই করছো এবং মিথ্যা উদ্ভাবন করছো। তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে যাদের উপাসনা করছো, তারা তো তোমাদের রিযিকের মালিক নয়। কাজেই, মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে রিযিক তালাশ কর, উনারই ইবাদত কর এবং উনার প্রতি শুকরিয়া কর। তোমরা উনার নিকটই প্রত্যাবর্তিত হবে। তোমরা যদি মিথ্যা মনে কর তবে তোমাদের পূর্ববর্তীরাও তো মিথ্যা মনে করেছিল। স্পষ্টভাবে পয়গাম পৌঁছে দেয়াই তো হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের দায়িত্ব। (সূরাতুল আনকাবূত : আয়াত শরীফ ১৬, ১৭, ১৮)

(৯১৭)

আয়াত নম্বর : ৯

وَقَالَ إِنَّمَا اتَّخَذْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ أَوْثَانًا مَّوَدَّةَ بَيْنِكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ثُمَّ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُ بَعْضُكُم بِبَعْضٍ وَيَلْعَنُ بَعْضُكُم بَعْضًا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُم مِّن نَّاصِرِينَ

অর্থ : হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তোমরা তো মহান আল্লাহ পাক উনার পরিবর্তে মূর্তিগুলোকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছ, পার্থিব জীবনে তোমাদের পারস্পরিক বন্ধুত্বের খাতিরে। পরে ক্বিয়ামতের দিন তোমরা একে অপরকে অস্বীকার করবে এবং পরস্পর পরস্পরকে লা’নত দিবে। তোমাদের শেষ আবাস জাহান্নামে এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী নেই। (সূরাতুল আনকাবূত : আয়াত শরীফ ২৫)

(৯১৮)

আয়াত নম্বর : ১০

وَإِذْ وَاعَدْنَا مُوسَى أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ اتَّخَذْتُمُ الْعِجْلَ مِن بَعْدِهِ وَأَنتُمْ ظَالِمُونَ. ثُمَّ عَفَوْنَا عَنكُمِ مِّن بَعْدِ ذَلِكَ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ. وَإِذْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَالْفُرْقَانَ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ. وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ إِنَّكُمْ ظَلَمْتُمْ أَنفُسَكُمْ بِاتِّخَاذِكُمُ الْعِجْلَ فَتُوبُواْ إِلَى بَارِئِكُمْ فَاقْتُلُواْ أَنفُسَكُمْ ذَلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ عِندَ بَارِئِكُمْ فَتَابَ عَلَيْكُمْ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ.

অর্থ : আর যখন আমি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সাথে ওয়াদা করেছি চল্লিশ রাত্রির, অতঃপর তোমরা গো-বৎসকে উপাস্য বানিয়ে নিয়েছ হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার অনুপস্থিতিতে। বস্তুত তোমরা ছিলে যালিম। এরপরও আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার কর অর্থাৎ তোমরা শোকরগুজার বান্দা হও। আর (স্মরণ করুন) যখন আমি হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনাকে কিতাব এবং সত্য মিথ্যার পার্থক্য বিধানকারী নির্দেশ দান করেছি, যাতে তোমরা সরল পথ প্রাপ্ত হতে পার। আর যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়! এই গো-বৎস মূর্তি নির্মাণ করে তোমরা তোমাদেরই ক্ষতি সাধন করেছ। কাজেই এখন স্বীয় রব উনার নিকট তওবা কর এবং নিজ নিজ প্রাণ বিসর্জন দাও। তোমাদের ¯্রষ্টা উনার নিকট এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণময়। তিনি তোমাদের প্রতি ক্ষমাপরবশ হবেন। তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। (সূরাতুল বাক্বারা : ৫১, ৫২, ৫৩, ৫৪)

(৯১৯)

আয়াত শরীফ নম্বর : ১১

وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَآئِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْاْ عَلَى قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَى أَصْنَامٍ لَّهُمْ قَالُواْ يَا مُوسَى اجْعَل لَّنَا إِلَـهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ. إِنَّ هَـؤُلاء مُتَبَّرٌ مَّا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَّا كَانُواْ يَعْمَلُونَ. قَالَ أَغَيْرَ اللّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَـهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ

অর্থ : আর যখন আমি বনী ইসরাঈলদিগকে সাগর পার করে দিয়েছি, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের নিকট গিয়ে উপস্থিত হলো, যারা স্বহস্ত নির্মিত মূর্তি পূজায় নিয়োজিত ছিল। তারা (বনী ইসরাঈল) বললো, হে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম! আমাদের জন্যও তাদের মূর্তির মতোই একটি মূর্তি তৈরি করে দিন। তিনি বললেন, তোমরা তো এক মূর্খ সম্প্রদায়। এরা যে কাজে নিয়োজিত রয়েছে তা ধ্বংস হবে এবং তারা যা কিছু করছে তা তো বাতিল- গোমরাহী। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, তাহলে কি মহান আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত তোমাদের জন্য অন্য কোন উপাস্য অনুসন্ধান করবো? অথচ তিনিই তোমাদেরকে সারা বিশ্বে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। (সুরাতুল আ’রাফ : আয়াত শরীফ ১৩৮-১৪০)

(৯২০)

আয়াত শরীফ নম্বর : ১২

وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَى مِن بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلاً جَسَدًا لَّهُ خُوَارٌ أَلَمْ يَرَوْاْ أَنَّهُ لاَ يُكَلِّمُهُمْ وَلاَ يَهْدِيهِمْ سَبِيلاً اتَّخَذُوهُ وَكَانُواْ ظَالِمِينَ. وَلَمَّا سُقِطَ فَي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْاْ أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّواْ قَالُواْ لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ. وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِن بَعْدِيَ أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَأَلْقَى الألْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُواْ يَقْتُلُونَنِي فَلاَ تُشْمِتْ بِيَ الأعْدَاء وَلاَ تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ. قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ. إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُواْ الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَياةِ الدُّنْيَا وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ. وَالَّذِينَ عَمِلُواْ السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُواْ مِن بَعْدِهَا وَآمَنُواْ إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ. وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الأَلْوَاحَ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ.

অর্থ : হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার সম্প্রদায় উনার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলঙ্কারাদি দ্বারা একটি গরুর বাছুর বানিয়ে নিল, তা থেকে হাম্বা হাম্বা শব্দ বেরুচ্ছিল। তারা কি একথাও লক্ষ্য করল না যে, সেটি তাদের সাথে কথা বলছে না এবং তাদেরকে কোন পথও বাতলে দিচ্ছে না। তারা সেটিকে উপাস্য বানিয়ে নিল। মূলত তারা ছিল যালিম। অতঃপর যখন তারা অনুতপ্ত হলো এবং বুঝতে পারলো যে, আমরা নিশ্চয়ই গোমরাহ হয়ে পড়েছি, তখন বলতে লাগলো আমাদের প্রতি যদি আমাদের পালনকর্তা অনুগ্রহ না করেন, তবে অবশ্যই আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো। যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম নিজ সম্প্রদায়ের নিকট ফিরে এসে রাগান্বিত ও চিন্তিত হলেন, তখন বললেন, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কি নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্বই না করেছ। তোমরা তোমাদের রব উনার আদেশের পূর্বে কি তাড়াহুড়া করলে? তিনি তাওরাতের তখতাগুলো রেখে দিলেন এবং নিজের ভাই উনার মাথার চুল ধরে নিজের দিকে টেনে নিলেন। হযরত হারূন আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার আপন ভাই! এ লোকেরা তো আমাকে দুর্বল মনে করেছিল এবং প্রায় হত্যা করেই ফেলেছিল। আপনি আমার সাথে এমন কিছু করবেন না যাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে যালিমদের সারিতে গণ্য করবেন না। হযরত মূসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে হিফাযত করুন এবং আমার ভাই উনাকে হিফাযত করুন আর আমাদেরকে আপনার রহমতের মধ্যে দাখিল করুন। আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ মেহেরবান। যারা গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, পার্থিব জীবনে তাদের উপর তাদের প্রতিপালক উনার গযব ও লাঞ্ছনা আপতিত হবেই। আর এভাবেই আমি অপবাদ আরোপকারীদেরকে শাস্তি দিয়ে থাকি। আর যারা মন্দ কাজ করে তারপরে তওবা করে নেয় এবং ঈমান আনে, তবে নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক তওবার পর অবশ্য ক্ষমাকারী করুণাময়। তারপর যখন হযরত মূসা আলাইহিস সালাম উনার গোসসা নিবারণ হলো, তখন তিনি তাওরাত শরীফ-এর তখতাগুলো তুলে নিলেন। আর তাতে যা কিছু লেখা ছিল, তা ছিল সে সকল লোকের জন্য হিদায়েত ও রহমত যারা নিজেদের প্রতিপালক উনাকে ভয় করে। (সূরাতুল আ’রাফ : আয়াত শরীফ ১৪৮-১৫৪)

(৯২১)

আয়াত শরীফ নম্বর : ১৩

وَلِسُلَيْمَانَ الرِّيحَ غُدُوُّهَا شَهْرٌ وَرَوَاحُهَا شَهْرٌ وَأَرسَلْنَا لَهُ عَيْنَ الْقِطْرِ وَمِنَ الْجِنِّ مَن يَعْمَلُ بَيْنَ يَدَيْهِ بِإِذْنِ رَبِّهِ وَمَن يَزِغْ مِنْهُمْ عَنْ أَمْرِنَا نُذِقْهُ مِنْ عَذَابِ السَّعِيرِ. يَعْمَلُونَ لَهُ مَا يَشَاء مِن مَّحَارِيبَ وَتَمَاثِيلَ وَجِفَانٍ كَالْجَوَابِ وَقُدُورٍ رَّاسِيَاتٍ اعْمَلُوا آلَ دَاوُودَ شُكْرًا وَقَلِيلٌ مِّنْ عِبَادِيَ الشَّكُورُ.

অর্থ : আর আমি হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার অধীন করেছিলাম বাতাসকে, যা সকালে এক মাসের পথ এবং বিকেলে এক মাসের পথ অতিক্রম করতো। আমি উনার জন্য গলিত তামার এক ঝরনা প্রবাহিত করেছিলাম। উনার রব উনার অনুমতিক্রমে কতক জিন উনার সামনে কাজ করতো। তাদের যে কেউ আমার নির্দেশ অমান্য করে, তাকে আমি জ্বলন্ত আগুনের শাস্তি আস্বাদন করাব। তারা (জিনরা) হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ইচ্ছানুযায়ী প্রাসাদ, প্রতিমা (প্রাণহীনের), হাউজ সদৃশ বৃহদাকার পাত্র এবং চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ নির্মাণ করতো। হে হযরত দাঊদ আলাইহিস সালাম উনার পরিবার! কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আপনারা কাজ করতে থাকুন। আমার বান্দাদের মধ্যে অল্প সংখ্যকই কৃতজ্ঞ। (সূরা সাবা : আয়াত শরীফ ১২-১৩)

উল্লেখিত আয়াতসমূহ দ্বারা উপাসনার উদ্দেশ্যে তৈরিকৃত মূর্তি, ভাস্কর্য, প্রতিকৃতি, প্রতিমা, প্রাণীর ছবি ইত্যাদিকে সম্মান করাকে কুফরী ও শিরকী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এগুলো কাফির ও মুশরিকদের প্রধান কাজ।

এজন্য এগুলো তৈরি করা, তৈরিতে সাহায্য করা, সম্মান দেখানো ইত্যাদি সবই হারাম, কুফরী ও শিরকী কাজ।

{অচিরেই (পরবর্তী সংখ্যায়) আয়াত শরীফগুলোর ছহীহ তাফসীর উল্লেখ করা হবে।}

অসমাপ্ত

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব