কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২১৬তম সংখ্যা | বিভাগ:

৪৯তম পর্ব

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে æগবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) ৩০. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯৫-২১৩তম সংখ্যা) পেশ করা হয়েছে।

আর বর্তমানে ২৮তম ফতওয়াটি অর্থাৎ æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াটি” এখনো পত্রস্থ হচ্ছে। তাই মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ æমাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, æনির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, æরাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال الـمعصية كفر.

অর্থাৎ æগুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে æছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نـمير فراى فى صفته تـماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله الـمصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, æনিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় æউমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই æপ্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ

‘মিশকাতুল মাছাবীহ’ কিতাবের এই হাশিয়াখানা নির্ভরযোগ্য। যা বহুবছর থেকে আমাদের উপমহাদেশে সকল মাদরাসায় পঠিত হয়ে আসছে। যা বড় আকারের মূল মিশকাতুল মাছাবীহ-এর প্রান্তে সন্নিবেশিত হয়ে আসতেছে। নিম্নে উক্ত হাশিয়ায় প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৮৭২-৮৭৩)

قوله لا تدخل الـملائكة اى ملائكة الرحمة لا الحفظة وملائكة الـموت وفيه اشارة الى كراهتهم ذلك ايضا لكنهم مأمورون ويفعلون مايؤمرون كذا فى الـمرقاة. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۳ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ওই সমস্ত ঘরে বা স্থানে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না, যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। অর্থাৎ এমন ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। কিন্তু আমল সংরক্ষণকারী ও মউতের দায়িত্বপ্রাপ্ত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য এমন স্থানে প্রবেশ করতে বাধা নেই। এর থেকে এটাই ইঙ্গিত বহন করে যে, এমন ঘরে প্রবেশ করা মাকরূহ তাহরীমী। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা যা আদিষ্ট হন, তাই সম্পাদন করেন। কখনোই অন্যথা করেন না। অনুরূপ ‘মিরকাতুল মাফাতীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ’ কিতাবে উল্লেখ আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৩নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৭৪-৮৭৬)

قوله فيه كلب الخ انـما لا يدخل الـملائكة بيتا فيه كلب او صورة مما يحرم اقتناءه من الكلاب والصور واما ما ليس بحرام من كلب الـماشية والصيد والزرع والصورة التى تمتهن فى البساط والوسادة وغيرهما فلا يـمنع دخول الـملائكة بسببه كذا فى شرح الطيبى والـمرقات. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۴ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ওই সমস্ত ঘরে বা স্থানে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। এমন ঘরে বা স্থানে প্রবেশ করা হারাম। তবে বাড়িতে বা কোন স্থানে বাড়ী পাহারাদার, শিকারী ও  ক্ষেত পাহারাদার কুকুর থাকলে সেখানে প্রবেশ করে থাকেন। অনুরূপ বিছানা, বালিশ ও এছাড়া অন্য কিছুতে প্রাণীর ছবির অস্তিত্ব বিলীন করে কাপড় ব্যবহার করাতে অসুবিধা নেই। এমতাবস্থায় হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবেশ নিষেধ নয়। অনুরূপ শরহুত ত্বীবী ও মিরকাতে আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৪নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৭৭-৮৭৯)

قال النووى الاظهر انه عام فى كل كلب وفى كل صورة وانهم يمتنعون من الجميع لاطلاق الاحاديث كذا فى شرح الطيـبى والـمرقاة. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۴ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এটাই প্রকাশ্য কথা যে, সাধারণত সকল প্রকার কুকুর ঘরে রাখা ও প্রত্যেক শ্রেণীর প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা নিষেধ তথা হারাম। যা সাধারণত অনেক হাদীছ শরীফ থেকে প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুরূপ শরহুত ত্বীবী ও মিরক্বাতুল মাফাতীহ কিতাবে আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৪নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৮০-৮৮২)

وقال العلماء سبب امتناعهم من الدخول فى بيت فيه صور كونها معصية فاحشة وفيها مضاهاة لخلق الله تعالى وبعضها فى صورة ما يعبد من دون الله ومن الدخول فى بيت فيه كلب كونه يأكل النجاسة ولان بعضه يسمى شيطانا والـملائكة ضد الشيطان وهولاء الـملائكة غير الحفظة لانـهم لايفارقون الـمكلفين كذا فى الطيـبى والـمرقاة. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۴ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রাণীর ছবি-মূতি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করাকে নিষেধ তথা হারাম ফতওয়া দেয়ার কারণ এই যে, কেননা এ কাজগুলোর দ্বারা পাপ ও অশ্লীলতা বিস্তার হয়, মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করা হয় এবং কোন কোনো ব্যাপারে মহান আল্লাহ পাক উনাকে ব্যতীত অন্য সৃষ্টির ইবাদত করা সাব্যস্ত হয়। নাঊযুবিল্লাহ! আর কুকুর বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ নিষেধ এজন্য যে, কুকুরগুলো অধিকাংশ সময় নাপাক জিনিষ খায়, কোন কোন কুকুর শয়তানও হয়ে থাকে। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা শয়তানের বিপরীত অবস্থানে থাকেন। আমল ও বান্দাহকে সংরক্ষণকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ব্যতীত অন্যান্য হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সেসকল স্থানে প্রবেশ করেন না। কারণ, আমল ও বান্দাহকে সংরক্ষণকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বান্দাহ থেকে এক মুহূর্ত পৃথক থাকেন না। অনুরূপ শরহুত ত্বীবী ও মিরকাতুল মাফাতীহ কিতাবে উল্লেখ আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৪নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৮৩-৮৮৪)

قوله فيه تصاليب الخ قال التورفشتى وابن الـملك وغيره من علمائنا اخرج الراوى تصاليب مخرج تـماثيل وقد اختلفا فى الاصل فان الاصل فى تصاليب انه جمع تصليب وهو صنع الصليب وتصويره والصليب شىء مثلث يعبده النصارى ثم سموا ما كان فى صورة الصليب تصليبا تسمية بالـمصدر ثم جمعوه كما فعلوا فى تصاوير والـمراد هنا بالتصاليب الصور كذا فى الـمرقاة (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۸ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি যখন ঘরে কোন প্রাণীর ছবি বা মূর্তি দেখতেন তখনই তা নিশ্চিহ্ন না করে ছাড়তেন না। এ ব্যাপারে হযরত তুরপুশতী, ইবনুল মালিক ও আমাদের অপরাপর উলামায়ে কিরাম উনারা বলেন, এখানে রাবী تـماثيل ‘তামাছীল’ শব্দের স্থানে تصاليب তাছালীব লাগিয়েছেন। ইখতিলাফের নির্জাসে মূল কথা হলো, মূল বর্ণনায় تصاليب ‘তাছালীব’ শব্দটি আছে। تصاليب ‘তাছালীব’ শব্দটি تصليب ‘তাছলীব’ শব্দের বহুবচন। তা হচ্ছে صنع الصليب ‘ছনউছ ছলীব’ তথা ক্রুশের ছবি তৈরি করা। ছলীব তথা ক্রুশ চিহ্নধারী নাছারা বা খ্রিস্টানরা ত্রিত্ত্ববাদে বিশ্বাসী অর্থাৎ তিন খোদার উপাসনায় বিশ্বাসী। অতপর ক্রুশের চিহ্নকেই ছলীব নামকরণ করা হয়। কিন্তু অত্র হাদীছ শরীফে ‘তাছালীব’ বলতে নিষিদ্ধ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যকে বুঝানো হয়েছে। অনুরূপ মিরকাতুল মাফাতীহ কিতাবে উল্লেখ আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৮৫-৮৮৭)

قال النووى هذا محمول على من صور الاصنام فيعبد فله اشد عذاب لانه كافر وقيل هذا فيمن قصد الـمضاهاة بخلق الله تعالى واعتقد ذلك وهو ايضا كافر وعذابه اشد واما من لـم يقصدها فهو فاسق لا يكفر كسائر الـمعاصى كذا لـمعات. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول رقم الحاشية ۱۰ الصفحة ۳۸۵)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, কঠিন শাস্তির ওয়াদা তাদের জন্য, যারা উপাসনার উদ্দেশ্যে মূর্তি–ভাস্কর্য বা প্রাণীর ছবি তৈরি করে। কেননা, তারা কাফির। এরাই আযাবের উপযুক্ত। কারো কারো মতে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে বলে দাবি করে এবং এমন বিশ্বাস রাখে, তারাও মূলত কাফির। এদেরও কঠিন শাস্তি হবে। আর যাদের উদ্দেশ্য ইবাদত নয় ও সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরি করা নয়, মূলত তারা ফাসিক বা কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার। এমন ব্যক্তির গুনাহগুলো কুফরী নয়। অনুরূপ লুময়াত ও আত তা’লীকুছ ছবীহ কিতাবেও উল্লেখ আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ১০নং হাশিয়াহ ৩৮৫ পৃষ্ঠা)

(৮৮৯-৮৯০)

وفى شرح السنة فيه دليل على ان الصورة اذا غيرت هيئتها بان قطعت راسها او حلت اوصالها حتى لم يبق منها الا اثر لا على شبه الصور فلا بأس به كذا فى الـمرقاة. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثانى رقم الحاشية ۴ الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: শরহুস সুন্নাহ কিতাবে এ দলীল আছে যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের মাথা কাটার কারণে এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করার কারণে যদি অন্য ছূরত ধারণ করে এবং প্রাণীর ছূরতের মতো দেখা না যায়; এমন ছবির ব্যবহারে অসুবিধা নেই। অনুরূপ মিরকাতে আছে। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ২য় অনুচ্ছেদ ৪নং হাশিয়াহ ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

(৮৯১)

قوله وكل شىء الخ يجوز فيه الجر على انه بيان للشجر لانه لـما منعه عن التصوير وارشده على جنس الشجور. (حاشية مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثالث رقم الحاشية ۸ الصفحة ۳۸۶)

অর্থ: সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, æতোমার যদি ছবি তৈরি করতেই হয়, তাহলে গাছের ছবি এবং রূহবিহীন জড়বস্তুর ছবি তৈরি করতে পার।” এ হাদীছ শরীফ দ্বারা গাছের ছবি তৈরি করাকে জায়িয রাখা হয়েছে। কেননা, যখন নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলনকে নিষেধ করলেন, তখনই গাছ-পালা ও জড়বস্তুর ছূরত তৈরি করতে অনুমতি দিলেন। (হাশিয়ায়ে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৩য় অনুচ্ছেদ ৮নং টীকা ৩৮৬ পৃষ্ঠা)

অত্র হাশিয়াহ গ্রন্থখানার দলীল-আদিল্লাহ থেকে প্রমাণিত হলো যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম। তবে প্রাণহীন জড় বস্তু ও গাছপালার ছবি তৈরি করা জায়িয।

মুযাহিরে হক্ব

মিশকাত শরীফ-এর উর্দূ অনুবাদ ও ব্যাখ্যাগ্রন্থখানা লিখেছেন মাওলানা মাওলুবী মুহম্মদ কুতুবুদ্দীন ছাহেব শাহজাহানাবাদী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি। অত্র কিতাবে বর্ণিত প্রাণীর ছবি-মূর্তি ভাস্কর্য হারাম সম্পর্কিত দলীল-আদিল্লাহ তুলে ধরা হলো।

(৮৯২)

یہ حکم استعمال صورت کاھی او بنانا صورت جاندار کا مطلق حرام ھے. جواہ سچھونے پرھو یادر ھم پریا اور چیز   پر اور بنانا صورت جندار کا اشد حرام ھے او کبیرہ گناہ او صورت درخت اور پھار اور سوائے انکے کی اور بن جندار کی نھیں حرام. (مظاھر حق علی مشکوۃ المصابیح کتاب اللباس باب التصاویر الفصل الاول جلد ۳ الصفحۃ ۵۷۰)

অর্থ: সাধারণত: (মূলত) প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা এবং এগুলো ব্যবহার করা হারাম। দীনার-দিরহাম, টাকা-পয়সা এবং অন্য কোনকিছুতে প্রাণীর ছূরত তৈরি করাও কঠিন হারাম ও কবীরাহ গুনাহ। তবে গাছ-পালা, পাহাড়-পর্বত ও প্রাণহীন জড়বস্তুর আকৃতি তৈরি করা হরাম নয়। (মুযাহিরে হক্ব আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৩য় খ- ৫৭০ পৃষ্ঠা)

(৮৯৩)

مشابھت کرتےھیں اپنے فعل کو ساتھ فعل الھی کے صورت بنانے میں یا تقدیر کلام یہ ھے کہ بناتے ھیں وہ چیز کہ مشابہ ھوتی ھے مخلوق الھی سے یعنی تصویر کھا ابن ملک نے اگر اعتقاد کری اس کاتو وہ کافر سے زیادۃ کرتا ھے . (مظاھر حق علی مشکوۃ المصابیح کتاب اللباس باب التصاویر الفصل الاول جلد ۳ الصفحۃ ۵۷۲ )

অর্থ: প্রাণীর ছবি তৈরীকারী মহান আল্লাহ পাক উনার সাদৃশ্যতা দাবিকারী। মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কোন প্রাণীর আকৃতি তৈরি করার ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ হুঁশিয়ারী প্রদান করা হয়েছে। ইবনুল মুলক তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সৃর্ষ্টির সাদৃশ্য দাবিকারীরা কাফিরদের থেকেও কঠিন শাস্তি পাওয়ার যোগ্য। (মুযাহিরে হক্ব আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৩য় খণ্ড ৫৭২ পৃষ্ঠা)

(৮৯৪)

جن لوگوں پرکہ عذاب سخت ھوگا مجملہ ان کے بہ بھی ھیں بعضے علما نے لکھاھے کہ یہ وعید ان کے حق میں ھی کہ صورتیں تبون کی بناتے ھیں تا عبادت کئے جاوین اور یہ شخص کافر ھے پس اگر عذاب سخت ھو  دور نہ  ھو اور بعضوں نے کھا جو بقصد مشابھت کے ساتھ خدائے تعالی کے صورت بناوے وہ  بھی کافر ھے اور عذاب اس پر سخت ھے اور جو کہ بغیر   اس قصدکے بناوے فاسق ھی نہ کافر اور اس کا حکم مرتکب تمام معاصی کا ھی اور اتفاق ھی اس پر کہ مراد تصویر حیوانات کی ھی نہ درختوں اور مانند انکی کی اور عرف مین اطلاق مصور کا اول پر ھوتا ھے اور دوسرے  نقاش کھتے ھیں. (مظاھر حق علی مشکوۃ المصابیح کتاب اللباس باب التصاویر الفصل الاول جلد ۳ الصفحۃ ۵۷۲ )

অর্থ: যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে, ঐ ব্যাক্তির কঠিন শাস্তি হবে। কতক উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা লিখেছেন-এ শাস্তির ওয়াদা তাদের জন্য যারা ইবাদতের উদ্দেশ্যে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে। মূলত এরা কাফির হওয়ার কারণেই এদের কঠিন শাস্তি হবে। আবার কতক উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতার জন্যই যদি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি  করে, তাহলে সে ব্যক্তিও কাফির হবে। এজন্য তার শাস্তিকে কঠিনতর করা হবে। কিন্তু যদি কেউ এ উদ্দেশ্যে তৈরি না করে থাকে, তাহলে সে কাফির হবে না, বরং ফাসিক হবে। উক্ত হুকুম সকল গুনাহগারের ব্যাপারে প্রযোজ্য। সকলের ঐক্যমতে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের অনুশীলন হারাম। আর গাছ-পালা, পাহাড়-পর্বত ইত্যাদির আকৃতির অনুশীলন হারাম নয়। যাকে নাক্কাশ বলা হয়। (মুযাহিরে হক্ব আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৩য় খ- ৫৭২ পৃষ্ঠা)

মিরয়াতুল মানাযীহ

মিশকাত শরীফ-এর শরাহ ‘মিরয়াতুল মানাজীহ’ কিতাবখানা লিখেছে, মুফতী আহমদ ইয়ার খান নঈমী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান সম্পর্কে যা উল্লেখ আছে, তা নি¤েœ তুলে ধরা হলো-

(৮৯৫)

تصاویر جمع ہے تصویر کی معنی صورت بنانا یہ جاندار کی حرام ھے بے جان کی جائز ھے تصویر میں مروجہ فوڑو، قلم کی تصویریں، مجسمے سب ھی داخل ھیں کہ غیر جاندار کے حلال ھیں جاندار کی حرام. (مراۃ المناجیح شرح مشکوة المصابیح لباس کا بیان تصویروں کا باب پھلی فصل جلد ۶ صفحۃ ۱۹۴ ادبی دنیا دھلی)

অর্থ: تصابير ‘তাছাবীর’ শব্দটি বহুবচন। একবচন تصوير ‘তাছবীর’। এর অর্থ হলো ছূরত বা আকৃতি। প্রাণীর ছূরত ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম। প্রাণহীনের ছবি জায়িয। ক্যামেরা দ্বারা উঠানো ফটো, কলম বা তুলি দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর ছবি, দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য সবই তাছবীর বা ছবির অন্তর্ভুক্ত। প্রাণহীনের ছবি তৈরি জায়িয। আর প্রাণীর ছবি হারাম। (মিরয়াতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাছাবহি অধ্যায়: পোশাক-সম্পর্কিত আলোচনা পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৬ষ্ঠ খ- ১৯৪ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: আদবী দুনিয়া দিল্লী)

(৮৯৬)

ملائکہ سے مراد رحمت کے فرشتے ھیں. حافظین، کاتبین اور عذاب کے فرشتے تو ھرجگہ پھونچ جاتے ھیں کتسے سے مراد غیر ضروری کتاھے اور تصاویر سے مراد جاندار کی تصویریں ھیں. (مراۃ المناجیح شرح مشکوة المصابیح لباس کا بیان تصویروں کا باب پھلی فصل جلد ۶ صفحۃ ۱۹۴)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যবিশিষ্ট ঘরে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না এই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের দ্বারা রহমতের হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা উদ্দেশ্য। বান্দাদের সংরক্ষণকারী, আমল লেখক ও শাস্তির জন্য নির্ধারিত হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা সকল স্থানেই পৌঁছে থাকেন।

উল্লেখ্য, হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত কুকুর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অপ্রয়োজনীয় কুকুর, আর তাছবীর বা ছবি দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে প্রাণীর ছবি। (মিরয়াতুল মানাজীহ শরহে মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ. পরচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৬ষ্ঠ খ- ১৯৪ পৃষ্ঠা)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব