কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৮তম পর্ব

সংখ্যা: ২১৫তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লّীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

আত তা’লীকুছ ছবীহ আলাল মিশকাতিল মাছাবীহ

 

‘মিশকাত শরীফ’ হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত তাখরীজমূলক কিতাব। এ কিতাবখানার সর্বজনমান্য একখানা ব্যাখ্যাগ্রন্থ হচ্ছে ‘আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ” যা লিখেছেন হযরতুল উস্তাযুল আল্লাম ফদ্বীলাতুশ শায়খ মাওলানা মুহম্মদ ইদরীস কান্ধালবী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৮৫৫-৮৫৭)

وقال محمد بن الحسن فى مؤطاه ص ۳۸۰ وبـهذا نأخذ ما كان فيه من تصاوير من بساط يبسط او فراش يفترش او وسادة فلا بأس بذلك وانـما يكره من ذلك فى الستر وما ينصب نصبا وهو قول ابى حنيفة والعامة من فقهاء رحمة الله عليهم. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۱۰)

অর্থ : হযরত ইমাম মুহম্মদ ইবনে হাসান শাইবানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার ‘মুওয়াত্তা’ নামক কিতাবের ৩৮০ পৃষ্ঠায় লিখেন : আমরা এ মতটিই গ্রহণ করেছি যে, ছিন্নবিচ্ছিন্ন ছবি যার অস্তিত্ব নেই, তা বিছানায়, গদিতে ও বালিশে থাকতে অসুবিধা নেই। কিন্তু প্রাণীর ছবি ঘরের পর্দায় লটকানো মাকরূহ তাহরীমী। ইহা হযরত ইমাম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি ও সকল ফুক্বাহায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায় : পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ : প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা)

(৮৫৮)

واما اتخاذ الصورة وعمل التصوير فهوحرام مطلقا بالاجماع سواء كانت الصورة صغيرة او كبيرة مـمتهنة او غير مـمتهنة وقد تواترت الاحاديث الصريحة فى ذلك. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة۱۰)

অর্থ: প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবি ঘরে রাখা বা এগুলোর চর্চা করা ইজমা মতে হারাম। এগুলো ছোট হোক, বড় হোক এবং লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা সম্মানের জন্য হোক একই হকুম। আর এ ব্যাপারে অসংখ্য মুতাওয়াতির হাদীছ প্রকাশ্যভাবে বর্ণিত আছে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১০ পৃষ্ঠা)

(৮৫৯-৮৬০)

قال النووى هذا الوعيد فى حق من صور الاصنام لتعبد فهو اشد عذابا لانه كافر يستحق اشد العذاب وقيل فيمن قصد الـمضاهاة بخلق الله تعالى واعتقد ذلك وهو ايضا كافر وعذابه اشد واما من يقصد هما فهو فاسق لايكفر كسائر الـمعاصى. ثم الشجرة ونحوها مـما لاروح له فلا تحرم صنعة ولا التكسب به وهذا مذهب العلماء الا مجاهدا فانه جعل الشجرة الـمثمرة من الـمكروه. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۱۱)

অর্থ : হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- কঠিন শাস্তির ওয়াদা তাদের জন্য, যারা উপাসনার উদ্দেশ্যে মূর্তি-ভাস্কর্য বা প্রাণীর ছবি তৈরি করে। কেননা তারা কাফির। এরাই আযাবের উপযুক্ত। কারো কারো মতে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করে ¯্রষ্টা দাবি করে এবং এমন বিশ্বাস রাখে, তারাও মূলত: কাফির। এদেরও কঠিন শাস্তি হবে। যাদের উদ্দেশ্য ইবাদত নয় ও সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরি করা নয়, মূলত: তারা ফাসিক বা কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার। এমন ব্যক্তির গুনাহগুলো কুফরী নয়।

অতপর গাছ ও অনুরূপ প্রাণহীন জড়বস্ত, যাদের রূহ নেই, এগুলো তৈরি করা এবং এগুলোর দিয়ে উপার্জন বা ব্যবসা-বাণিজ্য করা হারাম নয়। ইহা সকল মাযহাবের সকল উলামা রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মত। তবে হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার মতে, ফুল-ফল বিশিষ্ট গাছের ছূরত তৈরি করা ও ব্যবহার করা মাকরূহ তানযীহী। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায় : পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ- প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১১ পৃষ্ঠা, শরহুন নুবাবী)

(৮৬১)

قلت ولعل وجه قول الجمهور فى التخصيص بذات الروح انه لايجوز ان ينسب خلقها الى فعل الـمخلوق لاحقيقة ولا مجازا لخلاف سائر النباتات والجمادات حيث ربما ينسب فعلها الى الناس مجازا ويقال انبت فلان هذا الشجر مثلا وصنع فلان هذه السفينة واما ما عبد من دون الله ولوكان من الجمادات كالشمس والقمر ينبغى ان يحرم تصويره والله اعلم. (التعليق الصبيح على مشلوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاير الفصل الاول الجلد ۵ الصقرة ۱۲)

অর্থ : ব্যাখ্যাকার বলেন- আমি বলি- সম্ভবত জমহুর উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম নিষিদ্ধ প্রাণীর ছবি-মূতি-ভাস্কর্যের সাথে রূহ বা প্রাণ থাকার শর্ত করেছেন এ জন্য যে, কারণ এতে প্রকৃত পক্ষে ও রূপকার্থে সৃষ্টি করার বিষয়টি মাখলূকের ক্ষমতার সাথে জুড়ে দেয়া জায়িয নেই। কিন্তু গাছ-পালা ও জড় পদার্থ এর হুকুম একটু ভিন্ন। কখনো কখনো এগুলোর সাথে মানুষের কর্মের রূপক তুলনা চলে। যেমন বলা হয়- অমুক ব্যক্তি এ গাছটি রোপন করেছে। উদাহরণত: আরো বলা হয়- অমুক ব্যক্তি নৌকাটি তৈরি করেছে। মহান আল্লাহ পাক উনাকে ব্যতীত অন্য কিছুর জন্য ইবাদত করা হলে, যদিও তা জড়বস্তু যেমন সূর্য, চন্দ্র হয়, এ নিয়তে এগুলোকেও তৈরি করা হারাম। মহান আল্লাহ পাক তিনিই বেশি জানেন। (আত তা’রীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায় : পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা)

(৮৬২-৮৬৩)

واما ماورد فى لعب البنات فقيل هو استثنى من التحريم لكن يكره وقيل حلها منسوخ بـهذه الاحاديث قال القرطبى هو مـمنوع منه مطالب بتحقيق التعارض والتاريخ كذا فى فيض القدير ص ۵۱۸ ج ۱ قلت اذا اجتمع الـحلال والحرام غلب الـحرام فلا بد ان تكون الاحاديث الـمحرمة ناسخة لاحاديث الاباحة والله اعلم. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵  الصفحة ۱۲ )

অর্থ : শিশুদের পুতুল নিয়ে খেলা করা সম্পর্কিত বর্ণনা আছে। কেউ বলেন, শিশুদের পুতুল নিয়ে খেলা করা হারাম নয়, বরং মাকরূহ তাহরীমী। কারো মতে, পুতুল নিয়ে খেলা করা বৈধতার বিধান অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়েছে। হযরত ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, মতোবিরোধ ও বর্ণনা বিশ্লেষণ করে এটাই ফায়সালা দেয়া হয় যে, শিশুদের পুতুল নিয়ে খেলা করা নিষেধ বা হারাম। অনুরূপ ফাইদুল ক্বদীর ১ম খণ্ড ৫১৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে। ব্যাখ্যাকার বলেন, আমি বলি- যখন একই বিষয়ের উপর হালাল ও হারাম বিধানের ব্যাপারে মতানৈক্য হয়, তখন হারাম বিধানই প্রাধান্য পাবে। এ জন্য এছাড়া কোনো পথ নেই যে, প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম ঘোষণাকারী হাদীছ শরীফ গুলো শিশুদের পুতুল খেলার পক্ষের হাদীছ গুলোকে মানসূখকারী তথা রহিতকারী। মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তিনিই ভালো জানেন। অর্থাৎ প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি ও চর্চা করার মতো শিশু কর্তৃক পুতুল নিয়ে খেলা করাও হারাম। এতে অবহেলাকারী অভিভাবকরাও গুনাহগার হবে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা)

(৮৬৪-৮৬৬)

(صورة صورها نفسا فتعذبه) بصيغة التأنيث اى تعذبه نفس الصورة فان يجعل فيها روح واسند الفعل اليها مجازا لانـها السبب والباعث على تعذيبه وفى بعض النسخ بالياء اى فيعذبه الله والباء فى كل صورة للبدلية او السببية اى يجعل له بعدد كل صورة شخصا تعذبه فاذا صور عشرين صورة مثلا خلق الله تعالى له عشرين صورة يعذبه وهكذا بعدد ماصور الا ان يتجلى الله عليه بالعفو فيض القدير ص ۳۱ ج ۲ والسراج المنيرص ۲۹۶  ج ۳. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلا ۵ الصفحة ۱۲)

অর্থ : (সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন- তৈরিকৃত প্রত্যেকটি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারী ব্যক্তিকে শাস্তি দিতেই থাকবে) এখানে تعذبه শব্দটিকে স্ত্রীবাচক নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ প্রাণীর ছূরত গুলোতে প্রাণ দেয়া হবে আর তারা ছূরত তৈরিকারীদেরকে শাস্তি দিতেই থাকবে। ক্রিয়াপদের সম্পর্ক রূপকার্থে। কেননা এতে সবব বা কারণ নিহিত আছে। কোন কোন কিতাবে ياء ‘ইয়া’ হরফ যোগে পড়া হয়েছে। আর فى كل صورة এর স্থানে بكل صورة পড়া হয়েছে। এখানে الباء ‘বা’ হরফটি বদলিয়া অথবা সববিয়া। অর্থাৎ প্রত্যেক ছূরতের যত সংখ্যা ততটিই শাস্তি দিতে থাকবে। কেউ যদি বিশটি প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে থাকে, তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি পরকালে বিশটি ছূরত তৈরি করে তাতে প্রাণ দিবেন, আর সেই ছূরত তাকে শাস্তি দিতে থাকবে। অনুরূপ সংখ্যা অনুসারে আযাব দিবে। তবে যদি মহান আল্লাহ পাক তিনি দয়া করে কাউকে ক্ষমা করে দেন (সেটা ভিন্ন কথা)। ‘ফাইদুল ক্বদীর’ ৩১ পৃষ্ঠা ২য় খণ্ড ও ‘আস সিরাজুল মুনীর’ ২৯৬ পৃষ্ঠা ৩য় খণ্ড। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১২ পৃষ্ঠা)

(৮৬৭)

وفيه دليل على ان الصورة اذا قطعت وغيرت هيئتها فلا بأس باستعمالها فى الوسادة والفراش ولايجوز الاستعمال الفراش والوسادة ما دامت الصورة فيه باقية على هيئتها. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثانى الجلد۵ الصفحة ۱۴)

অর্থ : হাদীছ শরীফ থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে, নিশ্চিয়ই প্রাণীর ছবি যখন কেটে ফেলার কারণে তার আকৃতি পরিবর্তন হয়ে জড়বস্তুর মত দেখা যায়, এমন কাপড় বালিশে ব্যবহার করতে কোনই অসুবিধা নেই। যে বিছানা ও বালিশে প্রাণীর ছবি থাকে অথবা প্রাণীর ছবির অংশবিশেষ থাকার কারণে প্রাণীর মতো দেখা যায়, এমন বিছানা ও বালিশ ব্যবহার করা জায়িয হবে না। যতক্ষন না ছবি পূর্ণভাবে দূর করা হয়। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়; পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ২য় অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১৪ পৃষ্ঠা)

(৮৬৮-৮৭০)

عن ام الـمؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت لـما اشتكى النبى صلى الله عليه وسلم ذكر بعض نسائه كنيسة يقال لـها مارية، وكانت ام سلمة وام حبيبة اتتا ارض الحبشة، فذكرتا من حسنها وتصاوير فيها، فرفع رأسه فقال اولئك اذا مات فيهم الرجل الصلح بنوا على قبره مسجدا، ثم صوروا فيه تلك الصور، اولئك شرار خلق الله. متفق عليه. (مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثالث)

অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, যখন সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি (বিছাল শরীফ-এর সময়) অসুস্থ হলেন, তখন উনার আহলিয়া আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের কেউ (আবিসিনিয়ার) মারিয়া গির্জার কথা উল্লেখ করলেন। (ইসলামের প্রাথমিক যুগে) হযরত উম্মু সালামাহ আলাইহাস সালাম ও উম্মু হাবীবাহ আলাইহাস সালাম উনারা হাবশা দেশে হিজরত করেছিলেন। উনারা ঐ গির্জার সৌন্দর্য এবং উহাতে যে সকল প্রাণীর ছবি মূর্তি ছিলো উহার বর্ণনা করলেন। (এসব কথা শ্রবণ করে) সাইয়্যিদুনা হযরত রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মাথা মুবারক উঠিয়ে বললেন- তারা এমন এক সম্প্রদায়, যখন তাদের মধ্যে কোন নেককার বান্দা ইন্তিকাল করতেন, তখন তারা উক্ত ব্যক্তির ক্ববরের উপর মসজিদ তৈরি করতো। অতপর সেখানে তারা এই সকল ব্যক্তির ছবি বানাতো। প্রকৃতপক্ষে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির মধ্যে সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট। মুত্তাফাকুন আলাইহি। (মিশকাতুল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৩য় অনুচ্ছেদ বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় শরাহ গ্রন্থে উল্লেখ আছে-

(৮৭১)

(اولئك) وهو اشارة الى جماعة اليهود والنصارى (اذا مات فيهم الرجل الصالح) من بنى او ولى (بنوا على قبره مسجدا) اى متعبدا وسموه كنيسة (ثم صوروا فيه تلك الصور) اى صور الصلحاء تذكيرا بهم وترغيبا فى العبادة لاجلهم ثم جاء من بعدهم فزين لـهم الشيطان اعمالهم وقال لهم سلفكم كانوا يعبدون هذه الصور فوقعوا فى عبادة الاصنام (اولئك) اى البانون والـمصورون (شرار خلق الله) لانـهم ضلوا واضلوا عباد الله واجروا سنة الشرك بالتصوير. (التعليق الصبيح على مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثالث الجلد ۵ الصفحة۱۷)

অর্থ : (তারা) এর দ্বারা ইহুদী ও নাছারা (খ্রিস্টান)দের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। (যখন তাদের মধ্যে কোন নেককার লোক ইন্তিকাল করতেন) তাদের সন্তান-সন্ততি হোক অথবা অভিভাবক হোক (তখন তারা তাঁদের কবরের উপর মসজিদ নির্মাণ করতো) অর্থাৎ ইবাদত করার জন্য ইবাদতখানা তৈরি করে তার নাম দিতো কানীসাহ তথা গির্জা। (অতপর সেখানে তারা ঐ সকল লোকদের ছবি-মূর্তি তৈরি করতো) অর্থাৎ ইবাদতের মধ্যে ঐ সকল নেককার লোকদেরকে স্বরণ করার জন্য এবং তাদের প্রতি উৎসাহ প্রদানের জন্য তাদের ছবি মূর্তি তৈরি করতো। এসব কারণে যারা পরবর্তীতে আসতো তাদের কাছে ইবলীস-শয়তান এ আমল গুলোকে আরো সুন্দর করে দেখাতো আর বলতো- আরে! তোমাদের পূর্বপুরুষরা তো এ সকল ছবি-মূর্তির ইবাদত (উপাসনা) করতো। এভাবে তারা মূর্তি পূজা করা শুরু করে। (এই সকল লোক) অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারীরা (মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির মধ্যে সর্বপেক্ষা নিকৃষ্ট) কেননা তারা নিজেরা গুমরাহ হয়েছে এবং মহান আল্লাহ পাক উনার অপর বান্দা-বান্দিদেরকে গুমরাহ করেছে। তারা মূলত: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করার মধ্যমে শিরক-এর জন্ম দিয়েছে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৩য় অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ১৭ পৃষ্ঠা)

অসমাপ্ত

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৪তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া- ৪৫তম পরব

হানাফী মাযহাব মতে নামাযে সূরা ফাতিহা পাঠ করার পর ইমাম ও মুক্তাদী উভয়ে ‘আমীন’ অনুচ্চ আওয়াজে বা চুপে চুপে পাঠ করাই শরীয়তের নির্দেশ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)