কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া

সংখ্যা: ২১৪তম সংখ্যা | বিভাগ:

৪৭তম পর্ব

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ æমাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে æছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে æছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, æনিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় æউমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই æকুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই æপ্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

আত তা’লীকুছ ছবীহ আলাল মিশকাতিল মাছাবীহ

‘মিশকাত শরীফ’ হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত তাখরীজমূলক কিতাব। এ কিতাবখানার সর্বজনমান্য একখানা ব্যাখ্যাগ্রন্থ হচ্ছে ‘আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ।” যা লিখেছেন হযরতুল উস্তাযুল আল্লাম ফদ্বীলাতুশ শায়খ মাওলানা মুহম্মদ ইদরীস কান্ধালবী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: …… ওফাত: ……..।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৮৪২)

اعلم انه قد تواترت الاحاديث فى تحريم التصوير وثبت اللعن على المصورين وانهم “اشد الناس عذابا يوم القيامة واولئك شرار خلق الله” ثبوتا لامر دله ففيه دليل على ان التصوير من اشد الـمحرمات لـموجبة اللعن فى الارضين والسموت فان فيه مضاهاة لفعل الخالق سبحانه وتعالى وقد سماه الشارع عليه الصلوة والسلام خلقا. ولان التصاوير فيها معنى الاصنام وقد تحقق فى الـملاء الاعلى داعية غضب ولعن على الاصنام عبدتـها فوجب ان يتنفر منها الـملائكة ولان الشريعة الـمطهرة قد حرمت الشرك بانواعه. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۵ الـمكتبة العثمانية فيروزبور رود لاهور باكستان)

অর্থ: জেন রাখুন! নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা হারাম সম্পর্কিত হাদীছ শরীফসমূহ এবং প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরীকারীদের উপর লা’নত অবধারিত সম্পর্কিত হাদীছ শরীফসমূহ মুতাওয়াতির (এমন হাদীছ যা জাল হওয়ার ব্যাপারে কোন কল্পনাই করা যায় না) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যেমন: æক্বিয়ামতের দিন ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা ‘মুছাব্বিরীন’ বা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারী তথা এগুলোর অনুশীলনকারী।” আর ঐ সকল লোক মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির মধ্যে সর্বনিকৃষ্ট হিসেবে প্রমাণিত। এতগুলো দলীল-প্রমাণ থেকে এটাই চূড়ান্ত ফায়ছালা যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা, দেখা, এগুলোর প্রতিষ্ঠান করা, এগুলোর ব্যবসা করা এবং এগুলোতে সাহায্য করা শক্ত হারাম এবং সাত আসমান- সাত যমীনের মধ্যে অবশ্যম্ভাবি লা’নত লাভের উপকরণ। কেননা, এতে মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহূ ওয়া তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরিকারী ¯্রষ্টা দাবি করা হয়। ‘আশ শারি’ বা শরীয়ত প্রণেতা সাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এমন ব্যক্তিকে  সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরিকারী সৃষ্টা দাবিদার বা মূর্তিপুজক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যেহেতু, নিশ্চয়ই ‘তাছাবীর’ শব্দটি এখানে মূলত মূর্তি-ভাষ্কর্য অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। সুউচ্চ জগতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদের উপর গোসসা করেন এবং মূর্তিপুজকদের উপর তাদের উপাসনার কারণে লা’নত বর্ষণ করেন। এজন্যই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য এমন ঘর বা স্থান থেকে ফিরে থাকা ওয়াজিব। আর ইসলামী শরীয়ত সকল প্রকার শিরক  (যেমন: তন্মধ্যে প্রাণীর ছবি-মূতি-ভাস্কর্যের চর্চা করা) মূলক কাজকে হারাম বলেছে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আল মাকতাবাতুল উছমানিয়াহ ফীরোজপূর রোড, লাহোর, পাকিস্তান)

(৮৪৩)

ولان التصاوير فيها معنى الاصنام وقد تحقق فى الـملاء الاعلى داعية غضب ولعن الاصنام عبدتها فوجب ان يتنفر منها الـملائكة ولان الشريعة الـمطهرة قد حرمت الشرك بانواعه ومظاهره كالركوع والسجود لغير الله وان كانا بنية التعظيم فانـها من مظاهر الشرك ومظانه، ومعلوم ان الاصنام وما فى معناها من التصاوير من اظهر مظاهر الشرك واكبر مظانه فهى اولى بتحريم الاستعمال ومنع البيع والشراء ولان النظر اليها لاسيما التصاوير الشمسية من اعظم اسباب الفتنة فبالنظر اليها تصير النفس محطة للوساوس الشيطانية وترتحل عنها الخصال الـملكية من العفة والحياء فانها قد بلغت فى تصوير جمال ربات الجمال مالـم يبلغه. لسان ولا مقال. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۵)

অর্থ: ‘তাছাবীর’ শব্দটি এখানে মূলত: মূর্তি-ভাস্কর্য অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। সুউচ্চ জগতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা তাদের (মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রাণীর ছবি তৈরিকারীদের) উপর গোস্সা করেন এবং মূর্তিপূজকদের উপর তাদের উপাসনার কারণে লা’নত বর্ষন করেন। এজন্যই হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের জন্য এমন ঘর বা স্থান থেকে ফিরে থাকা ওয়াজিব। আর পবিত্র ইসলামী শরীয়ত সকল প্রকার শিরক (যেমন: তন্মধ্যে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা)মূলক কাজকে হারাম বলেছে। যেমন মহান আল্লাহ পাক উনাকে ব্যতিত অন্য কিছুকে তা’যীমের নিয়তে রুকু সিজদা করা। এভাবে করা প্রকাশ্য শিরক বা অংশীদারিত্ব। এটা জানা কথা যে, এখানে ‘আত তাছাবীর’ শব্দটি দ্বারা আছনাম বা মূর্তি-ভাস্কর্য ও ছবিকে বুঝানো হয়েছে। এটা প্রকাশ্য ও কঠিন শিরক। এগুলো ব্যবহার করা তথা অনুশীলন করা হারাম। এগুলো বিক্রয় করা এবং ক্রয় করা তথা এগুলোর ব্যবসা-বাণিজ্য করাও নিষেধ বা হারাম।

বিশেষ করে ‘আত তাছাবীরুশ শামসিয়াহ’ বা প্রাণীর আলোকচিত্র (ফটো, ছবি)-এর দিকে দৃষ্টি দেয়া ফিতনা ফাসাদের এক বড় কারণ। প্রাণীর ছবির দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপের কারণে অন্তরে শয়তানি কুমন্ত্রণা পয়দা হয় এবং এ কারণে অন্তর থেকে মালাকী স্বভাব দয়া ও লজ্জা বিদায় নেয়। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা)

(৮৪৪)

وقال النبى صلى الله عليه وسلم “لا تباشر الـمرأة لتنعها لزوجها كانه ينظر اليها” ولانـها من الـمسليات وهى ما يسلى النفس عن هم اخرته ودنياه ويضيح الاوقات كالـمزامير والـمعازف ولان النظر اليها مهيج للقوى الشهوانية وموقظ للشهوات النائمة ومعلوم ان هذا هو السبب العظيم لفساد الاخلاق والاعمال بل لحزاب صحة الاجسام والابدان كما هو مشاهد فى شبان هذا الزمان الذين لا تفارق التصاوير الشمسية جيوبهم واكمامهم وبالجملة ان هذه التصاوير الـملعونية جماع الاثم والفواحش لولـم يكن فيها نص من الشارع عليه الصلوة والسلام لكانت الـمفاسد التى تنشا منها كافية فى تحريـمها بلا ريب ونكران وقد اباح بعض الـمتنورين الـمتعممين فى هذا الزمان التصوير الشمسى الذى هو عبارة عن حبس الظل، وزعم انه ليس بتصوير وهو غفلة او تغافل عن معنى التصوير او تزوير وتغرير فان التصوير اعم من ان يكون باليد او باتلعم والـمرسام او بالالة لصورة صادق على الكل بلا شبهة فان الصورة فى اللغة هى الشكل. وهو عام شامل للكل ثم ان معنى التصوير فى التصوير الشمسى اظهر من الشمس فينبغى ان يثبت له التحريم بالبداهة والاولوية. كما يفهم تحريم الضرب من تحريم التافيف بالاولوية. فان مناط النهى عن التأفيف فى قوله تعالى “فلا تقل لهما اف” هو الايذاء وهو متحقق فى الضرب على الوجه الاتـم فيتحقق التحريم فيه ايضا على الوجه الاتـم فكذلك معنى التصوير متحقق فى التصوير الشمسى على وجه التمام والشدة فكذلك ينبغى ان يثبت له التحريم ايضا على وجه الكمال والشدة بالضرورة والبداهة وانكار البداهة مكابرة ومشاغبة. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۵)

অর্থ: সাইয়্যিদুল মুরসালীন ইমামুল মুরসালীন খাতামুন নাবিইয়ীন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, æকোন মহিলা তার স্বামীর কাছে অপর কোন মহিলার প্রশংসা (দৈহিক গঠন সম্পর্কে অবহিত) করবে না। যাতে করে সেই স্বামী কর্তৃক ওই মহিলাকে দেখার মতো হয়ে যায়।” কেননা বেগানা নারী থেকে নিজেকে ভুলিয়ে রাখাই কর্তব্য। এটা এরকম যে, নফসসমূহকে দুনিয়াদারী থেকে ভুলিয়ে আখিরাতের দিকে নিবন্ধ রাখা। সদাসর্বদা হারাম কাজ যেমন গান-বাজনা থেকে ফিরে থাকা। বেগানা মহিলার দিকে দৃষ্টি দেয়ার কারণে (যদিও ছবি হয়) মারাত্মক কু কামনা- চিন্তা সৃষ্টি হয় এবং ঘুমন্ত কু-কামনা- বাসনা জাগ্রত হয়।

এটা জানা যায় যে, বেগানা মহিলা ও পুরুষ পরষ্পরে দেখাদেখির কারণে মানুষের চরিত্র ও আমল নষ্ট হয়ে যায়। এমনকি দেহ ও মন-মস্তিষ্কের সুস্থতার অন্তরায় হয়।

যেমনটি এ যামানার যুবক-যুবতীরা (মানুষেরা) বাহ্যিক চোখে দেখা ও ছবিতে দেখার মধ্যে কোনরূপ পার্থক্য করে না। (কিন্তু বাস্তবে বাহ্যিক ও ছবিতে বেপর্দা হওয়া একই বিষয়)।

মূল কথা হলো: এই অভিশপ্ত প্রাণীর ছবি পাপ ও অশ্লীল-অশালীনতার বিস্তারকারী। আশ শারি’ সাইয়্যিদুনা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার অসংখ্য বর্ণনা ছাড়াও আক্বল বলে যে, প্রাণীর ছবি কোন সন্দেহ ও দ্বিধা ছাড়াই হারাম। কারণ এর দ্বারা ফিতনা-ফ্যাসাদ ব্যাপকভাবে ছড়ায়।

এ আখিরী যামানার কতক অজ্ঞ প্রগতিবাদীরা ‘আত তাছবীরুশ শামসী’ বা প্রাণীর আলোকচিত্রকে বৈধ ফতওয়া দিয়ে থাকে। তারা বলে এটা একটি স্থীর ছায়া বা আয়নার প্রতিবিম্ব। তারা তাছবীর বা আলোকচিত্রের প্রকৃত অবস্থা না জানার কারণেই প্রাণীর ছবি সম্পর্কে এরকম ধারণাপ্রসূত ফতওয়া দিয়েছে।

মূলত: ‘তাছবীর’ বা আলোকচিত্র হলো- সাধারণত: যা হাত, তুলি এবং ক্যামেরা, ভিডিও, টেলিভিশন, ভিসিপি, সিসিটিভি ইত্যাদি যন্ত্র দ্বারা তোলা হয় বা ধারণ করা হয়। কোন সন্দেহ ছাড়াই এ যন্ত্রগুলোর দ্বারা ধারণকৃত ছবিই হারাম আলোকচিত্র। আর ‘ছূরত’ শব্দটির শাব্দিক অর্থই হচ্ছে আকৃতি, প্রতিকৃতি, মূর্তি, ভাস্কর্য। আলোকচিত্রকে ছবি বা প্রতিকৃতি এজন্য ধরা হবে, যেহেতু এটি আলো দিয়ে আকৃতি তৈরি করা হয়েছে। এ কারণেই যন্ত্র বা কোন মাধ্যম দ্বারা তৈরিকৃত আকৃতি বা প্রাণীর ছবি হারাম হিসেবে সাব্যস্ত হবে। যেমনটি অন্যায়ভাবে হাত দ্বারা প্রহার করা আর লাঠি দ্বারা প্রহার করা একইভাবে হারাম। মহান আল্লাহ তায়ালা উনার বানী: æতোমরা পিতা-মাতাকে কষ্ট দিবে না, যাতে উনারা উফ্ শব্দ বলেন।” (সূরা বনী ইসরাঈল-২৩) এখানে কষ্ট দেয়ার মাধ্যমে উনাদেরকে উফ্ শব্দ বলানো অর্থাৎ কষ্টকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ উনারা মুখে উফ্ বলুক আর না বলুক, চেহারায় কষ্টের ছাপ দেখা যাক বা না যাক কখনোই কোনভাবেই উনাদেরকে কষ্ট দেয়া যাবে না। তেমনি ‘তাছবীর’ অর্থ হারাম আলোকচিত্র বা আকৃতি ধারণ। যদিও তার মাধ্যম ভিন্ন রকম হয়। এ কারণেই সকলের জন্য উচিত আলো দ্বারা অঙ্কিত প্রাণীর আলোক চিত্রকে হারাম হিসেবে জানা। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৫ পৃষ্ঠা)

(৮৪৫)

قوله لا تدخل الـملائكة اى ملائكة الرحمة والبركة او الطائفين على العباد لزيارة واستماع الذكر ونحوهم لا الكتبة والحفظة فانهم لا يفارقون الـمكلف طرفة عين وكذا ملائكة الـموت بيتا اى محلا و مسكنا. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۶)

অর্থ: ঐ সকল ঘরে ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না  (যেখানে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ও কুকুর থাকে)। অর্থাৎ রহমত, বরকত, বান্দাদের দেখাশুনায় রত ঘুর্ণয়মান যিকির শ্রবণকারী ও অনুরূপ দায়িত্বের মালায়িকা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। তবে, আমল লেখক ও বান্দাকে সংরক্ষণকারী মালায়িকা আলাইহিমুস সালাম উনারা বান্দা থেকে চোখের পলক পরিমাণ সময়ের জন্যও আলাদা হন না। অনুরূপ মউতের দায়িত্বপ্রাপ্ত মালায়িকা আলাইহিস সালাম উনার জন্যও এমন ঘর ও স্থানে যেতে বাধা নেই। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা)

(৮৪৬)

قال الخطابى انما لا تدخل الـملائكة بيتا فيه كلب او صورة مـما يحرم اقتناؤه من الكلاب والصور، واما ما ليس بحرام مثل كلب الصيد والزرع والـماشية ومن الصور التى تـمتهن فى البساط والوسادة وغيرهما فلا يمنع دخول الـملائكة بيته وقيل هو على عمومه ورجحه القرطبى واختاره النووى رحمة الله عليه فقد قال النووى رحمة الله عليه الاظهر انه عام فى كل كلب وصورة وانهم يمتنعون من الجميع لاطلاق الاحاديث. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۶)

অর্থ: হযরত খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, রহমতের মালায়িকা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই সকল ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। তবে শিকারী, ক্ষেত পাহারাদার ও বাড়ী পাহারাদার কুকুর থাকা হারাম নয় এবং বিছানা ও বালিশের নিচে ছিন্ন ছবি লাঞ্ছনার সাথে থাকাও হারাম নয়। আর এমন ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবেশ নিষেধ নয়। কারো কারো মতে, আমভাবে এমন ঘরে সর্বাবস্থায় প্রবেশ নিষেধ। ইমাম কুরতুবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতটিকে প্রাধান্যপ্রাপ্ত বলেছেন। ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি এ মতটিকেই গ্রহনযোগ্য বলেছেন। যেমনটি হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ মতের উপর ফতওয়া যে, প্রত্যেক কুকুর এবং প্রত্যেক প্রকার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যবিশিষ্ট ঘরে বা স্থানে উনারা প্রবেশ করেন না। যেহেতু হাদীছ শরীফ-এর আম হুকুম মতে সকল প্রকার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ও কুকুরবিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা)

(৮৪৭)

تصاوير اى صورة حيوان اى ذى روح بحرمة التصوير ومشابهة لبيت الاصنام. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۶)

অর্থ: ছবি অর্থাৎ নিষিদ্ধ প্রাণীর ছবিই হচ্ছে রূহবিশিষ্ট হারাম প্রাণীর ছবি। প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট ঘর মূলত মুশরিকদের মূর্তির ঘরের মতই। অর্থাৎ পুজার ঘর ও প্রাণীর ছবি-পুতুল ইত্যাদি যুক্ত ঘর এর হুকুম একই। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা)

(৮৪৮)

قال الامام الغزالى القلب بيت هو منـزل الـملائكة ومهبط اثارهم ومحل استقرارهم والصفات الردئية كالغضب والشهوة والحقد والحسد والكبر والعجب واخواتها كلاب نابحة فاين تدخله الـملائكة وهو مشحون بالكلاب قال ولست اقول الـمراد بلفظ البيت القلب وبالكلب الغضب والصفات والـمذمومة بل اقول هو تنبيه عليه ودخول من الظواهر الى البواطن مع تقرير الظواهر. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۶)

অর্থ: হযরত ইমাম গাযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ক্বলব বা অন্তকরণ হচ্ছে হযরত মালায়িকা (ফেরেশতা) আলাইহিমুস সালাম উনাদের ঘর, অবতরণ স্থল ও অবস্থানস্থল। আর রাগ, লোভ-লালসা, ঘৃণা-শত্রুতা, হিংসা-বিদ্বেষ, অহঙ্কার, অহমিকা ও যাবতীয় বদ স্বভাবগুলো ঘেউ ঘেউ করা কুকুর সাদৃশ্য। তাহলে এমন কুকুরের স্বভাবে পরিপূর্ণ ক্বলব বা অন্তরে রহমতের মালায়িকা (ফেরেশতা) আলাইহিমুস সালাম উনারা কিভাবে প্রবেশ করবেন।

হযরত ইমাম গাযালী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি বলি না যে, হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত ‘ঘর’ দ্বারা উদ্দেশ্য ক্বলব বা অন্তকরণ। আর আমি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত কুকুর দ্বারা শুধু রাগ-গোস্বা ও অন্যান্য বদ স্বভাবকে উদ্দেশ্য করতে চাইনা। বরং আমি এরকম তুলনা দিয়েছি উপদেশ ও সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য। আর প্রকাশ্য বর্ণনা থেকে অস্পষ্ট বর্ণনা খুঁজে তা দ্বারা নছীহত হাছিল করার জন্য। অর্থাৎ বাহ্যিক বদ আমল যেমন হারাম, তেমনি আভ্যন্তরীন বদ স্বভাব পোষন করাও হারাম। প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ও কুকুরের অনুশীলন করা যেমন হারাম, তেমনি হিংসা, বিদ্বেষ অহঙ্কার, গীবত ইত্যাদি বদ স্বভাব পোষন করাও হারাম। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৬ পৃষ্ঠা)

(৮৪৯)

وخلاصة الكلام ان الـمراد بالبيت عند اهل التصوف القلب والـمراد بالكلب النجاسة الـمعنوية كالعجب والكبر بطريق الاعتبار والاشارة مع الاعتراف والاقرار بالظاهر وهذا هو لب الشريعة الجامع بين الظاهر والباطن وهذا باطن تحت الظاهر لا فوقه ولا خارجا عنه فافهم ذلك واستقم. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۷)

অর্থ: চুড়ান্ত কথা এই যে, আহলুত তাছাউফ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা ‘ঘর’ দ্বারা অন্তরকে এবং ‘কুকুর’ দ্বারা আভ্যন্তরীন অপবিত্রতা যেমন অহঙ্কার ও আত্মম্ভরিতাকেও উদ্দেশ্য করেছেন। প্রকাশ্য দলীলের উপর ইঙ্গিত করে এটাই উত্তম পন্থা। শরীয়ত ও মা’রিফত-এর সমষ্টিই হচ্ছে শরীয়তের মূল। উল্লেখিত ফায়ছালা প্রকাশ্য ফায়ছালার অধীনে নিগুঢ় একটি ফায়ছালা। এ বিষয়ে অপ্রকাশ্য ফায়ছালাকে প্রকাশ্য ফায়ছালার উপরে প্রাধান্য দেয়া যাবে না। আর অপ্রকাশ্য ফায়ছালাকে প্রকাশ্য ফায়ছালা থেকে আলাদাও করা যাবে না। এজন্য আমি এটাই বুঝি এবং এর উপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অর্থাৎ প্রকাশ্য দলীলের দ্বারা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম এবং ঘরে কুকুর লালন পালন করাও হারাম। অনুরূপ প্রকাশ্য দলীলের ইশারায় আভ্যন্তরীন ব্যাখ্যার মাধ্যমে কুকুরসম বদ স্বভাব থেকে ক্বলব বা অন্তরকে পবিত্র করা ফরয সাব্যস্ত হয়। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৭ পৃষ্ঠা)

(৮৫০-৮৫৩)

(وقد اشتكل) كون الـملائكة لا تدخل الـمكان الذى فيه التصاوير مع قوله سبحانه وتعالى عند ذكر سليمان عليه السلام “يعلمون له ما يشاء من محاريب وتـماثيل” وقال مجاهد كانت صورا من نحاس اخرجه الطبرى وقال قتادة كانت من خشب ومن زجاج اخرجه عبد الرزاق.

والجواب ان ذلك كان جائزا فى تلك الشريعة وكانوا يعلمون اشكال الانبياء والصالحين على هيئتهم فى العبادة ليتعبدوا كعبادتهم وقد قال ابو العالية لـم يكن ذلك حراما فى شريعتهم ثم جاء شرعنا بالنهى عنه ويحتمل ان يقال ان التماثيل كانت على صورة النقوش بغير ذوات الروح واذ كان اللفظ محتملا لـم يتعين الحمل على الـمعنى الـمشكل وقد ثبت فى الصحيحين حديث ام المؤمنين حضرت عائشة الصديقة عليها السلام فى قصة الكنيسة التى كانت بارض الحبشة وما فيها من التصاوير وانه صلى الله عليه وسلم قال “كانوا اذا مات فيهم الرجل الصالح بنوا على قبره مسجدا وصوروا فيه تلك الصور اولئك شرار الخلق عند الله” فان ذلك يشعر بانه لوكان جائزا فى ذلك الشرع ما اطلق عليه صلى الله عليه وسلم ان الذى فعله شر الخلق. والله اعلم. كذا فى فتح البارى. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۷)

অর্থ: (এ ব্যাপারে বৈপরিত্য সৃষ্টি হয়েছে যে,) যে সমস্ত ঘরে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে সেখানে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। কিন্তু মহান আল্লাহ সুবহানাহূ তায়ালা তিনি নিজ কালামুল্লাহ শরীফ-এ হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার আলোচনা উল্লেখ করে বলেন, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার ইচ্ছানুযায়ী উনার জন্য জিনরা দুর্গ, তামাছীল (প্রাণহীন জিনিসের আকৃতি, কারো মতে প্রাণীর আকৃতি), হাউজ সদৃশ বিরাট পাত্র ও চুল্লির উপর স্থাপিত বিশাল ডেগ তৈরি করতো।” (সূরা সাবা: আয়াত শরীফ ১৩)

তাবিয়ী হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ঐ ছূরতগুলো ছিলো ‘তামা’র তৈরি। যা হযরত ইমাম ত্ববারী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন।

তাবিয়ী হযরত ক্বতাদাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ছূরতগুলো কাঠের তৈরি ছিলো এবং কাঁচের তৈরি ছিলো। যেমনটি হযরত ইমাম আব্দুর রযযাক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বর্ণনা করেছেন।

বৈপরিত্বের সমাধান:

নিশ্চয়ই প্রাণীর আকৃতি তৈরি করা ওই শরীয়তে (হযরত সুলাইমান আলাইহিস উনার যামানায়) নিষেধ ছিলো না। সেসময় মানুষেরা হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম এবং নেককার বান্দা উনাদের আকৃতি মুবারক ইবাদতের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতো। হযরত আবুল আলিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা সেসময় নিষেধ ছিলো না। তা আমাদের শরীয়তে (দ্বীন ইসলামে) নিষেধ বা হারাম করা হয়েছে। ঐ আয়াত শরীফ-এর ব্যাখ্যা এই যে, ওই ছূরতগুলো ছিলো নাকূশ তথা প্রাণহীনের আকৃতি।

কেননা, تماثيل তামাছীল শব্দটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। শুধু প্রাণীর আকৃতির ব্যাপারে শব্দটিকে নির্দিষ্ট করা হয়নি। ‘বুখারী ও মুসলিম’ কিতাবে উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাবশা এলাকার খ্রিস্টানদের উপাসনাগার সম্পর্কে ঘটনা বর্ণিত আছে। যাতে সাইয়্যিদুনা, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর আকৃতি সম্পর্কে বলেছেন, পূর্ব যামানায় যখন কোন সৎ ব্যক্তি ইন্তিকাল করতেন, তখন সে গোত্রের লোকেরা উনাদের (সৎ ব্যক্তির) ক্ববরকে মসজিদ বানাতো এবং তার আকৃতি তৈরি করতো, যারা একাজ করে তারা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকটে সৃষ্টির নিকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত।” যদি পূর্ব শরীয়তে প্রাণীর আকৃতি জায়িয থাকতো, তাহলে কেনো হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন যে, প্রাণীর আকৃতি তৈরিকারীরা সৃষ্টির নিকৃষ্ট হিসেবে বিবেচিত। মহান আল্লাহ তায়ালা তিনিই ভালো জানেন। এ রকম আলোচনা ফতহুল বারীতে আছে। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৭ পৃষ্ঠা, ফতহুল বারী আলাল বুখারী)

এ ইবারত থেকে বুঝা গেল যে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম উনার সময় মূলত প্রাণীর আকৃতি তৈরি করা জায়িয ছিলো না। কতক লোকেরা নিজেরাই এটাকে জায়িয করে নিয়েছিলো। আসলে, হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম জিনদেরকে মূর্তি তৈরি করতে নির্দেশ দেননি। বরং তিনি প্রাণহীনের আকৃতি তৈরি করতে বলেছিলেন। এটাই চুড়ান্ত ফায়ছালা।

(৮৫৪)

تصاليب اى تصاوير كما فى رواية “الا نقضة” اى ازال بالكلية او قطعة وغير هيئته والتصاليب جمع تصليب وهو فى الاصل صنع الصلب وتصويره والصلب يعبده النصارى ثم اطلق على ما فيه صورة الصليب تسمية بالـمصدر ثم جمعوه كما فى تصاوير والـمراد هنا بالتصاليب الصور واخرج الراوى تصاليب مخرج تماثيل. (التعليق الصبيح على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۵ الصفحة ۸)

অর্থ: তাছালীব অর্থ তাছাবীর অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য। যেমনটি বর্ণিত আছে যে, æসাইয়্যিদুনা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি তাছালীব তথা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ধ্বংস না করে ছাড়তেন না।” অর্থাৎ পুরাটিই ধ্বংস করতেন, অথবা হারাম অংশটি কেটে ফেলতেন। তাছালীব শব্দটি তাছলীব শব্দের বহুবচন। উহা মূলত صنع الصلب ‘ছানাউছ ছলব বা মুর্তি তৈরি, ক্রুশ তৈরি অর্থে ব্যবহার হয়। নাছারা খ্রিস্টানরা হারাম ক্রুশের ভক্তি করে থাকে। صورة الصليب ‘ছূরাতুছ ছলীব’ বা ক্রুশ ও প্রাণীর আকৃতি এগুলো নিষেধ। এখানে এ হাদীছ শরীফ-এ তাছালীব দ্বারা ‘ছুওয়ার’ বা প্রাণীর ছবি মূর্তি ভাস্কর্যকে উদ্দেশ্য করা হয়েছে। অন্যান্য রাবী تصاليب এর জায়গায় تـماثيل শব্দটি উল্লেখ করেছেন। (আত তা’লীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৫ম খণ্ড ৮ পৃষ্ঠা)

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১৪

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪২তম পর্ব

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া    ১৫দ

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব