কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯)

সংখ্যা: ২১৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহমতে  ফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র  মাসিক আল বাইয়্যিনাতপত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. ক্বদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা)

১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলার শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা), ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) পেশ করার পর-

৩০তম ফতওয়া হিসেবে

১৯৫তম সংখ্যা থেকে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শবে বরাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

  সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফর, শিরক ও বিদয়াতের মুলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র-  মাসিক আল বাইয়্যিনাতপত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ  মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয় যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

উলামায়ে ছূরা শবে বরাতসম্পর্কে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। উলামায়ে ছূবা ধর্মব্যবসায়ীরা বলে ও প্রচার করে থাকে যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও  নেই, শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয ও হারাম। নাঊযুবিল্লাহ!

তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ইতিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আমালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। কেননা হাদীছ শরীফে শবে বরাতের অশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتا العيدين

অর্থ:  নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الامن مستغفر فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر.

অর্থ:  হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন শাবানের পনের তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন,  কোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব। কোন মুছিবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ্, মিশকাত)

এ ধরনের আরো অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে, যাতে শবে বরাত-এর ফযীলতের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা শবে বরাত পালন করবে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের উভয়েরই খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি লাভ করবে।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে  ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ শবে বরাতপালন থেকে বিরত থেকে অশেষ ফযীলত থেকে মাহরূম হবে। যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী, তারা ও হক্ব তালাশী সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে। অর্থাৎ শবে বরাতসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-উনার রেজামন্দী হাছিল করতে পারে। সে জন্যই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শবে বরাত’-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি প্রকাশ করা হলো।

  শবে বরাত সম্পর্কে উলামায়ে ছূও বাতিল ফিরক্বার মনগড়া, দলীলবিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং তার দলীলভিত্তিক খণ্ডমূলক সঠিক জাওয়াব

  পূর্ব প্রকাশিতের পর

 ইহুদীদের আরেক দালাল ওহাবী মুনাফিক দাইয়্যুস সাঈদীর শবে বরাত সম্পর্কে গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্য:

 আরেক গ-মূর্খ তথা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল  কাট্টা ওহাবী, দাইয়ূস সাঈদী ওরফে ইহুদী শবে বরাতসম্পর্কে মন্তব্য করেছে-  পবিত্র শবে বরাত মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। শবে বরাতের কোন  গুরুত্ব নেই। শরীয়তে শবে বরাতের কোন জায়গা নেই।” (দৈনিক সংবাদ ১৩/০৩/৯৪ইং প্রকাশিত)।

 মুনাফিক সন্তান, দাইয়্যূস ও ধর্মব্যবসায়ী ইহুদী এজেন্ট সাঈদীর গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্যের দলীলভিত্তিক খণ্ডমূলক দাঁত ভাঙ্গা জাওয়াব:

 ইহুদী এজেন্ট মুনাফিক ধর্মব্যবসায়ী দাইয়্যূস গোমরাহ সাঈদী শবে বরাত সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছে তা মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন ও কুফরীমূলক হয়েছে। কেননা সে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ-এর স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ অস্বীকার করেছে। সে বলেছে শবে বরাত কোন কল্যাণ বয়ে আনেনা। শবে বরাত কোন অস্তিত্ব ও গুরুত্ব শরীয়তে নেই। অথচ কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ ও অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান তথা শবে বরাত সম্পর্কে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

কেউ কেউ ভাগ্য নির্ধারনের রাত দ্বারা ليلة القدر কে বুঝিয়ে থাকেন। তবে তা সঠিক নয়, কেননা সূরা ক্বদরের তাফসীরে বিশ্ববিখ্যাত তাফসীর গ্রন্থ  তাফসীরে মাযাহারীর”-এর ১০ম খ-ে তার যথার্থ সমাধানে দলীল উল্লেখ করেছেন যে, ليلة القدر তথা শবে ক্বদরই হচ্ছে মূলত পূর্ব নির্ধারিত বিষয়ের বাস্তবায়নের রাত।

যেমন এ প্রসঙ্গে উক্ত কিতাবে উল্লেখ আছে যে-

قيل (للحسن بن الفضل) فما معنى ليلة القدر قال سوق الـمقادير الى الـمواقيت وتنفيذ القضاء الـمقدر يعنى اطلاع الـملائكة الـموكلة على الا مور فى تلك الليلة ما قدر الله تعالى امر السنة فى عباده وبلاده الى السنة الـمقبلة وقال عكرمة تقدير الـمقادير وابرهم الامور فى ليلة النصف من شعبان فيها ينسخ الاحياء من الاموات فلا يزداد فيهم ولا ينقص منهم ويؤيده مارواه البغوى ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يقطع الاجال من شعبان الى شعبان حتى ان الرجل لينكح ويولد له ولقد خرج اسمه فى الـموتى قلت لعل تقدير الـمقابير بنحو من الانجاء او بعضها فى ليلة النصف من شعبان وتقديرها كلها وتسليمها الى اربابها انـما هو فى ليلة القدر وروى ابو الضحى عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه ان الله يقضى الاقضية ليلة النصف من شعبان وسلمها الى اربابها فى ليلة القدر كذا ذكر البغوى وقال الزهرى سميت بـها للعظمة والشرف قال الله تعالى وما قدروا الله حق قدره اى ما عظموه وقيل لان العمل الصالح فيه يكون ذا قدر عند الله.

অর্থ:  হযরত হাসান ইবনে ফযল রহমতুল্লাহি আলাইহিকে ক্বদরের রাত তথা শবে ক্বদরের অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি তার জবাবে বলেন, স্থিরীকৃত ফায়ছালাকে তার নির্ধারিত সময়ের দিকে পরিচালনা এবং নির্ধারিত সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন বা জারী করার রাতই হচ্ছে ক্বদরের রাত। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক বান্দাদের আগামী এক বৎসরের যাবতীয় কিছুই ১৫ই শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে নির্ধারণ (বা ফায়সালা) করেন, আর ক্বদরের রাতে সেই নির্ধারিত বিষয়সমূহকে বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে অর্পন করা হয়।

হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, পূর্বে স্থিরকৃত যাবতীয় বিষয়গুলোর যথাসময়ে নির্ধারণ এবং যাবতীয় বিষয়ের ফায়ছালা হয়ে থাকে মধ্য শাবানের তথা ১৫ ই শাবানের রাতে (শবে বরাতে)।  এবং আরো তালিকা প্রস্তুত করা হয় মৃত্যু ও জীবীতদের। এই তালিকা থেকে কোন বৃদ্ধিও করা হয় না এবং কোন কমতিও করা হয় না। অর্থাৎ ঐ তালিকার কোন পরিবর্তন করা হয় না। ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু এর এই উক্তির সমর্থনে হযরত বাগবী রহমুতল্লাহি আলাইহি এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করা হয় যে, সেখানে হাদীসের উদ্ধৃতিতে বলা হয়েছে, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন এক মধ্য শাবান হতে পরবর্তী বৎসরের মধ্য শাবান পর্যন্ত মৃত্যুর তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এমনকি ব্যক্তির বিবাহ এবং সেই বৎসর তার কি সন্তান জন্মলাভ করবে এবং সেই বৎসর কখন মৃত্যুবরণ করবে তার যাবতীয় তালিকাও প্রস্তুত করা হয় এই শবে বরাতে। নাম থাকে তাদেরও যারা ঐ সময়ে বিবাহ করার পর ইন্তেকাল করবে।

গ্রন্থকার বলেন, আমি উভয়ের পূর্ণ বা আংশিক সামঞ্জস্যে বলি, সম্ভবত নির্ধারিত বিষয়ের নুন্যতম পরিসংখ্যান প্রস্তুত করা হয় মধ্য শাবান তথা ১৫ই শাবান রাতে। আর ক্বদরের রাতে নিশ্চিতরূপে বাস্তবায়ন করার জন্য তালিকা পেশ করা হয় বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে। অর্থাৎ শবে বরাতে সমস্ত কিছু ফায়ছালা করা হয়। আর ক্বদর রাতে জারী বা কার্যকরী করনের জন্য তালিকা কার্যকরী হযরত ফেরেশ্তা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে অর্পন করা হয়।

কেননা এ প্রসঙ্গে হযরত আবুদ্বহা রহমতুল্লাহি আলাইহি-এর বর্ণনায় এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেছেন, অর্ধ শাবান রাতে অর্থাৎ শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক সকল বিষয়ের ফায়ছালা অর্থাৎ তালিকা প্রস্তুত করেন। আর ক্বদর রাতে তা কার্যকরী করার জন্য ঐ তালিকা অর্পন করেন বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের হাতে। এরূপ হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন মুফাস্সীরকুল শিরোমনি ইমাম হযরত বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি।

ইমাম যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি বলেন, লাইলাতুল ক্বদর (মহিমান্বিত রাত) নামকরন করা হয়েছে তার শ্রেষ্টত্ব ও মহিমা অনুসারে। যেমন মহান আল্লাহ পাক (সূরা আনয়াম ৯১নং আয়াত শরীফে) বলেন, তারা মহান আল্লাহ পাক উনাকে যথার্থ তাযীম তথা সম্মান দেয়নি। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক তিনি যেমন মহান মর্যাদা ও মর্তবা পাওয়ার অধিকারী সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। (এখানে ক্বদর অর্থ হল মহত্ত্ব বা মর্যাদা। কাজেই যারা বলে থাকে سورة القدر এর মধ্যে যে ليلة القدر শব্দগুলো উল্লেখ আছে তার দ্বারা শুধু ভাগ্যরজনীকে বুঝানো হয়েছে আলাদাভঅবে কোন রাত্রিকে ভাগ্যরজনী হিসেবে সাব্যস্ত করা যাবে না। তাদের এরূপ উক্তি মোটেও শুদ্ধ নয়। বরং চরম জিহালতপূর্ণ কথা।

অথচ উল্লেখিত তাফসীরের আলোকে জানা গেল যে, ليلة القدر বলতে এখানে সম্মানিত ও মহিমান্বিত রাত্রিকে বুঝানো হয়েছে। যা রমাদ্বান শরীফের শেষের দশদিনের বিজোড় রাত্রিতে নিহিত। তাই সুস্পষ্টভাবে বুঝা গেল, ليلة القدر দ্বারা ভাগ্যরজনী বা ভাগ্য নির্ধারণের রাত নয়। বরং মহিমান্বিত বা মর্যাদার রাত) কেননা এই ক্বদর রাতের নেক আমল মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে মর্যাদাপূর্ণ। পক্ষান্তরে শবে বরাত এবং শবে ক্বদরকে আলাদা ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত তাফসীর তাফসীরে মাদিরক-এ

ليلة المباركة এ আয়াতাংশের তাফসীরে উল্লেখ করেন-

(৩৮২-৩৮৩)

ليلة النصف من شعبان … وهذه الليلة مفرق كل امر حكيم ومعنى يفرق يفصل ويكتب كل امر من ارزاق العباد واجالهم وجميع امورهم من هذه الليلة الى ليلة القدر التى تجئ فى السنة الـمقبلة.

অর্থ:- ليلة مباركة (লাইলাতুম মুবারাকাহ) দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে অর্ধ শাবানের রাত তথা শবেবরাত। এবং এই মুবারকময় রাতে সকল প্রজ্ঞাপূর্ণ বিষয়সমূহের ফায়সালা করা হয়। আয়াত শরীফ-এর يفرق শব্দের অর্থ হচ্ছে يفصل (ইউফাছছালু) তথা ফায়সালা করা, এবং يكتب (ইউকতাবু) তথা লেখা হয় প্রত্যেক বান্দাদের রিযিক তথা জীবিকাসমূহ। তাদের মৃত্যুর সময় সীমাও লেখা হয়। এবং সমস্ত বিষয়ের তালিকা লেখা হয় এই মুবারক রাতে তথা শবে বরাতে। আর ক্বদর রাতে তথা মর্যাদাবান রাতে ঐ সমস্ত ফয়সালাকৃত বিষয়গুলো চালু করা হয় তথা কার্যকরী করা হয় যা সামনের এক বৎসর পর্যন্ত চলতে থাকে। (তাফসীরু হাশিয়াতিল খাযিন ৪র্থ খ-,পৃঃ ১১২)

এ প্রসঙ্গে সুবিখ্যাত তাফসীর, তাফসীরুল খাযিন এর ৪র্থ খ-ের ১১২ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে যে-

(৩৮৪-৩৮৬)

(انا انزلناه فى ليلة مباركة).. وقيل هى ليلة النصف من شعبان عن ام الـمؤمنين حضرت عائشة عليها السلام قالت قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ان الله تبارك وتعالى ينزل ليلة النصف من شعبان الى السماء الدنيا فيغفر لاكثر من عدد شعر غنم كلب اخرجه الترمذى .. (فيها) اى فى تلك الليلة الـمباركة  (يفرق) اى يفصل (كل أمر حكيم) وقيل هى ليلة النصف من شعبان يبرم فيها أمر السنة وينسخ الاحياء من الاموات وروى البغوى بسنده ان النبى صلى الله عليه وسلم قال تقطع الاجال من شعبان الى شعبان حتى ان الرجل لينكح ويولد له وقد خرج اسمه فى الـموتى وعن ابن عباس رضى الله تعالى عنهما ان الله يقضى الاقضية فى ليلة النصف من شعبان ويسلمها الى اربابـها فى ليلة القدر.

অর্থ:  নিশ্চয়ই আমি এক বরকতময় রাত্রিতে উহা অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ অবতীর্ণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে লাইলাতুম মুবারাকা দ্বারা অর্ধ শাবান তথা ১৫ই শাবানের রাতকে (শবে বরাত) উল্লেখ করা হয়েছে। কেননা উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে। তিনি বলেন, হযরত নবী পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি অর্ধ শাবানের রাতে (১৫ই শাবান রাতে) পৃথিবীর নিকটতম আকাশে অবতরণ করেন তথা রহমতে খাছ নাযিল করেন, অতঃপর মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই রাতে বনী ক্বলব গোত্রের বকরীর পশমের সংখ্যা পরিমাণ অধিক সংখ্যক বান্দাদেরকে ক্ষমা করেন। এই হাদীছ শরীফখানা হযরত ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি তিনি বর্ণনা করেন।

পরবর্তী আয়াত শরীফ-এ বলা হয়েছে ওই মুবারকময় রাতে প্রত্যেক হিকমতপূর্ণ বিষয়ের ফায়ছালা তথা সিদ্ধান্ত করা হয়।

আর ফায়ছালার তথা তালিকা প্রস্তুত করার রাত দ্বারা বুঝানো হয়েছে অর্ধ শাবানের রাত তথা ১৫ই শাবানের রাত (শবে বরাতকে)। আর এই শবে বরাতে আগামী এক বৎসরের যাবতীয় বিষয়ের ভাগ্যলিপি প্রস্তুত করা হয় এবং জীবিত ও মৃত্যুদের তালিকাও ওই রাতে প্রস্তুত করা হয়। কেননা এ উক্তির সমর্থনে প্রখ্যাত ইমাম ও মুজতাহিদ হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উনার তাফসীরে বাগবীএর মধ্যে পূর্ণ সনদের মাধ্যমে হাদীছ শরীফ উল্লেখ করেছেন যে, নিশ্চয়ই হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, এক শাবান তথা মধ্য শাবান থেকে পরবর্তী মধ্য শাবান পর্যন্ত মৃতদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এবং এমনকি একজন ব্যক্তি কখন বিবাহ করবে তার কি সন্তান হবে, তার সেই বৎসরে কখন মৃত্যুবরণ করবে তার নামের তালিকাও প্রস্তুত করা হয় শবে বরাতে। এ প্রসঙ্গে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা উনার থেকে হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, অর্ধ শাবানের রাতে তথা ১৫ই শাবানের রাতে (শবে বরাতে) মহান আল্লাহ পাক তিনি যাবতীয় বিষয়ের সিদ্ধান্ত নেন। আর ক্বদর রাতে (শবে ক্বদরে) সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন তথা কার্যকর করার জন্য তালিকা অর্পণ করেন বাস্তবায়নকারী হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনার হাতে। (তাফসীরে মাদারিক)

উপরোল্লিখিত দলীলভিত্তিক আলোচনা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হলো যে, ইহুদী এজেন্ট, মুনাফিক মওদুদীর পোষ্য সন্তান, ধর্ম ব্যবসায়ী, ওহাবীদের অনুসারী, হিন্দু পুজারী, দাইয়্যুস, পথভ্রষ্ট, দে. হো সাঈদীর উক্ত বক্তব্য মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর, গোমরাহী ও কুফরীমূলক হয়েছে।

 পরিশিষ্ট

বাতিলের আতঙ্ক হক্বের অতন্দ্র প্রহরী আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক মুখপত্র মাসিক আল বাইয়্যিনাত-এর ১৯৫ থেকে ২১৩তম সংখ্যা, অর্থাৎ ১৯টি সংখ্যায়  কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শাবান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াশিরোনামে অসংখ্য নির্ভরযোগ্য ও অকাট্য দলীলের মাধ্যমে যে ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে তার মূল বিষয়বস্তু হলো-

১. মুসলমানদের ঈমান ও আমল হিফাযতের লক্ষ্যে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিলের লক্ষ্যেই পবিত্র শবে বরাত সম্পর্কে ফতওয়া প্রদান করা হয়েছে।

২. শবে বরাতকথাটি আরবী এবং ফার্সী ভাষার সংমিশ্রনে গঠিত। যার অর্থ হচ্ছে ভাগ্য রজনী বা মুক্তি তথা নাজাতের রাত।

৩. পবিত্র কুরআন শরীফ-এ শবে বরাতকে লাইলাতুম মুবারাকাহঅর্থাৎ বরকতময় রজনী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

৪. হাদীছ শরীফ-এ শবে বরাতকে লাইলাতুন নিছফি মিং শাবানঅর্থাৎ শাবানের মধ্য রাত বা শাবানের ১৫ তারিখ রাত বলা হয়েছে।

৫. বিশ্বখ্যাত তাফসীর শরীফ, হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ফিক্বাহ ও ফতওয়ার কিতাবে শবে বরাত-এর উল্লিখিত নাম ছাড়াও আরো বহু নাম উল্লেখ রয়েছে। যেমন লাইলাতুল ক্বিসমাহ, লাইলাতুত তাজবীয, লাইলাতুল ফায়ছালাহ, লাইলাতুল আফওি, লাইলাতুল কারামি, লাইলাতুত তওবাহ, লাইলাতুন নাদাম ইত্যাদি।

৬. পবিত্র কুরআন শরীফ-এর সূরা দুখানের ৩-৪ নং আয়াত শরীফ-এ বর্ণিত ليلة مباركة লাইলাতুম মুবারাকাহ দ্বারা পবিত্র শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে। যা বিশ্বখ্যাত ও নির্ভরযোগ্য অসংখ্য তাফসীরের কিতাবে বর্ণিত রয়েছে।

৭. একাধিক ছহীহ হাদীছ শরীফ এ বর্ণিত ليلة النصف من شعبان  ‘লাইলাতুন নিছফি মিং শাবানদ্বারা পবিত্র শবে বরাতকেই বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ শাবান মাসের ১৫ তারিখ রাত অর্থাৎ ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটিই মূলত শবে বরাত। যা ছিহাহ সিত্তাহসহ অসংখ্য নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বখ্যাত হাদীছ শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহে উল্লেখ আছে।

৮. যে বা যারাই শবে বরাতকে বিদয়াত বলে থাকে তারা সকলেই কাযযাব, গোমরাহ, বিদয়াতী, ধর্মব্যবসায়ী ও উলামায়ে ছূর অন্তর্ভুক্ত। তাদের কথা গ্রহনযোগ্য ও অনুসরণীয় নয়।

মূল কথা হলো কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াসের দৃষ্টিতে পবিত্র শবে বরাত পালন করা জায়িয তো অবশ্যই বরং সুন্নতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সুন্নতে ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ও সুন্নতে আউলিয়ায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এর অন্তর্ভুক্ত। তাই শবে বরাতের বিরোধীতা করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।

মহান আল্লাহ পাক আমাদের সকলকে অত্র ফতওয়া মুতাবেক আমল করে মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ রেযামন্দি হাছিল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

সমাপ্ত

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০