কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৪৬তম পর্ব

সংখ্যা: ২১৩তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে  “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র  “মাসিক আল বাইয়্যিনাতপত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলার শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

 “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়াপেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র-  মাসিক আল বাইয়্যিনাতপত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থহয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ  মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থহয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ওহাবী সম্প্রদায়। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ছূরা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ছূরা প্রচার করছে  ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে,  নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ছূরা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে,  রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ইতিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আমালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে,  রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িযতারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ  গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে  ছূদের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ  ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িযউলামায়ে  ছূদের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আমাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন,  নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায়  উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতেউল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: তাওদ্বীহনামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জš‘র ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে  ছূদের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই  কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটিপুনরায় প্রকাশ করা হলো।

  

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

 

 স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রš’ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই  প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িযবলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

  মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু

মিশকাতিল মাছাবীহ

 মিশকাতুল মাছাবীহহাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত কিতাব। এ কিতাবখানার সর্বজনমান্য ব্যাখ্যাগ্রš’ হচ্ছে মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ।এ ব্যাখ্যা গ্রন্থ লিখেছেন আল্লামা শায়খ আলী বিন সুলত্বান মুহম্মদ ক্বারী হানাফী মাতুরীদী (মাশহূর: মুল্লা আলী ক্বারী) রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ১০১৪ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে, তা উল্লেখ করা হলো-

(৮১৬)

(قال النبى صلى الله عليه وسلم: لا تدخل الـملائكة) اى ملائكة الرحمة لا الحفظة وملائكة الـموت (بيتا) اى مسكنا (فيه كلب) اى الا كلب الصيد والـماشية والزرع (ولا تصاوير) يعم جميع انواع الصور. (مرقاة الـمفاتيح شرح مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: (সাইয়্যিদুনা হযরত নবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না) অর্থাৎ রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। কিš‘ আমল সংরক্ষণকারী ও মালাকুল মউত হযরত আযরাঈল আলাইহিস সালাম প্রবেশ করেন (এমন ঘরে) বা স্থানে  (যেখানে কুকুর থাকে) অর্থাৎ শিকারী বাড়ী পাহারাদার ও ক্ষেত পাহারাদার কুকুর ব্যতীত অন্য কুকুর থাকে (এবং প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে)। সাধারণত সর্বপ্রকার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য-পুতুল ম্যানিকিন ইত্যাদি যেস্থানে থাকে সেস্থানে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না। যেহেতু এগুলোর চর্চা করা হারাম ও কবীরাহ গুনাহ। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বইরূত লেবানন)

(৮১৭)

قال الخطابـى: انـما لا تدخل الـملائكة بيتا فيه كلب او صورة مما يحرم اقتناؤه من الكلاب والصور. (مرقاة الـمفاتيح شرح مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳)

অর্থ: হযরত ইমাম খত্তাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন: নিশ্চয়ই ওই সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না, যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। এমন ঘরগুলোতে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য রাখা হারাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা)

(৮১৮)

وقال العلماء: سبب امتناعهم من الدخول فى بيت فيه صورة كونـها مما يعبد من دون الله تعالى، ومن الدخول فى بيت فيه كلب كونه يأكل النجاسة، ولان بعضه يسمى شيطانا كما ورد فى الحديث. والـملائكة ضد الشيطان. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳)

অর্থ: হযরত উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে বা স্থানে প্রবেশ করা নিষেধ হওয়ার কারণ হলো, যেহেতু এতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ব্যতীত অন্যকিছুর ইবাদত করা সাব্যস্ত হয়। আর কুকুর আছে এমন ঘরে প্রবেশ করা নিষেধ হওয়ার কারণ হলো- যেহেতু কুকুর নাজাসাত বা অপবিত্র জিনিষ খেয়ে থাকে। হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনা মোতাবেক কোন কোন কুকুর শয়তান হয়ে থাকে। আর হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা শয়তানের বিপরীত। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায় পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা)

(৮১৯)

قال اصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعدا عليه بـهذا الوعيد الشديد الـمذكور فى الاحاديث سواء صنعه فى ثوب او بساط او درهم او دينار او غير ذلك، واما تصوير صورة الشجر والرجل والجبل وغير ذلك فليس بحرام. هذا حكم نفس التصوير. (مرقاة الـمفاتيح شرح مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳)

অর্থ: হযরত মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের হানাফী উলামায়ে কিরাম এবং অন্যান্য মাযহাবের সকল উলামায়ে কিরামগণ উনাদের ফায়সালা হলো: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারাম শক্ত হারাম এবং কবীরাহ গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। কেননা এ ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির কথা উল্লেখ আছে। এগুলো কাপড়ে, বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণ মুদ্রায় অথবা অন্য যা কিছুতেই তৈরি করুক না কেন তা হারাম হবে। কিন্তু গাছপালা, জড়বস্তু ‘-উদ্ভিদ, পাহাড়-পর্বত ও এছাড়া অন্যান্য প্রাণহীন জিনিষের ছবি অঙ্কণ করা বা তোলা হারাম নয়। ইহাই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের মূল বিধান। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা)

(৮২০)

واما اتخاذ الـمصور بحيوان فان كان معلقا على حائط سواء كان له ظل ام لا او ثوبا ملبوسا او عمامة او نحو ذلك فهو حرام. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা হারাম। দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি দেয়ালে লটকানো হোক, পরিধানের কাপড়, পাগড়ী ও অন্য কিছুতে অঙ্কন করা হোক, তা একইভাবে হারাম। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা)

(৮২১)

قال القاضى عياض: وادعى بعضهم ان اباحة اللعب بهن للبنات منسوخ بهذه الاحاديث. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۳ دار الكتب العلمية بيروت لبنان)

অর্থ: হযরত কাদ্বী আয়ায রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, শিশুদের খেলা করার জন্য পুতুল প্রাণীর ছবি মুবাহ সম্পর্কিত বর্ণনাগুলো প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য হারামকারী হাদীছ শরীফসমূহ দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়েছে। অর্থাৎ শিশুরাও প্রাণীর ছবি, পুতুল, ভাস্কর্য ইত্যাদি হারাম উপকরণ ব্যবহার করতে পারবেনা। এ বিষয়ে অভিভাবকদেরকে সজাগ থাকতে হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম, ৮ম খণ্ড৩২৩ পৃষ্ঠা, প্রকাশনা: দারুল কুতুবিল ইলমিয়াহ বইরূত লেবানন)

(৮২২)

(عن حضرت ام الـمؤمنين عائشة عليها السلام ان النبى صلى الله عليه وسلم لـم يكن يترك فى بيته شيئا فيه تصاليب) اى تصاوير كما فى رواية (الانقضه) اى ازال ذلك الشىء او قطعه. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۵)

অর্থ:  (সাইয়্যিদাতুনা হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। নিশ্চয়ই সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঘরে কোন মূর্তি-ভাস্কর্য দেখলে তা ভেঙ্গে ফেলতেন) অর্থাৎ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য পেলে তা নিশ্চিন্ন করতেন, যেমনটি অন্যান্য বর্ণনায়ও বর্ণিত আছে। (মূর্তি-ভাস্কর্য-পুতুল-প্রাণীর ছবি ইত্যাদি ধ্বংস করতেন) অর্থাৎ সেগুলো সরিয়ে ফেলতেন অথবা ভেঙ্গে টুকরা টুকরা করতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম, ৮ম খণ্ড৩২৫ পৃষ্ঠা)

(৮২৩)

فدل على ان التصوير حرام، وهو مشعر فان استعمال الـمصور ممنوع لانه سبب لذلك وباعت عليه مع ما فيه من انه زينة الدنيا (وقال) اى ايضا فى وجه الامتناع وسبب الـمنع (ان البيت الذى فيه الصورة) وهى بظاهرها تشتمل جميع الصور فى جميع اماكن البيت (لاتدخل الـملائكة) اى وكذا لا تدخله الانبياء واتباعهم من الاولياء. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۷)

অর্থ: হাদীছ শরীফ দ্বারা প্রমাণিত যে, নিশ্চয়ই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম। তৈরিকৃত প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের ব্যবহার নিষেধ। কেননা, এগুলো মোহময় বস্তু। (তিনি বলেন) প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ নিষেধ হওয়ার কারণ হলো- যেহেতু এমন ঘরে রহমতের ফেরেশতা প্রবেশ করেন না  ( সে ঘর হচ্ছে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘর) এর দ্বারা প্রাকাশ্য ফায়সালা হলো- সকল প্রকার প্রাণীর ছূরত-মূর্তি যেকোন স্থানে থাকলেই এমনটি হুকুম। (এমন ঘরে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না)

অনুরূপ এমনিভাবে হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুছ ছলাতু ওয়াস সালাম উনারা প্রবেশ করেননি এবং উনাদের অনুসারী হযরত আওলিয়া কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা প্রবেশ করেননি ও করছেন না। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৭ পৃষ্ঠা)

(৮২৪)

قال القاضى: اى يفعلون ما يضاهى خلق الله اى مخلوقه او يشبهون فعلهم بفعله اى فى التصوير والتخليق. قال ابن الملك: فان اعتقد ذلك فهو كافر يزيد عذابه بزيادة قبح كفره. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۸)

অর্থ: হযরত ক্বাদ্বী আয়াদ্ব রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যারা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে, তারা মূলত মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য কিছু তৈরি করলো। হযরত ইবনুল মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, যার বিশ্বাস এই যে, মহান আল্লাহ পাক উনার সাদৃশ্য কিছু তৈরি করা জায়িয সে মূলত কাফির। তার জঘন্য কুফরীর কারণে তার আযাবকে আরো বৃদ্ধি করা হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম, ৮ম খণ্ড৩২৮ পৃষ্ঠা, শরহুন নুবাবী আলাল মুসলিম)

(৮২৫)

وقال النووى: هذا محمول على صور الاصنام فتعبد فله اشد عذابا لانه كافر، وقيل هذا فيمن قصد الـمضاهاة بخلق الله تعالى واعتقد ذلك، وهو ايضا كافر، وعذابه اشد، واما من لـم يقصدهما فهو فاسق لا يكفر كسائر الـمعاصى، ثم الشجر ونحوه مما لاروح له فلا يحرم صنعته ولا التكسب به، وهذا مذهب العلماء الا مجاهدا فانه جعل الشجرة الـمثمرة من الـمكروه. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۳۲۹)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, হাদীছ শরীফ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে যে, যে ব্যক্তি ইবাদতের উদ্দেশ্যে মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে এজন্য তাকে কঠিন শাস্তি দেয়া হবে, কেননা সে কাফির। আরো বলা হয়, যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি করে কিছু তৈরি করে এবং এমনটি করা হালাল বিশ্বাস করে সেও কাফির। তার শাস্তিও কঠিন হবে। আর যদি সৃষ্টির সাদৃশ্য দাবি না করে তাহলে সে হবে ফাসিক বা কবীরাহ গুনাহে গুনাহগার। গুনাহের কাজগুলো মূলত: কুফরী নয়। গাছ-গাছালী ও প্রাণহীন জড়বস্তু ছবি তৈরি করা এবং এগুলো দ্বারা ব্যবসা-বানিজ্য করা হারাম নয়। হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি ছাড়া সকল উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম এই মত পোষণ করেছেন। কেননা, তিনি ফুল-ফলবিশিষ্ট গাছের ছবি তৈরি করাকে মাকরূহ তানযীহী মনে করতেন। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: প্রথম ৮ম খণ্ড৩২৯ পৃষ্ঠা)

(৮২৬-৮২৭)

ففى فتاوى قاضيخان: يكره ان يصلى وبين يديه او فوق رأسه وعن يمينه او يساره او ثوبه تصاوير. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثانى الجلد ۸ الصفحة ۳۳۴)

অর্থ: ফাতাওয়া ক্বাদ্বীখানকিতাবে উল্লেখ আছে: তাছাবীর বা প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে বা স্থানে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। এগুলো মুছল্লীর সামনে, মাথার উপরে, ডানে, বামে ও পরিহিত কাপড়ে যেখানেই থাকুক না কেন নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় ৮ম খণ্ড৩৩৪ পৃষ্ঠা)

(৮২৮)

قلت: فيه اشارة لطيفة الى جواز تصوير نحو الاشجار مما لاحياة فيه كما ذهب الى الجمهور. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثانى الجلد ۸ الصفحة ۳۳۴)

অর্থ: হযরত আল্লামা মুল্লা আলী ক্বারী হানাফী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমি বলি, এ থেকে ইহাই ইঙ্গিত করে যে, প্রাণহীনের যেমন- গাছ-গাছালী ইত্যাদির ছবির চর্চা করা জায়িয। যেমনটি হযরত জমহুর বা অধিকাংশ উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতামত। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: দ্বিতীয় ৮ম খণ্ড৩৩৪পৃষ্ঠা)

(৮২৯)

(ثم صوروا فيه تلك الصور) اى صور الصلحاء تذكيرا بـهم وترغيبا فى العبادة لاجلهم، ثم جاء من بعدهم فزين لـهم الشيطان اعمالـهم وقال لهم سلفكم يعبدون هذه الصور فوقعوا فى عبادة الاصنام. (اولئك) اى  البانون والـمصورون. (شرار خلق الله) لانـهم ضلوا واضلوا عباد الله. (مرقاة المفاتيح شرح مشكوة المصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثالث الجلد ۸ الصفحة ۳۳۸)

অর্থ: (অতঃপর ইসলাম পূর্ব যুগের অসৎ লোকেরা উক্ত ছূরত তৈরি করতো) অর্থাৎ তারা নেককার লোকদের স্মরণের জন্য এবং তাদের ইবাদত করতে তাকিদ দেয়ার জন্য তাদের প্রতিকৃতি বা মূর্তি তৈরি করতো। এরপর যারা তাদের পরে আসতো, শয়তান তাদের কাছে এই কুফরী-শিরকী কাজগুলোকে সুন্দরকরে দেখাতো আর বলতো আরে তোমাদের পূর্ববর্তীরা এই সমস্ত মূর্তি বা প্রতিকৃতির পুজা করতো তাই তোমরাও এই সমস্ত মূর্তি বা প্রতিমার পুজা করো। নাঊযুবিল্লাহ! ( (ঐ সমস্ত মূর্তির পুজা করা) অর্থাৎ মূর্তিপুজক, প্রতিমা, পুতুল, প্রাণীর ছবি তৈরিকারীরা (আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির মধ্যে নিকৃষ্ট) কেননা তারা নিজেরা গুমরাহ এবং মহান আল্লাহ তায়ালা উনার অপরাপর বান্দাদেরকে গুমরাহ করে। (মিরকাতুল মাফাতীহ শরহু মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান অনুচ্ছেদ: তৃতীয় ৮ম খণ্ড৩৩৮ পৃষ্ঠা)

 শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ

 মিশকাত শরীফ হাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত তাখরীজ মূলক কিতাব। এ কিতাবখানার সর্বজনমান্য প্রথম ব্যাখ্যাগ্রস্ত হচ্ছে শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ (মূল নাম: আল কাশিফ আন হাক্বায়িক্বিস সুনান)। এ ব্যাখ্যাগ্রš’খানা লিখেছেন আল ইমামুল কবীর শরফুদ্দীন হুসাঈন বিন মুহম্মদ বিন আব্দুল্লাহ ত্বীবী শাফিয়ী আশয়ারী রহমতুল্লাহি আলাইহি। ওফাত মুবারক: ৭৪৩ হিজরী। অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৮৩০)

انـما  لا تدخل الـملائكة بيتا فيه كلب او صورة مـما يحرم اقتناؤه من الكلاب والصور. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح الـمسمى بالكاشف عن حقائق السنن كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۱ ادارة القران والعلوم الاسلامية كراتشى باكستان)

অর্থ: নিশ্চয়ই ওই সমস্ত ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না, যে সমস্ত ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। বসবাসের ঘরে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য রাখাও হারাম। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ মূল নাম: আল কাশিফ আন হাক্বায়িক্বিস সুনান অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড ২৭১ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: ইদারাতুল কুরআন ওয়াল উলূমিল ইসলামিয়াহ করাচী পাকিস্তান)

(৮৩১)

الأظهر انه عام فى كل كلب وكل صورة، وانهم يـمتنعون من الجميع لاطلاق الاحاديث. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۱)

অর্থ: এটাই প্রকাশ্য ফতওয়া- আমভাবে প্রত্যেক কুকুর ও সর্বপ্রকার প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা প্রবেশ করেন না। হাদীছ শরীফ-এর দ্বারা এটাই বুঝা যায়। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭১ পৃষ্ঠা)

(৮৩২)

وقال العلماء: سبب امتناعهم من الدخول فى بيت فيه صورة، كونـها معصية فاحشة. وفيها مضاهاة لخلق الله تعالى، وبعضها فى صورة ما يعبد من دون الله تعالى، ومن الدخول فى بيت فيه كلب كونه يأكل النجاسة ولان بعضه يسمى شيطانا، كما ورد فى الحديث: والـملائكة ضد الشياطين. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۱)

অর্থ: হক্কানী-রব্বানী উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রবেশ করা নিষেধ হওয়ার কারণ এই যে, এগুলোর চর্চা করা (ঘরে রাখা) অশ্লীল-অশালীনমূলক গুনাহর কাজ। এতে মহান আল্লাহ তায়ালা উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য সৃষ্টিকারী দাবি করা হয় এবং কোন অংশে মহান আল্লাহ তায়ালা উনাকে ব্যতীত গইরুল্লাহ-এর ইবাদত করা প্রমাণিত হয়। আর কুকুর প্রবেশরত ঘরে উনারা প্রবেশ করেন না। কেননা, কুকুর সর্বদা অপবিত্র জিনিস খেয়ে থাকে এবং কোন কোন কুকুর শয়তানও হয়ে থাকে। যেমনটি হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে। হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা হচ্ছেন শয়তানের বিরুদ্ধবাদী বা বিরোধী। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭১ পৃষ্ঠা)

(৮৩৩)

قال اصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر، لانه متوعد عليه بـهذا الوعيد الشديد الـمذكور فى الاحاديث، وسواء صنعه فى ثوب او بساط او درهم او دينار وغير ذلك، واما تصوير صورة الشجر والرجال وغير ذلك فليس بحرام. هذا حكم نفس التصوير. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۲)

অর্থ: হযরত আল্লামা ত্বীবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের শাফিয়ী মাযহাবের ইমামগণ এবং অন্যান্য মাযহাবের উলামায়ে কিরামগণ উনারা বলেন, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম, শক্ত হারাম এবং তা কবীরাহ গুনাহর অন্তর্ভুক্ত। কেননা এ ব্যাপারে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির কথা বর্ণিত আছে। অনুরূপ কাপড়ে  (পোশাকে), বিছানায়, দিরহাম বা রৌপ্য মুদ্রায়, দীনার বা স্বর্ণ মুদ্রায় এবং যে কোন কিছুতে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য ইত্যাদি অঙ্কন করা হারাম। গাছ-পালা ও অনুরূপ প্রাণবিহীন বস্তু ছবির অনুশীলন করা হারাম নয়। ইহাই প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত মৌলিক বিধান। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭২ পৃষ্ঠা)

(৮৩৪)

واما اتخاذ الـمصور بحيوان فان كان معلقا على حائط، سواء كان له ظل اولا اوثوبا ملبوسا او عمامة او نحو ذلك فهو حرام. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۲)

অর্থ: দেয়ালে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য ঝুলানো অনুরূপ দেহবিশিষ্ট মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহ হীন প্রাণীর ছবি অনুশীলন করা এবং পাগড়ীতে ও অন্যকিছুতে প্রাণীর ছবি অঙ্কন করা বা তোলা হারাম। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭২ পৃষ্ঠা)

(৮৩৫-৮৩৬)

وهذا الحديث مخرج فى كتاب ابى داود ولفظه: كان لا يترك فى بيته شيئا فيه تصليب الا قضبه. ومعنى قضبه قطعه، فيحتمل ان يكون اختلاف اللفظين من بعض الرواة، والحديث على ما فى كتاب ابى داود افصح واقيس. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۳)

অর্থ: এ হাদীছ শরীফখানা আবূ দাঊদ শরীফ কিতাবেও বর্ণিত আছে যে, ‘সাইয়্যিদুল আম্বিয়া ওয়াল মুরসালীন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কোন ঘরে যদি মূর্তি ও প্রাণীর ছবি পেতেন, তাহলে তা ধ্বংস না করা পর্যন্ত ছাড়তেন না।হাদীছ শরীফ-এর শব্দ قضبه এর অর্থ قطعه বা ছিন্ন বা ধ্বংস করতেন। কতক বর্ণনায় نقضه এবং কতক বর্ণনায় قضبه আছে। উভয় শব্দের অর্থ একই। আবূ দাঊদ শরীফ-এ বর্ণিত রেওয়ায়েতটি অধিক বিশুদ্ধ ও যুক্তিযুক্ত। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭৩ পৃষ্ঠা)

(৮৩৭)

(اشد عذابا( هذا محمول على من صور الاصنام لتعبد فله اشد عذاب لانه كافر، وقيل هذا فيمن قصد الـمضاهاة بخلق الله واعتقد ذلك وهو ايضا كافر وعذابه اشد. ومن لـم يقصدهما فهو فاسق لايكفر كسائر الـمعاصى. واما الشجر ونحوه مـما لا روح فيه فلا يحرم صنعته ولا التكسب به. وهذا مذهب العلماء الا مجاهدا، فانه جعل الشجرة الـمثمرة من الـمكروه. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۶)

অর্থ: (প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য চর্চাকারীদের ক্বিয়ামতের দিবস মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কঠিন আযাব হবে) এ আযাব ঐ ব্যক্তির জন্য যে উপাসনার উদ্দেশ্যে মূর্তি-ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবি বানিয়েছিল। তার জন্য কঠিন আযাব হবে এজন্য যে, যেহেতু সে কাফির। কারো কারো মতেএ কঠিন আযাব সে ব্যক্তিরই হবে যে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্যতা দাবি করেছিলো। এ আক্বীদা বা বিশ্বাসের কারণে সে কাফির আর এজন্যই তার কঠিন আযাব হবে। যার এ ধারণা না থাকে, সে ফাসিক বা গুনাহগার। গুনাহগারের আমলগুলো কুফরী নয়। গাছ-পালা এবং অনুরূপ রূহবিহীন জড়বস্তু ছবি তৈরি করা এবং এগুলোর দ্বারা ব্যবসা-বাণিজ্য করা হারাম নয় বরং জায়িয। হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি ব্যতীত সকল উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের এ মতামত। কেননা, হযরত মুজাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, ফুল-ফল বিশিষ্ট গাছের ছবি মাকরূহ তানযীহী। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭৬ পৃষ্ঠা)

(৮৩৮)

الـمصور هوالذى يصور اشكال الحيوان فيحكيها بتخطيط لـها وتشكيل فاما النقاش الذى ينقش اشكال االشجر. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الاول الجلد ۸ الصفحة ۲۷۶)

অর্থ: মুছাওয়ির ওই ব্যক্তি, যে প্রাণীর মূর্তি-ভাস্কর্য ও প্রাণীর ছবি তৈরি করে থাকে। আর নাক্কাশ ওই ব্যক্তিকে বলে, যে গাছ-পালা ও জড় বস্তু ছবি তৈরি করে বা আঁকে। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ১ম অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭৬ পৃষ্ঠা)

(৮৩৯)

فيه دليل على ان الصور اذا غيرت هياتـها فان قطعت رؤوسها او حلت اوصالـها، حتى لـم يبق منها الا اثر لا على شبه الصور فلا بأس به، وعلى أن موضع التصوير اذا نقض حتى تنقطع اوصاله جاز استعماله. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثانى الجلد ۸ الصفحة ۲۷۹)

অর্থ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্যের মাথা কর্তন করার কারণে যদি তার আকৃতি পরিবর্তিত হয়ে প্রাণহীন বস্তুর মতো দেখা যায়, তাহলে এমন বস্তু ঘরে রাখতে অসুবিধা নেই। আর মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রাণীর ছবির অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ছিন্নভিন্ন করে ফেললে (এতে প্রাণীর মতো দেখা না গেলে) এমন অবশিষ্টাংশ ব্যবহার করা ও কাজে লাগানো জায়িয। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ২য় অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড২৭৯ পৃষ্ঠা)

(৮৪০)

(كل شىء) يجوز فيه الجر على انه بيان للشجر، لانه لـما منعه عن التصوير وارشده الى جنس الشجر. (شرح الطيبى على مشكوة الـمصابيح كتاب اللباس باب التصاوير الفصل الثالث الجلد ۸ الصفحة ۲۸۱)

অর্থ: (গাছ-পালা ও প্রত্যেক প্রাণহীন বস্তু ছবি আঁকতে পার) এর দ্বারা গাছ ও প্রত্যেক প্রাণহীন বস্তু ছবি অঙ্কন করা জায়িয প্রমাণ করা হয়েছে। কেননা, বর্ণিত হাদীছ শরীফ-এ প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চাকে নিষেধ তথা হারাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং পাশাপাশি সকল প্রকার গাছের ছবি অঙ্কন করতে অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। (শরহুত ত্বীবী আলা মিশকাতিল মাছাবীহ, অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৩য় অনুচ্ছেদ ৮ম খণ্ড ২৮১ পৃষ্ঠা)

 

আত তালীকুছ ছবীহ আলাল মিশকাতিল মাছাবীহ

 

মিশকাত শরীফহাদীছ শরীফ-এর বিখ্যাত তাখরীজমূলক কিতাব। এ কিতাবখানার সর্বজনমান্য একখানা ব্যাখ্যাগ্রস্ত হচ্ছে আত তালীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ।যা লিখেছেন হযরতুল উস্তাযুল আল্লাম ফদ্বীলাতুশ শায়খ মাওলানা মুহম্মদ ইদরীস কান্ধালবী হানাফী মাতুরীদী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম: …… ওফাত: ……..।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৮৪১)

التصاوير جمع التصوير وهو فعل الصورة والـمراد به هنا ما يصور مشبها بخلق الله من ذوات الروح مـما يكون على حائط او ستر قال الله تعالى عز وجل: ولقد اتينا ابراهيم رشده من قبل وكنا به عالـمين اذ قال لابيه وقومه ما هذه التماثيل التى انتم لـها عاكفون قالوا وجدنا اباءنا لها عابدين قال لقد كنتم وانتم واباءكم فى ضلال مبين” وقال تعالى: “واذ قال موسى لقومه يقوم انكم ظلمتم انفسكم باتخاذكم العجل” اى فان نفس اتخاذ صورة العجل امر شنيع ثم اتخاذه الـها اشنع واقبح قال تعالى: ” قالوا يـموسى اجعلنا لنا الـها كما لـهم الـهة قال انكم قوم تجهلون” وقال تعالى: “هو الذى يصوركم فى الارحام كيف يشاء لا اله الا هو العزيز الحكيم” وقال تعالى: “هوالله الخالق البارئ الـمصور له الاسماء الحسنى” (التعليق الصبيح على مشكاة الـمصابيح باب التصاوير الجلد ۵ الصفحة ۵ الـمكتبة العثمانية فيروزبور رود لاهور باكستان)

অর্থ: আত তাছাবীরশব্দটি আত তাছবীরশব্দের বহুবচন। শব্দটি আছ ছূরাহশব্দ থেকে এসেছে। এখানে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাদৃশ্য তৈরিকৃত প্রাণীর ছূরত (বা মুর্তি-ভাস্কর্য-ছবি) উদ্দেশ্য। তা দেয়ালের মধ্যে করা হোক অথবা পর্দার মধ্যে করা হোক। মহান আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা তিনি বলেন,  আর আমি হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনাকে সঠিকপথ দান করেছি অর্থাৎ উনাকে রসূল হিসেবে সৃষ্টি করেছি এবং আমি উনার সম্পর্কে সম্যক পরিজ্ঞাত। যখন তিনি উনার চাচা (আযর) ও উনার সম্প্রদায়কে বললেন, এই মূর্তিগুলো কী, যাদের তোমরা পুজারী হয়ে বসে আছ? তারা বললো, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে এদের পুজা করতে দেখেছি। তিনি বললেন, তোমরা ও তোমাদের বাপ-দাদারা প্রকাশ্য বিভ্রান্তির মধ্যে আছো।” (সূরাতুল আম্বিয়া: আয়াত শরীফ ৫১-৫৪)

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ করেন,  যখন হযরত মূসা কালীমুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি উনার সম্প্রদায়কে বললেন, হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা এই গরুর বাছুরের মূর্তি তৈরি ও পুজা করে তোমাদেরই ক্ষতিসাধন করেছ।” (সূরাতুল বাক্বারাহ: আয়াত শরীফ ৫৪)। অর্থাৎ গরুর বাছুরের মূর্তি তৈরি ও পুজা করা জঘন্য কাজ। এ কাজ করে তারা তাকে উপাস্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলো, যা মূলত খুবই জঘন্য, কদর্য (বা শিরক ও কুফরী) কাজ।

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ করেন:  তারা (ইসরাঈল সম্প্রদায়) বলতে লাগলো, হে হযরত মূসা আলাইহিস সালাম! আমাদের উপাসনার জন্যও তাদের (মূর্তি পুজকদের) মূর্তির মতই একটি মূর্তি তৈরি করে দিন। তিনি জবাবে বললেন, তোমাদের মধ্যে বড়ই অজ্ঞতা (মূর্খতা) রয়েছে।” (সূরাতুল আরাফ: আয়াত শরীফ ১৩৮)

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ করেন,  তিনি সেই মহান আল্লাহ পাক যিনি তোমাদের আকৃতি তোমাদের মায়ের রেহেমে যেমন ইছা তেমনই গঠন করেন। তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ বা উপাস্য নেই। তিনি প্রবল পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।” (সূরা আলে ইমরান: আয়াত শরীফ ৬)

মহান আল্লাহ তায়ালা তিনি ইরশাদ করেন,  তিনিই মহান আল্লাহ তায়ালা যিনি সৃষ্টিকারী, উদ্ভাবক ও আকৃতিদানকারী। উনার রয়েছে সুন্দর সুন্দর অসংখ্য নাম মুবারক।” (সূরাতুল হাশর: আয়াত শরীফ ২৪)

কুরআন শরীফ-এ ব্যবহৃত تصوير বা صورة শব্দের অর্থ মূর্তি, প্রতিকৃতি, ভাস্কর্য, আকৃতি গঠন ইত্যাদি। প্রাণীর আকৃতি বা দেহ গঠন এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার শান। এগুলোর অনুরূপ কিছু যেমন মূর্তি-ভাস্কর্য-প্রাণীর ছবি তৈরি করা বান্দার জন্য হারাম, নাজায়িয, কুফরী ও শিরকী কাজ। (আত তালীকুছ ছবীহ আলা মিশকাতিল মাছাবীহ অধ্যায়: পোশাক-পরিছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের শরয়ী বিধান ৫ম খণ্ড৫ পৃষ্ঠা প্রকাশনা: আল মাকতাবাতুল উছমানিয়াহ ফীরোজপুর রোড, লাহোর, পাকিস্তান)

 অসমাপ্ত

 পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২