কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৮)

সংখ্যা: ২১২তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহমতে æফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. ক্বদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা)

১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা), ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) পেশ করার পর-

৩০তম ফতওয়া হিসেবে

১৯৫তম সংখ্যা থেকে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফর, শিরক ও বিদয়াতের মুলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- æমাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ æমাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয় যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

উলামায়ে ‘ছূ’রা ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। উলামায়ে ‘ছূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীরা বলে ও প্রচার করে থাকে যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও  নেই, শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয ও হারাম। নাঊযুবিল্লাহ!

তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। কেননা হাদীছ শরীফে শবে বরাতের অশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتا العيدين

অর্থ: æনিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।”

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে-

عن حضرت على عليه السلام قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الامن مستغفر فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر.

অর্থ: æহযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের পনের তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, æকোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।” কোন মুছিবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ্, মিশকাত)

এ ধরনের আরো অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে, যাতে শবে বরাত-এর ফযীলতের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা শবে বরাত পালন করবে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের উভয়েরই খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি লাভ করবে।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে æছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ‘শবে বরাত’ পালন থেকে বিরত থেকে অশেষ ফযীলত থেকে মাহরূম হবে। যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী, তারা ও হক্ব তালাশী সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে। অর্থাৎ শবে বরাতসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-উনার রেজামন্দী হাছিল করতে পারে। সে জন্যই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত’-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি প্রকাশ করা হলো।

শবে বরাত সম্পর্কে উলামায়ে ‘ছূ’ ও বাতিল ফিরক্বার মনগড়া, দলীলবিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং তার দলীলভিত্তিক খণ্ডণমূলক সঠিক জাওয়াব

পূর্ব প্রকাশিতের পর

ইহুদীদের আরেক দালাল ওহাবী মুনাফিক দাইয়্যুস সাঈদীর শবে বরাত সম্পর্কে গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্য:

আরেক গ-মূর্খ তথা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল  কাট্টা ওহাবী, দাইয়ূস সাঈদী ওরফে ইহুদী ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে মন্তব্য করেছে- æপবিত্র শবে বরাত মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। শবে বরাতের কোন  গুরুত্ব নেই। শরীয়তে শবে বরাতের কোন জায়গা নেই।” (দৈনিক সংবাদ ১৩/০৩/৯৪ইং প্রকাশিত)।

মুনাফিক সন্তান, দাইয়্যূস ও ধর্মব্যবসায়ী ইহুদী এজেন্ট সাঈদীর গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্যের দলীলভিত্তিক খণ্ডনমূলক দাঁত ভাঙ্গা জাওয়াব:

ইহুদী এজেন্ট মুনাফিক ধর্মব্যবসায়ী দাইয়্যূস গোমরাহ সাঈদী শবে বরাত সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছে তা মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন ও কুফরীমূলক হয়েছে। কেননা সে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ-এর স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ অস্বীকার করেছে। সে বলেছে শবে বরাত কোন কল্যাণ বয়ে আনেনা। শবে বরাত কোন অস্তিত্ব ও গুরুত্ব শরীয়তে নেই। অথচ কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ ও অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান তথা শবে বরাত সম্পর্কে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে।

পূর্ব প্রকাশিতের পর

উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে-

(৩৭৭)

وعن النبى صلى الله عليه وسلم من صام من شعبان يوما حرم الله جسده على النار وكان رفيق حضرت يوسف عليه السلام فى الجنان واعطاه الله ثواب حضرت ايوب عليه السلام و حضرت داود عليه السلام. فان اتم الشهور كله هون الله عليه سكرات الموت ودفع عنه ظلمة القبر وهول منكر ونكير وستر الله عورته يوم القيامة.

وعن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه وسلم قال جاءنى حضرت جبرائيل عليه السلام ليلة النصف من شعبان وقال يا محمد صلى الله عليه وسلم ارفع رأسك الى السماء فقلت ما هذه الليلة قال هذه ليلة يفتح الله فيها ثلث مائة باب من ابواب الرحمة يغفر لجميع من لا يشرك به شيئا الا ان يكون ساحرا او كاهنا او مصرا على الزنا او مدمن خمر وعنه صلى الله عليه وسلم قال يطلع الله على خلقه ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا مشرك والمشاحن يعنى المصارم لاخيه المسلم.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শা’বান মাসে মাত্র একটি রোযা রাখবে তার শরীরকে মহান আল্লাহ পাক দোযখের আগুন থেকে হারাম করে দিবেন এবং বেহেশতের মাঝে সে ব্যক্তি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন এবং তৎসঙ্গে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম ও হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনাদের ন্যায় ছওয়াব দান করবেন। অতঃপর কোন ব্যক্তি যদি পূর্ণ শা’বান মাসেই রোযা রাখে তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তার উপর মৃত্যুর তাকলীফ সহজ করে দিবেন এবং ক্ববরের অন্ধকার দূর করে দিবেন। অতপর মুনকার নাকীরের প্রশ্নের ভয়াবহ অবস্থা দূর করে দিবেন এবং ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত ব্যক্তির ইযযত আবরু আবৃত রাখবেন।

হযরত আবু হুরাইয়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন। শা’বান মাসের অর্ধ রাতে তথা শবে বরাতে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি এসে আমাকে বললেন ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি আকাশের দিকে মাথা মুবারক উত্তোলন করুন। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই রাত্রির বৈশিষ্ট্য কি? তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন এই অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক ৩০০টি রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। যারা আল্লাহ পাক উনার সাথে র্শিক করেনা, যাদু করেনা, গণক নয়, বারংবার ব্যভিচার করেনা ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ছিন্ন করেনা। এ ধরনের সমস্ত জগৎবাসীকে ক্ষমা করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ)!

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমত নাযিল করেন। অতঃপর সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে যারা মুশরিক এবং হিংসুক অর্থাৎ যে তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে হিংসা করে থাকে তাদেরকে ঐ রাত্রিতে ক্ষমা করেন না। এ প্রসঙ্গে আক্বনা নামক কিতাবে উল্লেখ আছে-

(৩৭৮)

ان جبريل عليه السلام نزل على النبى صلى الله عليه وسلم الليلة البراءة. وقال يا محمد صلى الله عليه وسلم اجتهد فى هذه الليلة فان فيها تقضى الحاجة فاجتهد النبى صلى الله عليه وسلم فاتاه حضرت جبريل عليه السلام مرة ثانية وقال يا محمد صلى الله عليه وسلم بشر امتك فان الله تعالى غفر لجميع امتك من لايشرك به شيئا ثم قال ارفع راسك فرفع راسه فاذا ابواب الجنة وفى رواية ابواب السماء مفتوحة وعلى الباب الاول ملك ينادى طوبى لمن ركع هذه الليلة وعلى الباب الثانى ملك ينادى طوبى لمن سجد فى هذه الليلة وعلى الباب الثالث ملك ينادى طوبى لمن دعا فى هذه الليلة وعلى الباب الرابع ملك ينادى طوبى لمن بكى من خشية الله تعالى فى هذه الليلة وعلى الباب الخامس ملك ينادى طوبى لمن عمل خيرا فى هذه الليلة وعلى الباب السادس ملك ينادى من سائل فيعطى سئوله وعلى الباب السابع ملك ينادى هل من مستغفر فيغفر له فقلت يا جبريل عليه السلام الى امتى تكونوا هذه الابواب مفتوحة قال الى طلوع الشمس ثم قال ان الله تعالى فيها عتقاء من النار بعدد شعر غنم بنى كلب.

অর্থ: হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম শবে বরাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অবতীর্ণ হয়ে বললেন, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজকের এই শবে বরাতের রাত্রিতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকুন অর্থাৎ উম্মতগণকে এই রাত্রিতে ইবাদতে মগ্ন থাকতে বলুন। কেননা এই রাত্রিতে যাবতীয় মাক্বছুদ পুরা করা হবে। অতঃপর সে মুতাবিক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওই শবে বরাতের সারা রাত্রি নিজেও ইবাদতে নিমগ্ন থাকলেন। এবং হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম পূনঃ তথা দ্বিতীয়বার এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি আপনার উম্মতদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন যে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করেনা এদের সকল নর-নারীকে মহান আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক উত্তোলন করার সাথেই সাথেই দেখতে পেলেন জান্নাতের দরজাগুলো অথবা আকাশের দরজাগুলো উম্মুক্ত। প্রথম দরজার উপরে একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন। তিনি আওয়াজ দিয়ে বলছেন, ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি এই অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে তথা শবে বরাতের রাত্রিতে রুকু করেছেন। অতঃপর দ্বিতীয় দরজায় অপর একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন তিনিও উচ্চ স্বরে বলতেছেন ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে সিজদায়রত ছিলেন। এইরূপ তৃতীয় দরজায় একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন তিনিও উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন, ওই ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে মানুষের জন্যে দোয়া করে থাকেন। অনুরুপভাবে চতুর্থ দরজায় একজন ফেরেশ্তা আওয়াজ দিয়ে বলতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি এই শবে বরাতের রাত্রিতে আল্লাহ পাক উনার ভয়ে কাঁদছেন। পঞ্চম দরজায়ও একজন ফেরেশ্তা উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন ওই ব্যক্তির জন্যে সুসংবাদ যিনি এ রাত্রিতে ভাল কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। অনুরূপভাবে ষষ্ঠ দরজায় একজন ফেরেশ্তা এ মর্মে আওয়াজ করে বলেন, এমন কোন ব্যক্তি আছে, যিনি সত্যিকার ভিক্ষুক সে যা কিছু কামনা করবে তাই সে পাবে। তদ্রুপ সপ্তম দরজায় একজন ফেরেশ্তা এ বলে চিৎকার করে থাকেন যে, এমন কোন পাপী আছ কি? ক্ষমা প্রার্থনা কর মহান আল্লাহ পাক তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন আমি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম এ সমস্ত দরজাগুলো কতক্ষণ পর্যন্ত খোলা থাকবে? তিনি উত্তরে বললেন সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন এই শবে বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ পাক বনী কালব গোত্রের বকরীর পশমের সম পরিমানে অধিক সংখ্যক ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে থাকেন। (সুবহানাল্লাহ)

যেমন তাফসীরে মাযহারী এর ৮ম খণ্ডের ৩৬৮ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৩৭৯)

قال عكرمة رضى الله تعالى عنه هى ليلة النصف من شعبان يبرم فيه امر السنة وينسخ الاحياء من الاموات فلايزاد فيهم ولا ينقص منهم احد. روى البغوى عن محمد بن الميسرة بن الاخفس ان رسول الله صلى الله عليه وسلم قال يقطع الاجال من شعبان الى شعبان حتى ان الرجل لينكح ويولد له ولقد اخرج اسمه فى الموتى. وروى ابو الضحى عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنهما ان الله تعالى يقضى الاقضية فى ليلة النصف من شعبان ويسلمها الى اربابها فى ليلة القدر.

অর্থ: প্রখ্যাত ছাহাবী হযরত ইকরামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, (সূরা আদ দোখানের ৩নং আয়াত শরীফ) ليلة مباركة হচ্ছে ১৫ই শা’বানের রাত তথা শবে বরাতের রাত। এই রাত্রে সারা বৎসরের কাজ কর্মের ফায়ছালা করা হয়। এবং কতজন জীবিত থাকবে ও কতজন মারা যাবে তারও ফায়সালা করা হয়। অতঃপর এ ফায়ছালার থেকে কোন কিছু বেশী করা হয় না এবং কোন কমতিও করা হয় না। অর্থাৎ কোন প্রকারের পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয় না। হযরত ইমাম বাগবী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণনা করেছেন, হযরত  মুহম্মদ ইবনে মাইসারা ইবনে আখফাস রহমতুল্লাহি আলাইহি থেকে। তিনি বলেছেন, হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, শা’বান মাসে পরবর্তী শা’বান মাস পর্যন্ত মৃত্যুর ফায়ছালা করে দেয়া হয়। এমনকি লোকেরা যে বিবাহ করবে, সেই বৎসর তার থেকে কোন সন্তান জন্ম গ্রহন করবে তার তালিকা এবং তার মৃত্যুর তালিকাও প্রস্তুত করা হয় ঐ বৎসরে অর্ধ শাবানের রাতে তথা শবে বরাতে।

আবুদ্বহা এর বর্ণনায় এসেছে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমা বলেছেন শা’বানের মাঝামাঝি অর্থাৎ ১৫ই শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে আল্লাহ পাক সমস্ত কিছুই ফায়ছালা করেন, আর রমাদ্বানের ক্বদর রাতে (শবে ক্বদরে) সেই ফায়ছালার তালিকা (কপি) বাস্তবায়ন করার জন্য বাস্তবায়নকারীদের কাছে অর্পন করা হয়। অর্থাৎ শবে বরাতে ফায়ছালার তালিকা শবে ক্বদরে তালিকা বাস্তবায়নকারী ফেরেশ্তাদের হাতে বাস্তবায়ন করার জন্য অর্পন করা হয়।

১৫ই শা’বান তথা শবে বরাতে বুজুর্গী সম্পর্কে তাফসীরে মাযহারী” কিতাবের ৮ খণ্ডের ৩৬৭ পৃষ্ঠায় আরো উল্লেখ আছে-

(৩৮০-৩৮১)

انها ليلة النصف من شعبان … وما روى عن القاسم بن محمد عن ابيه او عمه عن جده عن رسول الله صلى الله عليه وسلم انه قال ينزل الله جل ثناؤه ليلة النصف من شعبان الى السماء الدنيا فيغفر لكل نفس الا انسانا فى قلبه شحناء او مشركا بالله.

অর্থ: (অনেকেই বলেছেন ليلة مباركة তথা বরকতপুর্ণ রাতই হচ্ছে অর্ধশা’বানের রাত (১৫ই শা’বানের রাত) এবং এ রাতের বুজুর্গী সম্পর্কে হাদীছ শরীফ ও বর্ণিত আছে, হযরত মুহম্মদ ইবনে কাসিম তাঁর পিতার মাধ্যমে অথবা তাঁর চাচার মাধ্যমে। তাঁর পিতা অথবা চাচা তাঁর পিতামহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি আবার হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন। আর হযরত রসূলে পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন অর্ধ শা’বানের (১৫ই শা’বানে) রাতে মহান আল্লাহ পাক পৃথিবীর আকাশে (আনুরূপহীন) অবতরণ করেন। অতঃপর সকলকেই ক্ষমা করেন। তবে ঐ সকল লোকদের ক্ষমা করেন না যাদের অন্তরে হিংসা রয়েছে অর্থাৎ হিংসুকদের এবং আল্লাহ পাক উনার সহিত শরীককারীদের তথা মুশরিকদেরকে ঐ অর্ধ শাবান তথা শবে বরাতে ক্ষমা করেন না। (তাফসীরে বাগবী)

 

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-৩০