কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া   (১৭)

সংখ্যা: ২১১তম সংখ্যা | বিভাগ:

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহমতে “ফতওয়া ও গবেষণা বিভাগ মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহরীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. ক্বদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন-এর শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও তাঁর প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা)

১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা), ২৮. কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬৮-চলমান), ২৯. জুমুয়া ও ঈদাইনের খুৎবা আরবী ভাষায় দেয়া ওয়াজিব। আরবী ব্যতীত অন্য কোন ভাষায় খুৎবা দেয়া মাকরূহ তাহরীমী ও বিদয়াতে সাইয়্যিয়াহ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৯২-১৯৩তম সংখ্যা) পেশ করার পর-

৩০তম ফতওয়া হিসেবে

১৯৫তম সংখ্যা থেকে কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফর, শিরক ও বিদয়াতের মুলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয় যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

উলামায়ে ‘ছূ’রা ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে সমাজে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। উলামায়ে ‘ছূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীরা বলে ও প্রচার করে থাকে যে, শবে বরাত কুরআন শরীফ ও হাদীছ শরীফ-এর কোথাও  নেই, শবে বরাত পালন করা বিদয়াত, নাজায়িয ও হারাম। নাঊযুবিল্লাহ!

তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুক্ষীন হচ্ছে। কেননা হাদীছ শরীফে শবে বরাতের অশেষ ফযীলত বর্ণিত হয়েছে। যেমন এ প্রসঙ্গে হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে-

ان الدعاء يستجاب فى خمس ليال اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة القدر المباركة وليلتا العيدين

অর্থ: “নিশ্চয়ই পাঁচ রাত্রিতে দোয়া নিশ্চিতভাবে কবুল হয়ে থাকে। (১) রজব মাসের প্রথম রাতে, (২) শবে বরাতের রাতে, (৩) ক্বদরের রাতে, (৪) ঈদুল ফিতরের রাতে, (৫) ঈদুল আযহার রাতে।”

হাদীছ শরীফে আরো ইরশাদ হয়েছে-

عن على رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم اذا كانت ليلة النصف من شعبان فقوموا ليلها وصوموا يومها فان الله تعالى ينزل فيها لغروب الشمس الى السماء الدنيا فيقول الامن مستغفر فاغفرله الا مسترزق فارزقه الا مبتلى فاعافيه الا كذا الا كذا حتى يطلع الفجر.

অর্থ: “হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার রসূল, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, খাতামুন্ নাবিয়্যীন, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যখন শা’বানের পনের তারিখ রাত্রি উপস্থিত হবে তখন তোমরা উক্ত রাত্রিতে নামায আদায় করবে এবং দিনে রোযা রাখবে। কেননা নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক উক্ত রাত্রিতে সূর্যাস্তের সময় পৃথিবীর আকাশে আসেন অর্থাৎ রহমতে খাছ নাযিল করেন। অতঃপর ঘোষণা করেন, “কোন ক্ষমা প্র্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব।” “কোন রিযিক প্রার্থনাকারী আছ কি? আমি তাকে রিযিক দান করব।” “কোন মুছিবতগ্রস্থ ব্যক্তি আছ কি? আমি তার মুছিবত দূর করে দিব।” এভাবে ফজর পর্যন্ত ঘোষণা করতে থাকেন।” (ইবনে মাজাহ্, মিশকাত)

এ ধরনের আরো অসংখ্য হাদীছ শরীফ রয়েছে, যাতে শবে বরাত-এর ফযীলতের কথা বলা হয়েছে অর্থাৎ যারা শবে বরাত পালন করবে তারা মহান আল্লাহ পাক ও উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনাদের উভয়েরই খাছ রেযামন্দি বা সন্তুষ্টি লাভ করবে।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ‘শবে বরাত’ পালন থেকে বিরত থেকে অশেষ ফযীলত থেকে মাহরূম হবে। যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী, তারা ও হক্ব তালাশী সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে। অর্থাৎ শবে বরাতসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদার ন্যায় আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক-উনার রেজামন্দী হাছিল করতে পারে। সে জন্যই কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে ‘লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত’-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি প্রকাশ করা হলো।

শবে বরাত সম্পর্কে উলামায়ে ‘ছূ’ ও বাতিল ফিরক্বার মনগড়া, দলীলবিহীন ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য এবং তার দলীলভিত্তিক খ-ণমূলক সঠিক জাওয়াব

পূর্ব প্রকাশিতের পর

ইহুদী এজেন্ট, মুনাফিক তথাকথিত খতীব উবায়দুল হকের শবে বরাত সম্পর্কে

বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বক্তব্য:

ইহুদীদের আরেক দালাল ওহাবীদের এদেশীয় গুরু তথাকথিত খতীব উবায়দুল হক্ব ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করে বলেছে- “যারা শুধুমাত্র শবে বরাত উপলক্ষে দিনে রোযা রাখে এবং রাতে নফল ইবাদত এবং আনুষাঙ্গিক অনুষ্ঠানাদি পালন করে তারা এটাকে প্রথা বা একটি রসম-রিওয়াজে পরিণত করেছে। ….” (দৈনিক সংগ্রাম, ৬-১২-৯৭ইং প্রকাশিত)।

ওহাবী এজেন্ট ধর্ম ব্যবসায়ী, মুনাফিক, গণ্ড মুর্খ উবাইদুল হকের শবে বরাত সম্পর্কিত মনগড়া, বানোয়াট দলীলবিহীন বক্তব্যের সঠিক দলীলভিত্তিক খণ্ডনমূলক দাঁতভাঙ্গা জাওয়াব:

উল্লেখ্য যে, তথাকথিত খতীব ইহুদী এজেন্ট, ওহাবী গুরু, গ-মূর্খ, উবাইদুল হক শবে বরাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় তথা শবে বরাতের রাতে ইবাদত ও দিনে রোযা পালন করাকে রসম রেওয়াজ বলে কটুক্তি করেছে এবং শবে বরাত পালনকে বরকতশূণ্য বলেছে। তার উক্ত বক্তব্য দলীলবিহীন, মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিমূলক কল্পনাপ্রসুত ও কুফরীমূলক হয়েছে। কেননা সে অসংখ্য হাদীছ শরীফকে অস্বীকার করেছে। মুলতঃ যারা ইহুদী-নাছারা তারা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ মেনে নিতে পারে না। তারা শুধু আবু জাহিল ও আবু লাহাবের মত ব্যঙ্গ ও কটুক্তি করবে এটাই তাদের মূল হাক্বীক্বত ও স্বাভাবিক চরিত্র। অথচ শবে বরাতের রাতে ইবাদত বন্দেগী করা ও দিনে রোযা পালন করার ব্যাপারে অসংখ্য হাদীছ শরীফ বর্ণিত আছে এবং অনেক কামিয়াবী, নাজাতের পথ উম্মোচিত হয়। অনেক বরকত, কল্যান সাকীনা বান্দা হাছিল করে থাকে। যা হাতে কলমে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বয়ং পালন করে দেখিয়ে দিয়েছেন।

যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত হাদীছ শরীফের কিতাব দাইলামী শরীফে বর্ণিত আছে যা ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুবিখ্যাত কিতাব ‘মুকাশাফাতুল কুলুব’ এর ৩০২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

(৩৬২-৩৬৫)

روى الديلمى عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلا قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (يسح الله الخير فى اربع ليال، سحا ليلة الأضحى، وليلة الفطر، وليلة النصف من شعبان، واول ليلة من رجب) وروى الديلمى ايضا بسنده عن ابى امامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خمس ليال لا ترد فيها دعوة، اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة الجمعة وليلتا العيدين

অর্থ: শাইখুল ইসলাম হযরত ইমাম দাইলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণনা করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক চারটি রাতে প্রচুর পরিমানে রহমত নাযিল করেন: এক, ঈদুল আযহার রাতে। দুই, ঈদুল ফিতরের রাতে। তিন, অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে। চার, রজব মাসের পহেলা রাতে।

ইমাম দাইলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু সূত্রে আরো হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। হযরত আবু উমামা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘পাঁচটি রাত’ এমন রয়েছে যেগুলোতে কেউ দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়না। এক. রজব মাসের প্রথম রাত। দুই. অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাতের রাত। তিন. জুমুয়ার রাত। চার ও পাঁচ. দুই ঈদের রাত। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত। (নুযহাতুল মাজালিশ ১ম খ-  ১৫৭ পৃষ্ঠা, মাছাবাতা বিস সুন্নাহ)

এ প্রসঙ্গে ‘নুযহাতুল মাজালিস’ নামক কিতাবের ১ম খণ্ডের ১৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৩৬৬)

مر حضرت عيسى بن مريم عليه السلام على جبل فراى فيه صخرة بيضاء فطاف بها حضرت عيسى عليه السلام وتعجب عنها فاوحى الله اليه اتريد ان ابين لك اعجب مما رأيت قال نعم فان فلقت الصخرة عن رجل بيده عكار خضراء وعنده شجرة عنب فقال هذا رزق كل يوم فقال كم تعبد الله فى هذا الجر فقال منذر اربع مائة سنة فقال حضرت عيسى عليه السلام يا ربى ما اظن انك خلقت خلقا افضل منه فقال من صلى ليلة النصف من شعبان من امة محمد صلى الله عليه وسلم ركعتين فهو افضل من عبادته اربع مائة عام قال حضرت عيسى عليه السلام ليتنى من امة محمد صلى الله عليه وسلم.

অর্থ: হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম তিনি একটি পাহাড়ের উঁচু চূড়ার উপরে দিয়ে চলতে ছিলেন। হঠাৎ করে ঐ পাহাড়ের উপরেই একটি সাদা পাথর দেখতে পেলেন। অতঃপর আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ঐ পাথরের চারি পাশে ঘুরে আশ্চার্যান্বিত হলেন। অতপর উনার আশ্চার্যবোধ দেখে মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার নিকট ওহী পাঠিয়ে বললেন, হে আমার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আপনি সাদা পাথরখানা দেখেই অবাক হয়েছেন, এর চেয়ে আশ্চর্যজনক বস্তু আপনি কি দেখতে চান?

জবাবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হ্যাঁ বলতে না বলতেই পাথরটি ফেটে গেল। উহার মধ্যে সবুজ রং এর লাঠি হাতে নিয়ে একজন বুযূর্গ ব্যক্তি দাঁড়ানো আছেন এবং উনার সামনে একটি আঙ্গুরের গাছ আছে। অতঃপর সেই বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, ইহা আমার প্রতি দিনের খাবার। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি ঐ বুযুর্গ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি কতকাল পর্যন্ত এই সাদা পাথরের ভিতরে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত আছেন? হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই প্রশ্নের জবাবে বুযূর্গ ব্যক্তি তিনি বললেন, সুদীর্ঘ চারশত বৎসর ধরে এই পাথরের ভিতরে আমি ইবাদত বন্দেগী করছি। তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম তিনি (আরো আশ্চর্য হয়ে) বললেন, ইয়া বারে ইলাহী আমার ধারণা যে, হয়তো বা আপনি এই বুযুর্গ ব্যক্তির চেয়ে আর কোন উত্তম মাখলুক সৃষ্টি করেননি। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই আবেগপূর্ণ বাণী শুনে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, উম্মতে হাবীবী উনার কোন উম্মত যদি অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে ২ রাকায়াত নামায আদায় করে উহা ঐ বুযুর্গ ব্যক্তির চারশত বৎসরের ইবাদত হতেও উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ! অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই কথা শুনে বললেন, হায়। আফসোস! যদি আমি আখিরী নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, খাতামুন নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত তথা উম্মতে হাবীবী হতে পারতাম। সুবহানাল্লাহ!

উক্ত বিশ্ববিখ্যাত ‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-

(৩৬৭-৩৬৮)

ان الجن والطير والسباع وحيتان البحر يصومون يوم النصف من شعبان.

অর্থ: নিশ্চয়ই জ্বিন, পশু-পাখী এবং এমনকি সমুদ্রের মাছেরাও অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ই শা’বানের দিন রোযা রাখে। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুল বরকত)

উক্ত কিতাবে আরো উল্লেখ আছে যে-

(৩৬৯)

وعن النبى صلى الله عليه وسلم من صام من شعبان يوما حرم الله جسده على النار وكان رفيق حضرت يوسف عليه السلام فى الجنان واعطاه الله ثواب حضرت ايوب عليه السلام و حضرت داود عليه السلام. فان اتم الشهور كله هون الله عليه سكرات الموت ودفع عنه ظلمة القبر وهول منكر ونكير وستر الله عورته يوم القيامة.

وعن حضرت ابى هريرة رضى الله تعالى عنه عن النبى صلى الله عليه قال جاءنى جبرائيل عليه السلام ليلة النصف من شعبان وقال يا محمد ارفع راسك الى السماء. فقلت ما هذه الليلة قال هذه ليلة يفتح الله فيما ثلث مائة باب من ابواب الرحمة يغفر لجميع من لا يشرك به شيئا الا ان يكون ساحرا او كاهنا او مصرا على الزنا او مدمن خمر وعنه صلى الله عليه وسلم قال يطلع الله على خلقه ليلة النصف من شعبان فيغفر لجميع خلقه الا مشرك والمشاحن يعنى المصارم لاخيه المسلم.

অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি শা’বান মাসে মাত্র একটি রোযা রাখবে তার শরীরকে মহান আল্লাহ পাক তিনি দোযখের আগুন থেকে হারাম করে দিবেন এবং বেহেশতের মাঝে সে ব্যক্তি হযরত ইউসুফ আলাইহিস সালাম উনার সঙ্গী হিসেবে থাকবেন এবং তৎসঙ্গে হযরত আইয়ুব আলাইহিস সালাম ও হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম উনাদের ন্যায় ছওয়াব দান করবেন। অতঃপর কোন ব্যক্তি যদি পূর্ণ শা’বান মাসেই রোযা রাখে তাহলে মহান আল্লাহ পাক উনার উপর মৃত্যুর তাকলীফ সহজ করে দিবেন। এবং ক্ববরের অন্ধকার দূর করে দিবেন। অতপর মুনকার নাকীরের প্রশ্নের ভয়াবহ অবস্থা দূর করে দিবেন এবং ক্বিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ পাক উনার লজ্জাস্থান আবৃত রাখবেন।

হযরত আবু হুরাইয়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন। শা’বান মাসের অর্ধ রাতে তথা শবে বরাতে হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি এসে আমাকে বললেন ইয়া মুহম্মদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনি আকাশের দিকে মাথা মুবারক উত্তোলন করুন। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, এই রাত্রির বৈশিষ্ট্য কি? তখন হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন এই অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি ৩০০টি রহমতের দরজা খুলে দিয়েছেন। যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সহিত র্শিক করেনা, যাদুকরেনা, গণক নয়, বারংবার যিনা করেনা ও ভ্রাতৃত্ব বন্ধন ছিন্ন করেনা। এ ধরনের সমস্ত জগৎবাসীকে ক্ষমা করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে মহান আল্লাহ পাক তিনি সৃষ্টির প্রতি বিশেষ রহমত নাযিল করেন। অতঃপর সমস্ত সৃষ্টিকে ক্ষমা করে থাকেন। তবে যারা মুশরিক এবং হিংসুক অর্থাৎ যে তার মুসলমান ভাইয়ের সাথে হিংসা করে থাকে  তাদেরকে ঐ রাত্রিতে ক্ষমা করেন না।

এ প্রসঙ্গে ‘আক্বনা’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে-

(৩৭০)

ان جبريل نزل على النبى صلى الله عليه وسلم الليلة البراءة. وقال يا محمد صلى الله عليه وسلم اجتهد فى هذه الليلة فان فيها تقضى الحاجة فاجتهد النبى صلى الله عليه وسلم  فاتاه حضرت جبريل عليه السلام مرة ثانية وقال يا محمد صلى الله عليه وسلم بشر امتك فان الله تعالى غفر لجميع امتك من لاشرك به شيئا ثم قال ارفع راسك فرفع راسه فاذا ابواب الجنة وفى رواية ابواب السماء مفتحة وعلى الباب الاول ملك ينادى طوبى لمن ركع هذه الليلة وعلى الباب الثانى ملك ينادى طوبى لمن سجد فى هذه الليلة وعلى الباب الثالث ملك ينادى طوبى لمن دعا فى هذه الليلة وعلى الباب الرابع ملك ينادى طوبى لمن بكى من خشية الله تعالى فى هذه الليلة وعلى الباب الخامس ملك ينادى طوبى لمن عمل خيرا فى هذه الليلة وعلى الباب السادس ملك ينادى من سائل فيعطى سئوله وعلى الباب السابع ملك يناده هل من مستغفر فيغفر له فقلت يا جبريل الى امتى تكونوا هذه الابواب مفتحة قال الى طلوع الشمس ثم قال ان الله تعالى فيها عتقاء من النار بعدد شعر غنم بنى كلب.

অর্থ: হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি শবে বরাতে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট অবতীর্ণ হয়ে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আজকের এই শবে বরাতের রাত্রিতে ইবাদতে নিমগ্ন থাকুন। কেননা এই রাত্রিতে যাবতীয় মাক্বছুদ পুরা করা হবে। অতঃপর সে মুতাবিক হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ঐ শবে বরাতের সারা রাত্রি ইবাদতে নিমগ্ন থাকলেন এবং হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি পূনঃ তথা দ্বিতীয়বার এসে বললেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি আপনার উম্মতদেরকে সুসংবাদ প্রদান করুন যে, যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সাথে শিরক করে না এদের সকল নর-নারীকে মহান আল্লাহ পাক ক্ষমা করে দিবেন। অতঃপর হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, আপনি আপনার মাথা মুবারক উত্তোলন করুন। তখন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মাথা মুবারক উত্তোলন করার সাথেই সাথেই দেখতে পেলেন জান্নাতের দরজাগুলো অথবা আকাশের দরজাগুলো উম্মুক্ত। প্রথম দরজার উপরে একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন। তিনি আওয়াজ দিয়ে বলছেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি এই অর্ধ শা’বানের রাত্রিতে তথা শবে বরাতের রাত্রিতে রুকু করেছেন। অতঃপর দ্বিতীয় দরজায় অপর একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন তিনিও উচ্চ স্বরে বলতেছেন ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে সিজদায় রত ছিলেন। এইরুপ তৃতীয় দরজায় একজন ফেরেশ্তা রয়েছেন তিনিও উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন, ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি শবে বরাতের রাত্রিতে মানুষের জন্যে দোয়া করে থাকেন। অনুরুপভাবে চতুর্থ দরজায় একজন ফেরেশ্তা আওয়াজ দিয়ে বলতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্য সুসংবাদ যিনি এই শবে বরাতের রাত্রিতে আল্লাহ পাক উনার ভয়ে কাঁদছেন। পঞ্চম দরজায়ও একজন ফেরেশ্তা উচ্চ আওয়াজে বলতে থাকেন ঐ ব্যক্তির জন্যে সুসংবাদ যিনি এ রাত্রিতে ভাল কাজে নিয়োজিত রয়েছেন। অনুরুপভাবে ষষ্ঠ দরজায় একজন ফেরেশতা এ মর্মে আওয়াজ করে বলেন, এমন কোন ব্যক্তি আছে, যিনি সত্যিকার ভিক্ষুক সে যা কিছু কামনা করবে তাই সে পাবে। তদ্রুপ সপ্তম দরজায় একজন ফেরেশ্তা এ বলে চিৎকার করে থাকেন যে, এমন কোন পাপী আছ কি? ক্ষমা প্রার্থনা কর মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন।

হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন আমি হযরত জিবরাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলাম এ সমস্ত দরজাগুলো কতক্ষণ পর্যন্ত খোলা থাকবে? তিনি উত্তরে বললেন সূর্য উদয় হওয়া পর্যন্ত খোলা থাকবে। অতঃপর হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন এই শবে বরাতের রাত্রিতে মহান আল্লাহ পাক তিনি বনী কালব গোত্রের বকরীর পশমের সম পরিমানের অধিক সংখ্যক ব্যক্তিদেরকে ক্ষমা করে থাকেন। সুবহানাল্লাহ!

উপরোক্ত দলীলভিত্তিক আলোচনার দ্বারাই এটাই প্রমানিত হলো যে, ইহুদী এজেন্ট ওহাবী উবাই বিন সুলূলের বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে ভুল, মনগড়া, বানোয়াট, বিভ্রান্তিকর, ভিত্তিহীন এবং হাদীছ শরীফ অস্বীকার করার কারণে কুফরীমূলক হয়েছে। আর যারা মুশরিক ও কাফির মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে ঐ শবে বরাতে তাদের কোন ক্ষমাও নেই কল্যাণও নেই যদি সে গোমরাহীর উপর দৃঢ় থাকে। কাজেই যারা মু’মিন মুসলমান তাদের খায়ের, বরকত, কল্যান ও নাজাত শবে বরাতের রাত্রে রয়েছে। মূলত তা অসংখ্য তাফসীর ও হাদীছ শরীফ-এর মাধ্যমে প্রমাণিত।

ইহুদীদের আরেক দালাল ওহাবী মুনাফিক দাইয়ূস সাঈদীর শবে বরাত সম্পর্কে গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্য:

আরেক গ-মূর্খ তথা আশাদ্দুদ দরজার জাহিল  কাট্টা ওহাবী, দাইয়ূস সাঈদী ওরফে ইহুদী ‘শবে বরাত’ সম্পর্কে মন্তব্য করেছে- “পবিত্র শবে বরাত মানুষের জন্য কোন কল্যাণ বয়ে আনে না। শবে বরাতের কোন  গুরুত্ব নেই। শরীয়তে শবে বরাতের কোন জায়গা নেই।” (দৈনিক সংবাদ ১৩/০৩/৯৪ইং প্রকাশিত)।

মুনাফিক সন্তান, দাইয়ূস ও ধর্মব্যবসায়ী ইহুদী এজেন্ট সাঈদীর গোমরাহী ও কুফরীমূলক বক্তব্যের দলীলভিত্তিক খ-নমূলক দাঁতভাঙ্গা জাওয়াব:

ইহুদী এজেন্ট মুনাফিক ধর্মব্যবসায়ী দাইয়্যূস গোমরাহ সাঈদী শবে বরাত সম্পর্কে যে বক্তব্য পেশ করেছে তা মনগড়া, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর, দলীলবিহীন ও কুফরীমূলক হয়েছে। কেননা সে হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হাদীছ শরীফ-এর স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছে। কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ অস্বীকার করেছে। সে বলেছে শবে বরাত কোন কল্যাণ বয়ে আনেনা। শবে বরাত কোন অস্তিত্ব ও গুরুত্ব শরীয়তে নেই। অথচ কুরআন শরীফ-এর আয়াত শরীফ ও অসংখ্য হাদীছ শরীফ দ্বারা লাইলাতুল বরাত, লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান তথা শবে বরাত সম্পর্কে অসংখ্য ছহীহ হাদীছ শরীফ রয়েছে।

যেমন এ প্রসঙ্গে বিশ্বখ্যাত হাদীছ শরীফের কিতাব দাইলামী শরীফে বর্ণিত আছে যা ইমামুশ শরীয়ত ওয়াত ত্বরীক্বত হুজ্জাতুল ইসলাম ইমাম গায্যালী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার সুবিখ্যাত কিতাব ‘মুকাশাফাতুল কুলুব’ এর ৩০২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেন-

(৩৭১-৩৭৩)

روى الديلمى عن ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلا قالت: سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول (يسح الله الخير فى اربع ليال، سحا ليلة الأضحى، وليلة الفطر، وليلة النصف من شعبان، واول ليلة من رجب) وروى الديلمى ايضا بسنده عن ابى امامة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال خمس ليال لا ترد فيها دعوة، اول ليلة من رجب وليلة النصف من شعبان وليلة الجمعة وليلتا العيدين

অর্থ: শাইখুল ইসলাম হযরত ইমাম দাইলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার সূত্রে বর্ণনা করেন। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীকা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, মহান আল্লাহ পাক চারটি রাতে প্রচুর পরিমানে রহমত নাযিল করেন: এক, ঈদুল আযহার রাতে। দুই, ঈদুল ফিতরের রাতে। তিন, অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে। চার, রজব মাসের পহেলা রাতে।

ইমাম দাইলামী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বিশিষ্ট ছাহাবী হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার সূত্রে আরো হাদীছ শরীফ বর্ণনা করেন। হযরত উমামা রদ্বিয়াল্লাহ তায়ালা আনহু তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘পাঁচটি রাত’ এমন রয়েছে যেগুলোতে কেউ দোয়া করলে তা ফিরিয়ে দেয়া হয়না। এক. রজব মাসের প্রথম রাত। দুই. অর্ধ শা’বান তথা শবে বরাতের রাত। তিন. জুমুয়ার রাত। চার ও পাঁচ. দুই ঈদের রাত। অর্থাৎ উদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাত। (নুযহাতুল মাজালিস ১ম খ-  ১৫৭ পৃষ্ঠা)

এ প্রসঙ্গে ‘নুযহাতুল মাজালিস’ নামক কিতাবের ১ম খন্ডের ১৫৭ পৃষ্ঠায় উল্লেখ আছে-

(৩৭৪)

مر حضرت عيسى بن مريم عليه السلام على جبل فراى فيه صخرة بيضاء فطاف بها حضرت عيسى عليه السلام وتعجب عنها فاوحى الله اليه اتريد ان ابين لك اعجب مما رأيت قال نعم فان فلقت الصخرة عن رجل بيده عكار خضراء وعنده شجرة عنب فقال هذا رزق كل يوم فقال كم تعبد الله فى هذا الجر فقال منذ اربع مائة سنة فقال حضرت عيسى عليه السلام يا ربى ما اظن انك خلقت خلقا افضل منه فقال من صلى ليلة النصف من شعبان من امة محمد صلى الله عليه وسلم ركعتين فهو افضل من عبادته اربع مائة عام قال حضرت عيسى عليه السلام ليتنى من امة محمد صلى الله عليه وسلم.

অর্থ: হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহিস সালাম একটি পাহাড়ের উঁচু চূড়ার উপরে দিয়ে চলতে ছিলেন। হঠাৎ করে ঐ পাহাড়ের উপরেই একটি সাদা পাথর দেখতে পেলেন। অতঃপর আল্লাহ পাক উনার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ঐ পাথরের চারি পাশে ঘুরে আশ্চার্যান্বিত হলেন। অতপর উনার আশ্চার্যবোধ দেখে মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট ওহী পাঠিয়ে বললেন, হে আমার নবী হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম আপনি সাদা পাথরখানা দেখেই অবাক হয়েছেন, এর চেয়ে আশ্চর্যজনক বস্তু আপনি কি দেখতে চান?

জবাবে হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম বললেন, হ্যাঁ বলতে না বলতেই পাথরটি ফেটে গেল। উহার মধ্যে সবুজ রং এর লাঠি হাতে নিয়ে একজন বুযুর্গ ব্যক্তি দাঁড়ানো আছে এবং তার সামনে একটি আঙ্গুরের গাছ আছে। অতঃপর সেই বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, ইহা আমার প্রতি দিনের খাবার। অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম ঐ বুযুর্গ ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বললেন, আপনি কতকাল পর্যন্ত এই সাদা পাথরের ভিতরে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত বন্দেগীতে লিপ্ত আছেন? হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই প্রশ্নের জবাবে বুযুর্গ ব্যক্তি বললেন, সুদীর্ঘ চারশত বৎসর ধরে এই পাথরের ভিতরে আমি ইবাদত বন্দেগী করছি। তখন হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম (আরো আশ্চার্য হয়ে) বললেন, ইয়া বারে ইলাহী! আমার ধারণা যে, হয়তো বা আপনি এই বুযুর্গ ব্যক্তির চেয়ে আর কোন উত্তম মাখলুক সৃষ্টি করেননি। হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম উনার এই আবেগপূর্ণ বাণী শুনে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, উম্মদে হাবীবী উনার কোন উম্মত যদি অর্ধ শা’বানের রাতে তথা শবে বরাতে ২ রাকায়াত নামায আদায় করে উহা ঐ বুযুর্গ ব্যক্তির চারশত বৎসরের ইবাদত হতেও উত্তম হবে। সুবহানাল্লাহ!

অতঃপর হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম এই কথা শুনে বললেন, হায় । আফসোস! যদি আমি আখিরী নবী সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামূল মুরসালীন, খতামুন নাবিইয়ীন নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত তথা উম্মতে হাবীবী হতে পারতাম। সুবহানাল্লাহ।

উক্ত বিশ্ববিখ্যাত ‘নুযহাতুল মাজালিস’ কিতাবে আরো উল্লেখ আছে-

(৩৭৬)

ان الجن والطير والسباع وحيتان البحر يصومون يوم النصف شعبان

অর্থ: নিশ্চয়ই জ্বিন, পশু-পাখী এবং এমন কি সমুদ্রের মাছেরাও অর্ধ শা’বানের তথা ১৫ই শা’বানের দিন রোযা রাখে। সুবহানাল্লাহ! (কিতাবুল বরকত)

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২