কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া ৪৩তম পর্ব

সংখ্যা: ২১০তম সংখ্যা | বিভাগ:

[সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন-উনার জন্যে এবং অসংখ্য দুরূদ ও সালাম আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু  আলাইহি ওয়া সাল্লাম-উনার প্রতি। আল্লাহ পাক-উনার অশেষ রহ্মতে “গবেষণা কেন্দ্র মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ”-এর ফতওয়া বিভাগের তরফ থেকে বহুল প্রচারিত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, বাতিলের আতঙ্ক ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী এবং হানাফী মাযহাব-এর অনুসরণে প্রকাশিত একমাত্র দলীলভিত্তিক যামানার তাজদীদী মুখপত্র “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় যথাক্রমে- ১. টুপির ফতওয়া (২য় সংখ্যা) ২. অঙ্গুলী চুম্বনের বিধান (৩য় সংখ্যা) ৩. নিয়ত করে মাজার শরীফ যিয়ারত করা (৪র্থ সংখ্যা) ৪. ছবি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় হারাম হওয়ার ফতওয়া (৫ম-৭ম সংখ্যা) ৫. জুমুয়ার নামায ফরযে আইন ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (৮ম-১০ম সংখ্যা) ৬. মহিলাদের মসজিদে গিয়ে জামায়াতে নামায পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী সম্পর্কে ফতওয়া (১১তম সংখ্যা) ৭. কদমবুছী ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১২তম সংখ্যা) ৮. তাহাজ্জুদ নামায জামায়াতে পড়া মাকরূহ্ তাহ্রীমী ও বিদ্য়াতে সাইয়্যিয়াহ্ এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩তম সংখ্যা) ৯. ফরয নামাযের পর মুনাজাত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪-২০তম সংখ্যা) ১০. ইন্জেকশন নেয়া রোযা ভঙ্গের কারণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২১-২২তম সংখ্যা) ১১. তারাবীহ্-এর নামাযে বা অন্যান্য সময় কুরআন শরীফ খতম করে উজরত বা পারিশ্রমিক গ্রহণ করা জায়িয ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৩-২৪তম সংখ্যা) ১২. তারাবীহ্ নামায বিশ রাকায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (২৫-২৯তম সংখ্যা) ১৩. দাড়ী ও গোঁফের শরয়ী আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩০-৩৪তম সংখ্যা) ১৪. প্রচলিত তাবলীগ জামায়াত ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৩৫-৪৬তম সংখ্যা) ১৫. আযান ও ছানী আযান মসজিদের ভিতরে দেয়ার আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৪৭-৫০তম সংখ্যা) ১৬. দোয়াল্লীন-যোয়াল্লীন শরয়ী ফায়সালা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫১-৫২তম সংখ্যা) ১৭. খাছ সুন্নতী টুপি ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৫৩-৫৯তম সংখ্যা) ১৮. নূরে মুহম্মদী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও উনার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে  ফতওয়া (৬০-৮২তম সংখ্যা) ১৯. ইমামাহ্ বা পাগড়ী মুবারকের আহ্কাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়া (৮৩-৯৬তম সংখ্যা) ২০. শরীয়তের দৃষ্টিতে আখিরী যোহ্র বা ইহ্তিয়াতুয্ যোহ্রের আহ্কাম এবং তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (৯৭-১০০তম সংখ্যা)  ২১. জানাযা নামাযের পর হাত তুলে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করার শরয়ী ফায়সালা ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১০১-১১১তম সংখ্যা) এবং  ২২. হিজাব বা পর্দা ফরযে আইন হওয়ার প্রমাণ ও তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১১২-১৩১তম সংখ্যা) ২৩. খাছ সুন্নতী ক্বমীছ বা কোর্তা এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৪০তম সংখ্যা) ২৪. হানাফী মাযহাব মতে ফজর নামাযে কুনূত বা কুনূতে নাযেলা পাঠ করা নাজায়িয ও নামায ফাসিদ হওয়ার কারণ এবং তার প্রাসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৩২-১৫২তম সংখ্যা) ২৫. ইসলামের দৃষ্টিতে বিশ্বকাপ ফুটবল বা খেলাধুলা’র শরয়ী আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ফতওয়া (১৫৫তম সংখ্যা) ২৬. হানাফী মাযহাব মতে পুরুষের জন্য লাল রংয়ের পোশাক তথা রুমাল, পাগড়ী, কোর্তা, লুঙ্গি, চাদর ইত্যাদি পরিধান বা ব্যবহার করা হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৫৩-১৬০তম সংখ্যা)   ২৭.  ইসলামের  নামে গণতন্ত্র ও নির্বাচন করা, পদপ্রার্থী হওয়া, ভোট চাওয়া ও দেয়া হারাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া (১৬১-১৭৫তম সংখ্যা) পেশ করার পর ১৬৮তম সংখ্যা থেকে-

২৮তম ফতওয়া হিসেবে

“কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া” পেশ করে আসতে পারায় মহান আল্লাহ পাক-উনার দরবার শরীফ-এ শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

 

প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা, করানো ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া দেয়ার কারণ

সুন্নতের পথিকৃত, হক্বের অতন্দ্র প্রহরী, দ্বীন ইসলামের নির্ভীক সৈনিক, সারা জাহান থেকে কুফরী, শিরক ও বিদ্য়াতের মূলোৎপাটনকারী, বাতিলের আতঙ্ক এবং আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদায় বিশ্বাসী একমাত্র দলীলভিত্তিক তাজদীদী মুখপত্র- “মাসিক আল বাইয়্যিনাত” পত্রিকায় এ যাবৎ যত লেখা বা ফতওয়াই প্রকাশ বা পত্রস্থ হয়েছে এবং ইনশাআল্লাহ হবে তার প্রতিটিরই উদ্দেশ্য বা মাকছূদ এক ও অভিন্ন। অর্থাৎ “মাসিক আল বাইয়্যিনাত”-এ এমন সব লেখাই পত্রস্থ হয়, যা মানুষের আক্বীদা ও আমলসমূহ পরিশুদ্ধ ও হিফাযতকরণে বিশেষ সহায়ক।

বর্তমানে ইহুদীদের এজেন্ট হিসেবে মুসলমানদের ঈমান আমলের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করছে যারা, তারা হলো ‘ওহাবী সম্প্রদায়’। ইহুদীদের এজেন্ট ওহাবী মতাবলম্বী উলামায়ে ‘ছূ’রা হারাম টিভি চ্যানেলে, পত্র-পত্রিকা, কিতাবাদি ও বক্তব্য বা বিবৃতির মাধ্যমে একের পর এক হারামকে হালাল, হালালকে হারাম, জায়িযকে নাজায়িয, নাজায়িযকে জায়িয বলে প্রচার করছে। (নাঊযুবিল্লাহ)

স্মরণীয় যে, ইহুদীদের এজেন্ট, ওহাবী মতাবলম্বী দাজ্জালে কায্যাব তথা উলামায়ে ‘ছূ’রা প্রচার করছে “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধাজ্ঞা নেই”। (নাউযুবিল্লাহ) সম্প্রতি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে, “নির্বাচন কমিশনার বলেছে, ছবি তোলার বিরুদ্ধে বললে জেল-জরিমানা হবে, নির্বাচন কমিশনার ভোটার আই.ডি কার্ডের জন্য ছবিকে বাধ্যতামূলক করেছে এবং ছবির পক্ষে মসজিদে, মসজিদে প্রচারণা চালাবে বলেও মন্তব্য করেছে। আর উলামায়ে ‘ছূ’রা তার এ বক্তব্যকে সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েছে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যেই ছবি তোলা জায়িয।” (নাঊযুবিল্লাহ) শুধু তাই নয়, তারা নিজেরাও অহরহ ছবি তুলে বা তোলায়।

অথচ তাদের উপরোক্ত বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা, চরম বিভ্রান্তিকর ও কুফরীমূলক। তাদের এ বক্তব্যের কারণে তারা নিজেরা যেরূপ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তদ্রুপ তাদের উক্ত কুফরীমূলক বক্তব্য ও বদ্ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ই’তিক্বাদী বা আক্বীদাগত ও আ’মালী বা আমলগত উভয় দিক থেকেই বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

কারণ, তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে যারা এ আক্বীদা পোষণ করবে যে, “রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে ছবি তোলা জায়িয” তারা ঈমানহারা হয়ে কাট্টা কাফির ও চির জাহান্নামী হবে। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলা কুফরী। কেননা কিতাবে স্পষ্টই উল্লেখ আছে যে,

استحلال المعصية كفر.

অর্থাৎ “গুনাহের কাজ বা হারামকে হালাল মনে করা কুফরী।” (শরহে আক্বাইদে নাসাফী।)

অতএব, বলার আর অপেক্ষাই রাখেনা যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য সাধারণ মুসলমানদের আক্বীদা বা ঈমানের জন্য বিশেষভাবে হুমকিস্বরূপ।

অনুরূপ “ছবি তোলার ব্যাপারে ধর্মীয় কোন নিষেধ নেই বা রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে সকলের জন্যে ছবি তোলা জায়িয” উলামায়ে “ছূ”দের এ কুফরীমূলক বক্তব্য মুসলমানদের আমলের ক্ষেত্রেও বিশেষ ক্ষতির কারণ। কেননা যারা তাদের উক্ত বক্তব্যের কারণে ছবি তুলবে (যদিও হারাম জেনেই তুলুক না কেন) তারা আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব কর্তৃক নিষিদ্ধকৃত কাজে তথা হারাম কাজে মশগুল হবে যা শক্ত আযাব বা কঠিন গুনাহের কারণ। কেননা হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে-

قال حدثنا الاعمش عن مسلم قال كنا مع مسروق فى دار يسار بن نمير فراى فى صفته تماثيل فقال سمعت عبد الله قال سمعت النبى صلى الله عليه وسلم يقول ان اشد الناس عذابا عند الله المصورون.

অর্থঃ হযরত আ’মাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি হতে বর্ণনা করেন তিনি বলেন, আমি হযরত মাসরূক রহমতুল্লাহি আলাইহি-উনার সঙ্গে ইয়াসার ইবনে নুমাইর-উনার ঘরে ছিলাম, তিনি উনার ঘরের মধ্যে প্রাণীর ছবি দেখতে পেলেন, অতঃপর বললেন, আমি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু-উনার নিকট শুনেছি, তিনি বলেন, আল্লাহ পাক-উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছেন, “নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ঐ ব্যক্তিকে আল্লাহ পাক কঠিন শাস্তি দেবেন, যে ব্যক্তি প্রাণীর ছবি তোলে বা আঁকে।” (বুখারী শরীফ ২য় জিঃ, পৃঃ ৮৮০)

উক্ত হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় “উমদাতুল ক্বারী শরহে বুখারীতে” উল্লেখ আছে,

وفى التوضيح قال اصحابنا وغيرهم صورة الحيوان حرام اشد االتحريم وهم من الكبائر.

অর্থ: ‘তাওদ্বীহ’ নামক কিতাবে উল্লেখ আছে যে, হযরত উলামায়ে কিরামগণ প্রত্যেকেই বলেন, জীব জন্তুর ছবি বা প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা হারাম বরং শক্ত হারাম এবং এটা কবীরা গুনাহর অন্তর্ভুক্ত।

অতএব, নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, উলামায়ে “ছূ”দের উক্ত বক্তব্য ও বদ আমলের কারণে সাধারণ মুসলমানগণ ছবি তুলে প্রকাশ্য হারাম কাজে মশগুল হয়ে কঠিন আযাবের সম্মুখীন হবে যা আমলের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ক্ষতিকর।

কাজেই, যারা এ ধরনের কুফরী আক্বীদায় বিশ্বাসী ও কুফরী বক্তব্য প্রদানকারী তারা ও হক্ব সমঝদার মুসলমানগণ ঈমান ও আমলকে যেন হিফাযত করতে পারে অর্থাৎ মূর্তি বা ছবিসহ সকল বিষয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা অনুযায়ী আক্বীদা পোষণ করতে পারে এবং কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস মোতাবেক আমল করে আল্লাহ পাক উনার রিযামন্দি হাছিল করতে পারে সে জন্যেই “কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কিত ফতওয়াটি” পুনরায় প্রকাশ করা হলো।

প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয হওয়ার অকাট্য ও নির্ভরযোগ্য দলীল প্রমাণ

স্মর্তব্য যে, নির্ভরযোগ্য ও সর্বজনমান্য প্রায় হাদীছ শরীফ, হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ ও ফিক্বাহ-ফতওয়ার কিতাবেই “প্রাণীর মূর্তি, ভাস্কর্য তৈরি করা-করানো, ছবি তোলা-তোলানো, আঁকা-আঁকানো, রাখা-রাখানো হারাম ও নাজায়িয” বলে উল্লেখ আছে। নিম্নে সেসকল কিতাবসমূহ থেকে ধারাবাহিকভাবে এ সম্পর্কিত দলীল প্রমাণ তুলে ধরা হলো-

হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাউদ

(৭৭১)

واما اتخاذ المصور فيه صورة حيوان فان كان معلقا على حائط او ثوبا ملبوسا او عمامة ونحو ذلك مما لا يعد ممتهنا فهو حرام. (حاشيه سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۲ الصفحة ۵۷۳ رقم الحاشية۱)

অর্থ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরিকারী যদি অলাঞ্ছনার জন্য (অথবা লাঞ্ছনার জন্য) দেয়ালে, পরিধেয় কাপড়ে, পাগড়ীতে ও অন্যান্য জিনিসে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করে, তাহলে তা হারাম হবে। (হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাঊদ, অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড ৫৭৩ পৃষ্ঠা হাশিয়া নং-১)

(৭৭২)

ولا فرق فى هذا كله بين ماله ظل وما لا ظل له فهذا تلخيص مذهبنا وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهو مذهب الشافعى ومالك وابى حنيفة رحمة الله عليهم وغيرهم. وقال بعض السلف انما ينهى عما كان له ظل ولا باس بالصور التى ليس لها ظل وهذا مذهب باطل. (حاشيه سنن ابى داود كتاب اللباس باب فى الصور الجلد ۲ الصفحة ۵۷۳ رقم الحاشية ۱)

অর্থ: দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। ইহা আমাদের মাযহাবের মূল ফায়সালা। অনুরূপ ফায়সালা হলো অধিকাংশ উলামা, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম ও উনাদের পরবর্তীগণের। আর ইহাই হযরত ইমাম আ’যম আবূ হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অপরাপর ইমামগণের চূাড়ন্ত মত। কিন্তু কতক পূর্ববর্তী উলামা বলেন, ‘যারা বলে দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা নিষেধ হলেও দেহহীন প্রাণীর ছবি তৈরি করা- দেখা নিষেধ নয়।’ মূলতঃ তাদের এ মতামতটি বাতিল বা পরিত্যাজ্য। আর জমহূর উলামাগণের মতামতটিই অগ্রগন্য ও গ্রহনযোগ্য। (হাশিয়ায়ে সুনানু আবী দাঊদ, অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ২য় খণ্ড ৫৭৩ পৃষ্ঠা হাশিয়া নং-১)

আরিদ্বাতুল আহওয়াযী বিশরহি ছহীহিত তিরমিযী

‘আল জামিউ ওয়াস সুনানু লিত তিরমিযী’ কিতাবের ব্যাখ্যাগ্রন্থ অত্র কিতাবখানা লিখেছেন, হযরত ইমাম হাফিয ইবনুল আরাবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ৪৩৫ হিজরী, ওফাত মুবারক: ৫৪৩ হিজরী।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৭৭৩)

واما كيفية الحكم فيها فانها محرمة اذا كانت اجسادا بالاجماع. فان كان رقما ففيها اربعة اقوال (الاول) انها جائزة لقوله فى الحديث الا ما كان رقما فى ثوب (الثانى) انه ممنوع لحديث ام المؤمنين حضرت عائشة عليها السلام دخل النبى صلى الله عليه وسلم وانا مستترة بقرام فيه صورة فتلون وجهه ثم تناول الستر فهتكه ثم قال ان اشد الناس عذابا المصورون (الثالث) انه اذا كانت صورة متصلة الهيئة قائمة الشكل منع فان هتك وقطع وتفرقت اجزاؤه جاز للحديث المتقدم قالت فيه فجعل منه وسادتين كان يرتفق بهما (الرابع) انه اذا كان ممتهنا جاز وان كان معلقا لم يجز (عارضة الاحوذى بشرح صحيح الترمذى كتاب اللباس باب ما جاء فى المصورين الجزء ۷ الصفحة ۲۵۳ دار احياء التراث العربى بيروت- لبنان)

অর্থ: বিধানের প্রকার: ইজমা মতে, মূর্তি-ভাস্কর্য তৈরি করা ঘরে রাখা হারাম। যদি ছবি হয়, তাহলে এতে চারটি মতামত রয়েছে। (প্রথম মত) রূহহীন গাছপালা ও জড়বস্তুর ছবি জায়িয। হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত আছে, ‘কাপড়ে প্রাণহীন বস্তুর ছবি আঁকতে অসুবিধা নেই।’

(দ্বিতীয় মত) প্রাণীর ছবি তোলা আঁকা দেখা রাখা নিষেধ তথা হারাম। উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “একদা সাইয়্যিদুনা নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার ঘরে প্রবেশ করলেন, তখন আমি প্রাণীর ছবি বিশিষ্ট একটি পর্দা ঝুলিয়েছিলাম, ইহা দেখে উনার চেহারা মুবারক লাল হয়ে গেল এবং তিনি পর্দাটি ধরে ছিড়ে ফেললেন অতঃপর বললেন, নিশ্চয়ই মানুষের মধ্যে ওই সমস্ত ব্যক্তির কঠিন শাস্তি হবে যারা প্রাণীর ছবি তোলে আঁকে।”

(তৃতীয় মত) যদি প্রাণীর ছবিটি পরিপূর্ণ স্পষ্ট ছবি হয় তাহলে তা হারাম হবে। আর যদি ছবিটি ছিড়ে ফেলা হয় বা কাটা হয় অথবা ছবিটি ছিন্নভিন্ন হয়ে  অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে, এমতাবস্থায় ওই কাপড় ব্যবহার করা জায়িয। যেমন হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে যে, এমন কাপড় ছিড়ে দুটি বালিশ তৈরি করা হয়েছিল।

(চতুর্থ মত) যদি প্রাণীর ছবি লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করে তাহলে জায়িয। আর যদি সম্মানের সাথে ঘরে লটকিয়ে রাখার জন্য তৈরি করে তাহলে তা হবে নাজায়িয। (এই চতুর্থ মতটি গ্রহনযোগ্য নয়।) (আরিদ্বাতুল আহওয়াযী বিশরহি ছহীহিত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের বিধান প্রসঙ্গে ৭ম খণ্ড ২৫৩ পৃষ্ঠা দারু ইহইয়ায়িত তুরাছিল আরাবী বইরূত, লেবানন)

তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি

জামিয়িত তিরমিযী

 

‘আল জামিউ ওয়াস সুনানু লিত তিরমিযী’ কিতাব-এর ব্যাখ্যাগ্রন্থ অত্র কিতাবখানা লিখেছেন, হযরত ইমাম হাফিয আবুল আলা মুহম্মদ আব্দুর রহমান বিন আব্দুর রহীম মুবারকপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি। জন্ম মুবারক: ১২৮৩ হিজরী, ওফাত মুবারক: ১৩৫৩ হিজরী।

অত্র কিতাবে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য-এর চর্চা হারাম হওয়ার বিষয়ে যা কিছু বর্ণিত আছে তা উল্লেখ করা হলো-

(৭৭৪)

قوله (نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الصورة فى البيت) اى عن اتخاذها وادخالها فيه لان الملائكة لا تدخل بيتا فيه كلب ولا تصاوير كما فى حديث ابى طلحة عند الشيخين) (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۷ دار الفكر)

অর্থ: (নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য বিশিষ্ট ঘরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন) অর্থাৎ ঘরে প্রবেশ করানো ও রাখা নিষেধ। কেননা, রহমতের ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা ওই সমস্ত ঘরে প্রবেশ করেন না যেখানে কুকুর ও প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকে। যেমনটি হযরত আবূ ত্বলহাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বর্ণিত হাদীছ বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ-এ বর্ণিত আছে। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৭ পৃষ্ঠা দারুল ফিকর)

(৭৭৫)

والمراد بالبيت المكان الذى يستقر فيه الشخص سواء كان بناء او خيمة ام غير ذلك (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: বসবাসের ঘরে (প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য) থাকলে সেখানে প্রবেশ নিষেধ। সে ঘরটি অট্টালিকা হোক অথবা তাবু হোক অথবা এ ছাড়া অন্যান্য (মসজিদ, মাদরাসা, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, যানবাহনের কেবিন, গুহা ইত্যাদি) স্থানে হোক, এতে প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য থাকলে সেখানে প্রবেশ করা নিষেধ। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৭৬-৭৭৭)

قال النووى فى شرح مسلم قال اصحابنا وغيرهم من العلماء: تصوير صورة الحيوان حرام شديد التحريم وهو من الكبائر لانه متوعد عليه بهذا الوعيد الشديد المذكور فى الاحاديث، وسواء صنعه لما يمتهن او لغيره فصنعته حرام بكل حال لان فيه مضاهاة بخلق الله تعالى، وسواء ماكان فى ثوب او بساط او درهم او دينار او فلس او اناء او حائط او غيرها. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: হযরত ইমাম নুবাবী শাফিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমাদের ও অন্যান্য উলামায়ে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন যে, প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্যের চর্চা করা হারাম শক্ত হারাম এবং কবীরাহ গুনাহ। কেননা, এ সম্পর্কে হাদীছ শরীফ-এ কঠিন শাস্তির প্রতিশ্রুতি আছে। তা লাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য তৈরি করা হোক একই হুকুম। এগুলো তৈরি করা সর্বাবস্থায় সর্বস্থানে হারাম। যেহেতু এতে মহান আল্লাহ পাক উনার সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্যতা দাবি করা হয়। অনুরূপ প্রাণীর ছবি-মূর্তি কাপড়ে, বিছানায়, রৌপ্য মুদ্রায়, স্বর্ণমুদ্রায়, টাকা-পয়সায়, পাত্রে, দেয়ালে ও এ ছাড়া যে কোন কিছুতে অঙ্কন করা বা তৈরি করা হারাম। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৭৮)

واما تصوير صورة الشجر ورحال الابل وغير ذلك مما ليس فيه صورة حيوان فليس بحرام هذا حكم نفس التصوير. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: গাছের ছবি, উটের জিন ও এছাড়া প্রাণহীন জড় বস্তুর ছবির অনুশীলন করা হারাম নয় বরং জায়িয। ছবির ব্যাপারে এটাই মূল ফায়সালা। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৭৯)

ولا فرق فى هذا كله بين ماله ظل وما لا ظل له، هذا تلخيص مذهبنا فى المسألة، وبمعناه قال جماهير العلماء من الصحابة والتابعين ومن بعدهم وهو مذهب الثورى ومالك وابى حنيفة وغيرهم. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য এবং দেহহীন প্রাণীর ছবি হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোন পার্থক্য নেই। এটাই এ মাসয়ালার ব্যাপারে আমাদের আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামায়াহ-এর মূল ফায়সালা। অধিকাংশ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম, হযরত তাবিয়ীন রহমতুল্লাহি আলাইহিম এবং উনাদের পরবর্তীগণ হযরত ইমামে আ’যম আবূ হানীফাহ রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম সুফিয়ান ছাওরী রহমতুল্লাহি আলাইহি, হযরত ইমাম মালিক রহমতুল্লাহি আলাইহি ও অন্যান্যগণের ফায়সালাও অনুরূপ। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৮০)

وقال بعض السلف: انما ينهى عما كان له ظل ولا باس بالصور التى ليس لها ظل، وهذا مذهب باطل. فان الستر الذى انكر النبى صلى الله عليه وسلم الصورة فيه لا يشك احد انه مذموم. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: পূর্ববর্তী কতক ইমাম মুজতাহিদ রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনারা বলেন, যারা বলে দেহধারী মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ কিন্তু দেহহীন প্রাণের ছবিতে কোন অসুবিধা নেই’ তাদের এ বক্তব্য বাতিল বা পরিত্যাজ্য। কেননা, নিশ্চয়ই হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রাণীর ছবিযুক্ত পর্দা দেখে অসন্তুষ্ট হয়েছিলেন এবং এতেও কারো সন্দেহ থাকা উচিত নয় যে, একাজগুলো নিন্দনীয় ও তিরষ্কৃত। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক পরিচ্ছদ পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি-মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৮১-৭৮২)

وقال الزهرى: النهى فى الصورة على العموم، وكذلك استعمال ما هى فيه ودخول البيت الذى هى فيه سواء كانت رقما فى ثوب او غير رقم، وسواء كانت فيه حائط او ثوب او بساط ممتهن او غير ممتهن عملا بظاهر الاحاديث لاسيما حديث النمرقة الذى ذكره مسلم، وهذا مذهب قوى. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: তাবিয়ী হযরত ইমাম ইবনে শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, আমভাবে প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য নিষেধ তথা হারাম। এগুলি চর্চা করা এবং এমন ঘরে প্রবেশ করাও হারাম। প্রাণীর ছবি কাপড়ে হোক অথবা কাপড় ছাড়া অন্যকিছুতে হোক একই হুকুম। অনুরূপ মুসলিম শরীফ-এর হাদীছ শরীফ-এর প্রকাশ্য বর্ণানুযায়ী লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য হোক, দেয়াল, কাপড়, বিছানায় এগুলো তৈরি করা হারাম। এটাই শক্তিশালী মত। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(৭৮৩-৭৮৪)

قلت: قال ابن العربى: ان الصورة التى لا ظل لها اذا بقيت على هيئتها حرمت سواء كانت مما يمتهن ام لا، وان قطع رأسها او فرقت هيئتها جاز. وهذا القول هو الاحوط عندى وهو المنقول عن الزهرى وقواه النووى كما عرفت انفا. وقال ابن عبد البر: انه اعدل الاقوال. (تحفة الاحوذى بشرح جامع الترمذى ابواب اللباس باب ما جاء فى الصورة الجلد ۵ الصفحة ۴۲۸ دار الفكر)

অর্থ: (গ্রন্থকার হাফিয আব্দুর রহমান মুবারকপূরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন) আমি বলি: হযরত ইমাম ইবনুল আরাবী মালিকী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, দেহহীন প্রাণীর ছবি যদি পূর্ণ হয় (বা স্পষ্ট ছবি বুঝা যায়) তাহলেও লাঞ্ছনার জন্য হোক অথবা অলাঞ্ছনার জন্য তৈরি করুক, তা হারাম হবে। আর যদি তার মাথা কেটে ফেলে দেয়া হয় অথবা তার অস্তিত্ব ছিন্নভিন্ন হয় (যাতে প্রাণীর মত বুঝা না যায়), তাহলে ইহার চর্চা জায়িয। এই মতটি আমার নিকট শক্তিশালী। এ মতটি তাবিয়ী হযরত ইবনু শিহাব যুহরী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে নকলকৃত। হযরত ইমাম নুবাবী রহমতুল্লাহি আলাইহি এ মতটিকে শক্তিশালী বলেছেন। হযরত ইবনু আব্দিল বার রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এ মতটি অধিক বিশুদ্ধ। (তুহফাতুল আহওয়াযী বিশরহি জামিয়িত তিরমিযী অধ্যায়: পোশাক-পরিচ্ছদ, পরিচ্ছেদ: প্রাণীর ছবি মূর্তি-ভাস্কর্য সম্পর্কিত বিধান ৫ম খণ্ড ৪২৮ পৃষ্ঠা)

(অসমাপ্ত)

পরবর্তী সংখ্যার অপেক্ষায় থাকুন

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৭

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৮

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-১

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে প্রাণীর মূর্তি তৈরি করা ও ছবি আঁকা, তোলা, তোলানো, রাখা, রাখানো, দেখা, দেখানো হারাম-নাজায়িয হওয়ার অকাট্য প্রমাণ ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২৯

কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা ও ক্বিয়াস-এর দৃষ্টিতে লাইলাতুন নিছফি মিন শা’বান বা শবে বরাত-এর আহকাম ও তার সংশ্লিষ্ট বিষয় সম্পর্কে ফতওয়া-২